Category: জাতীয়

  • বিরোধীদলীয় নেতার প্রশ্ন: সংসদের কার্যপ্রক্রিয়া কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে?

    বিরোধীদলীয় নেতার প্রশ্ন: সংসদের কার্যপ্রক্রিয়া কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে?

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের ওঠানো যে সব আপত্তি ছিল সেগুলোকে সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। পরে কিছু সংযোজন করা হলেও তা কোনো স্বচ্ছ ও মানসম্মত প্রক্রিয়ায় করা হয়নি—এ থেকেই সমস্যা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিই যে কর্মকাণ্ডগুলো দেখা যাচ্ছে, সেগুলোকে সামনে রেখে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন: সংসদের প্রক্রিয়া কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে?

    শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাসের পর সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে সাংবাদিকদের এসব মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। চলতি সংসদে এ ছিল বিরোধী দলের চতুর্থবারের মতো ওয়াকআউট।

    তিনি বলেন, বিল পাসের অন্তত এক দিন আগে কাগজগুলো আমাদের দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু অধিবেশনে আমরা বসার পরই একে একে বিলগুলো আসে এবং রিপোর্টগুলো বিভিন্ন অংশে ভাগ করে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তারা কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে তোলেন এবং জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। এসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য যে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের কাজ হচ্ছে সুপারিশসহ সংসদে উপস্থাপন করা—বাদ বা সংযোজন করার এখতিয়ার তাদের নেই, কারণ এটি সংসদের সম্পত্তি।

    তিনি আরও বলেন, বাস্তবে দেখা গেছে এমন কথাও শোনা গেছে যে মন্ত্রী ছাড়া এই প্রক্রিয়া কার্যকর হবে না। এমনকি তাদের বোঝানো হয়েছে, আজ তারা বিরোধী দলেই থাকলেও ভবিষ্যতে সরকারি দলে গেলেই এ সুবিধা নেবেন। এ ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ডা. শফিক জানান, তারা এখানে কোনো সুবিধা নিতে আসে নি; তারা এসেছে জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য।

    স্বাভাবিক নিয়মে এক দিন আগেই ডকুমেন্ট সরবরাহ করা হয়নি, বলে অভিযোগ করেন তিনি। অধিবেশনে বসে আতঙ্কভাজনভাবে একের পরে এক প্রস্তাব সামনে আনা হলে, যা তারা দেখেনি বা বিবেচনা করার সময় পায়নি—এসবের ওপর কিভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে?—তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন।

    বিশেষ কমিটির ব্যাপারেও তাদের আস্থা ভঙ্গ হয়েছে বলেও জানান জামায়াত আমির। শুরুতে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত ওই কমিটিতে তারা আস্থাশীল ছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই আস্থা ভেঙে যায়। কিছু লোক দাবি করেছেন মন্ত্রী ছাড়া অন্যরা ‘বেসরকারি’ সদস্য; তাহলে সংস্কৃতি মন্ত্রী কেন এটি গ্রহণ করলেন—গ্রহণের পর তো আর তা বেসরকারি থাকবে না। বিষয়টি তোলার পর সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেছেন তিনি নিজে নাকি জানতেন না। একজন মন্ত্রী এমন কথা বললে আত্মপ্রশ্ন জাগে: এই প্রক্রিয়া কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে?

    স্পিকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়ার পর তাঁদের বলা হয় ‘আপাতত এভাবে পাস করে নেওয়া যাক, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আপনাদের বিল আনার সুযোগ থাকবে’। কিন্তু যারা নিজেরাই নিজেদের বিল ও প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখতে পারে না, তাদের ভবিষ্যৎ আশ্বাস বিরোধী দল গ্রহণ করবে না—এই বক্তব্যও তিনি দেন।

    অধ্যাদেশ সংক্রান্ত প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপিত হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ৩০ ক্যালেন্ডার দিনের মধ্যে এগুলোর নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। সেই দিন সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন সরকারি দলের সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের সদস্যরা সেখানে ছিলেন। একাধিক বৈঠকের পর হঠাৎ করেই একটি রিপোর্ট তৈরি হয়।

    বিরোধী দলের সদস্যরা ওই রিপোর্ট যৌথভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন করলে তারা জানান, এ ধরনের কোনো চূড়ান্ত বৈঠক হয়নি। তখনই তাদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।

    সব মিলিয়ে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সংসদের স্বত্ব রক্ষার দাবি নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলছে এবং এসব বোধগম্য ব্যাখ্যা না পেলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর অবস্থান নেবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

  • দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

    দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের অসীম দুর্নীতি ও লাগামছাড়া লুটপাটের ফলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের প্রান্তে পৌঁছেছে। তিনি সেমসঙ্গে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতগুলোও কার্যকরতা হারাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে (শুক্রবার) সকালে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। ওই দিন সংসদের সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    বিজ্ঞপ্তিতে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দায়িত্ব নেয়ার পর দেশ পরিচালনার সাংঘাতিক বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে; সেই দায়বোধ থেকেই ২০০৫–০৬ অর্থবছর, বিগত ২০২৩–২৪ অর্থবছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় হওয়া ২০২৪–২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থার তুলনামূলক চিত্র পরিবেশন করা হয়েছে।

    অর্থনৈতিক সূচকে ধস লক্ষ্যযোগ্য: ২০০৫–০৬ সালে স্থির মূল্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ, যা ২০২৩–২৪ সালে নেমে এসেছে ৪.২২ শতাংশে। সেইসাথে মূল্যস্ফীতি ৭.১৭ শতাংশ থেকে बढ़ে ৯.৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। শিল্পখাতের বৃদ্ধিও ১০.৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩.৫১ শতাংশে এবং কৃষিক্ষেত্রের প্রবৃদ্ধি ৫.৭৭ শতাংশ থেকে ৩.৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।

    শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না হওয়ার কারণে তরুণ প্রজন্ম বাধ্য হয়ে কৃষি বিভাগে ফিরে যাচ্ছেন; এতে ছদ্মবেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তরুণদের উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত হচ্ছে। বর্তমানে কৃষি খাতে মোট কর্মসংস্থানের ৪১ শতাংশ থাকলেও জাতীয় জিডিপিতে তার অংশ মাত্র ১১.৬ শতাংশ—এটি শ্রমের নিম্ন উৎপাদনশীলতা ও ‘জবলেস গ্রোথ’ বা কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধির সংকেত দেয়।

    সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ভারসাম্যও ঠেকেছে: ২০০৫–০৬ সালে জাতীয় সঞ্চয় ছিল ২৯.৯৪ শতাংশ, যা ২০২৩–২৪ সালে কমে ২৮.৪২ শতাংশে নেমেছে। মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার দর বাড়ার প্রভাব স্পষ্ট; ২০০৫–০৬ সালে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ছিল ৬৭.২ টাকা, যা ২০২৪–২৫ সালে বেড়ে ১২১ টাকায় দাঁড়িয়েছে—ফলে আমদানি ব্যয় ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।

    মুদ্রা সরবরাহ, রিজার্ভ ও ক্রেডিট প্রবৃদ্ধিও উদ্বেগজনকভাবে কমেছে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮.৩ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০২৪–২৫ সালে ৬.৫ শতাংশে নেমে এসেছে; এটি ব্যাংকিং সেক্টরের তারল্য সংকট ও বিনিয়োগ মন্থরতার বহিঃপ্রকাশ। রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি এবং রাজস্ব ফাঁকি ও অপচয় সরকারের আয় সংগ্রহ ক্ষমতা সীমিত করেছে। বাজেট ঘাটতি ২০০৫–০৬ সালের ২.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.০৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে অতিমূল্যায়ন এবং সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই বাস্তবায়নের কারণে সাধারণ মানুষ সেগুলোর সুফল পাচ্ছে না; বরং অনিয়ম ও লুটপাটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে বলে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী।

    ঋণ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০০৫–০৬ সালে সুদ পরিশোধে সরকার ব্যয় করত মাত্র ৮৫ বিলিয়ন টাকা; কিন্তু ২০২৩–২৪ সালে তা ১৩ গুণ বাড়িয়ে ১১৪৭ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বেসরকারি উদ্যোক্তা, বিশেষ করে এসএমই খাতের জন্য ঋণ প্রাপ্তি জটিল করে তুলেছে—যাকে ‘ক্রাউডিং আউট’ বলা হয়। রপ্তানি ও আমদানি প্রবৃদ্ধিও পূর্বের তুলনায় নেতিবাচক পর্যায়ে নেমে এসেছে। অবৈধ অর্থচক্র, হুন্ডি ও অর্থপাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিপজ্জনকভাবে নেমে আনুমানিক ২০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স উল্ল্Éেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী তার বিবৃতিতে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক দুরবস্থার পুঞ্জীভূত কারণগুলো সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গভীর ঘাটতি, অনিয়ম ও দুর্নীতি বলে উপসংহার টানেন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় তা দ্রুত সংশোধন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

  • দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের পথে: অর্থমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

    দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের পথে: অর্থমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গত ১৬ বছরে বিরামহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের ফলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে পৌঁছেছে এবং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তিনি এটি উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন যে এসব সমস্যা সমাধান না হলে সামনের দিনের উন্নয়ন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

    এ কথা তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে (শুক্রবার) সকালে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন। ১৩তম দিনে সংসদের উপস্থিত ছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান প্রশাসন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ফলাফল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং তারা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে। এ প্রেক্ষাপটেই তিনি ২০০৫-০৬ অর্থবছর, ২০২৩-২৪ অর্থবছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলো তুলে ধরে দেশবাসীর সামনে একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করেছেন।

    তথ্যগুলোতে দেখা যায়, যদিও মোট জিডিপির আকার বাড়ছে, ততটাই প্রকট হচ্ছে গভীর কাঠামোগত দুর্বলতা। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে স্থির মূল্যে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৭৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.১৭ শতাংশ; কিন্তু ২০২৩-২৪ শেষে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.২২ শতাংশে নেমে এসেছে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশ হয়েছে। শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি ১০.৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩.৫১ শতাংশে নেমেছে এবং কৃষিক্ষেত্রের প্রবৃদ্ধিও ৫.৭৭ শতাংশ থেকে ৩.৩০ শতাংশে নামিয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী বলছেন, শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় তরুণরা বাধ্য হয়ে কৃষি খাতে ফিরে যাচ্ছেন—যার ফল হিসেবে ছদ্ম বেকারত্ব বাড়ছে এবং যুবজনের আয় ও উৎপাদনশীলতা বাড়ার সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে কৃষি শেয়ার মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪১ শতাংশ হলেও জাতীয় আয়তে তার অংশ মাত্র ১১.৬ শতাংশ, যা শ্রমের নিম্ন উৎপাদনশীলতা ও কর্মসৃজনবিহীন বৃদ্ধির সতর্ক সংকেত।

    সঞ্চয় ও বিনিয়োগের অনুপাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—২০০৫-০৬ সালে জাতীয় সঞ্চয় ছিল ২৯.৯৪ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ সালে ২৮.৪২ শতাংশে নেমে এসেছে। মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি টাকার অভ্যন্তরীণ মানও উল্লেখযোগ্যভাবে ঘাটতি দেখা দিয়েছে; ২০০৫-০৬ সালে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ছিল প্রায় ৬৭.২ টাকা, যা ২০২৪-২৫ সালে প্রায় ১২১ টাকায় দাঁড়িয়েছে—ফলশ্রুতিতে আমদানি ও সাধারণ জীবনের ব্যয় বাড়েছে।

    অর্থ মন্ত্রীর ভাষ্য, মুদ্রা সরবরাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রবৃদ্ধিও চিন্তার বিষয়। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮.৩ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪-২৫ সালে মাত্র ৬.৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট ও বিনিয়োগের মন্থরতার প্রকাশ। রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিতভাবে বাড়েনি; রাজস্ব ফাঁকি ও অপচয় সরকারের আয় সংগ্রহের ক্ষমতা সীমিত করে রেখেছে। বাজেট ঘাটতি বেড়ে ২০০৫-০৬ সালের ২.৯ শতাংশ থেকে ৪.০৫ শতাংশে উঠেছে।

    অতিরিক্তভাবে, অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন বিগত সরকারের সময় বাস্তবায়িত অনেক মেগা প্রকল্প অতিমূল্যায়িত এবং যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই এগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে; ফলে নৈতিক খাত থেকে লক্ষ কোটি টাকা অবৈধভাবে বহির্গমন হয়েছে। ঋণ ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলতার ফলে সুদ পরিশোধের খরচ বাড়েছে—২০০৫-০৬ সালে যা ছিল প্রায় ৮৫ বিলিয়ন টাকা, তা ২০২৩-২৪ সালে বাড়ে ১১৪৭ বিলিয়ন টাকায়, এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরতা বেসরকারি খাত, বিশেষ করে এএসএমই উদ্যোগে ঋণগহ্বর সৃষ্টি করেছে (‘ক্রাউডিং আউট’)।

    রপ্তানি ও আমদানির প্রবৃদ্ধি ২০০৫-০৬ সালে ইতিবাচক থাকা সত্ত্বেও ২০২৩-২৪ সালে তা নেতিবাচক হয়েছে এবং আর্থিক দুৰ্নীতি, হুন্ডি ও অর্থ পাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মাত্র প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তবুও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে—এটাই বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক দিক বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।

    অর্থমন্ত্রী এসব পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে জোর দিয়ে বলেছেন—দেশকে সঠিক পথে ফেরাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি জরুরি।

  • বিরোধীর জনমত যাচাই প্রস্তাব নাকচ, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল-২০২৬’ সংসদে পাস

    বিরোধীর জনমত যাচাই প্রস্তাব নাকচ, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল-২০২৬’ সংসদে পাস

    কোটি কোটি আমানতকারীর সুরক্ষা ও ব্যাংক খাতে বিশৃঙ্খলা রোধের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ আলোচনা শেষে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্পিকার হাজী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিরোধী দলের আপত্তি এবং জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ করে বিলটি গৃহীত হয়।

    বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর আগে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন (ঢাকা-১২) বিলটির কঠোর সমালোচনা করে তা জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর দাবি তোলেন।

    বিরোধিতায় সাইফুল ইসলাম মিলন উচ্চস্বরে বলেন, আমানতকারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা উচিত। তার বক্তব্য, এই বিল আমানতকারীদের নিরাপত্তা দুর্বল করে দিচ্ছে এবং অতীতে রাজ্য কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ব্যাংক বাঁচানোর উদাহরণ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন—সেসব টাকা সাধারণ করদাতারই ছিল। তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন যে কোনও অপবাদমুক্ত বা ভঙ্গুর আইনি ধাঁচ থাকলে লুণ্ঠনকারীরা আইনি ফাঁকফোকর খুঁজে পেয়ে পলায়ন করতে পারবে।

    মিলন আরও যুক্তি দেখান যে পূর্বের নিয়মে ব্যাংক ডুবলে শেয়ারহোল্ডাররা প্রথমেই ক্ষতি বহন করতেন এবং আমানতকারীরা সুরক্ষিত থাকতেন। নতুন আইনি কাঠামো সেই চেইন অব কম্যান্ড ভাঙতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি ইসলামী ব্যাংকসহ কিছু ব্যাংকে বেনামি মালিকানার মাধ্যমে তৈরি বিশৃঙ্খলা রোধে আগের কঠোর বিধান বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার জোর দেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা এই বিলের কারণে সংকুচিত হবে বলে সর্তক করেন।

    বিরোধিতার জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তিনি আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও গুড গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা পরিবারের মতো তুলে ধরেন এবং আমানতকারীর সুরক্ষা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে সরকার ব্যাংক খাতে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং আরও প্রায় এক লাখ কোটি টাকারও প্রয়োজন হতে পারে—এমন বিশাল অর্থ সাধারণ সময়ের সরকারের পক্ষে বহন করা কঠিন।

    মন্ত্রী জানান, বিলটির মাধ্যমে একটি ‘নিউ উইন্ডো’ বা বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে; এর অর্থ লিকুইডেশনের ওপর নির্ভর না করে বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে ব্যাংকের মূলধন পূনর্গঠন করে সংরক্ষণ করার সুযোগ তৈরি করা। এতে করে আমানতকারীদের আস্থা ফিরবে এবং ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন,_bill_passed দায়ীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই; বরং বাজারভিত্তিক উপায়ে ব্যাংকগুলোকে সচল রাখাই এই আইনের লক্ষ্য, যাতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় থাকে।_

    বক্তব্য শেষ হলে সাইফুল ইসলাম মিলন বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব দেন; স্পিকার তা ভোটে তোলেন। সরকারি দলের আপত্তিতে কণ্ঠভোটে ওই প্রস্তাব বাতিল হয়। এর পর অর্থমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে সংসদে তা অনুমোদন পায় এবং বিল আইনগত পথে এগোতে রাজপথ খোলে।

    বিল পাসের ফলে ব্যাংক সেক্টরে কিভাবে বাস্তবে পরিবর্তন আসবে এবং আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে—এ সংক্রান্ত বিশদ কার্যকর নীতিমালা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াবে। বিরোধী পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাস্তব প্রয়োগ ও তদারকিতে স্বচ্ছতা না হলে উদ্বেগ থেকেই যাবে।

  • ফুয়েল পাস অ্যাপ: রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহার—ধাপে ধাপে নির্দেশনা

    ফুয়েল পাস অ্যাপ: রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহার—ধাপে ধাপে নির্দেশনা

    জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু বণ্টন ও ফিলিং স্টেশনে শৃঙ্খলা আনতে দেশে চালু করা হয়েছে ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা। এ জন্য সরকার একটি ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর সোনার বাংলা (আসাদ গেট) ও ট্রাস্ট (তেজগাঁও) ফিলিং স্টেশনে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশনকারীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে।

    কেন এ ব্যবস্থা? জনসাধারণকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি অনলাইনে বরাদ্দ করে দিলে অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও অপচয় কমে, জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়ে—এটাই সরকারের লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেইন চৌধুরী জানান, অনেকেই ইতোমধ্যে নিবন্ধিত হলেও এখনও অনেকে পুরো প্রক্রিয়াটি ঠিকমতো বুঝতে পারছেন না। তাই নিচে রেজিস্ট্রেশন ও অ্যাপ ব্যবহারের সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো।

    ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন (fuelpass.gov.bd):

    1. ওয়েবসাইটে ঢুকে চার ধাপে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রথম ধাপে গাড়ির নিবন্ধন সম্পর্কিত তথ্য দিতে হবে—এটি বিআরটিএর ডেটাবেইসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

    2. তথ্য 제출ের পর আপনার মোবাইল নম্বরেই একটি ওটিপি (OTP) যাবে। ওই কোড যাচাই করে বাকি অ্যাকাউন্ট তথ্য পূরণ করলে নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।

    3. রেজিস্ট্রেশনের সময় যে কাগজপত্রগুলো লাগবে: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বই (ব্লু বুক), ড্রাইভিং লাইসেন্স, সচল মোবাইল নম্বর এবং পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

    অ্যাপ থেকে রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহার:

    1. গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ ডাউনলোড করে ওয়েবসাইটের মতোই অ্যাপে নিবন্ধন করা যাবে।

    2. অ্যাপ খুললে দুটি অপশন থাকবে—সাধারণ ব্যবহারকারী এবং ফিলিং স্টেশন অপারেটর। ব্যবহারকারী হিসেবে লগইন করলে আপনার গাড়ির তথ্য ও বরাদ্দকৃত জ্বালানির পরিমাণ দেখা যাবে।

    3. অ্যাপে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক বরাদ্দ কত—সবই স্পষ্টভাবে দেখানো থাকবে। ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার সময় অ্যাপের কিউআর কোড স্ক্যান করে লেনদেন সংরক্ষণ করা হবে। আপনার পূর্ববর্তী লেনদেনগুলো ‘হিস্ট্রি’ অংশে দেখা যাবে।

    কিছু টিপস ও সতর্কতা:

    – রেজিস্ট্রেশনের সময় নিশ্চিত করুন আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বর সচল আছে এবং বিআরটিএতে গাড়ির তথ্য সঠিকভাবে আছে।

    – ওটিপি না এলে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা নম্বর সঠিক আছে কি না যাচাই করুন, প্রয়োজনে পুনরায় চেষ্টা করুন।

    – ব্যক্তিগত তথ্য সাবধানে আপলোড করুন এবং ছবি/ডকুমেন্ট স্পষ্ট রাখুন যাতে যাচাইয়ে সমস্যা না হয়।

    সরকার আশা করছে, ফুয়েল পাস সিস্টেম চালু হলে জ্বালানি বিতরণ আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত হবে এবং ফিলিং স্টেশনে অযথা ভিড় ও অপচয় কমবে। পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সফল হওয়া পর্যন্ত কয়েকটি স্টেশনে সেবা সীমাবদ্ধ থাকতে পারে; প্রয়োজনে সরকারি অনলাইনে দেওয়া নির্দেশনা কিংবা আপডেট দেখাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস হবে।

  • মায়ের ১৮ কোটি টাকার শেয়ার পেলেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম

    মায়ের ১৮ কোটি টাকার শেয়ার পেলেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম

    উত্তরাধিকার সূত্রে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম তার মায়ের রেখে যাওয়া তিন কোম্পানির প্রায় ১৮ কোটি টাকার শেয়ার গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূত্র অনুযায়ী, মুন্নু গ্র“পের তিনটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি—মুন্নু অ্যাগ্রো, মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মুন্নু ফেব্রিকসের শেয়ার তার নামে হস্তান্তর করা হয়। এই শেয়ারগুলোর মালিকানা তার মা, প্রয়াত উদ্যোক্তা পরিচালক হুরন নাহার রশিদের কাছ থেকে তার কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে। হুরন নাহার রশিদ রশিদ খান মুন্নুর সহধর্মিণী ছিলেন এবং সেই অনুযায়ী এই সম্পত্তির উত্তরাধিকার তার কন্যা আফরোজা খানম। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, আফরোজার হাতে পৌঁছেছে—মুন্নু অ্যাগ্রো এর ৮৪,২৪৭ শেয়ার, মুন্নু সিরামিকের ১০ লাখ ৬৮ হাজার ৪০৯ শেয়ার, এবং মুন্নু ফেব্রিকসের ২৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৮৮ শেয়ার। বর্তমান বাজারদরে এই শেয়ারের মোট মূল্য প্রায় ১৮ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, শেয়ার হস্তান্তরের দিন তিন কোম্পানির শেয়ার দরও কমে যায় বলে ডিএসই নিশ্চিত করেছে। জানা যায়, মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে আফরোজা খানম মুন্নু গ্র“প ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সেই পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

  • অঙ্গহানী ও ভিক্ষাবৃত্তি: তিনজনের যাবজ্জীবন, দুইজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    অঙ্গহানী ও ভিক্ষাবৃত্তি: তিনজনের যাবজ্জীবন, দুইজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    প্রায় ষাট বছর আগে রাজধানীর কামরাঙীচর থানাধীন এলাকায় এক সাত বছর বয়সী শিশুকে অঙ্গহানী ও ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার মামলায় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ আজ আদালত তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুইজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, এই অর্থ অনাদায়ে এক বছর additional কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    অভিযুক্তদের মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সালাউদ্দিন, মোঃ শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান মিয়া, এবং খন্দকার ওমর ফারুক। অন্যদিকে, দুইজন—মোঃ রমজান ও সাদ্দাম—বয়সের কারণে ১০ বছরের কারাদণ্ড পান। একইসাথে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কাউসার ও নাজমা আক্তার নামের দুই আসামিকে মামলার থেকে খালাস দেওয়া হয়।

    রায়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুটির পরিবারের কাছে ট্রেজারি হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    আদালত জানিয়েছে, শরিফুল ইসলাম ও খন্দকার ওমর ফারুক বর্তমানে কারাগারে আছেন, তবে সালাউদ্দিন, রমজান ও সাদ্দাম পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোঃ আনোয়ারুল আমিন চৌধুরী (হারুন) নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ৬ মে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। তাদের পরিকল্পনা ছিল শিশুটিকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা। তারা শিশুটির লিঙ্গ কর্তন করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    অভিযুক্তের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। তদন্তের পর ২০১১ সালের ১৫ মে র‌্যাব-১ এর এএসপি মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন অভিযোগপত্র দেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। মামলার শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল মোট ২০ জনকে সাক্ষ্য গ্রহণ করে।

  • আবু সাঈদ ভেবেছিলেন মানুষ তার পাশে থাকবেন, কিন্তু তারা অমানুষ হয়ে গিয়েছিল: ট্রাইব্যুনাল

    আবু সাঈদ ভেবেছিলেন মানুষ তার পাশে থাকবেন, কিন্তু তারা অমানুষ হয়ে গিয়েছিল: ট্রাইব্যুনাল

    জুলাই মাসের গণআন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বীরত্ব ও নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক ঐতিহাসিক রায় এবং পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছেন। বিচারকরা রায় পড়ার সময় উল্লেখ করেছেন, সে সময় পুলিশ সদস্যরা আবু সাঈদকে বুক পেতে দাঁড় করিয়েছিল, কিন্তু তারা সেদিন অমানুষে পরিণত হয়েছিল। বৃহস্পতিার সকাল ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে এই রায়ের সূচনা হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী রায় পড়ার শুরুতে বলেন, ‘আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অকুতোভয়ভাবেই দাঁড়িয়েছিলেন। সে বিশ্বাস করেছিল, সামনে থাকা মানুষগুলো তার শত্রু নয়, তারা তার ক্ষতি করবে না। কিন্তু সে তখন বুঝতে পারেনি, তারা অমানুষ হয়ে গেছে।’ এদিন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মামলার সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ শুরু হয়, যা বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর বিবৃত করেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ের সময় অষ্টম আসামিদের মধ্যে ছয়জনকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে সাবেক এএসআই আমির হোসেন, শরিফুল ইসলাম (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর), সুজন চন্দ্র রায় (কনস্টেবল), ছাত্রলীগ নেতা ইমরাস চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ রয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এর সামনে পুলিশ গুলিতে শহীদ হন আবু সাঈদ, দুই হাত প্রসারিত অবস্থায়। তার বীরত্বের এই মুহূর্তের ভিডিওটি বিশ্বজুড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। আজকের এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওই আত্মোৎসর্গের বিচার স্বীকৃতির পথে একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

  • ফুয়েল পাস অ্যাপের রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহার কিভাবে করবেন সহজে

    ফুয়েল পাস অ্যাপের রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহার কিভাবে করবেন সহজে

    জ্বালানি তেলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও ফিলিং স্টেশনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য সরকার নতুন একটি সংশোধিত ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে, যার নাম ‘ফুয়েল পাস’। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যা বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকার দু’টি ফিলিং স্টেশনে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইতোমধ্যে, রেজিস্ট্রেশনকারীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি ছাড়িয়েছে।
    নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন মালিকরা অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আগ্রহী ব্যবহারকারীরা রাজধানীর আসাদ গেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন ও তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন থেকে কার্যক্রম শুরু করেছেন।
    সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম-সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, বেশ কিছু ব্যবহারকারী ইতোমধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, তবে অনেকেই এখনও পুরো প্রক্রিয়াটি বোঝার জন্য আলাদা প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
    ফুয়েল পাসের ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি সহজ। fuelpass.gov.bd-এ প্রবেশ করে চার ধাপে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে, যা বিআরটিএ’র ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। পরে মোবাইলে এসএমএস আকারে ওটিপি আসবে, তার মাধ্যমে যাচাই করে বাকি তথ্য পূরণ করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন হবে জাতীয় পরিচয়পত্র, গাড়ির নিবন্ধন বই (ব্লু বুক), ড্রাইভিং লাইসেন্স, একটি সচল মোবাইল নম্বর এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
    অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারের পদ্ধতিও খুব সহজ। গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ ডাউনলোড করে, সাইন আপ করে নিজের গাড়ির তথ্য ও জ্বালানির বরাদ্দ দেখতে পারবেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে আপনি দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক কতটুকু জ্বালানি নেওয়া যাবে, তা সরাসরি দেখতে পাবেন। এছাড়া, অ্যাপের কিউআর কোড স্ক্যান করে ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে। তেমনি, আগের লেনদেনের বিস্তারিত হিসাবও ‘হিস্ট্রি’ অপশনে দেখা সম্ভব।
    সরকার বলছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও অপচয় কমানো সম্ভব হবে, যা দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্নের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্নের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা

    বৈশাখের প্রথম দিন উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত বর্ষবরণ উৎসবগুলো সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক কার্যপত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারি এই নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজধানীর রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাতিরঝিল এবং রবীন্দ্র সরোবরসহ গুরুত্বপূর্ণ সব স্থানে অনুষ্ঠিত নববর্ষের অনুষ্ঠান সময়সীমার মধ্যে শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে বিকেল ৫টার পরে এসব এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশও সীমিত থাকবে, যাতে ভিড় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহজ হয়।নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরের গভীর Water patrol দল ও কোস্টগার্ডের নৌ টহল মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি, ইভটিজিং, পকেটমার এবং অন্যান্য বিশৃঙ্খল আচরণ রোধে সাদা পোশাকে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।এছাড়া, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনকেও কেন্দ্র করে সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে, ১৪ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশন পুরোদিন বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ফানুস ও আতশবাজি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।