Category: রাজনীতি

  • সবকিছু এক বছরে ঠিক হবে এমন ভাবা ভুল: মির্জা ফখরুল

    সবকিছু এক বছরে ঠিক হবে এমন ভাবা ভুল: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা এখন যে রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের কথা বলছি, সেখানে দীর্ঘদিনের অনাচার, অবিচার, নৈরাজ্য ও দুর্নীতি কাটিয়ে একদিনে সুন্দর রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এক বছরের মধ্যে সবকিছু ঠিক করে ফেলতে পারেন— এ ভাবনাও বাস্তবসম্মত নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘গত ৫৩ বছরে আমরা ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় উপায় অবলম্বন করতে পারিনি। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন একটি সময়ের সূচনা হয়েছে, যেখানে হঠাৎ করে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।’ শনিবার (২৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সামাজিক সুরক্ষা কতটা সুরক্ষিত’ বিষয়ক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

  • উমামা-সাদীর নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’র প্যানেল ঘোষণা

    উমামা-সাদীর নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’র প্যানেল ঘোষণা

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে উমামা ফাতেমা ও আল সাদী ভূঁইয়ার নেতৃত্বে নতুন স্বতন্ত্র প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্যানেলটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন উমামা ফাতেমা।

    এই প্যানেলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বিভিন্ন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে লড়বেন উমামা ফাতেমা, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র ও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে থাকছেন আল সাদী ভূঁইয়া, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি। সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জাহেদ আহমদ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের ছাত্র ও পাঠচক্র ‘গুরুবার আড্ডা’ সংগঠক।

    অন্য পদে মনোনীতরা হচ্ছেন মুমিনুল ইসলাম (বিধান) — বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, নাফিজ বাশার আলিফ — আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, সুর্মী চাকমা — কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক, অনিদ হাসান — সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক, সিয়াম ফেরদৌস ইমন — গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক, মো. সাদিকুজ্জামান সরকার — ক্রীড়া সম্পাদক, মো. রাফিজ খান — ছাত্র পরিবহন সম্পাদক, তানভীর সামাদ — সমাজসেবা সম্পাদক, রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা — ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক, ইসরাত জাহান নিঝুম — স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক এবং নুসরাত জাহান নিসু — মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক।

    সদস্য পদে রয়েছেন নওরীন সুলতানা তমা, আবিদ আব্দুলাহ, ববি বিশ্বাস, মো. শাকিল, মো. হাসান জুবায়ের (তুফান), আব্দুল্লাহ আল মুবিন (রিফাত), অর্ক বড়ুয়া, আবির হাসান, নেওয়াজ শরীফ আরমান, মো. মুকতারুল ইসলাম (রিদয়), হাসিবুর রহমান, রাফিউল হক রাফি, মো. সজিব হোসেন ও সাদেকুর রহমান সানি।

    উমামা ফাতেমা এই প্যানেল ঘোষণা করেন। এই প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন কলেজের পাঁচজন শিক্ষার্থী, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ছয়জন নারী এবং দু’জন আদিবাসী ছাত্র।

    উমামা ফাতেমা বলেন, অনেক পথ পেরিয়ে আজ আমি এই প্যানেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি। ক্যাম্পাসে আমি ৭-৮ বছর ধরে রয়েছি। জীবনের প্রথম বর্ষে যখন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করি, তখনই আমার ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়। তখন কবি সুফিয়া কামাল হলে পাঠচক্র পদে নির্বাচন করে আমি হেরে গিয়েছিলাম, কিন্তু ওই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এরপর আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও সংগ্রাম চালিয়ে গেছি, কীভাবে ক্যাম্পাসকে আরও নিরাপদ এবং বন্ধুসুলভ করা যায়। আমি আমাদের গণরুম ও গেস্টরুমের অধিকার রক্ষা করতে সংগ্রাম করেছি। আমার বিশ্বাস, আমাদের কথা এবং মতামত সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাওয়া। এই প্যানেল তাদের ভয়েস হয়ে কথা বলার জন্য এসেছে।

  • জুলাই সনদ পর্যালোচনা করে ২৩টি রাজনৈতিক দলের মতামত জমা

    জুলাই সনদ পর্যালোচনা করে ২৩টি রাজনৈতিক দলের মতামত জমা

    জুলাই সনদ বিস্তারিত পর্যালোচনা করে ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল তাদের মতামত জাতীয় ঐক্যমত সংক্রান্ত কমিশনের কাছে জমা দিয়েছেন। এই আলোচনা মূলত সরকার ঘোষিত নতুন সনদ সংশোধনের জন্য নেওয়া হয়। গত ১৬ আগস্ট, পূর্বের খসড়াতে কিছু ত্রুটি 발견 হওয়ায় সংশোধনী প্রক্রিয়া চালনা করা হয় এবং উন্নত সংস্করণ তাৎক্ষণিকভাবে সকল রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হলো।

    তারপরে, ২০ আগস্ট বুধবার, কমিশন ঘোষণা করে যে সবাই যাতে নিজেদের মতামত তুলে ধরতে পারেন, সেই জন্য ২২ আগস্ট বিকেল তিনটা পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলো। আজ (২০ আগস্ট) পর্যন্ত, বিভিন্ন দল তাদের মতামত জমা দিয়েছে। জোটে রয়েছে বিএনপি, এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ পার্টি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন, জামায়াতে ইসলামি, জেএসডি, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, ১২ দলীয় জোট, গণফোরাম, বাসদ, জাতীয় গণফ্রন্ট, মার্কসবাদী সমাজতান্ত্রিক দল, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাসদ, লেবার পার্টি, জাকের পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।

    অন্যদিকে, সাতটি রাজনৈতিক দল এখনও তাদের মতামত দেননি। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে আর সময় বাড়ানো হবে না, ফলে সকল দলকে তাদের মতামত দ্রুত জমা দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেন নতুন সনদ কার্যকর করার জন্য সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

  • শেখ হাছিনার বিচার এই দেশের মাটিতেই হবে: মির্জা ফখরুল

    শেখ হাছিনার বিচার এই দেশের মাটিতেই হবে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজ পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে শেখ হাসিনা বর্বরোচিত হত্যা ও গুমের জন্য দায়ী। তাঁর শাস্তি তিনি অবশ্যই এই দেশের মাটিতেই পেতে হবে। তিনি বলেন, এই অপরাধের বিচারের জন্য সকল দেশের নাগরিকের মতই তার জন্যও দীর্ঘদিন অপ্রত্যাশিত অপেক্ষার অবসান ঘটবে।

    শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গুমের রহস্য উন্মোচন ও গণশুনানির জন্য গুম কমিশনকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের কান্না বন্ধে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যাপারে অবশ্যই জনতার কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

    তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের প্রতিটি নির্যাতিতা ও নিপীড়িত মানুষের পাশে আছি। আমাদের নেতারা বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় বছরখানেক কারাগারে ছিলেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ বাধ্য হন নির্বাসনে যেতে। এমনকি নেতৃত্বের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা বা হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। ফলে মনে করা ভুল হবে যে বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব অন্ধকার ঘটনা এড়ানো সম্ভব। বিএনপি চায় নির্বাচন হবে, এবং সেই মাধ্যমে এসব বিচার সমাপ্ত হবে বলে প্রত্যাশা করে।

    মির্জা ফখরুল বল_CLICKেস, আমাদের অন্যতম দাবি ছিল— গুম ও হত্যার সুবিচার। তিনি অঙ্গীকার করেন, গুম হওয়া শিশুসহ সব ভুক্তভোগীর পাশে থাকবেন এবং যতক্ষণ না ন্যায়বিচার হয়, ততক্ষণ সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, গুমের শিকার প্রত্যেকের সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করতে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তিনি আশ্বস্ত করেন, পরিবারগুলো নিরাশ হবেন না। জনগণের আন্দোলন কখনো ব্যর্থ হয়নি— এর প্রমাণ রয়েছে। তিনি বলেন, আপনাদের মধ্যে যারা পিতা, ভাই বা সন্তান হারিয়েছেন, তারা নিশ্চিত ন্যায়বিচার পাবেন। এই আন্দোলন সত্যিই মর্মস্পর্শী এবং দেশের নির্যাতিত পরিবারগুলোকে একটি আশার আলো দেখিয়েছে।

  • নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি এখনও উপযোগী নয়: তারেক রহমান

    নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি এখনও উপযোগী নয়: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধি (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন এখনও উপযুক্ত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় নির্বাচনে এই পদ্ধতি নিয়ে বহু মতবাদ এবং বিতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের একটি জটিল আর্থ-সামাজিক, ভৌগলিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পদ্ধতি নির্বাচন করার উপযোগিতা নেই। মানুষের অন্যতম অধিকার হলো নিজ ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধিকে নির্বাচন করে সংসদে পাঠানোর বিষয়টি জানা। কিন্তু প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতিতে এতে সরাসরি স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা অনেকটাই অনুপস্থিত।

    তিনি মন্তব্য করেন, আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল জন্মাষ্টমী উপলক্ষে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে জাতীয় সংসদ বা সরকারে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য জনগণের কাছে গিয়ে তাদের আস্থা, বিশ্বাস ও সমর্থন আদায় করতে হয়। পিআর পদ্ধতি এবং কিছু অন্যান্য ইস্যুতে বিরোধী মতের জন্যতা থাকলেও এই ধরণের ভিন্নমত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলছিলেন, যেসব ব্যক্তির ক্ষমতায় আসার প্রবণতা রয়েছে কিংবা এবারের নির্বাচনের পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে, তারা গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। যদি এই জটিলতা আরও বাড়ে, তাহলে স্বৈরাচার ফেরার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

    তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত রাজনীতি ও রাষ্ট্রের পথে হাঁটছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সম্ভবত ভোটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর নানা ধরনের মন্তব্য ও শর্ত দেয়া বরাবরের মতো ভোটের পরিবেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

    বিএনপির এই নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পাওয়া যায়, তাহলে জনগণ নিজেদের পছন্দের নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। এরই প্রতিরোধে কিছু স্বৈরাচারী গোষ্ঠী বিভিন্ন শর্ত আরোপের মাধ্যমে ভোটের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাজনীতি যেন রাজনীতি দিয়েই মোকাবিলা হয়, জনগণের ওপর আস্থা রাখতেই হবে। বিএনপি যদি জনগণের রায় পায়, তবে তা রুখে দেয়ার ক্ষতিকর চেষ্টা না করতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি আরো বলেন, গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিরোধ থাকলেও সেই বিরোধ কখনো পরস্পরের অপকর্ম আড়াল করার জন্য ব্যবহৃত হওয়া উচিত নয়। সব বিষয়েই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, বিশেষ করে স্বৈরাচারী শক্তি পুনর্বাসন ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়।

    অর্থাৎ, তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি সকলের জন্য সমান অধিকারের স্থান, সেখানে কে কি দেশের নাগরিক, ধর্ম বা গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাই সমান। দেশের সবাই আইন অনুযায়ী সকল হক ভোগ করবেন, এটাই বিএনপির মূল নীতি।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থিত ছিলেন দলের অন্য নেতারা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা। অতিথিরা সকলেই দেশের স্বার্থে ঐকমত্য ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

  • জামায়াতের ঘোষণা: নির্বাচন নিশ্চিত করতে এনসিওর দাবি

    জামায়াতের ঘোষণা: নির্বাচন নিশ্চিত করতে এনসিওর দাবি

    ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে কোনও সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। তিনি বলেন, আমাদের মূল দাবি হলো নির্বাচনকে সময়োপযোগী ও সুষ্ঠু করার জন্য এনসিওর করা। এই কথা সোমবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি। জামায়াতের এ নেতার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার ও ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে তারা সব বক্তব্য সবার কাছে পৌঁছানোর জন্য ইসিকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে চাইলে সন্ত্রাস এবং অনিয়ম বন্ধ করতে হবে এবং ভোটের জন্য পিআর পদ্ধতি অবলম্বন করা জরুরি। সবাই সব দাবি না রাখতে পারে, তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিবর্তে পিআর পদ্ধতিই জাতির জন্য উপকারী বলে তিনি মনে করেন। জেলেদের সমর্থনে তিনি বলেন, জনগণ যদি এ পদ্ধতিতে ভোট দেয়, তাহলে এটি দেশের জন্য কল্যাণকর। তিনি উল্লেখ করেছেন, জামায়াত মাঠে থাকবে এই দাবি নিয়ে, পাশাপাশি নিজেদের নির্বাচনী প্রস্তুতিও সম্পন্ন করবে। প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, ‘আমরা সামগ্রিকভাবে আলোচনা করেছি।’ পিআর (সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি) ছাড়া জামায়াত কি নির্বাচন করবে- এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি তিনি, তবে জানান, নির্বাচনের ব্যাপারে তারা সবসময়ই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোটের পক্ষে। তিনি বলেন, ‘সাধারণত, আমরা ফেয়ার ইলেকশনের জন্য সচেতন। এই পদ্ধতিও আমরা মনে করি দেশের জন্য খুবই উপকারী। এটি ভোটার মূল্যায়নে গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা বাড়াবে।’ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, তারা বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে। সেই মতো, তারা তিনশ আসনে প্রার্থী দিয়েছে এবং মাঠে-ময়দানে জনমত গড়ে তুলছে। এর আগে, রোববার (২০ আগস্ট) জাতীয় নির্বাচন প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে ইসির সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়।

  • জামায়াতের হুঁশিয়ারি: উভয় কক্ষে পিআরের দাবিতে আন্দোলন সম্ভব

    জামায়াতের হুঁশিয়ারি: উভয় কক্ষে পিআরের দাবিতে আন্দোলন সম্ভব

    নতুন বাংলাদেশের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ইতোমধ্যে জুলাই সনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে এবং সেটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠিয়েছে। তবে সংবিধানে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (পিআর) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর ব্যাপারে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য নেই। বিশেষ করে, দেশের অন্যতম প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (পিআর) অনুসারে সংসদের উভয় কক্ষে নির্বাচন চান। তারা মনে করে, পিআর ছাড়া নির্বাচনের ফলাফল স্বচ্ছতা ও জনগণের প্রতিনিধিত্বের জন্য ক্ষতিকর হবে। অনায়াসে এই পদ্ধতিটি চালু হলে, জনগণের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাবে এবং দুর্নীতি কমে আসবে বলে তাদের ধারণা। জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন কার্যকর হবে না। তিনি ঘোষণা দেন, তারা যথাসাধ্য এই পদ্ধতিটি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবেন। অন্যদিকে, দলের আরেক নেতা ডাঃ সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, মধ্যবর্তী সরকারের সময়ে উচ্চকক্ষের কয়েকটি প্রস্তাবে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন প্রস্তাব এসেছে, তবে তারা উচ্চ কক্ষের পাশাপাশি নিম্নকক্ষেও পিআর দেখতে চান। কারণ, শুধুমাত্র উচ্চকক্ষে পিআর থাকলে এর প্রভাব কম হবে। জামায়াতের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, জনগণের স্বার্থে গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নির্বাচন আগে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সবাই একমত হলে, জুলাই সনের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সংস্কারগুলো কার্যকর করতে হবে এবং গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়িত হবে। সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলছেন, সংখ্যানুপাতিক সংস্কার বা পরিবর্তন ছাড়া নির্বাচন যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য নয়। তিনিWarning দেন, এমন নির্বাচন হলে দেশ আগের মতো জাহিলিয়াতের দিকে ফেরত যাবে। অন্যদিকে, মুজিবুর রহমান জানান, যদি নির্বাচন আগের মতো হয় এবং সংস্কার হয় না, তবে জুলাই আন্দোলন ও ছাত্রপরিষদের রক্ত বৃথা যাবে। সে কারণেই, তিনি বলছেন, সংস্কার ও পরিবর্তনের পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উত্তম। প্রতিপক্ষের মতে, সংস্কার না থাকলে নির্বাচন হবে অনির্দিষ্ট ও অকার্যকর, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।

  • বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন: সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

    বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন: সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভবিষ্যৎ উদ্যাপন উপলক্ষে ৬ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামী ১ সেপ্টেম্বর উদযাপিত হবে। দেশের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা এই কঠোর ও উৎসবমুখর কর্মসূচিগুলোতে অংশগ্রহণ করবেন।

    বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বুধবার দলের ‘জাতীয় উদ্যাপন কমিটি’ গঠন অনুসারে এক সভা শেষে নয়াপল্টন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচিগুলোর ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে বলা হয়, ৩১ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে রমনার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। তবে মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশের সকল বিএনপি কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হবে।

    দলের নেতা-কর্মীরা সকাল ১১টায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। একই দিন সারাদেশের জেলা ও শহর ইউনিটগুলো আলোচনা সভা, র‌্যালি ও অন্যান্য কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে।

    ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে একটি বিশাল র‌্যালি, যা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বের করা হবে। ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির সকল উপজেলা ও পৌরসভা ইউনিটে সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ৪ সেপ্টেম্বর, দলের পক্ষ থেকে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, বৃক্ষরোপণ, ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবিরের মতো নানা গণকর্মসূচি পালন করা হবে। আর ৫ সেপ্টেম্বর, বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

    কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বাইরে, সহযোগী সংগঠনগুলো ও অন্যান্য ইউনিটগুলো নিজ নিজ উদ্যোগে তাদের কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে দিনটিকে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করবে। এবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার, ক্রোড়পত্র ও বিভিন্ন উৎসবমুখর সামগ্রীর আয়োজন থাকবে।

    প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯ দফা কর্মসূচি সহকারে বাংলাদেশ বিএনপি গঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল হিসেবে বেশ কিছু সময় শাসনক্ষমতাও হাতে নিয়েছে।

    প্রতিষ্ঠার ৪৭তম বর্ষপূর্তির স্মরণে, ১৮ আগস্ট বিএনপি একটি ১৬ সদস্যের ‘জাতীয় উদ্যাপন কমিটি’ গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় মহান স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে সদস্য সচিব। এই উদ্যোগের মাধ্যমে, দলটি তার সংগঠন ও অনুরূপ সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপন করবে।

  • নির্বাচনে পিআর পদ্ধতির উপযোগিতা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ: তারেক রহমান

    নির্বাচনে পিআর পদ্ধতির উপযোগিতা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ: তারেক রহমান

    দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন এখনও উপযুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পদ্ধতি হিসেবে পিআর নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলছেন, কিন্তু বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক, ভৌগলিক ও রাজনৈতিক মানদণ্ডে এই পদ্ধতিটি এখনও পুরোপুরি উপযোগী নয়। জনগণের অধিকার রয়েছে যেন তারা নিজেদের ভোটে কাকে বা কার প্রতি বিশ্বাস করে সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাঠাচ্ছেন, কিন্তু প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতিতে এ বিষয়টি জনসমর্থনের জন্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাওয়া কঠিন।

    আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এই সভার আয়োজন করা হয় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি যদি জাতীয় সংসদ বা সরকারের প্রতিনিধিত্ব করতে চান, তাহলে অবশ্যই জনগণের সাথে সরাসরি সাক্ষাত ও আস্থা-বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে তাদের রায় পান। বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে একটি হচ্ছে পিআর, তবে এই পদ্ধতিতে কিছু রাজনৈতিক মতভেদের বিষয় রয়েছে, যা গণতান্ত্রিক বিশ্বের জন্য স্বাভাবিক। এ সকল ভিন্নমত গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে যারা আসন্ন নির্বাচনের পরিস্থিতিকে ঘোলা করার অপচেষ্টায় লিপ্ত, তারা আসলে গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করছেন। পাশাপাশি যদি শর্তের পর শর্ত আরোপ করে নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করে তোলা হয়, তাহলে স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর পথ সুগম হয়।

    তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ মুক্ত রাষ্ট্র ও রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করেছে। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী নানা মন্তব্য ও শর্ত দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।

    বিএনপি নেতা আরও বলেন, যদি জনগণ সত্যিকারভাবে ভোট দানে এগিয়ে আসে, তাহলে তারা বিএনপিকে সরকারি দায়িত্ব নিতে পারবে। তবে স্বৈরাচার বিরোধীরা ভোটের মুক্ত পরিবেশ ঠেকাতে অজ্ঞান অপকৌশল চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেও দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীন দল ও অন্যান্য কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিএনপির বিজয় ঠেকানোর জন্য নানা ধরনের অপপ্রয়াস চালাচ্ছে, যা সত্যিই দুঃখজনক। দেশকে একন execution সরকারের মতো পরিচালিত করে দুর্বার জেলখানায় রূপান্তরিত করার ইতিহাস রয়েছে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, যারা মনে করেন, নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ভোট দিলে ক্ষমতায় আসবে, তারা ভুল ভাবনা ভাবছেন। এই পরিস্থিতিতে যারা বিএনপির জয় রুখতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, রাজনীতি মোকাবিলা করতে রাজনীতি, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর বিশ্বাস রাখুন। বিজয় জনগণের, তাই তাদের রায় রুখতে বাধা দেওয়া ভুল।

    গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সমঝোতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধগুলো যেন পরস্পরের অপকারে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে প্রচুর গুরুত্ব দিয়ে প্রত্যেক দল একযোগে কাজ করতে হবে।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিন্দু সম্প্রদায়ের সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের স্বপ্ন শুধু গোষ্ঠী বা দলের নয়— এটি আমাদের সবার। এই বাংলাদেশ আমাদের, আপনারা, আমি, সব নাগরিকের গর্বের জায়গা। সব মানুষ, ধর্ম, গোষ্ঠী নির্বিশেষে এই দেশের নাগরিকরা সমান অধিকার ভোগ করবেন, এটি বিএনপির মূলনীতि।

    অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্ব করেন ও দলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, সহসংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়নবিষয়ক সহসম্পাদক অপর্ণা রায় দাস, নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, দেবাশীষ রায় মধু, নিপুণ রায় চৌধুরী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সদস্য তপন চন্দ্র মজুমদার, এসএন তরুণ দে, মিল্টন বৈদ্য, পূজা উদযাপন ফ্রণ্টের জয়দেব জয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, ভাইসচেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদসহ আরও অনেকে।

  • জামায়াতের দাবি, এনসিওর করে আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে

    জামায়াতের দাবি, এনসিওর করে আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে

    ফেব্রুয়ারিতে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে এ বিষয়ে কোনো সমস্যা থাকবে না। তবে, নির্বাচন পূর্বকালীন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অংশগ্রহণের জন্য সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই মন্তব্য করেছেন।

    বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান মূসাও উপস্থিত ছিলেন।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে সবাই যাতে মতামত দিতে পারে, এ জন্য সিইসিকে অনুরোধ জানিয়েছেন জামায়াত। নির্বাচন বিঘ্নিত করতে সন্ত্রাস ও অনিয়ম রোধে ভোট পদ্ধতিতে সাধারণতঃ প্রোপোরশনাল রিটেনশন (পিআর) বা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি গ্রহণের কথা ভাবছে তারা। তিনি আরও বলেন, সবাই যদি চাই, তাহলে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই পদ্ধতিতে ভোটের ফলাফল বেশি গ্রহণযোগ্য এবং সংবেদনশীল থাকবে। ফলে, জনগণের ইচ্ছার সঠিক প্রতিফলন হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। জামায়াত এই ধরণের একটি নির্বাচনের জন্য মাঠে থাকবে, পাশাপাশি তারা প্রস্তুতি নিবে।

    এক প্রশ্নে, অন্য কোনো আসনে তারা পর্যবেক্ষণ দিচ্ছে কি-না, জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আমরা বিষয়টি আলোচনা করেছি।’

    পিআর পদ্ধতি ছাড়া জামায়াত কি নির্বাচন করবে কি না, এই প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি। তবে, তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময়ই ফেয়ার ইলেকশনের প্রতি উদার মনোভাব পোষণ করেছি। এই পদ্ধতিটিও আমরা দেশের জন্য উপকারী মনে করি এবং মনে করি এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এক উত্তম পদ্ধতি। পিআর পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে ভোটারদের সঠিক মূল্যায়ন হবে, যা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে।

    জামায়াতের এই প্রতিনিধি দল যোগ করেছেন, তারা এমন সব নির্বাচনেই অংশ নিয়েছে যা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করার মাধ্যমে তারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। বর্তমানে তারা তিনশো আসনের প্রার্থী দিয়ে মাঠে অবস্থান করছে ও সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণে সক্রিয়।

    এর আগে, রোববার নির্বাচনীয় প্রস্তুতি ও অগ্রগতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধিদলের এক বৈঠক হয়েছে।