Category: খেলাধুলা

  • শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশের প্রতিশোধ সম্পন্ন জয়

    শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশের প্রতিশোধ সম্পন্ন জয়

    অ্যাশেজ ক্রিকেট এশিয়ান কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশ এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে নিজের গৌরব ফিরিয়ে আনল। সুপার ফোরে উঠার পর, বাংলাদেশ দলের সমর্থকরা আগের দিন থেকেই আশা করেছিলেন যে তারা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রমাণ করবে। গ্রুপ পর্বে খেলার নির্দিষ্ট মানসম্মত পারফরম্যান্স না পাওয়ায় বেশ কিছু অস্বস্তি এবং সন্দেহের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে এই ম্যাচে তারা দেখাল, তাদের কাছে হার মানা কঠিন সত্যি। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা অসাধারণ দলগত প্রচেষ্টায় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এই জয়টি যেন তাদের প্রতিশোধের ইঙ্গিত।

    শুরুতেই শ্রীলঙ্কার দাসুন শানাকা ঝলমলে হাফ সেঞ্চুরির পরও, মুস্তাফিজুর রহমানের বলেই বাংলাদেশ তাদের লক্ষ্য ১৬৮ রানে আটকে দেয়। ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশের জন্য ভাল শুরুর বিকল্পটা ছিল না কারণ, ইনিংসের প্রথম ওভারেই টানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারায়। তবে লিটন দাস ও সাইফ হাসান দুরন্ত আক্রমণ চালিয়ে দলের জয় পাতে জন্য পথ তৈরি করে দেন। সাইফের পর হাফ সেঞ্চুরি করে হৃদয়ও নিজের ব্যাটিং দক্ষতা দেখান, এবং তাদের দুজনের ইনিংসে বাংলাদেশের পুঁজি প্রতিষ্ঠিত হয়। পঞ্চাশের কাছাকাছি পৌঁছে চেষ্টা চালিয়ে যান, আর এটা নিশ্চিত করে যে বাংলাদেশ তার জয়ের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশের ইনিংস কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবে শুরু হয়, কারণ টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামলেও প্রথম ওভারে তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারান। তিনি পাথুম নিশাঙ্কার সুদক্ষ ডেলিভারিতে ঝলক দেখাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভুল বোঝাবুঝিতে আউট হন। তবে ব্যাটসম্যানরা দুর্দান্তভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। লিটন ও সাইফ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন—বিশেষ করে সাইফ চার ও ছক্কায় দ্রুত রান যোগ করেন। এই দুজন পাওয়ার প্লেতে দলের জন্য ৫৯ রান সংগ্রহ করেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। তবে পাওয়ার প্লে শেষ হলে তারা উইকেট হারায় লিটন ও সাইফের ঝাঁপিয়ে পড়ার পর।

    সাইফ তার প্রত্যাশিত হাফ সেঞ্চুরি সম্পন্ন করেন ৩৬ বলে, আর হৃদয় ধীরে ধীরে খেলতে থাকেন। একদিকে তিনি ঝোড়োভাবে আঘাত হানেন, অন্যদিকে তার সাজানো জুটি সতর্কতার সঙ্গে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দেয়। এরপর, শ্রীলঙ্কার বলের বিপরীতে হৃদয় দ্রুত রান তুলতে থাকেন—৩১ বলে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকান, যা তাঁর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দীর্ঘ দিন পর ফিরেছে। সক্রিয় ভাবে খেলতে থাকা হৃদয় ও শামীম হোসেন শেষ মুহূর্তে ধীরগতি না দেখিয়ে দ্রুত রান সংগ্রহে মনোভাব নিয়ে একে অপরের সঙ্গে ঘরোয়া সঙ্গীতে অন্যরকম স্পন্দন বাড়ান।

    শেষে, নাসুম আহমেদ ও শামীম হোসেন দলকে জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে বলে মনে করে ক্রিকেট অনুরাগীরা।

    অপরদিকে, শ্রীলঙ্কার ইনিংস শুরুও ছিল উড়ন্ত। ওপেনিং জুটিতে তারা ৪৪ রান তুলে ঝড়ো সূচনা করে। তবে, এর পরে ধীরগতি শুরু হয়। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কা খুব ভালো শুরু করলেও, শেষ পর্যন্ত ১৭০ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান ডেথ ওভারে বেশ দক্ষভাবে বোলিং করেন এবং তিন উইকেট তুলে নেন। মূলত, শ্রীলঙ্কার শানাকা কিছুটা ধীরগতির হলেও শেষ দিকে রানের চালানি চালান এবং অপরাজিত ৬৪ রানের ইনিংস খেলে যান। তবে, বাংলাদেশ তাদের ধারাবাহিক সংগ্রামে নিজেদের মানপ্রমাণ করে বিশ্বের শক্তি দেখিয়েছেন, এবং এই জয়ে তারা সুপার ফোরে পৌঁছানোর পথে একদ langkah এগিয়ে গেল।

  • হাসিবুল শান্ত ও সালমা খাতুন হলেন জাতীয় দলের নির্বাচক

    হাসিবুল শান্ত ও সালমা খাতুন হলেন জাতীয় দলের নির্বাচক

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অবশেষে নতুন সংযোজন করেছে দেশের ক্রিকেটের নির্বাচক প্যানেলে। পুরুষ দলের নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন শান্ত। তাঁর অভিজ্ঞতা এবং এই সম্মাননা বাংলা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আনন্দের খবর হলো, নারী দলের নির্বাচক হিসেবে প্রথমবারের মতো নিয়োগ দেওয়া হলো একজন নারী, তিনি সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতунিকে। তিনি এখন আমাদের নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম ব্যক্তিত্ব। তারা দুজনেই কাজ করবেন বর্তমান প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ শিপনের সঙ্গে।

    আজ বিকেলে বিসিবির জরুরি সভার শেষে বোর্ডের মিডিয়া ও আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠু এই সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হাসিবুল শান্ত জাতীয় দলে খেলাধুলার সঙ্গে সঙ্গে বয়সভিত্তিক দলে নির্বাচকের দায়িত্বও পালন করেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে জাতীয় দলে আনতে সহযোগিতা করেছে। অন্যদিকে, সালমা খাতুনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নারী দলের নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সালমা ২০১৪-১৫ সালে আইসিসির সেরা অলরাউন্ডার নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন। মিঠু মনে করেন, এই নতুন সিদ্ধান্ত নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন ও দলগত ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    গত ফেব্রুয়ারিতে সাবেক ওপেনার হান্নান সরকার জাতীয় দলের নির্বাচকের দায়িত্ব ছেড়ে দেন, কোচিংয়ে মনোযোগী হওয়ার জন্য। এরপর থেকে গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ও আবদুর রাজ্জাক ধীরে ধীরে কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট দল ব্যস্ত ছিল বড় বড় সিরিজ খেলায়—জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এই সময়েই শূন্যপদে নতুন নির্বাচক নিয়োগের জন্য জোর আলোচনা চলছিল। অবশেষে বিসিবি সেই শূন্যতা পূরণ করল।

    এদিকে, নারী ক্রিকেটের জন্য প্রথমবার আলাদা নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ পেলেন সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার সালমা খাতুন। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলে নিয়মিত ছিলেন তিনি এবং দেশের জন্য অনেক সাফল্য এনে দিয়েছেন। মাঠের বাইরে থেকে এবার তিনি নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ গঠনে বড় দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

    বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুরুষ ও নারী দুই দলের জন্যই একসঙ্গে নতুন নির্বাচক নিয়োগ দেওয়া হলো। হাসিবুল শান্তর অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের পেস আক্রমণ ও টিমের কৌশলগত দিকগুলোকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখাতে সহায়তা করবে বলেই মনে করছেন বোর্ডের officials। অন্যদিকে, সালমা খাতুনের নেতৃত্ব ও খেলার অভিজ্ঞতা নারীর ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে—এমনটাই আশা করছেন বিসিবি। এই নিয়োগ দুই দলের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • পাকিস্তান ফের বাংলাদেশে আসছে

    পাকিস্তান ফের বাংলাদেশে আসছে

    ২০২৬ সালে ভারতের কলকাতা এবং শ্রীলঙ্কায় বসবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। এই মহাযজ্ঞের উত্তাপ পত্তন হওয়ার আগেই বাংলাদেশের মাটিতে শুরু হবে নতুন এক উচ্চপ্রতিরোধ্য সিরিজ। আগামী বছর মার্চের শেষ সপ্তাহে শক্তিশালী পাকিস্তান দল বাংলাদেশ সফরে আসবে, যেখানে তারা মুখোমুখি হবে দুই টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে ম্যাচে।

    আশ্চর্যজনকভাবে, এই সিরিজে থাকছে না কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, যা আগে আইসিসির ফিটপ্লান-এ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ সিরিজের মাধ্যমে টাইগারদের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা হচ্ছে। কারণ পাকিস্তান সফরের আগেই বিশ্ব মঞ্চে লড়াই চালিয়ে যাবে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল, আইসিসি বিশ্বকাপে ততটাই গুরুত্ব দিয়ে। এই বৈশ্বিক লড়াই শেষ করে, ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে আতিথ্য দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

    সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২৬ মার্চ ওই সিরিজের প্রথম লড়াই অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ তারিখেই শুরু হবে এই সিরিজের প্রথম টেস্ট, যেখানে খেলা হবে বাংলাদেশের হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু নির্ধারিত হয়েছে সিলেটের পাহাড়ঘেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে।

    তবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ পুরোপুরি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে খেলাধুলার এই আসর পরিচালিত হবে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা হবে, চট্টগ্রামে এটি হবে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়ানডে সিরিজের আয়োজন।

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতিমধ্যে তাদের প্রস্তাবিত সূচি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছে পাঠিয়েছে, এবং পিসিবির সম্মতিই চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করা হবে। পাকিস্তান সিরিজের পর টাইগারদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও এক কঠিন চ্যালেঞ্জ—নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি হোম সিরিজ, যা তাদের জন্য নতুন এক পর্যায়ের শুরু হবে।

  • অফসাইডের বিদায় দিয়ে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে সুপার ফোরে শ্রীলঙ্কা

    অফসাইডের বিদায় দিয়ে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে সুপার ফোরে শ্রীলঙ্কা

    বি গ্রুপের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই হয়। এ ম্যাচে জয় লাভ করে শ্রীলঙ্কা, যে তাদের সামনে বাংলাদেশের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে সুপার ফোরে স্থান করে দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। এই সফলতার মূল কারিগর ছিলেন নুয়ান থুসারা, যিনি চার উইকেট শিকার করেন, এবং কুশল পেরেরা, যিনি হাফ সেঞ্চুরি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। শ্রীলঙ্কার এই জয়ে তারা প্রথমে নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছায় এবং পরবর্তী ধাপে আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে নিজেদের দৃঢ়সংকল্প প্রকাশ করে।

    আফগানিস্তানের শুরুটা খুবই হতাশাজনক ছিল। ওপেনিং জুটি মাত্র ২৬ রানেই ভেঙে যায়। রহমত উল্লাহ গুরবাজ ৮ বলে ১৪ রান করে শর্ট থার্ড ম্যানের ক্যাচ দেন, এরপরই প্রমোশনের ফলে ট্র্যিকিতুম জানাতকে বোল্ড করে দেন থুসারা। তৃতীয় ওভারে এসে সেদিকউল্লাহ অতলকেকে আউট করেন থুসারা, ফলে প্রথম ৪০ রানে ৩ উইকেট হারায় আফগানরা।

    পাওয়ার প্লে শেষে আফগানিস্তান ৩ উইকেটে ৪৫ রান করে, তবে এরপরই আরও বিপর্যয় শুরু হয়। তারা بسرعة আরও ৩ উইকেট হারায়, ডারউইশ রাসুলীকে থামান দুশমান্থ চামিরা। কুশাল পেরেরা শর্ট বল টপ এজ করে ক্যাচ দেন, এর ফলে তিনি মাত্র ৯ রান করেন। এর পর আজমতউল্লাহ ওমরজাই বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি, দ্রুত আউট হন স্টাম্পে আঘাত পেয়ে।

    অফরুলাই বাজে স্নায়ুচাপে পড়ে থাকে আফগানিস্তান, যেখানে এক প্রান্তে ইব্রাহীম জাদরান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে তিনি বেশিদূর যেতে পারেননি। মূলত সিনিয়র অলরাউন্ডার রশিদ খান এবং মোহাম্মদ নবি জুটি পাকড়াও করে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণকে শক্তিশালী করে। শেষ ওভারটিতে আফগানিস্তান রেটে ১৬৯ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারায়, যেখানে নবি ২২ বলে ৬০ রান করেন, পঞ্চম বোলার হিসেবে সেঞ্চুরি ছুঁই ছুঁই করেন। শেষ বলে রান আউট হন তিনি, কিন্তু এর মধ্যেই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৫০ প্লাস রানের ইনিংস উপহার দেন। এই রেকর্ড সংগ্রহের ফলে আফগানিস্তান তাদের সংগ্রহ দাঁড় করায় ১৬৯ রান।

  • বিসিবি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

    বিসিবি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

    আগামী ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। এর জন্য গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট মোহাম্মদ হোসেনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মনোনীত করে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল।

    আজ (১৭ সেপ্টেম্বর) এয়ার কথা জানানো হয়েছে এবারের নির্বাচনের পুরো নির্ধারিত সময়সূচী। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। এর ধারাবাহিকতায় ভোটার তালিকা প্রকাশ, মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমা, প্রার্থী যাচাই-বাছাই, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অনুসরণ করা হবে।

    নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচী হলো: ২০ সেপ্টেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা পর্যন্ত আপত্তি দাখিলের সুযোগ, ২১ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, ২২-২৩ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র বিতরণ, ২৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ সময়, ২৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ, ২৭ সেপ্টেম্বর আপিল এবং শুনানি, ২৮ সেপ্টেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা, আবার ২৮ সেপ্টেম্বর ডাক ও ই-ব্যালট বিতরণ, এবং সবশেষে ৪ অক্টোবর হবে ভোটগ্রহণ ও প্রাথমিক ফলাফলের ঘোষণা। অবশেষে, ৫ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে চূড়ান্ত ফলাফল।

  • শেষমেষ পাকিস্তানের জয়: এশিয়া কাপের সিদ্ধান্ত আসছে

    শেষমেষ পাকিস্তানের জয়: এশিয়া কাপের সিদ্ধান্ত আসছে

    পাকিস্তান অবশেষে তার জয় ঘোষণা করে এশিয়া কাপের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে। এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে পাকিস্তানের অসন্তোষ। পাকিস্তান জানায়, ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত না মেলানোর ঘটনায় তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের ভূমিকা সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে এশিয়া কাপ থেকে প্রত্যাহার করার দাবি তোলে পাকিস্তি ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। যদি এই দাবি না মানা হয়, তবে তারা টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের অংশগ্রহণ প্রত্যাহার করে নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে দেয়। এরই মধ্যে পাকিস্তান ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে দেয় নিজের দাবিতে অটল থাকায়।

    একটি ক্রিকববজের প্রতিবেদনে জানা গেছে, করমর্দন বিতর্কে সৃষ্টি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এশিয়া কাপের পাকিস্তান দল মাঠে নামতে পারছে। আইসিসির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে ঈষৎ পথ সুগম হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান ক্রিকেট বোর্ড গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গিয়েছে।

    পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান দাবি ছিল—ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটকে টুর্নামেন্ট থেকে সরানোর প্রয়োজনীয়তা। তবে আইসিসি এই দাবি মানেনি। সূত্রের খবর, আজ (বুধবার) পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ম্যাচে পাইক্রফট দায়িত্বে থাকবেন না। তার বদলে পারেন দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে আইসিসির অন্য রেফারি রিচি রিচার্ডসনকে। তবে পাইক্রফট এই টুর্নামেন্টে ম্যাচ অফিসিয়াল হিসেবেই থাকবেন। এই বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি।

    প্রাথমিকভাবে, পিসিবি কঠোর অবস্থান নেয় 당시—যদি পাইক্রফট দায়িত্বে থাকেন, তারা ম্যাচ খেলবেন না। পাকিস্তান অভিযোগ জানায়, ১৪ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে পাইক্রফট পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন। আইসিসি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলে পরিস্থিতির অবনতি হয়, এবং পাকিস্তানের এশিয়া কাপ থেকে সরে যাওয়ার শঙ্কা জেগে ওঠে। পরে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা আলোচনা শুরু করেন এবং সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। অবশেষে কিছু ‘ফেস সেভিং’ পরিবর্তন আনা হয়, যা পরিস্থিতি শান্ত হয় বলে মনে করা হচ্ছে।

    তবে, এখনো পিসিবি বা আইসিসি থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় পিসিবির মুখপাত্র আমির মীর জানান, “আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ জানানো হবে।” পিসিবির সভাপতি মহসিন নাকভি ইসলামাবাদ থেকে লাহোরে ফিরার পর বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। জানা গেছে, সরকার পর্যায়ের আলোচনায় করমর্দন বিতর্ক, এর প্রভাব, এবং আইসিসির সঙ্গে অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

  • বাংলাদেশের জন্য সুপার ফোরে যাওয়ার সমীকরণ এখন কী?

    বাংলাদেশের জন্য সুপার ফোরে যাওয়ার সমীকরণ এখন কী?

    এশিয়া কাপের ১৭তম আসরে জীবন রক্ষাকারী জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানকে হারিয়ে তারা প্রথম শর্ত পূরণ করেছে, তবে এখনও নিশ্চিত নয় সুপার ফোরের টিকিট। কাউন্টার এই গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে, বাংলাদেশকে তাকিয়ে থাকতে হবে গ্রুপ ‘বি’ এর শেষ ম্যাচের দিকে, যেখানে শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হবে আফগানিস্তানের।

    বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো, শ্রীলঙ্কা যদি জয় লাভ করে বা ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়, তাহলে তারা সরাসরি সুপার ফোরে পৌঁছাবে চার পয়েন্ট সংগ্রহ করে। এর ফলে কোনও জটিল সমীকরণের দরকার পড়বে না।

    তবে যদি আফগানিস্তান জিততে পারে? তখন পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কঠিন হয়ে যাবে। তিন দলেরই পয়েন্ট হবে ৪, এবং তখন নির্ভর করবে নেট রান রেটে। আফগানিস্তানের বর্তমানে +২.১৫০, শ্রীলঙ্কার +১.৫৪৬, এবং বাংলাদেশের -০.২৭০।

    সম্ভাব্য পরিস্থিতি কীভাবে বদলে যেতে পারে?
    আফগানিস্তান যদি আগে ব্যাট করে ২০০ রান করে, আর শ্রীলঙ্কা ১২৮ রান তোলার মতো পরিস্থিতিতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের সুপার ফোরে যাওয়া নিশ্চিত হবে।

    অথবা, আফগানিস্তান যদি ১৫০ রান করে, তাহলে শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে কমপক্ষে ৮৪ রান।

    এছাড়াও, যদি শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাট করে, তাহলে আফগানিস্তানের জয় পেতে হলে ১১-১২ ওভারের মধ্যেই ম্যাচটি শেষ করতে হবে। তাতেই বাংলাদেশের জন্য সুপার ফোরে যাওয়া সম্ভব।

    এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝে, বাংলাদেশ শেষ চারে পৌঁছানোর পথে। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন সেটাই আলাদা করে তাকানো পুরো গ্রুপের শেষ ম্যাচ, শ্রীলঙ্কা বনাম আফগানিস্তানের দিকে।

  • পাইক্রফটের ক্ষমা চাওয়া আমাদের জন্য জয়: রমিজ রাজা

    পাইক্রফটের ক্ষমা চাওয়া আমাদের জন্য জয়: রমিজ রাজা

    বাংলাদেশ সময়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ও পরে আঁকা অ্যান্ডি পাইক্রফটের ক্ষমা চাওয়াকে পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য একটি নৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক বোর্ড প্রধান রমিজ রাজা। তবে তিনি এও মনে করেন, ইংল্যান্ডের রেফারির এই আচরণে ভারতের স্বার্থ প্রতিফলিত হচ্ছে, কারণ ভারতের জন্য এটি সুবিধাজনক।

    এশিয়া কাপের পাকিস্তান-ভারত ম্যাচের সময়টিতে টসের আগে ও পরে ক্রিকেটারদের মধ্যে করমর্দন না করাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট নিজেই হাত না মিলানোর জন্য খেলোয়াড়দের পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর ফলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই রেফারির বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করে তাকে প্রত্যাহার করার দাবি জানায়। পরবর্তীতে आवश्यक ব্যতিক্রমী বৈঠক ডেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    রাজা বলেন, এটা সত্যিই আমাদের জন্য একটি গুরুত্তপূর্ণ জয়। পুরো পরিস্থিতিটা খুবই জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। তখন আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে চাইলেও, আমরা তা করিনি। যদি টুর্নামেন্ট বর্জন করা হতো, তাহলে দেশের ক্রিকেটের অনেক বড় ক্ষতি হতো। আমি মনে করি, এই পরিস্থিতিতে আমাদের শান্ত ও সংযমী থাকা আবশ্যক, কারণ এর ফলে মাঠে সত্যিকারের ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়।

    আশ্চর্যজনকভাবে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের শেষে সূর্যকুমার যাদব জয় উদযাপন করেন এবং এই জয়কেই দেশের সেনাবাহিনী ও পেহেলগাম হামলার শিকার পরিবারদের কাছেই উৎসর্গ করেন। তবে, রমিজ রাজা বলছেন, এই বিষয়টিতে তাঁর আপত্তি রয়েছে। তিনি মনে করেন, পাইক্রফট ভারতীয় দলের অত্যন্ত প্রিয় একজন রেফারির মধ্যে অন্যতম। প্রশ্ন হচ্ছে, এই ধরনের আচরণ কি সত্যিই সততার পরিচায়ক, না কি কিছু স্বার্থের জন্য চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে?

    তিনি বলেন, আমার সবচেয়ে বড় আপত্তি ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণীর সময় কথাগুলো নিয়ে। যদি ক্রিকেটকে রাজনীতির আঙিনায় রূপান্তর করা হয়, তবে আসল কোনো অর্জনই সম্ভব নয়। এই ধরনের মনোভাব খেলাকে দূষিত করে দিচ্ছে।

    একটি বিষয় যা নজরে আসছে, তা হলো অ্যান্ডি পাইক্রফটের ব্যাপারে রমিজ রাজা জানান, আজ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনায় তিনি সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করেছেন সাউথ আফ্রিকার জন্য—১৩৫টি ম্যাচের মাধ্যমে। এরপর শ্রীলঙ্কা (১৩২), ভারত (১২৪), পাকিস্তান (১০২), ইংল্যান্ড (১০৭), বাংলাদেশ (৮৩) ও অস্ট্রেলিয়া (৮০) ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন। এতে বোঝা যায়, তিনি বিশ্বের শীর্ষ রেফারিদের একজন। তবে, তার পক্ষপাতিত্ব নিয়ে উঠে আসা প্রশ্নগুলোকে যেন তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন, যা ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও নৈর্ব্যক্তীয়তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  • বাংলাদেশের সামনে সুপার ফোরে যেতে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ

    বাংলাদেশের সামনে সুপার ফোরে যেতে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ

    এশিয়া কাপের ১৭তম আসরে জীবনের অন্তরবর্তীতেই বাঁচার জন্য একমাত্র পথ হলো আফগানিস্তানকে হারানো। এই জয়ে বাংলাদেশ প্রথম শর্ত পূরণ করেছে, তবে এখনো নিশ্চিত নয় তাদের সুপার ফোরের টিকিট। পঞ্চম ম্যাচের ফলাফলের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। ফলে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো শ্রীলঙ্কার জয় বা তার ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়া। যদি এভাবে শ্রীলঙ্কা জিতে বা ম্যাচ বাতিল হয়, তাহলে চার পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি সুপার ফোরে পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ।

    অন্যদিকে, যদি জিতে যায় আফগানিস্তান, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাবে। তিন দলের পয়েন্ট হবে সমান—৪—এবং তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে নেট রান রেটের হিসাব। আফগানিস্তানের বর্তমান রেট +২.১৫০, শ্রীলঙ্কার +১.৫৪৬ এবং বাংলাদেশের -০.২৭০।

    এখন কী হতে পারে তার কিছু সম্ভাব্য চিত্র হলো: যদি আফগানিস্তান আগে ব্যাট করে ২০০ রান করে, আর শ্রীলঙ্কা ১২৮ রান করতে পারে—তাহলে সরাসরি বাংলাদেশ সুপার ফোরে নিশ্চিত হবে। আবার, আফগানিস্তান যদি ১৫০ রান করে, তবে শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে কমপক্ষে ৮৪ রান।

    অন্যদিকে, যদি শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাট করে, তাহলে আফগানিস্তান জিততেই হবে ১১-১২ ওভারেই, তখনই বাংলাদেশের সুপার ফোরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এই সময়ে বাংলাদেশ শেষ চারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন শুধুমাত্র তাকিয়ে আছেন সুপার ফোরে বাংলাদেশের পথের জন্য শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান ম্যাচের ফলাফলের দিকে।

  • পাকিস্তানি কিংবদন্তি সূর্যকুমারকে ‘শূকর’ বললেন

    পাকিস্তানি কিংবদন্তি সূর্যকুমারকে ‘শূকর’ বললেন

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের মধ্যে সাধারণত উত্তেজনা থাকেই, তবে এবার এই উত্তেজনার মাঝে একটি নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সব কিছু শুরু হয় গত রোববার দুবাইয়ে এশিয়া কাপের এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, যেখানে ভারত পাকিস্তানকে হারালো। এই জয়ের নায়ক ছিলেন ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। কিন্তু ম্যাচের পরের ঘটনাগুলি যেন আলোচনার শিরোনামে উঠে এসেছে, তা খেলার উত্তেজনাকে ছাপিয়ে গেছে।

    জয়ের পর সূর্যকুমার খেলোয়াড়রা সঙ্গে হাত মিলাননি, সেটি নিয়ে অনেকেরই সমালোচনা হয়েছে। টসের সময়ও পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আগার সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেননি। এই আচরণকে অনেকেই অখেলোয়াড়সুলভ বলে সমালোচনা করেছেন।

    এই বিতর্কের মাঝে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইউসুফের হাত ধরে। এক টিভি আলোচনায় তিনি সূর্যকুমারকে ‘শূকর’ বলে গালি দেন। সঞ্চালক বারবার তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও, ইউসুফ নিজেও যেন থামতে রাজি হননি। তিনি বলেছিলেন, ‘ভারত সিনেমার দুনিয়া থেকে বের হতে পারছে না। তারা আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারির মাধ্যমে জিতছে। এটা নিঃসন্দেহে লজ্জাজনক!’ এরপর তিনি আরও গালাগাল করতে থাকেন।

    এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। ভারতের ক্রিকেট ভক্তরা ইউসুফের এই অশোভন আচরণের জন্য রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

    ঘটনার দীর্ঘপরবর্তী সময়ে, ইউসুফ এক্স-এ (সাবেক টুইটারে) একটি পোস্টে বলেন, ‘আমি কাউকে অসম্মান করতেই চাইনি। আবেগে তার কথাগুলো বলে ফেলেছি। তবে এরকম পরিস্থিতি মনে করে দেখুন, যখন ইরফান পাঠান আফ্রিদিকে ‘ঘেউ ঘেউ করা কুকুর’ বলে ডেকেছিলেন, তখন ভারতের মিডিয়া সেটাকে প্রশংসা করেছিল!’

    ইউসুফ যে ঘটনা উল্লেখ করছেন, সেটি ২০০৬ সালের পাকিস্তান সফরে ইরফান পাঠানের এক পুরনো সাক্ষাৎকার থেকে নেওয়া। সেখানে পাঠান বলেছিলেন, ‘আফ্রিদি অনেকক্ষণ ধরে ঘেউ ঘেউ করছে, নিশ্চয়ই কুকুরের মাংস খেয়েছে।’ এরপর থেকে আফ্রিদি আর কখনো তার সঙ্গে কোনো বাকবিতণ্ডা করেননি। এই ঘটনাগুলি ফুটে উঠেছে শুধু ক্রীড়া নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের পর্যায়ে।