অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচ দফা দাবি মানতে না চাইলে আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে জামায়াতসহ আটটি রাজনৈতিক দল। আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) জাগপা-র ঢাকা মহানগর কার্যালয়ে এক যুক্ত Committee বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের নেতারা এ হুঁশিয়ারি দেন। এই বৈঠকে বলা হয়, ১১ নভেম্বরের সমাবেশ সফল করার জন্য সকলের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। ওই সমাবেশের মাধ্যমে অর্থাৎ জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি, জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট, উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবিiew। পাশাপাশি, ফ্যাসিস্ট সরকারের এর আগের জুলুম, নির্যাতন, গণহত্যা এবং দুর্নীতির বিচার ও দমন، জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠে এসেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাগপা-র সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী মহাসচিব হামিদুর রহমান আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আশরাফ আলী আকন্দ, খেলাফত মজলিসের নেতারা ও অন্যান্য দলের নেতারা। নেতারা বলেন, তারা আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে বিএনপি আলোচনা করতে না চাইলেও তাদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে যে, গণভোট অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত হতে হবে। অন্যথায়, জনসমাবেশে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার জন্য সবাই প্রস্তুত। বলতে গেলে, এই ৫ দফার দাবি তারা বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
Category: রাজনীতি
-

তরিক রহমানের মত: অন্তর্বর্তী সরকার কারো দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়নের নয়
বিএনপি’s ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, একটি অন্তর্বর্তী সরকার কারো দলীয় স্বার্থ বা স্বেচ্ছাচারিতা পূরণে কাজ করতে পারবেন না। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের মুক্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ যে, নতুন সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। এই সাদা পরিস্থিতিতে জনগণের প্রত্যাশা হলো ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি বাংলাদেশ যারা স্বপ্ন দেখেন তাদের জন্য একমাত্র পথ হলো স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশ অস্থিতিশীল হলে জালিম ও পলাতক শাসক গোষ্ঠীর পুনর্বাসনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তরিক রহমান ব্যাখ্যা করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কিছু বিরোধী মতামত বা আন্দোলন গোপনে চালিয়ে যান, যাতে শত্রু শক্তির পথ সুগম হয়। আজকের সময়েও যাতে সেই অপশক্তি আবার গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে তিনি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কিছু অপ্রিয় আন্দোলন বা সহিংসতা দেশের মানুষের মূল অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে, তাই এসব থেকে সজাগ থাকতে হবে।
তারেক রহমান দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে একজনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অংশগ্রহণ দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার নষ্ট করে কিছু অশুভ শক্তির উত্থান ঘটাতে পারে। এসব অপশক্তি যেন পুনরায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে, তার জন্য জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো একযোগে কাজ করে চলবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময়ই শান্তিপ্রিয়, সহনশীল ও গণমুখী দল। দেশের ভিন্নমত বা দৃষ্টিভঙ্গি সহনশীলভাবে গ্রহণ করে দেশের সমৃদ্ধি ও মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তারা অবিচল। নির্বাচনে জিতলে গণতান্ত্রিক সরকারের পরিকল্পনা থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে পাঁচ মিলিয়ন পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
বিশেষ করে তরুণদের জন্য তিনি বলেন, বিভিন্ন কারিগরি ট্রেনিং ও ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে প্রস্তুত বিএনপি। এ ছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আমাদের শক্তি। সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার তারা করেন, যেখানে সকলের অধিকারে সমান মর্যাদা থাকবে।
তারেক রহমান শেষবিচারে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, তাদের দাবিগুলো ব্যতিরেকে রাখা হবে না। মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের নেতারা সম্মেলনে অংশ নেন, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন তারেক রহমান নিজে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তাদের দাবি তুলে ধরেন, যা ভবিষ্যৎ শান্তিপূর্ণ সমাধানে গুরুত্ব দেয়।
-

সালাহউদ্দিনের মন্তব্য: অন্য দল দ্বারা আহ্বান কেন, আমরা যাব
প্রধান উপদেষ্টা আহ্বান জানালে বিএনপি আলোচনা করতে রাজি আছে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা মনে করেছিলাম জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রেফারির ভূমিকা পালন করবে। অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে পরিস্থিতি পরিচালনা করবে। কিন্তু এখন দেখছি, আপনাদের পক্ষ থেকে রেফারি হয়ে একটি গোল দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, না হলে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ছাত্রদলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০ বছর পূর্তির আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, সরকারকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোটের জন্য সব রকম চেষ্টা করার আহ্বান জানাই। আমরা স্বেচ্ছা समर्थन দিচ্ছি, তবে সেটি সীমারেখার মধ্যে। যদি মনে করেন, অন্য রাজনৈতিক দল দিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, তাহলে প্রশ্ন হলো, তারা কারা? অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যদি আমাদের কাউন্সিলে ডেকে নিয়ে আলোচনা করতে আহ্বান জানায়, আমরা সব সময় আলোচনায় আগ্রহী। তবে অন্য এক দলকে দিয়ে কেন আমাদের আহ্বান জানানো হচ্ছে?
অন্তর্বর্তী সরকারের এইভাবে সময় বেধে দেওয়ার ক্ষমতা নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, আপনারা কোনো নির্বাচিত সরকার নয়, এটাই মনে রাখা জরুরি। আপনাদের কাছে এত ক্ষমতা নেই যে, আমাদের ওপর ডিক্টেট করার অধিকার রাখেন। যদি সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হয়, আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেব। এত শক্তি দেখানোর জন্য আপনাদের মানা হয় না।
জামায়াতকে লক্ষ্য করে সালাহউদ্দিন বলেন, আপনি ১৯৭১ সালের পরিণতিতে যা করেছিলেন, ১৯৪৭ সালে শুরু করেছিলেন, জাতীয় পার্টির হাত ধরে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পাশে ছিলেন—এমন সব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের পরিস্থিতি কী রকম হবে? আবার যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগ দিয়ে পুনরায় ক্ষমতা চান, তাহলে কি হবে? এরাজ্যেতো নানা অগণতান্ত্রিক শক্তি উৎসাহিত হবে। এর ফলে বাংলাদেশে অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ বাড়বে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি আপনি বলতে চান, আমাদের কিছু করতে হবে, ভাড়া ভাতে ছাই ছিটিয়ে দেবেন—এমন ভাবনা দেশের মানুষ আর কখনো গ্রহণ করবে না। সুযোগ এড়িয়ে যান।
জামায়াতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি চাইলে ঘি খেতে পারেন। কিন্তু আমরা দেশের গণতন্ত্রের সংগ্রামে রাজপথের আন্দোলন চালিয়ে যাব, অগণতান্ত্রিক ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি আর সৃষ্টি হতে দেব না। সরকারের উপর আল্টিমেটাম দিয়েছেন কেউ? তাহলে তারা কি এই আল্টিমেটাম দিয়েছে? সরকার তো আপনার কথামত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে সবসময় মেনে চলেছে। আপনারাও একই সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলছেন।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এর পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায়সহ অন্যান্যরা।
-

দেশের সব সংকট দেশের নাটকের অংশ, মানুষ ভোট দিতে চায়: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বর্তমান সংকটগুলো কেবল এক ধরনের নাটকের অংশ, যেখানে সাধারণ মানুষ আসলে এসবের অর্থ বোঝে না। তারা কেবল চায় ভোট দিতে, নিজেদের ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার সুযোগ। আজ রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দৌলতপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বিএনপি হলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দল, এবং বেগম খালেদা জিয়ার দল। আমরা শুধু কথা বলছি না, কাজেও বিশ্বাস করি। মুনাফিকিরাই বিশ্বাস করে না।’’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা এদেশের কিছু মানুষ নিয়ে গণহত্যা চালিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল বিরোধী মতাবলম্বী মানুষ। আবার এইবার শেখ হাসিনা তার প্রশাসন দিয়ে এই দেশেই গণহত্যা চালিয়েছে। স্বজনদের দখলে থাকা ন্যায্য দাবির জন্য তাদের ওপর অত্যाचार চালানো হচ্ছে।’
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘বর্তমান সরকার নির্বাচিত নয়, তাই তারা সাধারণ মানুষের কষ্ট বোঝে না। কৃষকরা তাদের ধানের ন্যায্য মূল্য পায় না, শাকসবজির দাম ফুরিয়ে যায়। হিমাগারে আলু পড়ে রয়েছে বিক্রির অপেক্ষায়। কৃষি জন্য প্রয়োজনীয় সারও কৃষকদের পাওয়া যাচ্ছে না। যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তবে এই সমস্ত সমস্যা সমাধান হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা ন্যায্যমূল্যে তেল, চাল, ডাল সহ অন্যান্য পরিত্যাজ্য পণ্যে পৌছে যাবে। কৃষকদের জন্যও আলাদা কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে।’
মির্জা ফখরুল দাবি করেন, ‘নির্বাচনের দিন গণভোটের ব্যবস্থা থাকতে হবে, কারণ বোঝা দরকার, কিসের জন্য কি দরকার। গণভোট-সনদ উপলব্ধি বোঝে সাধারণ মানুষ না, শুধুই শিক্ষিত মানুষ। আমরা সব সংস্কারে সম্মত, তবে এমন কিছু নয় যা সংসদে পাস হতে পারে।
তিনি শেষবারের মত বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে আপনাদের বেছে নিতে হবে। এটি আমার শেষ নির্বাচন, তাই আপনাদের ধানের শীষের পক্ষেই ভোট দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি চাই আমাদের এই যাত্রা সফল হোক।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ অন্য নেতাকর্মীরা।
-

মির্জা ফখরুলের আহ্বান: হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট দিন
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের প্রতি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই।’ এ সময় সভায় উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও এই শ্লোগানে সাড়া দেন। শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ‘হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলন-২০২৫’ অনুষ্ঠানে এই বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব। অনুষ্ঠানে তিনি মতুয়া বহুজন সমাজের কাছে থাকা বিভিন্ন দাবি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরেন। এরপর বলেন, ‘এই দাবি আজই বাস্তবায়ন হবে তখনই, যখন আমাদের নেতা তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসাতে পারবো। ধানের শীষে ভোট দেওয়া আপনারা কি করবেন? আমি আপনারা থেকে সেই প্রতিশ্রুতি শুনতে চাই। আপনি কি আমাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, আপনি আমার নেতাকে প্রধানমন্ত্রী করবেন? তাহলে একসঙ্গে শ্লোগান দিই: হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই।’ ফখরুল আরও বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে ধর্মের নামে বিভেদ থাকবে না। অতীতের দাঙ্গা-হাঙ্গামা ভুলে, সবাই একসঙ্গে থাকব, একটি অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে তুলব। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন এমন বাংলাদেশ গড়ার, যেখানে সব ধর্ম ও জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত। মতুয়া বহুজন সমাজের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন, ট্রাস্টের বদলে হিন্দু ফাউন্ডেশন স্থাপন, মনোনয়ন ও সংসদসহ জাতীয় জীবনের সব স্তরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যথোপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি।
-

৭ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রগতির মাইলফলক: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরে। তিনি বলেন, দেশের প্রেমিক সৈনিক ও সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধতা দিয়ে দেশের অন্যতম প্রিয় নেতা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়া হয় এবং দেশের পরিচালনার দায়িত্ব.assign করা হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, এটি ছিল বাংলাদেশের প্রগতির এক সৃষ্টি পয়েন্ট। জিয়াউর রহমান শেখ মুজিবুর রহমানের একদলীয় বাকশাল শাসন ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন, বিচার বিভাগকে স্বাধীন করেন এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করেন।
আজ, ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে, শুক্রবার (০৭ নভেম্বর), জাতীয় শেরেবাংলা নগরে বিএনপির নেতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ সব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান তার চতুর্থ বছরেই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করেন। তিনি একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে পরিহার করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যান এবং সংবাদপত্রের মুক্তি নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে বিচার বিভাগীয় কাঠামো শক্তিশালী করেন, জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করেন এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করেন। তাঁর এই ভিত্তির ওপর থাকতে গিয়ে পরবর্তীতে বাংলাদেশ উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে গেছে। তাই আজকের দিনটি শুধু বিএনপির জন্য নয়, বাংলাদেশে গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তীতে বাংলাদেশে নানা চক্রান্তের খবর উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেছেন, ৭ই নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদেরকে সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়, যেখানে সত্যিকারের গণতন্ত্র ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। জনগণের ভোটাধিকার, বিচারসংস্থানের অধিকার রক্ষা করে দেশের অগ্রগতি সম্ভব হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।
-

নাহিদ ইসলাম: জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট থাকবে না
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই সনদে কোনো নোট অব ডিসেন্ট থাকবে না। আমাদের সঙ্গে যা সম্মতি হয়েছে, সেটাই থাকবে, আর জনগণ চাইলে বাকিটা ঠিক করবে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেগুলো বাস্তবায়িত হবে, এটাই আমাদের আশা। তিনি বিশ্বাস করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই সনদে আইনি ভিত্তি স্থাপনের মাধ্যমে আগামী নির্বাচন এগিয়ে যাবে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আমরা গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সম্মেলন কক্ষে ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের (ইউটিএফ) আত্মপ্রকাশ ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেছিলেন, আগামী নির্বাচনে গণ-অভ্যুত্থানে যারা অংশ নেবে, তাদের সবাইকে সংসদে থাকতে হবে। সংসদে ব্যবস্থাপনা ও সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে, যেখানে নতুন সংবিধানের জন্য কাজ চলবে। শিক্ষকদের অবশ্যই এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা জরুরি, এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতের সংসদ ও সংস্কার পরিষদের সভায় তরুণ সমাজ, শিক্ষক, আলেম, নারী, সংখ্যালঘু ও বিভিন্ন পেশাজীবী একজনের মতো মিলেই আমরা যে জুলাই সনদের পথে রয়েছি, সেই বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবো। তার আগে অবশ্যই আমাদের দাবি, গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের ভিত্তিতে এই অর্ডারটি ড. মোহাম্মদ ইউনূসের হাতে দিয়ে দিতে হবে।
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম ও সদস্য সচিব অধ্যাপক শামীম হামিদী।
-

মির্জা ফখরুলের অভিযোগ: সরকার নির্বাচন ব্যাহত করতে নিজেই পরিস্থিতি তৈরি করছে
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে পুরোপুরি সমর্থন দিয়ে আমরা আশা করেছিলাম দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করবেন তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা নিজেরাই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে যাতে নির্বাচন ব্যাহত হতে পারে। আজ শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালির পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সন্ধ্যা ৪টার দিকে নয়াপল্টন থেকে শুরু হয় এই র্যালি, যা কাকরাইল, মালিবাগ, বাংলামোটর হয়ে সোনারগাঁও হোটেলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশের জন্য কার্যালয়ের সামনে একটি অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে, যারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিয়েছি, তারা আজ নিজেই নির্বাচন ব্যাহত করার জন্য নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি বলেন, এই রাজনৈতিক জোটগুলো গণভোটের জন্য চাপ চাপ দিচ্ছে, যা স্পষ্টতই নির্বাচন নস্ট করার ষড়যন্ত্র। তিনি আরও বলেন, গণভোট হলে নির্বাচনের দিনই তা হতে হবে, কোনও পূর্বঘোষণার প্রয়োজন নেই। কারণ, দুটি ভোটের জন্য বহু অর্থের প্রয়োজন হবে, যা অপ্রয়োজনীয়।
অন্য এক বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধভাবে ইতোমধ্যে ঐক্য গড়ে তুলেছে, তবে কিছু অসৎ দলের ষড়যন্ত্রের কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে দাবি করছে যে, ভোটের আগেই গণভট হতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, গণভোট নির্বাচন এরই মধ্যে হওয়া উচিত, এটা পরিকল্পিতভাবে নয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একগুচ্ছ গণতান্ত্রিক সংস্কারমূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এই সংস্কার কার্যপ্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকার সহযোগিতা করলে বিএনপি তাদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। তারা প্রায় এক বছর ধরে সংস্কারমূলক কাজ চালিয়ে গেছে, বিভিন্ন দলের সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ১৭ অক্টোবর একসময়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন।
অন্যদিকে, কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একদল উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য প্রেস কনফারেন্স করে জানিয়ে দেন যে, তাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে— রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সাত দিন সময় নির্ধারণ করা হবে। এতে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, কারণ এত দীর্ঘ সময়ের মধ্য দিয়ে ইতিমধ্যে বৈঠকে অংশ নেওয়া দলের প্রতিনিধিরা কাজ করেছিলেন। তিনি জোড়ালোভাবে বলেন, সব টাকা-খরচের পরও কোনো ফলাফল আসেনি, যা মূলত রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি করছে।
সর্বশেষ, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় র্যালির পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
-

বিএনপি গণভোটে আলোচনা করতে রাজি নয়, জামায়াতের হামিদুর রহমানের দাবি
গণভোটের পরিকল্পনা সম্পর্কে অপ্রতীক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে এটি কি নির্দিষ্ট সময়ে বা নির্বাচনের আগের দিন অনুষ্ঠিত হবে, এবং জুলাই মাসে সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা কীভাবে নির্ধারণ হবে—এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে স্পষ্ট জানাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এই বিশেষ ইস্যুতে বিএনপি আলোচনায় বসতে রাজি নন, এমনটাই জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে এক বিশেষ সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে আলোচনা করতে তারা প্রস্তুত, কিন্তু বিএনপি এতে আগ্রহী নয়। হামিদুর রহমান বলেন, আমরা বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা জানিয়েছে, তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবে না। তারপরও আমরা যেকোনো সময় আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছি, প্রয়োজন হলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ আলোচনায় যুক্ত করতে চাচ্ছি।
তিনি আরও জানান, জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবে তার বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যখন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠায়, তখনই বিরোধ সৃষ্টি হয়।
নেতাকর্মীদের সাথে সংলাপ ও জনমত প্রকাশের গুরুত্বে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংলাপ ও জনমত দুটোই অপরিহার্য। আলোচনাই একমাত্র পথ নয়—অর্থাৎ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং মানুষের বাকস্বাধীনতা বজায় রাখা জরুরি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারা কোনো ভয়াবহতা বা সহিংসতা করছে না।
গণভোটের আয়োজন ও পরিকল্পনা সম্পর্কিত প্রশ্নে তিনি বলেন, সাধারণত নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে ভিপি, বা দখলের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। একই দিনে দুইটি ভোট নেওয়া গেলে সময়ের ব্যাপারটি জটিল হয়ে দাঁড়াবে, ফলে ভোট গণনা কম হয়ে যেতে পারে। এরপর বলবেন, জনগণ জুলাই মাসের চার্টারকে সমর্থন করেনি।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমানে দেশের প্রশাসন পুরোনো ফ্যাসিবাদী আমলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণের আস্থা এখনো পুনরুদ্ধার হয়নি। সুতরাং, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরলে পরবর্তী নির্বাচন আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন।
-

জনমত গঠনে রাজপথে জামায়াত: হামিদুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জামায়াত কোনও প্রেশার গ্রুপ নয়, বরং জনগণের মতামত ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করতে রাজপথে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা মতভিন্নতা মেনে নিতে পারি, তবে মতবিরোধের রাজনীতি চাই না। আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নির্বাচনী ইশতেহারে প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
হামিদুর রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে এক সুন্দর ও পরিবর্তনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা এগুচ্ছি। সেই লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংস্কারে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি জানিয়েছেন, কিছু নোট অব ডিসেন্ট সহ সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সনদের বাইরে, ফলে সেখানে মতবিরোধ প্রকাশ পায়নি। তবে বাস্তবায়নের সময় মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে।
তার ভাষায়, নির্বাচনের সময় নিয়ে কমিশনের পাঁজরা রয়েছে। গণভোটের দিন নির্বাচন যখন হয়, তখন নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে, যেমন ভোটগ্রহণ স্থগিত বা অনিশ্চয়তা। তিনি বলেন, মূলত নির্বাচনে বিজয়ই লক্ষ্য, কিন্তু সময়ে ভোট বন্ধ থাকলে ফলাফলের ওপর প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই মূল্যায়ন করে নির্ভরযোগ্য ও সমঝোতামূলক ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
জামায়াত নেতা বলেন, আমরা কি আবার ফ্যাসিবাদী সময়ের মতো সনদের অনিশ্চয়তা ফেরাতে চাই? গণভোটের আগে যদি প্রশাসন ও নির্বাচনী সংস্থাগুলি সঠিকভাবে কাজ করে, তা দেশের জন্য সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার। এর মাধ্যমে জনগণ বিশ্বাসের সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে দেশের জনগণের আস্থা খোয়া গেছে, এখন সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বিদেশে, অথচ জনস্বার্থে এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গণভোটের চেষ্টা অপচয় নয় বলেও দৃঢ় বক্তব্য দেন।
বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতের আহ্বানে বিএনপি বসতে রাজি হয়নি। তিনি আরও বলেন, আমরা চাইনি রাজনীতি আবার ফ্যাসিবাদী চর্চায় ফিরে যাক। তবে, বিএনপি চাইলে আলোচনায় বসতে আমরা প্রস্তুত।
হামিদুর রহমান যোগ করেন, জামায়াত সব সময়ই আলোচনা চালিয়ে গেছে। পাশাপাশি, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও রুচির কথা বলেও মত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা সহিংসতা সমর্থন করি না, বরং পূর্ণ রাজনীতির ধারায় থাকি।
তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে তিনি বলেন, নব্বইয়ের তিন জোটের রূপরেখা বাস্তবায়িত হয়নি। পরিবর্তন আনা একান্ত প্রয়োজন। তরুণরা কী চায়, সেটিও বুঝতে পেরেছি—তাদের জন্য ভবিষ্যতের দিশা উন্মুক্ত করতে হবে।
