Category: রাজনীতি

  • নির্বাচন অহেতুক বিলম্বে জনগণকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে : বিএনপি

    নির্বাচন অহেতুক বিলম্বে জনগণকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে : বিএনপি

    প্রায় দেড় যুগ ধরে মৌলিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত এদেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য গুম, খুন, জেল-জুলুম, আহত ও নির্যাতিত হয়েও অব্যহত লড়াই চালিয়ে গেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্টের ছাত্র-জনতার বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমে তার বিজয় অর্জিত হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানে অহেতুক বিলম্বে জনগণকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটি রমজান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমপর্যায়ের পরীক্ষা এবং আবহাওয়া ইত্যাদি বিবেচনায় ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করছে।
    শুক্রবার (০৬ জুন) ভার্চুয়ালি দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি সভায় এসব কথা বলা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণের বিষয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
    সভা শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থায়ী কমিটির সভায় প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণ পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতভাবে এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে যে, পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে প্রদত্ত তাঁর বক্তব্য প্রসঙ্গকে অতিক্রম করে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে পরিনত হয়েছে। এই দীর্ঘ ভাষণে তিনি বন্দর, করিডোর ইত্যাদি এমন সব বিষয়ে অবতারনা করেছেন যা তাঁরই ভাষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩টি ‘ম্যান্ডেটের’ মধ্যে পড়েনা। ভাষণে তিনি শব্দ চয়নে রাজনৈতিক ভব্যতার সীমা অতিক্রম করায় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

    সভায় প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে সময়সীমা প্রস্তাব করেছেন তা পর্যালোচনা করে সভা মনে করে যে, এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন হলে একদিকে আবহাওয়ার সংকট এবং অন্যদিকে রমজানের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারনা ও কার্যক্রম এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে যা নির্বাচনকে পিছিয়ে দেয়ার কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অধিকন্তু কেন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়,এমন কোন সুনির্দিষ্ট কারণ তাঁর ভাষণে উল্লেখ করা হয়নি।
    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি ঐক্যমত প্রতিষ্ঠার কথা বললেও একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সিংহভাগ রাজনৈতিক দলের মতামত অগ্রাহ্য করে নিজেদের নিরপেক্ষতাকেই যেভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, তাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে দেশের জনগণ সঙ্গতভাবেই শংকিত হতে পারে বলে সভা মনে করে।

  • নয়াপল্টনে বিএনপির ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ শুরু

    নয়াপল্টনে বিএনপির ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ শুরু

    জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নয়াপল্টনে শুরু হয়েছে বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠনের আয়োজিত ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ’।

    বুধবার (২৮ মে) বেলা দুইটার কিছু আগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে এই সমাবেশ শুরু হয়। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ঢাকা, সিলেট, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহসহ আশপাশের জেলা থেকে প্রায় ১৫ লাখ তরুণের জমায়েতের প্রত্যাশা তাদের।

    সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীরা মিছিলসহ জড়ো হয়েছেন। এতে করে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশেপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

    বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বিপরীতে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মিছিলকারীরা সবুজ, হলুদ ও লাল রঙের ক্যাপ ও টি-শার্ট পরে স্লোগান দিতে দিতে সমাবেশস্থলে আসছেন।

    তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম, খুলনা ও বগুড়ায় এর আগে আমরা তারুণ্যের সমাবেশ করেছি। ঢাকার সমাবেশ তারই ধারাবাহিকতা। এটি শুধু একটি সমাবেশ নয়, বরং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি অঙ্গীকার। আমরা গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছি।’

    মে মাসজুড়ে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে বিএনপির এই তিন সংগঠন আট দিনের সেমিনার ও সমাবেশের কর্মসূচি গ্রহণ করে। ঢাকার এই আয়োজন ছিল শেষ পর্ব। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এটি কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তায় তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি নীতিগত প্রয়াস।

    আজকের সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তিনি তরুণদের উদ্দেশে দলের রাষ্ট্রদর্শন, ভবিষ্যৎ কৌশল ও রাজনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরবেন বলে জানানো হয়েছে।

    এ ছাড়া সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদসহ দলের শীর্ষ নেতারা।

  • তারেক রহমানের দেশে ফিরতে বাধা কোথায়?

    তারেক রহমানের দেশে ফিরতে বাধা কোথায়?

    ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলায় হাইকোর্টের রায়ে গত রোববার খালাস পেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই দুই মামলায় খালাস পেলেও এখনো কয়েকটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তিনি। আইনজীবীদের প্রত্যাশা, বাকি মামলাগুলোতেও ন্যায়বিচার পাবেন তিনি।

    তারেক রহমানের আইনজীবী ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আরও চারটি মিথ্যা মামলায় তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত। তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যেমন ন্যায়বিচার পেয়েছেন, আশা করি সাজাপ্রাপ্ত ওই চারটি মামলায়ও ন্যায়বিচার পাবেন।’

    যে চার মামলায় সাজা ঝুলছে

    অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট সাজা দেন ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত ও মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। রায়ে তারেককে ৯ বছর ও জোবাইদাকে ৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    তারেক রহমানকে পলাতক ঘোষণা করে ওই মামলার বিচারকাজ শেষ করা হয়। পলাতক থাকায় এই মামলায় আপিল হয়নি।

    ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের মামলায় ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত তারেক রহমানকে খালাস দেন। ওই মামলায় তারেকের বন্ধু ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে দুদক তারেক রহমানকে খালাস দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে। ওই আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৬ সালের ২১ জুলাই বিচারিক আদালতের খালাসের রায় বাতিল করে তারেক রহমানকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেন।

    ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তারেকের ১০ বছরের দণ্ড হয়। এই মামলায় সাজা হয় তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ারও।

    ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানকে নড়াইলের একটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২ বছরের কারাদণ্ড দেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করায় নড়াইলে তারেকের বিরুদ্ধে মানহানির এ মামলা করেছিলেন এক বীর মুক্তিযোদ্ধা।

    ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে বঙ্গবন্ধুকে রাজাকার ও পাকবন্ধু আখ্যা দিয়ে বেশ কিছু বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সেই খবর প্রকাশিত হয় দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে। এতে বঙ্গবন্ধুর সম্মানহানি হয়েছে জানিয়ে সে সময় নড়াইলের বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান বিশ্বাস নড়াইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারেকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।

    সিলেটের দুটি মামলা খারিজ

    সিলেটে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রলীগ নেতার দায়েরকৃত দুটি মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বাদী উপস্থিত না হওয়ায় রোববার (১ ডিসেম্বর) সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক ছগির আহমদ মামলা দুটি খারিজের রায় দেন।

    আদালতের অতিরিক্ত পিপি আবু ফাহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২০১৪ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রলীগ নেতার দায়েরকৃত দুটি মামলা বাদী উপস্থিত না হওয়ায় গতকাল খারিজ করেছেন আদালত।

    ২০১৪ সালে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান (রহ.) থানায় মামলা দুটি করেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি শামীম মোল্লা।

  • সাড়ে ১৫ বছর এ জাতি জিম্মি দশায় ছিল: জামায়াত আমির

    সাড়ে ১৫ বছর এ জাতি জিম্মি দশায় ছিল: জামায়াত আমির

    জামায়েত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গত সাড়ে ১৫ বছর এ জাতি জিম্মি দশায় ছিল। মানুষ খুন হয়েছে, গুম হয়েছে, মানুষের ইজ্জত নষ্ট হয়েছে, সম্পদ লুণ্ঠন হয়েছে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এগুলো কারা করেছে? আমার দেশের কৃষক শ্রমিক তারা করেছে? করেছেন যারা উঁচু তলায় থাকেন, তারা। যারা করেছেন তাদের মানুষ শাসক বানায়নি, তারা নিজে নিজেই শাসক হয়েছে।

    সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টায় মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর বাসস্টান্ডে এক পথসভায় তিনি মন্তব্য করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে যদি দেশ গড়তে পারি তাহলে আর এদেশে কেউ ঘুষ খেতে সাহস করবে না, দুর্নীতি করবে না, মা-বোনদের ইজ্জত নষ্ট করবে না এবং মানুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না। যদি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে সেই সমাজে আল্লাহর রহমত বর্ষণ হয়। আর যেই সমাজের মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত থাকে অথবা মানুষ অন্যায়কে নীরবে হজম করে, সেই সমাজ থেকে আল্লাহ তাআলা তার রহমত উঠিয়ে নেন।

    এ সময় ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাদারীপুর জেলা শাখার আমির মাওলানা মোখলেসুর রহমান, সাবেক জেলা আমির আবদুস সোবাহান, সেক্রেটারি হাফেজ এনায়েত হোসেন, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা আমির মাওলানা হুমায়ুন কবির, সেক্রেটারি মাওলানা মনিরুজ্জামান, পৌর আমির মাওলানা আলমগীর হোসেন, পৌর নায়েবে আমির আঃ রহিম মোল্লা, সেক্রেটারি মাওলানা নজরুল ইসলাম, জেলা ছাত্র শিবির সভাপতি সাইফ হাসান প্রমুখ।

  • সামনের নির্বাচন সহজ হবে না: তারেক রহমান

    সামনের নির্বাচন সহজ হবে না: তারেক রহমান

    জনগণের কাছে থাকার ও জনগণকে কাছে রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, দিন যত যাচ্ছে, তত বোঝা যাচ্ছে- সামনের নির্বাচন এতো সহজ হবে না। নির্বাচন অনেক কঠিন হবে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, সামনের যে নির্বাচন আমরা মোকাবিলা করতে যাচ্ছি, হতে পারে আমাদের একটি প্রতিপক্ষ অনেক দুর্বল হয়ে গেছে, তারপরেও এ নির্বাচন দেশের যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে অনেক কঠিন হবে।

    সোমবার (২ ডিসেম্বর) বিকালে খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংক কুয়েট হলে রাষ্ট্র মেরামতে বিএনপির ৩১ দফাবিষয়ক খুলনা বিভাগীয় কর্মশালায় ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় এবং খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

    তারেক রহমান বলেন, ২০ বছর আগে যখন মানুষ কম-বেশি নির্ভয়ে ভোট দিতে পারত, যখন ২০০১ সালের নির্বাচন ধরেন, সেই সময় থেকে মানুষের চিন্তা-ধারার পরিবর্তন হয়েছে। মানুষের ধ্যার-ধারণার পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ এখন অনেক অনেক সচেতন।

    সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, গত কিছুদিন সমাজের কিছু ব্যক্তি সংস্কারের কথা বলছে। গত ৫ মাস আগেও তারা বলেনি। কিন্তু বিএনপি ২ বছর আগে থেকে সংস্কারের কথা বলছে। বিএনপি দেশ ও দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে। ৩১ দফা তারই প্রমাণ। তারা গত ৩-৪ মাস সংস্কারের যে কথা বলছে, তার সবকিছুই ৩১ দফার মধ্যে রয়েছে। এই ৩১ দফা শুধু বিএনপির তাই নয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সকল দলের।

    জনগণের প্রতি আস্থা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৩১ দফা সফল করতে যে কোনো মূল্যে জনগণের সমর্থন ধরে রাখতে হবে। দলের পক্ষে পরিকল্পনা নিতে হবে। কিভাবে জনগণকে পাশে রাখবেন। সব কিছুর লক্ষ্য হচ্ছে, জনগণের সমর্থন আমাদের পক্ষে আনার। একইসঙ্গে আমাদের পরিকল্পনা যাতে আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি। ৩১ দফার সকল কিছু জনগণের মাঝে নিয়ে যেতে হবে। জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।

    তিনি বলেন, গত ১৭ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপনারা সংগ্রাম করে যেভাবে টিকে ছিলেন, তার থেকে সহজ হবে- এই কাজটা জনগণের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। এতো কঠিন পথ যদি আপনারা পাড়ি দিয়ে আসতে সক্ষম হন, তাহলে একটু কষ্ট করলেই ৩১ দফা আমরা জনগণের মাঝে নিয়ে যেতে পারি। এই কাজ আপনারা খুব সহজের সকলকে সঙ্গে নিয়ে করতে সক্ষম হবেন।

    তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের সম্পদ দেশের প্রান্তিক মানুষের জন্য। বিশেষ কোনো ব্যক্তির জন্য নয়। দেশের সম্পদ কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেটি আমরা চেষ্টা করবো।

    খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আনিদ্য ইসলাম অমিতদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কেন্দ্রীয় খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বিএনপির সহ ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক এডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী, বিএনপির মিডিয়ার সেলের আহবায়ক ড. মওদুদ আলমগীর পাভেল প্রমুখ।

  • স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও তাদের লেজ রেখে গেছে: তারেক রহমান

    স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও তাদের লেজ রেখে গেছে: তারেক রহমান

    পতিত স্বৈরাচারের সময়ে যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে, তারা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও তাদের লেজ রেখে গেছে এবং তারা ষড়যন্ত্র করছে। তারা কিন্তু বসে নেই।’

    মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সিলেট নগরের পূর্ব শাহী ঈদগাহ এলাকার সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক কমিটি আয়োজিত ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি প্রশিক্ষণ কর্মশালা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ কথা বলেন। দিনভর চলা এ সম্মেলনে তিনি বিকেল চারটার দিকে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

    তারেক রহমান বলেন, আমরা গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি। দেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। মানুষ মনে করে, বিএনপির কাছে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা নিরাপদ। এ জন্য মানুষ বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে। জনগণের এই আস্থাকে ধরে রাখার দায়িত্ব আপনাদের।

    যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখবেন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতাকে বজায় রাখলে জবাবদিহিতা তৈরি হবে। এ জন্য যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখব। আমাদের গণতন্ত্রের পক্ষে থাকতে হবে, গণতন্ত্রকে চালু রাখতে হবে। যেখানে যেটাই নির্বাচন হোক, সেটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে হতে হবে।

    তারেক রহমান বলেন, আজকে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি। দল কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশ ও দেশের গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আসুন, আমরা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেদের গড়ে তোলার চেষ্টা করি। পলাতক স্বৈরাচারের অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করে যারা টিকে আছে, তারা আগামীতেও টিকে থাকবে বলে আমি মনে করি।

    বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউসের সভাপতিত্বে ও প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেনের সঞ্চালনায় কর্মশালায় বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিনসহ অনেকে।

    দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতার ৩১ দফা কর্মসূচির ওপর করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তারেক রহমান।

    বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করা সকল দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ঘোষণা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘এটির (৩১ দফা) মধ্যে রাষ্ট্রকাঠামোর অধিকাংশই আছে। আরও যত প্রস্তাব আসবে, তা যুক্তিসংগত হলে যুক্ত করা হবে। আজকে বিভাগ পর্যায়ে ৩১ দফা নিয়ে আলোচনার পর জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে তা নিয়ে যেতে হবে। বইয়ে অনেক কিছু সুন্দরভাবে লেখা থাকে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে হয় মানুষকে। তাই ভালো নিয়ত থাকলে আমরা ভালো কিছু করতে পারব।’

    তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র চলার পথে বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিগত ১৬ বছরে বহু মানুষ গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। জুলাই-আগস্টে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে এই প্রস্তাব (৩১ দফা) বাস্তবায়ন সম্ভব।

    সকাল নয়টায় কর্মশালা শুরু হয়ে চলে বেলা সোয়া পাঁচটা পর্যন্ত। এতে সিলেট বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা এবং সিলেট মহানগরের বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকেরা অংশ নেন।

  • দেশমাতৃকার বিরুদ্ধে দেশী-বিদেশী চক্রান্ত থেমে নেই: তারেক রহমান

    দেশমাতৃকার বিরুদ্ধে দেশী-বিদেশী চক্রান্ত থেমে নেই: তারেক রহমান

    দেশমাতৃকার বিরুদ্ধে দেশী-বিদেশি চক্রান্ত থেমে নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, পতিত আওয়ামী সরকারের বিগত ১৬ বছরের দুর্বিষহ শাসনামলে মানুষের সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রকে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। দেশের মানুষ তাদের সকল অধিকার হারিয়ে ফেলেছিল। জনগণের কাছ থেকে দেশের মালিকানা কেড়ে নেয়া হয়েছিল। ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে বিজয়ের মাধ্যমে আমরা নতুনভাবে স্বাধীনতা পেলেও এখনও আমাদের দেশমাতৃকার বিরুদ্ধে দেশী-বিদেশি চক্রান্ত থেমে নেই। তবে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ষড়যন্ত্রকারীরা কখনোই সফল হবে না। শহীদ ডা. মিলনের আত্মত্যাগ সবসময় আমাদেরকে প্রেরণা জোগাবে।

    তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নির্ভীক শহীদ ডা. মিলনের আত্মদানে হারানো গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত হয়। তার আত্মদানের মধ্য দিয়ে ৯ বছরের স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে ধাবিত হয়। স্বৈরাচারকে উৎখাত করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছিল তার দৃঢ় অঙ্গীকার। বুকের রক্তের বিনিময়ে তিনি গণতন্ত্রকে বিজয়ী করেছিলেন। যে পথ বেয়ে দেশে স্বৈরাচারের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্রের নবযাত্রা শুরু হয়।

    তারেক রহমান বলেন, শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে আমি ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের এক অকুতোভয় সৈনিক শহীদ ডা. শামসুল আলম মিলনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।

    অপর এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন ‘৮০’র দশকে স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একটি অবিস্মরণীয় নাম। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে ডা. মিলনের আত্মদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর তৎকালীন সরকারের লেলিয়ে দেয়া পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন তিনি। তার শাহাদৎ বার্ষিকীতে আমি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।

    তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিগত ১৬ বছরের ভয়াবহ দুঃশাসনে গণতন্ত্রসহ মানুষের ভোট, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছিল। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বলতে কিছুই ছিল না। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের মাত্রা ছিল বর্ণনাতীত। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে দেশের মানুষ স্বৈরাচারমুক্ত হলেও ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও ঘাপটি মেরে বসে আছে, তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। কিন্তু দেশের জনগণ এখন ঐক্যবদ্ধ, তাই যন্ত্রকারীরা কখনোই সফলকাম হতে পারবে না। শহীদ ডা. মিলনের আত্মত্যাগ সবসময় আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করবে।

  • সংঘাত অস্থিরতার দায় সরকার এড়াতে পারে না: এবি পার্টি

    সংঘাত অস্থিরতার দায় সরকার এড়াতে পারে না: এবি পার্টি

    আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ‘গত কয়েকমাসের সংঘাত, সংঘর্ষ, অস্থিরতা ও গণঅভ্যুত্থানের মিত্রদের বিভক্তির দায় অন্তর্বর্তী সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।’

    মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

    সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার ও দেশবাসীর উদ্বেগ দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

    ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনাকর সংঘাতময় পরিস্থিতিতে উদ্বেগ ও শান্তি রক্ষায় করণীয় প্রসঙ্গে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন দলের আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার।

    সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জু প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘মাত্র তিন মাস আগেও যেসব ছাত্র একতাবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে, ঢাল হয়ে একে অপরের জীবন রক্ষা করেছে, তারা কেন আজ হিংসা হানাহানিতে লিপ্ত হয়ে পরস্পরের রক্ত ঝরাচ্ছে? কেন রাজপথে নেমে প্রতিদিন সহিংস আন্দোলন করতে হচ্ছে অধিকার বঞ্চিতদের? আন্দোলনের মিত্রদের কণ্ঠে কেন এত তাড়াতাড়ি অনৈক্য ও বিভক্তির সুর?’

    তিনি বলেন, ‘হাজারো ছাত্র-জনতার জীবনের বিনিময়ে একটি সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত এই সরকার আন্দোলনে সম্পৃক্ত সব পক্ষের ঐক্য রক্ষার ব্যাপারে শুরু থেকেই উদাসীন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্বেগ তারা আমলে নিচ্ছেন না। আহত সংগ্রামীরাসহ প্রতিদিন রাজপথে নেমে আসতে হচ্ছে অধিকারের দাবিতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে একটা ভালো সমন্বয় টিম তৈরি করে এসব আন্দোলন ও দাবি-দাওয়া টেবিলে বসেই সমাধান করা যেত। বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি, দখল দারিত্বের যে অভিযোগ তার কোনো সঠিক সুরাহা হচ্ছে না।

    তুচ্ছ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্রদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাফিলতি এখানে অত্যন্ত সুস্পষ্ট। অহিংস গণঅভ্যুত্থানের জনসমাগমের বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝিও সরকার আগাম ব্যবস্থা নিলে সমাধান করা যেত। কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার অতীত ভূমিকা নিয়ে সংক্ষুব্ধদের বিষয়টিকেও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিরসন সম্ভব হতো।

    মঞ্জু আরও বলেন, ‘গত ১৫ বছরের চরম নৈরাজ্যবাদী শাসনের অবসানের পর দেশবাসী আশা করেছিলেন, সব জায়গায় ধীরে ধীরে শান্তি ফিরবে। কিন্তু পতিত ফ্যাসিবাদের মদদপুষ্ট ষড়যন্ত্রকারীরা দেশে অরাজকতা তৈরির জন্য বারবার চেষ্টা চালাচ্ছে, সরকার সে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে কোনো আগাম পদক্ষেপ নিতে তো পারছেই না বরং কখনও কখনও নিজের মিত্র শক্তিদের দূরে সরিয়ে তাদেরকে ষড়যন্ত্রকারীদের দোসর বলে দায় এড়াতে চাচ্ছে।’

    সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নীতির সমালোচনা করে বলা হয়, রাষ্ট্র শাসনে কোমলতা বলে কিছু নেই বরং ন্যায় ও ইনসাফের জন্য যথার্থতার নীতি অনুসরণই কাম্য। সর্বাত্মক জনসমর্থন, বিপ্লবের স্পিরিট, প্রভূত ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব পাওয়া সত্বেও ড. ইউনূসের মতো শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পাওয়া জননন্দিত ব্যক্তিত্ব যদি দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে না পারেন তাহলে তা হবে খুবই দুঃখজনক।

    এবি পার্টির পক্ষ থেকে সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে গণঅভ্যুত্থানের অংশীদার সব পক্ষকে অস্থিরতা পরিহার করে ধৈর্য ও সহনশীলতার ভিত্তিতে একটি সমঝোতা সনদ তৈরির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। শীঘ্রই বৈষম্যবিরোধী সব ছাত্র-জনতাকে নিয়ে ‘গণঅভ্যুত্থান সনদ’ তৈরির পদক্ষেপ নেবেন বলে ঘোষণা দেয় এবি পার্টি।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, সিনিয়র সহকারী সদস্যসচিব এবিএম খালিদ হাসান, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসাইন, যুবপার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, সহকারী সদস্য সচিব শাহ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী নাসির, মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সেলিম খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুলতানা রাজিয়া, শাহিনুর আক্তার শীলা, আমেনা বেগম, সুমাইয়া শারমিন ফারহানাসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

  • জুলাই বিপ্লব ইতিহাসের ইতিবাচক পরিবর্তন: ডা. শফিকুর রহমান

    জুলাই বিপ্লব ইতিহাসের ইতিবাচক পরিবর্তন: ডা. শফিকুর রহমান

    আওয়ামী লীগের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ২৪’র ছাত্র জনতার ‘জুলাই বিপ্লব’ ইতিহাসের ইতিবাচক পরিবর্তন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব ইতিহাসের একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে আল্লাহ উর্বর করে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই জমিনে আমরা কী চাষ করব, কীভাবে চাষ করব- তা আমাদের ওপর নির্ভর করবে।

    গতকাল সোমবার (২৬ নভেম্বর) রাত আটটায় রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের থানা দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জন আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ দোয়া করছে ও চাচ্ছে ক্ষমতা যেন ভালো লোকদের হাতেই আসে। লোকেরা বলছেন যে তারা অপেক্ষা করছেন।

    তিনি বলেন, জামায়াতের প্রতি মানুষের প্রত্যাশার জায়গা তৈরি হয়েছে। মানুষ জামায়াতের হয়ে কাজ করতে চাওয়ার অভিব্যক্তিও তুলে ধরেন তিনি।

    দলের নেতাদের শহিদ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাজার হাজার ষড়যন্ত্র আছে, থাকবে। দুনিয়া যতদিন আছে ষড়যন্ত্র ততদিন থাকবে। কোনো সময়ই এই ধরনের ষড়যন্ত্রের বাইরে ছিল না- হযরত আদম (আ.)-এর বিরুদ্ধেও শয়তান ষড়যন্ত্র করেছিল। এজন্য মানুষ শয়তান ও জ্বিন শয়তান থেকে বাঁচার জন্য কোরআনে একটি সূরাও নাযিল করেছেন আল্লাহ তায়ালা।

    আল্লাহর মকবুল বান্দা হওয়ার জন্য দুটো জিনিস তাক্বওয়া ও তাওয়াক্কুল অর্জনের কথা নেতাকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিরেট কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়, সামাজিক সংগঠনও নয়, আবার শুধু দাওয়াহ সংগঠনও নয়- দ্বিনের একটি পূর্ণাঙ্গ সংগঠন। এখানে সমস্ত উপাদান আছে- কোনো কিছু বাদ নেই।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের প্রতি মানুষের ভালোবাসার জায়গা তৈরি হয়েছে। এই জায়গা যেন নষ্ট না হয়, যেন যত্ন নেওয়া হয়- নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেন তিনি।

    তিনি বলেন, আমরা যদি মানুষের ভালোবাসাগুলোর যত্ন নিতে পারি-তাহলে দ্বীন কায়েমের আমাদের ক্ষুধা ও পিপাসা আল্লাহ পূর্ণ করে দেবেন। আমরা আমাদের জন্য দ্বিনের বিজয় চাচ্ছি না, আমাদের মিল্লাতের জন্য চাচ্ছি। মিল্লাত বিজয় পেলে আমরাও তার অংশীদার হবো ইনশাআল্লাহ।

    জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় গিয়ে আমরা হাব-ভাব দেখাবো, স্বাদ নেবো আল্লাহ যেন এই নাপাক চিন্তা থেকে আমাদের মনকে মুক্ত রাখেন। অতীতের মুরব্বিরা (সাবেক দায়িত্বশীলরা) অনেক উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন। ঐটাকে সামনে রেখে আরও সুন্দর সুন্দর উদাহরণ সৃষ্টি করব আমরা। তাহলেই তারা সার্থক হবেন। গোটা জাতিকে (মিল্লাতকে) আমাদের ধারণ করতে হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন বলেন, নতুন বিপ্লবে ঢাকা মহানগরী উত্তরের থানা সভাপতি ও আমীরদের নতুনত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী একটি সামগ্রিক আন্দোলনের নাম। একটি পূর্ণাঙ্গ সংগঠন এবং পরিপূর্ণ ইসলামী আন্দোলন।

    সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে নেতৃত্ব বাছাইয়ে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করার পাশাপাশি প্রয়োজনে তরুণদের এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মহানগরী আমির।

    কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা ও ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দীন মানিক ও মাওলানা ইয়াসিন আরাফাত। দারসুল কোরআন পেশ করেন অধ্যাপক আবুল ইহসান।

    সমাবেশে ২০২৫-২০২৬ সেশনের জন্য রুকনদের ভোটে নির্বাচিত থানা আমীরদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

  • ‌‘খেলা হবে’ মানসিকতার পরিবর্তন হয় নাই: ববি হাজ্জাজ

    ‌‘খেলা হবে’ মানসিকতার পরিবর্তন হয় নাই: ববি হাজ্জাজ

    দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেছেন, পরাজিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসররা তাদের পলাতক নেত্রী হাসিনার প্রতিশোধ স্পৃহা বাস্তবায়ন করতে রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। গুম-খুন এবং লুটপাটের মাস্টারমাইন্ড ওবায়দুল কাদের-নানকরা কর্মীদের মধ্যে যে ‌‘খেলা হবে’ মানসিকতা তৈরি করেছিলো সেটার পরিবর্তন হয় নাই। পতিত স্বৈরাচার হাসিনা এখনও খুনের নেশায় উন্মাদ হয়ে আছে।

    মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।

    তিনি বলেন, ঢাকায় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সহিংসতার ঘটনা ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের মূলমন্ত্র বিরোধী। ছাত্রদের ভিতরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা অনুপ্রবেশ করে এবং উসকানি দিয়ে একের পর এক অঘটনের জন্ম দিচ্ছে। একদিকে সাধারণ মানুষদের টাকার লোভ দেখিয়ে শাহবাগে আনা হচ্ছে অন্যদিকে ইসকনকে ব্যবহার করে আবারও সংখ্যালঘু কার্ড খেলার চেষ্টা করছে পরাজিত শক্তি। এসব ঘটনায় দায়ীদের খুঁজে বের করতে সাঁড়াশি অভিযান চালাতে হবে।

    প্রশাসনে আওয়ামী দোসরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশাসনের স্থবিরতা দূর করতে যখনই দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে তখনই ফ্যাসিবাদের অনুগতরা ষড়যন্ত্রের নীলনকশা আঁকছে। সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। প্রয়োজনে অবসরে যাওয়া বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তা এবং নাগরিক সমাজ থেকে যোগ্য লোকদের বাছাই করে সাময়িক বিভিন্ন দায়িত্ব প্রদান করা যেতে পারে। কোনোভাবেই আওয়ামী দোসরদের ক্ষমতার কাঠামোতে স্থান দেয়া যাবে না।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ নেবার আহ্বান জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, আমরা ড.ইউনূসের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। এই সরকারকে যারাই অস্থিতিশীল করতে চাইবে আমরা রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিব। চলমান নানা সংকট মোকাবেলায় সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শ করতে হবে। ফ্যাসিবাদের কোন স্থান এদেশে সহ্য করা হবে না।

    আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংগঠন হিসাবে ব্যবস্থা নেবার দাবি জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দলের কোন অধিকার নেই এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একাধিক গণহত্যা, গুম, ভোটাধিকার হরণ এবং অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে। এই দলটিকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।

    নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেন, সার্চ কমিটির মাধ্যমে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সাধুবাদ জানাই। গণতন্ত্র এবং জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত একটি জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ চাই। জনগণের নির্বাচিত সরকার সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।