Category: জাতীয়

  • প্রতিনিধি সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে পাঁচটি স্থানীয় সরকার বিল পাস

    প্রতিনিধি সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে পাঁচটি স্থানীয় সরকার বিল পাস

    জাতীয় সংসদে ‘‘বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে’’ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি সংশোধনী বিল কণ্ঠভোটে পাস করা হয়েছে। বিরোধীরা সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেও সরকার বলছে, স্থানীয় সেবা বজায় রাখা এবং দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করতে এই ব্যবস্থা প্রয়োজন।

    বৃহস্পতিবার উত্থাপিত ও পাসকৃত বিলগুলো হচ্ছে — স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ সংশোধন বিল, ২০২৬; উপজেলা পরিষদ সংশোধন বিল, ২০২৬; জেলা পরিষদ সংশোধন বিল, ২০২৬; স্থানীয় সরকার পৌরসভা সংশোধন বিল, ২০২৬; এবং স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন সংশোধন বিল, ২০২৬। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে বিলগুলো তোলেন।

    সরকারি যুক্তি ও ঐতিহ্যগত ব্যাখ্যা

    প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অনেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন, পলাতক ছিলেন বা আত্মগোপনে ছিলেন; এর ফলে স্থানীয় সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। সেই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছিল; এখন তা আইনে রূপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে সংশোধনীগুলো স্থায়ী প্রশাসক বসিয়ে রাখার জন্য নয়, বরং নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা রাখার উদ্দেশ্যেই আনা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার বিধানও বাতিল করা হচ্ছে, যা বিরোধীদের আপত্তি ছিল না বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

    বাঁচিয়ে রাখা বনাম সংবিধানগত প্রশ্ন

    জেলায় (জেলা পরিষদ) সংশোধনী বিল নিয়ে সবচেয়ে তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যশোরের সাংসদ গাজী এনামুল হক বলছেন, বিলটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১, ৫৯ ও ৯৩-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক; সংবিধান অনুযায়ী প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। তিনি অতীতের আদালতের রায়ও টেনে এনে বলেন, স্থানীয় সরকার ভেঙে সরকারি কর্মকর্তা বসানোর বিষয়ে অতীতে আদালত আপত্তি জানিয়েছে।

    পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা নিয়ে বিরোধীদের আশঙ্কা

    পৌরসভা বিল উত্থাপনের সময় পাবনা-১ আসনের এমপি নাজিবুর রহমান বলেছিলেন, স্থানীয় সরকার পরিচালিত হওয়ার কথা নির্বাচিতদের মাধ্যমে; অনির্বাচিত প্রশাসক বসানো গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ‘‘বিশেষ পরিস্থিতি’’ শব্দটির কোনো স্পষ্ট মানদণ্ড না থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আশঙ্কা দেখান যে ভবিষ্যতে এটি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার হতে পারে।

    সিটি করপোরেশন বিলের সময় এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ বলেন, এই বিধান নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরিয়ে ‘‘দলীয়ভাবে পছন্দের লোক’’ বসানোর পথ খুলে দেবে এবং এভাবে আইন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে কালো দাগ হয়ে থাকবে। মীর শাহে আলম জবাবে জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে মেয়র ও কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগের বিধান আরও স্পষ্ট করা হয়েছে; পাশাপাশি সিটি করপোরেশন এলাকায় কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতাও যুক্ত করা হচ্ছে।

    উপজেলা সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম বলছেন, একই ধরনের আইন বারবার আনা হলে তা ভবিষ্যতে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে; তিনি দাবি করেন, আইন করলে নির্দিষ্ট দোষ প্রমাণিত হলে তবেই অপসারণের বন্দোবস্ত রাখা উচিত। প্রতিমন্ত্রী আলাদা করে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন আইন পাস হলে দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পূরণ করা হবে এবং সরকারের উদ্দেশ্য স্থানীয় সরকারে স্থায়ীভাবে প্রশাসক বসিয়ে রাখা নয়।

    ইউনিয়ন পরিষদ বিলটি তুলনামূলকভাবে কম বিতর্কে পাস হয়। বাকি চার বিল উপস্থাপনার সময় তীব্র তর্ক-বিতর্ক ও আপত্তি থাকলেও সবই কণ্ঠভোটে পাস করে। জেলা পরিষদ ও পৌরসভা বিল পার হওয়ার পর বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন।

    এক দিনে ৩১টি বিল

    দিনটি ছিল আইনপাশ করার দিক থেকে ব্যস্ত—সাংসদে একই অধিবেশনে মোট ৩১টি বিল পাস করা হয়, যার মধ্যে স্থানীয় সরকারের ওপরের পাঁচটি সংশোধনী ছাড়াও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট, বাংলাদেশ গ্যাস সংশোধন, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা বিলসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিল রয়েছে।

    নিষ্কর্ষ

    সরকার বলছে, অন্তর্বর্তী সময়ের দেওয়া সুবিধাগুলোকে আইনে রূপ দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ধারাবাহিকতা ও সেবা সচল রাখা হচ্ছে এবং তা নির্বাচনের মাধ্যমে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু বিরোধীরাও বলছেন, ‘‘বিশেষ পরিস্থিতি’’–এর অনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতে রেখে দেয়া হলে তা ভবিষ্যতে দমন বা রাজনৈতিক ব্যবহারের বিপদ ডেকে আনতে পারে। ঐতিহ্যগতভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা ও সংবিধান সম্মত ব্যবস্থা রক্ষা করাই তর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রয়ে গেছে।

  • বিল উত্থাপন করতে থমকে গেলেন প্রতিমন্ত্রী নুর; স্পিকার বললেন ‘আবার বলুন’

    বিল উত্থাপন করতে থমকে গেলেন প্রতিমন্ত্রী নুর; স্পিকার বললেন ‘আবার বলুন’

    বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে বিল উত্থাপন করতে গিয়ে কিছুটা থমকে পড়েন শ্রম ও কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নুরুল হক নুর। সংসদের বার্তা দেওয়ার সময়ে বিলের সঠিক প্রস্তাবনা পাঠে সমস্যা হওয়ায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ severalবার তাকে পুনরায় বলার অনুরোধ করেন।

    সকাল ১১টার দিকে ১২তম দিনের অধিবেশন চলাকালে প্রতিমন্ত্রী ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন-২০১৩’ সংশোধনের প্রস্তাবিত খসড়া—’বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী সংশোধন বিল-২০২৬’ উত্থাপন করতে গিয়ে পুরোটা স্পষ্টভাবে পড়তে পারছিলেন না। একাধিকবার শব্দ ধরে না পড়ায় স্পিকার দ্রুত বলে উঠেন, ‘‘আবার বলুন।’’

    প্রতিমন্ত্রী পরে পেশকৃত বক্তব্যে বলেছিলেন, “আমি মোহাম্মদ নুরুল হক, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন-২০১৩ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে আনিত বিলটি বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী সংশোধন বিল-২০২৬ উত্থাপিত আকারে অবিলম্বে বিবেচনা করা হোক।” স্পিকারের অনুরোধে তিনি এই বাক্যটি পুনরায় জোর করে পেশ করেন এবং শেষ পর্যন্ত বিলটি সংবিধানানুগভাবে উত্থাপন হয়ে সংসদে তুলনা হয়।

    ঘটনাটি ছিল সংক্ষিপ্ত ও নির্বিঘ্ন; এরপর সংসদে বিলটি প্রকৃতভাবে আলোচনা ও ভোটের মাধ্যমে অনুমোদন করা হয়। স্পিকারও পরিস্থিতি সহজে সামাল দিয়ে সংসদের নিয়ম অনুযায়ী বিলের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করান।

    সংক্ষেপে, গেজেট ও প্রস্তাব পাঠের ছোটখাটো বাধা সত্ত্বেও প্রতিমন্ত্রী পুনরায় ঠিকভাবে বিলটি উত্থাপন করতে সক্ষম হন এবং ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী সংশোধন বিল-২০২৬’ সংসদে পাশ হয়ে যায়।

  • জামায়াতসহ বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন

    জামায়াতসহ বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন

    বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো ওয়াকআউট করেছে।

    বিরোধীদলের নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ওয়াকঅউট ঘোষণা করে বলেন, ‘বিরোধী দলের যৌক্তিক আপত্তি সত্ত্বেও গণবিরোধী বিলগুলো পাস করা হয়েছে। এসব বিলের দায় আমরা নিতে চাই না, তাই আমরা সংসদ থেকে বের হয়ে যাচ্ছি।’ তার বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একের পর এক অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।

    ডেপুটি স্পিকার ওয়াকআউট ঘোষণা হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কিছু বলার সুযোগ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে আইন প্রণয়নের সব রিডিং—ফাস্ট রিডিং, সেকেন্ড রিডিং, থার্ড রিডিং—এ বিরোধী দল অংশগ্রহণ করেছে; কেউ কেউ হাত তুলে সমর্থনও জানিয়েছেন। তিনি বিষয়টিকে দায়সারা করে বলেন, সমস্ত প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে এখন ওয়াকআউটের কোনো মানে আছে কিনা তা বোঝার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ এবং আশা প্রকাশ করেন যে মাগরিব নামাজের পর তারা পুনরায় অধিবেশনে যোগ দেবেন।

    এর আগে জেলা পরিষদ (সংশোধিত) বিল ও পৌরসভা (সংশোধিত) বিল কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। এ দিন মোট ১২টি বিল পাস করা হয়েছে। এদের মধ্যে নয়টি বিল পূর্বে জারি করা অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যादेशগুলো অবিকল রেখে পাস করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু অধ্যাদেশ রহিত করে দুইটি বিল পাস করানো হয়েছে।

    বিশেষ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ রহিত করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলনের প্রয়োজনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬ পাস করা হয়েছে। একইভাবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫ রহিত করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে।

    বিরোধী দল বলেছে তারা এসব ‘গণবিরোধী’ বিলের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং তাই সংসদ থেকে বেরিয়ে গেছেন; অথচ সরকার প্রতিনিধি বলছেন যে অধিবেশনে অংশগ্রহণ করায় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে এবং পরে বিরোধীদের পুনরায় অংশগ্রহণের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।

  • বিল উত্থাপনে থমকে পড়লেন প্রতিমন্ত্রী নুর; স্পিকার বললেন ‘আবার বলুন’

    বিল উত্থাপনে থমকে পড়লেন প্রতিমন্ত্রী নুর; স্পিকার বললেন ‘আবার বলুন’

    জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিল উত্থাপন শুরু করতেই মুহূর্তের জন্য থেমে যান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নুরুল হক নুর। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ severalবার তাকে সঠিকভাবে বিল উত্থাপনের সুযোগ দেন এবং বলেন, ‘আবার বলুন’।

    ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে, জাতীয় সংসদের বার্ষিক অধিবেশনের ১২তম দিনের সেশন চলাকালীন। প্রতিমন্ত্রী সংসদে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন-২০১৩ সংশোধনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী সংশোধন বিল-২০২৬’ উত্থাপন করার চেষ্টা করছিলেন। তিনি পেশকৃত বক্তব্যটি খণ্ড খণ্ডভাবেই পাঠ করতে থাকলে স্পিকার Severalবার তাকে পুনরায় বলতে অনুরোধ করেন।

    প্রতিমন্ত্রী মাইক হাতে বলতে থাকেন, “আমি মোহাম্মদ নুরুল হক, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন-২০১৩-এর অধিকতর সংশোধনকল্পে আনিত বিলটি মহান জাতীয় সংসদে…” স্পিকার তখন শোনার অনুরোধ করে বলেন, ‘আবার বলেন—অবিলম্বে বিবেচনার জন্য।’ প্রতিমন্ত্রী পুনরায় একই ঘোষণা উচ্চারণ করে বলেন, “বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী সংশোধন বিল-২০২৬ উত্থাপিত আকারে অবিলম্বে বিবেচনা করা হোক।”

    কয়েকবারের এই প্রক্রিয়ার পর শেষ পর্যন্ত সেই বিল সংসদে উত্থাপিত হয়ে সংসদে পাশ হয়। ঘটনাটি সংক্ষিপ্ত ক্‌রমানুশাসনের মধ্যেই ঘটে—স্পিকার গণসংবিধানগত প্রক্রিয়া বজায় রেখে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য পূর্ণ করাতে সহায়তা করেন এবং বিলটি গ্রহণ করা হয়।

  • রায় কার্যকর হলে ছেলেটির আত্মা শান্তি পাবে: শহীদ আবু সাঈদের মা

    রায় কার্যকর হলে ছেলেটির আত্মা শান্তি পাবে: শহীদ আবু সাঈদের মা

    রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেছেন, তার ছেলের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের রায় কার্যকর হলে তার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওই রায় ঘোষণার পর তিনি এ কথা বলেন।

    রায়ের পর আবু সাঈদের বড়ভাই আবু রায়হানও বলেন, ভাইকে হত্যায় যারা জড়িত তাদের সবাইকে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে—তবেই হত্যার ন্যায় বিচার সম্পূর্ণ হবে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন; এছাড়া অন্য Several আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদকালের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন।

    রায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ, গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডলকে প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।

    রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের জয়েন্ট চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী; সঙ্গে ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ওই হত্যার একটি ভিডিও দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে—ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ সড়কের ওপর দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং পুলিশের হাতে তার বুকে একের পর এক গুলি করা হচ্ছে। ওই ঘটনাটি আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত আগস্টের শুরুয়ে সরকারের পরিবর্তন ঘটেছে।

  • পুলিশ প্রশাসনে বড় রদবদল: চার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৬ কর্মকর্তার বদলি

    পুলিশ প্রশাসনে বড় রদবদল: চার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৬ কর্মকর্তার বদলি

    পুলিশ সদর দপ্তর বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) ছয়জন কর্মকর্তার বদলির আদেশ জারি করেছে। আদেশে চারজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ মোট ছয় কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্বে নিয়োগ ও স্থানান্তর করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বদলিগুলো জনস্বার্থসংক্রান্ত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।

    নিয়োগে বলা হয়েছে —

    মো. জাহিদুল ইসলাম (বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত) ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি হয়েছেন।

    মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন (গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে গতিস্থাপিত হয়েছেন।

    মো. কাজী হুমায়ুন রশীদ (মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োজিত হয়েছেন।

    সঞ্জীব ত্রিপুরা (সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি হয়েছেন।

    মো. এহসানুল হক (সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার) ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি হয়েছেন।

    মো. শরিফুল ইসলাম (এসবির সহকারী পুলিশ সুপার) likewise ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উল্লিখিত কর্মকর্তাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের নামের পাশে উল্লেখকৃত পদে ও স্থানে বদলি/পদায়ন করা হলো। একই সঙ্গে দুইটি পূর্বের বদলির আদেশ বাতিলের কথাও জানানো হয়েছে—

    ক্রমিক নং-১ এ বর্ণিত কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পাবনা হিসেবে বদলির আগের প্রজ্ঞাপন (নং-৪৪.০১.০০০০.০১১.১৯.০১০.২৬-১০৮৮, তারিখ: ২৫/৩/২০২৬) বাতিল করা হয়েছে।

    এছাড়া ক্রমিক নং-৩ এ বর্ণিত কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, র‍্যাব হিসেবে বদলির পূর্বের প্রজ্ঞাপন (নং-৪৪.০১.০০০০.০১১.১৯.০০৯.২৬-১০৩০, তারিখ: ১৬/৩/২০২৬) ও বাতিল করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে আরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, বদলিকৃত কর্মকর্তারা নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য আগামী ২২/৪/২০২৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তাদের বর্তমান দায়িত্বভার হস্তান্তর করবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ২৩/৪/২০২৬ থেকে তাদের অবমুক্ত বলে গণ্য করা হবে।

    পুলিশ সদর দপ্তর বদলিগুলো জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা সুনিশ্চিত করার উদ্দेश्यে নেওয়া হয়েছে বলে সূত্ররা জানিয়েছে।

  • বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও জাতীয় সংসদে দুটি বিল পাস

    বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও জাতীয় সংসদে দুটি বিল পাস

    আজ বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল অনুমোদন লাভ করে। প্রথমটি হলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬, যা বিরোধীদলের প্রতিবাদের মুখে কণ্ঠভোটে পাস হয়। তা উত্থাপনের সময়, এনসিপির সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কড়া আপত্তি তুলতে গেলে, সভায় উপস্থিত সদস্যরা তা নাকচ করে দেন। এই বিলটি পাসের মাধ্যমে ২০০৯ সালে প্রণীত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইনটি পুনরুদ্ধার হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন বিরুদ্ধে নানা বিতর্কের জন্ম দেয়। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারির কোনও অধ্যাদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অনেকে মনে করেন।

    নছিলেন বিশেষজ্ঞরা অনেকের মতে, এ বিলটি পাসের ফলস্বরূপ মানবাধিকার সংস্থার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং এটি রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কার্যকর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিরোধী দলের সদস্যরা। হাসনাত আবদুল্লাহ মন্তব্য করেন, ২০০৯ সালে তৈরি এই আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে মানবাধিকারের স্বার্থে নয়, বরং সরকারের মতপ্রতিষ্ঠা ও বিরোধী দল দমন করার জন্য তৈরি হয়েছিল। তিনি মনে করেন, এই বিলের মাধ্যমে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হবে এবং সরকার বাহিনী ও বিভিন্ন তদন্ত সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ড আরও স্বচ্ছতার অভাবে পরিচালিত হতে পারে।

    তাঁর আরো ব্যাখ্যায়, এই বিলের ফলে মানবাধিকার কমিশনকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে আশঙ্কা জোরদার হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের আইনটির ভেতরে মূলত সরকারি দপ্তর ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাই ছিল, যেখানে সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা থাকতেন। এছাড়া, বিভিন্ন বাহিনী ও শক্তিশালী সংস্থার বিরোধী তদন্তে বাধা দেওয়া কিংবা তাদের ওপর নির্ভরতা থাকছে। এই পরিস্থিতিতে, বর্তমান সংসদে এই বিল পাসের সিদ্ধান্ত বাস্তব বিপদের ঝুঁকি বাড়ায়।

    বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এই বিতর্কিত বিষয়ের ওপর আরও সময় প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। স্পিকার বলেন, অতীতের সংসদে এই ধরনের বিষয়গুলোতে খুব কম সময় দেওয়া হত, তাই তিনি প্রস্তাব করেন সময়ের সীমাবদ্ধতা না রেখে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করার।

    শেষমেশ, হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যদি এই বিলটি ২০২৪ সালের মে মাসে উত্থাপিত হতো, তাহলে কোনও সদস্যই এর বিরোধিতা করতেন না। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তিনি জানান, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের সময়ে এই বিলের বিরোধিতা ছিল না, কিন্তু বর্তমানে নম্বর বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তনে একে প্রত্যাখ্যান করা হয়। তিনি দৃঢ়ভাবে মন্তব্য করেন, এই সংসদে এই বিল অবশ্যই পাস হবে।

    আরেকদিকে, বিরোধীপক্ষের আপত্তির মুখে সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণের) বিল-২০২৬ও আজ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই দুটি বিল পাসের ফলে সরকারের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সম্পর্কিত নিয়ন্ত্রণ জোরদার হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশ্লেষকরা।

  • লালমনিরহাটের সাবেক এমপি সফুরা বেগম ঢাকায় গ্রেপ্তার

    লালমনিরহাটের সাবেক এমপি সফুরা বেগম ঢাকায় গ্রেপ্তার

    লালমনিরহাটের সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সফুরা বেগম রুমি ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বুধবার (৮ এপ্রিল) এই অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে। ওসি সাদ আহমেদ এই সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    সফুরা বেগম লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে তিনি গোপনবাসে ছিলেন বলেও ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের কারণে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের ঘটনা ঘটে। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান, অন্য নেতারাও দেশের বাইরে অবস্থান করেন। যারা দেশে থেকেই আত্মগোপনে থাকেন, তাদের মধ্যে সফুরাও একজন।

    অভিযানের সময় জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলার পাশাপাশি হত্যার অভিযোগও রয়েছে। বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতাকেও দেশত্যাগ বা গোপনে থাকলেও সফুরা বেগমের মতো নেত্রীকে গ্রেপ্তার করে দেশিয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

  • গণপরিবহনের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে ভাড়া দেখা যাবে: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

    গণপরিবহনের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে ভাড়া দেখা যাবে: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই এসি বাস ও মিনিবাসের ভাড়ার তালিকা তৈরি ও প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি, গণপরিবহনের ভিতরে ডাইরেক্টলি ভাড়া দেখানোর জন্য ডিজিটাল ডিসপ্লে বসানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আজ বৃহস্পতিবার সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে এই পরিকল্পনা জানান।

    সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আরও বলেন, সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী দেশের প্রতিটি মহানগর, বিভাগ ও জেলায় একটা করে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি তাদের এলাকার রাস্তার ধারণক্ষমতা ও চাহিদা অনুযায়ী পরিবহন যানের সংখ্যা নির্ধারণ করে এবং রুট পারমিট অনুমোদন দেয়।

    তিনি আরও জানান, সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর অধীনে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গেজেট অপারেট করে গণপরিবহনের ভাড়ার হার ও সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করে। এরপর, বিআরটিএ তাদের ওয়েবসাইটে এই ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করে এবং পরিবহন মালিক ও প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা দেয় যাতে তারা যেন তাদের যানবাহনে ভাড়া সম্পর্কিত তথ্য স্পষ্টভাবে দেখাতে পারে।

    শেখ রবিউল আলম সংক্ষেপে জানান, বর্তমানে নন-এসি বাস ও মিনিবাসের ভাড়ার তালিকা বিদ্যমান রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ যাত্রীর জন্য ভাড়া সম্পর্কিত তথ্য আরও সহজভাবে দেখতে ও বোঝাতে সক্ষম হবে।

  • অস্ত্র মামলায় ফয়সাল করিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    অস্ত্র মামলায় ফয়সাল করিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    ঢাকার আদালত আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ফয়সাল করিমকে অস্ত্র আইনের মামলায় দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। এই আসামি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন। রায়ের সময় ফয়সাল করিম পলাতক ছিলেন, তাই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে র‌্যাব-২ অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান পায়। অভিযানের সময় পালানোর চেষ্টার সময় ফয়সাল করিমকে আটক করা হয়। তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে চার রাউন্ড গুলি, বিদেশি পিস্তল ও আলামত উদ্ধার করা হয়।

    এরপর পরদিন আদাবর থানায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে র‌্যাব হাবিলদার মশিউর রহমান। মামলার অভিযোগে জানা যায়, ফয়সাল করিম এলাকায় চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও জমি দখলকারি। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি সংঘবদ্ধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি, খুন-খ dest, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি অবৈধ অস্ত্র নিজের কাছে রেখেছিলেন বলেও অভিযোগে বলা হয়।

    তদন্তের পর, গত বছরের ২৮ মার্চ, আদালত অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার চলাকালে ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।

    ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফয়সাল করিম জামিনে ছিলেন। এরপর ওসমান হাদি হত্যা মামলার ঘটনায় তিনি প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে গোপন সূত্রে জানা গেছে, তিনি গত মাসে ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছ।