বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সকল সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি জামায়াতের প্রতি সংহতি প্রকাশের নাম করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন। এর ফলে সংহতি প্রকাশকারীদের প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমান সকলের কাছে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করেছেন, যদি তারা সত্যিই জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ভালবাসা রাখেন, তাহলে এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় ও বিভ্রান্তিকর আলাপচারিতা থেকে বিরত থাকুন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই এ ব্যাপারে সচেতন ও দায়িত্বশীল হয়ে অবদান রাখবেন।
Category: রাজনীতি
-

৪ দিনের শুনানিতে প্রার্থীতা পুনরুদ্ধার করলেন জাপার ২৬ জন প্রার্থী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে تنظیم বলে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (জাপা) ২৬ জন প্রার্থী চার দিনের আপিল শুনানির মাধ্যমে তাদের মনোনয়ন আবারো পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে এই আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি জানিয়েছেন, ওই দিন মোট পাঁচটি আপিল আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। এর ফলে ওই চার দিনে মোট ২৬ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থীত্ব ফিরে পান। তিনি আরও বলেন, এখনো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আসন্ন নির্বাচনে বেশ নাজুক। মব মিছিল, ঘেরাওসহ নানা অশান্তি দৃশ্যমান, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। নাম-বেনামে বিভিন্ন অযাচিত সংগঠন দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, যা সরকারের গণতান্ত্রিক কার্যক্রমকেও বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এভাবেই যদি চলতে থাকে, তাহলে ফ্যাসিবাদ আরও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করতে পারে।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলছেন, জাতীয় পার্টির অচিরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—তারা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না। এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ দলীয় সিদ্ধান্ত, বাইরে থেকে কেউ এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দিতে পারে না।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানিয়েছিলেন, দলটি মোট ২৫টি আপিল করেছে, এর মধ্যে ২১টি আপিল স্বীকৃত হয়েছে এবং প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করেছেন। বাকি চারজন উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের জন্য রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। নির্বাচন কমিশন এসব আপিলের শুনানি ৫ জানুয়ারি শুরু করে এবং ৯ জানুয়ারি শেষ করে। এর আগে, ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করেন, যেখানে জাপা ২৪৪ জনের মনোনয়ন দাখিল করেছিল। এর মধ্যে প্রায় ৩০ জন অবৈধ হিসেবে বাছাইয়ে 꼴 হয়েছে, যার জন্য তারা আপিল করেন ২৫ জন। নির্বাচনের তফসিল অনুসারে, ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি চলবে, আর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবেন ও প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। এরপর, ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট।
-

নির্বাচনের истин অবস্থা বোঝা যাবে প্রচারণা শুরুর পর: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখনো পর্যন্ত নির্বাচন পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো মনে হচ্ছে। তবে আসল চিত্র তখনই বোঝা যাবে যখন প্রচারণা শুরু হবে। এর আগে পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত ধারণা পাওয়া কঠিন। তিনি বলেন, সবাই এখন নিজেদের সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছেন, মনোনয়নের কাজ সম্পন্ন করছেন। তবে নির্বাচনের প্রকৃত অবস্থা ও পরিস্থিতি বুঝতে হলে প্রচারণা শুরু হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে।
-

জামায়াতের নির্বাচন ও প্রতিবেশী সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আগামীকাল মঙ্গলবার দলটির নির্বাচনী আসনের সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আগামীকাল বা পরশু দিন এর চূড়ান্ত বিষয়ে জানানো হবে। সব দল একসঙ্গে গণমাধ্যমের সামনে আসবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াতের কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শফিকুর রহমান জানান, ইইউ প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সব দলের জন্য সমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ কী-না, তা জানতে চাওয়া হয়। জামায়াত অভিযোগ থাকলেও এখনই তা প্রকাশ করবে না বলে জানানো হয়েছে, বরং আগে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এর সব বিষয় তুলে ধরা হবে। কোনো সমাধান না হলে, জনগণের কাছে জানানো হবে।
জামায়াতের আমির আরও বলেছেন, যদি সরকার গঠন হয়, তাহলে প্রতিবেশীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে—তা তারা নিশ্চিত করে দিয়েছে। তাঁরা আশা করেন, জামায়াতের সঙ্গে অন্যান্য দেশের শান্তিপূর্ণ ও সভ্য রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক বজায় থাকবে। বিশেষ করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান, যেখানে পারস্পরিক সম্মান আর সমতার ভিত্তিতে আচরণ হবে। তারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও সার্বজনীন বন্ধুত্ব বজায় রাখতে চান, কোনো একটি রাষ্ট্রের প্রতি ঝুঁকে না থেকে।
নারী নিরাপত্তা নিয়েও জামায়াতের গুরুত্ব রয়েছে। শফিকুর রহমান জানান, তারা বিশ্বাস করেন, মা-বোনেরা এবার জামায়াতকে ভোট দেবেন। তাঁদের মধ্যে ইতোমধ্যে এই বার্তা পৌঁছে গেছে। তবে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়া, হিজাব খুলে নেওয়া কিংবা তাড়ানোর মতো ঘটনাও ঘটে গেছে। তিনি বলেন, সব শ্রেণি-পেশার, বয়সের ও লিঙ্গের মানুষকে সম্মান দেওয়া রাজনৈতিক দায়িত্ব, কারও অপমান বা অপপ্রচার তার জন্য জায়গা নেই।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, তারা আশাবাদী, আগামী নির্বাচনে জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। জামায়াত এক সুস্থ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের ভোটে পরিবর্তন আসবে, এই প্রত্যাশা রাখছেন তারা। পাশাপাশি বলেন, নির্বাচন চলে গেলে কোনো পক্ষ বা দল হস্তক্ষেপ করতে পারবে না, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে, তবে ট্রাইব্যুনালগুলোও জবাবদিহি ও দায়শীল থাকবে।
গত ৫৪ বছর রাজনীতি দেখে জনগণ অনেক হতাশ। তাদের মতে, নতুন কিছু দেখতে চায় এখন। এজন্য বিভিন্ন কমিশন দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক চালিয়ে গেছে। দায়িত্বশীল ও সংস্কারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সকল দলের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে। দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপ, ন্যায়বিচার ও নানা পরিবর্তন সাধনে সবাই এগিয়ে আসুক।
জামায়াত জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়নে তাদের পাশে থাকুক। তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে, কারণ মনে করে, দেশ সাধারণ জনগণের পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে। তাঁদের বিশ্বাস, দেশের স্বার্থে সবাই যাতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’= ভোট দেন, সেটাই জরুরি।
শফিকুর রহমান সতর্ক করে বলেন, ‘এবারের নির্বাচন হাতছাড়া হলে জাতিকে তার জন্য মূল্য দিতে হবে।’ তিনি বলেন, দেশের সবার জন্য গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে জামায়াত একেবারেই আশাবাদী। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত মিডনাইট ইলেকশনে অংশ নেয়নি তারা। এবার এ ধরনের পরিবেশ তৈরি হলে তা ছেড়ে দিতে লজ্জাজনক হবে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনের জন্য সকলের সচেতন হওয়া প্রয়োজন, যাতে কেউ যেনো নির্বাচন বিকৃত বা বিলম্বিত করতে না পারে।
প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারি দলে অনেকেই আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে কাজ করছেন। তবে তারা বলছেন, সেসব পরিবর্তন হবে, অন্যথায় তাদের বদলাতে বাধ্য করা হবে।
গণমাধ্যমের এক পক্ষের পক্ষে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা চাই, জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ দলের প্রধান হিসেবে তারা বলছেন, গণমাধ্যম যেন নিরপেক্ষ হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের রোল একেবারে নিরপেক্ষ হওয়া দরকার। আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী, সব গণমাধ্যমের উচিত সত্যনিষ্ঠ ও অকপট প্রকাশ করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে কিছু গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, জনগণ যথেষ্ট সচেতন। সাংবাদিকরা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে, তাদের মূল্যায়ন করবে। গণমাধ্যমকে পরিষ্কারভাবে সত্যের পক্ষে থাকতে হবে, সাদাকে সাদাক্রান্তেম বলে জেনে নেওয়া উচিত।
ইইউ এবার বাংলাদেশে কোনো প্রতিনিধিদল পাঠাবে কি না, এমন প্রশ্নে শফিকুর রহমান জানায়, তারা ২০০ প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে, যাতে তারা সব জেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করবে।
উল্লেখ্য, এর আগে বিভিন্ন আলোচনায় জামায়াতের সাথে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, শিক্ষাবিদ যুবায়ের আহমেদ, জামায়াতের পররাষ্ট্রউপদেষ্টা মাহমুদুল হাসানসহ অন্যান্য সদস্য।
-

জোটের আসন সমঝোতা দু-একদিনের মধ্যে: জামায়াত আমির
আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ১১ দলে গঠিত নির্বাচনী জোটের আসন সমঝোতা সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরা খন্দকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান প্রতিনিধি ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবসের সঙ্গে এক সভার শেষে তিনি এ কথা জানান।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য দলগুলো বেশ কিছু মাস ধরে দফায় দফায় বৈঠক করে আসছে। এই বৈঠকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতো কয়েকটি বড় দল রয়েছে, যেখানে তারা আসন সমঝোতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য দলের মধ্যে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, আওয়ামী মুসলিম লীগ এর মতো আরও কিছু দল। এই সব দলগুলো একত্রিত হয়ে মোট ১১টি দলে পরিণত হয়েছে।
আলোচনার চলাকালীন সময়ই জামায়াত ইতিমধ্যে ২৭৬টি আসনে মনোনয়ন দিয়েছে, একইভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি আসনের জন্য প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে, এনসিপি ৪৭টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এলডিপি ২৪টি, খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬টি, জাগপা ৩টি এবং বিডিপি ২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা করেছে। দলের এই বিভাজনের কারণে কিছু সমালোচনা হলেও, দলগুলো সবার মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতৈক্য স্থাপনের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত দু-এক দিনের মধ্যে আসন সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হবে বলে আশা করছে জামায়াত।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান আরও জানিয়েছেন, ওই আসন সমঝোতার ভিত্তিতে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সবার সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা হবে।” তিনি আরও যুক্ত করেন যে, দেশের জন্য জনগণের আস্থা অত্যন্ত জরুরি, এবং দেশের মা-বোনেরা আগামী নির্বাচনেও জামায়াতের পক্ষেই ভোট দেবেন বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস রাখছেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনগণের প্রতি আমাদের শতভাগ আস্থা রয়েছে। আমরা চাই, এই নির্বাচনে কোনও ধরনের অসঙ্গতি ঘটুক না। যদি জনগণ অন্য কোনও দলকেই পছন্দ করে, তবে আমরা তাদের পাশে থাকব। দুর্নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দেশের সংস্কার সবার আগে। আমি মনে করি, যদি এই নির্বাচন ফলপ্রসূ না হয়, তবে ভবিষ্যতেও জনগণ their ভোটাধিকার ফিরে পাবেন কিনা, এ বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।”
অন্তর্বর্তী সময়ে গণমাধ্যমের এক পক্ষপাতি প্রবণতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বলেন, “গণমাধ্যম বিভিন্ন সময় এক দলের পক্ষে偏ে গেছে। আমরা চাই, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করুক। তারা যদি নিজের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হবে। প্রশাসন বা গণমাধ্যম যেভাবে দায়িত্ব পালন করছে, সেটি জনগণ সবই মনে রাখবে। জনগণকে ভাবার কোনও কারণ নেই।”
-

বিএনপি প্রার্থী আন্দালিভ পার্থের কাছে আসন ছাড়ল বিএনপি
ভোলা-১ (ভোলা সদর) আসনের জন্য বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। সোমবার বিকেলে তিনি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এই আবেদন জানান, যা গ্রহণ করা হয়। এই আসনে বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের সিদ্ধান্তে প্রার্থী না থাকায় বিএনপি নিজের প্রার্থী যুক্ত করতে চায়নি। বিএনপির সূত্রের খবর, দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে গোলাম নবীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দেশ আসার পর তিনি তা মেনে নেন। তিনি জানান, আজ বিকেলে তাঁর আইনজীবী আমিরুল ইসলামের মাধ্যমে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শামীম রহমানের কাছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, শেষ সময় ছিল ২০ জানুয়ারি, কিন্তু আজ সোমবার তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এবারের নির্বাচনে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপির এই সিদ্ধান্তে ভোলা জেলা ও দলের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, আন্দালিভ রহমান পার্থ ঢাকা-১৭ আসনে (গুলশান, বনানী, বারিধারা, ক্যান্টনমেন্ট) নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিএনপি নেতারা তাঁকে উৎসাহিত করে বলেছিলেন, তারেক রহমানের আসনেও উন্নয়ন ও নির্বাচনী ক্ষমতা রয়েছে। বিষয়টি বোঝার পর তিনি ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন। বিএনপি এই আসনে প্রার্থী না রাখার ঘোষণা দেয়। প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের খবর পেয়ে বিজেপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ব্যাপক উৎফুল্ল হয়ে উঠেছেন। তারা নতুন উদ্দীপনায় মাঠে নামার প্রস্তুতিও শুরু করেছেন। ধনিয়া ইউনিয়নের বিজেপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. এরশাদ আলী বললেন, ‘আন্দালিভ পার্থ জোটের প্রার্থী নিশ্চিত হওয়ায় আমরা সংগঠিতভাবে কাজ শুরু করেছি। আমাদের ভোটের ধরণ ও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।’ গোলাম নবীর মনোনয়ন প্রত্যাহার হওয়ায় জেলা বিএনপির কার্যালয় বেশ শান্তত্ব দেখা যায়। অপরদিকে, ভোলার নতুনবাজারে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং জোটের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষায় কাজ করছেন। এই পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় রাজনৈতি এজেন্সিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
-

জামায়াতের আমিরের সতর্কবার্তা: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেকানিজম হলে পালাতে হবে বাধ্য হয়ে
আগামী নির্বাচনে কেউ যদি কোনো ধরনের ‘মেকানিজম’ বা কারসাজি করার চিন্তা করে, তাহলে তারা পালাতে বাধ্য হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির এক ভাষণে বলেন, নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে কলুষিত করার চিন্তা যারা করবে, তাদের আড়ালে থাকতে হবে না; বরং তাদের জন্য পরিণতি কঠিন হবে এবং তারা পালাতে বাধ্য হবে ইনশাআল্লাহ।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা ওই পুরনো তিন বা চারটি নির্বাচনের মতো নির্বাচন আর দেখতে চাই না। যে নির্বাচন আসুক না কেন, আসলে তা যেন অন্তর থেকে গ্রহণযোগ্য হয়, এর জন্য সবাই সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, নয়টি বা অন্য কোন ধরনের শুঁড়ি থেকে মুক্ত, এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে প্রতিটি ভোটার স্বাচ্ছন্দ্য ও বিশ্বাসের সঙ্গে ভোট দিতে পারবে। যদি সেই পরিবেশ তৈরি হয়, তবে নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আন্তরিকতা এই ব্যাপারে কম, যার ফলে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না। জামায়াতের আমির বলেন, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য অবকাঠামো উন্নত করতে হবে, এর মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরার সুবিধাও গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতা উদ্বেগের কারণ বলে মনে করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এবং এর বাইরে আরও লাখ লাখ টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে। দুর্নীতি ও চুরি বন্ধ হলে দেশের অর্থনীতি আবার ঘূroffব বেগে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো উচিত—যদিও এ পরিকল্পনায় সরকারের অঙ্গীকার বা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
বক্তব্যের শেষের দিকে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের দায়িত্ব রয়েছেন। জনগণ যেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, অন্যথায় দায়িত্ব এড়ানো হবে না।
এছাড়াও, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মপ্রয়াস ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক তথ্য উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতা ঘোষণার মূল বার্তা ছিল গণতান্ত্রিক শক্তির। স্বাধীনতার মানসপটে বিকৃতির চেষ্টাকারীদের তিনি কড়া ভাষায় ভাষ্য দিয়ে বলেন, এই ইতিহাস অমোচনীয়, এবং যারা এ জন্য চেষ্টা করেন, তারা জাতির সাথে বিশ্বাসघাতার করছেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ অক্ষুণ্ণ রাখতে ও জাতির সম্মান বজায় রাখতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কর্নেল (অব.) মো. জাকারিয়া হোসেন। স্বাগত বক্তব্যে দেন জামায়াতের ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী আবদুল বাতেন। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ অন্যরা। এছাড়াও, অনুষ্ঠানে ছিলেন কয়েক শ’ ব্যক্তির উপস্থি।
-

তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে ভোট চান নির্বাচনে
তাসনিম জারা ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে এক আপিল শুনানির পর তিনি এ ঘোষণা দেন। এদিন তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
তাসনিম জারা বলেন, “আমাদের আপিল মঞ্জুর হয়েছে। আমি ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছি এবং আমার প্রার্থীতা বৈধ। গত এক সপ্তাহে আমি বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি। দেশের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও অনেক শুভেচ্ছা এবং দোয়া পেয়েছি। রাস্তায় মানুষদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছি, তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন ও আমাদের জন্য দোয়া করেছেন। আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরো বলেন, “জনসমর্থনে আমি আসন্ন নির্বাচনে লড়াই করে যাব। এখন আমি মার্কার জন্য আবেদন করব, সেটি ফুটবল প্রতীক। এরপর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের পথ চলা।”
উল্লেখ্য, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করে তিনি এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গঠনতন্ত্রে মনোনয়ন বাতিলের পর, তিনি গত ৩ জানুয়ারি ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন বাতিলের বিষয়টি শুনেছেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করে থাকেন।
-

নির্বাচনের অবস্থা বোঝা যাবে প্রচারণার পর, মির্জা ফখরুলের প্রতিশ্রুতি
বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখনই নির্বাচনের পরিবেশ ভালো মনে হচ্ছে। তবে আসল পরিস্থিতি বোঝা যাবে তখন, যখন প্রার্থিতা প্রচার শুরু হবে। এ পর্যন্ত কেউ পুরোপুরি পরিস্থিতি বুঝতে পারছে না, কারণ প্রচারণা শুরুর আগে সব কিছুই ধাপে ধাপে আঁচ করা সম্ভব নয়। এখন সবাই নিজের সংগঠনের প্রস্তুতিতে মনোযোগী, মনোনয়ন প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচনের প্রকৃত চিত্র প্রচার শুরু হওয়ার পরই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
প্রচার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমি বহু আগে থেকে ক্রিকেট খেলি, ক্রিকেট বোর্ডের সদস্যও ছিলাম। এখন আমি আর ক্রিকেট খেলি না, কারণ আমার এখন মূল কাজ রাজনীতি। আন্তর্জাতিক রাজনীতির যোগসূত্র রয়েছে ক্রিকেটের সঙ্গে। আমাদের দেশের মানসম্মান রক্ষা করতে হয়, যখন আমাদের এক ক্রিকেটারকে অপমানিত করা হয়, তখন এটি দেশের জন্য অপমানের বিষয় মনে হয়। আমরা মনে করি, ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের সাথে আমরা একমত, তবে স্বল্প ছোট ঘটনাগুলোর সমাধান নিজস্ব মধ্যস্থতায় করাই উত্তম।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা খুব উদ্বিগ্ন। এটি সরকারের ব্যর্থতা, কারণ তারা এখনো অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি তবে আমি আশাবাদী, নির্বাচন চলাকালীন পরিস্থিতি উন্নত হবে এবং স্বাভাবিক থাকবে।
আওয়ামী লীগসহ বড় দুটি দলের ভোট জোগাড়ের চেষ্টা সম্পর্কে তিনি জিজ্ঞাসা করলে বলেন, কোন দুটি দল বোঝাচ্ছেন তা পরিষ্কার নয়। আমাদের হতেই পারে বড় দল বলতে আওয়ামী লীগ বা অন্য কিছু। তবে বিএনপি যেহেতু দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করে আসছে, জননেতার কাজে লিপ্ত, দেশের যে উন্নতি হয়েছে সবই বিএনপির অবদান। দেশাচার্য থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র, প্রেসিডেন্সি থেকে পার্লামেন্টary ব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, বিচারব্যবস্থার স্বাধীকার—সবই বিএনপির দর্শন ও সংগ্রামের ফল। বিএনপি এর আগেও এককভাবে সরকার পরিচালনা করেছে এবং দরকারে আরও ভালো কাজ করতে সক্ষম।
তরুণ নেতার উত্তরাঞ্চল সফর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, তারা অবশ্যই উত্তরাঞ্চলে আসবেন। সেখানে তার পিতৃভূমি বগুড়া, দিনাজপুর, এবং নানীর বাসস্থানের সম্পর্ক রয়েছে। রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ ও অন্যান্য শহীদদের কবর জিয়ারত করবেন।
গণভোট প্রসঙ্গে বলেন, এটি বিএনপির দায়িত্ব নয়, দায়িত্ব জনগণের। ভোটে তারা যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই চূড়ান্ত। যারা সবসময় ফ্যাসিস্টদের ভয় দেখায়, নিজেরা মাঠে কিছু করে না, বিদেশি শক্তির পক্ষ থেকে বড় বড় কথা বলে—তাদের জন্য এগুলো গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের লক্ষ্য, ফ্যাসিস্টদের তাড়ানো ও প্রতিরোধ করা।
তিস্তা নদীর ইস্যুতে মির্জা ফখরুল জানান, তাদের অঙ্গীকার আছে, তিস্তা, পদ্মা ও অন্যান্য অবিচ্ছিন্ন নদীর পানির হিস্যা আদায়ের জন্য ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসবে। পারস্পারিক সম্মান ও মিউচুয়াল সুবিধার ভিত্তিতে সকল দাবি পূরণে সচেষ্ট থাকবেন। সঠিক কূটনৈতিক আচরণের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন তিনি।
-

নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বিএনপি থেকে জামায়াত-এনসিপির জোট অনেক এগিয়ে: নাহিদ ইসলাম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে বিএনপির জোটের চেয়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোট উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ দলের সঙ্গে এক বৈঠকের পরে এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে জানানো হয়েছে, আমাদের নির্বাচনী পরিবেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যাপারে এখনও আমাদের পুরোপুরি আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বিশেষ একটি দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নিয়ে সিগন্যালিং করা হচ্ছে, এবং অনেক ঋণখেলাপি ব্যক্তিদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি অমান্য করার ক্ষেত্রে নানা ধরনের অপরাধ হচ্ছে, যা নিয়ে নির্বাচন কমিশন কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়া, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির খুনের বিচার না হওয়ায় দেশে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়েই আমাদের মাঠে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আমি মনে করি, বিএনপির জোটের তুলনায় জামায়াত ও এনসিপির জোট এখন অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।’ তিনি সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
