Month: September 2025

  • মুসলিম বিশ্বের আকাশপথ অবরোধে ইসরাইলকে ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা গবেষণা

    মুসলিম বিশ্বের আকাশপথ অবরোধে ইসরাইলকে ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা গবেষণা

    আরব এবং মুসলিম দেশের আকাশপথে অবরোধ যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ইসরাইলের অর্থনীতির জন্য ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা আল হাবতুর রিসার্চ সেন্টারের এক প্রতিবেদনে। জানা গেছে, কাতার দোহার মধ্যে এই গবেষণা চালানো হয়, যা ইসরাইলি হামলার পরপরই প্রকাশিত হয়।

    সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং আরব লীগে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো সহজাতভাবে ইসরাইলের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়, তবে তেল আবিবের অর্থনৈতিক অবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। মিডলইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ করেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার দোহার মধ্যে ইসরাইলের সামরিক হামলার পর গত সপ্তাহে ওআইসি’র ৫৭টি দেশ এবং আরব লীগের যৌথ জরুরি বৈঠক হয়। সেই সময় মুসলিম বিশ্বনের নেতা ও কর্মকর্তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধের পথ খুঁজে বের করেন। এই হামলায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত হন, যার মধ্যে কাতারের একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাও ছিলেন।

    আল হাবতুরের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি মুসলিম দেশগুলো একজোট হয়ে ইসরাইলের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়, তবে ইসরাইলের জিডিপি ৫.৭ শতাংশ থেকে কমে ৪.৮ শতাংশে নেমে আসবে। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক মন্দার পথ প্রশস্ত হবে। עוד বলা হয়েছে, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো ওআইসি-ভুক্ত দেশগুলো যদি ইসরাইলের সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়, তবে এশিয়া ও আফ্রিকার উচ্চ প্রবৃদ্ধির বাজারে বড় ধরণের বাধা সেটি হয়ে দাঁড়াবে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয়, আকাশসীমা বন্ধ হলে ইসরাইলি বিমান পরিবহনগুলোর জন্য অতিরিক্ত চার থেকে ছয় ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগবে, যার ফলে প্রতি ফ্লাইটে অন্তত ৩০ হাজার থেকে ৭০ হাজার ডলার অতিরিক্ত খরচ হবে। এর ফলে ইসরাইলের বিমান সংস্থা এল আলের রাজস্ব বড় ধরনের ভাটা পড়বে, সম্ভবত ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশ রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

    এছাড়া, এই পদক্ষেপগুলো ইসরাইলের পর্যটন শিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মূল্যবান রতœ শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ফলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে চুক্তি বাতিল ও গবেষণা-উন্নয়ন উদ্যোগেও বিরূপ প্রভাব পড়বে। ইরান, সিরিয়া ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে নতুন প্রতিরোধমূলক সিদ্ধান্তের জন্ম দিতে পারে এই প্রভাব। এটি পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে বদলে দিতে সক্ষম।

    আরেকটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, কাতারসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও, ইসরাইলের হামলা রুখতে ওয়াশিংটনের ব্যর্থতা এই সম্পর্কের গভীরতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এতে দেখা যায়, কাতারে অতিরিক্ত ৮ হাজারের বেশি মার্কিন সৈন্য থাকা সত্ত্বেও, সেখানে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কার্যকর কিছু করতে পারেনি আমেরিকা। ফলে কৌশলগত অংশীদারিত্বের স্থিতি এখন সংকটের মুখে।

    আল হাবতুরের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মুসলিম এবং আরব দেশগুলো যদি collectively ইসরাইলের আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্য এবং পুরো অঞ্চলকে নতুন প্রতিরক্ষা কৌশলের দিকে ধাবিত করবে। এর ফলে কূটনৈতিক সংটকের মাত্রা বাড়বে এবং আল-আকসা সমস্যা নিয়ে বিশ্বজনমতও প্রভাবিত হবে।

    অন্যদিকে, ইতোমধ্যে ইসরাইলের একাকিত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শেষ বক্তব্যে। তিনি বলেন, বিশ্ব মঞ্চে অন্তত এখন খুব একটা সঙ্গ নেই ইসরাইলের, এবং দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন সুবিধামতো নয়। ফলে, এই পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের নিঃসঙ্গতা মানিয়ে নিতে হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। এই সমস্ত প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ কী হবে সেটিই এখন বিশ্বের সঙ্গে সবার চোখের নজড়ে রয়েছে।

  • ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ: দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা ফি বাড়ালেন অর্ধেক লাখ ডলার

    ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ: দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা ফি বাড়ালেন অর্ধেক লাখ ডলার

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য জনপ্রিয় এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ লাখ ডলার ফি আদায় করা হবে। শুক্রবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ ফি আরোপের মূল উদ্দেশ্য হলো এইচ-১বি ভিসার অপব্যবহার কমানো এবং সুরক্ষিত করে দেশীয় কর্মসংস্থান। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফি না দিলে ভিসা প্রবেশের অনুমতি নাও পেতে পারেন।

    বহু সমালোচক দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করেছেন যে এইচ-১বি ভিসা মার্কিন চাকরির বাজারে হুমকি সৃষ্টি করছে, যেখানে কম মেধাবী ও কম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মীদের চাকরি চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে, এর পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয় যে প্রোগ্রামটি বৈশ্বিক মেধাবী কর্মীদের আমেরিকায় আনতে সাহায্য করে দেশর অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে অবদান রাখে।

    এছাড়াও, ট্রাম্প একটি নতুন ‘গোল্ড কার্ড’ চালু করেছেন, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী দ্রুত ভিসা পেতে পারবেন। এই স্কিমে প্রায় ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি ফি দিয়ে দ্রুত ভিসার সুবিধা লাভ করা যাবে, যা দেশের অভিবাসন নীতিতে একধরনের পরিবর্তন সাধন করছে।

    সেদিন হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের পাশে ছিলেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক, যিনি বলেন, ‘প্রতি বছর এইচ-১বি ভিসার জন্য ১ লাখ ডলার ফি ধরা হয়েছে। বড় কোম্পানিগুলো এতে আগ্রহ দেখিয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আপনি যদি কাউকে প্রশিক্ষণ দিতে চান, তাহলে আমাদের দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক তরুণদের প্রশিক্ষণ দিন। বিদেশিরা এসে আমাদের কর্মসংস্থানে হস্তক্ষেপ না করে, দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করুন।’

    এইচ-১বি ভিসার সংখ্যা ২০০৪ সাল থেকে বার্ষিক ৮৫ হাজারে সীমাবদ্ধ ছিল। এত দিন বিভিন্ন প্রশাসনিক ফি মিলিয়ে প্রতি ভিসার জন্য প্রায় ১,৫০০ ডলার চার্জ নেওয়া হতো। মার্কিন অভিবাসন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে এই ভিসার আবেদন প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজারে নেমে এসেছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। এবারই প্রথম এই সংখ্যাটা এত কমে দাঁড়িয়েছে। সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী ছিল অ্যামাজন, টাটা, মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যাপল এবং গুগলের মতো কোম্পানিগুলো।

    ওয়াটসন ইমিগ্রেশন ল’র প্রতিষ্ঠাতা আইনজীবী তাহমিনা ওয়াটসন বিবিসিকে বলেন, ‘নতুন এই ফি অনেকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলোর জন্য কর্মী পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়বে।’

    অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের এই বৈপরীত্যের কারণে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ অনেকের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সমর্থকরা এই ফি বাড়ানোকে দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন, তবে প্রতিদ্বন্দ্বীরা একে কর্মসংস্থান পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন।

    ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে, এইচ-১বি ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় বাড়তি নজরদারি ও কঠোরতা আনেন, যা ২০১৮ সালে আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার ২৪ শতাংশে পৌঁছে দেয়। এটি পূর্ববর্তী ওবামার সময়ের ৫ থেকে ৮ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি, আর জো বাইডেনের সময় তা ২ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে স্থিত রয়েছে।

    নতুন বিধিনিষেধের ফলে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এই দেশগুলো থেকে সর্বাধিক সংখ্যক এই ধরনের ভিসার আবেদন আসে। এ সব পদক্ষেপ দেশটির অভিবাসন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসছে, যা ভবিষ্যতে বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা এবং প্রক্রিয়া প্রভাবিত করবে।

  • পাকিস্তানের পাশে থাকবে সৌদি আরব, যদি ভারত হামলা করে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    পাকিস্তানের পাশে থাকবে সৌদি আরব, যদি ভারত হামলা করে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, ভবিষ্যতে যদি ভারতের কোনো হামলা হয় পাকিস্তানের ওপর, তাহলে সৌদি আরব তাঁর পাশে থাকবে। তিনি এ কথা আজ (১৯ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও টিভিকে এক সাক্ষাৎকারে জানান।প্রশ্ন করা হয়েছিল, সম্প্রতি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যদি ভারত হামলা করে, তবে কি রিয়াদ পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকবে। তিনি নিশ্চিত করে জানান, হ্যাঁ, একদমই। এই বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। চুক্তির ৫ নম্বর ধারায় লক্ষ্য করা যায়, ‘যৌথ প্রতিরक्षा’ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে; এর অর্থ, যদি কোনো এক দেশের ওপর হামলা হয়, তবে সেটি চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী সব দেশের ওপর হামলা বলে গণ্য হবে।তিনি আরও বলেন, এই চুক্তিটি ন্যাটোর আদলে গড়া, যা সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা মূলক, আক্রমণাত্মক নয়। এতে কোনভাবেই হামলা বা আক্রমণের সুযোগ রাখা হয়নি। তবে, যদি সৌদি আরব কিংবা পাকিস্তানের ওপর হামলা হয়, তবে প্রতিটি দেশ একসঙ্গে তা প্রতিহত করবে।১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে এক বিস্তৃত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিস্তারিত বিবরণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি, তবে সৌদির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে সামরিক সব দিকই অন্তর্ভুক্ত।বিশ্বের মুসলিম দেশের মধ্যে পাকিস্তান একমাত্র দেশ যাকে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। যদিও দেশটি এশিয়ার দরিদ্র দেশের মধ্যে অন্যতম, তবে ৬ লাখ সেনাসমৃদ্ধ পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, সৌদি-পাকিস্তান চুক্তিকে তারা ‘সৌদি রিয়ালের সঙ্গে পাকিস্তানির পরমাণু অস্ত্রের বিবাহ’ বলেও অভিহিত করেছেন।

  • বাংলাদেশসহ ৯ দেশের উপর আরব আমিরাতের ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি

    বাংলাদেশসহ ৯ দেশের উপর আরব আমিরাতের ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি

    সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বাংলাদেশসহ মোট নয়টি দেশের ওপর পর্যটন ও কর্মভিসায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে আরও আটটি দেশ হলো আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লেবানন, ক্যামেরুন, সুদান এবং উগান্ডা। এটি কার্যকর হবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে, এবং ইউএই সরকার এই তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।

    প্রাথমিকভাবে, ইউএই কোনোভাবেই এই নিষেধাজ্ঞার নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি, তবে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণগুলো হচ্ছে—সন্ত্রাসবাদ বা অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে দেশবাসীর সুরক্ষা, উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা, এবং কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি সংগঠিত করা।

    এটি যে সাময়িকভাবে আরোপিত হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনা করা হতে পারে।

    নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু দেশের প্রবাসীরা তাদের কাজের অনুমতি নবায়ন বা নতুন চাকরি খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফ্রিকার কিছু দেশের নাগরিকরা এই নিষেধাজ্ঞার কারণে বিভিন্ন জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

    অন্যদিকে, ব্যবসা ও পর্যটন খাতেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। তবে, যারা ইতোমধ্যে বৈধ ভিসায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব থেকে মুক্ত আছেন এবং স্বাভাবিকভাবেই কাজ বা বসবাস চালিয়ে যেতে পারছেন।

  • সৌদি- পাকিস্তান চুক্তি: ন্যাটোর মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলল দুই দেশ

    সৌদি- পাকিস্তান চুক্তি: ন্যাটোর মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলল দুই দেশ

    পাকিস্তান ও সৌদি আরব পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে আলেকজ্যুতে শক্তিশালী সামরিক সম্পর্ক গড়ে উঠছে, যা পশ্চিমা জোট ন্যাটোর মতোই একটি প্রতিরোধমূলক ছাতা হিসেবে কাজ করবে। সৌদি মিডিয়া এই চুক্তিকে নিয়ে বিশেষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে।
    চুক্তির অনুযায়ী, যদি কোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ হয়, তবে সেটি উভয় দেশের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে গণ্য হবে। শুক্রবার টিআরটি ওয়ার্ল্ড সংবাদমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করে। সৌদি আরবের গণমাধ্যমে এই চুক্তিকে ‘প্রতিরোধমূলক ছাতা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে, যা উভয় দেশকে সীমাহীন সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারে সুযোগ দেবে।
    রিয়াদে গত বুধবার সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
    তারা আরো উল্লেখ করে, ‘যে কোনো এক দেশের উপর আক্রমণ মানে উভয় দেশের ওপর আঘাত।’ একজন জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, এটি বহু বছরের আলোচনা ফসল এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের মাথায় নয়, বরং দীর্ঘদিনের গভীর সহযোগিতার ফলাফল। তিনি আরও জানান, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তি, যেশত সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
    সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান (ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ছোট ভাই) এক্স-এ লিখেছেন, “সৌদি আরব ও পাকিস্তান যেকোনো আগ্রাসীর বিরুদ্ধে একসাথে থাকবে চিরদিন।”
    দেশটির বিভিন্ন সংবাদপত্রে এই চুক্তিকে ‘ইসলামি ফ্রন্টের ঐতিহাসিক শক্তিবৃদ্ধি’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। সৌদি ও পাকিস্তানি পতাকা আলোকিত করা হয় বিভিন্ন শহরের টাওয়ারগুলোতেও। একটি কলামে লেখক মুতেব আল আউয়াদ এই চুক্তিকে ‘ইসলামি শক্তির ঐতিহাসিক দুর্গ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি একত্রিত হয়ে আঞ্চলিক প্রতিরোধকে নতুন রূপ দিয়েছে।’ তিনি বলেন, সৌদি অর্থনৈতিক শক্তি ও সামরিক সক্ষমতা বৈশ্বিক জ্বালানি স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং এর ফলে দেশটি আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অগ্রভাগে অবস্থান করছে।
    আউয়াদ আরও বলেন, ভিশন ২০৩০ এর কারণে সৌদি প্রতিরক্ষা শিল্প ও অস্ত্রনির্মাণে দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে, ফলে দেশটি এখন উপসাগর ও ইসলামী বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
    অপরদিকে, পাকিস্তান হলো পারমাণবিক শক্তিধর এক দেশ, যার বিশাল সেনাবাহিনী, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং আরবসাগরের উপকূলে শক্ত অবস্থান রয়েছে। দেশটির জনসংখ্যা ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই চুক্তি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তার জন্য একটি ‘বন্ধনীয় ছাতা’ সৃষ্টি করেছে, যেখানে থাকবে সামরিক পরিকল্পনা, গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি, যৌথ মহড়া, নৌ ও বিমান সহযোগিতা, পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন কাজ।
    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি পাকিস্তান ও সৌদির মধ্যে ন্যাটোর মতো একটি সম্মিলিত সামরিক নীতি গড়ে তুলেছে। আল-আরাবিয়া সংবাদমাধ্যমকে বিশ্লেষক মুনীফ আম্মাশ আল-হারবি ব্যাখ্যা করেছেন, এতে উভয় দেশের ওপর ভর করে সামরিক ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ থাকছে এবং এটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পক্ষগুলোর জন্য একটি বার্তা।
    অপর দিকে, সৌদি বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সাল আল-হামাদ বলেন, “এই চুক্তি ন্যাটোর নীতিকে অনুসরণ করে, যেখানে একটি দেশের ওপর আক্রমণ মানে সবার ওপর আক্রমণ।”
    সৌদি ও পাকিস্তানি সংবাদপত্রগুলো এই চুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়ে আসছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, চুক্তির পর ইসলামাবাদে সৌদি ও পাকিস্তানি পতাকা আলোড়িত হয়েছে।
    বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতার অন্যতম গুরুত্ব হচ্ছে, গাজা যুদ্ধের সময় এই চুক্তির প্রভাব। এর মধ্য দিয়ে গাজায় চলমান ইসরাইলি হামলা ও সংঘাতের পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এই চুক্তির ফলস্বরূপ, কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় উদ্যোগে মধ্যস্থতা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকায় প্রায় ৬৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু, এবং চাপা পড়েছেন আরও অনেকে। কিছু বিশেষজ্ঞ ধারণা করছেন, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আসল হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি, সম্ভবত দুই লাখের কাছাকাছি।

  • পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন ও জনগণের ঐক্য অপরিহার্য: এড. মতিউর রহমান

    পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন ও জনগণের ঐক্য অপরিহার্য: এড. মতিউর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগীয় সেক্রেটারি এড. মতিউর রহমান আকন্দ বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। এরপর জনগণের আকাঙ্খা অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে ক্ষমতা নেওয়া হয়। জনগণের সমর্থন রয়েছে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশনের (পিআর) পক্ষে, যা এখন দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের প্রত্যাশা। ঐকমত্য কমিশনের ৩১ দলের মধ্যে ২৫টি দল পিআরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অনেকের মধ্যে কেউ বলছেন, পিআর মানে মাথা ঠাণ্ডা রাখা, কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে স্পষ্ট ধারণা খুব কম। তাই এড. মতিউর রহমান জোড়ালোভাবে দাবি করেন, নিরপেক্ষ গণভোটের মাধ্যমে পিআর এর বাস্তবতা যাচাই করতে হবে। জনগণ যদি পিআরকে সমর্থন করে, তাহলে শাসকদের তা মেনে নিতে হবে। আর যদি জনগণের রায় বিপক্ষে যায়, তাহলে তা মেনে নেওয়া হবে। তবে দেখে মনে হচ্ছে, বর্তমান শাসকরা এই পদ্ধতিকে ভয় পাচ্ছে। তারা পিআর বাস্তবায়ন এড়াতে চায়, কারণ এতে সকলের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হবে, পেশীশক্তি ও কালো টাকার অবাধ ব্যবহার বন্ধ হবে। এড. মতিউর রহমান আরো বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এই দাবি আদায় না হয়, জনগণকে রাজপথে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তিনি গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর কেন্দ্রীয় ডাকবাংলোস্থ সোনালী ব্যাংক চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের উদ্বোধনী বক্তব্যে এই আহ্বান জানান। এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগরীর আমীর ও সংসদ প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, পরিচালনা করেন সহকারী সেক্রেটারি এড. মুহাম্মদ শাহ আলম ও প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম। আলোকচিত্রে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি, খুলনা অঞ্চলের নেতৃবৃন্দ, ছোট বড় দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন উপজেলা আমীরবৃন্দ। এড. মতিউর রহমান জোর দিয়ে বলেন, আমাদের আন্দোলন যেন জনগণের আসল ইচ্ছার প্রতিফলন হয়, এজন্য কেবল আলোচনা বা আলোচনা সারণিতে আশা না রেখে, আইনগত ও সাংবিধানিক ভিত্তিতে নির্বাচন দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বাধীন করতে হলে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য জনগণের মতামত অনুযায়ী জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। তিনি সব দলের কাছে আহ্বান জানান, দ্রুত ন্যায্য বিচারের জন্য এবং নির্বাচনকে সম্পন্ন করার জন্য রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ও সংহতির দরকার। মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, জনমতের দাবি অনুযায়ী সরকারকে পাঁচ দফা দাবি পূরণে বাধ্য করতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, পিআর পদ্ধতিতে কেন্দ্র দখল বা টাকা দিয়ে ভোট প্রতিহত করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ নতুন দিশায় যাবে। ৫৪ বছর ধরে যে শাসন ব্যবস্থা চলে এসেছিল, তা অবসান ঘটানোর জন্য এই আন্দোলন। আমরা চাই একটি নতুন, মুক্ত, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। যারা পুরোনো শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়, জনগণ তাদের সে সুযোগ দেবে না। ঝাড়া আন্দোলনের মাধ্যমে তারা তাদের অস্বীকৃতি জানাবে। এই বিক্ষোভের মিছিলটি নগরীর ডাকবাংলো থেকে শুরু হয়ে ফেরিঘাট মোড়, পাওয়ার হাউজ মোড়, সঙ্গীতার সামনে দিয়ে শিববাড়ি (শহিদ মীর মুগ্ধ) মোড়ে শেষ হয়। এই মিছিলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীসহ হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

  • খালিশপুরের নয়টি ওয়ার্ড মহিলাদলের নতুন নেতৃবৃন্দ ঘোষণা

    খালিশপুরের নয়টি ওয়ার্ড মহিলাদলের নতুন নেতৃবৃন্দ ঘোষণা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের খালিশপুর থানা শাখার Nine wards has announced the new leadership committees. The announcement was made through a government notice, signed jointly by the former Member of Parliament and City Women’s League convener, সৈয়দ নার্গিস আলী, and the chairman of the Khulshi Pur Thana branch, শাহনাজ সরোয়ার, last Friday.

    প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য ৫১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে, যার মধ্যে দুটি শীর্ষ পদের দায়িত্বে থাকছেন বাংলার বিভিন্ন বিখ্যাত নারী নেত্রীরা। চলুন দেখে নেওয়া যাক বিস্তারিত:

    ৬নং ওয়ার্ড: এই ওয়ার্ডে মোসা. কামিনীকে আহবায়ক এবং ময়নাকে সদস্য সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও, যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবে থাকছেন নাসিমা বেগম, হাসমুন আরা এবং মোসাঃ বিলকিস বেগম।

    ৮নং ওয়ার্ড: এই ওয়ার্ডের জন্য মোসাঃ জোসনাকে আহবায়ক ও মাসুমা বেগমকে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন তাসলিমা বেগম, রেহেনা খাতুন ও আকলিমা।

    ৯নং ওয়ার্ড: এখানে জুলেখা বেগমকে আহবায়ক এবং লিপি কাজীকে সদস্য সচিব হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবে থাকছেন মিসেস সালমা বেগম, মোসাঃ আসমা আক্তার ও হনুফা বিবি।

    ১০নং ওয়ার্ড: এই ওয়ার্ডের দায়িত্বে আছেন আ knowledgeable figures like আনোয়ারা খাতুন ও সুলতানা নাসরিন। তাদের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি, যেখানে খালেদা আক্তার শিল্পী ও মুন্নী বেগম রয়েছে। এছাড়াও, যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন খালেদা আক্তার শিল্পী, মুন্নী বেগম ও দিলরুবা আক্তার রাখি।

    ১১নং ওয়ার্ড: এই ওয়ার্ডের আহবায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মাসুদা পারভীন এবং সদস্য সচিব হিসেবে থাকছেন মোসাঃ শামসুন্নাহার লিপি। এই কমিটিতে আরও রয়েছেন রাশিদা বেগম, লাইজু বেগম ও মোসা আফরোজা আক্তার লিজা।

    ১২নং ওয়ার্ড: শায়নলা পারভীন সিবানী এই ওয়ার্ডের নেতা এবং পুতুল বেগম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন নাসিমা আক্তার, সাবিনা হায়দার ও জোৎস্না।

    ১৩নং ওয়ার্ড: খালেদা আক্তার এই অঞ্চলটির আহবায়ক এবং আয়শা বেগম সদস্য সচিব। এই কমিটিতে রয়েছেন রেহেনা আক্তার খুশি, ফাতেমা খাতুন ঝর্ণা এবং তিপ্তি সরকার।

    ১৪নং ওয়ার্ড: ঝর্ণা বেগম এই সূচনাশীল ওয়ার্ডের নেতা এবং ফিরোজা সদস্য সচিব। অন্যান্য সদস্যের মধ্যে রয়েছেন রেশমা খাতুন, সৈয়দা নওরীন আক্তার, ফারজানা ইয়াসমিন, সুরোভী ও তামান্না জাহান।

    ১৫নং ওয়ার্ড: এই ওয়ার্ডের আহবায়ক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন লিলি আক্তার, এবং সদস্য সচিব হিসেবে থাকছেন রাশিদা বেগম। তাদের সঙ্গে রয়েছেন জেসমিন আক্তার রেশমি, কাজল রেখা ও শেখ শারমিন।

  • খুলনা বিএনপি’য়ের রাজনীতিতে দুলুর শূন্যতা কখনোই পূরণ হবে না

    খুলনা বিএনপি’য়ের রাজনীতিতে দুলুর শূন্যতা কখনোই পূরণ হবে না

    খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, আদর্শের উপর ভিত্তি করে আপসহীন ও সাহসী নেতৃত্বদানে পরিচিত ছিলেন আজিজুল হাসান দুলু। তার মৃত্যুর পর বিএনপি’র রাজনীতিতে যে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা কখনোই পূরণ সম্ভব নয়। দুলু ছিলেন সেরা সংগঠকদের অন্যতম। তার দৃঢ়তা এবং আপসহীনতা তাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছিল। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বিভিন্ন উদ্ভাবনী কৌশল প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক মনোভাবের জন্য প্রশংসিত ছিলেন। আমি বর্তমানে যে পদে আছি, খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি, এই পথের অনেকটাই এগিয়ে গেছে দুলুর অবদানের জন্য। তাঁর কথা ও কাজ আমি ধরে রেখেছি, এবং এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

    শুক্রবার বিকেল ৫টায় দলীয় কার্যালয়ে মহানগর বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক প্রয়াত আজিজুল হাসান দুলুর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক সৈয়দ রেহেনা ঈসা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু, বিএনপি নেতা কে এম হুমায়ুন কবির, হাফিজুর রহমান মনি, একরামুল হক হেলাল, আসাদুজ্জামান আসাদ, আব্দুল আজীজ সুমন, মুজিবর রহমান, জাকির ইকবাল বাপ্পী, মো. নাসির উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম শফি, আজিজা খানম এলিজা, মুনতাসির আল মামুন, মশিউর রহমান নান্নু, আবু সাঈদ শেখ, জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. নুরুল ইসলাম, মাস্টার রফিকুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম কিরন, ডাঃ ফারুক হোসেন, মিলন হোসেন, আজাদ হোসেন, সৈয়দ ইমরান, হabul্বুর রহমান হাবিব, জিয়াউর রহমান আপন ও আমিন হোসেনসহ আরও অনেকে। আলোচনা শেষে প্রয়াত নেতার রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    অন্যদিকে, শুক্রবার নগরীর ২১নং ওয়ার্ডের ৫নং ঘাটস্থ গ্রীণল্যান্ড জামে মসজিদে জুম্মার নামাজের পর স্থানীয় মুসল্লি ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ এক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক। এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় দুই ভাইকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা

    চুয়াডাঙ্গায় দুই ভাইকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলীতে গরু কেনাবেচা বিষয়ক বিরোধের জেরে দুজন ভাইকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই সহিংস ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন, যিনি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বর্তমানে সুস্থ থাকলেও এখনো শঙ্কামুক্ত নন। গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উথলী গ্রামের বিলের মাঠে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত দুই ভাই হলেন, উথলী গ্রামের মাঝেরপাড়ার মৃত. খোদা বক্স মণ্ডলের দুই ছেলে, আনোয়ার মান্টা (৫৫) ও হামজা (৪৫)।

    উথলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক জানান, চার মাস আগে আনোয়ার ও হামজাদের গরু বিক্রির জন্য প্রতিবেশী নিজাম আলী ওরফে খোকার সঙ্গে দাম নির্ধারিত হয়। অন্য দিন গরুটি খোকার মূল্যের থেকে বেশি দাম বলে বিক্রি করে দেওয়ায় দাম্পত্যে বচসা শুরু হয়। এর জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারধর হয়। এরফলে মামলা দায়ের হলেও বিষয়টি এখন বিচারাধীন।

    পরবর্তীতে ঠাণ্ডা মাথায় ওই বিরোধের জের ধরে গত শনিবার সকালে গরু বিক্রির আলোচনা নিয়ে উথলীর বিলের মাঠে সংঘর্ষ বাঁধে। অভিযুক্তরা, যার মধ্যে বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে আসে। তারা তিন ভাই—আনোয়ার মান্টা, হামজা, ও আব্দুর রাজ্জাক—সহ আরও বেশ কিছু ব্যক্তিকে অতর্কিত হামলা করে। হামলায় আব্দুর রাজ্জাক সামান্য আহত হলেও, গুরুতর জখম হয় দুই ভাই, আনোয়ার ও হামজা। হাসপাতালে আনার আগেই একজন মারা যান, আর একজন চিকিৎসাধীন থাকতে মারা যান।

    পরিবার ও স্থানীয়রা এই নিষ্ঠুরতার জন্য অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। এলাকাটির পরিস্থিতি এখন উদ্বেগজনক, থমথমে atmosphere বিরাজ করছে। জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    প্রতিবেশীদের সঙ্গে গরু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল বলে জানা গেছে। এই সংঘর্ষের জন্য নিহত দুই ভাই ও আহত ব্যক্তির পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের ধরতে কাজ শুরু করেছে।

  • অবসরে যাওয়া ইমামকে নগরীতে রাজকীয় বিদায়

    অবসরে যাওয়া ইমামকে নগরীতে রাজকীয় বিদায়

    নগরীর টুটপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুস সালামকে অসাধারণ সম্মান ও রাজকীয় বিদায় দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পরে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে তাকে পাগড়ি পরানো এবং ফুলেল শুভেচ্ছায় মর্যাদাপূর্ণভাবে বিদায় জানানো হয়। তিনি দীর্ঘ ৩৭ বছর ৮ মাস ধরে মসজিদে আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে ৮৫ বছর বয়সে অবসরে গেলেন।

    শুরুতে, ১৯৮৭ সালে, তিনি টুটপাড়া জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে যোগদান করেন। সেখান থেকে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে ইসলামের দাওয়াত ও নামাজের ইমামতি করে গেছেন। তার আগে খুলনা আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় দীর্ঘকাল শিক্ষকতা করেছেন। প্রায় ১৫ বছর আগে অবসর নিলেও তিনি মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব অব্যাহত রেখেছিলেন। তবে বয়সজনিত শারীরিক অসুবিধা ও দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে অক্ষম হয়ে পড়ায় এবার অবশেষে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হলো তাঁকে।

    বিদায়ের দিন জুমার নামাজের পর মসজিদে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের ইমামকে হারানোর দুঃখে উপচে পড়ে মুসল্লিদের চোখ। নামাজ শেষে, নিজে কণ্ঠ ভারী করে, তিনি তালেবান দোয়া করেন সকলের কাছে—‘শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি আর দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে পারছি না। আল্লাহ যেন আমাকে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার তৌফিক দেন, সেই দোয়া চাই।’

    এরপর, তাকে ফুল দিয়ে সজ্জিত একটি গাড়িতে করে পুরো টুটপাড়া এলাকায় শোভাযাত্রা করা হয়। মোটরসাইকেল বহরে মুসল্লিরা তাকে তার বাসায় পৌঁছে দেন। এই ব্যতিক্রমী আয়োজনকে এলাকাবাসী একজন অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। টুটপাড়া জামে মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা মো: ইদ্রিস আলী বলেন, ‘এই ইমামের কাছে পুরো এলাকা কৃতজ্ঞ। তিনি হাজার হাজার মানুষের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে গেছেন, ইসলামের পথে আহ্বান করেছেন। আমাদের সমাজে ইমামদের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না, তাই আমরা এই আয়োজনের মাধ্যমে একটি সুন্দর উদাহরণ স্থাপন করতে চেয়েছি।’

    প্রায় চার দশকের ইমামতি জীবনে, মাওলানা আব্দুস সালাম শুধু মসজিদের দায়িত্ব পালন করেননি, তিনি এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তার মৃদু স্বভাব, আন্তরিকতা এবং ধর্মীয় জ্ঞানের জন্য মুসল্লিদের কাছে তিনি একজন অভিভাবকের মতো ছিলেন। এই অবসরের অনুষ্ঠানটিও তাই এক মিলনমেলায় রূপ নেয়।

    টুটপাড়া জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা আবুল খায়েরের সভাপতিত্বে, মাদ্রাসার মোহতামিম হাফেজ মোসতাক আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি জিয়াউর রহমান। অনুষ্ঠানে, মসজিদের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য খাঁন আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে, ওয়াক্কিফা প্রতিনিধিরা এবং অন্যান্য মুসল্লিরা বক্তব্য রাখেন।