Category: রাজনীতি

  • আ’লীগের নিষিদ্ধ কর্মসূচি ঠেকাতে আজ রাজপথে থাকবে জামায়াতসহ ৮ দল

    আ’লীগের নিষিদ্ধ কর্মসূচি ঠেকাতে আজ রাজপথে থাকবে জামায়াতসহ ৮ দল

    বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি, যা আওয়ামী লীগ গত ১৩ নভেম্বর ঘোষণা করেছিল। এই কর্মসূচিকে বাধা দেওয়ার জন্য, চারঠা দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আটটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল আজ রাজপথে উপস্থিত থাকার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার দুপুরে মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা করেন নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ আট দলের শীর্ষ নেতারা।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকলে একত্রিত হয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তির সমস্ত নাশকতা ও অপতৎপরতা প্রতিরোধে দেশব্যাপী রাস্তায় নামবেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে ফ্যাসীবাদ বিরোধী ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে একত্রিত করে শক্তি প্রদর্শন করা।

    অতীতে যেখানে আওয়ামী লীগ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল, সেখানে আজ এই দলগুলো এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে এবং জনগণকে রাজপথে আসার আহ্বান জানাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির সফলতা ও গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয় এবং আট দলের নেতারা একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

  • গণভোটের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে জাতির আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি: গোলাম পরওয়ার

    গণভোটের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে জাতির আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি: গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে গণভোটের বিষয়ে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে, তাতে দেশবাসীর প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়ে স্বচ্ছ ও সংকটমুক্ত নির্বাচন পূর্বাভাসের আশা করছিলেন সাধারণ মানুষ, কিন্তু আসলে সেটি সম্পন্ন হয়নি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যদি জাতীয় নির্বাচনের দিনে গণভোটের জন্য কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং জাতীয় নির্বাচনের ব্যালটপেপার বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে “হ্যাঁ” বা “না” ভোটের পরিস্থিতি কী হতে পারে তা স্পষ্ট নয়। গণভোট ও নির্বাচনের ব্যালটের প্রকৃতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে ভাষণে যথেষ্ট ব্যাখ্যা বা স্পষ্টতা ছিল না।

    তিনি আরো বলেন, জুলাইয়ে জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন ও এ সংক্রান্ত আদেশের ওপর ভিত্তি করে নভেম্বর মাসে গণভোটের আয়োজনের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে দেশের মধ‍্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে ঝামেলা ও বিভ্রান্তি বেড়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

    গেল বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ওই সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বস্ত দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জামোতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় মগবাজারের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে অন্যরা ছিলেন— সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ নেতা সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তর বিভাগের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, দক্ষিণ বিভাগের নায়েবে আমির অ্যাড. ড. হেলাল উদ্দিন ও মহানগর উত্তর সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম।

    গোটা আলোচ্য বিষয় হলো, দুইটি বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়ছে, যা দেশের বিপন্ন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে নেতৃবৃন্দ বিশ্লেষণ করেছেন।

  • বিএনপি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাল

    বিএনপি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাল

    আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সভা থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানানো হয়। তাঁরা বিশেষ করে ঘোষণা দেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনের দিন গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। এই ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিএনপি তাদের সহযোগিতা ও সমর্থন ব্যক্ত করে।

    অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি নেতা ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা গুলশানে দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তারেক রহমান।

    সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত বলেন। তিনি বলেন, ‘আজকের ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নির্বাচনের দিন গণভোটের ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই উদ্যোগের জন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করি, সরকার ও নির্বাচন কমিশন দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’

    ফখরুল আরও উল্লেখ করেন, ১৭ অক্টোবর ঐক্যমতের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সংবিধানের ওপর জনগণের সম্মতি গ্রহণের জন্য গণভোটের আয়োজন ও শিগগিরই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সালাউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

  • গণভোট ‘অপ্রয়োজনীয়’, বলছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল

    গণভোট ‘অপ্রয়োজনীয়’, বলছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল

    প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে জুলাই মাসে সরকারের সিদ্ধান্তে গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তবে, কয়েকটি বাম ঐক্যধারার রাজনৈতিক দল এই সিদ্ধান্তগুলোকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ এবং সংবিধানের বাইরেও বলে মত প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার ভাষণের পর তারা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্তগুলো অবৈধ এবং সংবিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

    উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস উল্লেখ করেন, তিনি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন, যা রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরে নিশ্চিত হয়েছে। তবে সবাই এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বাসদ মার্কসবাদীর সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, “রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর এবং আদেশ জারি করা সংবিধানের বৈধতা না থাকায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবৈধ ও সাংঘর্ষিক।” তিনি আরো যোগ করেন, “গণভোট সম্পূর্ণরূপে সংবিধানবিরোধী ও অপ্রয়োজনীয়, এর কোনও বাস্তবায়ন হওয়া উচিত না।”

    বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা এবং ঐকমত্য কমিশনের প্রধান একই ব্যক্তি, এটা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট। গণভোটের প্রয়োজন নেই, এটা অর্থনৈতিকভাবে অসমর্থ এবং গরিব দেশে এর কোনও কোনোটাই দরকার নেই।“ তিনি বললেন, “এই গণভোট অপরিহার্য নয়, এর কোনও আইনি ভিত্তিও নেই। জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত ছিল না। এটির কোনও মূল্য নেই এবং সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপের কোন বাস্তবতা নেই।”

    ফিরোজ আরও যোগ করেন, “বর্তমানে জনগণের মনোযোগ নির্বাচন কমিশন ও আগামী ভোটের দিকে, গণভোটে নয়। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তৃতায় কোনও মন্তব্য না থাকা উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক দলগুলো এই সংক্রান্ত আলোচনা অগ্রাহ্য করেছেন এবং এখন মূল মনোযোগ নির্বাচন প্রক্রিয়ায়।“

    বাসদ মার্কসবাদীর মাসুদ রানা বলেন, “নোট-অফ-ডিসেন্টও এড়িয়ে গেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনাও উপেক্ষা করা হয়েছে। চারটি প্রশ্নের মধ্যে তিনটিতে সবাই একমত হলেও, একটিতে ভিন্ন মত প্রকাশের সুযোগও থাকছে না। ফলে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”

    সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, “সংবিধানে গণভোটের উপায় না থাকায় এখন এ বিষয়ে কোনো আলোচনা প্রয়োজন নেই। বর্তমান সরকারের কাছ থেকে দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে, গণভোটের দরকার নেই।”

    প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “গণভোট অপ্রয়োজনীয় এবং এর জন্য সংবিধানেও কোনও স্থান নেই। জাতীয় নির্বাচন বাদ দিয়ে অন্য কিছু করার প্রয়োজন নেই। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণাগুলো অগ্রহণযোগ্য, এসবের পক্ষে সংগঠন বা ব্যক্তির কোন সমর্থন নেই।”

    অবশেষে, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরিফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, “বর্তমানে সরকার এই বিষয়ে মতামত দিচ্ছে না এবং তারা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। এটা অগত্যা যে কোনও প্রতিক্রিয়া জারি করার আগে প্রক্রিয়াটি সবার কাছে পরিষ্কার করা দরকার।”

  • গণভোটের চেয়ে আলু চাষিদের ন্যায্যমূল্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান

    গণভোটের চেয়ে আলু চাষিদের ন্যায্যমূল্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান

    জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ বছর কৃষকরা সম্ভবত আলু নিয়ে বেশ বিপাকের মুখে পড়েছেন। এক একটি রাজনৈতিক দলের আবদার মেটাতে গেলে রাষ্ট্রের সব সম্পদ ব্যয় করে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা গচ্চা যাবে। এই পরিস্থিতিতে, চাষিদের জন্য আলুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া খুব জরুরি, গণভোটের চেয়ে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

    বুধবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথাগুলো বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল যদি মনে করে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্বল এবং ইচ্ছেমতো কাজ করতে পারে; বা জনগণের ভোটে বিএনপি জয় যেন রুখে দেওয়া যায়; তাহলে তা নিজের জন্য ভবিষ্যতে বিপদ ডেকে আনতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই ধরনের কৌশল অবলম্বন করলে উল্টো ফল হতে পারে।

    রাজপথের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টায় লিপ্ত, দয়া করে সেটা বন্ধ করুন। দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকারীদের প্রতি তিনি সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান।

    তিনি আরো বলেন, বেশ কিছু দল বর্তমানে বিভিন্ন অজুহাতে জাতীয় নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্বলতা নিয়ে সুযোগ নিয়ে তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চাকা ধাক্কা দিতে চাইছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত, ভোটের মুখোমুখি হলেও দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে সচেষ্ট থাকা। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ভোটের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এসেছে।

    তারেক রহমান আলু চাষিদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন। এ বছর আলুর উৎপাদন ও সংগ্রহে খরচ প্রায় ২৫ থেকে ২৭ টাকা কেজিতে পড়েছে। কিন্তু এখন চাষিরা বাজারে এই আলু বিক্রি করতে পারছেন অর্ধেক দামে বা তেমন লাভ নয়। ফলে, এ বছর কৃষকরা প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। রাষ্ট্রের জন্য এই আলুর ভাণ্ডার সংগ্রহ ও বিক্রির জন্য বাজেটে বিশাল টাকা ব্যয় করতে হবে, যা চাষিদের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। পাশাপাশি, তিনি উল্লেখ করেন—বিশ্বের মধ্যে সম্ভবত বাংলাদেশেই সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়। যদিও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হলেও, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়টি যেন যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।

    সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মৌলিক সংস্কার শুরু করেছিলেন, তবে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি তারেক রহমানকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনার পিতার কাজের দিক থেকে শুরু করে অগ্রগতি আরো এগিয়ে নিয়ে যান; আমরা সব সময় আপনাকে সহযোগিতা করব।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

    সভাপতিত্ব করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সাত্তার পাটোয়ারী। এর পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, এপি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

  • মির্জা ফখরুলের বললেন, ভোট হলে তোমাদের অস্তিত্ব থাকবে না

    মির্জা ফখরুলের বললেন, ভোট হলে তোমাদের অস্তিত্ব থাকবে না

    বাংলাদেশে আর কোনও নির্বাচন না হলে দেশটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কিশমত কেশুর বাড়ি লক্ষীরহাট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতাসীন দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের কাছে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে, যা দেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তিনি সতর্ক করে দেন, যারা মুনাফেকি করছে, তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।

    একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে পিআর (প্রতীকের নির্বাচন) পদ্ধতি নিয়ে তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া সম্ভব নয়। এই ব্যবস্থা কোনোভাবেই দলের বাইরে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে না।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের দল বৈধ ও সংস্কারের বিষয়গুলোতে একমত হলেও কিছু জোর করে চাপিয়ে দিলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। তিনি জানান, বিএনপি এমন কর্মকাণ্ডে যাবে না, কারণ জনগণ যদি বুঝতে পারে ঝুঁকি হতে পারে;

    প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় এলে ১৫ মাসের মধ্যে এক কোটি বেকারের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে কাজ করবেন।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শরীরচর্চা ও সংগীত শিক্ষক বাদ দেওয়াকে তিনি ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, এটা শিক্ষাব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

    জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চতর মর্যাদার। তিনি রাজনীতিতে নতুন দর্শনের সূচনা করেছিলেন, যা আজও প্রাসঙ্গিক এবং গুরুত্বপূর্ণ।

    মির্জা ফখরুল ভাষ্য দেন, জামায়াতে ইসলামীরা বলছে, তারা যা বলছে সেটাই করতে হবে। তা না করলে ভোট হবে না, এমন ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ভোট ও নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের এত ভয় কেন? কারণ, ভোটে জয় না হলে তাদের অস্তিত্ব টিকে থাকবে না। এ কারণেই তারা ভোট ও নির্বাচনে ভয় পাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে একটাও এনসিপি (ন্যাশনাল অসোশিয়েশন অব পপুলার গ্রুপ) নেই। কিন্তু তারা কীভাবে ভোট পাবে? এজন্য জামায়াতের সঙ্গে সুর মিলিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রচার করে, পিআর চায়, যদিও মানুষ এই বিষয়গুলো বুঝতে পারে না। এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার এক কৌশল।

    মির্জা ফখরুল দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সংস্কার ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরেও কিছু অমীমাংসিত বিষয় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে, তার দুষ্ণা সরকারকেই দিতে হবে বলে জানিয়েছেন।

    অন্তর্বর্তী সময়ে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে, প্রথম ১৫ মাসের মধ্যে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান, মহিলাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ড তৈরির আশ্বাস দেন।

    শেষে, দলটির নেতা-কর্মীরা ভবিষ্যতের আন্দোলনকে শক্তিশালী ও সফল করে তুলতে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • ১৬ নভেম্বরের মধ্যে দাবি না মানলে যমুনার সামনে অবস্থানের ঘোষণা

    ১৬ নভেম্বরের মধ্যে দাবি না মানলে যমুনার সামনে অবস্থানের ঘোষণা

    আটটি রাজনৈতিক দল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যা জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি এবং নভেম্বর মাসের মধ্যে এই আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনের দাবিকে কেন্দ্র করে। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) তারা জানিয়েছেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির নাশকতা ও অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার জন্য সর্বস্তরের জনশক্তিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেও রাজপথে তারা অবস্থান করবেন। এর মধ্যে উল্লেখ্য, ১৪ নভেম্বর (শুক্রবার) সরকারবিরোধী ৫ দফা দাবিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। আর ১৬ নভেম্বর (রোববার) দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠক বেলা ১১টায় আল-ফালাহ মিলনায়তনে হবে, যেখানে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের পরে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তবে, যদি জনগণের দাবি মানা না হয়, তাহলে সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘোষণা দেওয়া হবে যে, যমুনার সামনে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পাশে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘোষণা করা হবে অনড় অবস্থান কর্মসূচি।

  • তারেক রহমান চলতি মাসের শেষের দিকে দেশে ফিরছেন: সালাহউদ্দিন আহমদ

    তারেক রহমান চলতি মাসের শেষের দিকে দেশে ফিরছেন: সালাহউদ্দিন আহমদ

    চলতি মাসের শেষ দিকে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন বলে আশা করছে দলটি। আজ বুধবার (১২ নভেম্বর) ঢাকার নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, তারা বিশ্বাস করেন যে, এই মাসের শেষের দিকে তিনি দেশে ফিরবেন। কিছুটা সময় বৈচিত্র্য হতে পারে, কিন্তু মূলত তারা আশাবাদী।

    ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার মধ্যে পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে চলে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। এরপর গত ১৭ বছর তিনি লন্ডনে বাস করছেন। জুলাই মাসে সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা জটিলতা থেকে মুক্তি পেলেও তিনি এখনও দেশে ফিরছেন না।

    বিএনপির বেশ কিছু সদস্য দাবি করছেন যে, তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন, তবে কেউ নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বলেননি। ৬ অক্টোবর বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি কবে দেশে ফিরছেন। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, খুব শীঘ্রই ফিরে আসার পরিকল্পনা আছে, ইনশাআল্লাহ।

    সাক্ষাৎকারে আরও জানতে চাওয়া হয়েছিল, নির্বাচনের আগে তিনি দেশে থাকবেন কি না। তার উত্তরে তিনি বলেছিলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তার দায়িত্ব আছে, তাই নির্বাচনের সময় যেখানে প্রয়োজন, সেখানে থাকবেন। তিনি আরও বলেছিলেন, জনগণের প্রত্যাশিত একটি নির্বাচন হলে তিনি সেখানে থাকতে ইচ্ছুক এবং চেষ্টা করবেন।

    প্রায় দুই দশক ধরে দল ও নির্বাচন কার্যক্রমে সক্রিয় থাকলেও কখনো সরাসরি নির্বাচনী মাঠে প্রার্থী হননি তারেক রহমান। তবে এবার তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন।

  • আওয়ামী লীগ ঠেকাতে আজ মাঠে থাকবেন জামায়াতসহ ৮ দল

    আওয়ামী লীগ ঠেকাতে আজ মাঠে থাকবেন জামায়াতসহ ৮ দল

    আওয়ামী লীগ কর্তৃক ১৩ নভেম্বরের জন্য ঘোষণা করা ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি প্রতিরোধের জন্য বৃহস্পিতবার রাজপথে জনসাধারণের অবস্থানের পরিকল্পনা করছে জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। বুধবার দুপুরে মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন আট দলের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) ফ্যাসিবাদী শক্তির নাশকতা ও অপতৎপরতা রোধে তারা দেশব্যাপী জনগণের সহায়তায় রাজপথে থাকবেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে, পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করতে সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে রাজপথে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে আট দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যারা এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন।

  • গণভোটের চেয়ে আলু চাষিদের ন্যায্যমূল্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান

    গণভোটের চেয়ে আলু চাষিদের ন্যায্যমূল্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান

    বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, আর বিভাজন আমাদের দুর্বলতা—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ বছর কৃষকরা গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, তা হলো আলু চাষ। একটি রাজনৈতিক দলের আবদার মেটাতে গিয়ে সরকারের পক্ষে যদি গণভোট পরিচালনা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়, তবে তা জন্য প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ব্যয় হবে। অথচ এই সময়ে কৃষকদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, যা তাদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়।

    বুধবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি আরও বলেছেন, যদি কোনো রাজনৈতিক দল যেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দুর্বল ভেবে বা ক্ষমতা দখলের জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে; কিংবা জনগণের দ্বারা বিএনপির বিজয় ঠেকাতে অপচেষ্টা চালায়— তবে তার ফল বিপরীত হতে পারে। এ বিষয়ে তাদের সতর্ক থাকতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি রাজপথের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতিকে আরও বিষিয়ে তোলা কেউ চাইছে কি না, তা লক্ষ্য রাখা দরকার। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিতের জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে, কিছু দল নানা শর্ত আরোপ করে জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার মানতে না চাওয়া।

    তারেক রহমান জনগণকে উৎসাহিত করে বলেন, আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসে সব গণতান্ত্রিক দল যেন শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের মুখোমুখি হয়। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান করেন— পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বাড়ানোর পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ ও সংহতিপূর্ণ পথে চলার জন্য।

    সঙ্গে তিনি আবারও বলেন, এ বছর আলুর ব্যবসায়ীরা সম্ভবত সবচেয়ে বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আলুর উৎপাদনে খরচ প্রতি কেজিতে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ টাকা, কিন্তু বাজারে চাষিরা সচরাচর অর্ধেক দামে আলু বিক্রি করতে পারছেন। ফলে এর ফলে চাষিরা তিন হাজার কোটি টাকার মতো লোকসানে পড়তে পারেন। তিনি বলেন, যদি কোনো রাজনৈতিক দল গণভোটের নামে এই অর্থ ব্যয় করতে চায়, তবে আলুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া এই সময়ে এত জরুরি হয়ে পড়েছে।

    তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বে সম্ভবত বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। যদিও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চাললেও, সড়ক নিরাপত্তা ইস্যুটি বিচ্ছিন্নভাবে দেখা বা গুরুত্ব না দেওয়া হয়েছে বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

    সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের সংস্কার শুরু করেছিলেন, কিন্তু তার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। তিনি বলেন, তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে, আপনার পিতার কাজগুলো যেখানে শেষ হয়েছে, সেখান থেকে শুরু করুন—আমরা সহায়তা করতে প্রস্তুত।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভিন্ন সিনিয়র নেতারা, কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা। আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সাত্তার পাটোয়ারী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।