Category: জাতীয়

  • মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

    মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাব অনুযায়ী গত মার্চ মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৫৭৬টি; এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৩২ জন এবং আহত হয়েছেন ২,২২১ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন রয়েছে।

    একই সময়ে জলপথে ১৪টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ ছিলেন। রেলপথে ঘটে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন প্রাণ হারান এবং ২২৪ জন আহত হন।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশন শনিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদাটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং ফাউন্ডেশনের নিজস্ব তথ্য।

    যানবাহনভিত্তিক তদন্তে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী সর্বাধিক—২০৪ জন; তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা) ৯৪ জন; প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস আরোহী ৪৬ জন; বাসের যাত্রী ৪৫ জন; ট্রাক/পিকআপ/ট্রাক্টর আরোহী ২৮ জন; স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২৩ জন (নসিমন, পাখিভ্যান, ভটভটি, টমটম, মাহিন্দ্র) এবং সাইকেল আরোহী ১৩ জন ছিলেন।

    দুর্ঘটনার ধরনে ১৬৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৩১টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা, ৮৬টি পথচারীকে চাপা/ধাক্কা, ৮২টি ব্যাক-এন্ড (পেছনে ধাক্কা) দুর্ঘটনা এবং ১১টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে। সড়কে সংঘটিত এসব ঘটনায় মোট ১,০০৮টি যানবাহন জড়িত ছিল। যানবাহনের ধরন অনুযায়ী ভাঙা পরিসংখ্যানে বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি, মোটরসাইকেল ২৪৪টি, তিন চাকা ২০০টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৬৫টি, প্রাইভেটকার ৪২টি, পিকআপ ৪১টি, কাভার্ড ভ্যান ৩৭টি সহ অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের গাড়ি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    ভৌগোলিকভাবে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি—১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম—২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় মার্চে ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।

    ফেব্রুয়ারিতে দেশে প্রতিদিন গড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছিল ১৫.৪২ জন; মার্চে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.১৬ জন—ফলে মৃত্যুহার বেড়েছে প্রায় ১১.২৮ শতাংশ। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে অধিকাংশ দুর্ঘটনার কারণ অতিরিক্ত গতি; ফলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারায়। তারা আরও বলেছে যেসব কারণে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে সেগুলো হলো ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, খারাপ সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, অদক্ষতা এবং শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা।

    ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছে—গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি বাড়ানো, চালকদের প্রেরণামূলক ও দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ দেয়া এবং দুর্বল সড়ক ও যানবাহন সমূহ দ্রুত সংস্কার করা। এসব উদ্যোগ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধ করা যাবে না, তাদের মত।

  • রোড সেফটি ফাউন্ডেশন: মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশন: মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে সারাদেশে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত ও ২,২২১ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন রয়েছে।

    রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, একই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ ছিল। রেলপথে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন প্রাণ হারান এবং ২২৪ জন আহত হন।

    এই তথ্য জানিয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেন, প্রতিবেদনটি তৈরি করতে তারা ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজেদের তথ্য ব্যবহার করেছে।

    যানবাহনভিত্তিক নিহতের বিশ্লেষণে দেখা যায়— মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২০৪ জন, তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা) ৯৪ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস আরোহী ৪৬ জন, বাস যাত্রী ৪৫ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন, পাখিভ্যান, ভটভটি, টমটম, মাহিন্দ্র) ২৩ জন এবং সাইকেল আরোহী ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

    দুর্ঘটনার ভৌগলিক বিশ্লেষণে মোট ৫৭৬টির মধ্যে ১৭১টি জাতীয় মহাসড়কে, ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭০টি গ্রামীণ সড়কে, ৬২টি শহরের সড়কে এবং ৯টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী ১৬৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৩১টি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানো, ৮৬টি পথচারী চাপা বা ধাক্কা, ৮২টি পেছন থেকে আঘাত ও ১১টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

    মার্চে মোট ১,০০৮টি যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল; এর মধ্যে বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি, মোটরসাইকেল ২৪৪টি, তিন চাকা ২০০টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৬৫টি, প্রাইভেটকার ৪২টি, মাইক্রোবাস ১৯টি সহ নানা ধরনের যানবাহন রয়েছে।

    আঞ্চলিক দিক দিয়ে ঢাকার বিভাগে সবচেয়ে বেশি — ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা সিলেট বিভাগে— ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।

    ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছিলেন ১৫.৪২ জন, সেখানে মার্চে এটি বেড়ে হয়েছে ১৭.১৬ জন— যা প্রায় ১১.২৮ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করে অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ অতিরিক্ত গতি, যার ফলে চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারান। তারা সুপারিশ করেছে গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো এবং চালকদের প্রেরণামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।

    সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অপর প্রধান কারণ হিসেবে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, খারাপ বা ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা এবং শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা। তারা সুদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

  • ভারতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি পুনর্ব্যক্ত, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা

    ভারতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি পুনর্ব্যক্ত, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা

    ঢাকা ভারতকে আবারও অনুরোধ করেছে—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি এসব কথা বলেছেন শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসের পোর্ট লুইসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের কথাও আভাস দেন। এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

    খলিলুর রহমান জানান, চলতি সপ্তাহে (৮ এপ্রিল) দিল্লি সফরে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে, তিনি বলেন, ‘‘বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আমরা আগেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছি এবং এই সফরে আমরা সেই দাবিটি পুনরাবৃত্তি করেছি।’’ তবে কৌশলগত কারণে আলোচনার সব বিশদ এখনই প্রকাশ করেননি তিনি।

    প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-আন্দোলনের পরে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন এবং দিল্লিতে অবস্থান করছেন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে ভারত সরকারের বিবেচনাধীন।

    সূত্রানুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে খলিলুরের দিল্লি সফরের কয়েক দিন পর বাংলাদেশ সরকার নির্দেশিকাভাবে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়—যাতে বলা হয়, বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁদের প্রত্যর্পণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত প্রত্যর্পণের অনুরোধটি ভারতের নিজস্ব বিচারিক এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে এবং ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর সম্পর্কে খলিলুর বলেন, ‘‘সফরটি অবশ্যই হবে, তবে এখনই তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি। আগামি কয়েক সপ্তাহে এই সফরের প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হবে।’ তিনি আরও জানান, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে চিঠি আদান-প্রদান করেছেন এবং টেলিফোনে কথা বলেছেন; উভয় পক্ষই সম্পর্ককে এগিয়ে নেবার ব্যাপারে জোর দিনছেন।

    দিল্লির বৈঠকে বাংলাদেশ সীমিত হারায় কার্যরত ভিসা প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর অনুরোধ করেছে বলে খলিলুর জানান। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় ভারতীয় সহযোগিতার আবেদনও করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘এই সংকট আরও জটিল হতে পারে। ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটের মতো এটি উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে—এই সমস্যার সম্মুখীন হলে আমাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’’

    খলিলুর জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এ বছর বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে আঞ্চলিক এই জোটকে সক্রিয় করতে আগ্রহী। পাশাপাশি দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা সার্ক সম্মেলন পুনরায় শুরু করার কথাও তিনি বলেছেন—যদি সদস্য দেশগুলো অংশ নেয়ার কারণগুলো দূর করা যায়, তবে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বাধা থাকার কথা নয়।

    খলিলুর দিল্লির বৈঠকগুলো নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পর্কের অগ্রযাত্রা দেখা যাবে বলে আমি নিশ্চিত।’’

  • র‍্যাব তৈরি করছে নিরপেক্ষ চাঁদাবাজদের তালিকা, অভিযান যেকোনো সময়ে

    র‍্যাব তৈরি করছে নিরপেক্ষ চাঁদাবাজদের তালিকা, অভিযান যেকোনো সময়ে

    র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) চাঁদাবাজদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা প্রস্তুত করছে এবং তালিকা শেষে তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো সময় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে। র‍্যাব বলছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

    শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় চাঁদাবাজদের একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

    ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, র‍্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তালিকাভুক্তদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন।

    র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজি কোনো এক খাতে সীমাবদ্ধ নয়—এটি মহাসড়ক কেন্দ্রিক পরিবহন খাত, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি সহ বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে। ছোট স্তরের থেকে বড় পর্যায়ের সব ধরনের অপরাধীরাই তালিকার মধ্যে থাকবে।

    বক্তা আরও জানান, অনেক ভুক্তভোগী ভয় বা নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযোগ করেন না, তাই তালিকা তৈরিতে গোয়েন্দা তথ্য, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে নেয়া হচ্ছে।

    তালিকায় যদি রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম আসে কি হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, তালিকা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ; কোনো ধরনের পক্ষপাত থাকবে না। যাঁরা অপরাধ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান বা পরিচয় নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, তালিকা প্রস্তুত হলেই দ্রুত মাঠে অভিযান শুরু করা হবে এবং তা আজ থেকেই হতে পারে।

  • লন্ডন হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন পদত্যাগ

    লন্ডন হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন পদত্যাগ

    লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন আকবর হোসেন। তিনি একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্ট্যাটাসে আকবর হোসেন বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে লন্ডনে দীর্ঘমেয়াদীভাবে দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না এবং তাঁর এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ের সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন।

    আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে নিয়োগ দেয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগ কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপনে নিয়োগপ্রাপ্তদের অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি/আধা সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করে দায়িত্ব গ্রহণের শর্তও উল্লেখ ছিল।

    লন্ডনে নিয়োগ পাওয়ার আগে আকবর হোসেন বিবিসি বাংলা সার্ভিসের ঢাকা অফিসে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছিলেন।

  • সৈয়দপুরে হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, ঢাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হবে

    সৈয়দপুরে হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, ঢাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হবে

    দুই দিনের সফরে নিজ জেলা লালমনিরহাটে যাচ্ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। হঠাৎ করে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই ঘটনার পরই দ্রুত তার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সৈয়দপুরের রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার। তিনি জানান, শনিবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে এসে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি রেস্টরুমে বসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখনই হঠাৎ মাথা ঘুরে অস্বস্তি অনুভব করেন। পরে দ্রুত তাকে সৈয়দপুর সেনানিবাসের সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়।

    গফুর সরকার আরও বলেন, নেতাকর্মীদের পরামর্শে তাকে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের বিমানে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা সিদ্ধান্ত নেন, তাকে সরাসরি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হবে। এয়ামুহূর্তে সৈয়দপুরে অবস্থানরত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার জন্য রওনা দিয়েছে, যেখানে তাকে সুচিকিৎসার্থে পৌঁছে দেওয়া হবে।

  • শিক্ষামন্ত্রী মনোযোগ দিলেন পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের সমস্যায়

    শিক্ষামন্ত্রী মনোযোগ দিলেন পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের সমস্যায়

    পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ করছে যে, তাদের ক্লাস নিয়মিত হয় না এবং হাতে-কলমে শেখার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও রসদ নেই। ল্যাবের যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে গেছে এবং বিজ্ঞানগত দক্ষ শিক্ষকও পাওয়া যায় না। এসব সমস্যা শুনে শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, পরীক্ষা আসছে, যদি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা না করতে পারে, তবে ফলাফল তেমন সুইসFbNa হবে না।তবে, পরীক্ষায় না পারলে তুমিও ফেল করবে আর ছয় মাস পরে আমিও ফেল করব। তারা যেন বোঝে, কাউকেই এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করা যাবে না। নিজের মুক্ত আলোচনায় এই মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো ভালোভাবেই শুনে গিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানার জন্য নির্দেশ দেন।কিছু শিক্ষার্থী জানান, ক্লাস হয় না, প্র‍্যাকটিক্যাল কাজ আটকে যায় এবং বোঝার সুবিধা হয় না। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী নিহাল উদ্দীন সরকার বলেন, ‘আমাদের কোনও পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি বা আধুনিক সুবিধা নেই। ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনে ক্লাস ও ল্যাব পরিচালনা করা হয়, ফলে আধুনিক মানের শিক্ষাদানের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সুযোগ-সুবিধা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্র্যাকটিক্যাল কাজ ও প্রশিক্ষণ ঠিকভাবে দেওয়া সম্ভব হয় না।’ অন্য এক শিক্ষার্থী আবু জার গিফারি অভিযোগ করেন, অষ্টম সেমিস্টারে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর কথা থাকলেও সেটি হয় না বা ঢাকার ভালো প্রতিষ্ঠানেও তার শিক্ষার্থীরা নেওয়া হয় না। শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে রাজশাহী পলিটেকনিকের প্রিন্সিপালের কাছে জানতে চান। প্রিন্সিপাল জানান, ইন্ডাস্ট্রির লোকজন শিক্ষার্থীদের নিতে চায় না। এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির চুক্তি রয়েছে, তাই শিক্ষার্থীদের অবশ্যই প্রতিষ্ঠানে নেওয়া উচিত। মেশিনারি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কেনো এটা হচ্ছে না, তার কারণ খুঁজে বের করতে বলেন।তিনি আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সরকার অনেক কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষায় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হচ্ছে এবং আমরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি সমস্যা শুনে নিশ্চিত করছি, যেখানে যেখানে সমস্যা আছে, সেখানে দ্রুত কাজ শুরু করব। এর জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহণ করব।’ শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও সংকটের ব্যাপারে সচেতন হতে পারে এটাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।একজন শিক্ষক জানান, পলিটেকনিকের ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে, তাদের এই হার কমানোর জন্য সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে উত্‍কলন প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, ১৯ জন শিক্ষক অভিযোগ করেন, সাত বছর চাকরি করে তাদের এখনও বেতনের টাকা পাননি। শিক্ষামন্ত্রী আশ্বাস দেন, তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে তাঁদের নিয়োগের ব্যবস্থা করবেন।উপস্থিত ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, রাজশাহী বিভাগের কমিশনার বজলুর রশীদ এবং বিভিন্ন শিক্ষাবিষয়ক পর্যায়ের কর্মকর্তারা। সমগ্র অনুষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে জোর দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ভালো শিক্ষা পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

  • মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৩২ জন: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

    মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৩২ জন: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

    গত মার্চ মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় মোট নিহত হন ৫৩২ জন এবং আহত হন ২ হাজার ২২১ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন। এছাড়াও এই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, ৪৮টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সূত্রে জানানো হয়েছে, আজ (শনিবার) সকালে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এই প্রতিবেদনটি তৈরি করতে তারা ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদপোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং তাদের নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে তথ্য সংগ্রহ করেছে।

    নিহতদের বা আহতদের তালিকায় যানবাহনের ভিত্তিতে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২০৪ জন, বাসে যাত্রী ৪৫ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের ৪৬ জন, তিন চাকার যানবাহনের (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা) ৯৪ জন, স্থানীয় যানবাহন (নসিমন, পাখিভ্যান, ভটভটি, টমটম, মাহিন্দ্র) ২৩ জন এবং সাইকেল আরোহী ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

    এছাড়াও, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ ঘটে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে—যেমন: ১৭১টি সংঘটিত হয়েছে জাতীয় মহাসড়কে, ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭০টি গ্রামীণ সড়কে, ৬২টি শহরের সড়কে এবং ৯টি অন্যান্য স্থানে। দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী বলতে হয়, মুখোমুখি সংঘর্ষ ১৬৬টি, নিয়ন্ত্রণ হারানো ২৩১টি, পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা মারা ৮৬টি, যানবাহনের পেছনে আঘাত ৮২টি এবং অন্যান্য কারণে ১১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মোট সংখ্যা ছিল ১,৮০০টির বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ২৪৪টি মোটরসাইকেল আরোহী, বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি, কাভার্ড ভ্যান ৩৭টি, পিকআপ ৪১টি, ট্রাক্টর ১৬টি, ট্রলি ৬টি, লরি ৭টি, ড্রাম ট্রাক ১৬টি, হ্যান্ড ট্রলি ৩টি, পর্যটন জিপ ২টি, মাইক্রোবাস ১৯টি, প্রাইভেটকার ৪২টি, অ্যাম্বুলেন্স ২টি, পাজেরো জিপ ৮টি, সড়কের মোট অজ্ঞাত যানবাহন ৩২টি এবং কাঠামোগত অজানা যানবাহন ৩২টি।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যেখানে ১৩৭ জন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনা নেমে এসেছে যেখানে ২৬ জন নিহত হন। রাজধানী ঢাকা শহরেও গত মার্চে ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হন ৬৯ জন।

    এটি লক্ষ্য করা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে দৈনিক গড়ে ১৫.৪২ জনের প্রাণহানি ঘটলেও মার্চে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি দিন গড়ে ১৭.১৬ জন। অর্থাৎ, এই দুমাসের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কোথায় কোথায় বেড়েছে। মূল কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বেশি গতি ও নিয়ন্ত্রণের অভাব। বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গতি নিয়ন্ত্রণ ও চালকদের প্রশিক্ষণ অপরিহার্য হয়ে উঠছে।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলো হলো—ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, খারাপ সড়ক পরিস্থিতি, বেপরোয়া গতি, চালকদের মানসিক বেপরোয়া মনোভাব, অদক্ষতা এবং শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা। এসব কারণে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, এবং এর মোকাবেলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

  • লন্ডন হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে আকবর হোসেনের পদত্যাগ

    লন্ডন হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে আকবর হোসেনের পদত্যাগ

    লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আকবর হোসেন। ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এই খবর নিশ্চিত করেছেন। আকবর হোসেন জানান, তার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে লন্ডনে তার পক্ষে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ের সম্পর্ক নেই।

    ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁকে অন্তর্বর্তীকার্যক্রমে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রেস মিনিস্টার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এই নিয়োগ দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক। নিয়োগপ্রাপ্তদের অন্য পেশা, ব্যবসা বা কোন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে, সেটা শর্ত।

    আকবর হোসেন এর আগে বিবিসি বাংলার ঢাকা অফিসে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত কারণে তিনি এই পদ থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন।

  • বাজার থেকে সিন্ডিকেট শব্দটি সরিয়ে দিচ্ছে সরকার

    বাজার থেকে সিন্ডিকেট শব্দটি সরিয়ে দিচ্ছে সরকার

    বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে এখন থেকে কোনও সিন্ডিকেটের ব্যাপার থাকবে না। তিনি বলছেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের ধারণাটি সম্পূর্ণভাবে চিরতরে বন্ধ করা হবে। এর পরিবর্তে, বাজার পরিচালনার জন্য আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সিলেটের টিলাগড় এলাকায় জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে দেশের প্রথম সরাসরি বিক্রয় কেন্দ্র ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমদানির ওপর নির্ভরশীল পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে দেশের পুরো সাপ্লাই চেইনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এর ফলে বাজারের তদারকি আরও সহজ হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি বন্ধ করা সম্ভব হবে।

    এর পাশাপাশি তিনি জানান, সরকার প্রতিবছর টিসিবির মাধ্যমে প্রায় ৩২ থেকে ৩৩শ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়। এই ভর্তুকির চাপ কমানোর জন্য এবং সেবার উন্নত মান বজায় রাখতে টিসিবির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সিলেটের টিলাগড়ে নির্ধারিত স্থানে এই ‘কৃষকের হাট’ প্রতিদিন সকালে পরিচালিত হবে। এখানে সিলেটের প্রান্তিক কৃষকরা দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর সহায়তা ছাড়াই সরাসরি ভোক্তাদের কাছে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। বর্তমানে এক পণ্য কৃষকের মাঠ থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে বেশ কয়েকবার হাতবদল হয়, যার ফলে দাম বাড়লেও কৃষক ন্যায্য মূল্য পান না। ‘কৃষকের হাট’ এই চিত্রটি পরিবর্তন করে কৃষক এবং ভোক্তার মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী এক घोषणा করেন, দেশের সব জেলাতেই কৃষকরা অন্তত এক দিন সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন। এই জন্য প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসকদের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ক্রেতারা সাশ্রয়ী মূল্যে বিষমুক্ত, সতেজ সবজি পাবেন এবং কৃষকরাও তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য পান।

    সিলেট জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাজারে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সময়োপযোগী এবং ব্যতিক্রমী।