Month: September 2025

  • স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ইতিহাসের চূড়ায় পৌঁছেছে মূল্য

    স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ইতিহাসের চূড়ায় পৌঁছেছে মূল্য

    মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের আগে ডলার দুর্বল হয়ে পড়ায় স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচচ্চ স্তরে পৌঁছায়, যেখানে ধারনা করা হচ্ছে এই বৈঠকে সুদের হারে কাটা হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে দাঁড়িয়েছে ৩,৬৯৬.০২ ডলার, যা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি। দিনের শুরুতে এই कीमत ছিল সর্বোচ্চ ৩,৬৯৭.৭০ ডলার। এই দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ২০২৬ সালে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে চার হাজার ডলার(strip আউন্সে) পৌঁছানোর আগে স্বল্প সময়ের জন্য দাম সংশোধন হতে পারে। ব্যবসায়ী ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।

    ইউবিএসের বিশ্লেষক জিয়োভান্নি স্টাউনোভো উল্লেখ করেছেন, ডলারের দুর্বল অবস্থান স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধিতে কিছুটা ভূমিকা রেখেছে। তবে মূল কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, ফেডের মাঝে এই সপ্তাহে সুদের হার কমাবার প্রত্যাশা। সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুসারে, ব্যবসায়ীরা বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুই দিনব্যাপী এর বৈঠক শেষে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার কমানোর ব্যাপারে প্রায় নিশ্চিত হয়ে উঠেছেন। কিছু বিশ্লেষক আরও বলছেন, ৫০ বেসিস পয়েন্ট হারই কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

    সাধারণত এই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেডের পরিচালকের প্রতি সুদের হার আরও কমানোর আহ্বান জানান।

    সুইসকোট ব্যাংকিং গ্রুপের বিশ্লেষক কার্লো আলবার্তো দে কাসা মন্তব্য করেছেন, ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ফেডের নীতিতে এই হার কমানোর প্রবণতা চলমান থাকবে, যা স্বর্ণের বাজারকে আরও শক্তিশালী করবে।

    স্টাউনোভো বলছেন, ফেডের বিবৃতির সময় বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি তারা সুদের হার কমানোর পাশাপাশি কোনও কঠোর বা সংযত ভাষা ব্যবহার করে। তবে, ট্রাম্পের হাওয়া দেখে মনে হচ্ছে, আগামী কয়েক মাসে স্বর্ণের মূল্য আরেক ধাপ বাড়বে।

  • পাঁচ ব্যাংক একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, পরিচালনায় বসবে প্রশাসক

    পাঁচ ব্যাংক একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, পরিচালনায় বসবে প্রশাসক

    সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে চূড়ান্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই নতুন সংস্থার পরিচালনায় থাকবে একটি পাঁচ সদস্যের প্রশাসক কমিটি। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে একটি বিশেষ বোর্ড সভার শেষে মুখপাত্র মোঃ আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। এর আগে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে ঐ সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য বোর্ড সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

    মুখপাত্র জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো বন্ধুবান্ধবভাবে তাদের বোর্ড সভায় একীভূতির বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী এ সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।

    আরিফ হোসেন খান বলে থাকেন, এই মিশ্রণ বা মার্জার প্রক্রিয়া খুব দীর্ঘমেয়াদি এবং এর সম্পন্ন হওয়া প্রায় দুই বছর সময় নেবে। তবে এই প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, এবং খুব শিগগিরই এটি ভৌগোলিক বাস্তবায়ন হবে।

    এই একীভূতকরণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি পাঁচ সদস্যের প্রশাসক দল গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে প্রতিটি ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম এখনো বর্তমান ব্যবস্থাপনা টিমের হাতে থাকবে। প্রতিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একই পদে বহাল থাকবেন।

    অতিরিক্ত জানানো হয়, এই প্রক্রিয়ার আওতায় ব্যাংকের পর্ষদ বা বোর্ড বাতিল করা হবে না। তবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে তারা ধীরে ধীরে কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। প্রশাসক টিম নিয়মিত তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও পরিস্থিতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত দলের কাছে জানিয়ে দেবে।

    এছাড়াও, মঙ্গলবারের বোর্ড সভায় ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়, পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ের বিষয়েও বিস্তর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

    সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে গঠন করা হবে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক, যার সম্ভাব্য নাম হবে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’। এই নতুন ব্যাংকের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক লাইসেন্স ইস্যু করবে।

    উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিন ব্যাপী শুনানি শেষে ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংকের পর্ষদ একীভূত হওয়ার পক্ষে মতামত দেয়। অন্যদিকে, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক এই পরিকল্পনায় বিরোধিতার সম্মুখীন হয়।

    প্রক্রিয়াটির অংশ হিসেবে, গত ৭ সেপ্টেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার মধ্যে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা মূলধন সরাসরি ব্যবহার করা হবে।

  • বাংলাদেশের বৈঠকিক মুদ্রা রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    বাংলাদেশের বৈঠকিক মুদ্রা রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও উচ্চতায় ফিরেছে এবং বর্তমানে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, এই রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬.০৮ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট গ্রস রিজার্ভ এখন ৩১.০০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। এর আগে এই রিজার্ভ ছিল ৩০.৫৯ বিলিয়ন ডলার, এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী এই মান ছিল ২৫.৭৫ বিলিয়ন ডলার। তবে, দেশের প্রকৃত বা নিট রিজার্ভের হিসাব আলাদা, যা শুধু আইএমএফকে প্রদান করা হয় এবং যা প্রকাশ্যে আসেনা। সেই হিসাবের ধারণা আরও বেশি, যা ২১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

    একজন অর্থনীতিবিদ বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈধ পথে প্রবাসী আয় ও রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি না করে বরং ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে। সর্বশেষ ৪ সেপ্টেম্বর বহুজাতিক ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার কিনেছে, जबकि ২ সেপ্টেম্বর ৮ টি ব্যাংক থেকে মোট ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল।

    অর্থনৈতিক তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ২৪৭.৭৯ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। আগস্ট মাসে এই পরিমাণ ছিল ২৪২.২০ কোটি ডলার বা জরিমানা ২৯ হাজার ৫৪৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছর মার্চ মাসে রেকর্ড ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। পুরো অর্থবছর (২০২৪-২৫) প্রবাসীদের আয় মোট ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরটির তুলনায় ২৬.৮ শতাংশ বেশি।

    অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের আরও তথ্য বলছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশের রিজার্ভ ছিল ১৫.৩২ বিলিয়ন ডলার, এরপর ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২০ সালে এটি ৩৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। এরপর কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যেও রিজার্ভ বেড়ে যায় এবং ২০২১ সালের আগস্টে ঢালাওভাবে ৪৮.০৪ বিলিয়ন ডলার রেকর্ড হয়। তবে পরবর্তী সময়ে ডলার সংকটের কারণে এটি কমতে শুরু করে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রিজার্ভ ছিল ৩২.৯৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪-২৫ শেষে আবার ৩১.৬৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

  • স্বর্ণের দাম পতনের রেকর্ড গড়ল

    স্বর্ণের দাম পতনের রেকর্ড গড়ল

    টানা আট দফা দাম বৃদ্ধির পর অবশেষে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এর ফলে প্রতি ভরি স্বর্ণের সর্বোচ্চ ১,৪৭০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে গেছে। নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরির স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকা। এর আগে গত মাসে মোট ছয় দফা দাম বেড়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকায় পৌঁছে গিয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ দাম হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। এই তথ্য বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন বাজুস, এবং নতুন দাম কার্যকর হবে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমেছে। সেই কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণার দাম ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৪১ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৪ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    অপরদিকে, স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম মানা হয়েছে ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, অনুরূপভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩১৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ হাজার ১৩৫ টাকা।

    বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে অবশ্যই সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদের কারণে মজুরিতে ভিন্নতা থাকতে পারে।

  • পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির অভিযোগে জরিমানা

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির অভিযোগে জরিমানা

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজি করে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মোট ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৯৭২তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির দায়ে মোঃ রিয়াজ মাহমুদ সরকারকে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, আবুল বাসারকে ৪ কোটি ২ লাখ টাকা, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংকে ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা, মোঃ সেলিমকে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ও জামিলকে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এই জরিমানাগুলো ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত সময়ে কোম্পানির শেয়ার কারসাজির জন্য আরোপ করা হয়।

    অন্যদিকে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির জন্য এনআরবি ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামরুল হাসানকে ৭৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি পঞ্চবার্ষিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাকে চাকরি ও সিকিউরিটিজ লেনদেনসহ সব ধরনের পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে, বীমা কোম্পানিটির শেয়ার কারসাজির দায়ে শাখ ফকরুল আহমেদকে ৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ প্রতারণামূলক কার্যক্রম চলাকালীন সময় ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ার লেনদেনে এই কারসাজির জন্য তাদের এই জরিমানা আরোপ করা হয়।

    আলাদা এক সভায়, ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগ থাকায়, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) জড়িত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অনুসন্ধান প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি, এই কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকায় মো: আবুল খায়ের হিরু ও তার সহযোগীদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় পত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • বিপ্লবের জন্য মানুষের কাছে যেতে হবে: মোড়লির আহ্বান

    বিপ্লবের জন্য মানুষের কাছে যেতে হবে: মোড়লির আহ্বান

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা আজকাল সমাজ পরিবর্তন ও বিপ্লবে উৎসাহী, তাদেরকে অবশ্যই নিজেদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মূল চাবিকাঠি হলো সাধারণ মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানো—তাহলেই সত্যিকারের পরিবর্তন সম্ভব। তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে বাংলা একাডেমির সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে কমরেড বদরুদ্দীন উমরের জীবনাবসানে আয়োজিত শোকসভায় এ কথাগুলো তুলে ধরেন। ফখরুল বলেন, মধ্যে আমি বদরুদ্দীন উমরের সঙ্গে খুব বেশি মেলামেশা করতে পারিনি। তবে তার বাসায় গিয়ে উপদেষ্টা আবরার সাহেবের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বদরুদ্দীন উমর তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার আদর্শ ও সংগ্রামের সঙ্গে কখনো আপস করেননি। আমরা যারা বর্তমান রাজনীতি করছি, তাদেরকে তিনি অত্যন্ত সম্মান করতেন, কারণ তিনি কখনো প্রভুর মতো কেম্প্রামাইজ করেননি। নতুন প্রজন্মের কাছে উমর সাহেবের আদর্শ কতটুকু পৌঁছেছে, সে বিষয়টি অনেকে বুঝতে পারেননি। আলাপচারিতায় এক প্রশ্ন উঠে আসে, সংগঠন কত গুরুত্বপূর্ণ—উল্লেখ্য, আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো, সত্যিকার বিপ্লব তখনই সফল when সংগঠন শক্তিশালী থাকলে। বর্তমান সমাজে যে হতাশার কারণ রয়েছে, এর মূল কারণ হলো সংগঠনের অভাব। যদি কোনও বিপ্লবী সংগঠন না থাকে, তবে স্বাভাবিকভাবেই বিপ্লবের সফলতা আসে না। তিনি আবার বলেন, যারা আজ বিপ্লব করতে চান, সমাজ পরিবর্তন করতে চান, তাদের অবশ্যই সংগঠনকে আরও দৃঢ় করতে হবে। আরও শক্তিশালী করে তুলতে হবে। বদরুদ্দীন উমরের ভাষায় বলতে গেলে, মানুষের কাছে গিয়ে পৌঁছানোই সফলতার মূল চাবিকাঠি। শোকসভার শুরুতেই এক মিনিট নীরবতা পালন করে বদরুদ্দীন উমরের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় সংগীতের মাধ্যমে কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল সংগীত পরিবেশিত হয়। আরও একটি ডকুমেন্টারিও প্রদর্শিত হয়। শোকসভায় বক্তব্য দেন মাহবুবউল­াহ, কমরেড খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া, ড. আকমল হোসেন, কমরেড সজীব রায়, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামসহ অনেকে।

  • নির্বাচন ছাড়া বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: সিপিবি

    নির্বাচন ছাড়া বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: সিপিবি

    বাংলাদেশে আজকের দিনেও শুধুমাত্র নির্বাচনপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব। সেই কারণেই কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশের (সিপিবি) সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেছেন, যারা আগামী নির্বাচন নিয়ে নানা কৌশলে বিতর্ক উসকে দিতে চাচ্ছে, জাতীয় সংগীত পাল্টানোর দাবি করছে, ৭২ এর সংবিধান বাতিলের কথা বলছে এবং চার মূলনীতি মূল্যবাণ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে, তারাই আসলে গণতন্ত্রের শত্রু। তিনি এ কথা বলেছেন শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সিপিবির চার দিনব্যাপী ত্রয়োদশ কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। এর আগে বিকেলে জাতীয় সংগীত এবং আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কংগ্রেসের প্রথম দিনটি শুরু হয়। সভাপতি হিসেবে বক্তৃতা দেন সিপিবির সভাপতি।

    শাহ আলম বলেন, বর্তমানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা ভোগ করছে। তিনি জানান, নির্বাচন যদি না হয়, এই অচলাবস্থা চলতেই থাকবে। কিন্তু যখন নির্বাচন হয়, তখন একটি নির্দিষ্ট শক্তি ক্ষমতায় আসবে। তাই আমাদের মূল স্লোগান হলো, “অতি সত্বর নির্বাচিত সরকার দরকার।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসন তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে যখন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসবে, তবেই দেশের বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে।

    শাহ আলমের মুখ দিয়ে উঠে আসে, গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনার সরকার গণতন্ত্রের মূল শত্রু হিসেবে বিবেচিত হলেও, এখন পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। এখন গণতंत्रের মোকাবিলা করছে সাম্প্রদায়িক শক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের বিরোধিতা করলে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং মৌলবাদী শক্তির উত্থান আরও জোরদার হবে।

    তিনি বলেন, দেশের ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে ২০১৩ সালে জুলির গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে, তবে সেখানে কোনও শ্রেণি বিপ্লব বা স্বাধীনতা ঘটেনি, কেবল ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে একটি গণপ্রতিরোধ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বামপন্থী, কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীল শক্তির স্বজনপ্রীতি, বিভেদ ও হঠকারিতার কারণেই আজ রেডিক্যাল ইসলাম শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে একত্রিত হয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বিকল্প সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।

    শাহ আলম বলেছিলেন, সিপিবির নেতৃত্বে JULY গণঅভ্যুত্থানে আমরা কোন ভুল করিনি। ওই আন্দোলনে ছিল লালবদর; সেই আন্দোলন অক্ষুণ্ণ ছিল, এবং আমাদের বিশ্বাস, এই আক্রান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, JULY-র চুক্তিপত্রের কোনও প্রশ্ন ওঠা উচিত নয়, এটি চক্রান্ত। আন্দোলনের সব সম্ভাবনাকে আলোর মুখ দেখাতে হবে।

    বিশ্ব পরিস্থিতিও আলোচনা করে তিনি জানান, আজ পৃথিবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়াকে ধ্বংস করে বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের নতুন দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে মানবিক করিডর তৈরি নিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের চাপ দিয়ে বার্মার সঙ্গে যুদ্ধ লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়ায় আমাদের দেশও ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকান ও আন্তর্জাতিক শক্তির হাতায় আমাদের দেশেও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    উদ্বোধনী ভাষণে লিখিত বক্তব্যে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন অসাংবিধানিক নীতির কারণে গণঅভ্যুত্থানের বিজয়কে ভূলুণ্ঠিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে ফ্যাসিস্ট ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি। বিদেশি বিশ্লেষক ও আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী শক্তির পাশাপাশি দেশের ভিতরেও নানা ষড়যন্ত্র চলছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অপপ্রয়াস ও সা¤প্রদায়িক হামলা, দখলদারিত্ব, নৈরাজ্য, মামলা বাণিজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব অপতৎপরতা রুখে দিতে দেশের সকল গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও বামপন্থী সংগঠন একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    শেষে, সিপিবির চার দিনব্যাপী কংগ্রেসের উদ্বোধন হয়। এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য নির্ধারণ, আগামী দিনের সংগ্রাম পরিকল্পনা ও নীতিমালা নির্ধারণ করা। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শ্রমিক-কারিগর, ছাত্র-যুবা প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টির শুভেচ্ছা বার্তা ও সমর্থন একত্রিত হয়। এই ঐতিহাসিক সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীল শক্তি একতাবদ্ধ হয়ে কৌশল নির্ধারণ করবে ভবিষ্যত সংগ্রাম জরুরি।

  • পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন জরুরি, সংসদে সবার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বললেন গোলাম পরওয়ার

    পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন জরুরি, সংসদে সবার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বললেন গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ভবিষ্যত নির্বাচন যদি পদ্ধতিগতভাবে না হয়, তবে জনগণের সত্যিকার মতামত প্রকাশ হতে পারে না। জনগণের সমতা ও সকলের প্রতিনিধিত্বের নিশ্চিতে এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন একান্ত প্রয়োজন। তিনি আরও যোগ করেন, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে এবং সংসদে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে একমাত্র পথ।

    শনিবার বিকালে রংপুরের পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন তিনি। এই সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় জুলাই সনদে সুসংগঠিতভাবে নির্বাচনে যাওয়ার জন্য ৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কিছু মানুষ বলছেন, সরকার আলোচনা করছে, কেন তাহলে রাজপথে আন্দোলন করছে? তিনি স্পষ্ট করেন, একদিকে জুলাই সনদ চান, অন্যদিকে গোপনে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা, যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরপেক্ষ ও আন্তরিকভাবে আমাদের দাবিগুলো মান্য করে উপযুক্ত সমাধান করলে, আমরা আন্দোলন থেকে সরে আসবো।

    সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ক বক্তব্যে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংস্কার কমিশন গঠনের সময় যোগসূত্র করতে হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী সরকারকে নির্দেশনা দিয়ে গণভোটের আয়োজন করতে হবে। তবে, রাজনৈতিক বিষয় আদালতে নেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে জটিলতা বাড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা অতীতে আদালতকে ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা আর কোনওদিন চলব না।

    তিনি অভিযোগ করেন, কিছু পক্ষ আমাদের নির্বাচনে যেতে অস্বীকৃতি বলছে, কিন্তু জামায়াতের আমির বলছেন, ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তিনি বলেন, আমরা সময়মতো নির্বাচন চাই, কিন্তু তা অবশ্যই সাংবিধানিক সংস্কার, জুলাই সনদ, গণহত্যার বিচার, সমান সুযোগ ও পক্ষপাতিত্বমুক্ত ফ্যাসিবাদী রাজনীতি নিষ্পত্তির মাধ্যমে হতে হবে।

    গোলাম পরওয়ার জোর দিয়ে বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র বিএনপিকে দেখানো হলেও আমাদের তা দেখানো হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে, নির্বাচিত সরকার এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে, যা দেখে বিএনপি খুশি হলেও আমরা কেন এতদিন এই সংস্কার নিয়ে অপেক্ষা করলাম, তার কোনও যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না।

    পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতির ব্যাপারে তিনি বলেন, দেশের ৩১টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ২৫টি এই পদ্ধতিতে একমত, কারণ এতে কালো টাকা, পেশিশক্তি বা কারচুপি চলে না। মনোনয়ন বাণিজ্যও এ পদ্ধতিতে হয় না। তাই এই পদ্ধতি কিছু বিশেষ গোষ্ঠীর পক্ষে মানা মুশকিল।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের জুলুম, গুম, খুন, গণহত্যা, লুটতরাজের বিচার জনগণ দেখতে চায়। সকল দমন-পীড়ন, দুর্নীতি ও স্বৈরাচার শাসনের সঙ্গে জড়িত ১৪ দল ও জাতীয় পার্টিসহ দুর্বৃত্তরাও নিষিদ্ধ হতে হবে। এই দাবি এখন জনতার জীবন্ত দাবিতে পরিণত হয়েছে।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ছিলেন দলের রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রংপুর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী, মহানগর সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক রায়হান সিরাজী, সহকারী সেক্রেটারি আল-আমিন হাসান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মোস্তাক আহমেদ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগর সভাপতি নুরুল হুদা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সুমন সরকার ও জেলা সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ।

    সমাবেশ শেষে জামায়াত ও তাদের সহযোগী সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে শুরু করে নগরীর প্রধান সড়ক ঘুরে শাপলা চত্বরে শেষ হয়।

  • দেশে গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছেঃ মির্জা ফখরুল

    দেশে গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছেঃ মির্জা ফখরুল

    এদেশে ইতিমধ্যে অনেকগুলো ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে, যা দেশবাসীর মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এই কথাগুলো বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলনে তিনি এই বক্তৃতা দেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শেষ নেই, মানুষের মন-মানসিকতাও বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যার ফলে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিএনপিকে ক্ষতি করার নীলনকশা করছে এক শ্রেণির অপশক্তি।

    মির্জা ফখরুল যোগ করেন, দেশে যা কিছু ভালো ও সৎ উদ্যোগ, তার সবকিছুই বিএনপিই দিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে কোন কিছুর উন্নয়ন হয় if বিএনপির অনুপ্রেরণায়। তিনি বলেন, যুদ্ধের পর ভিন্ন ধারার রাজনীতি শুরু করলেও, বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো বারবার উঠে দাঁড়িয়েছে। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হলেও তারা ব্যর্থ হয়েছে—সফল হননি। বরং যারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল, তারা এখন পালিয়ে গিয়েছে, আর বিএনপি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

    মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বিএনপি ও তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এই দলটি কখনোই অনুপ্রবেশকারী বা বলয়ের বাইরে থেকে আসা কোনো দল নয়, গণসংগ্রাম ও সংগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে।

    সম্মেলন প্রসঙ্গটিতে তিনি বলেন, বর্তমান এই সম্মেলন সাধারণ কোনো সম্মেলন নয়। এটি দীর্ঘ ১৫ বছর পর বিএনপির নেতাকর্মীদের সে সব ত্যাগ ও sacrifices এর ফলस्वরূপ সম্ভব হওয়া একটা নতুন সুযোগের সম্মেলন, যেখানে দলের প্রতিটি কর্মীকে আরও একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করতে হবে। তিনি দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যে নেতা বা বক্তার নামে স্লোগান উঠবে, সেই নেতারই শক্তিশালী ভিউ মাইনাস হবে—অর্থাৎ, দলের জন্য আরও শক্তিশালীভাবে কাজ করতে হবে।

  • জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলেই জনগণ প্রতিরোধে নামবে: ইসলামি আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

    জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলেই জনগণ প্রতিরোধে নামবে: ইসলামি আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, যদি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে সাধারণ জনগণ সম্মিলিতভাবে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি এ কথা আজ (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাড্ডা ইউলুপ সংলগ্ন এলাকার একটি গণসমাবেশে বলেন, যেখানে পাঁচ দফা দাবির পক্ষে হাজারো মানুষ যোগদান করে।

    চরমোনাই পীর উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পরও দেশের মৌলিক অধিকার, ন্যায্যতা ও মানবিক মর্যাদা পূর্ণতা লাভ করেনি। তাই তিনি দ্রুত সরকারের কাছে দাবি জানান, যেন নির্বাচন পরিচালনার জন্য আইনি ভিত্তি শক্তিশালী করে দেওয়া হয়। কারণ, সনদ ছাড়া নির্বাচন হলে সেটি বৈধতা পাবেনা এবং জনগণের আস্থা বিনষ্ট হবে।

    তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে গভীর সমালোচনা করে বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের সময় আমাদের তিনটি মূল শ্লোগান ছিল—সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ও ন্যায়বিচার। কিন্তু আজ ৫৩ বছর পরেও এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়নি। যারা দেশের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করছেন, তারা এসব মূল্যবোধের প্রতি উপযুক্ত গুরুত্ব দেয়নি বলে তিনি আক্ষেপ ব্যক্ত করেন।

    চরমোনাই পীর বলেন, গত ২৪শে জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে জনগণ বুঝতে পেরেছে যে নতুন শক্তি ক্ষমতায় এলে তারা আবারও সরকারকে নিজেদের স্বার্থের জন্য ব্যবহার করবে। এটা দেশের মানুষের জন্য ভালো নয়। সেই কারণেই তিনি আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন চান।

    তিনি বলেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মূলনীতি হচ্ছে—সবার জন্য ন্যায়, মর্যাদা ও সমতার প্রতিষ্ঠা। মা, বোন, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী—প্রত্যেকের অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা সংগ্রাম করছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেহেতু এই নীতি-আদর্শ রেখেছেন, এই পরিবর্তন ছাড়া কোনো শান্তি বা মুক্তি আসবে না। আমাদের আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি নৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের এক মহান প্রচেষ্টা।

    সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম বলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিক যেন তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়। যারা দেশের সম্পদ ও ক্ষমতা দখল করে রেখেছে, তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। এই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আবশ্যক। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এই পরিবর্তন এনে দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সমস্ত ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত।

    সমাবেশে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নাগরিক অধিকার, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং নৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একযোগে জনগণের অধিকার রক্ষা ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাবে এবং জনগণের স্বার্থে নেতৃত্ব দেবে।