Category: রাজনীতি

  • শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরে নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে এক কতৃপক্ষ: মির্জা ফখরুল

    শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরে নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে এক কতৃপক্ষ: মির্জা ফখরুল

    শেখ হাসিনার রায় ঘিরে দেশের মধ্যে বর্তমানে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, একটি বিশেষ মহল নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আজ রোববার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটির এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। একদিকে চলছে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে একটি ইচ্ছাকৃত গোষ্ঠী এই অস্থিরতা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক হতাশা ও অন্ধকারের মাঝেও দেখা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতে সম্ভবত নির্বাচন হবে। সেই কারণে, বিলম্ব না করে সবাইকে একত্রিত হয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সম্পন্ন করার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো উচিত।

    তিনি আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের মতো নয় এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে হলে একটি নির্বাচিত সরকার গঠন জরুরি। তিনি বলেন, এবার যদি একটি বৈধ সরকারের হাতে ক্ষমতা না থাকে, তাহলে দেশের সমস্যার সমাধান হবে না। এক্ষেত্রে, তিনি দেশের জনগণের Vote ফিরিয়ে আনার জন্য সকল রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

    অপরদিকে, আগামীকাল সোমবার শোনা হবে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার রায়। বিএনপি নেতারা মনে করেন, এই রায়ের মাধ্যমে একটি মহল দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাচ্ছে। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার রায় ঘিরে দেশজুড়ে একটি আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই পরিস্থিতি অপব্যবহার করে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি সবাইকে এই চক্রান্ত রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান।

    বিশেষ করে, মওলানা ভাসানীর জাতীয় উন্নয়নে অবদান স্মরণ করে বিএনপি নেতা বলেন, তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছেন এবং একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ার চিন্তা করেছিলেন। তবে, তিনি তার সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দেখার সুযোগ পাননি। তিনি আরও বলেন, মওলানা ভাসানীর প্রতি বিএনপির একগণ্য দায়িত্ব রয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে তিনি দোয়া করেছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুর চাচাতো ভাই মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করতে বলেছিলেন।

    এছাড়াও উল্লেখ্য যে, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষণা হবে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিচার চলছিল। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায়ের তারিখ নির্ধারিত করেছেন। এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই বিচারক হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    সর্বোপরি, এই রায়ের প্রতি দেশের মানুষ ও পরিবারগুলো গভীর আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি এই রায়ের সম্প্রচার করবে, এর পাশাপাশি ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দায় এই ঘোষণা প্রচারিত হবে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজেও সরাসরি দেখানো হবে এই গুরুত্বপূর্ণ রায়।

  • রাজপথের কর্মসূচি চলবে যতক্ষণ না পর্যন্ত নিরপেক্ষ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাওয়া যায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    রাজপথের কর্মসূচি চলবে যতক্ষণ না পর্যন্ত নিরপেক্ষ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাওয়া যায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, সরকার ও তার তিন উপদেষ্টা নির্বাচন ও গণভোট প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা হারাচ্ছেন। তাঁর মতে, এই ‘ভুল পথনির্দেশ’ এর কারণেই এখনো সম্পূর্ণভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যা আটটি দল মেনে নিয়েছে। তাই, তারা ঘোষণা দিয়েছে— যতক্ষণ পর্যন্ত সত্যিকারভাবে সমান সুযোগ নিশ্চিত না হবে, তখন পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন চলতেই থাকবে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার রোববার (১৬ নভেম্বর) রাজধানী মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন,সব কথা সব সময় প্রকাশ করে বলতে হয় না; প্রয়োজন হলে, আমরা তিন উপদেষ্টার নামও প্রকাশ করব। আমাদের কাছ কাছে তথ্য ও প্রমাণ আছে।

    তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সরকার এখনই সতর্ক না হলে, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পথ অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে। প্রশাসনের অনেকগুলো জায়গায় এখনো দলীয় পক্ষপাত দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই তিন উপদেষ্টার প্রভাব–প্রতিপত্তি ও সরকারের পক্ষপাতিত্ব পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে বলে তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।

    এদিকে, আট দলীয় জোটের দাবি আদায়ে, নির্বাচনকে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু করার জন্য তারা মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না তৈরি হবে, ততক্ষণ তাদের আন্দোলন চলবে।

    জামায়াতের এই নেতা আরও জানান, তাদের মূল তিনটি দাবি এখনো পূরণ হয়নি— এক, নিরপেক্ষ ও সমান সুযোগের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি; দুই, ফ্যাসিবাদের দোষীদের বিচার; তিন, প্রশাসনে দলীয় প্রভাব ও পক্ষপাতিত্ব রোধ। এই ইস্যুগুলো নিয়ে আট দলের স্টিয়ারিং কমিটি পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেবে।

    তারা মনে করে, আন্দোলন বা কর্মসূচি নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না বরং, এটি একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে, সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সক্ষম হলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে না।

    এদিকে, নির্বাচনের বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে গণভোট ইস্যুতে তাদের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। তারা সংবিধান ও মৌলিক সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য সমর্থন জানিয়েছেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কমিশনের মূল সংস্কারসমূহের পক্ষে তারা শুরু থেকে অবস্থান নিয়েছে। এসব সংস্কার সহজভাবে ভোটারদের তুলে ধরতে হবে, যাতে সবাই বোঝে কেন এগুলো জরুরি। সরকারের বা নির্বাচন কমিশনের উচিত যেন স্পষ্ট করে বলে দেয়— এই সংস্কারগুলো কেন প্রয়োজন, না হলে জনগণের একটা বড় অংশ বিষয়টি বুঝতে পারে না।

  • জামায়াতের ক্ষমতায় গেলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা থাকবে: রফিকুল ইসলাম

    জামায়াতের ক্ষমতায় গেলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা থাকবে: রফিকুল ইসলাম

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী महासেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, যদি জামায়াত ক্ষমতায় আসে, তবে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিষয়ে দেশে এবং মুসলিম বিশ্বে কোন দ্বিমত নেই। শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    রফিকুল ইসলাম খান জানান, এই সমাবেশে বাংলাদেশের মুসলমানদের পাশাপাশি গোটা মুসলিম বিশ্ব থেকে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার বিষয়ে সবাই এক মত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বহু হাদিসে ঘোষণা করেছেন, তিনি শেষ নবী, ভবিষ্যতে আর কোনো নবী আসবেন না। এই বিশ্বাস ইসলামি উম্মাহর সর্বস্তরে স্বীকৃত। বাংলাদেশের জনগণ যদি আমাদের ভোটে নির্বাচিত হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে।

    এখানে সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের আলেম-উলামারা উপস্থিত ছিলেন। এই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, জামায়াতের সহকারী মহাসচিব মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেকসহ দেশের শীর্ষ আলেম ও রাজনীতিবিদরা।

    বিদেশ থেকে আসা অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন— জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ভারতের সভাপতি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানি, পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া মহাসচিব মাওলানা হানিফ জালন্দরি, ইন্টারন্যাশনাল খতমে নবুওয়ত মুভমেন্টের ওয়ার্ল্ড নায়েবে আমির শায়খ আব্দুর রউফ মক্কি, পাকিস্তানের ইউসুফ বিন্নুরী টাউন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম ড. আহমাদ ইউসুফ বিন্নুরী, পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াছ গুম্মান, মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শায়খ মুসআব নাবীল ইবরাহিম।

    মহাসম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত খতমে নবুয়ত পরিষদের আহ্বায়ক ও খতমে নবুয়ত সংরক্ষণ কমিটির বাংলাদেশের আমির মধুপুরের পীর মাওলানা আবদুল হামিদ।

  • জনপ্রিয় নয় জামায়াত, দেশের মানুষ সহজে ভোট দেবে না: মির্জা ফখরুল

    জনপ্রিয় নয় জামায়াত, দেশের মানুষ সহজে ভোট দেবে না: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভাষ্য জনিয়েছেন, দেশের সাধারণ মানুষ ধর্মপ্রিয়। তারা ধর্মকে ভালোবাসে এবং আল্লাহর নবীকে বিশ্বাস করে। তবে, তারা ধর্মান্ধ বা সাম্প্রদায়িক নয়। তিনি গত নির্বাচনের প্রতি নজর দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ভোটের হার কেবল পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ ছিল। রাতারাতি ৫১ শতাংশ হয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, তাই বাংলাদেশের মানুষ সহজে আপনাদের ভোট দেবে না বলে তিনি মনে করেন। জনগণের বিশ্বাস আপনি হারিয়েছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে এক গণসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল বলেন, পাকিস্তান আন্দোলন মূলত মুসলমানরা করেছিলেন। এটি ছিল মুসলমান ভাইদের স্বার্থ রক্ষার জন্য, কারণ অধিকাংশ মানুষ মুসলিম। কিন্তু,আপনার নেতা মওদুদী এই আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা শুধু বিরোধিতা করেননি, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণহত্যাও চালিয়েছেন। তিনি বললেন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, দেশ স্বাধীন করতে যুদ্ধ করেছেন। আজ এই বিষয়ে অবৈধ প্রচার চালিয়ে আমাদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা তিনি মানতেই নারাজ।

    তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা যে আসন্ন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন, সেটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে। এই নির্বাচন অবশ্যই অনুষ্ঠানে হবে। এই ভোটের দেরি হলে বাংলাদেশ দুর্বল হয়ে যাবে। জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো সরকার সফলতায় শাসন চালাতে পারে না।

    বিএনপি মহাসচিব জামায়াতের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপনাদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। নির্বাচন অংশগ্রহণের প্রস্তুতি অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছে। কেন মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে? সব পোস্টার, বিলবোর্ড দেখছি—অন্য দলের তুলনায় এইগুলো বেশি। তাহলে, কেন মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে? আপনি জানেন, আপনি নির্বাচন করবেন। না করলে আপনার অস্তিত্ব থাকবে না। তখনই বুঝবেন, নির্বাচন এলে আপনি পরাজিত হবেন, তাই নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, পানির ন্যায্য হিস্য পাই না তা পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন চালানো হবে। তারা ক্ষমতায় গেলে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ করে কৃষকদের ফসল রক্ষা, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট নিরসন ও নদীগুলো রক্ষা করবে।

    অবশেষে, তিনি বলেন, ভারত চুপি চুপি ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করেছে। এর ফলে পদ্মাসহ অন্যান্য নদীর পানি ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছে, এবং হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারা ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে।

  • অস্ট্রেলিয়ার এমপিদের গণতন্ত্রের পক্ষের অবস্থানে তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা

    অস্ট্রেলিয়ার এমপিদের গণতন্ত্রের পক্ষের অবস্থানে তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা

    বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে অস্ট্রেলিয়��� এমপিদের স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার রাতে নিজ ফেসবুক পেজে তিনি এই অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

  • শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরে নৈরাজ্য ছড়ানোর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা বিএনপির

    শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরে নৈরাজ্য ছড়ানোর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা বিএনপির

    শেখ হাসিনার রায় নিয়ে দেশে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী এই রায়কে কেন্দ্র করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছে। তিনি রোববার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে গেছে। সময়টা একটি জটিল সংকটে চলে গেছে। একদল বা গোষ্ঠী দেশের রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাচ্ছে, যা দেশের সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি আরো যোগ করেন, এত হতাশা ও বিভ্রান্তির মধ্যেও ফেব্রুয়ারি মাসে সম্ভাব্য নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে আর দেরি না করে, সবাই মিলে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।

    বিএনপি মহাসচিব দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা এখন ভালো নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলতে গেলে কিছুই দেখা যায় না। দেশের একটি নাগরিক সমাজের স্বার্থে নির্বাচিত সরকার জরুরি। তিনি দাবি করেন, এখনো যদি একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনপ্রক্রিয়া গঠন না হয়, তাহলে দেশের সংকট আরও বেড়ে যাবে। অতএব, অবিলম্বে একটি কার্যকর সরকার গঠন করে দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

    মির্জা ফখরুল আসন্ন সোমবারের কার্যক্রম স্মরণ করে বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আগামীকাল রায় ঘোষণা হবে। এর ফলে সারা দেশে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল এই পরিস্থিতিকে সরকারি অস্থিরতা বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে ব্যবহার করছে। সেই এজেন্ডাকেই রুখে দিতে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    অতীতে মওলানা ভাসানীর অবদান ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, মওলানা ভাসানী একজন নেতা হিসেবে স্বপ্ন দেখতেন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের, তবে তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই তিনি চলে যান। তিনি আরো বলেন, বিএনপির দায়িত্ব রয়েছে ভাসানীর আদর্শকে ধারণ করে দেশের উন্নয়নে কাজ করা। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে তিনি দোয়া করেছিলেন, আর মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।

    উল্লেখ্য, সদ্য ঘটে যাওয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এর অন্যান্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন। ঢাকায় বড় বড় স্ক্রিনে রায় ঘোষণা প্রচার করবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি, এই রায় ট্রাইব্যুনালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও দেখা যাবে। এমন উদ্যোগে দেশের মানুষ এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিশ্চিতভাবে জানতে পারবেন।

  • রাজপথের আন্দোলন চলবে, পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    রাজপথের আন্দোলন চলবে, পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গড়ে উঠবে না, ততক্ষণ রাজপথে আন্দোলন চলমান থাকবে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের তিন উপদেষ্টা নির্বাচন এবং গণভোট প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করছেন, যার ফলে সব দলই মনে করছে যে, আদর্শ ও বৈষম্যমুক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এই কারণেই তারা ঘোষণা দিয়েছেন—লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

    মিটিংয়ে তিনি বলেন, সব কিছু প্রকাশ্যে বলা যায় না, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট তিন উপদেষ্টার নামও প্রকাশ করবেন, কারণ তাঁদের বিরুদ্ধে তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি।

    গোলাম পরওয়ার সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সরকারের এখনই সতর্ক হওয়া উচিত, অন্যথায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের অনেক দপ্তর এখনও দলীয় পক্ষপাতদুষ্ট। পাশাপাশি, তিন উপদেষ্টা যে প্রভাব বজায় রেখেছেন, তার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

    তিনি আরও বলেন, এই অবস্থায় জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছে সন্দেহ—নির্বাচন কতটা ফরএবিডল ও সুষ্ঠু হবে। এর জন্য দায়ী সরকারই। তিনি স্পষ্ট করেছেন, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায় বলেই তারা মাঠে আছেন। তবে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকলে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

    তিনি আরও জানিয়েছেন, তাদের মূল তিনটি দাবির মধ্যে এখনও গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয় অপূর্ণ থেকে গেছে: একটি হলো, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গড়ে তোলা, আর অন্য দুটি হলো, ফ্যাসিবাদের দোষীদের বিচারের ব্যবস্থা আর প্রশাসনে দলীয় পক্ষপাতদুষ্ট চিত্র বন্ধ করা। এই সব বিষয়ে আট দলীয় জোটের স্টিয়ারিং কমিটি পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবে এবং ঘোষণা দেবে।

    নেতারা মনে করেন, এই আন্দোলন নির্বাচন বাতিল বা ক্ষুণ্ন করতে না এসে বরং স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ সুপ্রশ্য ও পরিষ্কার করবে। পাশাপাশি, তারা নির্বাচনের বিষয়েও অভিযোগের মধ্যেই গণভোটের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এমনকি, সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও মৌলিক সংস্কারের পক্ষে তাঁরা ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছেন।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, কমিশনের মূল সংস্কারগুলোর জন্য আমাদের দৃঢ় প্রত্যয় রয়েছে। এগুলো ভোটারদের কাছে সহজ ভাষায় তুলে ধরতে হবে। তিনি দাবি করেন, প্রচারপত্র, জাতীয় মিডিয়া ও ওপেন কনিমিউনিকেশনের মাধ্যমে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করে বলতে হবে—এসব সংস্কার কেন জরুরি। অন্যথায়, জনগণের বড় অংশ বিষয়টি বুঝতে পারবে না।

  • একই দিনে গণভোট ও নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করছে: ডা. তাহের

    একই দিনে গণভোট ও নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করছে: ডা. তাহের

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সাম্প্রতিক বক্তৃতায় দেশজুড়ে যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে আন্দোলনরত আট দলের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে বরং একটি দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে সিদ্ধান্তে কাটছাঁট করছে। সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে সেই ঘোষণা, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তগুলোতে সাধারণ মানুষ যে প্রত্যাশা করেছিলেন, সেই গুরুত্ব এখন আর থাকছে না বলে মনে করছেন দলের নেতারা। একইসঙ্গে তারা অন্তত তিনজন উপদেষ্টার অপসারণের দাবিও জানিয়েছেন, যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হয়।

    শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকার মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে এঁরা এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগগুলো ব্যক্ত করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামিয়াতুল মোয়াল্লামিনের ন্যায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, জনগণ আশা করেছিলেন, সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশের সম্পূর্ণ ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু দেখলাম, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ অনুযায়ী, কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি অংশ বাদ পড়েছে এবং একটি দলের আপত্তি মেনে নিয়ে সরকার বড় ধরনের কম্প্রোমাইজ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, নেপথ্যে সরকার নিরপেক্ষতা থেকে সরে এসে একটি দলের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    সংস্কার প্যাকেজের ভাগাভাগি নিয়ে মতভেদ:
    সংস্কার কমিশন প্রথমে বলেছিল, সকল সংস্কার উপাদান একসঙ্গে গণভোটে যাবে। কিন্তু এবার প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী, এটি চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ডা. তাহেরের মতে, এতে ভোটারদের জন্য বিষয়গুলো বোঝা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। নেতারা মনে করছেন, এই বিভাজন বিএনপি বা অন্য কোনো দলের কৌশল—এটা কমিশনের মূলনীতির বিরুদ্ধ, এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট।

    অন্তর্বর্তী সরকারের নিজস্ব দিকনির্দেশনাও রয়েছে, যার মধ্যে একটি বলছে, পরবর্তী সরকার ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশোধনী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য থাকবে। যদি তা না হয়, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা গৃহীত বলে গণ্য হবে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এই দিকনির্দেশনা ভাষণে উল্লেখ করা হয়নি, যা আবার বিএনপি বা অন্যদের মনে আস্থা কমাতে পারে বলে তিনি মনে করেন। ডা. তাহের শেষমেশ সরকারের এই সদিচ্ছার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অন্তত সাংবিধানিকভাবে সংবিধানে সংশোধন করার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা বহু দিন ধরে আট দল চেয়েছিল।

    গণভোট ও নির্বাচনের একই দিনে হওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ব্যাপক সমালোচনা:
    অত্যন্ত বিপরীত মতামত দিয়ে, ডা. তাহের জানান, দেশের অধিকাংশ মানুষ চাইছিলেন— আগে গনভোট হয় এবং আলাদা দিন নির্ধারিত হয়। কিন্তু সরকার এই সিদ্ধান্ত নিলো যে, দুই ঘটনা একসাথে হবে— যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর। তাঁর মতে, একদিনে ভোটের পরিকল্পনা থাকলে, দলগুলো নিজেদের নির্বাচনী প্রচারে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে, ফলে গণভোটে অংশগ্রহণ কম হতে পারে। এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, ওই ব্যক্তি বা দলগুলো বলবে— জনগণ আসলে সংস্কার চায় না। এটি একটি কূটপ্রকল্প বা ফাঁদ বলেও তিনি মানছেন।

    তাঁর দাবি,তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আলাদা দিনে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করতে হয়।

    নিরপেক্ষতা প্রশ্নে সংশয় এবং উপদেষ্টাদের অপসারণের দাবি:
    তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এখন আর নিরপেক্ষ নয়, বরং নির্দিষ্ট দলের অনুসারী ব্যক্তিদের প্রশাসনে নিয়োগের মাধ্যমে অবস্থান বদলে চলছে। তিনি বলেন, ‘কমপক্ষে তিনজন উপদেষ্টাকে প্রধান উপদেস্টার ভুল পথে পরিচালিত করছেন, তাদের অপসারণ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’

    সংস্কার ও নির্বাচনের একসাথে চলার ব্যাপারে ডা. তাহের সহজভাবে এরূপ তুলনা করেন— যেন আপনি কোনও বই কেনার জন্য দোকানে গিয়ে, দোকানদার পুরো বাজারের তালিকা দেখিয়ে বলছে, “এটা নাও, এটা নাও”। সবাই উপকরণ বা বিষয়ের গুরুত্ব বুঝে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, কিন্তু মূল বিষয়ের গুরুত্ব হারিয়ে গেছে।

  • মির্জা ফখরুলের দাবি: ভারতের দাদাগিরি বন্ধ করতে হবে

    মির্জা ফখরুলের দাবি: ভারতের দাদাগিরি বন্ধ করতে হবে

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য ফারাক্কা, তিস্তা এবং অন্যান্য পানিবণ্টন ইস্যুতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের দাদাগিরি না চলায়, সেটি বন্ধ করতে হবে।

    শনিবার (১৫ নভেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘পদ্মা বাঁচাও গণসমাবেশ’-এর আগে মহানন্দা রাবার ড্যাম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমাদের দেশের স্বার্থ আমাদেরই দেখতে হবে। যদি বিএনপি জনগণের ভোটে দায়িত্বে আসে, তখন তারা ফারাক্কা, তিস্তা ইস্যুসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিবে।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশটি ইচ্ছে করলে আমাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের সময় তারা আমাদের সহযোগিতা করেছে, তাই এখন আরও বেশি সহযোগিতা দরকার।

    আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে पिछले সরকারের সময় ভারত আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে, যার ফলে তারা আমাদের অনেক কিছু নিয়ে গেছে, বিনিময়ে কিছু দেয়নি। এটা বিএনপি বা হাসিনা সরকারের ব্যর্থতা।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের স্বার্থ আমাদেরই দেখতে হবে। পানির হিস্যা, সীমান্তে হত্যা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের জোর দিতেই হবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে। তবে ভারতের দাদাগিরি বন্ধ করাও আমাদের আবশ্যক।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, কিছু দল বিএনপিকে বিভ্রান্ত করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। এরা রাজনীতিতে ফায়দা নিতে চায় এবং নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে দেশের বা দলের উন্নতি সম্ভব নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি দল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছে; কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা বলে এই ক্ষমতা পরিবর্তন বা দেশের সার্বভৌম শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অস্পষ্টতা লক্ষ্য করেছেন আখতার হোসেন

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অস্পষ্টতা লক্ষ্য করেছেন আখতার হোসেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, জাতীয় বেশ কয়েকটি বিষয় এখনও পরিষ্কার নয় বলে তিনি মনে করেন। সরকার বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আদেশ জারি করেছে, কিন্তু এই আদেশ পর্যালোচনার সময় তিনি লক্ষ্য করেছেন নানা অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তিকর বিষয়। তিনি জানান, আমাদের প্রত্যাশা ছিল, সরকার এই সনদে তৈরি হওয়া সংকট আর অস্পষ্টতাগুলো সুচারুভাবে সমাধান করবে এবং খুবই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেবে কীভাবে এই সনদ বাস্তবায়িত হবে। তবে, আদেশ জারির পরও কিছু জায়গায় স্পষ্টতার অভাব থেকে গেছে, যার কারণে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না যে, এই সনদ সুষ্ঠুভাবে কার্যকরী হবে কিনা।

    শুক্রবার রাতে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘গণভোটের প্রসঙ্গসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে বেশ বিভক্ত করে দেখানো হয়েছে। কিছু সংস্কারকে কম গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখানো হয়েছে এবং রাজনীতির বিবেচনায় আলাদা করে দেখা হচ্ছে।’

    তিনি আরও জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও গভীর আলোচনা চলছে। কিন্তু, বর্তমান সনদে এর ব্যাপারে পরিষ্কার কিছু উল্লেখ করা হয়নি, যা একটি বড় অস্পষ্টতার সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি উচ্চ স্তরের গঠনও নিয়ে প্রশ্ন আছে। নতুন উচ্চকক্ষের সদস্যদের প্রত্যেকের তালিকা প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তের অর্থ সম্ভবত এই যে, পরবর্তীকালে তালিকা প্রকাশ বা নির্বাচনের সময় নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু, এই বিষয়গুলোও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

    আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা চাইছিলাম, এই সনদের পুরোপুরি বাস্তবায়ন হোক। কিন্তু, যে ভাগে ভাগ করে গুরুত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যে কিছু বিষয় আংশিকভাবে কার্যকর হবে এবং কিছু বিষয় রাজনৈতিক দলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই আদেশে কোন সময়সূচি নির্ধারিত নেই, তাই যদি এই সব সংস্কার যথাসময়ে বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে কী ফলাফল হবে, সেটাও স্পষ্ট নয়। আমাদের দল এ ব্যাপারে আগেও দাবি জানিয়েছে, যেন গণভোটের ফলাফল বাধ্যতামূলক থাকে এবং কেউ সেই ফল থেকে সরে না যায়।’

    তিনি সরকারি প্রতিনিধিদের ত্বরিফে জানান, অবিলম্বে এই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাখ্যা ও অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করে করতে হবে। সরকার যেন দ্রুত উদ্যোগ নেয় এবং এই সংকট নিরসনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডাঃ তাসনিম জারা, যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ।