মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জামালপুরের বকশীগঞ্জে বগারচর ইউনিয়নের এক শহীদ স্মরণে ATV নেতাকর্মীরা বিশেষ আয়োজন করেছেন। তারা সংগঠনের নিষিদ্ধ ঘোষিত অবস্থানের মধ্যেই ভাষা শহীদদের জন্য দোয়া ও মাতৃভাষার মর্যাদার প্রতীক হিসেবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে এই পতাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটে। এই অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে নেতাকর্মীরা মোনাজাত পরিচালনা করেন। পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ কাদির সাজু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল করিম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী, তাঁতী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়ামত উল্লাহ সহ কিছু নেতাকর্মী। মনে রাখা প্রয়োজন, এই নেতাকর্মীরা এতদিন সংগঠনের নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষে নানা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তবে পতাকা উত্তোলনের পরই সংগঠনের নেতাকর্মীরা দ্রুত মুহূর্তে সেখানে থেকে সটকে পড়েন। এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার ফলস্বরূপ বগসারচর ইউনিয়নে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বকশিগঞ্জের গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক শাহরিয়ার আহমেদ সুমন। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ ভোরে বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পতাকা উত্তোলন ও নানা স্লোগান দেন। এই ঘটনা চিরকাল স্বীকার করতে হবে যে, এখনো কিছু দুর্নীতিপূর্ণ রাজনীতিবিদ ও নেতারা বিচার থেকে অব্যাহতি পেয়ে চলেছেন। পুলিশ অনেক বছর ধরে তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যক্রম নিচ্ছে না। তিনি আগামীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধী দোসরদের গ্রেফতার করার দাবি জানান, না হলে ছাত্রজনতা তা সম্পূর্ণভাবে উপযুক্ত জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। স্থানীয়সহ বিভিন্ন মহলে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, কিন্তু ওই সময় কথা বলা নেতাকর্মীরা পালিয়ে যান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Category: রাজনীতি
-

আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলায় সরকারের অনুমতি নেই: মির্জা ফখরুল
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে দলের কার্যালয় খোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা নিয়ে নানা আলোচনা উঠে এসেছে। এ ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সরকারের অনুমতি ছাড়া এই কার্যালয় খোলার বিষয়টি তাদের অনুমোদন নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারী বিভাগ দেখবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য দেন। এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো দলীয় কার্যালয় ঘুরে দেখলেন মির্জা ফখরুল। এ সময় তিনি দলের প্রিয় নেতা ও সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করেন এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সারাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার অনুমতি সরকার দেয়নি। কারণ, আইনগতভাবে তাদের কার্যক্রম এই সময়ে সাময়িক নিষিদ্ধ। তাই আমরা সেটি চাইনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তার নেতৃত্বে দেশের মানুষ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দল ও সরকার একসঙ্গে কাজ করে সফলতা অর্জন করবে।
সাংবাদিকদের কাছে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারে তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূমিকা অমর হয়ে থাকবে বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু প্রথাগত নিয়ম রয়েছে— সেগুলো শেষ হলে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। দলের নারীদের মনোনয়নও দেওয়া হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মুনির হোসেন, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ আরও কিছু নেতা।
-

হৃদরোগে আক্রান্ত সেলিমা রহমান, হাসপাতালে ভর্তি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেলিমা রহমানের পরিবার এবং বিএনপির পক্ষ থেকে দেশবাসীর জন্য তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করা হয়। সেলিমা রহমান ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বিএনপি সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সেলিমা রহমান, যার মধ্যে বেশ কয়েকবার কারাবরণও রয়েছে।
-

সারজিস আলম পেলেন নতুন দায়িত্ব
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে একটি নতুন কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং বর্তমান সদস্যসচিব সারজিস আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দ্রুতই কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে এনসিপির দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও সংগঠন শক্তিশালী করতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে এই ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ তৈরি করা হয়েছে।
কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ এর সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। এছাড়াও, সদস্য হিসেবে থাকবেন আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ এবং অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। সব বিভাগের সংগঠনিক সম্পাদকরা এক্স-অফিসিও হিসেবে কমিটিতে থাকবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবেন।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এই কমিটির কার্যক্রমে সবসময় সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করবেন।
সারজিস আলম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি—সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রার্থীদের জন্য। যারা প্রার্থী হতে চান, আপনারাও প্রস্তুত হয়ে যান। আমরা সবাই আপনাদের খুঁজে বের করব।’
আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের জন্য এই দ্রুত কৌশলগত কার্যক্রম এবং প্রার্থী সন্ধানী উদ্যোগগুলো দলের প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
-

আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এনসিপির প্রস্তুতি: এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা, জোটের দরজা খোলা রাখছে দল
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কয়েকটি নগর ও সদর উপজেলা নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে দলটির নেতাদের ইঙ্গিত, প্রয়োজন পড়লে দেশের স্বার্থে এবং জোটের অংশ হিসেবে শেষ মুহূর্তে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি ট্রাইবাল ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানান, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয়ভাবে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। ঈদ পরে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ও যাচাই-বাছাই চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত দলটি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করছে। তবে দলের উচ্চ পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, দেশের বৃহৎ স্বার্থে ১১ দলের জোট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে একত্রিত হলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা আশাকরি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যেক এলাকায় প্রার্থী ঘোষণা করব। এখনো সিদ্ধান্ত হলো যে, আমরা এককভাবে এই নির্বাচনে অংশ নিব। তবে শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে, সবকিছু স্বার্থে নির্ভর করে। আমাদের প্রত্যাশা, সাংগঠনিকভাবে কোনো সমস্যা হবে না।’
দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আইন অনুযায়ী দলীয় মার্কা বা মনোনয়ন থাকছে না, সব প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে লড়বেন। তবে দলের সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা আমাদের মাধ্যমে যোগাযোগ করবেন। এসব নির্ধারণ করবে আমাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।’
সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায় ও স্থানীয় নেতাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। বিভিন্ন পেশার স্বেচ্ছাসেবী ও আগ্রহী ব্যক্তিদেরও যোগাযোগের জন্য বলা হয়।
সারজিস আলম উল্লেখ করেন, মাসগুলো আগেই নির্বাচন প্রস্তুতি নেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগে থেকে কর্মসূচি শুরু করেছে এনসিপি।
অতিরিক্ত, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের ব্যাপারে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপনে মেয়াদ উল্লেখ না থাকায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তিনি দাবি করেন, ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষে গেছে এবং নির্বাচন আয়োজনের সময় যাওয়ার উপযুক্ত সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। সেই জন্য তাঁরা দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ঘোষণা করার দাবি জানান।
পাশাপাশি, সম্প্রতি পুলিশের অভিযান ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলটি নিন্দা জানিয়েছে। দলের নেতারা বলেন, যৌক্তিক কারণে আন্দোলন ও মতপ্রকাশের অধিকার সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়, এটি যদি হ্রাস পায় বা দমন করা হয়, তাহলে তা সত্যিকারের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি ডেকে আনবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও যোগ দেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব, দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক, এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ ও মঞ্জিলা ঝুমা।
-

‘জয়বাংলা’ স্লোগানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অফিসে পতাকা উত্তোলন
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জামালপুরের বকশীগঞ্জের বকশিগঞ্জ ইউনিয়নের বগারচর এলাকায় এক হৃদয়স্পর্শী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তারা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনে শাহাদতবরণকারী মহান শহীদদের স্মরণ করেন এবং ওই দিনটির গৌরবময় ইতিহাসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এই অনুষ্ঠানে বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন।
অভিনন্দন এই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে দলের নেতাকর্মীরা ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন। তবে এই প্রাণবন্ত মুহূর্তের সময় একদল চেয়ারম্যানের গোপনীয়তা রক্ষা করতে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পতাকা উত্তোলন ও মোনাজাতের এই আয়োজনের পরে, স্থানীয় জনগণের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ কাদির সাজু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল করিম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী, তাঁতী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়ামত উল্লাহসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তবে পতাকা উত্তোলনের পর নেতাকর্মীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিষয়টি। বকশিগঞ্জের গণঅধিকার পরিষদের শাখার আহ্বায়ক শাহরিয়ার আহমেদ সুমন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ ভোরে বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পতাকা উত্তোলন ও বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য আওয়ামী রাজনীতি ও নেতাদের বিচার হওয়া জরুরি। গত এক বছরে বেশিরভাগ দোষী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছেন পুলিশ। তিনি যোগ করেছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই অপরাধীদের গ্রেফতার করা না হলে, ছাত্রজনতা জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বকশিগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন বলেন, ঘটনা শুনে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গেছে, কিন্তু নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার পর শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
-

দীর্ঘদিন কঠোর শাসনের মাঝে একুশ ছিল অবরুদ্ধ: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা ফ্যাসিস্ট শাসনের ফলে একুশের চেতনা ছিল অবরুদ্ধ। তবে এবার পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে, এবং একুশের এই দিনটি আমরা নতুনভাবে অনুভব করছি। শুক্রবার রাতের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান রয়েছেন। এই পরিবর্তনের ফলে আমাদের প্রত্যাশার পরিমাণ অগণিত বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা এখন চাই, দেশের মানুষের প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়ে সত্যিকার অর্থে একটি ইনসাফপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমবেত সমাজ প্রতিষ্ঠিত হোক।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, একুশের মূল চেতনাই ছিল একটি বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ ও আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। ভবিষ্যতে এই চেতনা থেকেই এগিয়ে যেতে চান তারা। তিনি বলেন, নতুন এই একুশের অনুপ্রেরণায় আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করতে সক্ষম হবো। মাতৃভাষা ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করার যাত্রায় আমরা এগিয়ে যাবো। আমাদের লক্ষ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে তোলা।
-

হৃদরোগে আক্রান্ত সেলিমা রহমান, হাসপাতালে ভর্তি
রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। এ খবর রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে জানানো হয়। ওই পোস্টে জানানো হয়, সেলিমা রহমানের পরিবারের সদস্য들과 বিএনপির পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করা হচ্ছে। সেলিমা রহমান ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বিএনপি সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ভাইস- চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন তার নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে; তিনি বিভিন্ন অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বেশ কয়েকবার কারাবরণও তাকে করতে হয়েছে।
-

সরকারের অনুমতি নেই আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলায়: মির্জা ফখরুল
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলেও তাদের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় খুলে থাকেন। এই বিষয়টি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে বলেছেন, সরকারের অনুমতি ছাড়া আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এটি বিএনপি মহাসচিবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই প্রথম তিনি দলীয় কার্যালয়ে যান।
সাক্ষাৎকালে তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই কার্যালয়েই তিনি তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছিলেন। তিনি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করে বলেন, এখন সারাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি নেই। কারণ, আইনি প্রক্রিয়ায় তারা এই কার্যক্রমের জন্য সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা পেয়ে থাকেন। তিনি আশাকরেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
অন্তর্বিরোধে দেশের মানুষের সমর্থন অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের জনগণ এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বিএনপি ও সরকার তার নেতৃত্বে একসঙ্গে কাজ করে সমন্বিতভাবে সফল হবেন।
গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য সাংবাদিকদের ভূমিকা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে তিনি জানান, কিছু প্রথাগত প্রক্রিয়া রয়েছে, সেগুলো শেষ হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও, বিএনপি নারীদের মনোনয়ন দেবে বলে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
পূর্বলিখিত তথ্যের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মুনির হোসেন ও মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ।
-

সারজিস আলমের নতুন দায়িত্ব: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে नई কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, নেতা সারজিস আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দ্রুত কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা প্রদান করেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে এনসিপির দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি গঠনের তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশনায় এই ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। এছাড়া আরও দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ এবং অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। সব বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা ওই কমিটির এক্স-অফিসিও সদস্যের দায়িত্বে থাকবেন।
বিজ्ञপ্তিতে আরও জানানো হয় যেন কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এই কমিটিকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে সারজিস আলম বলেন, ‘শহরাঞ্চল, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ডে প্রার্থীরা প্রস্তুতি নিন। আমরা আপনার খোঁজে আসছি।’ এই বার্তার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে, মানুষের নির্বাচনী আগ্রহের জন্য দল দ্রুত কাজ শুরু করছে।
কমিটির দ্রুত কার্যক্রম এবং প্রার্থী সঙ্কলনের এ উদ্যোগ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের প্রস্তুতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে দলের একটি সূত্র জানিয়েছেন।
