আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বাংলাদেশের ১১দলীয় রাজনৈতিক জোটের মধ্যে আসন ও প্রার্থী বণ্টনের চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরা সহযোগিতা কেন্দ্র থেকে তিনি এ তথ্য দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য দলগুলো দীর্ঘ মাস ধরে বিভিন্ন ডাকে বৈঠক করেছে, যেখানে মূলত আটটি দল অংশগ্রহণ করে। পরে তাদের মধ্যে আরও তিনটি দল যুক্ত হয়। প্রধান দলগুলো হলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। এই সমঝোতার ভিত্তিতে আরও তিনটি দল—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)—ও যুক্ত হয়। ফলে মোট ১১ দল অংশগ্রহণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। নির্বাচনের প্রাক্কালে, জামায়াত ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। একইসঙ্গে এনসিপি ৪৭টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এলডিপি ২৪টি, খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬টি, জাগপা ৩টি ও বিডিপি ২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। তবে আসন বণ্টনের বিষয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়, ফলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার গুঞ্জনও ওঠে। তবে শেষমেশ বিভিন্ন আলোচনার পর দলগুলো আসন সমঝোতা করতে রাজি হয়। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দুই-এক দিনের মধ্যেই দেওয়া হবে। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলছেন, এই আসন সমঝোতা দৃশ্যমান হলে, ভবিষ্যতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বও আরও দৃঢ় হবে। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মাঝে দলের প্রতি আস্থা রয়েছে এবং তাদের আশা, আগামী নির্বাচনে জনগণ জামায়াতকে সমর্থন করবে। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সবাই একজোট হয়ে কাজ করছে। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা ও নির্বাচন সুষ্ঠু হলে, যারা সরকারে থাকতে চায় বা অন্য দলগুলো পছন্দ করে, তাদেরকেও সঙ্গে নেওয়া হবে। বেশ কিছু সময় ধরে গণমাধ্যমের একটি পক্ষের দিকমোড় নেয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে তিনি বলেন, গণমাধ্যম যেন স্বাধীনভাবে কাজ করে। তারা যদি নিজেদের দায়িত্ব ভুলে যায় বা সরকারপন্থী হয়, তবে সেটি জনগণের জন্য ক্ষতিকর হবে। তারা মনে করেন, গণমাধ্যমের বৈচিত্র্য ও স্বাধীনতা জনগণের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। তিনি শেষ পর্যায়ে বলেছেন, জনগণ তাদের ভোটাধিকারে দখল দেওয়ার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাবে, এবং যদি এই সুযোগ আরও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে, তাহলে ভবিষ্যৎে তাদের ভোটের অধিকার হরণের অন্ধকারে ডুবতে পারে।
Category: রাজনীতি
-

তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলের সফর স্থগিত: মির্জা ফখরুল
নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলে সফর স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বাজেট আলোচনা ও দলীয় কর্মকাণ্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মহাসচিব বলেন, তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই দায়িত্বে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তারা। তারা আশা করেন, দল পরিষদের আরও সফলতা আসবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, নির্বাচনের একদিন আগে অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সফর করার পরিকল্পনা ছিল। এতে ছিলেন সাংগঠনিক কার্যক্রম, নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং শহীদদের কবর জিয়ারতের পরিকল্পনা। তবে, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধের কারণে ওই সফর এখন স্থগিত করেছে বিএনপি।
সফরের মধ্যে ছিল টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট—এমন মোট আট জেলার ইউনিটের বিভিন্ন কার্যক্রম। এই সফরে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা, সাংগঠনিক মিটিং ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার পরিকল্পনা ছিল।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের অপপ্রচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের কারণে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হয়রানি, দাঁড়ানো হয় হুলিয়ার জোটে—এসবই তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর বাতিলের কারণ। তিনি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, এই সফরে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি, নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্য ছিল। এর মধ্যে ছিল দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা like টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট।
-

জাতীয় পার্টির ৪ প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পেলেন
জাতীয় পার্টির মোট ২৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে চারজনের প্রার্থিতা শনিবার (১০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে বৈধতা পেয়েছেন। রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) এই আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১২টার দিকে শুনানি শেষ হওয়ার পর জাতীয় পার্টির একাংশের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, সারাদেশে জাতীয় পার্টির জন্য মোট ২৪৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ২৫ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। আজকের শুনানিতে ৯ জনের প্রার্থিতা শুনানি হয়, এর মধ্যে চারজনের প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে অন্য একজনের প্রার্থিতা স্থগিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশাবাদী আমাদের সব প্রার্থী বৈধ বলে বিবেচিত হবে। যারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, তাদের মধ্যে একটি ছিল যিনি তিতাস গ্যাস বিলের বকেয়া নিয়ে সমস্যার কারণে প্রার্থীতার জন্য অযোগ্য হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি বকেয়া বিল পরিশোধের পর পুনরায় আবেদন করেছেন। অন্য একজনের ক্ষেত্রে প্রার্থী ফরম জমা দেওয়ার পর তা গ্রহণ না হওয়ার কারণে পুনরায় জমা দেওয়া হয়েছে। আরেকজনের ক্ষেত্রে বৈধ নাগরিকত্বের সনদ না থাকায় প্রার্থিতা গ্রহণ হয়নি, তবে পরে সেটা জমা দেওয়া হয়েছে।
মহাসচিব উল্লেখ করেন, আপিল শুনানির মধ্যে যেখানে প্রার্থিতা স্থগিত হয়েছে, সেখানে তার কারণ হলো ওই প্রার্থী ভুলক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এই বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
-

৫ অগাস্টের আগে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা নয়: তারেক রহমান
বিএনপি নতুন নেতৃত্বে গঠিত হলে জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করার দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে দলের নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা এখনো ৫ অগাস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চাই না। তিনি উল্লেখ করেন, আমার সামনে দুটি উদাহরণ রয়েছে—একটি, ১৯৮১ সালের জানাজা; অন্যটি, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের জানাজা। এর পাশাপাশি, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের ঘটনাও আমার মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এই সব ঘটনা শুধুমাত্র আমার নয়, বরং আমাদের দলের নেতাকর্মীদের এবং সাধারণ দেশের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। আমাদের মনে রাখা উচিত, অতীতের এই সময়গুলো ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকায় এক হোটেলে সংবাদসংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান আরও বলেন, ৫ অগাস্টের মতো হিংসা, প্রতিশোধের উদ্রেক হলে যার পরিণতি কী হতে পারে তা আমরা দেখেছি। এজন্য আমি সকলের প্রতি অনুরোধ রইল—মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমাদের চেষ্টা করে মূল্যবান আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। কখনো যেন এসব মতবিভেদ বিভেদে পরিণত হয় না, কারণ বিভেদ দেশের একটি বৃহত্তর ক্ষতি করে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেকের মুখে হতাশার কথা শোনা যায়, তবে ভবিষ্যত প্রজন্মের মনে এখনও আশা রয়েছে এবং পরিকল্পনা রয়েছে। গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ফিরেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন পরিবারের সাথে। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান। এই শোকের মধ্য দিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যেই শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এরপরই প্রথম কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করতে উপস্থিত হন তিনি। ঢাকার এক সাংবাদিকের কাছে মাননীয় সম্বোধন ব্যবহারের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট পদক্ষেপ জানিয়ে বলেন, দয়া করে আমার নামের আগে ‘মাননীয়’ সম্বোধন করবেন না। তিনি বলেন, দেশে ফিরে আসার পরে আমি বিভিন্ন স্থানেই গিয়েছি, যেমন সাভার এবং অন্যান্য এলাকায়। আমি মনে করি, তরুণ সমাজ নতুন গাইডেন্স এবং আশার স্থান খুঁজছে। প্রত্যেক প্রজন্মের জন্যই সেই গাইডেন্সের প্রয়োজন। আমি বুঝতে পারছি, আমরা যারা রাজনীতিতে আছেন, আমাদের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে, কিন্তু সব কিছু পূরণ সম্ভব না। তবে যদি আমরা ১৯৭১, ১৯৯০, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোকে সামনে রেখে দেশাধীন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে আমি বিশ্বাস করি আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে একটি সঠিক দিকনায়না দিতে পারব।
-

নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বিএনপি থেকে জামায়াত-এনসিপির জোট এগিয়ে: নাহিদ ইসলাম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক জোটগুলো মধ্যে বিএনপির জোট থেকে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অনেক এগিয়ে বলে দাবি করেছেন ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।নাহিদ ইসলাম আরও জানান, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে জানিয়েছেন যে, আমাদের এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সম্পর্কে পূর্ণ আস্থা জন্মায়নি। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলে সুবিধা করতে সরকারি সিগন্যালিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন তিনি, যেখানে অনেক সুবিধাভোগীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন চলছে। এ জন্য তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।নাহিদ আরও বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির খুনের ঘটনায় বিচার না হওয়ার কারণে দেশের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই তিনি এবং তার দল মাঠে কাজ চালিয়ে যাবেন। নির্বাচনী প্রস্তুতিতে তিনি বলেন, আমি মনে করি, বিএনপির জোট থেকে জামায়াত ও এনসিপির জোট অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা নির্বাচন প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে বলে তিনি মনে করেন।
-

তাসনিম জামা ফুটবল প্রতিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকের জন্য ভোট চান। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষে তিনি এ কথা প্রকাশ করেন। ওই দিন আপিল শুনানিতে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
তাসনিম জারা বলেন, ‘আমাদের আপিল মঞ্জুর হয়েছে। আমি ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছি এবং আমার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে আমি নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। দেশ-বিদেশের মানুষ অনেক শুভকামনা, দোয়া জানিয়েছেন। রাস্তায় মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন, কষ্ট পেয়েছেন এবং আমাদের জন্য দোয়া করেছেন। তাই আমি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জনসমর্থনে আমি আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। এখন আমি ফুটবল মার্কার জন্য আবেদন করব, কারণ আমাদের পছন্দের প্রতীক এটি। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কাজটি হবে।’
উল্লেখ্য, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পার্টি ছাড়ার পর ডা. তাসনিম জারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গত ৩ জানুয়ারি ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাসনিম জারার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন। এর পর তিনি ঐ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন।
-

তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত: মির্জা ফখরুল
নির্বাচন কমিশনারের অনুরোধে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত করা হয়েছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ খবর জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এই কথা জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই বৈঠকে দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা হয়েছে। এতে দলের স্থায়ী কমিটি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন করে দায়িত্ব গ্রহণ ও অন্যান্য বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সদস্যরা। পাশাপাশি, দলটি যেন সফলভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারে, তার জন্য সবাই দোয়া করেছেন।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় তারেক রহমানের সফরের নির্ধারিত ছিল। এই সফরে সাংগঠনিক কার্যক্রম, নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়, জুলাইয়ে শহীদদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে এই সফর স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখনো বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে গণমাধ্যমে হত্যা-নিপীড়নের খবর প্রকাশ পেয়েছে। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, সভার মধ্যে ছিল টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলাগুলোর সফর। এই সফরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়, শহিদদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা ছিল।
-

বিপদের মোকাবেলা না করলে বিএনপি ব্যবস্থা নেবে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, দলের মধ্যে বিদ্রোহীরা যদি তফসিল ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করেন, তাহলে দল কঠোর ব্যবস্থা নেবে। শুক্রবার বিকেলে শেরেবাংলা নগরে দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর একটি চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে যারা সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন, দল সেটি নজরে রাখছে। আমাদের এত বড় দলের জন্য প্রচুর যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, যদি তাদের মনোনয়ন দেওয়া হতো, তাহলে আরও ভালো হতো। তারা এ জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যাহারের সময় এখনও শেষ হয়নি। আমরা তাদের অনুরোধ জানিয়েছি যে, দয়া করে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করুন। আমরা আশাবাদী, তারা এই আহ্বান মানবেন। ইতোমধ্যে অনেকেই প্রত্যাহার করার বিষয়টি জানিয়েছেন। আশা করি, সময়ের মধ্যে সবাই নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবেন, Otherwise, দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।’ শক্তিশালী মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে, বিএনপির কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, শেরে বাংলা নগরে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নিহত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবনের নানা দিকের উপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। তিনি বহুবার দলের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া তার সন্তানজনৈক জনাব তারেক রহমানকে রেখে গেছেন, যিনি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা। মানুষ তার মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে। তিনি তার পিতা শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং মা বেগম খালেদা জিয়ার দর্শন ধরে এগিয়ে যাবেন।’ তিনি যোগ করেছেন, ‘আমরা আশা করি, দেশ ও দেশের মানুষের জন্য, দেশের স্বার্থে, এই সংগ্রামের নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান।’ নির্বাচনের পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা বিবেচনায় নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন যে, গত ফেব্রুয়ারি বিএনপির অঙ্গসংগঠনের একজন নেতাকে গুলি করে হত্যা করার বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘গণতন্ত্রের পথে সব বাধা ও শত্রু থাকতেই পারে। এই হত্যাযজ্ঞ ও অপ্রতিকূলতা দেশের স্বার্থে কাজ করার পথে বাধা নয়। দেশের জন্য যারা আত্মবিশ্বাসী ও দেশপ্রেমিক, তারা এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেই।’ তিনি বলেন, ‘সরকারকে আরও কৌশলী হতে হবে। যাতে সুষ্ঠ নির্বাচন প্রায় সম্ভব হয়, তার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সবাই জানে, এই সময়ে যারা নির্বাচন চায় না, বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা বিভিন্ন চালাকিপনা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তবে আমরা বিশ্বাস করি, সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এবং পরিস্থিতি উন্নত হবে।’ নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি জানান, একটি কমিটি দ্রুতই এর প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের ফলাফল বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক বছর ধরে ছাত্র সংগঠনগুলো ঠিকঠাক কাজ করতে পারেনি। বর্তমানে সফল সংগঠনগুলো মূলত গোপনভাবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংযোগ রেখে কাজ করছে, যা আমাদের পছন্দ নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এমন কৌশল ভবিষ্যতে ফলপ্রসূ হবে না। তবে, আমরা আমাদের কার্যক্রম ও পরিকল্পনার উপর বিশ্বাস রাখি, যা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনের ফলাফল ও দেশের স্বার্থের উপর নির্ভর করবে।’ অবশেষে, তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন শেষ নয়। এটি একটি ট্রানজিশনাল, অর্থাৎ পরিবর্তনের জন্য প্রাথমিক ধাপ। যখন স্থিতিশীলতা আসবে, তখন আমরা মনে করি ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় চিন্তা-ভাবনা দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’ শেষে, বিএনপি চেয়ারপারসনের কবর জিয়ারত করতে গিয়ে, নজরুল ইসলাম খান খালেদা জিয়ার জীবন শ্রমের সাথে সম্পর্কিত নানা দিকের ওপর আলোকপাত করেন ও দেশের জন্য তাঁর অবদান স্মরণ করেন।
-

জামায়াতের প্রার্থী হামিদুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা
কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্রকে অবশেষে বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে মনোনয়নপত্র বাতিলের পর, বিরোধীরা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে, এর শুনানি শেষে কমিশন অনুমোদন দেয়।
অভিযোগ ও অনুযোগের মধ্যে, ব্যারিস্টার মাহমুদ আল মামুন হিমু জানান, ২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা আপিল করেছেন, যা আজ শুনানি শেষে অনুমোদন পেয়েছে। ২ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নান মামলার জটিলতা ও মামলার প্রেক্ষাপট দেখিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। তখন আযাদের আইনজীবী মো. আরিফ বলেছিলেন, মামলাটি ছিল ‘একটি আদালত অবমাননার মামলা’, যা কোনও সুনির্দিষ্ট অপরাধের ওপর ভিত্তি করে নয়। তারা বলেছিলেন, কোনো কথা না শুনে রিটার্নিং কর্মকর্তা একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আযাদ তার হলফনামায় ৭০টি মামলার তথ্য দিয়েছে, যার অধিকাংশই প্রত্যাহার বা খালাস পেয়েছে। তবে একটি মামলার সাম্প্রতিক আপিল বিভাগে বিচার চলছে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে তিনি গোরাদণ্ড ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, অবমাননাকর বক্তব্য ও ‘গৃহযুদ্ধের হুমকি’ দেয়ার অভিযোগে মামলার শিকার হন।
এনওকার্রর মতে, মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া শুনানি চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে হবে ২১০টি আপিলের রায়ের অনুলিপি।
-

দলমত নির্বিশেষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জামায়াতের আমিরের আহ্বান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের ও জাতির স্বার্থে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আসন্ন গণভোটে তিনি সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। তিনি বলছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও আলোকজ্জ্বল বাংলাদেশ নিশ্চিত করা। শনিবার (১০ জানুয়ারি) জামায়াতের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজ আমরা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছি। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়া হয়, অর্থাৎ জনগণই নিয়ন্ত্রক। এ ভোটের মাধ্যমে আমরা অন্যায়, স্বৈরাচার ও জুলুমের বিপরীতে লড়াই করে ন্যায়, ইনসাফ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাই।’
তিনি আরও বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়ানো, জুলাই সনদকে সমর্থন করা, ন্যায়বিচার ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র গড়ার জন্য এগিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ নিশ্চিত করার প্রতিজ্ঞা।
জামায়াতের এই আমির সকল রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ভোটদান করার। তিনি বলেন, ‘একটি মাত্র ভোটও হতে পারে সত্য ও ন্যায়ের বিজয়ের মূল হাতিয়ার।’ সব মিলিয়ে, তিনি বলছেন, দেশের স্বার্থে সকলে একত্রে এসে এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার জন্য।
