নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন করিমনগর এলাকার আলাউদ্দিন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মিন্টু শেখকে র্যাব-৬ পুলিশের অভিযানিক দল অবশেষে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে রূপসা উপজেলার হোসেনপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে। গ্রেফতারের পর, শুক্রবার সকালে তাকে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেফতার হওয়া মিন্টু শেখ নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন ময়লাপোতা হরিজন কলোনীর বাসিন্দা, তিনি আলেমগীর শেখের ছেলে। সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মো. কবির হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
Category: সারাদেশ
-

অতীতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শ্রমিক সমাজকে প্রস্তুত থাকতে হবে: খোলনায় বক্তারা
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের যুগে পূর্ববাংলায় মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা ছিল না। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, লুটপাট, অপরাধ ও জুলুমবাজির মাত্রা এত বেশি ছিল যে পুরো দেশই অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশবাসীর মধ্যে যে স্বাভাবিক আশার সঞ্চার হয়েছিল, তা অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘ সময় ধরে ধরে রাখতে পারেনি। বর্তমানে দুর্নীতি ও অনিয়মের দুর্বৃত্তি এখনও রয়ে গেছে, সরকার মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। তাই সরকারের উচিত এই পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ, এটাই দেশের ভাগ্য নির্ণায়ক। এজন্য কোনও শ্রেণি বা পেশার মানুষ যেন ঘরে বসে না থাকেন, বরং সবাই ময়দানে এসে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শ্রমিক সমাজকে তিনি যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। শুক্রবার সকালে খুলনা-৬ আসনের পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হরিঢালী ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ মাকফার মোড়লের এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফেরদৌস ইসলাম। বিখ্যাত বক্তারা আরো বলেন, শ্রমিক সমাজকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে। এতে করে দেশের স্বাভাবিক অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে, এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে।
-

বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন দিশা সাহসী নেতৃত্ব তারেক রহমান: তুহিন
মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, অনেক ইতিহাস ঘষে দাঁড়ানো জাতির জন্য এই দেশের মহানায়করা জীবনে আত্মত্যাগ করেছেন। তারেক রহমান যে সমস্ত ত্যাগ স্বীকার করে দেশের জন্য কাজ করে গেছেন, তার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার পিতাও জীবন দিয়ে গেছেন এই দেশের জন্য, আমি তার পথেই হাঁটছি। তারেক জিয়াকে আমি माझে নেতা হিসেবে গ্রহণ করেছি। আমি সহজ ভাষায় বলতে পারি, যতদিন তারেক রহমান থাকবেন, ততদিন দেশ যেন পথ হারাতে না পারে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ৬১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সোনাডাঙ্গা থানা তাঁতীদল আয়োজিত দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের সময় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তুহিন আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক চাপের মধ্যদিয়েও তিনি এখনো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং উচ্চ আদালতের নানা মামলার পর তিনি ভার্চুয়াল মাধ্যমে নেতৃত্বের সীমাকে অতিক্রম করে দলের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ শুরু করেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের নেতৃতে বিএনপি এখন এক ধরনের সংযত ও নিষ্ঠাবান রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও আধুনিক দেশের মানদণ্ডে নিজেদের পরিকল্পনা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে শুরু করেছেন। দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে তিনি জিরো টলারেন্স নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানা বিএনপি’র সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির ইকবাল বাপ্পি। এছাড়াও, উপস্থিত ছিলেন থানা তাঁতীদলের সভাপতি ডাঃ আব্দুল হালিম মোড়লের সভাপতিত্বে নজরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান রুনু, আফজাল হোসেন, মোঃ মহিবুল্লাহ ও মোঃ রাজু প্রমুখ।
-

নতুন বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সর্বোচ্চ ত্যাগের আহ্বান
নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিএনপি নেতা-কর্মীদের পুরোপুরি ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আগামী নির্বাচনটি দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণকারী মুহূর্ত হবে, মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতারা। খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্রতিকূলতা, দমন-পীড়ন ও মামলা-হামলার মধ্যেও রাজপথে থেকে পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করছে। এর ফলে দেশের মানুষ এখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন চাচ্ছে। বিএনপি এই প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। জনগণের আস্থা অর্জন তাদের প্রধান লক্ষ্য। তরুণ প্রজন্ম অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচারের পক্ষেও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করছে। আমি বিশ্বাস করি, তরুণরাই ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করবে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ছাত্রদল নেতা মরহুম সিফাত আকুঞ্জি, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম রাশেদুজ্জামান রাশেদ, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মরহুম ফরিদুল হক, সাবেক ছাত্রদল নেতা মরহুম মশিউর রহমান টিটু, ২৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মরহুম শেখ এমদাদুল হক, ২৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মরহুম শেখ মোহাম্মাদ আলী, ২৯নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মৃত শহিদুল ইসলাম, সাবেক এমপি মরহুম ওয়াজেদ আলী বিশ্বাস, ৯০’র এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সম্মুখ যোদ্ধা মরহুম রফিকুল হকের ভাই আমিনুল হক মিঠুর বাসভবনে যান। সেখানে তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মৃত নেতাদের জন্য দোয়া করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এছাড়া, ছাত্রদল নেতা এস এম মাহমুদুল হাসান টিটুর অসুস্থ পিতা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি, অসুস্থ এমরানুল করিম নাসিম, ২৯নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি খালিদ ইবনে মুছা কাজলের বাসভবনে গিয়ে তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ভোট ও দোয়া চান।
অতীতে, ২৯নং ওয়ার্ড মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী মরহুম নুরুন্নাহার জলির স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং দোয়া পরিচালনা করেন সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, নির্বাচিত ও অনির্বাচিত সরকারের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকার যে কাজগুলো করতে পারে, অনির্বাচিত সরকার তা করতে পারে না। তাই, দেশের উন্নতি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিকরা একসাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কঠোর পরিশ্রমে जुटে থাকতে হবে।
এ সব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, নজরুল ইসলাম বাবু, মেহেদী হাসান দিপু, আনোয়ার হোসেন, এড. গোলাম মওলা, ইউসুফ হারুন মজনু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, গিয়াসউদ্দিন বনি, মজিবর রহমান ফয়েজ, শামসুজ্জামান চঞ্চল, কামরান হাসান, ইশহাক তালুকদার, শমসের আলী মিন্টু, হাসান মেহেদী রিজভী, আব্দুল জব্বার, মেশকাত আলী, আসলাম হোসেন, নাসির খান, মোস্তফা কামাল, মেজবাহ আহমেদ মিজু, রবিউল ইসলাম রবি, জাহিদ কামাল টিটো, রিয়াজুর রহমান, মহিবুল্লাহ শামীম, আলমগীর হোসেন আলম, কামাল উদ্দিন, জাকারিয়া লিটন, এড. শামীম বাবু, মাসুদ খান বাদল, মাজেদা খাতুন, হাবিবুর রহমান, জাহাঙ্গীর হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, আসাদ মাস্টার, মোহাম্মাদ আলী, মনিরুল ইসলাম মাসুম, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, খান শহীদুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান লিটু, গোলাম নবী ডালু, মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, আল বেলাল, হুমায়ুন কবির, সাব্বির অাহমেদ, রবিউল ইসলাম বিপ্লব, আসাদুজ্জামান বাদশা, শহিদুল ইসলাম লিটন, মোহাম্মাদ আলী মিঠু, মোল্লা মোস্তাফিজুর রহমান রাজু, মোল্লা আলী আহমেদ, ডাঃ ফারুক হোসেন, ওমর ফারুক বনি, শামীম আশরাফ, সুলতান মাহমুদ সুমন, মোফাজ্জেল হোসেন, ওহেদুর রহমান বাবু, নাজমুল হক মুকুল, খান রাজিব, কবির বিশ^াস, শামসুল আলম বাদল, মাসুদ রেজা, টিপু হাওলাদার, সেলিম বড় মিয়া, ইউনুচ শেখ, ঈশা শেখ, আব্দুল খালেক, শাহজালাল, আনোয়ার গাজী, ইলিয়াস হোসেন, আবুল কালাম, মেহেদী হাসান কালু, আরিফুল ইসলাম আরিফ, এস এম সজল, মাহমুদ হাসান মুন্না, মেজবাউল আলম পিন্টু, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ওহেদুজ্জামান শিমুল, খায়রুল ইসলাম, আসাদ সানা, আনোয়ার হোসেন, তরিকুল ইসলাম হৃদয়, আলাউদ্দিন আলম, রাজিবুল আলম বাপ্পি, জুয়েল রহমান, আসমত হোসেন, হেমায়েত হোসেন, আলাউদ্দিন জনি, রিয়াজুর রহমান সোহাগ, আতিকুর রহমান লিটন, হারুন হেলাল, বেল্লাল হোসেন, মাসুদ রুমি, ইলিয়াস হোসেন, রিমো চৌধুরী, নাজমা আক্তার, শারমিন আক্তার সুমি, তারিন আক্তার সৃষ্টি, আশিকুর রহমান সেলিম, সালাউদ্দিন সান্নু, ইমরান খান, শফিউদ্দিন আহমেদ, ইমতিয়াজ সেজান, কামরুজ্জামান সিরাজ, আসাদ সানা, জামাল মোড়ল, কামরুল বিশ্বাস, খোকন গাজী, আবুল কাশেম, ফরিদ শেখ, শহিদুল ইসলাম, শিল্পি বেগম, জামিলা আক্তার, নাজমুন নাহার, জেসমিন আক্তার, তৈবুর রহমান তপু, ইব্রাহিম খলিল, মোঃ রাজু, ফরিদা ইয়াসমিন, লাকী বেগম, তানভীর প্রিন্স, নার্গিস পারভীন, শিউলী বেগম প্রমুখ।
-

খুলনা বিভাগের উন্নয়ন ও সংকট মোকাবেলায় পাঁচ দফা দাবি
ঢাকায় কর্মরত খুলনা বিভাগের সাংবাদিকদের সংগঠন খুলনা বিভাগীয় সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার আয়োজনে সম্প্রতি এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিষয়টি ছিল ‘খুলনা বিভাগের সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই আলোচনাসভায়। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয়, বিনিয়োগ, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিল্প-বাণিজ্য উন্নয়ন ও অবকাঠামোর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আলোচনা হয়। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল খুলনা বিভাগের সংকটগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তার সমাধানকল্পে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ। এতে অংশ নেন সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা। গোলটেবিলের সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ও বাংলা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু। সাধারণত সদস্য নাসির আহমাদ রাসেলের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক সচিব ও সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। আলোচনা মূলত খোলামেলা ও গঠনমূলক হয়, যেখানে বক্তারা তুলে ধরেন বিভিন্ন সংকট ও সম্ভাবনার কথা। বক্তারা উল্লেখ করেন, জাতীয় অর্থনীতিতে খুলনা বিভাগের অবদান ৩২ শতাংশ হলেও এখানকার উন্নয়ন বেশ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানে এই বিভাগে ১০ জেলা, ৫৯ উপজেলা ও ৫৬৮ ইউনিয়ন রয়েছে। এই অঞ্চল দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেকটাই বৈষম্য, অবহেলা ও নিস্তেজতার শিকার। উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় এখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। তাই উপকূলের জন্য স্থায়ী ভেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান বোর্ডের সদস্যরা। তারা আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি হয়, ফলে হাজার হাজার একর জমির মালিকরা হয় Fakir বা দরিদ্র। এখানকার মানুষদের আত্মউন্নয়নের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে ও শক্তি সঞ্চয় করতে হবে। বৈঠকে খুলনা বিভাগে গভীরে সমুদ্রবন্দর স্থাপনের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা, উপকূলীয় উন্নয়ন ও সমুদ্র সুরক্ষায় বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এছাড়াও বোর্ড গঠন ও পেশাজীবীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, খুলনার উন্নয়ন সম্ভব যদি সংগঠিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। তারা প্রত্যাশা প্রকাশ করেন, এখানকার সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ও দৃষ্টি নখর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, খুলনা পার্বত্য, নদীপথ ও স্থলবন্দর দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে, যদি সঠিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই আলোচনা ভবিষ্যতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে দেশের উন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে।
-

নতুন বাংলাদেশ গড়তে পুরনো জরাজীর্ণ ব্যবস্থার পরিবর্তনের অঙ্গীকার বিএনপি
বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, ‘যদি অনভিজ্ঞ দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়, তবে বাংলাদেশ একটি মক্কেল রাষ্ট্রে পরিণত হবে।’ তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার রূপসা উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন। সকালেই রূপসা আল আকসা মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তিনি ‘একটি বাড়ি একটি গাছ’ প্রকল্পের অঙ্গীকার হিসেবে বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর তিনি সামছুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বৃক্ষ রোপণ করেন। বিকালে জাবুসায় মহিলা দলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় ও নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন হেলাল। তিনি বলেন, ‘প্রিয় মানুষেরা, আপনারা ঘরে ঘরে গিয়ে আমার সালাম পৌঁছে দেবেন। আমি হয়তো সবার বাড়িতে পৌঁছাতে পারবো না, তাই আমি চাই দলের সকল নেতা-কর্মী তা করেন।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘গত ১৭ বছরে মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। একটি দল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা চারবার দেশ পরিচালনা করেছি, আমাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে।’ এছাড়া তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমরা পুরনো জরাজীর্ণ ব্যবস্থা বিনাশ করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএনপি সরকার গঠনে যদি সুযোগ হয়, তবে এক কোটি বেকারকে কর্মসংস্থান, মাতাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করবে। এসব কার্ডের মালিকানা পরিবারের মূল মহিলাদের হাতে থাকবে। দেশের মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এখন দেশে নির্বাচন অমেজ বিরাজ করছে। মানুষ ভোট দানে উৎসাহী। আগে কখনো এমন উৎসাহ দেখিনি।” ইউনুস সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নির্বাচনী কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। বিএনপি বিশ্বাস করে, ইউনুস সরকার একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দিতে পারে; তবে যদি ব্যর্থ হয়, জনগণ ক্ষমা করবে না।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, শেখ আব্দুর রশিদ, আনিসুর রহমান, মোল্লা রিয়াজুল ইসলাম, কামরান হাসান, উপজেলা বিএনপি’র নেতা মোল্লা সাইফুর রহমান সাইফ, বিকাশ মিত্র, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রনু, আবু সাঈদ, মহিলা নেত্রী শাহানাজ, মনিরা, মর্জিনা সহ অন্যান্যরা। এর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রহমান বেলাল, আবুল কাশেম, রেজাউল ইসলাম রেজা, মহিউদ্দিন মিন্টু, তারেক, নয়ন মোড়ল, শফিকুল ইসলাম বাচ্চু, মোশারেফ শিকদার, রুবেল মীর ও আসাদুল ইসলাম বিপ্লব প্রমুখ।
-

দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করুন: পরওয়ার
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের শান্তি ও সুখী জীবন নিশ্চিত করতে হলে ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। তিনি মনে করেন, যদি দেশের সব স্তরে ইসলামী আইন চালু হয়, তবেই সকল ধর্মের মানুষ শান্তি ও সমৃদ্ধি পাবে। তিনি আর বলেন, ন্যায়নিষ্ঠা ও ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্বের মতো ঘৃণিত কর্ম ও অসাধুতা বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ইসলামই একমাত্র সঠিক পন্থা যাতে সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা যায়। এজন্য তিনি সব ইসলামপন্থী আলেম-ওলামা ও ভীরু মুসল্লিসহ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে সকল ইসলামপ্রর্থী প্রার্থীকে ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়ন ও শান্তি আনতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-৫ আসনের আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে মহিলা ভোটার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এড. আবু ইউসুফ মোল্যা, এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া, অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খানজাহান আলী থানার আমীর ডাঃ সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, জামায়াত নেতা মোঃ সুলতান মাহমুদ, মোঃ মোশারফ হোসেন, নূর ইসলাম গাজী, মোঃ রানা আকুঞ্জীসহ অনেকেই।
এর আগে সকালে সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার শিরোমণির ডাকাতিয়া গ্রামে গণসংবাদিক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, খানজাহান আলী থানার আমীর ডাঃ সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটোসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে রাতে সাজিয়াড়া শামসুল উলুম মাদরাসার ১০৫তম বার্ষিক মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন। বলেছেন, “এবার সুযোগ এসেছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন। যেখানে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রয়েছে সেখানে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীকে, আর যেখানে ইসলামী জোটের প্রার্থী রয়েছে সেখানে জোটের প্রার্থীকে ভোট দিন।” তার এই আহ্বানে দেশের উন্নয়ন ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য সাধারণ মুসল্লি ও ভোটারদের আগ্রহ ও সমর্থন কামনা করেছেন।
-

তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করব: নজরুল ইসলাম মঞ্জু
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে দেশের গণতন্ত্রের জন্য তিনি সুস্থ ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। সাধারণত, তাঁর সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “তারেক রহমান আমাদের জন্য দেশের গণতন্ত্রের আশার প্রতীক। আল্লাহ তাঁর দীর্ঘ জীবন ও সুস্থতা দান করুন। তাঁর নেতৃত্বে আমরা যেন সব ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারি, সেটাই আমাদের প্রার্থনা।” তিনি আরও বলেন, “আমরা দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করে ধানের শীষকে বিজয়ী করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি। তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ঐক্য অটুট রেখে ভবিষ্যতে নির্বাচনে সব সময় জয়লাভের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ২টায় বেসিক ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এই কথা বলেন মঞ্জু। পাশাপাশি তিনি আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চান। এরপর তিনি বলেন, “বিএনপি আগামী নির্বাচনের জন্য জনগণের কাছে নিজের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিগত অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আমরা ইতিবাচক রাজনীতি চালুর পক্ষে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু দলের দায়িত্ব নয়, এটি বিএনপি’র ঐতিহ্য। তারেক রহমানের দিক নির্দেশনায় এই মানবিক উদ্যোগগুলো দেশব্যাপী আরও বিস্তৃত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।” সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, ইকবাল হোসেন খোকন, আনোয়ার হোসেন, ইউসুফ হারুন মজনু, শামসুজ্জামান চঞ্চল, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, রবিউল ইসলাম রবি, আনিসুর রহমান আরজু, মেহেদী হাসান সোহাগ, ইকবাল হোসেন, মিজানুজ্জামান তাজ, আলমগীর হোসেন আলম, মোস্তফা কামাল, মোস্তফা জামান মিন্টু, ওহেদুর রহমান বাবু, পারভেজ মোড়ল, নাদের উদ্দিন খান, রাজিবুল আলম বাপ্পি, সুলতান সালাউদ্দিন সুমن, সেলিম বড় মিয়া, শামীম রেজা, রাজু আহমেদ রাজ, আসমত হোসেন, জুয়েল রহমান, সজল আকন নাসিব, শাহনেওয়াজ, মামুনুর রহমান রাসেল, গিয়াসউদ্দিন, বাইজিদ হাসান, ওহেদুজ্জামান শিমুল, তামিম হাসান, শফিউদ্দিন আহমেদ, এএম মাহমুদ, ইনামুল কবির, আলমগীর হোসেনসহ থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
-

মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর স্বপ্ন দেখছেন তারেক রহমান, বাস্তবায়নে জনগণের পাশে থাকবেন বকুল
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, দেশের shining নেতা তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ এক আয়োজনের আয়োজন করেছেন খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। বৃহস্পতিবার খালিশপুর ৩নং ক্যাম্পে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়, যা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) খুলনার সহযোগিতায় আয়োজিত। এই ক্যাম্পে অসংখ্য অসুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ চিকিৎসা, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণের সুযোগ পান। ডা. সালেহ আহমেদ পলাশের সভাপতিত্বে, সঞ্চালনায় বেলাল হোসেন সুমন এবং ড্যাবের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা— ডাঃ আবুল কালাম আজাদ, ডাঃ আবু বকর, ডাঃ জুয়েল, ডাঃ জাকারিয়া, ডাঃ নিশান, ডাঃ হাসান ও ডাঃ প্রমিস— অবদান রাখেন। এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, খালিশপুর থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বিশ্বাস, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাহমুদুল হাসান পলাশসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তৃতায় রকিবুল ইসলাম বকুল বিশ্বাস করেন, বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। তিনি যোগ করেন, “মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর যে স্বপ্ন তারেক রহমান দেখছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা জনগণের সঙ্গে আছি এবং থাকবো।” ক্যাম্পে আসা রোগীদের উদ্দেশে বকুল ঘোষণা করেন, “যেসব ওষুধ তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া সম্ভব হয়নি বা যেসব টেস্টের প্রয়োজন, সবকিছুর দায়িত্ব আমাদের। প্রতিটি টেস্ট ও ঔষধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে।” তিনি আরও জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প চালু করা হবে, এবং শীঘ্রই চক্ষু শিবিরও পুনরায় চালু করা হবে। শিক্ষার্থীদের ছাত্রদের উন্নতির কথা উল্লেখ করে বকুল বলেন, “পয়সার অভাবে কোনো ছেলে- মেয়ে যেন স্কুলে ভর্তি হতে না পারে বা বইয়ে অপ্রাপ্ত হয়, এটা আমরা হতে দেবে না।” মেডিকেল ক্যাম্প শেষে বকুল ৩নং ক্যাম্পের এলাকায় গণসংযোগ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে বলার সময় তিনি বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশকে নতুন ভাবে গড়ে তুলতে নিরলস পরিশ্রম করছেন, দেশের প্রতিটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুতার জন্য দোয়া চান, এবং সকলের কাছে আশীষ পরিচালনা করেন। শেষে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় কার্যক্রম শেষ হয়।
-

নির্বাচন ও নাগরিক প্রত্যাশা: শঙ্কা ও উপায়ে সমাধান
নির্বাচনের আয়োজন কেন্দ্র করে নাগরিকদের মধ্যে গভীর শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত ও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার খুলনায় নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত প্রাক-নির্বাচনী আঞ্চলিক পরামর্শ সভার শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে নাগরিক ইশতেহার প্রস্তুত হচ্ছে। কিন্তু শুধু ইশতেহারে অংকিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের জন্যও সকলকে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি এ ব্যাপারে আরও বলেন, নাগরিকদের কণ্ঠস্বর উপেক্ষা করা হলে দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় অগ্রসর হবে না। তাই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছতা অপরিহার্য। চট্টগ্রামের বন্দর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশ্নে ড. ভট্টাচার্য বলেন, দেশের অর্থনীতির বিকাশের জন্য এই বন্দর ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন জরুরি। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে এটি আরও সক্রিয় ও স্বচ্ছ করে তুলতে হবে। তবে সংস্কার যদি বেঠিক পদ্ধতিতে হয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জিত হবে না। বন্দরের অস্বচ্ছতা ও ধীরগতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন এবং খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাঁদের প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরেন। তারা কর্মসংস্থান, উপকূলীয় মানুষের সুবিধা, সুন্দরবন সংরক্ষণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। এ সমস্ত বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক নেতারা তাদের করণীয় নির্ধারণে মতবিনিময় করেন এবং সাধারণ মানুষের চাহিদা পূরণে আগামী সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন। এর আগে, বৃহস্পতিবার খুলনায় এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও বাংলাদেশ আয়োজিত আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জনগণের আস্থা না থাকলে নির্বাচন প্রকৃত গণতান্ত্রিক রূপ পায় না। তাই স্বচ্ছতা, মুক্ত আলোচনা ও সততার ভিত্তিতে আস্থা ফিরিয়ে আনাই একমাত্র সমাধান। দেশ বর্তমানে নির্বাচনমুখী হলেও, কেমন নির্বাচন হবে এই প্রশ্ন এখনো উদঘাটিত হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে নাগরিক ইশতেহার প্রস্তুত করার ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া। নাগরিকের কণ্ঠস্বর নেতাদের কাছে পৌঁছানো জরুরি, কারণ শুধু ইশতেহারে লেখা বা সংযুক্ত করলেই তা বাস্তবায়িত হয় না—সবারই নিজের স্বীয় দায়িত্ব পালন করতে হবে। সভায় বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের সম্ভাবনা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও তার বাস্তবায়ন এখনও দৃশ্যমান নয়। পদ্মা সেতুর চালু হওয়ার পরও সেই প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না, জমির মূল্য বৃদ্ধি পেলেও কর্মসংস্থান বা শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি জোগানো এখনও ব্যর্থ। তিনি আরও বলেন, যারা এই অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হবেন, তারা অবশ্যই আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করবেন। ভোটাধিকার প্রয়োগের পরদিন থেকেই গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ নিশ্চিত করবে তার যথাযথ বাস্তবায়ন। সভার সমাপনী বক্তব্যে সিপিডির ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, জোট বা দল যা কিছু করুক না কেন, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন না করলে নির্বাচন মানেই ন্যূনতম গণতন্ত্রের প্রতীক হয় না। অতএব, স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে আস্থা ফিরিয়ে আনা আমাদের দেশের জন্য সময়ের দাবি। এ সম্মেলনে রাজনৈতিক নেতা, সচেতন নাগরিক, শিক্ষক, গবেষক, আইনি প্রতিনিধি, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশাজীবী অংশগ্রহণ করেন। এখানে উল্লেখ্য, খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা রাখেন উন্নত কর্মসংস্থান, উপকূলীয় এলাকার সুবিধার সম্প্রসারণ, সুন্দরবন সংরক্ষণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য।
