বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন করলে দেশের মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করার আশা প্রকাশ করেছেন দলের নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আমাদের সমস্যাগুলো এখনো বিদ্যমান এবং থাকছে। তিনি বলেন, আমি কোনোভাবেই ৫ অগাস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। আমার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে তিনটি শোকের আলাদা আলাদা দৃশ্যপট—১৯৮১ সালের জানাজা, যেখানে আমার এক পাশে ছিল তার হারানো প্রিয়জনের বিদায়; ২০২৫ সালের জানাজা, যেখানে আমি আবার একটি বড় শোকের মাঝে; আর অন্যান্যটি হলো ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের ঘটে যাওয়া ঘটনার স্মৃতি। এই তিনটি ঘটনা একযোগে স্থির করে দেয়, আমাদের জন্য এখনো ফিরে যাওয়ার বা অতীতের সঙ্গে ফিরে যাবার কোনো কারণ নেই। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকায় একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি বলেন, হিংসা, প্রতিশোধ ও শত্রুতা—একজন ব্যক্তি, দল বা দেশের জন্য ক্ষতিকর। ৫ অগাস্টের ঘটনার পরিণতি দেখে আমরা অনুধাবন করেছি এর ভয়াবহতা। তাঁর আরও বলেন, সকলের মধ্যে মতবৈচিত্র্য থাকা স্বাভাবিক; কিন্তু সেটি যেন বিভেদে না পরিণত হয়, সেটি আমাদের সচেতন থাকতে হবে। বিভিন্ন মতের মধ্যকার পার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব, তবে তা যেন বিভক্তি বা সংঘাতের রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যে অনেক হতাশা থাকলেও ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো বর্তমান। যুক্তরাজ্য থেকে দেড় যুগের নির্বাসন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী-সন্তানসহ দেশে ফিরে আসেন তিনি। কিছুদিনের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিএনপির সর্বোচ্চ নেতা খালেদা জিয়া মারা যান। এরপর ১০ দিন পার না হতেই শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এর পরদিন, অর্থাৎ রবিবার, তিনি প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এক সাংবাদিকের কাছে তিনি বলিউডের মাননীয় উপাধি ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করলেন, তিনি জানান, আমি চাই না আমার নামের আগে ‘মাননীয়’ বলতে। তিনি বলেন, দেশে ফিরে আসার পর আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থান ভ্রমণ করেছি, যেমন সাভার ও অন্যান্য এলাকায়। তিনি বলেন, মনে হয়েছে, নতুন প্রজন্মের জন্য একটি আশা, একটি গাইডেন্স দরকার। তার মতে, প্রত্যেক প্রজন্মই কিছু একটা পথচলার নির্দেশনা চায়। রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেক প্রত্যাশা থাকে, তবে সব প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়। তবে, যদি আমরা ১৯৭১ সাল, ১৯৯০ সাল ও ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের ঘটনাগুলোকে সামনে রেখে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে আমি নিশ্চিত যে, আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে পারব ও আমাদের দেশের উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হব।
Category: রাজনীতি
-

তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত: মির্জা ফখরুল
নির্বাচন কমিশনারের অনুরোধে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর এখন স্থগিত হয়েছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য জানান বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গতকাল দলের স্থায়ী কমিটির সভা হয়। সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে দেখা হয় ও দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এটি স্বীকৃতি পাওয়ায় সবাই সন্তুষ্ট। এছাড়া, দলের নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী দিনগুলোতে দলকে সফল করতে নানা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং সকলের জন্য صحة ও শান্তির জন্য দোয়া করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত করা হয়েছে। এই সফর originally ছিলো ১১ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত, যেখানে তিনি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাত, মার্চের আন্দোলনের শহীদদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এই জেলাগুলোর মধ্যে ছিলো টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট।
মির্জা ফখরুল বলেছেন, বিএনপি মনে করছে যে, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার মিশনে কিছু চক্রান্ত চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই চক্রান্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যার ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকেও হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডগুলোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে, দ্রুত খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এদিকে, বিএনপি মনে করছে, কিছু পক্ষ আসন্ন নির্বাচনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে এবং নানা প্রকার হুমকি-ধামকি দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে চাইছে। সবমিলিয়ে, দলের পক্ষ থেকে সূচীত কর্মসূচিগুলো প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
-

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে মীর আরশাদুল বিএনপিতে যোগ দিলেন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেন মীর আরশাদুল হক। তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এরপর, উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি তার দলীয় সদস্য হিসেবে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। এ সময় অন্যান্য উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির কনটেন্ট ক্রিয়েটর ড. সাইমুম পারভেজ ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপ্রাপ্ত ছিলেন। তবে, জামায়াতে ইসলামী সঙ্গে এনসিপির আলোচনা চলাকালে, ২৫ ডিসেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।
-

নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত চীন
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে বার্ষিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এক ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আলোচনায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দু’দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হুমায়উন কবির।
তিনি বলেন, চীন এই সময়ে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। এর পাশাপাশি, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করা এবং চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নে কীভাবে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া যায়, সেই বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে হুমায়উন কবির সাংবাদিকদের জানান, আগামী দিনে দেশের উন্নয়নে চীন ও বাংলাদেশ কীভাবে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারে, সেই বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তারা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। এছাড়াও, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের জনগণের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিএনপির নেতা তারেক রহমানের ভুমিকা কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তারেক রহমানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, এবং বিএনপি’s ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। এই আলোচনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
-

অবিশ্বাস্য পক্ষপাতদুষ্ট ডিসি-এসপির অভিযোগ জামায়াতের বিরুদ্ধে
জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের অভিযোগ করেছেন যে, অনেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) নির্বাচনী পরিস্থিতিতে পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তারা একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে এসব ডিসি-এসপিকে সরিয়ে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সৈয়দ তাহের এ সব কথা বলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বিভিন্ন মামলার সিদ্ধান্তে দেশজুড়েও দ্বৈতভাব দেখা গেছে। আর তাই তারা বলছেন যে, কিছু ডিসি ও এসপি পক্ষপাতদুষ্টভাবে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছে। এসব কর্মকর্তাদের বদলি করে দেয়ার জন্য তিনি ইসিকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন চলাকালীন একজন কর্মকর্তাকে অনেক বেশি প্রোটেকশন দেওয়া হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, কারণ ক্ষমতায় থাকা দলীয় কার্ড, দেড় কাপড়ের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে, যা আচরণবিধির লঙ্ঘন।
সৈয়দ তাহের বলেন, দলীয় ডিসি নিয়োগ দেওয়ার কারণে সরকারি সিদ্ধান্তগুলোও দলীয় স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের মধ্যে লেভেল প্লেইং ফিল্ডের অভাব দেখা দিচ্ছে। কিছু ব্যক্তিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, আবার কারও ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। এতে নির্বাচন অবাধ ও স্বচ্ছ থাকার বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সিসিটিভি ব্যবহার নিয়ে ইসি ইতিমধ্যে আলোচনা করছে। এর মাধ্যমে নির্বাচন নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। অন্যথায়, যদি নির্বাচন জুয়া খেলা হয়, তাহলে দেশের স্বনাম বহু ক্ষুণ্ন হবে। ক্ষমতাসীন দলের আচরণে ব্যতিক্রম দেখা দিলে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, তারা কমিশনকে বলেছে, মাঠে প্রমাণ দিয়ে দেখাতে হবে। বিশেষ কোন তালিকা তারা দেননি, বরং পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবেন।
ভারতের সঙ্গে জামায়াতের নেতার বৈঠক সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনে বিদেশি প্রভাব থাকার চেষ্টা হচ্ছে। তবে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে জামায়াতের আমিরের সরাসরি বৈঠক হয়নি। যখন তিনি অসুস্থ ছিলেন, তখন তারা দেখা করতে চেয়েছিল, যা গোপন রাখা হয়।
দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে তিনি বলেন, কোথাও কোথাও তা গ্রহণ করা হয়েছে, আবার কোথাও বাতিলও। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল আউয়ালের মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদও দ্বৈত নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তবে, তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এটি দেশের নির্বাচনী পরিস্থিতির সত্যতা ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
-

সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিএনপি: সালাউদ্দিন
বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে সংগঠনগতভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রার্থীদের বোঝানোর জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে তিনি এই কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এর বহুপ্রার্থী থাকলেও অনেকের প্রত্যাশা থাকে যে, তারা মনোনীত হবেন। তবে দলের স্বার্থে অনেক সময় তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। ফলে, কিছু প্রার্থী মনোমতো না পেয়ে হতাশ হন। তিনি বলেন, আমাদের সংগঠনে তাদের মনের কথা শুনি; কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দিই এবং শান্ত রাখার চেষ্টা করি। আশাকরি খুব শিগগির এই বিষয়গুলো সমাধান হবে। এছাড়াও, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলে সফরে যাওয়ার সময় কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা এবং তাদের কবর জিয়ারত করা জাতির জন্য প্রত্যাশিত। গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আমরা সম্মান করি এবং এই চেতনাকে আরও উজ্জ্বল করতে চাই। এই জন্যই সেখানে যাচ্ছেন তিনি। কোনো নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন নেই। সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সকলকে অনুরোধ করব, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান ও আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে, শহীদদের আত্মত্যাগকে মহিমান্বিত করব। তারেক রহমান যদি গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কবর জিয়ারত করে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন, তাহলে এটি অভ্যুত্থানের প্রতি সম্মান ও জাতির প্রত্যাশাকে নির্দেশ করে। তিনি মন্তব্য করেন, এই ধরনের শহীদদের প্রতি সম্মান দেখানো আমাদের সংগঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা জাতির জন্য উৎসাহের বার্তা।
-

দেশবিরোধী ফ্যাসিস্ট চক্র নতুন করে হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছে: হেফাজত
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেছেন, দেশবিরোধী ফ্যাসিস্ট চক্র আবারও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হকের পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পতিত এবং দেশবিরোধী এই অবৈধ চক্র পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকের ওপর হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে। জুলাইযোদ্ধা হাদি ও মুসাব্বিরকে হত্যা করে এই জঙ্গি চক্র রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছে।
তিনি মনে করেন, এসব হামলার মূল লক্ষ্য হল দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা, বিদেশে দেশের সুনাম ধ্বংস করা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অসহায় করে তোলা। এই ঘটনাগুলোর পেছনে কারা ইন্ধন দিচ্ছে, কারা লাভবান হচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। নারী নির্যাতন ও বিভিন্ন সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে হবে।
হেফাজতের মহাসচিব আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের অগ্রসৈনিক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারী এখনও ধরা পড়েনি। দিনে দিনে গুলি করে হত্যাকারী কিভাবে পালিয়ে যায়, সেটি রহস্যজনক। তারা জুলাই বিপ্লবীদের অপ্রিয় করে তুলতে চাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে গড়ে তোলা বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামোকে ভেঙে দেওয়ার জন্য ফ্যাসিস্ট ও আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি আরো জানান, নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, দেশের অভ্যন্তরেও একটি দুষ্টচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা ব্যাহত করতে চায়। এই জন্য তারা সন্ত্রাস ও সহিংসতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
হেফাজত মহাসচিব প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব খুনের রহস্য উদঘাটনে নজরদারি বাড়ানো জরুরি। দ্রুত সময়ে বিচার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
-

পাতানো নির্বাচন হলে দেশের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাহেরের সতর্কতা
সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি অতীতে처럼 কোনো পাতানো নির্বাচন হয়, এর ফল খুবই ঘোরrə হবে। শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কয়েকজন কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার আলোচনায় নির্বাচনের বিভিন্ন দিক নিয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে আলোচনা হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা অংশ নেন। তাঁরা জানান, দেশের আগের সমস্ত রাজনৈতিক সংকটের পেছনে ছিল নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ না হওয়ার কারণ। তিনি জানান, ভবিষ্যতে যদি চোখে দেখা হয় কোনো পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমেই যদি ক্ষমতা নেওয়া হয়, তাহলে দেশ আরও গভীর সংকটে পড়ে যাবে। পাশপাশি, তাহের বলেন, কয়েকদিন ধরে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা মূলত সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিপূর্ণ আচরণের ফল। যদি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে সাধারণ জনগণ ফুঁসে উঠবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। আলোচনা চলাকালীন, জামায়াতের নেতারা ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সরকারের ও রাজনৈতিক দলগুলোর করণীয় বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করেছেন। সার্বিকভাবে, এ আলোচনা থেকে বোঝা যায়, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে দেশের অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে, এমন আভাস দিয়েছেন দলের নেতারা।
-

জামায়াতের অভিযোগ: ডিসি-এসপি পক্ষপাতের অভিযোগ তুললেন নায়েবে আমির
জামায়াতে ইসলামীনের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের অভিযোগ করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপার (এসপি) পক্ষপাতদুষ্টভাবে নির্বাচনকাজে যুক্ত হচ্ছেন। তিনি বলেছেন, তারা একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছেন এবং এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি তাদের পক্ষপাতদুষ্ট ডিসি-এসপিদের সরিয়ে দেয়ার জন্য।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তাহের এ সব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন মামলায় পার্থক্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় এই অফিসাররা দলীয় স্বার্থে কাজ করছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় কিছু কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তারা বলছেন, এই বিষয়গুলো তারা নীতিগতভাবে দেখবেন।
তাহের অভিযোগ করেন, একটি দলের পক্ষ থেকে কৃষি কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি চলমান রয়েছে, যা আচরণবিধির ব্যতিক্রম। তিনি অভিযোগ করেন যে, দলীয় ডিসি নিয়োগ দিয়ে এই অংশটি আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় সমতা ও ন্যায্যতা নেই বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার নিয়ে সরকার ইতিমধ্যে মত দিয়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে স্বচ্ছ করতে সহায়তা করবে। তবে, যদি নির্বাচন জালিয়াতির মাধ্যমে হয়, তাহলে দেশের অস্তিত্ব সংকট দেখা দিতে পারে। তিনি সতর্ক করে দেন, এমন অবস্থায় দেশের স্বার্থে সবাইকে দৃঢ় থাকতে হবে।
তাহের বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে মাঠে প্রমাণ করতে হবে তাদের নির্ধারিত অযোগ্যতা বা পক্ষপাতের বিষয়গুলো। তিনি কোনো নির্দিষ্ট তালিকা দেননি, বরং পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।
দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, আবার কোথাও ভুলভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়ালের মনোনয়ন আমলে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তার দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, তাঁর নিজের দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে বলে জানান।
উল্লেখ্য, এই বক্তব্য ও অভিযোগের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া ও কর্মকর্তা পর্যায়ে পক্ষপাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
-

সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে: সালাউদ্দিন
বিএনপির স্তম্ভিত বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে সংগঠনগতভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে দল। শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) সকাল বেলা রাজধানীর গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এই ঘোষণা দেন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, দলের মধ্যে অনেক প্রার্থী এমন পরিস্থিতিতে আছেন, যেখানে তারা মনোনয়নের জন্য প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু হয়তো স্বাভাবিক কারণেই তাদের মনোনয়ন হয়নি। এর ফলে কিছু প্রার্থী অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন। দলের পক্ষ থেকে তাদের বোঝানোর জন্য নিয়মিত আলোচনা চলছে। তিনি আশা করেন, এই সমস্যাগুলোর সমাধান শিগগিরই হয়ে যাবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিতর্কের মধ্যেও সম্ভাব্য সব প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে। বৃহত্তর দলের স্বার্থে কিছু যোগ্য প্রার্থী চোখে পড়ে থাকতে পারেন, যা দল স্বাভাবিকভাবেই বিবেচনা করছে।
তিনি আরও জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলে সফরকালে কোনও ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়নি। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারত করার বিষয়টি জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের মর্যাদা আমরা অক্ষুণ্ণ রাখছি এবং আমাদের এই চেতনাকে আরও জোরদার করতে হবে। তারেক রহমান যদি শহীদদের কবর জিয়ারত করেন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, এটি গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত করবে এবং এটি জাতির প্রত্যাশাও।
সালাউদ্দিন আহমেদ সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান বা শহীদদের ত্যাগের ইতিহাসকে যেন ভুলে না যায়। তাদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে তুলতে দেশের সর্বস্তরে উৎসাহ ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের এই কার্যক্রম অভ্যুত্থানকে সমর্থন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে জাতির আশা-আকাঙ্খা আরও প্রশংসিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
