Category: খেলাধুলা

  • মেসিকে ছাড়া ভেনেজুয়েলাকে হারাল আর্জেন্টিনা

    মেসিকে ছাড়া ভেনেজুয়েলাকে হারাল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপে স্থান নিশ্চিত হওয়ার পর আর্জেন্টিনা এখন তার শিরোপা ধরে রাখার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে তারা পশ্চিমা ফুটবলারদের নিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে, যেখানে তাদের সামনে আরও দুটি ম্যাচ রয়েছে দক্ষিন আমেরিকার এই দলটির। আজকের ম্যাচটি ছিল সেই প্রস্তুতি পর্বের প্রথমটি। লিওনেল মেসি ও তরুণ তারকা ফ্রাঙ্কো মাসতানতুয়োকে মাঠে না নামিয়ে, দলের দায়িত্ব হাতে তুলে নেন জিওভান্নি লো সেলসো। তাঁর একমাত্র গোলেই জয় পায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    ভেনেজুয়েলার রক্ষণভাগের বিপক্ষে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা বলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তরুণ ফুটবলাদের ছন্দময় খেলায় তারা বেশ কিছু আক্রমণ নিয়ে তোলে। নিখুঁত এক শটে নিকো পাজ গোলের খুব কাছে পৌঁছেও যান, কিন্তু ভেনেজুয়েলার গোলরক্ষক সেটি রক্ষা করেন। পরে বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এর কিছু সময় পর, ভেনেজুয়েলা রক্ষণভাগের ভুলে গোলের সুযোগ পায়। তাদের শট গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের গোপন ঢিলে বলটি গোলবারের অনেক কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও তারা জালসুতে জড়াতে সক্ষম হয়নি।

    খেলায় ৩১ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের পাসে লাউতারো মার্টিনেজ বল দেন লো সেলসোকে, এবং তিনি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ১-০ এগিয়ে দেন। এই গোল ছিল লো সেলসোর জাতীয় দলে চতুর্থ গোল। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ স্কালোনি কিছু পরিবর্তন করেন এবং মাঠে নামায় নিউক্যাসল ইউনাইটেডের নিকোলাস গনসালেস ও টালিয়াফিকো। এরপরও ম্যাচে কিছু গোলের সুযোগ নষ্ট হয়।

    গোলে আরও বিশদে বলতে গেলে, জুলিয়ানো সিমিওনে নিচু পাস পাঠান ডি-অবস্থায় থাকা লো সেলসোকে, কিন্তু পাজ সেটি নিতে পারেনি। মার্টিনেজ কাছ থেকে শট নেন, তবে গোলরক্ষক দুর্দান্ত সেভ করেন। ম্যাক অ্যালিস্টারও দূর থেকে শট হিসাব করেন, কিন্তু সেটিও অতিক্রম করে যায়। ফ্রি-কিকের দায়িত্ব নেওয়া দে পল ক্রস করেন, যেখানে বালারদি ফাঁকা জায়গায় হেড করেন, কিন্তু বল পোস্টের বাইরে চলে যায়।

    সর্বশেষ, লো সেলসোর একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে জিতেছে। আগামী মঙ্গলবার মায়ামিতে তাদের পরবর্তী ম্যাচ হবে পুয়ের্তো রিকোর বিরুদ্ধে।

  • বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বড় হার বাংলাদেশ নারী দল

    বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বড় হার বাংলাদেশ নারী দল

    বাংলাদেশ নারী ওয়ানডে দলের জন্য শুক্রবারের দিনটি ছিল হতাশাজনক। দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের karşı করা হয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারে, যেখানে তারা ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হার মানেছিল। এই পরাজয়ের কিছুক্ষণ পরই, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ড নারী দলের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে তারা আরও বড় ক্ষতির মুখোমুখি হয়। গোয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বেশ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন এবং টিকে থাকতে পারেননি।

    নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২২৮ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের ব্যাটাররা শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। পুরো ৫০ ওভারে তারা শুধুমাত্র ১২৭ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হন, ফলে শতভাগের বেশি ব্যবধানে হেরে যায়। ম্যাচের শুরুতেই ওপেনার রুবায়া হায়দার ও শারমিন আক্তার দ্রুতই বড় রানের প্রেক্ষাপটে পৌঁছাতে পারেননি, মাঝ পথে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট চলে যায়। এর মধ্যে সোবহানা মোস্তারিও মাত্র ২ রান করে আউট হয়ে যান। দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে, যখন ২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তারা চাপের মুখে পড়ে। এরপর অধিনায়ক জ্যোতি (৪ রান) ও সুমাইয়া আক্তার (১ রান) দ্রুতই ফিরে যান, এবং দলের ইনিংস আরও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে পড়ে।

    বাংলাদেশের পক্ষে ফাহিমা খাতুন ও নাহিদা আক্তার এই মুহূর্তে দলের হাল ধরেন। তবে নাহিদা ১৭ রান করে আউট হলে ম্যাচের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। অপরদিকে, ফাহিমা ৩৪ এবং রাবেয়া ২৫ রান করে দলের স্কোরটিকে ভারসাম্য দিতে চেষ্টারত ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত, যখন তাদের বিদায় হয়, তখনই বাংলাদেশের হার নিশ্চিত হয়ে যায়। কিউই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নেন জেস কার ও লিয়া তাহুহু।

    অভিযোগের বিষয় হলো, দিনের শুরুতে নিউজিল্যান্ড ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২২৭ রান সংগ্রহ করে, যেখানে সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ব্রুক হালিডের ৬৯ ও সোফি ডিভাইন এর ৬৩। বাংলাদেশের জন্য রাবীয়া খান সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের দক্ষতা এবং সফলতা স্পষ্টভাবে প্রতিপন্ন হয়, যারা সহজে জয় পায় এবং বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়।

  • বিশ্বকাপের টিকিটের দাম ৪ বছরে ১০ গুণ বেড়েছে

    বিশ্বকাপের টিকিটের দাম ৪ বছরে ১০ গুণ বেড়েছে

    বিশ্বকাপের টিকিটের অর্থাৎ খেলা দেখার আধিকারিক পত্রে যেন সোনার হরিণ। তবে সেটার প্রাপ্যতা পড়ে সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটের দাম বাড়ার সঙ্গে যোগ হয়েছে তার আরও বাড়তি দামের বিষয়টি, যা এতটাই বেশি যে, ২০২২ বিশ্বকাপের চেয়ে ১০ গুণ বেড়ে গেছে। এর ফলে, যেখানে আগে কিছু মানুষের জন্য সবচেয়ে দামী আসনে খেলা দেখা সম্ভব ছিল, এবার সাধারণ দর্শকদের জন্য কম দামের আসনেও গুণতে হবে বেশি টাকা। এসব তথ্য দেখিয়ে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, এটি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ।

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের টিকিটের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে ‘ক্যাটাগরি ৪’ বা সাধারণ দর্শকদের জন্য নির্ধারিত টিকিটের দাম প্রায় দশগুণ বেড়েছে। কাতারে উদ্বোধনী ম্যাচের সস্তা টিকিটের দাম ছিল ৫৫ ডলার, কিন্তু ২০২৬ সালের জন্য এই দাম দাঁড়িয়েছে ৫৬০ ডলার। অর্থাৎ, সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দামই এখন আগের আসরের সবচেয়ে দামী ‘ক্যাটাগরি ১’ টিকিটের কাছাকাছি।

    এছাড়া গ্রুপ পর্বের টিকিটের দামও নয়গুণ বেড়েছে। যেখানে আগে সেটি ছিল মাত্র ১১ ডলার, এখন দাঁড়িয়েছে ১০০ ডলার। ফাইনাল ম্যাচের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি বেশ নজরকাড়া। ২০২২ সালে ফাইনালের সবচেয়ে সস্তা টিকিটের মূল্য ছিল ২০৬ ডলার, আর এবারে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৩০ ডলারে। এর মানে, এই বছর সবচেয়ে সস্তা আসনের মূল্য আগের সবচেয়ে দামী আসনের কাছাকাছি বা তার চেয়েও বেশি হয়ে গেছে।

    এই বিশাল টিকিটের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশ্বব্যাপী ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ফুটবলপ্রেমীরা বলছেন, ফিফা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যেখানে সাধারণ দর্শকের জন্য মাঠে গিয়ে খেলা দেখার সুযোগ একেবারে কমে এসেছে। কেউ কেউ মত প্রকাশ করেছেন, ‘এমন দামে বিশ্বকাপ এখন কেবল ধনীদের বিনোদন।’

    এছাড়া নতুন ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ নীতি এতে যুক্ত হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, যে ম্যাচে চাহিদা বেশি, সেই ম্যাচের টিকিটের দাম আরও বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ব্যবস্থা মূলত উত্তর আমেরিকার বাজারে চালু, যা শেষ মুহূর্তে কম দামে টিকিট পাওয়ার সুবিধা দেবে, তবে বিদেশি ভক্তদের জন্য এটি তুসম্পন্ন হবে। কারণ, তাঁরা আগে থেকে ভ্রমণ এবং দর্শকের পরিকল্পনা না করে হঠাৎ টিকিট কিনতে পারবেন না।

    ফিফা আবার টিকিটের পুনর্বিক্রিতে ক্রেতা ও বিক্রেতা দুই পক্ষ থেকেই ১৫ শতাংশ ফি নেবে, যা টিকিটের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে।

    বিশ্বকাপের ফাইনালের সাধারণ টিকিটের দাম এখন শুরু হচ্ছে ২০২০ ডলার থেকে এবং সর্বোচ্চ ৬৩৭০ ডলার পর্যন্ত। এখনও আতিথেয়তা বা হসপিটালিটি টিকিটের বিক্রি শুরু হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এই সব দিক বিবেচনা করে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসর হতে চলেছে।

  • বিসিবির নব্য পরিচালনা পর্ষদে বুলবুল নিজেই তিন কমিটির দায়িত্বে, অন্যদের দায়িত্ব বাইরেঃ নতুন তালিকা প্রকাশ

    বিসিবির নব্য পরিচালনা পর্ষদে বুলবুল নিজেই তিন কমিটির দায়িত্বে, অন্যদের দায়িত্ব বাইরেঃ নতুন তালিকা প্রকাশ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন পরিচালনামণ্ডল বুধবার প্রথমবারের মতো একটি সাধারণ বোর্ড সভা সম্পন্ন করেছে। এই সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির দায়িত্বের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এই বার্ষিক পরিকল্পনা ও কাঠামো অনুযায়ী, বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজেদের কাজের ভার গ্রহণ করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির দায়িত্ব নিয়েছেন, যেখানে তিনি ওয়ার্কিং কমিটি, টেস্টিং কমিটি এবং গ্রাউন্ডস কমিটিগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে, সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ কোনও কমিটিতে দায়িত্ব পাননি। দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন ও প্রশাসনের জন্য গঠিত এই কমিটিগুলোর মধ্যে অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন: ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের দায়িত্বে নাজমুল আবেদীন ফাহিম, মিডিয়া কমিটির আমজাদ হোসেন, হাই পারফরম্যান্সের দায়িত্বে খালেদ মাসুদ পাইলট, অর্থ কমিটিতে এম নাজমুল ইসলাম, ভাইস-চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, এবং পাকিস্তান ও বাংলাদেশ উভয় ক্রিকেট গেম ডেভেলপমেন্টের জন্য ইশতিয়াক সাদেক।

  • ইসফাকের পরিবর্তে বিসিবির নতুন পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত রুবাবা দৌলা মতিন

    ইসফাকের পরিবর্তে বিসিবির নতুন পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত রুবাবা দৌলা মতিন

    নির্বাচনের একদিন পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত দুই পরিচালকের মধ্যে একজনের পরিবর্তে নতুন একজনকে মনোনীত করা হয়েছে। এ পদে যোগ দিচ্ছেন প্রখ্যাত করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও নারী ক্রীড়া সংগঠক রুবাবা দৌলা মতিন।

    বিসিবির নির্বাচনের দিন, সোমবার, এনএসসি থেকে ইসফাক আহসান ও ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক দুজনকেই পরিচালক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। তবে এরপর রাতের মধ্যে কিছু কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে ইসফাকের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তার বদলে নতুন পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় রুবাবা দৌলাকে। তার এই মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন রুবাবা দৌলা নিজেই।

    করপোরেট অঙ্গনে সুপরিচিত এ নারী খেলার ক্ষেত্রেও বেশ সক্রিয় ছিলেন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সভাপতিত্ব করেছেন। সাথে ছিলেন স্পেশাল অলিম্পিকসের বোর্ড সদস্যও। ২০০৭ সালে গ্রামীণফোন ও বিসিবির যৌথ উদ্যোগে মিরপুরে জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার।

    অতিরিক্তভাবে, রুবাবা দৌলা এখন একটুখানি টেলিকম খাতে ওরাকল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে গ্রামীণফোন ও এয়ারটেলের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলিতে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    সূত্রমতে, বিসিবিতে রুবাবা দৌলা মহিলা উইংয়ের দায়িত্বেও থাকতে পারেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিডিসিবি পরিচালনা পর্ষদে মোট ২৫ জন সদস্য থাকেন, এর মধ্যে ২৩ জন নির্বাচিত ও ২ জন মনোনীত। গত ৬ অক্টোবর ঘোষণা করা হয় নির্বাচনের ফলাফলে, যেখানে ইসফাক আহসান মনোনীত পরিচালক হিসেবে ঘোষণা হয়। তবে তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর, এনএসসি তার মনোনয়ন বাতিল করে দেয়।

    তাদের স্থলে নতুন পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন রুবাবা দৌলা। তিনি বাংলাদেশের কর্পোরেট জগতে এক আলোচিত নাম, যেখানে তিনি গ্রামীণফোন ও এয়ারটেলে শীর্ষ পদে ছিলেন। ব্যাডমিন্টনে তার অবদান স্বীকৃতি পায় ২০০৬ সালে অনন্যা শীর্ষ দশ নারী পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে। তিনি দেশের নারীদের উন্নয়নে অবদান রেখে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।

  • ২০২৬ বিশ্বকাপে কি নেইমার থাকছেন ব্রাজিলের জার্সিতে? আশঙ্কায় ফুটবলপ্রেমীরা

    ২০২৬ বিশ্বকাপে কি নেইমার থাকছেন ব্রাজিলের জার্সিতে? আশঙ্কায় ফুটবলপ্রেমীরা

    গত সেপ্টেম্বরে উসমান দেম্বেলের ব্যালন ডি’অর জয় উদযাপন চলছিল যখন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার তৃতীয় চোটের কারণে তিনি মাঠের বাইরে থাকলেও, তিনি হতাশ হননি। চোটের সঙ্গে সংগ্রাম করলেও, তিনি অনলাইন पोকার টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে প্রায় ৭৪ হাজার পাউন্ড পুরস্কার জিতেছেন। তবে দেম্বেলের সাফল্যের দিনে সেই অর্থ ছিল নেইমারের জন্য এক সামান্য সান্ত্বনা মাত্র।

    নেইমার এই বছরের শুরুর দিকে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসেন। কাক্সিক্ষত ছিল, ইউরোপ ও সৌদি আরবে অসফল অধ্যায়ের পর এবার তিনি নিজের সেরা ফর্মে ফিরবেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ধারাবাহিক চোট, মাঠের বাইরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকা এবং ফর্মে অনিয়মের কারণে মাঠে তার পারফরম্যান্স অনেকটাই নিম্নগামী। সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা এখন—২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে খেলবেন কি না? সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

    বিশ্বের কিংবদন্তি ফুটবলার তোস্তো বলেছেন, ‘তারকারাও নিজেদের ফিটনেস প্রমাণ করতে হয়। তখনই তাদের সত্যিকারের মূল্য খরা হয়।’ ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিপক্ষে দল ঘোষণা করেছেন, যেখানে নেইমারের নাম নেই। সর্বশেষ ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে, যেখানে ব্রাজিল ২-০ গোলে হেরেছিল।

    অতঃপর, আগামী নভেম্বরে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ রয়েছে। তবে সেগুলিতে নেইমারকে খেলতে দেখা নিয়ে এখনও সন্দেহ আছে। যদি এই সুযোগও না পান, তবে তার সামনে থাকবে কেবল মার্চ ২০২৬ এর আগে দুটি প্রীতি ম্যাচ, যেখানে নিজেকে উপযুক্ত প্রমাণের শেষ সুযোগ।

    দীর্ঘ সময় জাতীয় দল থেকে দূরে থাকায় কোচ আনচেলত্তি শারীরিক অবস্থাকেও দায়ী করেছেন। তবে পরে তিনি বলেছেন, নেইমারকে বাদ দেওয়ার পেছনে মূল কারণ প্রযুক্তিগত। এই বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলেছে। সাবেক অধিনায়ক কাফু বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ জেতানোর জন্য যে খেলোয়াড়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তার টেকনিক্যাল সমস্যা থাকলে বড় সমস্যা বোঝা উচিত।’

    সান্তোসে ফিরে এসে ও চোট থেকে মুক্তি না পাওয়ায় এখনও পর্যন্ত দলের মোট ম্যাচের প্রায় অর্ধেকেই মাঠে নামতে পারেননি নেইমার। চলতি মৌসুমে তিনি ৯টি গোল করলেও, অধিকাংশই নিচের সারির দলের বিপক্ষে। ড্রিবলিংয়ে তার অবস্থান লিগের ৫০তম, যা তার জন্য অস্বাভাবিক।

    ডেটাফোলহার জরিপে দেখা গেছে, ব্রাজিলিয়ানরা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না যে, নেইমারকে বিশ্বকাপে নেওয়া উচিত কি না। সেখানেও দ্বিধা, ৪৮% তার পক্ষে, আবার ৪১% বিপক্ষে।

    মাঠে আচরণগত পরিবর্তনও দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি বেশ কিছু ম্যাচে সমর্থকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। ভাস্কো দা গামার কাছে ৬-০ গোলে হারের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় পরাজয়। অনেকের চোখে এখনো তার শেষ ভরসা ২০০২ সালের রোনালদোর মতো করে ফিরে আসার অভিপ্রায়। গুরুতর চোট ও সমালোচনার মধ্যেও, সেই বিশ্বকাপ জিতেছিলেন রোনালদো ‘ফেনোমেনন।’ এক্ষেত্রেও কি সম্ভব হবে সেই মতো ফিরে আসা?

    রোনালদো বলছেন, ‘নেইমার তো আরেকরকম। যারা ভাবছেন সে নিজের ফিটনেসে গাফিলির কথা, তারা ভুল করছেন। সে সঠিক পথে আছে।’ আগামী কিছু মাস তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাকে প্রমাণ করতে হবে, তিনি এখনও ব্রাজিলের ‘যুবরাজ’, লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। যদি পারেন, তাহলে ২০২৬ বিশ্বকাপে তার উপস্থিতি দেখা যেতে পারে। আর যদি না পারেন, তবে তার নাম ইতিহাসের পাতায়ই রয়ে যাবে এক অপূর্ণ সম্ভাবনার গল্প হিসেবে।

  • সংগ্রাম সত্ত্বেও হারল বাংলাদেশ

    সংগ্রাম সত্ত্বেও হারল বাংলাদেশ

    বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল ধৈর্য্য ও লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা দেখালেও শেষ পর্যন্ত হারের গ্লানি এড়াতে পারেনি। ব্যাটাররা পুঁজি বড় করে তুলতে পারেননি, যার জন্য মাঝারি মানের স্কোর গড়ায়। রাজনৈতিকভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারা লড়ে গেছেন, তবে ব্যাটসম্যানদের সেই ক্ষুদ্র প্রাথমিক সংগ্রহকে শক্তিতে রূপান্তর করতে পারেননি। তবে বোলাররা দুর্দান্তভাবে লড়েছেন, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হেদার নাইট, যিনি দুইবার আম্পায়ার সিদ্ধান্তে জীবন বাঁচিয়ে ম্যাচে টিকে থাকেন, কিন্তু শেষপর্যন্ত এই একজন পরিণতি বান্ধব হিসেবে কাজ করেছেন। তার অসাধারণ খেলায় বাংলাদেশ দলের সম্ভাবনাগুলো হারায়, কারণ তিনি একাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং শেষ পর্যন্ত জয়কে তাদের কাছ থেকে ছুটে দেন। কারণ এই হার সত্ত্বেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তবে ইংল্যান্ডের দম্ফন আক্রমণ ও পরিকল্পনা সফল হয়।

  • খুলনা টানা পাঁচ জয় দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে

    খুলনা টানা পাঁচ জয় দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে

    জাতীয় ক্রিকেট লিগের টি-টোয়েন্টি আসরে খুলনা বিভাগ নিয়মিত পারফর্ম করে যাচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলে বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের শেষের দিকে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে খুলনা ১১ রানে সিলেট বিভাগকে পরাজিত করে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে সিলেট বিভাগ ১৬ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে, খুলনা ১১ ওভারে ৪ উইকেটে ১০৩ রান করতে সক্ষম হয়। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি আর এগোয়নি, তবে বৃষ্টি আইনে খুলনা জয় লাভ করে। খুলনার টপ অর্ডারের খেলোয়াড়রা আবারও দুর্দান্ত পারফর্ম করেন। ইমরানুজ্জামান ২২ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৩১ রান করেন, সৌম্য সরকার ১২ বলে ৪টি চার ও ১ ছক্কায় ২৪ রান করেন, আর এনামুল হক বিজয় ১৯ বলে ৩টি চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৩৩ রানে মাঠ ছাড়েন। বল হাতে সিলেটের নাবিল সামাদ ৩ ওভারে ২৬ রানে ২ উইকেট শিকার করেন, এবং নাঈম হোসেন সাকিব ৩ ওভারে ২৫ রানে ২ উইকেট পান। সিলেটের ইনিংসে অধিনায়ক খালিদ হাসান ২৩ বলের মধ্যে ৩১ রান করেন, যার মধ্যে ৪টি চার ও ১ ছক্কা রয়েছে। এছাড়া, অমিত হাসান ২৭ রান, আসাদুল্লাহ আল গালিব ২৬, ও খালেদ আহমেদ ২৬ রান করেন। খুলনার বল руки ধারাবাহিক পারফর্ম করেন শেখ পারভেজ জীবন, ৪ ওভারে ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হন। জিয়াউর রহমান ২ ওভারকে ২২ রানে শেষ করে অন্য উইকেটটি সংগ্রহ করেন। এই জয় দিয়ে খুলনা তাদের পঞ্চম ধারাবাহিক জয় সম্পন্ন করে। এর ফলে তারা ৭ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে, এখনও নেট রান রেটে পিছিয়ে রয়েছে।

  • খালেদ মাসুদ বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত

    খালেদ মাসুদ বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালকের নির্বাচনে ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হলো। এই নির্বাচনী ঘটনা বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে, যেখানে বিভিন্ন আলোচনার মাধ্যমে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

    এবারের নির্বাচনে তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। অন্যান্য প্রার্থী হিসেবে বাকি দুইটি পদে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে মনোনীত করা হয়েছে দুই জনকে। ভোট গণনার শেষে সন্ধ্যার দিকে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, ‘বি’ ক্যাটাগরির ভোটাররা ছিল ৭৬ জন, যার মধ্যে মাত্র ৪৩ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোট দিয়েছেন অনলাইনে (ই-ভোট) এবং ৯ জন সরাসরি উপস্থিত থেকে ভোট প্রদান করেন। এই ক্যাটাগরিতে ৩৩ জন ভোটার ভোট দেননি।

    অন্যদিকে, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৪৫ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৪২ জন। এর মধ্যে ৫ জন ই-ভোটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করেছেন এবং ৩৭ জন সরাসরি ভোট দিয়েছেন। ভোট না দেয়ার সংখ্যা এই ক্যাটাগরিতে ৩ জন। এই ক্যাটাগরি থেকে প্রখ্যাত ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট ৩৫ ভোট পেয়ে বিসিবির পরিচালক পদে নির্বাচিত হন।

    ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, রাজশাহী বিভাগে মোট ৯ ভোটের মধ্যে ৭টি পড়েছে—৬টি ই-ভোট এবং ১টি সরাসরি। রংপুর বিভাগে মোট ৯ ভোটের মধ্যে ৫টি পড়েছে—৩টি ই-ভোট ও ২টি সরাসরি। তবে পুরোপুরি ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, তারপর আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

    প্রাথমিক ফলাফলের তালিকা অনুযায়ী:
    – ‘সি’ ক্যাটাগরিতে খালেদ মাসুদ পাইলট পেয়েছেন ৩৫ ভোট, প্রতিপক্ষ দেবব্রত পাল পেয়েছেন ৭ ভোট।
    – ‘বি’ ক্যাটাগরিতে মোট ৭৬ ভোট পড়েছে, এর মধ্যে ৩৪টি ই-ভোট এবং ৯টি সরাসরি ভোট। ভোট দেননি ৩৩ জন।
    – রাজশাহী বিভাগের মধ্যে, মোট ৯ ভোটের মধ্যে ৬টি ই-ভোট ও ১টি সরাসরি ভোট পড়েছে। ভোট দেননি ২ জন।
    – রংপুর বিভাগের মধ্যে, ৯ ভোটের মধ্যে ৩টি ই-ভোট ও ২টি সরাসরি ভোট পড়েছে। ভোট দেননি ৪ জন।

    সব মিলিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে ফলাফল এখনো সামগ্রিকভাবে সম্পূর্ণতা পায়নি, তবে টানা পরবর্তী পদক্ষেপে বিস্তারিত ফলাফল ও তালিকা প্রকাশ করা হবে।

  • আর্থিক স্বার্থে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজন বন্ধের আহ্বান আইসিসির কাছে আথারটনের

    আর্থিক স্বার্থে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজন বন্ধের আহ্বান আইসিসির কাছে আথারটনের

    বিগত কয়েক বছর ধরে আইসিসি ইভেন্ট বা এশিয়া কাপে উপস্থিত থাকাকালীন একটি প্রশ্ন বিদ্যমান—ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে কি না, এবং যদি হয় তাহলে কোথায় এবং কিভাবে। এই বিষয়টি সব সময়ই আলোচনা, সমালোচনা এবং বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে এসেছে। বিশেষ করে এই দুই দেশের ক্রিকেটাররা ম্যাচের সময় একে অপরের সঙ্গে করমর্দন না করায়, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ছায়ায় ক্রিকেট মাঠও প্রভাবিত হয়ে উঠেছে। এটা নিয়েও অনেকের মধ্যে দুশ্চিন্তা প্রকাশ পেয়েছে যে, এই পরিস্থিতি ক্রিকেটের সৌন্দর্য্য ক্ষুণ্ণ করছে।

    প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল অ্যাথারটন এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তিনি আইসিসিকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা আর ইচ্ছাকৃতভাবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আয়োজন না করে। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক এশিয়া কাপের ঘটনা প্রমাণ করে যে ক্রিকেট এখন রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও প্রচারণার হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

    অ্যাথারটনের বক্তব্য, টুর্নামেন্টের ফিক্সচার অর্থের জন্য সাজানো বন্ধ হওয়া উচিত। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ খেলায় প্রথমেই দেখা যায়, মোদ্দা বিষয় হলো, মাঠের বাইরেও রাজনৈতিক আবেগের লেপে মোড়ানো হচ্ছে এই ক্রিকেট মূলত আয় ও বাণিজ্যের জন্য। পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলার পর কয়েক মাসের মধ্যে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়, যেখানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারতীয় দল পাকিস্তানের সঙ্গে করমর্দন না করায়, খেলোয়াড়রা অঙ্গভঙ্গি ও উদযাপনে বিতর্ক সৃষ্টি করে।

    অনেকের মতে, ফাইনালের পর সূর্যকুমার যাদবের মতো ক্রিকেটাররা পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে ট্রফি নেয়ার ক্ষেত্রে অস্বীকৃতি জানিয়ে এই বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে দেন। পত্রিকায় লিখেছেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের একান্ত হয় তা অর্থনৈতিক দিক থেকে বেশ মূল্যবান। ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আইসিসির প্রতিটি টুর্নামেন্টেই এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছে, যার ফলে ম্যাচের বিরলতা এটিকে আরও বেশি আয়বহুল করে তুলেছে। এর ফলে, টুর্নামেন্টের ব্রডকাস্ট রাইটসের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে—২০২৩ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার।

    অ্যাথারটন মনে করেন, দ্বিপাক্ষিক সিরিজের গুরুত্ব কমে যাওয়ার কারণে আইসিসির টুর্নামেন্টগুলো এখন মুখ্য অর্থনৈতিক উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচই মুখ্য কাকতালীয় আকর্ষণ। তিনি বলেন, একসময় ক্রিকেট কূটনীতি হিসেবে কাজ করত, কিন্তু এখন তা প্রতিযোগিতা আর রাজনৈতিক প্রচারণার প্রতীক হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র অর্থের জন্য ম্যাচের ফিক্সচার সাজানো সম্পূর্ণভাবে অনুচিত। তিনি পরামর্শ দেন, পরবর্তী সম্প্রচার চুক্তির আগে আইসিসির উচিত সূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রতিবারই ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হবে না।

    অ্যাথারটন আরও বলেন, আসন্ন সম্প্রচার চুক্তির জন্য স্বচ্ছভাবে ড্র করা গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো সিরিজে ভারত-পাকিস্তান দেখা না যায়, তাতে কিছু যায়-আসে না। এশিয়া কাপ ২০২৫-এ দুই দেশ একই গ্রুপে থাকায়, সেটি এমন পরিকল্পনা ছিল যেখানে তিনবার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ রাখা হয়—যা বাস্তবে হয়ে গেছে। এই প্রবণতাকে তিনি ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করেন। তাঁর মতে, ক্রিকেটের মূল উদ্দেশ্য— খেলার আনন্দ এবং ক্রীড়ামূলক প্রতিযোগিতা— আবার ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে।