Category: জাতীয়

  • শপথের প্রয়োজন নেই, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘হ্যাঁ’ কার্যকর হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    শপথের প্রয়োজন নেই, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘হ্যাঁ’ কার্যকর হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    পানি সম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হয় হ্যাঁ-না ভোট, যেখানে দায়িত্বশীল সাধারণ ভোটাররা হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন। ফলে গণভোটে হ্যাঁ জয়লাভ করেছে। এই প্রক্রিয়ায়, পার্লামেন্টে বিল আনার জন্য কোনও আলাদা শপথের প্রয়োজন হয় না। হ্যাঁ ভোটের ফলাফল অটোমেটিকভাবে কার্যকরী হবে – এটাই এখন নিয়ম ও প্রক্রিয়া বললেন তিনি।

    শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, যেখানে না ভোট দেওয়া হয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট বিল বা সিদ্ধান্তের উপর আলোচনা চলবে। এ ক্ষেত্রে, কোন সিদ্ধান্ত কিভাবে কার্যকর হবে, তা নির্ধারিত হবে আইন অনুযায়ী। যেখানে এমন কিছু নোট অব ডিসেন্ট জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বিষয়েও যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়া হবে। এ সব কিছু জানতে, বুঝতে এবং স্বচ্ছভাবে বিষয়গুলো প্রকাশ করতে প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন এ্যানি।

    অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, যারা বিভিন্ন অসংগঠিত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন, সেসব থেকে সরে আসা উচিত। বিশৃঙ্খলা ও মব কালচার বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রার জন্য বড় সর্তকতা। সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে সরকারের সহযোগিতা করতে হবে। কেউ যদি এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় ও অগ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, তার দায়দায়িত্ব তারই।

    তিনি বলেন, সরকারের এগিয়ে নেওয়া পরিকল্পনা ও উন্নয়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। মতপার্থক্য থাকলেও, সকল বিভেদ ভুলে গিয়ে একসঙ্গে দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি। সব ধরনের বিরোধিতা ও বিভাজন এড়িয়ে, দেশের স্বার্থে সবাই একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. এমরান, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীরা।

  • তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ঘোষণা করলেন, আগামী মাস থেকে শুরু হবে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ঘোষণা করলেন, আগামী মাস থেকে শুরু হবে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন অনুযায়ী দেশের গরীব ও অন্নপূর্ণ পরিবারের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। এই কার্যক্রম ভবিষ্যতের মাস থেকে শুরু হবে। প্রথম ধাপে এই কার্ডের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে দেশের ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের নারী সদস্যরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

    শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভা, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলার মানুষ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কখনোই আপোস করেনি। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে ২৪’এর গণঅভ্যুত্থান এই সংগ্রামেরই প্রমাণ। ভাষা দিবসের মূল চেতনা ছিল ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। এখন সময় হয়েছে, দেশে আর কোনো অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা দখল সম্ভব নয়। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসাই হলো শান্তিপূর্ণ ও বৈধ পথ।

    গণমাধ্যমের বিষয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সঠিকভাবে কাজ করতে দিতে হবে এবং তাদের স্বাধীনতা অবারিত রাখতে হবে। কোনো গোষ্ঠী যেন গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপ না করে, সেটা নিশ্চিত করতে আমি দায়িত্ব নেওয়া। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য কোনো অপ্রয়োজনীয় চাপ বা হস্তক্ষেপ চলবে না।

    মন্ত্রী আরও বলেন, দেশটিতে কিছু মহল মব কিডন্যাপ ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তা সেসবের সঙ্গে যোগ দিয়ে থাকেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যেন আর কোনভাবে সমর্থন না দেয়া হয়, সে বিষয়ে কঠোর মনোভাব নেওয়া হয়েছে। সবাই মিলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে, এবং যারা স্বার্থান্ধ হয়ে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য প্রশাসনকে ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন, তারা সতর্ক থাকবেন।

    রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আন্দোলন ধরনের পেশা নয়। আমাদের অনেকের ওপর চাপ ছিল, আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে যেন আমাদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোন আন্দোলন সৃষ্টি না হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন। এ ছাড়াও বক্তব্য দেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ আলী, জেলাপ্রশাসক ফারজানা ইসলাম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার আবদুল হান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবায়দুল হক চাঁন এবং কাজী গোলাম মাহবুব ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম।

  • প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুরনো কর্মচারীদের ডেকে আলোচনা করেন তারেক রহমান

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুরনো কর্মচারীদের ডেকে আলোচনা করেন তারেক রহমান

    শনিবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী তার তেজগাঁও কার্যালয়ে পৌঁছে পুরনো কর্মচারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, লীগে ১৯ বছর আগে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে মোটামুটিভাবে কিছু কর্মচারী এখনও কার্যালয়ে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বয়স হয়েও তাদের নাম ধরে ডেকে তাদের সঙ্গে আন্তরিকতা ও স্নেহের সঙ্গে কথা বলেন। এই মুহূর্তটি ছিলো খুবই স্মরণীয় ও আবেগাপ্লুত করার মতো।

    প্রথমে তিনি অফিসের বাগানের বৃক্ষের রোপণ করেন। এরপর তিনি কার্যালয়ে প্রবেশের সময় লক্ষ্য করেন যে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একসঙ্গে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানাচ্ছেন। সেই সময় একজন কর্মচারী তাকে দেখামাত্রই নাম ধরে ডেকে বলেন, তারপর তিনি দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান, তাঁর সঙ্গে হাত মেলান এবং পরিবারের খবর নেন। স্থানীয় কিছু কর্মচারীকে ও এই দিনটাই তাদের জন্য বিশেষ মনে হয়।

    ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সরকার গঠনের পর সেবাকালীন এই কার্যালয়েই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছিলেন খালেদা জিয়া।

    অতিরিক্ত প্রেস সচিব বললেন, যারা খালেদা জিয়ার সময় কাজ করেছেন, তারা ১৯ বছর ধরে এই কার্যালয়ে আছেন। এখন তারা বৃদ্ধ হয়ে গেছেন, তবে প্রধানমন্ত্রী তাদের চিনতে ভুল করেননি। তিনি নাম ধরে ডাকেন এবং তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন। এই কারণে তারা আবেগপ্রবণ, আবার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিস্মিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মানবিক মনোভাব দেখে।

    এরপর প্রধানমন্ত্রী রেড ব্লকে প্রবেশ করেন, যেখানে তাঁর চেম্বার বা কক্ষ অবস্থিত। তিনি সেখানে নিজের চেয়ারে বসে দেশের মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের স্মারক ডাক টিকেট উন্মোচন করেন।

    পরে তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেন বলে জানানো হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এসে পৌঁছানোর পর, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তাঁকে স্বাগত জানান।

    অতীতে, ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর থেকে এই প্রথম তিনি সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে অফিস করছেন। এই দিনই তিনি প্রথম অফিস করেছেন।

  • ঈদের আগেই ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের জন্য বিশেষ ভাতা দেবে সরকার

    ঈদের আগেই ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের জন্য বিশেষ ভাতা দেবে সরকার

    সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের জন্য সম্মানী ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এই ভাতার অঙ্ক এখনো নির্ধারিত হয়নি। সরকার জানিয়েছে, ঈদের আগে কয়েকটি এলাকায় এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

    আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেটে তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

    স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে সঙ্গে নিয়ে মাহদী আমিন বলShares, নির্বাচনের আগে বিএনপি একাধিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবসহ ধর্মগুরুদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা। ক্ষমতায় এসে এই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার ঈদুল ফিতরের আগে প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করবে। ধাপে ধাপে এটি সারা দেশে বিস্তার ঘটাবে।

    ভাতা কত টাকা দেওয়া হবে জানতে চাইলে মাহদী আমিন বলেন, এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, আজ তারেক রহমানের তিন দিনের কর্মদিবসের প্রথম দিন ছিল। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি আরও বলেন, আজ তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো অফিস করেছেন তারেক রহমান। অফিসে প্রবেশের আগে ব্রিফিং করেন এবং পুরোনো কর্মীসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিভিন্ন পলিসি ও কার্যক্রম নিয়েও আজ আলোচনা করেন।

  • শহীদ মিনারে ডাকসুর একাংশের শ্রদ্ধা, নিস্তব্ধতা অন্যদের অপ্রাপ্তিতে

    শহীদ মিনারে ডাকসুর একাংশের শ্রদ্ধা, নিস্তব্ধতা অন্যদের অপ্রাপ্তিতে

    শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। তবে উত্তেজনা ও অনীহার কারণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়নি ডাকসুর অনেক পরিচিত মুখকে। এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ছাত্রদলের নেতাকর্মী।

    শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে বিটিভির সরাসরি সম্প্রচারণের মাধ্যমে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। ছবিতে দেখা যায়, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদিক কায়েম, সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ ও অন্যান্য সদস্য। পাশাপাশি ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    সর্বমিত্র চাকমা ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যাচ্ছে—হাহা! হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা ও অন্যান্যরা। তবে অনেকেই অপেক্ষা করছিলেন এই ব্যাপারে কোন সুসংবাদ পাব কি না।’

    এদিকে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন, ‘ডাকসু আসলে কোন কাজে লাগছে না। সবাই নিজের রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত। এখন এই সংগঠনের কার্যকারিতার প্রয়োজনীয়তা দ্বারেড।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘ডাকসু অনেকগুলো সমস্যার মধ্যে আটকে রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের একচেটিয়া আধিপত্যে পদে পদে বাধা আসে। প্রকল্পের বাজেটের বিষয়ে নানা অপ্রিয় বাস্তবতা থাকলেও, কিছু কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া পর্যন্ত খুবই কম। সদস্য আদালতে বা কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারছ না। শিবিরের সংগঠকরা এই সময় অনেক কাজ করছে। তবে, সবচেয়ে কাজ করছে সাবেক নেতা-নেত্রীরা। বাকিরা নানা ধরণের ধর্না ও টানাপোড়েনে ফেঁসে যাচ্ছে।’

    জুমা আরও যোগ করেন, ‘আমার ক্ষমতা বেশি নয়। আমি নিজের ব্যবসায়িক দিক দিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করি, অন্যের সাথে তদবিরের অভ্যাস নেই। আমি লম্বা তেজ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করতে জানি। গালিগালাজের সঙ্গেও পরিচিত। তবে এর মাঝে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ডাকসুর সংহতি এবং নেতৃত্বের অভাব।

    প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য ডাকসু কখন যাবে—একাধিকবার জিজ্ঞেস করা হলে জানানো হয়, সিনেট সদস্যরা সরকারি প্রটোকলের অধীনে যাবেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, এই সিলেক্টিভ পাস দিয়ে কিছু দলের ইউনিয়ন লেভেলের কর্মীরাই শহীদ মিনারে যেতে পারছেন। অথচ বাকিরা সেই সুবিধা পায়নি। এই গাফলতি নিয়ে অনেক প্রশ্ন উছেড়ে উঠছে এবং প্রভাতফেরীর অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুধু প্রধান নেতাদের জানানো হয়, অন্যদের জানানো হয় না। এছাড়া সভাগুলোয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা কম হয় বলে জানিয়েছেন জুমা।

    জুমা অভিযোগ করেন যে, যদি সিনেট সদস্যরা ফুল দিতে এগিয়ে যেতেন, তাহলে গ্রুপে জানানো হলে অন্য সদস্যরাও উপস্থিত থাকতেন। কিন্তু প্রশাসনিক কারণে সবাইকে একসাথে বা সময়মত জানানো হয়নি, ফলে অনেকেই পৌঁছাতে পারেননি। তিনি উল্লেখ করেন, ডাকসু শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, তাদের আমানত। তিনি বলছেন, শিক্ষার্থীরা যখন কিছু জানতে চান, তখন তার পক্ষে ব্যাখ্যা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এতে করে তার কাজ সহজ হবে। সামগ্রিকভাবে, ডাকসুর কার্যক্রমে অস্থিরতা ও স্ববিরোধিতা বোঝা যায় এইসব সমস্যা থেকে।

    অন্যদিকে, হেমা চাকমা প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা জানিয়ে তার ফেসবুক আইডিতে ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে বেশ কিছু পরিচিত মুখ উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো ব্যানারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেননি।

    রাত ১২টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুরু হয় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

  • প্রথম দিন তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর, বৃক্ষরোপণ ও স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন

    প্রথম দিন তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর, বৃক্ষরোপণ ও স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন

    সরকারি কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে সরকার গত বছরের আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, সপ্তাহের ছুটির দিনেও অফিস পরিচালনা করা হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনই তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) রয়েছেন তারেক রহমান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০:১০ মিনিটে তিনি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে কার্যালয়ে পৌঁছান।

    কার্যালয়ে প্রবেশের আগে তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। এর আগে গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে পতাকাবিহীন সাধারণ গাড়িতে করে তিনি অফিসের উদ্দেশে রওনা দেন। কোনো জাঁকজমকপূর্ণ প্রটোকল মোকাবেলা না করে শান্ত এবং সহজ সরল উপায়ে তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

    কার্যালয়ে প্রবেশের মুহূর্তে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে এক উচ্ছ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কুশল বিনিময় করেন। তিনি কার্যালয়ের পুরোনো অনেক কর্মকর্তাকে নাম ধরে ডেকে কথা বলেন, যা উপস্থিত সবাইকে গভীর আবেগে মুহূর্তের মধ্যে আবদ্ধ করে তোলে। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এত কাছ থেকে দেখার এই সৌভাগ্য পেয়ে কর্মকর্তারা অত্যন্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

    প্রথম দিনের কর্মসুচনার অংশ হিসেবে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশের আগে তিনি কার্যালয় চত্বরে একটি স্বর্ণচাঁপা ফুলের চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানিয়ে বিশেষ একটি মোনাজাতের আয়োজন করেন। এই সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি’সহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সেই প্রাকৃতিক পরিবেশে জাতির জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে তিনি একটি বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। ডকটিকিট অবমুক্ত করার জন্যও তিনি নিজ হাতে স্ট্যাম্পটি উন্মুক্ত করেন। এদিন তিনি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ এর স্মারক ডাকটিকিটও উন্মোচন করেন।

    প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এরপর বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে জানানো হয়, সরকারি কার্যক্রমের গতি বাড়াতে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে, এজন্য অ প্রয়োজনীয় জাঁকজমক এড়িয়ে সপ্তাহের ছুটির দিনেও অফিস চালু থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে, এখন থেকে শনিবারও অফিস করবে সরকার।

  • প্রথমবারের মতো ছুটির দিনে তেজগাঁওয়ে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    প্রথমবারের মতো ছুটির দিনে তেজগাঁওয়ে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    প্রশাসনকে আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবারও অফিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারের গঠনের পর প্রথম তিন দিন তিনি সচিবালয়ে অফিস করেছেন এবং এবার শনিবার তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো অফিস শুরু করেন তিনি।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি কার্যালয়ে এসে স্বর্ণচাঁপা গাছ ফলক রোপণ করেন, যা এক ধরনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং মানসিক প্রশান্তির সূচক।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, সকাল নয়টায় তিনি তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছেন এবং কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁকে স্বাগত জানান হয়।

    এরপর তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং বেশ কয়েকটি সাম্প্রতিক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। সকাল থেকেই তিনি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ও বিশেষ একাধিক সভায় অংশ নেন।

    দুপুর বারোটায় তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি উন্নয়নে, বিভিন্ন ধর্মের উপাসনালয়ে নেতৃবৃন্দের জন্য প্রণীত নতুন প্রশিক্ষণ ও কল্যাণব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

    সন্ধ্যাবেলা, তিনি শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা, ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের জন্য আয়োজিত অন্যান্য বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেন।

    ২০ বছর আগে, ১৯৯১ সালে ঢাকা শহরের তেজগাঁওয়ে অবস্থিত পুরনো জাতীয় সংসদ ভবনটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তখন থেকে এখানেই সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং মন্ত্রিসভার বেশির ভাগ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে অফিস করতেন এবং মন্ত্রিসভার বৈঠকও হতো। ১৯৯১ সালের আগে এটি ছিল রাষ্ট্রপতির সচিবালয়।

    ২০ বছরের বেশি সময় ধরে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই স্থানে অফিস করে আসছেন, যা দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

  • শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য: বেকারত্ব বাড়ানোর শিক্ষা ব্যবস্থা বাতিলের দাবি

    শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য: বেকারত্ব বাড়ানোর শিক্ষা ব্যবস্থা বাতিলের দাবি

    শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় যে ধরনের শিক্ষা পদ্ধতি বেকারত্ব বাড়াচ্ছে, তা বাতিল করতে হবে। তার পরিবর্তে কার্যকরী ও দক্ষ শিল্প-নির্ভর শিক্ষায় মনোযোগ দিতে হবে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিরপুরে মাতৃভাষা দিবসের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বললেন, বাংলা ভাষাকে সর্বত্র গুরুত্ব দিতে হবে এবং বিশ্ব দরবারে দেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষার পাঠদান পদ্ধতিকে আরও যুক্তিযুক্ত করে শিশুদের হাতে-কলমে শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যে শিক্ষাব্যবস্থা বেকারত্ব বাড়ায়, সেটি পরিবর্তন করে কার্যকরী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষক যদি ক্লাসে সময়ানুযায়ী শিক্ষা দায়িত্ব পালন না করেন বা কেবল সময় কাটান, তা দুর্নীতির মতোই। স্কুলে থাকাকালীন বেশিরভাগ সময়ে যদি ঠিকভাবে পাঠদানে মনোযোগ না দেন, তাহলে সেটি অনেকটাই দুর্নীতির সমতুল্য। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এক্ষেত্রে কি সেটি দুর্নীতি নয়?

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তন আনতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নিজ সন্তানের মতো করে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে গড়ে তুলতে হবে। তিনি দেখেছেন, অনেক শিক্ষক নিজের সন্তানকে অন্য স্কুলে পড়ান, যা কি באמת একজন শিক্ষক হিসেবে উপযুক্ত? এটা তাদের পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

    শিক্ষকদের জন্য তিনি বললেন, নিজেদের অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে ভাবতে হবে তারা কী করতে চান এবং তাদের লক্ষ্য কী। সাধারণত আমাদের ভিতরে এইসব দিক উপেক্ষা করে খাওয়ার সময় হালাল-হারাম নিয়ে ভাবি, কিন্তু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো ভাবা হয় না।

    দুর্নীতির প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আমি পাঁচ বছর এই দায়িত্বে রয়েছি, আমার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির মামলা হয়নি। সবারই উচিত নিজেদের সততার মাধ্যমে নিজের অবস্থান থেকে দুর্নীতি থেকে দূরে থাকা।

    তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরে যত্নের সঙ্গে শিক্ষাদান করলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমে আসবে।

    আগামী বাংলাদেশ গড়ার কেন্দ্রীয় অংশীদার হিসেবে শিক্ষকরা তাদের দায়িত্ব আরও আন্তরিকভাবে গ্রহণ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেন।

    প্রান্তিকে এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা।

    শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, যদি শিক্ষাব্যবস্থা ঠিকমত না হয়, তাহলে দেশের গঠন সম্ভব নয়। সমস্ত স্কুলে গুণগত মানের শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষার প্রতিটা দফতর দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ হওয়া জরুরি।

  • পানিসম্পদ মন্ত্রীর ঘোষণা: শপথের প্রয়োজন নেই, ‘হ্যাঁ’ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে

    পানিসম্পদ মন্ত্রীর ঘোষণা: শপথের প্রয়োজন নেই, ‘হ্যাঁ’ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে

    পানি সম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। নির্বাচনের ফলাফলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়লাভ করেছে, তাই এখন বিপুল স্বাভাবিকভাবেই পার্লামেন্টে সংবিধান অনুযায়ী বিল উঠবে। এই ক্ষেত্রে, ‘হ্যাঁ’ শপথের কোন প্রয়োজন নেই, কারণ এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। এটাই হবে জুলাইয়ের সংবিধান। তিনি আরও বলেন, যেখানে ‘না’ ভোট হয়েছে, সেই সব বিষয়েও আলোচনা হবে এবং আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যেসব कानून বা সিদ্ধান্ত তৈরি হবে। যেখানে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও বৈধভাবে নির্ধারিত হবে। আইনসভা বিষয়ক ব্যাখ্যাকারীরা এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। জানাতে চাই, এটাই প্রক্রিয়া বলে মনে করি।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মদ্যপান নিয়ে তিনি বলেন, যারা মদপানের বিকল্প খুঁজছেন, তাদের উচিত সেগুলি থেকে সরে আসা। মদপান বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, যা বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গৌরবের জন্য হুমকি। সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে যাতে মদসহ অবৈধ কর্মকাণ্ড কমে আসে। সরকার ও দেশের উন্নতিতে সহযোগিতা করতে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসা জরুরি। কেউ যদি এ প্রক্রিয়ার বাইরে কিছু করতে চান, তবে তার জন্য তাদেরই দায়ভার থাকবে।

    এ্যানি চৌধুরী আরও বলেন, সরকারের সাথে কিভাবে সহযোগিতা করা যায় ও দেশের সম্মান ও উন্নয়ন কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায়—এমন বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে ভাবতে হবে। মতপথ ভিন্ন হতে পারে, তবে বিরোধিতা কমিয়ে সবাই যেন ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের জন্য কাজ করতে পারে, সেজন্য আন্তরিকতা প্রয়োজন।

    উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. এমরান, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিনসহ অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

  • ঈদের আগে শুরু হবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প: ত্রাণমন্ত্রী

    ঈদের আগে শুরু হবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প: ত্রাণমন্ত্রী

    সরকার ঈদুল ফিতরের আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগটি দেশজুড়ে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে, এটি মাত্র ৮টি উপজেলার পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সোমবার লালমনিরহাটে গোকুণ্ডা বাজারে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই তথ্য জানান। এটি তার নিজ জেলা লালমনিরহাটে মন্ত্রীর প্রথম সফর।

    মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত এই ১৮০ দিনের বিশেষ প্যাকেজের বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলত, হতদরিদ্র ও প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে এই কার্ডের পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে। পর্যায়ক্রমে সকল উপকারভোগীকে এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর আওতায় আনা হবে।

    এ সময় রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, ইফতার ও সেহরিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ঘরমুখো মানুষের জন্য নির্বিঘ্ন যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, খাল খনন ও সংস্কার কাজের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি, দেশের বৃক্ষ রোপণ বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে চলতি বছর ৫ কোটি গাছের রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মোট পরিকল্পনা হলো ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা।