Category: খেলাধুলা

  • স্বর্ণপদক পাচ্ছেন পিসিবির সভাপতি নকভি, ভারতকে ট্রফি না দেয়ায়

    স্বর্ণপদক পাচ্ছেন পিসিবির সভাপতি নকভি, ভারতকে ট্রফি না দেয়ায়

    অভিনন্দন ও সম্মাননা পাচ্ছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মহসিন নকভি। সম্প্রতি এশিয়া কাপের ক্রিকেট ফাইনালে ট্রফি বিতরণের ঘটনায় তৈরি হওয়া বিতর্কের মাঝেই তাকে দেওয়া হবে ‘শহীদ জুলফিকার আলী ভুট্টো এক্সেলেন্স গোল্ড মেডেল’। এই খবর প্রকাশিত হয়েছে পাকিস্তানের জনপ্রিয় দৈনিক দ্য নেশন এর প্রতিবেদনে।

    পাকিস্তানের সিন্ধ ও করাচি বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গুলাম আব্বাস জামাল জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক ও ক্রীড়াগত উত্তেজনার মধ্যেই নকভির এই সিদ্ধান্ত দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছে। এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতীয় ক্রিকেটাররা ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানালে এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর নকভি নিজেই ট্রফিটি রাখতে থাকেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘‘ভারতীয় দল চাইলে অফিসিয়াল অ্যাসিসির মূল কার্যালয় থেকে ট্রফি নিতে পারে।’’

    নকভি বলেন, ‘আমি কোনো ভুল করিনি এবং বিসিসিআই’র কাছে ক্ষমা চাইব না।’ পাকিস্তানে তার এই দৃঢ় অবস্থান ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং অনেকে এটিকে দেশের জন্য গর্বের বিষয় ও সাহসের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

    পুরস্কার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা করাচিতে অনুষ্ঠিত হবে। এতে পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    এ ঘটনার পেছনে রয়েছে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘ দিন ধরে চলা রাজনৈতিক উত্তেজনা। পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলায় ভারতের অনেক পর্যটক নিহত হওয়ার ঘটনাপ্রবাহের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুড়ংগে গড়িয়ে গেছে। এশিয়া কাপের সময়ও এর প্রভাব ফুটে ওঠে, যেখানে ভারতের ক্রিকেটাররা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মিলাতে অস্বীকার করে এবং ফাইনাল জিতলেও ট্রফি নিতে রাজি হয়নি।

    ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই ইতোমধ্যে এশিয়া কাপের এই ঘটনার বিষয়ে জাতীয় সভায় আলোচনা করেছে এবং আগামী নভেম্বরের আইসিসির বৈঠকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করছে।

  • বাংলাদেশ এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় করল

    বাংলাদেশ এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় করল

    প্রথম টি-টোয়েন্টির মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও একই রূপে দেখা গেল বাংলাদেশের দৃশ্যপটে। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই কিছুটা পিছিয়ে গেল দল, কিন্তু শেষমেশ নেতৃস্থানীয় খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সাফল্য অর্জন করে। নুরুল হাসান সোহান ছিলেন ম্যাচের নায়ক, তিনি শেষের দিকের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জয়ে অবদান রাখেন। প্রথম ম্যাচে রিশাদ হোসেনের সঙ্গে সাফল্য পেয়ে আজ শরিফুল ইসলামকে পেয়েছেন, যা দলের পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। এই জয়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।

    অর্থাৎ, টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক জাকের আলী। শুরুতেই আফগান ওপেনার সেদিকউল্লাহ অতাল ও ইব্রাহীম জাদরানকে সংগ্রহ করতে গিয়ে অসুবিধায় পড়তে হয় বাংলাদেশের বোলারদের। পাওয়ার প্লে-তে তারা উইকেট না হারালেও মাত্র ৩৫ রান তুলতে সক্ষম হন।

    আফগান ওপেনার সেদিকউল্লাহ ১৯ বলে ২৩ রান করে রশিদ হোসেনের উইকেটের শিকার হন, এরপরই ইব্রাহীম ৩৭ বলে ৩৮ রানে ফিরে যান নাসুম আহমেদের শিকার হয়ে। ওমরজাই ও দারউইশ রাসুলী শেষ দিকে ধীরে ধীরে নেয়াঠে পারেননি, কিন্তু অবিচ্ছিন্ন ২৯ রানের জুটিতে দলকে ১৩০ রান পার করে দেন। আফগানদের ইনিংসশেষে সব মিলিয়ে ১৫০ রানের কাছাকাছি সংগ্রহ করে তারা।

    বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাসুম ও রিশাদ দুটি করে উইকেট পান, শরিফুল ইসলাম এক উইকেট নেন। মুস্তাফিজুর রহমান দুর্দান্ত বোলিং করলেও উইকেট পাননি, তবে দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে রাখতে সহায়তা করেন।

    ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের জন্য শুরুটা ছিল চ্যালেঞ্জের, তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন দুজনই প্রথম ওভারে আউট হয়ে যান। তামিম প্রথম ওভারে ফিরে যান, যখন আজমতউল্লাহ ওপরজাই তার ক্যাচ নিতে সক্ষম হন। এরপর দ্রুতই সাইফ হাসান ও জাকের আলীও ফিরে যান। তবে, দলের মধ্য থেকে জাকের আলী ও শামীম পাটোয়ারির জুটিতে রান গড়ে ওঠে, যা দলের স্বপ্ন দেখার জন্য আশাজাগানিয়া ছিল। ১৩.৫ ওভারে দলীয় শতক পূর্ণ করে বাংলাদেশ।

    শুরুতে হাফ সেঞ্চুরিয়ান শামীম পাটোয়ারি ৩৩ রান করে বিদায় নেন এবং এরপরই দলের বিপদ বাড়ে। এই দুর্যোগের মধ্যেও নুরুল হাসান সোহান দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আউট হন, আর তার পরিবর্তে নাসুম যোগ দেন। ১৭তম ওভারে রশিদের শেষ বলে ১১ বলে ১০ রান করে বোল্ড হন নাসুম, এরপর সাইফউদ্দিন ও রিশাদ আহমেদ দ্রুত ফিরে যান। এই সময় বাংলাদেশের দরকার ছিল ১৯ রান।

    সোহান তার সাবলীল ব্যাটিং দিয়ে ১৭ রান হাঁকান, আর শরিফুল ইসলাম চার হাঁকান, ফলের এই ওভারে ১৭ রান আসে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১০২ রান সংগ্রহ করে। তবে পরে, ম্যাচের শেষার্ধে বাজে পারফরম্যান্সে ব্যাটাররা ধাক্কা খায়, ১০ উইকেটে ১৪৮ রানে শেষ হয় আফগানিস্তানের ইনিংস।

    বিশেষ উল্লেখ, বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ উইকেট পতনের মধ্যেও জাকের আলী অনিক ও শামীম পাটোয়ারির ব্যাটে আশা বজায় ছিল। জাকের আলী ২৫ বলে ৩২ রান করে যান, যেখানে তার ব্যাটে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা। শামীমের সঙ্গে তার জুটি ৫৬ রানের, যা দলের জন্য আশার আলো। কিন্তু আউট হওয়ার কিছু সময় পরে, শামীমও ফিরে যান। শেষদিকে তারকা ব্যাটাররা নিরবচ্ছিন্নভাবে অবিরত ব্যাট চালিয়ে যান।

    অপরদিকে, বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের জন্য শেষ ওভারে ১৯ রান দরকার ছিল। সোহানের ছক্কা ও শরিফুলের চার এই ওভারকে স্মরণীয় করে তোলে। এই জয়ের জন্য বাংলাদেশের পুরো দলের সাহসিকতা ও দৃঢ়তা ছিল অপরিহার্য।

  • ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল উন্মোচন করল ফিফা

    ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল উন্মোচন করল ফিফা

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আসর অনুষ্ঠিত হতে এখনো এক বছর অপেক্ষা করতে হবে, তবে এর আগেই শুরু হয়ে গেছে সুদৃশ্য প্রস্তুতি এবং উত্তেজনা। সম্প্রতি, বিশ্বকাপের ব্যতিক্রমী ও আধুনিক বলের প্রথম প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজ পার্কে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, যেখানে বিশ্বব্যাপী ফুটবল প্রেমীরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তী ফুটবলাররা। এই তালিকায় ছিলেন পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী জার্মানির ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যান, ব্রাজিলের কাফু, ইতালির আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, স্পেনের জাভি হার্নান্দেজ এবং ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান।

    নতুন বিশ্বকাপের বলের নাম দিয়েছেন ‘ট্রাইওন্ডা’, যা অ্যাডিডাস তৈরি করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটিই ধারাবাহিকভাবে ১৫ বার ফিফার অফিসিয়াল বল সরবরাহ করে আসছে। ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, ‘আমরা গর্বিত এই নয়া বল উপস্থাপন করতে পেরে, যাকে ডিজাইন করা হয়েছে কানাডা, মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্য ও উচ্ছ্বাসের প্রতীক হিসেবে।’

    ‘ট্রাইওন্ডা’ নামটি এসেছে দুটি শব্দ থেকে—‘ট্রাই’ অর্থ তিন এবং ‘ওন্ডা’ অর্থ ঢেউ। বলটি আলোকিত হয়েছে প্রবল দেশপ্রেম ও বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে, যেখানে রয়েছে লাল, সবুজ ও নীল রঙের ঢেউ। এই তিন রঙের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, এই তিন দেশের মিলিত প্রচেষ্টা ও ঐক্য। আরও স্পষ্টতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে বলের নকশা, যেখানে দেখা যায় ‘অ্যাপোলো’, ‘আমেরিকা’, ‘ম্যাকডোনাল্ড’ প্রতীক।

    বিশেষ করে, বলের ওপরের প্রতীকগুলো গ্রাফিক্স ও খোদাই করা, যার সঙ্গে রয়েছে সোনালি রঙের স্পর্শ। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের মহামহিম ট্রফির প্রতি সম্মান ও উচ্চারণ করা হয়েছে, যে বলই ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞের জন্য তৈরি।

    নতুন ডিজাইনের এই বলের বৈশিষ্ট্য হলো চার-প্যানেল নকশা, যা বলটিকে আরও স্থিতিশীল এবং টেকসই করে তুলেছে। পুরু সেলাই ও স্পষ্ট রেখাগুলো বাতাসের মাধ্যমে বলের চলাচলকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। বলের উপর খোদাই করা প্রতীকগুলো ভেজা অবস্থায়ও গ্রিপ সহজ করে দেয়। তবে মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অ্যাডিডাসের ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’, যেখানে ভেতরে থাকা ৫০০ হার্জের সেন্সর খেলোয়াড়দের কর্মকাণ্ডের রিয়েলটাইম তথ্য সরবরাহ করে, যা ব্যবস্থাপনাকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে, офফসাইড বা ফাউলের মতো বিতর্কিত পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।

    অ্যাডিডাসের মহাব্যবস্থাপক স্যাম হ্যান্ডি বলেন, ‘প্রতিটি ছোটো জিনিসই বড় প্রভাব ফেলে, আর এই ডিজাইনগুলো—খোদাই, গ্রাফিক্স ও রঙ—বলটিকে আলাদা করে তুলেছে। এটি আমাদের তৈরি করা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় ফুটবল বিশ্বকাপ বল।’

  • ফিফা উন্মোচন করল ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন অফিসিয়াল বল ট্রাইওন্ডা

    ফিফা উন্মোচন করল ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন অফিসিয়াল বল ট্রাইওন্ডা

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির মধ্যে আরও একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ফুটবল সংস্থা ফিফা। মাত্র এক বছর বাকি রেখে, বিশ্বকাপের বলের অবকাশ উন্মোচন করেছেন তারা, যা এই মহাযজ্ঞের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজ পার্কে অনুষ্ঠিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে, বিশ্বকাপের নতুন বল ‘ট্রাইওন্ডা’ এর লুক প্রকাশ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলাররা, যেমন জার্মানির জার্গেন ক্লিন্সম্যান, ব্রাজিলের কাফু, ইতালির আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, স্পেনের জাভি হার্নান্দেজ এবং ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান।

    নতুন এই বলের নাম ‘ট্রাইওন্ডা’, যা অ্যাডিডাসের তৈরি। এটি বাংলাদেশের মানুষ জানেন, অ্যাডিডাস বিশ্বকাপের জন্য বিখ্যাত বল সরবরাহকারী। ১৫ বছর ধরে এই সংস্থা বিশ্বকাপের বল প্রস্তুত করে আসছে। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘আমরা অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে ট্রাইওন্ডা উন্মোচন করছি। এই বলের ডিজাইন কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের একত্রীকরণ ও উচ্ছ্বাসের প্রতিচ্ছবি।’

    ‘ট্রাইওন্ডা’ নামটি এসেছে দুটি শব্দ থেকে—’ট্রাই’ অর্থ ‘তিন’ এবং ‘ওন্ডা’ অর্থ ‘ঢেউ’, যা এই বলের ডিজাইনেও প্রতিফলিত। এতে তিনটি রঙের ঢেউ রয়েছে— লাল, সবুজ ও নীল— যা সংযুক্ত দেশগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই তিনটি দেশ ২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজন করছে, তাই এই রঙের মাধ্যমে তাদের ঐক্যকে সূচিত করা হয়েছে।

    বলটির ডিজাইনে স্থান পেয়েছে প্রতিটি দেশের জাতীয় প্রতীক— যুক্তরাষ্ট্রের তারকা, কানাডার ম্যাপল পাতা এবং মেক্সিকোর ঈগল। এসব প্রতীক গ্রাফিক্স ও খোদাইয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া, বলের সোনা রঙের হালকা স্পটিং এটিকে আরও গুরুত্ব দেয়, বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতি সম্মান জানাতে।

    নকশায় নতুনত্বের মধ্যে রয়েছে চার-প্যানেল ডিজাইন, যা বলের স্থিতিশীলতা ও টেকসইতা বৃদ্ধি করেছে। পুরু সেলাই, নির্দিষ্ট রেখা ও গ্রাফিক্স দিয়ে বলের গ্রিপ ও চলাচল আরও উন্নত। তবে এই নতুন বলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো অ্যাডিডাসের সংযুক্ত প্রযুক্তি, যা বলের ভেতরে থাকা ৫০০ হার্জ সেন্সর দিয়ে রিয়েল-টাইম ডেটা সরবরাহ করে।

    এই প্রযুক্তির মাধ্যমে, অফসাইডের সঠিক সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া সম্ভব হবে, এমনকি হ্যান্ডবল বা অন্যান্য বিতর্কিত পরিস্থিতিও সহজে নির্ণয় করা যাবে। অ্যাডিডাসের মহাব্যবস্থাপক স্যাম হ্যান্ডি বলেছিলেন, ‘প্রতিটি ছোটো জিনিসই বড় প্রভাব ফেলে। আমাদের ডিজাইন, রং ও গ্রাফিক্স এই বলটিকে অন্যসব বল থেকে আলাদা করে তুলেছে। এটি এখন পর্যন্ত তৈরি করা সবচেয়ে সুন্দর এবং আকর্ষণীয় ফিফা বিশ্বকাপ বল।’

  • সোহানের ক্যামিওতে বাংলাদেশের ঝড়ো জয়, সিরিজে নেতৃত্ব ধরে রাখলো বাংলাদেশ

    সোহানের ক্যামিওতে বাংলাদেশের ঝড়ো জয়, সিরিজে নেতৃত্ব ধরে রাখলো বাংলাদেশ

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায় বাংলাদেশ শক্তিশালী দেলোয়ার প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়। এই ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল খুবই প্রতি়তাবধানে, কিন্তু রশিদ খানের এক স্পেলে হঠাৎ হেরের শঙ্কা দেখা দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের নবীন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান এবং তরুণ রিশাদ হোসেনের কৌশলী ব্যাটিং ও মানসিক দৃঢ়তার ওপর ভর করে সে চাপ কাটিয়ে জয় হাসিল করে বাংলাদেশ। নাটকীয় এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত তারা ৬ উইকেটে আফগানিস্তানকে হারায়।

    প্রথম ম্যাচের শুরুতেই তানজিদ তামিম ও পারভেজ ইমনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে উদ্বোধনী জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর দ্রুতই এগিয়ে যায়। শুরুতেই তারা আফগান বোলারদের খুবই ভালোভাবে মোকাবেলা করে অর্ধশতক করেন। দুটি ওপেনার দ্রুতই দলের জন্য বড় সংগ্রহের ভিত্তি স্থাপন করেন। এরপর ম্যাচের শেষ পর্যায়ে প্রয়োজন ছিল ৫১ বলে ৪৩ রান, হাতে ছিল সব উইকেট। এই পরিস্থিতিতে সবাই সহজ জয়ে আশা করছিল। তবে বাংলাদেশ দলের জন্য কিছুটা নাটকীয়তা ঢুকে পড়ে, যখন টপ অর্ডার থেকে ৬ ব্যাটার বিদায় নেন মাত্র ৯ রানের ব্যবধানে, যা দলকে চরম বিপদে ফেলতে পারতো।

    বিশেষ করে, রশিদ খানের বল যেন বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে দাঁড়ায়। এই স্পিনারের ৪ উইকেট শিকার পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, ফলে তারা ১০৯ থেকে ১১৮ রান পর্যন্ত হারিয়ে যায়। এরপর, দলটি মানসিকভাবে লড়ে উঠে হাল ধরেন বড়ো আকারের ব্যাটিংয়ে, যেখানে নতুন অধিনায়ক সোহান ও রিশাদ ধৈর্য্য ও সচেতনতার সঙ্গে ব্যাট করে নিজেরা রক্ষা পায়।

    শারজায় আফগানদের দেওয়া ১৫২ রানের লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের শুরুটা ছিল ভিন্ন রকমের। প্রথমদিকে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং পারভেজ হোসেন ইমন ম্যাচের প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর ধারালো আঘাত হানেন। তারা অর্ধশতক করে থামে, তামিম ৫১ এবং ইমন ৫৪ রান করে ফিরতে বাধ্য হন। এরপর অন্য ব্যাটাররা চারপাশে চাপ সৃষ্টি করলেও অপ্রতিরোধ্য থাকেননি। মধ্যবর্তী সময়ে কিছু ব্যর্থতা থাকলেও, সোহান ও রিশাদ ধৈর্য্য ধরে পরিস্থিতি সামলে ম্যাচ শেষ করেন। সোহান ১৩ বলে ২৩, আর রিশাদ ৯ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

    অন্যদিকে, ম্যাচের আগের দিনই শারজাহতে টস জিতে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান সংগ্রহ করে। দলের জন্য সর্বোচ্চ সংগ্রহ করেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ, ৪০ রান। বাংলাদেশকে প্রথম সারিতে বড় ধাক্কা দেন নাসুম আহমেদ, যিনি ইব্রাহিম জাদরানকে LBW করে দেন। জাদরান ১৫ রান করে আউট হন। এছাড়া, সাদিকুল্লাহ আতালও ১০ রান করেন।

    এরপর দউরিউস রাসুলি ও মোহাম্মদ ইশাক দ্রুতই ফিরে যান বলের আঘাতে। তারা দুইজনই দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। আফগানিস্তান দ্রুতই বিপদে পড়ে যায়, মাত্র ৪০ রান করে ৪ উইকেট হারিয়ে। এরপর দলের ব্যাটিংয়ে বড়ো পারফর্ম করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও রহমানুল্লাহ গুরবাজ। গুরবাজ ১৮ বলে ১৮ রান করে আউট হন, যা দলকে বড় সংগ্রহের পথে বাধা দেয়।

    অবশেষে, শেষদিকের ঝড়ো ব্যাটিং দেখান মোহাম্মদ নবি। তিনি ১৮তম ওভারে তাসকিনের ওপর তিন ছক্কা হাঁকান। যদিও এই ওভারে তিনি আউট হন, তবে ২৫ বলে ৩৮ রান করে যান। তার পাশাপাশি, শরাফুদ্দিন আশরাফ ১২ বলে ১৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই ব্যাটাররা শেষ মুহূর্তে আফগানিস্তানের রান সংগ্রহকে কিছুটা সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে আসেন।

  • বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দাপুটে জয়ে শুরু বাংলাদেশের

    বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দাপুটে জয়ে শুরু বাংলাদেশের

    বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মহাযুদ্ধে প্রথম দায়িত্বশীল মানসিকতা ও সাহসের পরিচয় দিয়েছে। পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের বোলারদের সাগরসাপটে ধরা পড়েছেন এবং তাদের পুরো ইনিংস জুড়ে ব্যাটিং অচল করে ফেলেছেন। নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খানসহ বাংলাদেশের ঘূর্ণি বোলাররা এই ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে পাকিস্তানিদের ১২৯ রানে অল আউট করেছেন। সফরকারীরা বলেছে, তারা অবশ্যই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে জয়ের জন্য লড়াই করবে। তবে বাংলাদেশের ঘূর্ণি বোলাররা সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান সঙ্গে বোলারদের দৃঢ় মনোবল ও নিপুণ বোলিংয়ে পাকিস্তানিরা মাত্র ১২৯ রানেই সীমাবদ্ধ থাকতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মারুফা, নাহিদা ও স্বর্ণা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। মারুফার সুইং ও গতির সামনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা অনূপ্রাণিত হতে পারেননি, যার কারণে শুরুতেই তারা দুই উইকেট হারায়। এরপর মুনিবা আলি ও রামিন শামিম কিছুটা চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশি বোলাররা তাদের ফিরিয়ে দেন। পাকিস্তানি ব্যাটাররা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার পাকিস্তানের পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা বোলার হন। রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক তার দারুণ ফিফটিতে ম্যাচের মানের ওপর দ্যোতনা সৃষ্টি করেন। তিনি ৭৭ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ৫৪ রান করেন, যা দারুণ এগিয়ে যায় তার ক্রিকেট জীবনের জন্য। এই জয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা নিজেদের মনোবল ধরে রেখে আগামীর ম্যাচগুলোতেও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এই ম্যাচের উত্তেজনা ও বাংলাদেশ দলের সাহসকে চিরদিন মনে রাখবেন।

  • বিসিবি নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা

    বিসিবি নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনের চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। যাচাই-বাছাই এবং শুনানি শেষে মূলত ৫০ জনের নাম ছিল তালিকায়। তবে বুধবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন ১৬ জন প্রার্থী। এর ফলে আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ৩৩ প্রার্থী নিয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরির নির্বাচন, যেখানে ২৫টি পরিচালক পদের জন্য ভোট গ্রহণ হবে।

    নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. শেখ জোবায়েদ হোসেন জানান, তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ১৬ প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছি একেকজন ব্যক্তিগত কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

    বিশেষ করে, সরকারি হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে বেশিরভাগ প্রার্থী এই ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন ফিরিয়ে নিয়েছেন। ঢাকা ক্লাব ভিত্তিক ক্যাটাগরি-২-তে ৩০ প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিভিন্ন বিতর্কিত ক্লাবের প্রতিনিধি যেমন ভাইকিংস ক্রিকেট একাডেমির ইফতেখার রহমান নির্বাচন করতে পারবেন না।

    রিটার্নিং কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ‘একই নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু প্রার্থী প্রত্যাহার করেছেন।’ এই ক্যাটাগরিতে ৭৬ জন কাউন্সিলরের ভোটে ১২টি পরিচালক পদের জন্য ১৬ জন প্রার্থী লড়ছেন।

    অন্যদিকে, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জন্য গঠিত ক্যাটাগরি-১ থেকে নির্বাচিত হবেন ১০ জন পরিচালক। এখানে ভোটার সংখ্যা ৭১ থেকে কমে ৭০ এ নেমে এসেছে। এতে ভোট দেবে জেলা ও বিভাগীয় সংস্থাগুলোর কাউন্সিলররা, তবে অধিকাংশই বিসিবির বর্তমান সভাপতি, আমিনুল ইসলামকে সমর্থন করছেন।

    উল্লেখ্য, এবার নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের প্রার্থিতা প্রত্যাহার। তার পাশাপাশি আরও কিছু আলোচিত প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় পরিস্থিতির উত্তাপ কিছু কমে এসেছে।

    চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এখন তিনটি বিভাগে ভোটের মূল লড়াই হবে। অন্য বিভাগ ও ক্যাটাগরিতে একক প্রার্থী থাকায় তারা সরাসরি নির্বাচিত হবেন।

    বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মোট ১০ পরিচালকের মধ্যে ৬ জন নির্বাচিত হয়েছেন। এই তালিকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে বিভিন্ন বিভাগে—খুলনা, বরিশাল, সিলেট—প্রতিনিধিরা। এছাড়াও, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার ও নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন কিছু প্রার্থী।

    বিশেষত, ঢাকা, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে আগামী সপ্তাহে ভোট হবে। ঢাকা বিভাগে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, যেখানে দুটি পরিচালকের জন্য ভোট থাকবে। অন্য বিভাগগুলোতেও একই পদ্ধতিতে ভোট হবে।

    ক্যাটাগরি-৩-এ, সাবেক ক্রিকেটার ও জাতীয় দলের অধিনায়কসহ মোট ৪৫ জন ভোটার তাদের পছন্দের পরিচালকদের জন্য ভোট দেবেন। তাঁদের মধ্য থেকে একজন নির্বাচিত হবেন।

    সংক্ষেপে, এই নির্বাচন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থীরা বুথে গিয়ে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন, যেখানে একক প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কিছু বিভাগে।

  • এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

    এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

    প্রথম टी-টোয়েন্টির মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও একই রকম দৃশ্য দেখা গেল। রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ মাঝপথে কিছুটা পথ হারিয়ে ফেলে, তবে শেষমেশ দলের জয়ের স্বপ্ন সফল করলেন নুরুল হাসান সোহান। প্রথম ম্যাচে রিশাদ হোসেনের সাথে পার্টনারশিপে জয় পেয়েছিলেন, আজ শরিফুল ইসলামকে পেলেন আবার রানের জন্য। এই এক পার্টনারশিপের সুবাদে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজের জয় নিশ্চিত করে ফেলল কোচ ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।

    শুরুর দিকে রান তুলতে সমস্যা সৃষ্টি হয় বাংলাদেশের। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন দুজনই অঙ্কের একপ্রান্তে ফিরে যান। দ্বিতীয় ওভারটির দ্বিতীয় বলে তানজিদ ফিরে যান, আগের দিনের হাফ সেঞ্চুরিয়ানকে আজমতউল্লাহ ওয়াক্সের উপর থেকে ক্যাচ ধরেন। তানজিদের বিদায়ের মাধ্যমে প্রথম ওভারেই পড়ে বাংলাদেশ।

    চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই ফিরে যান ইমনও। ওমরজাইয়ের দুর্দান্ত গুড লেংথের বল লেগ বিফোর উইকেটে পাঠান তিনি। তার ব্যাটে আসে ৫ বলে ৩ রান।

    পরে ইনফর্ম সাইফ হাসানও শিকার হন। মালুমের বা পাওয়ার প্লের প্রথমে বাংলাদেশ ৩৭ রানেই তিন উইকেট হারায়।

    অতিরিক্ত চাপের মধ্যে গণনা অনুযায়ী ৮ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৭ রান। তবে এরপর ধীরে ধীরে এই সংকট কাটিয়ে ওঠেন জাকের আলী অনিক ও শামীম পাটোয়ারি। দশ ওভারে বাংলাদেশ ক্রমশ ৭৪ রান করে উইকেটের বিপরীতে। এরপর ৮০ রানে চতুর্থ উইকেট হারায়।

    জাকের আলী (২৫ বলের ৩২ রান) ও শামীম (২২ বলে ৩৩ রান) দলের জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। দৌড়ে দলের শতক সম্পন্ন করেন, কিন্তু পরের ওভারে তিনি বিদায় নেন।

    শেষে বাংলাদেশ ১০২ রান করেন ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে। এরপর নুরুল হাসান সোহান দলের মূল সঙ্গী হয়ে ফিরে আসেন, দলের ভীত কাঁপানো পরিস্থিতিতে। ১৭তম ওভারে রশিদের শেষ বলে বোল্ড হন সোহান, তবে তার আগের ইনিংসে ১১ বলে ১০ রান ও ছিল। এই সময়ে বাংলাদেশের বোলাররা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন। নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন দুটি করে উইকেট নেন, শরিফুল ইসলাম একটি উইকেট চান। মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং অনবদ্য হলেও উইকেট পাননি।

    আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে আজমতউল্লাহ ওমরজাই, মোহাম্মদ নবি, কাবুলের উল্লেখযোগ্য পারফরমার। শেষ পর্যন্ত তারা সংগ্রহ করেন ১৩৮ রান, যেখানে নবি ১২ বলে ২০ ও ওমরজাই ১৭ বলে ১৯ রান অবিচ্ছিন্ন থাকেন।

    বিজয়ী দলের মধ্যে নাসুম ও রিশাদ দুটি করে উইকেট নেন, শরিফুল ইসলাম একটি উইকেট পান। মুস্তাফিজের বোলিং বেশ প্রশংসনীয় হলেও তার একটি ক্যাচ ছেড়ে দেন ইমন, যা সম্ভবত উইকেটের পরিবর্তে সুযোগের হার।

    এভাবে বাংলাদেশের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ফলস্বরূপ তারা সিরিজে এগিয়ে থাকতেই থাকল।

  • সাইফের র‍্যাঙ্কিং লাফ ও অভিষেকের বিশ্ব রেকর্ড: এশিয়া কাপের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন

    সাইফের র‍্যাঙ্কিং লাফ ও অভিষেকের বিশ্ব রেকর্ড: এশিয়া কাপের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন

    গত কিছু বছর ধরে বাংলার তরুণ ক্রিকেটার সাইফ হাসানের নাম টি-টোয়েন্টির অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষে থাকলেও সম্প্রতি তিনি এই আধিপত্য আরও শক্ত করে নিয়েছেন। এশিয়া কাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি তিন ধাপ উন্নতি করে অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেছেন। তবে এর আগে চার ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি, যা তার ক্রিকেটীয় অভিযাত্রায় এক চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হয়।

    অন্যদিকে, হার্দিক পাণ্ডিয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে গেছেন। দুই নম্বরে থাকা হার্দিক বর্তমানে চার ধাপ নিচে অবস্থান করছেন, তার চেয়ে শীর্ষে থাকা সাইম আইয়ুবের থেকে আট ধাপ পিছিয়ে। পাকিস্তানের মোহাম্মদ নাওয়াজ আরও চার ধাপ এগিয়ে ১৩তম স্থানে রয়েছেন। শ্রীলঙ্কার চারিথ আসালাঙ্কা তিন ধাপ উন্নতি করে যৌথভাবে ৩০তম স্থানে পৌঁছেছেন। এশিয়া কাপের পারফরম্যান্সের কারণে এসব ক্রিকেটার তাঁদের র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন।

    ব্যাটিং ক্ষেত্রে ভারতের অভিষেক শর্মা রীতিমতো নজর কেড়েছেন। তিনি এক অসাধারণ রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হাফ-সেঞ্চুরি করে তাঁর রেটিং পৌঁছে গেছে ৯৩১ পয়েন্টে—যা টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই রেকর্ড আগে ছিল ইংল্যান্ডের ডেভিড মালানের (৯১৯ পয়েন্ট, ২০২০ সালে)। এই বিশাল অর্জনটি তাঁর সতীর্থ সূর্যকুমার যাদব ও বিরাট কোহলিকে ছাড়িয়ে গেছে। ২৫ বছর বয়সী এই ওপেনার গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করলে এত দ্রুত তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের বড় তারকা হিসেবে উঠছেন।

    এশিয়া কাপের দর্শনীয় পারফরম্যান্সে তিনি ৩১৪ রান করে গড়ে ৪৪.৮৫’র কাছাকাছি। এর জন্য তিনি টুর্নামেন্টের সেরা প্লেয়ার পুরস্কারও জিতেছেন। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের ফিল সল্টের থেকে ৮২ রেটিং পয়েন্টে এগিয়ে থাকছেন। অন্যদিকে, ভারতের তিলক ভার্মা তৃতীয়, শ্রীলঙ্কার পাথুম নিসাঙ্কা পঞ্চম, এবং কুশল পেরেরা নবম স্থানে অবস্থান করছেন।

    ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বাংলাদেশের সাইফ হাসানও বড় উত্থান করেছেন। তিনি ৪৫ ধাপ এগিয়ে এখন ৩৬তম স্থানে আছেন, তাঁর রেটিং ৫৫৫ পয়েন্ট। গত সপ্তাহে তিনি এই র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৩৩ ধাপ এগিয়েছিলেন।

    বোলারদের ক্ষেত্রে রিশাদ হোসেন ৬ ধাপ এগিয়ে ২০তম স্থানে পৌঁছেছেন। এশিয়া কাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে পাকিস্তানের শাহিবজাদা ফারহান ১৩তম স্থানে উন্নীত হয়েছেন। ভারতের সঞ্জু স্যামসন ৩১তম স্থানে অবস্থান করছেন। বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতের বরুণ চক্রবর্তী এখনও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন। তিনি সাত উইকেট নেওয়ার পরেও সেই পজিশন ধরে রেখেছেন। ভারতের কুলদীপ যাদব নয় ধাপ এগিয়ে ১২তম, পাকিস্তানের শাহিন আফ্রিদি ১২ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ১৩তম স্থানে আছেন।

    এরকম এশিয়া কাপের পারফরম্যান্স নতুন রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে; ক্রিকেটপ্রেমীরা দেখলেন একজন তরুণ ক্রিকেটারের এক সুপারউৎকর্ষের গল্প ও কিছু রেকর্ডের নতুন ইতিহাস।

  • সোহানের ক্যামিওতে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

    সোহানের ক্যামিওতে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অসাধারণ একটা জয়ের মাধ্যমে শুরু করলো বাংলাদেশ। উচ্ছ্বাসে ভাসছে পুরো দল, কারণ তারা আগলে রেখে ম্যাচটিকে নিজেদের করে নিয়েছিল। প্রথমে আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরা কিছুটা নির্ভরতাসহ শুরু করলেও বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে তারা বিপাকে পড়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে রক্ষা করেন নুরুল হাসান সোহান ও রিশাদ হোসেন, যারা কঠিন পরিস্থিতিতে ৮ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করেন। নাটকীয় এই ম্যাচে তারা ৬ উইকেটের ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ।

    প্রথম দিকে বাংলাদেশ দল শুরুটাই ছিল দারুণ। তানজিদ তামিম এবং পারভেজ ইমনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ওপেনে জোড়া অর্ধশতক হাঁকান। তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে বাংলাদেশ সহজ জয়ের পথে এগোতে থাকে। আফগান বোলাররা ব্যবধান কমানোর জন্য চেষ্টা করলেও দলীয় সংগ্রামে তারা কিছুটা ব্যর্থ হন। শেষ দিকে, বাংলাদেশকে জয়ের জন্য মাত্র ৫১ বলেই প্রয়োজন ছিল ৪৩ রান, হাতে ছিল সবকটি উইকেট। অনেকের ভাবনা ছিল, এই সহজ লক্ষ্য তো সহজেই শেষ হবে। কিন্তু, খেলাটা যেখানে বাংলাদেশ, বা অন্য কিছু, তখন কিসের সহজে হতো?

    আফগানিস্তানের রশিদ খান বল যেন বাংলাদেশের জন্য এক দুঃস্বপ্ন। এই স্পিনারের চার উইকেট বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের নাড়িয়ে দেয়। তাদের আউটের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক সময় ১০৯ থেকে ১১৮ রান করে উইকেট হারাতে থাকে—৬ উইকেট। এরপরেও, নুরুল হাসান সোহান ও রিশাদ হোসেন একযোগে দলের হাল ধরে পরিস্থিতি বদলে দেন।

    দ্রুত ব্যাট করে নির্ণায়ক এক জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ১৫২ রান। শারজায় তাদের শুরু ছিল স্বর্গের মতো—উপ अखাবার মতো। ওপেনাররা উচ্ছ্বসিত, তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন দুজনেই অর্ধশতক হাঁকান। তামিম ৫১ রান ও ইমন ৫৪ করে ফিরে যান। এরপর দলের ব্যাটসম্যানরা একের পর এক ফিরে যান, কিন্তু সোহান ও রিশাদের ধৈর্য্য ও মনোবল দলকে টেনে তোলে।

    সোহান ১৩ বলে ২৩ এবং রিশাদ ৯ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন, ম্যাচ শেষ করেন। এই দুর্দান্ত জয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৫২ রান, যা শুধুই কৃতিত্বের ব্যাপার।

    উল্লেখ্য, এদিন শারজায় টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ, তিনি করেন ৪০। বাংলাদেশের জন্য শুরুতেই উজ্জীবিত হন নাসুম আহমেদ, যিনি ইব্রাহিম জাদরানকে আউট করেন। অন্যদিকে, সাদিকুল্লাহ আতালও ১২ বলে ১০ রান করেন।

    আফগানিস্তান আরো কিছু ব্যাটসম্যানের ব্যর্থতায় ৪০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে শক্ত ভিত গড়তে পারেনি। এরপর অতি জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যখন ৪ উইকেট পড়ে যায়। তখন দলের প্রাণ ছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই এবং গুরবাজ, যারা দলের পরিস্থিতি কিছুটা উজ্জীবিত করেন। শেষ দিকে মোহাম্মদ नबी ঝড় তুললেও, তিনি ২৫ বলে ৩৮ রান করে আউট হন। তার চেয়ে বেশী রান করেন শরাফুদ্দিন আশরাফ, তিনি ১২ বলে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

    অবশেষে, বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় উদযাপন করা হয় এবং এখন তারা সিরিজে এগিয়ে থাকেন। আগামী ম্যাচে তারা চেষ্টা করবে আরও ভালো পারফরম্যান্স দেখানোর।