মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ রাশিদুল ইসলাম, যিনি দৈনিক মানবজমিনের খুলনা ব্যুরো প্রধান। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক রানা, যিনি দৈনিক সংগ্রামের খুলনা বিভাগীয় প্রধান। কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ রকিবুল ইসলাম মতি, যিনি এসএ টিভির খুলনা প্রতিনিধি। এই তিনজন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন কারণ অন্য কোনো প্রার্থী ছিলেন না। এছাড়াও, অন্যান্য পদে নির্বাচিত হন মোঃ নূরুজ্জামান (বাসস, খুলনা জেলা প্রতিনিধি), আশরাফুল ইসলাম নূর (সময়ের খবর, সিনিয়র রিপোর্টার), মোঃ এরশাদ আলী (নয়াদিগন্ত, খুলনা ব্যুরো প্রধান) ও কে এম জিয়াউস সাদাত (প্রবর্তন, নির্বাহী সম্পাদক)। গত রোববার অনুষ্ঠিত দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে মোট ৭ পদে অন্য কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় নির্বাচন কমিশন তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে। নির্বাচনের পরিচালনা করেন ইউনিয়নের সিনিয়র সদস্য ও ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের খুলনা ব্যুরো প্রধান জি এম রফিকুল ইসলাম। অপর সদস্যরা হলেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কালের কণ্ঠের খুলনা ব্যুরো প্রধান এইচ এম আলাউদ্দিন ও দৈনিক খুলনাঞ্চলের সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবের ইউনিয়ন কার্যালয়ে বর্তমান সভাপতি মোঃ আনিসুজ্জামান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন হিমালয় ছেড়ে নবনির্বাচিত নেতাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। এর পাশাপাশি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিএনপি নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলছেন, নতুন এই কমিটি পেশাদার সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সার্বিক কল্যাণে কাজ করবে। তারা আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সংগঠনটি মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের স্বাধিকার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। গণহত্যাকারী ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার চেষ্টা যেন কেউ না করে, সে জন্য মিডিয়াগুলোকে দেশের জনগণের পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে উদ্বুদ্ধ করা হবে। নেতৃবৃন্দ এই দীর্ঘ পথচলায় সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। বিবৃতিদাতারা হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, জেলা আ“`}
Category: সারাদেশ
-

আমি যেন শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর দেখার স্বপ্ন দেখি
জুলি শহীদ রাকিবুল হোসেনের বাবা-মা মানছেন, দ্রুত শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করতে হবে। তারা দাবি করেন, গত গণঅভ্যুত্থানে গনহত্যা ও মানবতাবিরোধী অসংখ্য অপরাধের জন্য আদালতে দেওয়া রায় প্রমাণিত হয়েছে। সোমবার বিকেলেও তারা এই দাবি প্রকাশ করেন। শহীদ রাকিবুলের মা হাফিজা খাতুন বলেন, শেখ হাসিনা তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের রায়ে সব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আমি কিছুটা সন্তুষ্ট। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাচ্ছি, তিনি যেন আমাকে এ দেখার সৌভাগ্য দেন যে, কবে আমি শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর হতে দেখতে পারবো। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আছাদুজ্জামান খান কামালসহ সকল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দফতর পক্ষের সাথে যুক্ত সবাইকে ফাঁসি দিতে হবে। যারা এই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত হয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করতে হবে। আজ আমরা খুশি, কারণ সমাজের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের জন্য তারা দায়ী। ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার রাকিবুল হোসেন। আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশ তার উপর গুলি চালিয়ে তাকে নিহত করে। তিনি ঢাকার বনানীর একটি জুট মিলের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামে।
-

শেখ হাসিনার বিচারপ্রাপ্ত রায় দেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনছে
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের পথ এখন সুস্পষ্ট মনে করছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেন, জুলাই সনের মাধ্যমে শুরু হওয়া সংস্কার প্রক্রিয়া এখন কার্যকর রূপ পাচ্ছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুম-খুনের ঘটনায় আদালতের বিচারে প্রাপ্ত রায় এটিই প্রমাণ করে যে, দেশের আইন শাসন আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। গতকাল সোমবার আইচগাতীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন হেলাল। তিনি আরও বলেন, এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো অবাধ, সুষ্ঠু এবং সবার গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করা। এই নির্বাচনই সিদ্ধান্ত নেবে দেশের ভবিষ্যৎ কেমন দাঁড়াবে। অনেক বছর ধরে জনগণ যা চেয়েছে, সেটি বাস্তবে রূপ দিতে এবার সুযোগ এসেছে। বিএনপি সবসময় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যকলাপ ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জনগণই আমাদের শক্তির উৎস, এবং গণতন্ত্রই আমাদের পথ, আনলেন তিনি।
হেলাল উল্লেখ করেন, যারা দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আদালত ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের জন্য সমস্ত অপশক্তি এখনই প্রতিরোধের মুখে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া বানচাল করার জন্য যেসব ষড়যন্ত্র চলছে, তা সবই ব্যর্থ হবে।
জনগণের ভোটাধিকার সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ ঢের আন্দোলন করেছে, সংগ্রাম করেছে, তাদের নিজের ভোট নিজে দেওয়ার জন্য, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য।” আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য করে বিএনপি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে না বলে জানানো হয়। তিনি বলেন, “রাজনীতি মানে মানুষের সুবিধা বাড়ানো, কষ্ট দেওয়া নয়। বিএনপি পরিবর্তনের রাজনীতি চায়—সংঘাতের নয়।” এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু। এতে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র অন্যান্য নেতারা, যেমন খায়রুল মোল্লা, কামরুজ্জামান টুকু, শেখ আব্দুর রশিদ, এনামুল হক সজল, নাজমুস সাকিব পিন্টু, আব্দুস সালাম মল্লিক, রিয়াজ মোল্লা, আরিফুর ইসলাম আরিফ, আলী আজগর, খান সাহানুর রহমান আর্জু, শেখ আনিসুর রহমান ও অন্যান্য নেতারা। সভা শেষে নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রস্তুতি, কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি ও প্রচারণার কৌশল বিষয়ক পরবর্তী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
-

দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচনকে বিলম্বিত করার চেষ্টাও চলমান। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গত ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার শাসনামলে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন সাধারণ মানুষ। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলকে শক্তিশালী করে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় ১৬নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি মরহুম আব্দুল জলিল বিশ্বাস, ২৩নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মরহুম আব্দুল আজিজ, যুবদলের সাবেক নেতা মরহুম আরাফত রহমান মাসুম, সাংবাদিক মরহুম এটিএম আব্দুর রফিক, ৩০নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মরহুম মোজাফফর হোসেন, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মরহুম শেখ ফারুক হোসেনসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীর বাসভবনে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়াও, অসুস্থ বিএনপি নেতাদের সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া এবং তাঁদের ভরসা দিয়ে দোয়া করেন। এ সময় তিনি সকলকে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য উদ্যোগী ও একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, আনোয়ার হোসেন, সাদিকুল রহমান সবুজ, ইউসুফ হারুন মজনু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, শামসুজ্জামান চঞ্চল, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, ইশহাক তালুকদার, মেজবাহ উদ্দিন মিজু, রবিউল ইসলাম রবি, আসলাম হোসেন, আলমগীর হোসেন আলম, ইকবাল হোসেন, রিয়াজুর রহমান, মাসুদ খান বাদল, আব্দুল হাকিম, আতিকুর রহমান, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, অরিফুর রহমান আরিফ, আমির হোসেন বাচ্চু, এম এ সালাম, বাবুল হোসেন, সুলতান মাহমুদ সুমন, শহিদুল ইসলাম খোকন, জাহিদুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান টুটুল, আবু তালেব, ওহেদুর রহমান বাবু, সমির কুমার সাহা, শুকুর আলী, সজল আকন নাসিব, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আসাদ সানা, আবুল কাশেম, জাহিদুল ইসলাম শেখ, সেলিম বড় মিয়া, আলাউদ্দিন আলম, জাহান আলী সরদার, হারুন মোল্লা, খান রাজিব, খন্দকার সোহেল, শামীম রেজা, পারভেজ মোড়ল, মেজবাউল আলম পিন্টু, ফিরোজ আহমেদ, সোহরাব হোসেন, এড. এনামুল কবির, আবুল কালাম গাজী, জুয়েল রহমান, আক্তারুজ্জামান, ফারুক হোসেন, আব্দুর রহিম, ইউনুচ সরদার, আব্দুল করিম, পারভেজ আহমেদ, জাহিদল ইসলাম জিহাদ, মামুনুর রহমান রাসেল, শফিক উদ্দিন, তানভীর প্রিন্স, মো: মুন্না, মারুফ হোসেন, মহিউদ্দিন মঈন, ফিরোজ হোসেন প্রমুখ।
-

ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল নেতা ও গণআন্দোলনের মহা নায়ক মওলানা ভাসানী
খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, মওলানা ভাসানীর জীবন আমাদের জন্য মহান শিক্ষা- সাধারণ জীবন ও উচ্চ ভাবনাকে সম্পৃক্ত করতে। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আফ্রো-এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার মানুষের কাছে একজন ‘মজলুম জননেতা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল রাজনীতিবিদ এবং গণআন্দোলনের মুখপাত্র। বিভিন্ন সাধারণ ও স্থানীয় নির্বাচনে জয়ী হলেও কখনো ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আকৃষ্ট হননি। তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি ছিল কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ জনগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য অবিরাম সংগ্রাম। ১৯৪৭ সালে সৃষ্ট পাকিস্তান এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনীতিতে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন, তার পিতা হাজি শারাফত আলী। নিজ শিশু ও কিশোর বয়সেই পিতা-মাতাকে হারান। গতকাল সোমবার সকালে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও জাতির পিতা মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা মহানগর বিএনপি’র আয়োজিত আলোচনায় সভাপতির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। এড. মনা বলেন, তার ডাকনাম ছিল চেগা মিয়া, ছোটবেলায় তিনি ছাচা ইব্রাহিমের আশ্রয়ে থাকতেন। তখন সিরাজগঞ্জে আসেন ইরাকের একজন আলেম ও ধর্মপ্রচারক নাসির উদ্দিন বোগদাদী, যিনি হামিদকে কিছু সময়ের জন্য আশ্রয় দেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি টাঙ্গাইলের কাগমারিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং পরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের কালা গ্রামে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। আপশোসের সঙ্গে বলে রাখতে চাই, অসহায় মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মওলানা ভাসানী প্রতিনিয়ত আমাদের অনুপ্রেরণা। তার অগাধ দেশপ্রেম, দেশের স্বার্থ রক্ষা ও গণতন্ত্র ও মানবতার বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম আমাদের জন্য চিরস্মরণীয়। তার আদর্শ অনুসরণ করে আমাদের প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। মনা আরও বলেন, অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি এ দেশের মানুষের সাহস জুগিয়েছেন তার নির্ভীক ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে। তার হুঁশিয়ারি ও হুঁশিয়ারিতে অত্যাচারী শাসক ও শোষকগোষ্ঠীর মসনদ কাঁপত। কঠিন সময় ও দুর্দিনে জনস্বার্থে মানুষের পাশে থাকার জন্য তিনি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন। অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, মওলানা ভাসানী আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় নাম, যিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে উপমহাদেশের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের অধিকার আদায়, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অমোঘ নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মেহনতি জনতার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় এক আলোকবর্তিকা। সভা শেষে বিশেষ দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন, নগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, হাসানুর রশীদ চৌধুরী মিরাজ, থানা সভাপতি কেএম হুমায়ূন কবির, সেখ হাফিজুর রহমান মনি, মুর্শিদ কামাল, কাজী মিজানুর রহমান, বদরুল আনাম খান, সাবেক নেতা জামাল উদ্দিন তালুকদার, থানা সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন, আবু সাঈদ হাওলাদার, আসাদুজ্জামান আসাদ, বিএনপি’র বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা।
-

আ’লীগের নিজস্ব লকডাউন: হেলালের মন্তব্য
আওয়ামী লীগ এখন নিজেদেরই লকডাউন হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ঘোষণা করা লকডাউন কর্মসূচি এখন ব্যর্থ হয়েছে, কারণ তারা নিজেই কলকাতা ও অন্যান্য বিদেশে লকডাউন অবস্থায় অবস্থান করছে। রোববার তেরখাদার সাচিয়াদাহ বাজারে এক নির্বাচনী সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। হেলাল বলেন, “ফ্যাসিস্ট মাফিয়া সরকার ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পিছু হটছে এবং এখন ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে থেকে তারা অকারণভাবে জনগণের ওপর ‘লকডাউন’ ঘোষণা করছে, কিন্তু বাস্তবে তারা নিজেই বিদেশে আটকে রয়েছে।”
তিনি আরো অভিযোগ করেন, নির্বাচনী মাঠে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে এখন জামায়াতও কৌশল পরিবর্তন করছে। হেলাল বলেন, “জামায়াত জোড় করে ভয় দেখানোর জন্য নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, কারণ তারা জানে হার মানতে হবে। তবে জনগণ এখন ভোটের দিকে মুখি, কোনো প্রকার বাধা এই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না।”
সাচিয়াদাহ বাজারে রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করতে থাকা বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে হেলাল রাস্তার উপর রাখা চেয়ার-টেবিল সরিয়ে জনগণের অসুবিধা কমানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “বিএনপি কখনো জনসমাগমের উদ্দেশ্যে রাস্তা বন্ধ করে না, সব সময় জনগণের সুবিধার জন্য কাজ করে।”
এছাড়াও, তিনি কাটেঙ্গা বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শোনেন, রাস্তা উন্নয়ন করলে শতশত দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই বিষয়ে হেলাল জানান, উন্নয়ন প্রয়োজন, তবে ব্যবসায়ীদের স্বার্থেও এই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, “যদি বিএনপি সরকার গঠনে আসতে পারে, তাহলে এখানে বহুতল সুপার মার্কেট নির্মাণের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করা হবে।”
উপনিবেশের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি ‘একটি বাড়ি একটি গাছ’ উদ্যোগের আওতায় বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ করেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, খায়রুল মোল্লা, তেরখাদা উপজেলা বিএনপি’র শাখা নেতা চৌধুরী কাওছার আলী, কামরান হাসান, বলু চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিব, নান্টা মোল্লা প্রমুখ।
এছাড়াও, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আতাউর রহমান রনু, যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক গুলাম মোস্তফা তুহিন, আজিজুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, কালাম লস্কর, এমদাদ, জাহিদ, জাহাঙ্গীর লস্কর, মফিজুল ইসলাম, সোহাগ মুন্সি, টগর, দিন ইসলাম, শফিক, জাকির, লিমন সহ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
-

ঘরে ঘরে ভালোবাসা দিয়ে ধানের শীষে ভোট প্রত্যাশা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, জনগণকে ভালোবাসা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে মানুষকে ঘরে ঘরে পৌঁছে তাদের সমর্থন আদায় করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সময় অনেক বিভ্রান্তি, হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকেও একটি শুভ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, কিছু গোষ্ঠী ও মহল পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, যা দেশের উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য সবাইকে আরও দায়িত্বশীলভাবে ভোটের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং সমাজের সকল রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে আঙুল তুলে একমত হয়ে রাজনীতির বিশৃঙ্খলা রুখে দিতে হবে।
-

ঝিনাইদহে প্রবাসী মাহাবুব হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার
ঝিনাইদহে জমি নিয়ে চলমান বিরোধের জেরে প্রবাসী মাহাবুব হত্যা মামলার প্রধান আসামি রবিউল ইসলাম ওরফে রবিকে র্যাব গ্রেফতার করেছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) দিবাগত রাতে শহরের আদর্শপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রবিউল ইসলাম সদর উপজেলার কালা গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তার এর ছেলে।
ঝিনাইদহ র্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, প্রবাসী মাহাবুব হত্যা মামলার মূল আসামি রবিকে সন্ধানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আদর্শপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তখন তিনি পালানোর চেষ্টা করলে র্যাব তাকে গ্রেফতার করে। পরে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, শনিবার সকালে কালা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় কম্বোডিয়া প্রবাসী মাহাবুব গুরুতর কুপিয়ে আহত হন। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রোববার রাতে সদর থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
-

খুলনায় শেখ হাসিনার ছবি ঝুলিয়ে জুতা নিক্ষেপ
জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা নিয়ে খুলনায় ব্যাপক প্রতিবাদের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ওই সময়, ছাত্রজনতা একটি জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করে এবং শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে জুতা ছুড়ে মারেন। এই ঘটনা ঘটার সময় অনেকে শেখ হাসিনার ছবি পদদলিত করেন।
১৭ নভেম্বর সোমবার দুপুর ১২টার দিকে, খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা কেন্দ্র করে ছাত্র সমাজের একটি দল জড়ো হয়। এই মামলার মধ্যে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। রায় ঘোষণার সময়ে ছাত্ররা বিভিন্ন শ্লোগান দেন এবং রায়কে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করেন এবং তাঁর ছবিকে পদদলিত করেন।
খুলনার এক অন্যতম নেতা হামিম রাহাত বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট খুনী হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তির রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।’ তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রায়ের বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাবার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, রায়কে কেন্দ্র করে খুলনায় পুরো নগরীতে কঠোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। র্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনী বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং শহরজুড়ে টহল জোরদার করেছে।
সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, ‘শিববাড়ি মোড়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আমরা চেকপোস্ট স্থাপন করেছি। সাদা পোশাকেও পুলিশ, র্যাব এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল দিচ্ছেন।’ এই কড়া নিরাপত্তা措施 শহরজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে।
-

কালিগঞ্জে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্কুলছাত্রের মৃত্যু
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা ঘটে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের পশ্চিম নারায়ণপুর মুচিপাড়া এলাকায়। নিহত ছাত্রের নাম সায়মন ইসলাম তুর্য (১৬), তিনি ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের মোমরেজপুর গ্রামের হতভাগ্য পুলিশ সদস্য রবিুল ইসলাম রবির ছেলে। তুর্য মোজাহার মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের diligent দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সান্ত্বনা শেষ করার জন্য তুর্য তার মামার মোটরসাইকেল নিয়ে সহপাঠী সিয়াম (১৬), যিনি পূর্ব নারায়ণপুরের জাহিদুর রহমানের ছেলে, সাথে নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় ভাড়াশিমলা চৌরাস্তার দিকে যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই তারা মুচিপাড়া এলাকার রাস্তার ওপর এসে পৌঁছালে, অন্য একটি মোটরসাইকেলের সাথে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলাই তুর্য মারা যায়। এ সময় তার সাথে থাকা সিয়াম এবং অন্য দুটি আরোহী গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত দুজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেছেন, এ দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
