Category: রাজনীতি

  • শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির অভিযোগ: গোলাম পরওয়ার

    শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির অভিযোগ: গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনে নজিরবিহীনভাবে ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল ও প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব অনিয়মের ফলে বিএনপি এমন কৌশল অবলম্বন করেছে যে আওয়ামী লীগও হার মানিয়েছে।

    শুক্রবার (৪ এপ্রিল) জুমা নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে এবং ফলাফল বাতিল করার দাবিতে ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামি সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার গণভোট প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল তারা গণভোট জয়যুক্ত হলে তা অক্ষরে অক্ষরে মানবে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা সেই গণভোটের আদেশই বাতিলের চেষ্টা করছে—এ ধরনের দ্বিচারিতা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহীদদের রক্তের আত্মার সঙ্গে বেঈমানি বলে তিনি আখ্যা দেন।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নেতাকর্মীদের ওপর হঠাৎ করে আক্রমণের ছবি মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করে জনগণের সঙ্গে তামাশা করেছে। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ফেরত না দিলে গণআন্দোলন তার শেষ বিকল্প হবে বলে ইঙ্গিত দেন।

    জামায়াত নেতাগণ বিএনপিকে সতর্ক করে বলেন, জনগণের বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না; বরং ক্ষমতায় থাকতে চাইলে বিএনপিকেই চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে হবে বলে তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

    সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ড. আব্দুল মান্নানসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

    অন্য উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মুহাম্মদ শামছুর রহমান, কামরুল আহসান হাসান, আবদুস সাত্তার সুমন এবং আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ।

    জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকার্রমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পরে পল্টন মোড় ও বিজয়নগর গোলচত্বর পর্যন্ত সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচনের ফল বাতিল ও ন্যায়বিচার দাবি জানানো হয়।

  • শেরপুর ও বগুড়ায় নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ: গোলাম পরওয়ার

    শেরপুর ও বগুড়ায় নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ: গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, শেরপুর ও বগুড়া উপনির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল ও প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, এসব অনিয়মের মাধ্যমে বিএনপিই আওয়ামী লীগকে হার যুগিয়েছে।

    শুক্রবার (৪ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে, যেখানে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচনের অনিয়মের প্রতিবাদ করে ফলাফল বাতিলের দাবি জানানো হয়।

    গণভোট সংক্রান্ত জটিলতার কথাও উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল গণভোটের ফল তাদের কাছে বাধ্যতামূলক হবে, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সে আদেশ বাতিল করে তারা দ্বিচারিতার পথ নেয়েছেন। তিনি বললেন, ‘‘বিএনপির এই দ্বিচারিতা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহীদদের রক্তের সঙ্গেও চরম বেঈমানি।’’

    নির্বাচনে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলার ফুটেজ মিডিয়ায় প্রকাশের পরও সিইসি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করে জাতির সঙ্গে তামাশা করছেন—এমন মন্তব্যও করেন তিনি। তিনি বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় থাকার কোনো টেকসই উপায় নেই; ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে বিএনপিকেই চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে হবে।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ড. আব্দুল মান্নানসহ অন্যান্য নেতারা। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মুহাম্মদ শামছুর রহমান, কামরুল আহসান হাসান, আবদুস সাত্তার সুমন, আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ।

    জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে, পরে সেটি পল্টন মোড়—বিজয়নগর গোলচত্বর হয়ে শেষ হয়। মিছিল থেকে বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

  • কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে: মির্জা ফখরুল

    কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সমাজে বিদ্বেষ ও বিভাজন সৃষ্টি করতে কিছু শক্তি পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে; এগুলো ঠেকাতে সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে। তিনি পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে সামনে রেখে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সানডে উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সমাজ থেকে ঘৃণার শব্দটিকে চিরতরে বিদায় করতে হবে। ঘৃণা নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার শক্তি।’’

    ফখরুল আরও দেখান, বাংলাদেশ হল একটি বহুজাতিক—বহুধর্মীয় সমাজের উজ্জ্বল উদাহরণ। এখানে ইসলাম ছাড়াও হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধসহ সব ধর্মের মানুষ মিশে রেখেই দেশ গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘‘খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধারার অনুসারীরাও এ মাটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীত থেকেই এই ভূমিতে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে।’’

    তিনি সতর্ক করে জানান, অতীতে ধর্মভিত্তিক বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল; সেই ধাঁচের অপচেষ্টা যাতে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্রিত করে এগোতে হবে বলে তার মন্তব্য।

    খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা আগামীতে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। সামনে আমাদের অনেক কাজ রয়েছে—সেগুলো সম্পন্ন করতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে।’’

    আলোচনায় তিনি সামাজিক ঐক্য ও শান্তির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, মাত্র বক্তব্য নয়, বাস্তব কর্মের মাধ্যমেই সচেতনতা ও সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

  • বিএনপি সরকার দেশে ‘নতুন ফ্যাসিবাদ’ গড়ে তুলছে: জামায়াত আমির

    বিএনপি সরকার দেশে ‘নতুন ফ্যাসিবাদ’ গড়ে তুলছে: জামায়াত আমির

    জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কী এবং-কি ভাবে দলীয় করে উপঢৌকন দিচ্ছে, যা বাস্তবে নতুন ফ্যাসিবাদ ও নীরব বাকশাল গঠনের প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, পুরনো স্বৈরাচারী শাসনের নিদর্শন আজও জীবন্ত আছে এবং এই নতুন রূপের শাসন প্রবলভাবে রুখে দেওয়া হবে।

    বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতের জাতীয় সংসদ অধিবেশনের পর সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। এর আগে বিরোধী দল গুম প্রতিরোধ, বিচার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত কিছু বিতর্কিত বিলের বিরুদ্ধে সংসদ থেকে সাময়িক ওয়াকআউট করে।

    তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘আজকের অধিবেশনে এমন কিছু বিল উত্থাপন করা হয়েছে যা সরাসরি জনগণের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করতে চাইলে সংসদে আমাদের বক্তব্য জানার সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে। বিরোধী সদস্যদের জন্য মাত্র দুই থেকে ছয় মিনিট সময় বরাদ্দ থাকে, অথচ মন্ত্রীরা সময়সীমা ছাড়াই ঘণ্টা-ঘণ্টা বক্তব্য দেন। স্পিকারের এই ভারসাম্যহীন আচরণ সংসদীয় রীতির পরিপন্থী ও বিরোধী কণ্ঠরোধের প্রমাণ।’’

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নষ্ট করার বাহ্যিক চেষ্টা হিসেবে তিনি অভিযোগ তুলেন যে সরকার এমন আইন পাস করছে যার ফলে বিচারক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যত নির্বাহী শাখার নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যে নিরপেক্ষ নীতিমালা ছিল, সেটি বাতিল করে তারা পুরনো দলীয় নিয়োগবিধিতে ফিরে গেছে। এর ফলেই অতীতে যেভাবে দলীয় বিচারপতি উঠে এসেছে, ভবিষ্যতেও একই অনুশীলনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।’’

    স্থানীয় সরকারের বিল নিয়ে তিনি বিশেষ সতর্কতাও জাহির করেন। জেলা পরিষদ, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হচ্ছে—এভাবে স্থানীয় স্তরগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের কথাও তুলে তিনি বলেন, আইনগত বা বিশেষ কারণে ছাড়া প্রশাসক সুইচ করা যাবে না; তবু সরকারি যুক্তি ছাড়া বিভিন্ন স্তরে প্রশাসক বসিয়ে স্থানীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।

    দেশে চলমান কয়েকটি উপ-নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘১৯৯৪ সালের মাগুরার কলঙ্কিত নির্বাচনের স্টাইল আজ বগুড়া ও শেরপুরে পুনরায় দেখা গেছে। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়—এটি আবারও প্রমাণিত হলো। শেরপুর-৩ আসনে আমাদের কর্মী হত্যা হয়েছে, আরেকজনকে হত্যা করা হয়েছে—এই খুনিদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবি আমরা করছি।’’

    তবে তিনি আশ্বস্ত করে জানান, তারা সংসদ বর্জন করেনি; তারা সংসদে থাকবেন এবং জনগণের অধিকারের পক্ষে কথা বলবেন। কিন্তু যদি জনস্বার্থবিরোধী আইন পাস করা হয়, তখন বিরোধী কণ্ঠ আবারো জোরালোভাবে উঠবে। ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘জনগণ পূর্বেও ফ্যাসিবাদ রুখে দিয়েছে, ভবিষ্যতেও কেউ যদি নতুন করে ফ্যাসিবাদ বা বাকশাল কায়েম করতে চায়, আমরা—ইনশাআল্লাহ—জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেটাও রুখে দেব।’’

    সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামী ও বিরোধী জোটের শীর্ষস্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • অভ্যুত্থানের আশঙ্কা: আসিফের সতর্কতা ২৬-২৭ সালে আবারও ঘটতে পারে সংঘর্ষ

    অভ্যুত্থানের আশঙ্কা: আসিফের সতর্কতা ২৬-২৭ সালে আবারও ঘটতে পারে সংঘর্ষ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান সরকার যদি ২০২৪ সালে অর্জিত গণতান্ত্রিক চেতনা ও সংগ্রামের মূল্য রক্ষা করতে না পারে, তাহলে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ধরনের অভ্যুত্থান ও অরাজকতা ঘটে যেতে পারে। তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন রোববার (৫ এপ্রিল) দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে।

    আসিফ মাহমুদ উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার প্রায়ই বলে যে আগামী ১৫-২০ বছরেও দেশে কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না। কিন্তু ইতিহাস বলছে অন্য কথা। ৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রকট অর্জন যদি সংরক্ষিত না হয়, তখনই ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতো বৃহৎ পরিবর্তন ঘটে। তাই, যদি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের স্বপ্ন ও চেতনা রক্ষার বিফলতা হয়, তবে পরের বছরগুলোতে আবারও অশান্তি ও বিপর্যয় আসতে পারে।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটের রায় অস্বীকার, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অধ্যাদেশ বাতিল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর আড়ালে ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, প্রশাসনিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে, যেখানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে নির্বাহী বিভাগের নেতারা ক্ষমতা রাখছেন। এই প্রক্রিয়া বিরোধী দলের ভোটারের জন্য ভয়ভীতি সৃষ্টি করছে, যা সম্পূর্ণ সংবিধানের বিরোধী।

    তিনি আরও উদ্বেগ ব্যক্ত করেন, ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা বেড়েছে। আওয়ামী শাসনামলে ১৮-১৯টি সংস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ফোনের উপর নজরদারি চলে, যা আইনী বাধ্যবাধকতা ছাড়াই হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই ক্ষমতা কিছুটা কমে আসলেও বর্তমান সরকার আবারও এই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে, যেখানে ১৮-১৯টি এজেন্সির হাতে আবারও নজরদারির ক্ষমতা চলে এসেছে।

    এনসিপির নেতা বলেন, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ফ্যাসিবাদী রূপ নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে। যদি সরকার গণভোটের রায় মানতে না চায়, তাহলে তাদের অবৈধ সরকার ঘোষণা করতে তারা দেরি করবে না। তারা বলেন, বর্তমান সরকারের অর্জন ভূলুণ্ঠিত হতে পারে, আমরা তাদের অবৈধ বলার ক্ষেত্রেও সংযুক্ত আছি।

    সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, আসিফ মাহমুদ বলছেন, তবে আমরা শুরু থেকেই এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তাদের সদিচ্ছার অভাবের কারণে তা সম্ভব হয়নি। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় তারা সকল অংশীজনের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও গণভোটের নাটকীয়তা দেখে এখন আর অন্য কোনও পথ খোলা নেই, তাই রাস্তায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হচ্ছি। এর ফলে দেশ ও মূল্যবোধের ক্ষতি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ বেশ কয়েকজন নেতা।

  • সমাজে বিভাজন রুখতে সকলের unity জরুরি: মির্জা ফখরুল

    সমাজে বিভাজন রুখতে সকলের unity জরুরি: মির্জা ফখরুল

    সব ধরনের বিভাজন এবং বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে 새로운 বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে কিছু শক্তি চেষ্টার করে যাচ্ছে, যা আমাদের সকলে প্রতিহত করতে হবে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, ‘কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমাদের সমাজ থেকে ঘৃণা শব্দটিকে পুরোপুরি বিতাড়িত করতে হবে। এর পরিবর্তে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সৌহার্দ্য এবং সহনশীলতা আমাদের পথচলার মূল শক্তি হওয়া উচিত।’

    তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এক অনন্য উদাহরণ যেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একে অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। এই দেশটি যেখানে ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি সনাতন, খ্রিষ্টান ও পাহাড়ি ধর্মের অনুসারীরাও সমানভাবে বিদ্যমান। এই ভূখণ্ডের দীর্ঘ ইতিহাসে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ সর্বদা Maintaining এসেছে।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এক সময় ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা থেকে সবাইকে মুক্ত থাকতে হবে।

    তিনি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা আগামীতে একটি সমৃদ্ধ ও সব্যসাচী সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে অনেক কাজ রয়েছে, যা সবাই মিলে সম্পন্ন করতে হবে।’

  • বিএনপি সরকার নতুন ফ্যাসিবাদ পথে: জামায়াত আমিরের সতর্কতা

    বিএনপি সরকার নতুন ফ্যাসিবাদ পথে: জামায়াত আমিরের সতর্কতা

    জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার দেশের প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করছে, যা প্রকৃত অর্থে আবারও একটি ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। তিনি মনে করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড মানে ‘অলিখিত বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার সাথে সমান সমান। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের পতনের আড়াই দশক পেরিয়ে গেলেও তাদের দমনমূলক নীতিগুলো এখনো বহাল রয়েছে। তারা আবার নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা চালাচ্ছে, जिसे ঠেকাতে আমাদের আপসহীন প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের এই নেতা।

    বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে সংসদীয় অধিবেশন শেষে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে, গুম প্রতিরোধ, বিচার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত বিতর্কিত বেশ কিছু বিলের বিরোধিতা করে বিরোধী দল সংসদ থেকে স্বেচ্ছায় ওয়াকআউট করে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকের সংসদে এমন কিছু জনবিরোধী বিল উত্থাপন করা হয়েছে যা স্পষ্টতই সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করে। আমরা যখন এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে চাইক, তখন আমাদের কথা বলার জন্য সময়ের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। বিরোধী সদস্যদের জন্য মাত্র দুই থেকে ছয় মিনিট সময় বরাদ্দ থাকলেও, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলে যান, যা সংসদীয় নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক। স্পিকারের এমন গায়ের জোর আচরণ সংসদীয় রীতির ক্ষতি করছে এবং বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধের অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা মনে করি, দেশের বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখতে হবে। কিন্তু বর্তমান সরকার বেশ কিছু বিল পাস করছে, যার মাধ্যমে বিচারকের নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ নির্বাহী বিভাগের হাতে চলে যাচ্ছে। ২০০১-০৬ এর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের নিরপেক্ষ নির্ধারিত ব্যবস্থা বাতিল করে তারা পুরাতন অবস্থায় ফিরে গেছে। এতে করে, তারা প্রমাণ করছে— কিছু খারাপ হলেও হাসিনার নীতি তাদের জন্য আদর্শ। এটি বিচার বিভাগের ওপর হঠাৎ ও বেআইনি হস্তক্ষেপ, যার ফলে অতীতে যেমন বিচারপতি খায়রুল হক ও মানিকের মতো রাজনৈতিক বিভাজনের বিচারপতির উদাহরণ তৈরি হয়েছে, ভবিষ্যতেও একই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটতে পারে।

    স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে, যেমন জেলা পরিষদ, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা সংক্রান্ত বিলের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে, বেপরোয়াভাবে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বিএনপি তাদের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে বলেছিল, বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া প্রশাসক বসানো উচিত নয়। কিন্তু এই সরকার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই প্রতিটি পর্যায়েই দলীয়করণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা স্থানীয় সরকারের মূল কাঠামোকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।

    শেরপুর ও বগুড়া উপ-নির্বাচনে নির্বাচনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘১৯৯৪ সালের মাগুরা নির্বাচনের কলঙ্কিত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আজ বগুড়া ও শেরপুরের নির্বাচনে দেখা গেছে। জনগণের ভোটাধিকার লুণ্ঠনের জন্য একই ধরনের জালিয়াতি ও অসাধু পদ্ধতি আবার ফিরে এসেছে। শেরপুর-৩ আসনে আমাদের একজন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, এরপর আজ আরেকজন কর্মীও নিহত হয়েছেন। আমরা এই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

    ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা সংসদ বর্জন করিনি, বরং সংসদে গিয়ে জনগণের অধিকারের পক্ষে কথা বলব। তবে যদি জনগণের স্বার্থের সাথে বিরোধী কোনও আইন পাস হয়, তাহলে আমাদের কণ্ঠ আবারো গর্জে উঠবে। আমরা জানি, জনগণ অতীতে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে রুখে দিয়েছে, ভবিষ্যতেও যদি কেউ নতুন করে বাকশাল বা ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার প্রয়াস চালায়, তবে আমরা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে তা ঠেকিয়ে দেব।

    সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতা, জামায়াতে ইসলামী এবং বিরোধী জোটের বিভিন্ন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

  • ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

    ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

    দেশব্যাপী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চার দিনব্যাপী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে এক বৈঠকের পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

    মামুনুল হক অভিযোগ করেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করছে এবং হাস্যকর করে তুলেছে। তিনি বললেন, সংস্কার সংক্রান্ত ব্যাপারে নির্বাচন পূর্ববর্তী ঐকমত্য এখন ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনআকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে একদলীয় ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি করতে চাইছে। জনদুর্ভোগের সমালোচনাকেও সরকার দমন করে। তবে বলে রাখতে হবে, ১১ দল এই নব্য ফ্যাসিবাদকে শক্ত হাতে প্রতিহত করবে।

    তিনি জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন যেন কোনভাবেই পিছিয়ে না পড়ে, এজন্য ৯ এপ্রিল বিকেলে সপ্তাহব্যাপী একটি লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল এবং ১২ এপ্রিল জেলাগুলোর প্রধান শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভের আয়োজন করা হবে। ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে এক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

    অন্যদিকে, সরকার বিরোধী দলের আন্দোলনের কারণ অপপ্রচার করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, বিএনপির কর্মকাণ্ডে জাতি হতবাক ও বিস্মিত। গণভোটের রায় নিয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। সংসদে অল্প একজনের কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি সংবিধানের ব্যাপারে সংকটের মুখে পড়েছে।

    গোলাম পরওয়ার আরও জানান, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদল কথা বলতে চাইলে তাদেরকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। দিল্লির অগ্রাধিকারের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিচ্ছেন, তাদেরকেও সরকারি দলের পক্ষ থেকে জাতীয়তাবিদের দাগ দিয়ে দিচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার আন্দোলনে শপথ নিতে হবে।

  • গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করব, না মানুক সংসদ: জামায়াত আমিরের কঠোর অঙ্গীকার

    গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করব, না মানুক সংসদ: জামায়াত আমিরের কঠোর অঙ্গীকার

    জামায়াতে ইসলামী’র আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় তিনি বাস্তবায়ন করে ছাড়বেন। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি সংসদ নির্বাচনের ফল হাইজ্যাক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে, ‘৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। আমি হ্যাঁ এর পক্ষে ছিলাম, আছি, থাকছি। জনগণের সুপ্রিম উইলের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা এই রায় বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’ তিনি বলেন, ‘এই সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় আমরা শক্ত হাতে বাস্তবায়ন করব। এটি ইনশাআল্লাহ, আদায় করে ছাড়ব।’ সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

    বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি দেশ ও জাতি গঠন করতে হলে প্রথমে নিজের দলের ভেতরেই ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে। যারা নিজেদের দলের ভিতর গণতন্ত্রের চর্চা করতে পারে না, তারা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তারা জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দিতে সক্ষম হবে না।’

    তিনি যোগ করেন, ‘জনগণ ইতোমধ্যে রায় দিয়ে দিয়েছে। চব্বিশে তারা নিরপেক্ষভাবে তাদের ভোট দিয়েছেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, যদি এই রায় তারা দিয়েছেন, তাহলে কেন তারা সরকার গঠন করতে পারছেন না? কারণ, জনগণের ভোটকে হাইজ্যাক করা হয়েছে, এটিকে ডাকাতি করা হয়েছে। তারা জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে এবং তার প্রমাণ ইতোমধ্যেই পাওয়া গেছে।’ এছাড়া, তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ ঘুঘু বারবার আসে ধান খেয়ে চলে যায়, কিন্তু যখন কপালে মন্দ থাকে, তখন ঘোড়ার জালে আটকা পড়ে। এই পরিস্থিতিতেও জনগণের ধানের মূল্য বুঝতে হবে, কারণ এই লজ্জাজনক পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য কেবল আন্দোলনের মাধ্যমেই রায় বাস্তবায়ন সম্ভব।’

    সংসদ কার্যক্রমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আন্দোলনের মাধ্যমে সেই রায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর বলেন, ‘আগে যেমন কেয়ারটেকার ব্যবস্থার দাবি আদায়ের জন্য সংসদে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, তেমনি এখনো মনে করি, জনগণের শক্তির ওপর ভর করেই এগিয়ে যেতে হবে। সংসদে উদ্যোগের অভাবে যদি সমাধান না হয়, তাহলে অন্য কোন পথ ছাড়াই জনগণের কাছে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

    জ্বালানি সংকটজনিত ভোগান্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংসদে এ বিষয়গুলো আলোচনা হলেও তার যথাযথ সমাধান হয়নি। ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে সংকট বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদনে। এর ফলে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

    শিক্ষাক্ষেত্রে জ্বালানি সংকটের কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের অজুহাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাহত হলে তা ভয়াবহ ফলাফলের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। প্রযুক্তিকে প্রাথমিকভাবে দেখা উচিত, শিক্ষাকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সংসদে থাকা আমাদের প্রতিনিধিরা জনগণের স্বার্থে কাজ করবে এবং অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার করবে না।’ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে জাগপা, যেখানে সভাপতিত্ব করেন দলটির সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। প্রধান বক্তা ছিলেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী রাশেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানসহ অন্যান্যরা।

  • জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান: বিএনপি সরকার নতুন ফ্যাসিবাদের পথে

    জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান: বিএনপি সরকার নতুন ফ্যাসিবাদের পথে

    জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় থাকা বিএনপি সরকার দেশব্যাপী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি দলীয়করণ করে চলছে — যা তিনি নতুন ফ্যাসিবাদ এবং একটি ‘অলিখিত বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ধরনের নতুন স্বৈরাচার রুখে দেওয়া হবে।

    বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতের জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। এর আগে বিরোধী দলটি গুম-প্রতিরোধ, বিচার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত বিতর্কিত কয়েকটি বিল পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে সাময়িকভাবে ওয়াকআউট করেছিল।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকের অধিবেশনে এমন কিছু বিল উত্থাপিত হয়েছে যা স্পষ্টভাবে জনসাধারণের অধিকার ক্ষুণ্ন করে। আমরা আমাদের বক্তব্য জানাতে চাইলে সংসদে আমাদের বক্তৃতার সময় অত্যন্ত সীমিত রাখা হয় — সাধারণত দুই থেকে ছয় মিনিট। অথচ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা কোনো সময়সীমা ছাড়াই ঘণ্টা ঘন্টার বক্তৃতা করেন। স্পিকারের এই ধরনের ভারসাম্যহীন আচরণ সংসদীয় রীতির পরিপন্থী এবং এটি বিরোধী দলের কণ্ঠরোধেরপ্রচেষ্টা বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আমরা বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন দেখতে চাই। কিন্তু সরকার এমন কিছু বিল পাস করছে যার ফলে ক্ষমতাসীন নির্বাহী শাখার হাতে বিচারকের নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ চলে আসছে। সরকারের কার্যক্রমে তারা অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যে নিরপেক্ষ অধ্যাদেশ করেছিল তা বাতিল করে পুরনো ব্যাখ্যেয় ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছে। এর মাধ্যমে, তার দাবি, বিচার বিভাগে অযাচিত রাজনৈতিক প্রভাব ফিরে আসবে এবং অতীতে যেমন দলীয় বিচারপতির জন্ম হয়েছে ভবিষ্যতেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

    স্থানীয় সরকারের ওপরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। জানানো হয়, জেলা পরিষদ, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মতো স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরিয়ে আপৎকালীন-ভাবেই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবে উল্লেখ অনুযায়ী প্রশাসক নিয়োগ করা গেলো না—কেবল বিশেষ পরিস্থিতিতেই তা করা উচিত—তবে সরকার কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই স্থানীয় স্তরগুলোকে দলীয়করণ করেছে, ফলে স্থানীয় সরকারি ব্যবস্থাই ধ্বংসের পথে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    শেরপুর ও বগুড়া উপ-নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির বলেন, ১৯৯৪ সালের মাগুরার কলঙ্কিত নির্বাচনের মতোই এইবার বগুড়া ও শেরপুরে একই ধরনের পদ্ধতি দেখা গেছে। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় — এ কথা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে একজন কর্মী হত্যার পর আরও একজন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, আমরা এই খুনিদের দ্রুত বিচারের দাবী করছি, বলেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা সংসদ বর্জন করিনি এবং ভবিষ্যতেও সংসদে গিয়ে জনগণের অধিকার রক্ষায় কথা বলব। তবে যদি জনস্বার্থবিরোধী কোনো আইন পাস করা হয়, আমরা আমাদের কণ্ঠ আবারো উচ্চারণ করব এবং জনগণের সাথে মিলে তা প্রতিরোধ করব—যেভাবে অতীতে ফ্যাসিবাদ রোধ করা হয়েছিল, ভবিষ্যতেও ইনশাআল্লাহ তা রোধ করা হবে বলে তিনি জোর দেন।

    সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামী ও বিরোধী জোটের several শীর্ষস্থানীয় সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।