Category: রাজনীতি

  • কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনগণকে সব ধরনের বিভাজন ও বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধে এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যা আরও দ্রুত রুখে দিতে হবে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। সেখানে তিনি বলেন, “আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় জানাতে হবে। ঘৃণা নয়—মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার মূল শক্তি।”

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুধর্মীয় ও সহনশীল সমাজের উজ্জ্বল উদাহরণ। এখানে ইসলামসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ—সবাই মিলে এই ভূমির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ ক্ষেত্রটি বহুদিন ধরেই সব ধর্মের মানুষের মিলেমিশে বসবাসের প্রতীক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    জোর দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে ধর্মের নামে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা ছিল; সেই অপচেষ্টা থেকে সবার মিলিতভাবে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা আগামীতে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে অনেক কাজ রয়েছে; সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তা সম্পন্ন করব।”

  • সংবিধান সংস্কার ও গণভোট রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার ও গণভোট রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বান ও গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট দেশব্যাপী চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার মানুষের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করে যাচ্ছেন এবং সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে নির্বাচনের আগে যে ঐকমত্য ছিল, তা ধীরে ধীরে ভাঙাচোরা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনআকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাহ্য করে একদলীয় ফ্যাসিবাদী নীতির পথে এগোচ্ছে এবং সরকারের সমালোচনায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি জানান, নব্য ফ্যাসিবাদকে যেকোনো মূল্যে রুখে দেবে ১১ দলীয় ঐক্য।

    জোটের কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। তারপর ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে—এমনটাই জানানো হয়েছে।

    এ সময় জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করে বলেন, সরকারই বিরোধীদলকে রাজপথে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপির কর্মকাণ্ড জাতিকে হতবাক ও বিস্মিত করে তুলেছে; গণভোটের রায়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই স্থগিত করে দিয়েছে এবং সংসদে মাত্র একজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে সংবিধান নিয়ে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না এবং দিল্লির বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিচ্ছেন তাদের সরকার ‘‘রাজাকার’’ হিসেবে ট্যাগ দিচ্ছে। তিনি বিএনপিকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেকা এগিয়ে আসুক এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুক।

    জোট নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে তাদের ঘোষিত দেশব্যাপী কর্মসূচি সরকারের নীতির বিরুদ্ধে জনমত তুলে ধরবে এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করবে।

  • মির্জা ফখরুল: বিভাজন ঠেকিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে হবে

    মির্জা ফখরুল: বিভাজন ঠেকিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে হবে

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমাজে বিদ্বেষ ও বিভাজন ছড়ানোর চেষ্টা রুখে দিয়ে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর দাঁড়ানো একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সবাই মিলে প্রতিহত করতে হবে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজ থেকে ঘৃণা শব্দটিকে চিরতরে বিদায় করতে হবে। ঘৃণা নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার শক্তি।’

    ফখরুল আরো বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষকে ধারণ করার এক অনন্য উদাহরণ। এখানে ইসলামসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাও এই মাটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীতকাল থেকেই এই দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে এসেছে এবং সেই ঐতিহ্য বজায় রাখতে হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, এক সময় ধর্মভিত্তিক বিভাজনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল; সেই ধরনের অপচেষ্টা থেকে সকলকে মুক্তি পেতে হবে।ান

    খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা একসম্ভাব্যভাবে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে কাজ অনেক — সেগুলো সবাইকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

  • সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়ন দাবিতে ১১ দলীয় জোট চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

    সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়ন দাবিতে ১১ দলীয় জোট চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

    সংবিধান সংশোধন পরিষদ আহ্বান ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট দেশজুড়ে চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মগবাজারে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    মামুনুল হক অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা ও উপহাস করছে এবং সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গে নির্বাচনের আগে দলগুলোর মধ্যে যে ঐকমত্য ছিল তা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে একদলীয় ফ্যাসিবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং যারা জনদুর্ভোগ তুলে ধরে সরকারের সমালোচনা করছেন তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এমন নব্য ফ্যাসিবাদকে যে কোনো মূল্যে রুখে দেবে ১১ দলীয় ঐক্য, যোগ করেন তিনি।

    আন্দোলনের সূচি সম্পর্কে মামুনুল হক জানান, আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে এক সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির সমাপনী হিসেবে ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে একটি জাতীয় সেমিনার আয়োজন করা হবে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারই বিরোধীদলকে রাজপথে নামতে বাধ্য করে তুলছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে বিএনপির কিছু কর্মকাণ্ডে দেশ হতবাক এবং বিস্মিত, গণভোটের রায়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট কার্যত স্থগিত রয়েছে, অথচ সংসদে এক একজন ব্যক্তির আচরণকে ভিত্তি করে বিএনপি সংবিধান নিয়ে সংকট তৈরি করছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলের বক্তব্য আটকে দেওয়া হচ্ছে এবং যারা দিল্লির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে তাদের ‘রাজাকার’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে। তিনি শেষ করে বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান।

  • মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা: কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন ছড়াতে চাইছে

    মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা: কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন ছড়াতে চাইছে

    বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সমাজে বিভাজন ও বিদ্বেষকে ফেরার পথ দেখতে দেওয়া যাবে না; পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। তিনি বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং তা রুখে দিতে সবাইকে মনোযোগী হতে হবে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। অনুষ্ঠানে তিনি সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে ত্যাগ করার আহ্বান জানান এবং মত দেন, ঘৃণা নয়—মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হওয়া উচিত আমাদের চলার মূল শক্তি।

    ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষকে ধারণ করার এক অনন্য উদাহরণ। এখানে ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধধর্মের অনুসারীরাও মিশে আছে এবং দীর্ঘকাল ধরে এই ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে এসেছে। অতীতেও ধর্মভিত্তিক বিভাজন প্রচেষ্টা দেখেছে দেশ; সেসব থেকে সবাইকে উঠেপড়ে পরিত্রাণ পেতে হবে বলেও তিনি জোর দিয়ে মন্তব্য করেন।

    খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আগামীতে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চান—and বলেন যে দেশের উন্নয়নের জন্য সামনে অনেক কাজ রয়েছে, সেগুলো সফল করতে সবাইকে একভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

  • গণভোট ইস্যুতে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য

    গণভোট ইস্যুতে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য

    গণভোটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ ও তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে রাজধানীতে একটি ব্যাপক বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে নেতারা বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটের ফলাফলকে অস্বীকৃতি জানিয়ে সংস্কারবিরোধী অবস্থান নিচ্ছে, যা তারা ফ্যাসিবাদী শক্তির স্বরূপ বলে অভিহিত করেন। তারা হুঁশিয়ার করে বলেন, যদি সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদ সৃষ্টির চেষ্টা চালায়, তাহলে গণতন্ত্রের জন্য এর পরিণতি ভয়াবহ হবে এবং অতীতের মতো কঠিন পরিস্থিতির মাঝে পড়তে হবে বিএনপিকে।

    দুপুরের পরে থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে কর্মীরা ছোট ছোট মিছিল করে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। তাদের হাতে নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেমন ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’ ও ‘গণভোট মানতে হবে’। সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা সরকারের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং গণভোটের পক্ষে সমর্থন দেন।

    এই বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপক্ষো করে গণভোটের রায়ের বিরোধিতা করছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাঁরা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে, যদি এই রায় অবিলম্বে বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এর প্রতিবাদে অবতীর্ণ হবে সংগঠনগুলো। সম্মেলনে বক্তারা সংবিধান সংস্কারের উপর জোর দেন, যাতে জনগণের ভোটাধিকার ও মতামত নিশ্চিত হয় এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়।

  • कुछ শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    कुछ শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    সব ধরনের বিভাজন ও বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ভিত্তিতে নতুন একটি বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, যা মোকাবেলা করে এ পথে এগিয়ে যাওয়া যায় না।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, “কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমাদের উচিত, এই বিভাজন প্রতিরোধ করে একতার মূল মন্ত্রে লিপ্ত হওয়া। আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিই হওয়া উচিত আমাদের পথচলার মূল শক্তি।”

    তিনি আরও বললেন, বাংলাদেশ একটি অসাধারণ উদাহরণ যেখানে সকল ধর্মের মানুষ একত্রে বসবাস করেন। এই দেশ ইসলাম ধর্মকে সম্মান করে যেমন, তেমনি হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাও এখানে মিলেমিশে আছে। এই ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষেরা অতীতে থেকেই একসাথে বসবাস করে আসছে।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এক সময় ধর্মের ভিত্তিতে সমাজে বিভক্তির অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা থেকে সবাইকেই মুক্ত হতে হবে।

    খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা ভবিষ্যতে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে অনেক কাজ রয়েছে, সেগুলো সবাইকে নিয়ে সম্পন্ন করতে হবে।”

  • ১১ দলীয় জোটের চার দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা

    ১১ দলীয় জোটের চার দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা

    দেশব্যাপী চার দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট, সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে এক যৌথ বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা ও উপহাস করছে। সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে নির্বাচনের আগে দলগুলোর মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি হলেও এখন তা ভেঙে পড়েছে। মামুনুল হক অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনমতকে উপেক্ষা করে একদলীয় অবস্হা তৈরি করছে এবং জনগণের দুর্ভোগ নিয়ে সরকার সমালোচনা বরদাশ্তা করছে না। তিনি বললেন, কিন্তু দেশের স্বাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামে একযোগে কাজ করছেন ১১ দল। তারা প্রত্যেকে ঘোষণা করেন, গণভোটের রায় যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়িত হবে। আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ শুরু করবে। এর মধ্যে রয়েছে ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল জেলাশহরগুলোতে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় সেমিনার। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার বিরোধীপক্ষের দমন-পীড়নের মাধ্যমে রাজপথের আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করছে। বিএনপির কর্মকাণ্ডে জাতি হতবাক ও বিস্মিত। গণভোটের রায়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট স্বতঃসিদ্ধ মান্যতা পেয়ে গেছে, এরপরও সংসদে এক ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদের কথা বলার অধিকার নেই, আর দিল্লির আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলন করছে এমন ব্যক্তিদের রাজাকার ট্যাগ দিয়ে দিচ্ছে সরকার। এ সময় জামায়াতের নেতা বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের মুখ্য আরও কিছু কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।

  • জামায়াতের আমিরের হুঁশিয়ারি: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়ব না

    জামায়াতের আমিরের হুঁশিয়ারি: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়ব না

    সংসদ সদস্যরা বুঝি না বা মানুক বা না মানুক, গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেই ছাড়বো, কড়া বলে জানিয়ে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী এর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফলাফল কিছু গুঁড়িয়ে দেয়ার পিছনে হস্তক্ষেপ হয়েছে, যেখানে ৭০ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ সমর্থন দিয়েছেন। তার বিশ্বাস, তিনি ও তাঁর দল ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে থেকে জনগণের লোভ ও সাহসের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গণভোটের রায় আমরা পালন করবই, সরাবই। এই সংসদ মানুক বা না মানুক, রায়কে বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ।’ অন্যদিকে, সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত জাগপা’র ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে দেশের উন্নয়ন কারা সম্ভব, যদি দলের ভেতরেই গণতন্ত্র ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়। যারা নিজেদের দলের মধ্যে গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারে না, তাদের থেকে দেশের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের আশা করা যায় না। যারা নিজ দলের মধ্যে গলাকাটাকাটির রাজনীতি করে, তারা দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারে না। ’তিনি বলেন, ‘জনগণ ঠিকই বুঝেছে। চব্বিশে (১৯৭১ সালে) জনগণ রায় দিয়েছিল। কিন্তু আজ এর হাইজ্যাক হচ্ছে, ডাকাতি করা হচ্ছে। জনগণের অনুভূতিকে অপমান করা হচ্ছে। এর প্রমাণও পাওয়া গেছে।’ জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘সাধারণত ঘুঘু বারবার ধান খেয়ে চলে যায়, কিন্তু যখন পরিস্থিতি মন্দ হয় তখন জালে ধরা পড়ে। আপনি জনগণের ধান খান, এবার এর বিচার নিশ্চিত হবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘যদি সংসদ জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝে না বা ব্যর্থ হয়, তাহলে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রায় বাস্তবায়ন করা হবে। ‘কেয়ারটেকার’ সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিও সেই আন্দোলনের অংশ। তবে সংসদে বিষয়টি নস্যাৎ হওয়ায় এবার জনগণের আস্থা নিয়ে পথ চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ জ্বালানি সংকটে সাধারণ مردم ভোগান্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সমস্যা বাড়ছে এবং এর প্রভাব কৃষি উৎপাদনে পড়তে পারে, যা ভবিষ্যৎ খাদ্য সংকটের দিকে নিয়ে যাবে।’ শিক্ষাখাতে এই সংকটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ব্যাহত হলে ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতি হবে। তাই, শিক্ষা একটি বিকল্প ছাড়া অন্য কিছু ভাবা যাবে না।’ শেখার দায়িত্বে থাকা সংসদ সদস্যরা জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে এবং অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না বলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাগপার সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, প্রধান বক্তা ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানসহ আরও অনেকে।

  • আসিফের হুঁশিয়ারি: ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও অভ্যুত্থানের আশঙ্কা

    আসিফের হুঁশিয়ারি: ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও অভ্যুত্থানের আশঙ্কা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন এবং চেতনা রক্ষা না করা যায়, তবে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে। তিনি বলেন, জনগণের বিজয়ে ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন যখন রক্ষা করতে পারেনি, তখন ৭১ সংঘটিত হয়েছিল। এই ইতিহাস থেকে আমাদের শেখার নিয়মিতই আছে, ভবিষ্যতেও এটি ঘটতে পারে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এই সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিএনপি সরকারের গণভোটের রায় উপেক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে বক্তব্য দেয়া।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা বারবার বিএনপি নেতাদের সংবিধান বললেও, তারা প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন করছে। সংবিধানে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকারে প্রতিনিয়ত ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকাই উচিত, কিন্তু বর্তমান সরকারের পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলো বহাল রেখে নির্বাহী বিভাগকে অনেক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে, কোনও নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি বিরোধী দলের হয়, তবে তাকে অপসারণের ভয় দেখিয়ে ক্ষমতাকে খর্ব করা হচ্ছে, যা পুরোপুরি সংবিধানবিরোধী।

    অপর দিকে, ফোনে আড়ি পাতার সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনেক এজেন্সির ওপর ব্যক্তিগত ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা থাকলেও, আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতাগুলো অনেকটা হ্রাস করে আইনগতভাবে সীমাবদ্ধ করেছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার তা বাতিল করে আবারও অনেক এজেন্সির হাতে আড়ি পাতার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে।

    এনসিপি নেতারা বলছেন, অতীতে আমরা ফ্যাসিবাদ দেখেছি, আর এখন সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারী আচরণের লক্ষণ স্পষ্ট। যদি গণভোটের রায় মানা না হয়, তাহলে তাদেরকে ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে ঘোষণা করে দেয়া হবে। তারা উল্লেখ করেন, শুরু থেকে এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। বিশ্বব্যাপী সংকট মোকাবিলায় সকল শ্রেণি-পেশার সাথে বসে সমাধানে এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রস্তুত।

    তবে, দ্রুত রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত তাদের বিরোধী জোটের জন্য খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে, কারণ গণভোটের নাটকীয়তা দেখে তারা আর স্থায়ী ধৈর্য্য ধরতে পারছে না। এই পরিস্থিতি দেশের জন্য ক্ষতিকর বলেও তারা সতর্ক করেছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।