ইরানে যুদ্ধের কারণে দেশের জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের কোনও সংকট নেই। সম্প্রতি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন, ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বিবাদ এবং ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা লক্ষ্য করা গেলেও, এটি মূলত অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
বুধবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আশ্বস্ত করে বলেছেন, দেশের জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে এবং চলতি মাসে আরও তেল আমদানি করা হবে। সরকার সব সম্ভাব্য উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে দেশের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিকটন ডিজেল মজুত আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ ৩০ এপ্রিলের মধ্যে, আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিকটন ডিজেল দেশে আসবে।
অতিরিক্ত জানানো হয়, অকটেনের মজুত রয়েছে ১০ হাজার ৪০০ মেট্রিকটন। চলতি মাসের মধ্যে আরও ৭১ হাজার মেট্রিকটন অকটেন সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি, পেট্রোলের মজুত এখন রয়েছে ১৬ হাজার মেট্রিকটন, এবং আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার মেট্রিকটন পেট্রোলও দেশে পৌঁছাবে।
জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, এখনই দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। তবে আগামী মাসে বিষয়টি আলোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অপরদিকে, অবৈধ মজুৎ ও কালোবাজারি বন্ধ করতে চালানো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত এক মাসে এই ধরনের অভিযানে ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
