Category: জাতীয়

  • নভেম্বরে নতুন পোশাক গ্রহণ করবে পুলিশ

    নভেম্বরে নতুন পোশাক গ্রহণ করবে পুলিশ

    গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সাধারণ পুলিশ সদস্যদের জন্য নতুন ইউনিফর্মের সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার বাহিনীর পোশাক পরিবর্তনের ঘোষণা আসে। এখন, নয় মাস পর, পুলিশ সদস্যরা তাদের নতুন পোশাক পরার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। ১৫ নভেম্বর থেকে ঢাকার মেট্রোপলিটন পুলিশসহ (ডিএমপি) সব মহানগর পুলিশের সদস্যরা নতুন ইউনিফর্ম পরতে পারবেন। তবে জেলা পুলিশের জন্য নতুন পোশাক পেতে কিছুটা আরও সময় লাগতে পারে।

    নতুন ইউনিফর্মের রং নির্ধারণ করা হয়েছে। পুলিশে ব্যবহৃত হবে লোহার (আয়রন) রঙের পোশাক, র‍্যাবের পোশাক জলপাই (অলিভ) রঙের এবং আনসার বাহিনীর পোশাক সোনালি গমের (গোল্ডেন হুইট) রঙের। আপাতত রাজধানীর মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যরা নতুন পোশাক পাবেন। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে জেলা পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা এই নতুন পোশাক পরবেন।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনোত্তর সময়ের জন্য সব বাহিনী যেন সমান রঙের ইউনিফর্ম পরতে পারে, সেই জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউনিফর্মের রং ও কাপড়ের ধরণ নির্ধারিত হয়েছে।

    পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জেলা ও মহানগর পুলিশের ইউনিফর্মের রঙ আলাদা। তবে এখন থেকে সবাই একই রঙের পোশাক পরবেন। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (লজিসটিক্স) খোন্দকার নজমুল হাসান বলেছেন, নতুন ইউনিফর্ম ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দেখা যাবে। সেই দিন থেকে ঢাকা মহানগর ও অন্যান্য মহানগর পুলিশের সদস্যরা নতুন পোশাক পরা শুরু করবেন। পর্যায়ক্রমে সব ইউনিট নতুন ইউনিফর্ম পাবে।

    অন্যদিকে, র‍্যাবের বর্তমান কালো রঙের পোশাকের পরিবর্তনের কথা থাকলেও নতুন জলপাই রঙের ইউনিফর্মের অগ্রগতি এখনও দেখা যায়নি।

    এছাড়া, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য সোনালি গমের রঙের নতুন ইউনিফর্ম তৈরির খবর থাকলেও রং পরিবর্তনের বিষয়টি এখনো স্পষ্ট হয়নি। তবে সম্ভবত ভবিষ্যতেও এই পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়া হবে।

  • রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে উত্তেজনা বজায় রাখার ভাষ্য পরিবেশ উপদেস্টার

    রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে উত্তেজনা বজায় রাখার ভাষ্য পরিবেশ উপদেস্টার

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এমন প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করে দিচ্ছেন। তাঁদের ভাষ্য, সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর অভিযোগ নেই। বরং, রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি ও বজায় রাখতে কথাবার্তা এবং তৎপরতা চালানো এখন এক ধরনের কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঐক্য বা বিভক্তি নেই, বরং মতানৈক্য রয়েছে। এই মতানৈক্য আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে নিরসন সম্ভব। এ সময় তিনি আরও বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট কোনো অভিযোগ না থাকলেও, বলার লাইন দিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ধরে রাখতে কিছু বক্তব্য ও সমালোচনাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, নদীভাঙন প্লাবিত মানুষের সহায়তার জন্য ৫০০ কোটি টাকার বদলে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও, আইনি জটিলতা এবং নীতিমালা এসব কাজে বিলম্ব সৃষ্টি করে। পাশাপাশি, পরিবেশ মন্ত্রণালয় সবসময় বাজেটের সংকটে ভুগছে। পাশাপাশি, জাতীয় পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করার জন্য বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের দূরপ্রান্ত অঞ্চলে পানি সরবরাহের জন্য প্রতিষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তন তহবিলে অর্থ বরাদ্দ থাকলেও, মূলত এই কাজটি পরিচালনা এবং বাস্তবায়নের দায়িত্ব রয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে টেকসই উন্নয়নের উপর বেশি জোর দিতে হবে, যাতে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে।**

  • আশুলিয়ায় পড়ে থাকা ৭.৬২ লেখা গুলির রহস্য উদঘাটনে বিচার চলছে

    আশুলিয়ায় পড়ে থাকা ৭.৬২ লেখা গুলির রহস্য উদঘাটনে বিচার চলছে

    জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের জেরে আশুলিয়ায় সংঘটিত এক নৃশংস ঘটনার বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তদন্তে জানা গেছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন অজুহাতে লুকানো ওই ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্তর্গত। সাবেক একজন সংসদ সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যদান করেছেন সিআইআরের এসআই মো. আশরাফুল হাসান।

    29 অক্টোবর বুধবার, ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও তার তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই মামলার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। অন্য সদস্যরা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    এদিন সকাল সোয়া এগারোটার দিকে আশুলিয়া থানার এসআই আশরাফুল আদালতে উপস্থিত হন। তিনি জপে শপথ নিয়ে জব্দতালিকা অনুযায়ী সাক্ষ্য দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ১৪ এপ্রিল এই বছরের ঘটনাপ্রবাহে, থানার ওসি বেতার বার্তায় জানান, আশুলিয়া থানার পশ্চিম পাশে মনির ও লতিফ মণ্ডলের পুরোনো টিনশেড বাড়ির সীমানা প্রাচীরের ভিতরে গুলি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এরপর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ৬টি রাইফেলের গুলি ও এক চার্জার উদ্ধার করেন। পেটেন্ট ইংরেজি ভাষায় লেখা ফলকদের মধ্যে ‘৭.৬২’ উল্লেখ ছিল।এই ধারালো অস্ত্রের গুলিগুলো জব্দতালিকা মূলে নিয়ম অনুযায়ী কাগজে স্বাক্ষর করে জমা দেওয়া হয়।

    তিনি আরও জানান, কনস্টেবল মো. মামুনুর রশিদও ঐ জব্দতালিকার সাক্ষী। এই আলামত পরে থানায় সংরক্ষিত হয়। তারপর, তিনি তার কর্মকর্তার নির্দেশে ঐ আলামত আত্নসাৎ করে তদন্ত সংস্থার কাছে জমা দেন।

    সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষ হওয়ার পরে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই জবানবন্দর নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এখন পর্যন্ত এ মামলায় মোট ২০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

    এ মামলার গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তা ও কনস্টেবলরা। আজকের দিনে পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করে। তবে আরও আটজন—তথ্যপ্রমাণিতভাবে এসেছেন পলাতক আছেন।

    গত বছর ৫ আগস্ট, আশুলিয়ার একটি পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ প্রাণ হারান। পরে পুলিশ তাদের লাশ তুলে এনে বাড়ির পার্শ্ববর্তী নদীতে ফেলে দেয়। এ সময় একজন জীবিত ছিলেন, যাকে জীবিতই পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। পেট্রোল ঢেলে এন্তেজাম করে তাদের জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারার বর্বরতাজনক এই ঘটনার বিচার চলছে। এর প্রেক্ষিতে ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়।

  • মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য নতুন শর্তে রিক্রুটিং এজেন্সীর সুযোগ

    মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য নতুন শর্তে রিক্রুটিং এজেন্সীর সুযোগ

    মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে আগে তুলনায় অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সুযোগ ছিল বেশি। তবে এখন से অভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান এবং মায়ানমার দেশের রিক্রুটিং এজেন্টদের নির্বাচন করা হবে, যা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক করবে। এ জন্য এজেন্সিগুলোকে দশটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হচ্ছে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) মন্ত্রণালয় পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সরকার অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্যও মানদণ্ড নির্ধারণে জোর দিচ্ছে। ২০২৩ সালের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা এই মানদণ্ডের বিষয়টি সম্মতিপূর্ণভাবে গ্রহণ করে। এজেন্সিগুলোর জন্য নির্ধারিত এসব শর্ত মানা আবশ্যক বলে উল্লেখ করা হয়।

    নিম্নে উল্লেখ করা হলো, রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য নির্ধারিত দশটি মূল মানদণ্ড:
    ১. লাইসেন্স পাওয়ার পরে কমপক্ষে ৫ বছর মানবসম্পদ পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
    ২. বিগত ৫ বছরে কমপক্ষে ৩,০০০ কর্মী বিদেশে প্রেরণের প্রমাণ থাকতে হবে।
    ৩. বিগত ৫ বছরে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন গন্তব্যে কর্মী প্রেরণের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
    ৪. বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বৈধ লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ সম্পর্কিত অনুমোদন থাকতে হবে।
    ৫. প্রেরণকারী দেশের দিক থেকে ‘শ্রমের সনদ’ বা সৎাচরণের সনদ (Certificate of Good Conduct) থাকতে হবে।
    ৬. শ্রমিকের জোরপূর্বক নিয়োগ, মানব পাচার, শ্রম আইন লঙ্ঘন বা অন্য আর্থিক অপরাধে জড়িত থাকার রেকর্ড থাকলে চলবে না।
    ৭. নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকতে হবে যেখানে আবাসন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেয়া হয়।
    ৮. স্বীকৃত আন্তর্জাতিক নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র থাকতে হবে।
    ৯. কমপক্ষে ৩ বছর ধরে পরিচালিত, ১০,০০০ বর্গফুটের স্থায়ী অফিস থাকতে হবে যেখানে কর্মী বাছাই ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা হয়।
    ১০. পূর্বে যেসব গন্তব্যে কর্মী প্রেরণ করা হয়েছে, সেগুলোর আইনগত শর্তাবলী ও নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

    উপরের শর্তাবলী পূরণকারী সকল বৈধ বাংলাদেশী রিক্রুটিং এজেন্সিকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য তালিকা তৈরি করার জন্য বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ার প্রতি অনুরোধ করবে। এরই ধারাবাহিকতায়, এই মানদণ্ড পূরণে সক্ষম বাংলাদেশি লাইসেন্সধারী এজেন্সিগুলোর জন্য আগামী ৭ নভেম্বর ২০২৫ এর মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ আবেদন করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • তত্ত্বাবধায়ক ফিরলেও নির্বাচন সরকারের অধীনেই হবে: শিশির মনির

    তত্ত্বাবধায়ক ফিরলেও নির্বাচন সরকারের অধীনেই হবে: শিশির মনির

    নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর জন্য পরিচালিত আপিলের চতুর্থ দিনের শুনানি শেষ হয়েছে জামায়াতের পক্ষ থেকে। শুনানি শেষে দলটির আইনজীবী শিশির মনির বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার যদি আবার আসেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ফলে, আগামী নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই সম্পন্ন হবে।

    আজ (মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের চতুর্থ দিনের শুনানি গ্রহণ করে।

    শুনানি চলাকালে, আইনজীবী শিশির মনির উল্লেখ করেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা একেবারেই অনন্য ও আলাদা। তবে, রাজনৈতিক নেতাদের দূরদর্শিতা ও সচেতনতার অভাবে এই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি বার বার proved উপযুক্ত ব্যবস্থা, যা সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত। এই পরিস্থিতিতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।’

    এর আগে, ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট, ষড়যন্ত্রমূলক রায় পুনর্বিবেচনা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে দায়ের করা আবেদন মঞ্জুর করে সর্বোচ্চ আদালত, যাকে আবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুনানির জন্য গ্রহণ করে।

    নাগরিক সংগঠন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ মোট পাঁচজন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার এই আপিলে অংশ নেন।

    উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় দেয় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের আপিল বিভাগ। সেই সময় এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পক্ষের আপিল ও আপিলের শুনানি চলমান রয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে মৃত্যু হল বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকীর

    ডেঙ্গুতে মৃত্যু হল বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকীর

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী। সোমবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মুগদা হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

    বিশ্বজয়ী এই হাফেজের মৃত্যুর জন্য দায়ী হয়েছে ডেঙ্গু জ্বর। গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে তার অবস্থা আরও অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

    তিনি জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অনুষ্ঠিত কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয় করে তুলেছিলেন। এছাড়াও তিনি দেশের বিভিন্ন কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন।

    তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন তার উস্তাদ, মারকাযুত তাহফিজের প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ কারী শায়খ নেছার আহমদ আন-নাছিরী। তিনি জানান, এ চলচ্চিত্রের পরে বাদ জোহর ব্যাংকুল মোকাররমের জাতীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার দেহ কুমিল্লার মুরাদনগরের গ্রামে তার পৈতৃক বাড়িতে দাফন করা হবে।

    জানা যায়, ২০১৭ সালে জর্ডানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৬২টি দেশের মধ্যে প্রথম অবস্থানে আসেন হাফেজ ত্বকী। এরপর তিনি কুয়েত ও বাহরাইনে থেকে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন।

    জন্ম হয় কুমিল্লার মুরাদনগরের ডালপা গ্রামে, ২০০০ সালে। তার বাবা মোখলেছ আলী একজন মাদরাসা শিক্ষক। নিজের ভবিষ্যৎ দেখে অনেক স্বপ্ন দেখতেন এই মেধাবী ছাত্র। তাঁর এ অপ্রত্যাশিত মৃত্যু পরিবারসহ সকলের হৃদয়ে গভীর শোক সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শোক প্রকাশ করছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

  • অস্ত্র মামলায় যুবলীগ নেতা সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    অস্ত্র মামলায় যুবলীগ নেতা সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    অস্ত্র আইনের মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার দ্বিতীয় বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এ রায় ঘোষণা করেন। সম্রাট নিজে আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতারের তারিখ থেকে তার সাজা কার্যকর হবে। এই মামলায় আদালত ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। রায়ে বলা হয়েছে, আসামি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে অস্ত্র আইন, ১৮৭৮ এর ১৯ (ক) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং তার সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। দণ্ড কার্যকর শুরু হবে তার আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতারির তারিখ থেকে। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগাঁও থেকে র‌্যাব তার গ্রেপ্তার করে। এরপর কাকরাইলের কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর চামড়া উদ্ধার হয়। বন্যপ্রাণীর চামড়া রাখার জন্য তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতে। এরপর ৭ অক্টোবর র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনের দুটি মামলা দায়ের করেন। তদন্তপ্রক্রিয়ায় ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর আদালতে অস্ত্র আইনের অভিযোগপত্র জমা দেয় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শেখর চন্দ্র মল্লিক। ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি বিচার শুরু হয়, তখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আসামি উপস্থিত না থাকার কারণে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। বিচার চলাকালে মোট ১৪ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ৭ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ করে আদালত আগামী ২৮ অক্টোবর রায় দেওয়ার দিন ধার্য করেন।

  • জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের সুপারিশ ঐকমত্য কমিশনের

    জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের সুপারিশ ঐকমত্য কমিশনের

    জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ইস্যুতে সব দলেরই একমত হয়েছে যে, গণভোটটি অবশ্যই প্রয়োজন। তবে এর সময়সীমা নিয়ে বিতণ্ডা চলছিল— গনতন্ত্রের মূল নির্বাচন কি আগে হবে না কি গণভোটের পরে, এ নিয়ে চাপানউতোর চলছিল। এই পরিস্থিতিতে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, জাতীয় নির্বাচনের আগে আলাদাভাবে গণভোট আয়োজন করা হবে।

    মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই সংক্রান্ত সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আরও বেশ কিছু কমিশনের সদস্য।

    সুপারিশমালার বিস্তারিত অনুযায়ী, জুলাই সনদের কার্যাদেশ তিন ধাপে আইনি ভিত্তি পাবে। প্রথমে, অন্তর্বর্তী সরকার একটি আদেশ জারি করবে যা বলে দেবে যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের। এরপর এই আদেশের ভিত্তিতে গণভোট আয়োজন করা হবে। যদি গণভোটে সনদ পাস হয়, তবে নির্বাচিত সংসদ ২৭০ দিন (প্রায় ৯ মাস) এর মধ্যে এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবে। আর যদি সময়মতো বাস্তবায়ন না হয়, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সনদ কার্যকর হয়ে যাবে বলে সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • চট্টগ্রামে ব্যানার টানানোর ঘটনায় সংঘর্ষে যুবদলকর্মীর মৃত্যু

    চট্টগ্রামে ব্যানার টানানোর ঘটনায় সংঘর্ষে যুবদলকর্মীর মৃত্যু

    চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার এক্সেস রোড এলাকায় সোমবার (২৭ অক্টোবর) গভীর রাতে ভয়ঙ্কর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ছবি সম্বলিত ব্যানার টানানো ও সরানোর বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক ঝড়ে রূপ নেয়। এরই নেপথ্যে গুলির খবর ও রক্তাক্ত দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে একজন যুবদলকর্মী মো. সাজ্জাদ (২৬) ঘটনাস্থলে নিহত হন এবং অন্তত আটজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    সূত্রে জানা গেছে, রাতের ঘটনাটি ঘটে বাকলিয়ার এক্সেস রোডের একটি এলাকায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মিনহাজুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এরপর তারা রক্ত বৃথা অবস্থায় আহতদের মূর্খে নিয়ে যায়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্রাতিরিক্ত উত্তেজনা ও অন্যায্য শক্তির প্রয়োগের কারণে সংঘর্ষের বিবরণ আরও গাজা হয়, যেখানে একজনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছুজন আহত হয়।

    চমেক হাসপাতালে নেতা পরিচয় দিয়ে গুলিবিদ্ধ আহতদের মধ্যে জিএম সালাউদ্দিন আসাদ দাবি করেন, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা আগে থেকেই যুবদলের নামে অপকর্ম চালাচ্ছে। মেয়রের ছবি লাগিয়ে ব্যানার ও পোস্টার ঝুলিয়েছিল, যা মেয়র ও তার দলের লোকেরা সরাতে বলায় তাদের ওপর হামলা হয়। এ সময় ভবনের ছাদ থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়, যার ফলস্বরূপ সাজ্জাদ ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

    চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা এমদাদুল বাদশা বললেন, হামলাকারীরা গুলি চালানোর আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয় এবং তাদের চালানো অপ্রকাশ্য অপকর্মের জন্য যুবলীগের বদলে যুবদলের নামে নানা অপমানজনক কাজ চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরে তারা যুবদলের নাম ব্যবহার করে নানা দুষ্টচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

    চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশিক জানান, গুলিবিদ্ধ একজন যুবকদের মধ্যে একজন মারা গেছেন, যিনি বুকের গুলির আঘাতে নিহত হন। আহত আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    ওই ঘটনায় বাকলিয়া থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, রাতে এক্সেস রোডে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত হন এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হন, যাঁরা দ্রুত চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

  • ঘূর্ণিঝড় মোন্থার শক্তি বৃদ্ধি, বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিমি

    ঘূর্ণিঝড় মোন্থার শক্তি বৃদ্ধি, বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিমি

    বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত গভীর নিম্নচাপটি এখন ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এই ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সমুদ্রের তীব্র উত্তাল হচ্ছে। জানা গেছে, এটি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে অতিক্রম করতে পারে।

    শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে আবহাওয়া অফিসের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তার আশপাশের দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে এখন ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এর কেন্দ্র বর্তমানে অবস্থিত ১১.৭° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৫.৫° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের অঞ্চলে।

    আজ ভোর ৩টায় এই ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান ছিল চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৬০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১৩০০ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১২৮০ কিলোমিটার এবং পায়রা থেকে ১২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে। আসছে দিনগুলোতে এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, আগামী মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বা রাতে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে এই শক্তিশালী ঝড়।

    ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের বাতাসের সর্বোচ্চ গতি এখন ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, তবে ঝড়ো বা দমকা হাওয়ার সময় এই গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে। আশঙ্কা রয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি যদি আরও শক্তি বৃদ্ধি করে এবং সিভিয়ার সাইক্লোনে পরিণত হয়, তবে উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং জলোচ্ছ্বাসের উদ্বেগ সৃষ্টি হবে।

    প্রসঙ্গত, এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে দ্বিতীয় অস্থায়ী সতর্কতা সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছে নিরাপদে চলাচল ও বিচরণ করতে বলা হয়েছে। গভীর সাগরে বিচরণ থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ঝড়ের প্রভাবে কোনও অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা না ঘটে।