মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষে এখনই কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি জোর প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এই সংঘাত ইতোমধ্যে বিশ্বকে গভীর অস্থিতিশীলতার দিকে টেনে নিচ্ছে। মানবতার জন্য এটি একটি কঠিন পরীক্ষার মুহূর্ত, যেখানে অসংখ্য নিরীহ বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে। বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল সবই ধ্বংসের মুখে এবং মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে। তিনি গোপন করে বলেন, এটি কেবল একটি আঞ্চলিক সমস্যা নয়, বরং এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি নৈতিক চ্যালেঞ্জ। এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বেড়ে চলেছে, যার সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে দরিদ্র দেশগুলোকে। প্রান্তিক ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর জীবন আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সাহস, সহানুভূতি ও সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে একত্রে কাজ করতে হবে। বিশ্বনেতাদের সামনে এখনই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে আন্তর্জাতিক আইনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সামরিক উত্তেজনার বদলে কূটনৈতিক সংলাপের পথে বরাবরই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে। তিনি বলেন, এটি কেবল ক্ষমতার বা রাজনৈতিক দখলের লড়াই নয় বরং মানব সভ্যতার ভবিষ্যতের প্রশ্ন। আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে শান্তির পথে, সংঘাতের বদলে আলোচনা ও সমঝোতার পথ। বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য গড়তে হবে, যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে।
Category: জাতীয়
-

হাসনাত: বিসিবি এখন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ে পরিণত
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিপীড়নমূলকভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে এবং এটি ক্রমেই ভয়াবহ মাত্রা নিচ্ছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দখল হয়েছে; এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আর স্বাধীন নেই—’বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ে পরিণত হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১ দিনের বিকেলের সেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬ উত্থাপনের পর দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বিলটিতে ‘কমিশন’ বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)কে বোঝানো হয়েছে এবং বিলের সংজ্ঞায় ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’ শব্দবন্ধটি রাখা হয়েছে। ওই সংজ্ঞার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক প্রতিরোধকে সংকীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থান্বেষণের নামে দমন করা হতে পারে, আবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কার্যক্রমও অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে।
হাসনাত প্রশ্ন করেন—সংকীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার সংজ্ঞা কে দিবে? ওই সংজ্ঞা নির্ধারণের ক্ষমতা থাকছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপরই, ফলে নির্দিষ্ট ধরনের ইন্ডেমনিটি (দায়মুক্তি) এনএইচআরসির কার্যকারিতার ওপর নির্ভরশীল হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কমিশনকে নিয়ন্ত্রণমূলকভাবে পরিচালনা করার প্রস্তাব ইতোমধ্যে এসেছে; যদি কমিশন ২০০৯ সালের নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয় তবে তা সরকারে বিশদভাবে নিয়ন্ত্রিত—a ফলে স্বাধীন বিচার ও তদন্ত অসাধ্য হবে।
তিনি বলেন, যদি আমরা গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী তদন্ত ও নিরীক্ষার জন্য এনএইচআরসিকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে রাখি, তাহলে সেখান থেকে সত্যনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কতটুকু আশা করা যাবে সেবিষয়ে সন্দেহ আছে। তিনি তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যারা সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত হয়েছেন, তারাই এনএইচআরসি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখতে চাচ্ছেন—এমন সিদ্ধান্ত কেন গ্রহণ করা হচ্ছে তা ভাবার বিষয়। আবার, যদি কমিশন পুরোপুরি স্বায়ত্তশাসিত করা হয়, তার জবাবদিহিতা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে—তাও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
হাসনাত উদ্বেগ জানিয়েছে যে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে যেভাবে দলীয়করণ ঘটছে, সে পরিস্থিতিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে—অথবা ‘বাপের দোয়া’ বা বিরোধীদল দমনকারী কমিশন হিসেবে রূপ নিতে পারে—এতে তার আস্থা নেই। তিনি দাবী করেন, বিলটি পাসের আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত বিধান ও কাঠামো স্পষ্ট ও নিরপেক্ষভাবে চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। নাহলে ভবিষ্যতে বিসিবির মতো প্রতিষ্ঠানে আবার দখল, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো দলীয়করণ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ দেখা যেতে পারে।
-

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফের দাবি তুললেন: শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে প্রত্যর্পণ চান
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ পুনরায় দাবির বিষয়টি জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেন, জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই দিন তিনি ভারতের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ পুরী এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও আলাপ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলাপচারিতায় দুইপক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালীকরণের গুরুত্বে একমত ছিলেন।
বৈঠকে খলিলুর রহমান বলেন, সদ্য নির্বাচিত বিএনপি সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ওপর ভিত্তি করে এবং পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সুবিধার ভিত্তিতেই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে।
এবারের আলোচনায় তিনি শহীদ ওসমান হাদীর সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের গ্রেফতার করার জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। দুইপক্ষ একমত হন যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
অপরদিকে জ্বালানি মন্ত্রী হরদীপ সিংপুরীর সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং ডিজেল ও সার সরবরাহের পরিমাণ বাড়ানোর অনুরোধ করেন। মন্ত্রী পুরি জানান, ভারত সরকার এই অনুরোধটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে নিয়মিত পরামর্শ চালিয়ে যাওয়ার ওপরও একমত হয়েছে।
-

সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ: বিসিবি এখন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ হয়ে গেছে
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগন্যভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। তিনি মনে করছেন এটি শুধু একক কোনো সংস্থার নয়, দেশের সংবিধান-প্রতিষ্ঠানের গভীর সংকটের ইঙ্গিত।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১১ দিনের বিকেলের সেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ উত্থাপনের পর দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক দখল করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ হিসেবে পরিণত হয়েছে।
হাসনাত বলেন, বলাবলি করা হচ্ছে যে বিলটিতে ‘কমিশন’ বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বুঝানো হয়েছে। বিলের সংজ্ঞায় ‘বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’—এর মতো পর্যায়বোধগুলো আছে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত কার্যক্রমগুলোকেও একই চিমটে ধরা হতে পারে। অর্থাৎ সংকীর্ণ বা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত অপরাধ-মূলক কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারমূলক কর্মসূচির মধ্যে পার্থক্য করা হলেও আইন প্রয়োগে তা অস্পষ্টভাবে দেখানো যেতে পারে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সংকীর্ণ স্বার্থে সংঘটিত যে হত্যাকাণ্ড বা সহিংসতার ধারা আছে—সেগুলোকে কে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবে? এই দায়িত্ব পড়বে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর। চাকরিভিত্তিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কমিশন কীভাবে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়।
হাসনাত আরও উল্লেখ করেন, ওই কমিশনের উপর যে অধ্যাদেশ বা বিধান রয়েছে সেগুলো ল্যাপস করে দেওয়ার প্রস্তাব চলছে। যদি কমিশন ২০০৯ সালের মডেলে ফের ফিরে যায়, তাহলে সেটি কার্যত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন হবে—এমনকি বিরোধী দল কিংবা অনুচিত মতকে দমনের জন্যও ব্যবহৃত হতে পারে। তিনি বললেন, এর ফলে ভিকটিম ব্লেমিং, গুম বা হত্যার ‘বৈধতা’ তৈরির মতো অনুচিত ব্যবহারও সম্ভব।
তিনি বলেন, যদি আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি—বিশেষত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের—তাহলে যে অনুসন্ধানগুলো পরিচালিত হবে সেগুলো নিরপেক্ষ হবে কি না, সে বিষয়ে আমরা সন্দিহিত। তাঁদের মতে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নিরীক্ষণ নিশ্চিত করতে হলে কমিশনকে অবশ্যই স্বায়ত্তশাসিত করে তোলা দরকার।
একদিকে তিনি জানান, যারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছেন, তারাই কমিশনকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখতে চায়—তাকে তারা নিরাপদ মনে করে। অন্যদিকে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এই অজুহাতে যদি কমিশন অটোনমাস করা হয়, তাহলে তার জবাবদিহিতা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে?’—এমন দ্ব্যর্থহীন প্রশ্নও উত্থাপিত হয়।
শেষে হাসনাত আবদুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, বাস্তবে যদি আমরা এখনকার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নি, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা আবার দেখতে পারি বিসিবির মতো ‘বাপের দোয়া’ কমিশন, বাংলাদেশের মতো ব্যাংকগুলোর দলীয়করণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলতি সেই একপক্ষীয় দলীয়করণ। তাই বিল পাসের আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বচ্ছতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা কঠোরভাবে জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
-

জাতির পিতার পরিবারের বিশেষ নিরাপত্তা আইন বাতিল
জাতীয় সংসদ ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ রহিত করে বিল পাস করেছে। এ নিয়ে শেখ পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ১১তম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) সভাপতি থাকায় রহিতকরণ বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; অধ্যাদেশ আকারে জারি হওয়া নীতিটির বিলীতে রূপান্তর এভাবেই সম্পন্ন হলো।
বিলটির কারণবিহিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর ২০০৯ সালে গেজেট আকারে জারি করা ওই আইন ও পরে ২৫ মে ২০১৫ সালে প্রদত্ত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কেবল একটি পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ ধরনের একতরফা রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রদানকে বিবৃতিতে ‘স্পষ্ট বৈষম্য’ হিসেবে উল্লেখ করে তা দূর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের তৎপরতায় নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ জারি করা হয়। সেই অধ্যাদেশকে এখন সংসদ স্থায়ী বিল আকারে অনুমোদন করেছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবিত দুই কন্যা ও তাঁদের সন্তানদের জন্য আজীবন বিশেষ নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় বাসভবনসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা ছিল। বুধবার বিল পাসের মাধ্যমে ওই আইনি বাধ্যবাধকতা ও বিশেষ সুবিধাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেল।
-

শিক্ষামন্ত্রী: সারা দেশে ২ হাজার ৮৩৯টি গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই
শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সারা দেশে মোট ২ হাজার ৮৩৯টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এসব গ্রামে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা নেওয়ার উপযোগী শিশুদের সংখ্যা প্রায় পৌনে তিন লাখ—সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী এটি ২৭৬,৫১৩ জন।
আজ জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন (ফেনী-২) যে প্রশ্নটি করেছেন, তার উত্তর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই এবং সমস্যা সারা দেশ জুড়ে বিস্তৃত।
বিভাগভিত্তিক বিবরণে মন্ত্রী জানিয়েছেন, ঢাকায় ৭১৭টি গ্রামে, চট্টগ্রামে ৮১৮টি, রাজশাহী বিভাগে ৩৫৫টি, রংপুরে ৩৭টি, খুলনায় ৩৪১টি, বরিশালে ৪৫টি, সিলেটে ২৬০টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬৬টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই।
একই সংসদী পর্বে জামায়াতে ইসলামী দলীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাভুক্ত মোট ২৪ হাজার ৩২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪ হাজার ৫৯টি প্রতিষ্ঠানে এখনও সরকারি অর্থায়নে ভবন নির্মাণ করা হয়নি। তিনি জানান, সরকার ধাপে ধাপে সুবিধাবঞ্চিত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করছে।
মন্ত্রী এসব তথ্য উপস্থাপন করে বললেন যে, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিদ্যালয় বিস্তারের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সরকারের উদ্যোগ ও বাস্তবিক পরিকল্পনা কত দ্রুত ফল দেবে—এটি সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।
-

কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল রক্ষণাবেক্ষণে চার দিন ইন্টারনেট ধীরগতি বা বিঘ্নের সতর্কতা
আগামী বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত ১০টা থেকে সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোর ৬টা পর্যন্ত সারাদেশে ইন্টারনেট সেবাতে ধীরগতি বা আংশিক বিঘ্ন ঘটতে পারে। এ নিয়ে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কুয়াকাটায় স্থাপিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল SEA-ME-WE-5 (SMW5)-এর কনসোর্টিয়াম ‘S.1.5.1 Shunt Fault Repair’ শীর্ষক একটি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর ফলে ওই ক্যাবলের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরমুখী সার্কিটগুলো সাময়িকভাবে প্রভাবিত হবে।
বিএসসিসিএলের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমটি ৯ এপ্রিল রাত ১০টা থেকে ১৩ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত মোট ৩ দিন ৮ ঘণ্টা চলবে। এটি Traffic Affecting হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকরা ইন্টারনেটের ধীরগতি বা আংশিক সেবা বিঘ্নের মুখোমুখি হতে পারেন।
তবে বিএসসিসিএল নিশ্চিত করেছে যে, অন্য সাবমেরিন ক্যাবল SEA-ME-WE-4 (SMW4)-এর মাধ্যমে সেবা আগের মতোই অব্যাহত থাকবে এবং কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক সেবা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
গ্রাহকরা প্রয়োজনবোধে তাদের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং সম্ভাব্য ব্যাহত পরিষেবার জন্য ধৈর্য ধরা অনুরোধ করা হচ্ছে।
-

আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে সংসদ পাস সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধনী বিল
জাতীয় সংসদে নতুন সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬ পাস হওয়ায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকবে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা সোয়া বারোটার দিকে এই বিলটি পাস হয়। এর আগে সকাল ১১টার দিকেটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠক আবার শুরু হয়। বিএনপি নির্বাচনের সময় বলেছিল যে, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা পছন্দ নয়; জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু সরকারের গঠনের পর থেকে বিএনপি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়। আজ বিল পাস হওয়ায়, যতদিন পর্যন্ত নির্বাহী আদেশ পাল্টে না নবায়ন হবে, ততদিন আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞাই বহাল থাকবে। ১৩৩টি অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হয়, যার মধ্যে ৯৮টির সংশোধন না করেই আইনে পরিণত করার উপদেশ দেওয়া হয়। এই বিলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ, যা ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ এবং ২০ ধারা সংশোধন করে দায়ের হয়। এই ধারাগুলো গত বছর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। একই আইনে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়। গত বছরের ৯ মে রাতে, এনসিপি নেতারা তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন দল এ আন্দোলনে যোগ দেয়। ১১ মে রাতে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করে, এর ফলে যদি কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তবে তারা এই কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ হতে পারে। একই দিনে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। যদিও সরকার সরাসরি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেনি, তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার কারণে দলটি মিছিল, সভা-সমাবেশ করতে পারবে না, দলীয় কার্যালয় বন্ধ থাকবে, ব্যাংক হিসাব জব্দ হবে, পোস্টার, ব্যানার প্রচার করতে পারবে না, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবে না এবং গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে পারবে না। আইন অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সংগঠনের এসব কার্যক্রম চালালে চার থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ডের শঙ্কা রয়েছে। তবে অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়নি, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কী শাস্তি হবে। ফলে, এতদিন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও, সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে শাস্তির বিধান ছিল না। এখন পাস হওয়া এই বিলের মাধ্যমে দলটির কার্যক্রম পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকছে।
-

সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছয় মাসের মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সাড়ে ১০ হাজার বিদ্যালয় ও কলেজে বিনামূল্যে Wi-Fi সংযোগ চালু করা হবে। এছাড়া, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আধুনিক মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। এই ঘোষণা তিনি আজ বুধবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী ইশতেহারে মাধ্যমিক স্তরে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ভিত্তিক টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের আধুনিকায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ফ্রি ওয়াই-ফাই প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক স্মার্ট ক্লাসরুমে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং নতুন কারিগরি কোর্সসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে, সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। ডিজিটাল বিভাজন কমাতে দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য অনন্য ‘এডু-আইডি’ চালু করা হবে।
আইসিটি বিভাগ পরিচালিত বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) মাধ্যমে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপস উন্নয়ন, পাইথন প্রোগ্রামিং ও AI-ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য শিক্ষাকে জাতির মূল বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ জন্য ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে তিনি প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেন এবং চলতি অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই লাখ শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের ঘোষণা দেন। এ ধরনের পরিকল্পনা সব উপজেলায় পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য সকল উপজেলায় স্কুল ফিডিং বা মিড ডে মিল চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর প্রশ্নের জবাবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানিয়েছেন, দেশের সব উপজেলা কেন্দ্রে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারি করতে ইতিবাচক চিন্তা চলছে।
-

লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশি নাগরিক আলী হোসেন (৪৯) নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোররাতে ঘটেছে। আলী হোসেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি এলাকায় বাস করতেন।
জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি ৮নং ওয়ার্ডের পানিয়ার টারি এলাকার সীমান্তে। বিজিবির সূ্ত্রে জানা যায়, তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীন ধবলগুড়ি বিএসএফ কলোনির কাছাকাছি শূন্য লাইনের কাছে রাত ২টা ৫০ মিনিট ও ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে পৃথকভাবে দুই দফায় গুলির শব্দ শোনা যায়। এই ঘটনাটি নিয়ে সকাল 6:35 মিনিটে বিজিবি ও বিএসএফের অধিনায়ক পর্যায়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ঘটে।
বিএসএফের দাবি, ঘটনা শুরু হয় যখন ৭ থেকে ৮ জন বাংলাদেশি সীমান্তের তারকা-বাঁধ কাটার জন্য ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পরে বিএসএফ সদস্যরা সতর্কতামূলক গুলি চালায়। এরপর চোরাকারবারিদের সাথে বিএসএফের ধস্তাধস্তি হয়, এবং এই পরিস্থিতিতে বিএসএফ গুলি চালালে আলী হোসেন গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত ভারতীয় বিএসএফের হেফাজতে নিয়ে সেখানে চিকিৎসকদের কাছে নেয়া হলে, চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
61 বিজিবির তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম নিশ্চিত করেছেন, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিরসনের প্রক্রিয়া চলমান।
