Category: খেলাধুলা

  • উড়ন্ত হেডসহ জোড়া গোলে মায়ামিকে জেতালেন মেসি

    উড়ন্ত হেডসহ জোড়া গোলে মায়ামিকে জেতালেন মেসি

    পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে নিজের নাম লেখিয়েছেন লিওনেল মেসি, হাজারো রেকর্ড ভেঙে তিনি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। যদিও হেড দিয়ে করা গোলসংখ্যায় তাঁর তুলনা খুব কম খেলোয়াড়ের কাছেই হয়, তবুও মেসি নিজেও পছন্দের গোলের তালিকায় বার্সেলোনার হয়ে করা একটি স্মরণীয় হেড গোলের কথা উল্লেখ করেন। সে স্মৃতি আবার স্পষ্ট হলো আজ, শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ইন্টার মায়ামির জার্সিতে উড়ন্ত হেডের মাধ্যমে তিনি জোড়া গোল করলেন এবং দলকে ৩-১ ব্যবধানে জেতালেন।

    মাত্র একদিন আগে, মেসি নতুন করে তিন বছরের জন্য ইন্টার মায়ামির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। এর আগে, এমএলএসের মৌসুমে তিনি ২৯ গোল করে গোল্ডেন বুটের নিশ্চিত মালিক হন। আজ, ম্যাচের আগে লিগের কমিশনার ডন গারবার তার হাতে শংসাপত্র তুলে দেন। এরপর ম্যাচের শুরুতেই উড়ন্ত গোলের মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নেন মেসি, শেষে জোড়া গোল করে ম্যাচের সুন্দর সমাপ্তি ঘটান।

    নির্ধারিত সময়ে মায়ামি ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। তবে নাটকীয়ভাবে ৯৬ মিনিটে ন্যাশভিলে এক গোল শোধ করেন। ম্যাচের যোগ করা সময়ের ৬ মিনিট আগে, বিরতির ঠিক আগে, মেসি একটি সহজ গোল করেন। খেলা হয় চেজ স্টেডিয়ামে, যেখানে ৫৩ শতাংশ বল দখলে রেখে ১২টি শট নেয় মায়ামি, এর মধ্যে ৬টি লক্ষ্যে ছিল। বিপরীতে, ন্যাশভিলের তিনটি লক্ষ্যে থাকলেও, মোট শট ছিল ছয়টি।

    সপ্তাহখানেকের মধ্যে ন্যাশভিলেকে দ্বিতীয়বার হারাল মায়ামি। এর আগে লিগের শেষ ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিকে ৫-২ ব্যবধানে জয় ছিল তাদের। আজ আবারো জয়ের মাধ্যমে প্লে-অফের ‘বেস্ট অব থ্রি’ পর্বের প্রথম রাউন্ডে এগিয়ে গেল হাভিয়ের মাশ্চেরানোর দল।

    ম্যাচের ১৯ মিনিটে প্রথম লিড এনে দিতে সাহায্য করেন মেসি। লুইস সুয়ারেজের کراস থেকে, বক্সের মাঝামাঝি থেকে, উড়ন্ত হেড দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ম্যাচের প্রথমার্ধের পরে, ৬২ মিনিটে তাদেও আলেন্দের গোলের মাধ্যমে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। সেই সময়ে মায়ামির গোলরক্ষকটি বলটি আটকাতে পারেননি, ফলে গোলটি সহজে জড়িয়ে যায়।

    ইনজুরি সময়ে খেলা আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে, সম্ভবত তাঁর ক্যারিয়ারে সবচেয়ে সহজ গোলটির মাধ্যমে ব্যবধান আরও বাড়ান মেসি, যেখানে ন্যাশভিলে গোলরক্ষক বলটি ফেল করে ফেলেন, আর তিনি নরমভাবে ফাঁকা জালে জড়িয়ে দেন। শেষ মুহূর্তে হানি মুখতার ব্যবধান কমানোর জন্য গোল করেন, তবে এতে দলের জয় আটকায় না।

  • এনসিএল চারদিনের টুর্নামেন্ট শুরু ২৫ অক্টোবর থেকে

    এনসিএল চারদিনের টুর্নামেন্ট শুরু ২৫ অক্টোবর থেকে

    ময়মনসিংহ বিভাগকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চার দিনের টুর্নামেন্ট। এই প্রতিযোগিতা ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে, যা দীর্ঘ দিন ধরেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বিসিবি ইতোমধ্যে এই টুর্নামেন্টের সম্পূর্ণ সূচি প্রকাশ করেছে, যাতে সব দল নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পেরেছে।

    এনসিএলের খেলা মূলত মিরপুর শের ই বাংলা স্টেডিয়াম, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও আউটার মাঠ, রাজশাহীর বিভাগীয় স্টেডিয়াম, বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম, খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম, চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং বিকেএসপি’র ৩ নম্বর মাঠ ও কক্সবাজারের দুটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামসহ বেশ কিছু ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

    এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগের আটটি দল তাদের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে, যেখানে খেলোয়াড়দের মধ্যে জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রিকেটাররা রয়েছেন। সব দলেরই লক্ষ্য শিরোপা জয়। নিচে প্রত্যেক বিভাগের দল ও তাদের নির্বাচিত খেলোয়াড়দের বিস্তারিত দেয়া হলো:

    **খুলনা বিভাগ:** সুযোগ পানেছেন সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন (উইকেটকিপার ও অধিনায়ক), এনামুল হক বিজয়, আফিফ হোসেন ধ্র“ব, জিয়াউর রহমান, নাহিদুল ইসলাম, অমিত মজুমদার, মোঃ ইমরানুজ্জামান, পারভেজ জীবন, টিপু সুলতান, সফর আলী ও মেহেদি হাসান রানা। স্ট্যান্ডবাই মোকাদ্দেস, আখের হোসেন, আরিফুল ও মাসুম।

    **রাজশাহী বিভাগ:** হাবিবুর রহমান সোহান (অধিনায়ক), সাব্বির হোসেন, ইমন আলী, সাব্বির রহমান, মেহরব হোসেন, প্রীতম কুমার, রহিম আহমেদ, শাখির হোসেন শুভ্র, তাইজুল ইসলাম, নিহাদুজ্জামান, সানজামুল ইসলাম, মোহাম্মদ ওয়ালিদ, শফিকুল ইসলাম, সুজন হাওলাদার ও আসাদুজ্জামান পায়েল। স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড়রা হলেন মোহর শেখ, মাইশুকুর রহমান, নাহিদ রানা, রায়হান আলি, সাকিব শাহরিয়ার, মিজানুর রহমান ও ওয়াসি সিদ্দিকী। রিজার্ভে থাকবেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম।

    **সিলেট বিভাগ:** মুবিন আহমেদ দিশান, মিজানুর রহমান সায়েম, আমিত হাসান, জাকির হাসান (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), সৈকত আলী, মুশফিকুর রহিম, আসাদুল­া আল গালিব, শাহানুর রহমান, তোফায়েল আহমেদ, রেজাউর রহমান রাজা, এবাদত হোসেন চৌধুরী, আবু জায়েদ রাহী, নাবিল সামাদ ও নাঈম হোসেন সাকিব। স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড়রা ৬জন।

    **রংপুর বিভাগ:** আব্দুল­াহ আল মামুন, মিম মোসাদ্দেক, জাহিদ জাভেদ, নাইম ইসলাম, আকবর আলী (অধিনায়ক), তানবির হায়দার খান, নাসির হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু, রবিউল হক, নবীন ইসলাম, মেহেদি হাসান, আবু হাসিম, নজরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন ও শেখ ইমতিয়াজ শিহাব। স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড়রা বিভিন্ন।

    **ময়মনসিংহ বিভাগ:** নাঈম শেখ, আবদুল মজিদ, মাহফিজুল ইসলাম রবিন, আইচ মোলা, আরিফুল ইসলাম, আল আমিন হোসেন, শুভাগত হোম, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, গাজী মোহাম্মদ তাজিবুল, রাকিবুল হাসান, আরিফ আহমেদ, আবু হায়দার রনি, মারুফ মৃধা, শহিদুল ইসলাম ও আসাদুল­াহ গালিব। স্ট্যান্ডবাই থাকছেন আরও কিছু খেলোয়াড়।

    সব মিলিয়ে, এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন বিভাগের শক্তিশালী দল যাতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়তে খেলোয়াড়রা নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করবেন। ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষায় আছে এই ভিন্নমাত্রার প্রতিযোগিতার, যা আগামী ২৫ অক্টোবর শুরু হবে।

  • মেসির হাতে গোল্ডেন বুট, এমএলএসের সর্বোচ্চ গোলের পুরস্কার

    মেসির হাতে গোল্ডেন বুট, এমএলএসের সর্বোচ্চ গোলের পুরস্কার

    নির্বাচিতভাবে ন্যাশভিলে এসসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে এমএলএস লিগের গোল্ডেন বুট পুরস্কার জেতলেন লিওনেল মেসি। চেজ স্টেডিয়ামে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন এমএলএসের কমিশনার ডন গারবার। ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল করে প্রথমবারের মতো এই সম্মান অর্জন করেন তিনি।

    ডন গারবার গোল্ডেন বুট তুলে দিয়ে বলেন, “আমরা কখনো কল্পনা করিনি যে লিওনেল এই ক্লাব, এই শহর ও এই লিগের জন্য এত গভীর প্রভাব ফেলবে। তিনি পুরো এমএলএস এর গতিপথ বদলে দিয়েছেন।”

    এর এক দিন আগে, ইন্টার মিয়ামি ঘোষণা করে যে, মেসি তিন বছরের জন্য নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই ক্লাবে থাকবেন। এর মানে, তিনি চল্লিশের কাছাকাছি বয়সেও মিয়ামির হয়ে খেলে যাবেন।

    গারবার বলেন, “মেসি এমন এক খেলোয়াড়, যিনি ফুটবলকে ভিন্নভাবে ভাবেন। তার জেতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাকে সর্বকালের সেরা করে তুলেছে।”

    ২০২৩ সালে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মেসি ক্লাবের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। তার নেতৃত্বে ২০২৩ সালে লিগস কাপ জয় করে, এবং পরের বছর ২০২৪ সালে সাপোর্টার্স শিল্ডসহ এমএলএস এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ পয়েন্টের রেকর্ড গড়ে।

    ব্যক্তিগতভাবে তিনি ২০২৪ সালের এমভিপি (মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার) পুরস্কার জয় করেছেন এবং ২০২৫ সালের সংস্করণে আবার এই পুরস্কার জেতার অন্যতম ফেভারিট হিসেবে থাকছেন। যদি তিনি আবার জয় করেন, তবে এমএলএস ইতিহাসে টানা দুইবার এমভিপি পুরস্কার জয়ী প্রথম খেলোয়াড় হবেন তিনি।

    মেসির আগমনের পর ইন্টার মিয়ামির মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার। এমএলএস-এর টিকিট ও জার্সির বিক্রিও রেকর্ড ছুঁয়েছে।

    গারবার হাস্যরসে বলেন, “তিনি আসলে ‘ইউনিকর্ন অব ইউনিকর্নস’। তার চিন্তা, মনোযোগ ও জয়ের ইচ্ছাই তাকে সর্বকালের সেরা করে তুলেছে।”

    নতুন চুক্তির ঘোষণা উপলক্ষে ইন্টার মিয়ামি সামাজিক মাধ্যমে একটি বিশেষ ভিডিও প্রকাশ করে যেখানে দেখা যায়, তিনি ক্লাবের নতুন স্টেডিয়ামে নিজে চুক্তি স্বাক্ষর করছেন। এই স্টেডিয়ামটি মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত এবং আগামী বছর উদ্বোধিত হবে।

    গারবার মন্তব্য করেন, “এটি দেখায়, ক্লাবটি কতটা পেশাদার ও বুদ্ধিদীপ্তভাবে কাজ করছে।” মেসি এখন শুধু মিয়ারামের জন্যই নয়, পুরো আমেরিকার ফুটবলের প্রতীক হয়ে উঠেছেন — এক কথায়, “দ্য গিফট দ্যাট কিপস অন গিভিং।“

  • ১৭ মাস পর ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

    ১৭ মাস পর ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে সুপার ওভারে হেরে বসে বাংলাদেশ। আজকের তৃতীয় ও সিদ্ধান্তমূলক ম্যাচটি ছিল সিরিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে দুর্দান্তনৈপুণ্য দেখিয়েছে টাইগাররা। ব্যাটিংয়ে প্রথমে শুরু করে সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকারের রেকর্ড জুটিতে দলের স্কোর বোর্ডে ওঠে ২৯৬ রান। চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের স্পিনাররা ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের ঘূর্ণিতে ৩০.১ ওভারে ১১৭ রানেই অলআউট করে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এজন্য তারা বড় জয় লাভ করে ১৭৯ রানের ব্যবধানে। এটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এক বিশেষ দিন, কারণ এটি একদিনের ক্রিকেটে ১৭ মাস পর তাদের প্রথম সিরিজ জয়। শেষবার টাইগাররা এমন জিতেছিল মার্চ ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে।

    কলেজের বিরুদ্ধে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৬ রানেই তাদের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যায়। নাসুম আহমেদ তাঁর বলেই অলীক আথানেজকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন। অতো কিছু করার আগেই তিনি করেন ২১ বলের মধ্যে ১৫ রান। এরপর বাকী দুই উইকেটও তুলে নেন নাসুম। ২৮ রানে আউট হন আকিম অগাস্টে, ৩৫ রানে ব্র্যান্ডন কিং। এরপরই অন্যদের ওপর চাপে পড়ে ক্যারিবীয়রা, কারণ তারা ৬৩ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। এর পর তাদের ব্যাটসম্যানরা কিছু সংগ্রাম করে, তবে বড় সংগ্রহ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান হয় ১১৭, যা বাংলাদেশের জন্য বিশাল জয়। এটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়, প্রথমটি ছিল ১৬০ রানের জয় ২০১২ সালে খুলনায়।

    টাইগার স্পিনাররা আজ বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে। রিশাদ হোসেন ও নাসুম আহমেদ তিনটি করে উইকেট নেওয়ার মাধ্যমে দলকে বিপদে ফেলাönen। মিরাজ ও তানভীর ইসলাম দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। ব্যাটিংয়ে শুরুতেই সাইফ ও সৌম্যর রেকর্ড ১৭৬ রানের উদ্বোদনী জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর বিশাল ২৯৬ রানে পৌঁছে। দলের ওপর মোস্তাফিজুর রহমানের অনুপস্থিতি ছিল, কারণ তিনি খেলতে আসেননি। সব ওভারই স্পিনাররা করেন, এখন বাংলাদেশ সফলভাবে এই সিরিজ জিতল।

  • পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন বাবর আজম

    পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন বাবর আজম

    অবশেষে পাকিস্তান টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বাবর আজম পুনরায় মাঠে ফিরেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ খবর নিশ্চিত করে বাবর আজমের ক্রিকেটে ফেরার খবরটি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

    বাবর সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, যা সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর তাঁকে বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশের সঙ্গে খেলানো হয় নি এবং চলতি বছরের এশিয়া কাপেও তাঁকে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল।

    পিসিবি নতুন এই সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের টি-টোয়েন্টি দলে ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি, ওয়ানডে সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের স্কোয়াডও প্রকাশিত হয়েছে। যদিও সালমান আলি আগের মতোই অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে, তবে টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্বের ব্যাটন এখনও তার হাতে। অপরদিকে, ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবারের মতো দায়িত্ব পেয়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।

    এছাড়াও, টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন আবদুল সামাদ এবং নাসিম শাহ। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন তরুণ ক্রিকেটার উসমান তারিক, যারা সবাই এখন চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হবে।

    তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তান মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরে। এরপর, ৪ থেকে ৮ নভেম্বর ফয়সালাবাদে হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর ১১ থেকে ১৫ নভেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ। অবশেষে, নভেম্বরের ১৭ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত পাকিস্তান আয়োজন করবে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ, যেখানে অংশ নেবে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং জিম্বাবুয়ে।

    পাকিস্তানের বিভিন্ন স্কোয়াডের মূল সদস্যরা হলেন:

    টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড: সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), আবদুল সামাদ, আবরার আহমেদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, হাসান নওয়াজ, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, মোহাম্মদ সালমান মির্জা, নাসিম শাহ, সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আয়ুব, শাহিন শাহ আফ্রিদি, উসমান খান (উইকেটকিপার), এবং উসমান তারিক।

    ওয়ানডে স্কোয়াড: শাহিন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফয়সাল আকরাম, ফখর জামান, হ্যারিস রউফ, হাসিবুল্লাহ, হাসান নওয়াজ, হুসাইন তালাত, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, নাসিম শাহ, সাইম আয়ুব, সালমান আলি আগা।

  • সাকিবের ইচ্ছা দেশের মাটিতে বিদায় নেওয়ার

    সাকিবের ইচ্ছা দেশের মাটিতে বিদায় নেওয়ার

    বাংলাদেশ থেকে দূরে যুক্তরাষ্ট্রে মাইনর লিগ ক্রিকেটে খেলতে গিয়ে নিজেকে আবারও পুরনো স্মৃতিতে মুক্তি পেয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তার বর্তমান ক্রিকেট জীবন, অবসর পরিকল্পনা এবং তার বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া নানা গুজবের বিষয়ে খোলামেলাভাবে কথা বলেছেন।

    অস্ট্রেলিয়ায় খেলোয়াড় হিসেবে খেলার অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত উপভোগ্য বলে উল্লেখ করে সাকিব বলেন, ‘আসলেই এটা খুবই আনন্দের বিষয়। আমার সঙ্গে অনেক স্থানীয় খেলোয়াড়ের পরিচয় হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু খেলোয়াড়ের সাথেও দেখা হয়েছে যাদের সঙ্গে আমি আমার ক্যারিয়ারের শুরুতেই খেলেছি। এই অভিজ্ঞতা আমার জন্য অনেক স্মরণীয়। আমি কখনও ভুলবো না সেই দিনের কথা, যখন আমার ছোটবেলার পরিবেশকে মনে পড়ে আমার হৃদয় ভরে উঠত। এই মুহূর্তগুলো আমাকে আবারও নিজের আগের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।’

    বাংলাদেশে নিজের জনপ্রিয়তা ও বিরুপ মন্তব্য নিয়ে সাকিব তার মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন সময় আমাকে অর্থকেন্দ্রিক বা শোরুম আল হাসান বলে সমালোচনা করেছে, যা আমি মনে করি অনেকটাই সাংবাদিকদের তৈরি গল্প। এগুলো হলো কিছু মিডিয়া এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের আনা কল্পকাহিনী, যা বলে মানুষ ভাবতে থাকে আমি অন্যরকম। সত্যি বলতে, আমি জানি বাংলাদেশে আমি যা করেছি, তা অন্য কেউ করেনি। আমার এসব কীর্তি তাদের জন্য নতুন, আর সেই জন্য তারা আমাকে সমালোচনায় ভরিয়ে দেয়। তবে আমি মনে করি, এই সব কিছুই এক সময় সবাই বুঝে যাবে।’

    নিজেকে কেন্দ্র করে গুজব বা নেতিবাচক মন্তব্যের ব্যাপারে তিনি বিতরণ করিছেন কোনো দুশ্চিন্তা না থাকাও। তিনি বলেন, ‘মানুষের নিজের ভাবনা থাকতে পারে, আমি সেটা নিয়ে কোনও চিন্তা করি না। আমার আগের দিনগুলো বা ভক্তরা কী ভাবছে, তা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছের মানুষরা কী ভাবছে। আমি নিশ্চিত, তারা এমন ধারণা পোষণ করে না।’

    ২০২৪ সালে যখন দেশে গণ-আন্দোলনের সময় তিনি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেননি বলে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন, সে প্রসঙ্গে সাকিব স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘এটি কেবল এক মুহূর্ত ছিল যা খুবই অসুবিধাজনক হয়ে পড়েছিল। হয়তো তারা অন্য কিছু প্রত্যাশা করেছিল, আমি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি, বা আমি পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন ছিলাম না। এই সময়ে আমি বাড়ি থেকে অনেক দূরে ছিলাম, আর এই কারণেই হয়তো তারা আমার বিরুদ্ধে গিয়েছিল। আমি এটির কোনও অনুশোচনা করছি না বরং আমি মনে করি, মানুষ এখন বুঝে উঠতে শুরু করেছে।’

    সাক্ষাৎকারে তিনি অবসর সংক্রান্ত জল্পনায় স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘না, আমি কোনো ফরম্যাট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিইনি।’ তবে, তিনি যেনাকেন দারুণ একটি ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, ‘দেশের মাটিতে যেন শেষবারের মতো ভক্তদের সামনে বিদায় জানাতে পারি। আমি মনে করি, এটা আমার জন্যে নয়, বরং তাদের জন্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি সেটা ঘটে, তা একদম সবার জন্য একটা সুন্দর মুহূর্ত হবে।’

  • সাইফ-সৌম্যে ঝড়ের পরও বাংলাদেশ তিনশ ছুঁতে পারেনি

    সাইফ-সৌম্যে ঝড়ের পরও বাংলাদেশ তিনশ ছুঁতে পারেনি

    সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচই ছিল তুলনামূলকভাবে কম স্কোরিং, ব্যাটারদের জন্য রানের জন্য বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে। তবে আজ মিরপুরের স্পিন স্বর্গে বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকার দুর্দান্ত ব্যাটিং দেখিয়ে দলের ধারাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাদের রেকর্ড গড়া জুটিতে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহের ভিত্তি সৃষ্টি করে। তবে মিডল অর্ডারে কিছু দুর্বলতা থাকায় রানের গতিতে ধীরগতি দেখা যায়, ফলে ৩ নম্বর ইনিংসেও তিনশ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেনি বাংলাদেশ।

    মিরপুরের কালো পিচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশিরা ব্যাটিংয়ে প্রচুর সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু আজ সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলেছেন বাংলাদেশের ওপেনাররা। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়া বাংলাদেশি দের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করেন সাইফ ও সৌম্য। আগের দুই ম্যাচের চেয়ে আজ তারা আরও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং পাওয়ার প্লে’য় ১০ ওভারের মধ্যে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭৪ রান সংগ্রহ করেন।

    এবার ক্যারিবীয় দলের বিপক্ষে টস জিতে বাংলাদেশ ব্যাটিং শুরু করে সেঞ্চুরির আশার সঙ্গে। আগের ম্যাচগুলোতে রক্ষণশীল খেললেও আজ তারা আক্রমণাত্মকভাবে খেলেন। দুই ওপেনার শুরু থেকে লড়াই চালিয়ে যান। তাদের ফিফটির পাশাপাশি, শুরুতেই তারা বেশ দাপুটে ব্যাটিং করেন। উভয়েই শতরানের ওপেনিং জুটির মাধ্যমে দারুণ এক ভিত্তি গড়ে দেন। এটি ছিল গত দুশো দশ বছর পর মিরপুরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশর প্রথম ওপেনিং জুটিতে শতরান।

    এর আগে ২০১৫ সালে ১১ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস গড়ে তুলেছিলেন ১৪৭ রানের জুটি, যা ভেঙে যায় দলীয় ১৭৬ রানে। সেই সময় সাইফ হাসান ৭২ বলে ৮০ রান করে আউট হন আর সৌম্য ঠিক তার পরেই ফিরে যান। তিনি ৯১ রান করতে ৮৬ বল ব্যয় করেন।

    সৌম্য ফিরে যাওয়ার পরে ক্রিজে তাওহিদ হৃদয় এবং নাজমুল শান্ত যুক্ত হয়। তারা একসঙ্গে ৫০ রান যোগ করেন। তবে রান করার গতি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ক্যারিবীয় বোলারদের দৃষ্টিতে খেলে ৪৪ বলে ২৮ রান করে হৃদয় আউট হন। এর পরে ব্যক্তিগত অর্ধশতকের কাছাকাছি যাওয়া শান্ত ৫৫ বলে ৪৪ রান করেন। শান্ত ফিরে যাওয়ার পর অঙ্কণ, রিশাদ, নাসুমও দ্রুত ফিরে যান। শেষের দিকে ক্যামিও হিসেবে নুরুল হাসান সোহান আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখান।

    তিনিও মাহেদী মিরাজের সঙ্গে মিলে ২৪ বলে ৩৫ রান যোগ করেন। তারা একছোপে ব্যাট করে ১ চার ও ১ ছয়ে ৮ বলে ১৬ রান করেন। এই ব্যাটিংয়েই বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৯৬ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এটি ছিল সিরিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ জয়ের জন্য বাংলাদেশের জন্য এক রেকর্ডের মতো।

  • এলপিএল স্থগিতের কারণে বিপিএলের সম্ভাবনা উজ্জ্বল

    এলপিএল স্থগিতের কারণে বিপিএলের সম্ভাবনা উজ্জ্বল

    শ্রীলঙ্কায় এলপিএল স্থগিত হওয়ায় দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য নতুন এক আশার আলো দেখিয়েছে। এবারের বিপিএল ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিদেশি ক্রিকেটার সংকটের ঝামেলা কিছুটা কমবে বলে প্রত্যাশা জাগিয়েছে। মূলত, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) ঘোষণা করেছে, এলপিএলের আসর এখন নভেম্বর-ডিসেম্বরের পরিবর্তে অন্য কোনো সময় অনুষ্ঠিত হবে। আগের পরিকল্পনায় ছিল, ২৭ নভেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কলম্বো, ক্যান্ডি ও ডাম্বুলায় এই টুর্নামেন্ট হবে। তবে এখন বলা হচ্ছে, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও ভেন্যুগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন কাজে বেশি মনোযোগ দিতে চাইছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। বিশ্বকাপের জন্য ভেন্যুগুলোতে সময়মতো প্রস্তুতি নেওয়া খুব জরুরি, তাই এলপিএল পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কা বোর্ডের মতে, ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্বকাপের, যেখানে ভেন্যু প্রস্তুতিতে প্রয়োজনীয় সময়ের বিকল্প নেই। আইসিসির নির্দেশনা অনুসারে, ভেন্যুগুলোর সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন তুলনামূলকভাবে সময় সাপে গিয়েছে। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজও বর্তমানে স্থগিত রয়েছে, যা মূলত নারী ও মেয়েদের ওভর্স ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য। গত দুই বছর এলপিএল অনুষ্ঠিত হয়েছিল জুলাই-আগস্টে, কিন্তু এবার নভেম্বর-ডিসেম্বরে ফের আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। অপরদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই ডিসেম্বরে বিপিএলের আয়োজন করতে চায়, যা প্রায় একই সময় অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টি ও দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সঙ্গে থাকছে। এ সব টুর্নামেন্টের কারণে এমনিতেই বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য প্রতিযোগিতা ও মানের প্রশ্ন উঠছিল। একদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ঘোষণা করছে, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দেশের বাইরে এখন অন্য লিগে খেলার অনুমতি দেবে না। এই পরিস্থিতিতে এলপিএলের পিছিয়ে যাওয়াটা বিপিএলের জন্য এক ধরনের স্বস্তির খবর বলেই মনে করা হচ্ছে। ব্যস্ত এই মৌসুমে বিদেশি খেলোয়াড় সংগ্রহের ক্ষেত্রে বর্তমানে কিছুটা হলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা যায়।

  • খুলনা ফাইটার কারাতে ক্লাবের অসাধারণ সাফল্য

    খুলনা ফাইটার কারাতে ক্লাবের অসাধারণ সাফল্য

    খুলনা ফাইটার কারাতে ক্লাবের অর্জন বছর ঘুরে বছর আরও বিস্ময়কর হয়ে উঠছে। প্রতিষ্ঠানটি তার প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই জনপ্রিয়তা ও সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি বছরই এখানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও টুর্নামেন্টে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক অর্জিত হচ্ছে, যা এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।

    তাজা উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিযোগিতা ‘ষষ্ঠ ইন্টারন্যাশনাল ওপেন কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৫’। ওই প্রতিযোগিতায় খুলনা ফাইটার কারাতে ক্লাবের খেলোয়াড়রা বিশাল সাফল্য লাভ করে। তারা মোট ৮টি স্বর্ণ, ১৭টি রৌপ্য এবং ২৩টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। এই প্রতিযোগিতা যশোরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়রা হলেন – সিয়াম, সামিন, সাজিম, ফারহান, রাফি, মাতিন, রিমি ও তানিয়া। এর পাশাপাশি, রৌপ্য পদকপ্রাপ্তরা হলেন – ওয়ালিদ, আহনাফ, শেখর, জিতু, মুগ্ধ, নাজিফা, মারজিয়া, এঞ্জেল, ফারিয়া, জেনান, ইরা, সুফী, জারা, অথৈ, মাতিন আহসান, রেজোয়ান ও তাবাছ্ছুম। ব্রোঞ্জ পদক বিজয়ীরা হচ্ছেন – তাসফিয়া তাহিয়া, রোজা, মারসা, মাহি, সৌরভ, অঙ্কুশ, জিতু, অরিন, রাহিল, মেহরাজ, অওরা, মরিয়ম, ফারজুন, ইসরাত জাহান, রারোই, জ্যোতির্ময়ী, ফিরোজা, রইফু, জয়, মেহেদী হাসান, তাসনিম বিনতে শরিফ ও জাহিদ হাসান।

    খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে দীর্ঘদিন ধরে এই কারাতে প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম, যিনি মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সে অবদান রেখে আসছেন। তাঁর প্রশিক্ষণে ধীরে ধীরে এই ক্লাবের পারফরমেন্স উন্নতি হচ্ছ এবং নতুন নতুন স্বর্ণ পদক জেতা খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে।

    বাংলাদেশ সোতোকান কারাতে এসোসিয়েশনের খুলনা বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য কোচ সিহান মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘৮০’র দশক থেকে খুলনায় কারাতে প্রশিক্ষণের সূচনা হয়। তখন থেকেই এগিয়ে আসার পথ চালিত হয়ে আসছে। তবে কিছুটা হতাশা ব্যক্ত করেন, কারণ রেফারির মান ভালো না থাকার কারণে কিছু সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। যথাযথ রেফারিং থাকলে আরও বেশি পদক অর্জিত হতে পারত। তিনি আশাবাদী, ভবিষ্যতে এই খাতে আরও উন্নতি হবে এবং আমাদের খেলোয়াড়রা আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।’

    এসব সফলতা কল্যাণে, খুলনা জেলা ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নতুন প্রেরণা পায়, যাতে করে ভবিষ্যতেও আরও অনুপ্রেরণামূলক কর্মসূচী ও পর্যায়ক্রমে অর্জন লক্ষ্য করা যায়।

  • রিশাদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৬৫ ধাপ উন্নতি

    রিশাদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৬৫ ধাপ উন্নতি

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের खेलে বাংলাদেশি স্পিনার রিশাদ হোসেনের অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ব্রেন্ডন কিং ও অ্যালিক আথানাজের শক্তিশালী ব্যাটিং জুটির মাধ্যমে সহজেই জয়ের পথে এগুচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পরিবেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে ইনিংসের ১১তম ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে এসে তিনি বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে দেন। তার বিখ্যাত এই এক ওভারে তিনি প্রথম ডেলিভারিতে ব্রেন্ডন কিংকে আউট করেন, পরে অ্যালিক আথানাজসহ চার ব্যাটারকেও ফেরান। এই ম্যাচে তিনি ১০ ওভারে মাত্র ৩৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা পারফরম্যান্স করেন, যা বাংলাদেশি স্বাভাবিক স্পিনারদের মধ্যে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে ৬ উইকেট উঠানোর অনন্য কীর্তি।

    দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর দেশের প্রথম স্পিনার হিসেবে এই স্পেশাল রেকর্ডটি গড়লেন তিনি। তার এই অসাধারণ সংগ্রহের ফলে পরবর্তীতে আরো দুটি ম্যাচে তিনটি উইকেট নিয়ে তার পারফরম্যান্স ধরে রাখেন। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য আইসিসির রেকর্ডিংয়ে তিনি ৬৫ ধাপ এগিয়ে গিয়ে ৪৩০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশি স্পিনারদের মধ্যে ৬৬ নম্বরে অবস্থান নিয়েছেন। তার সঙ্গে আছেন জুনায়েদ সিদ্দিকী ও কালিম সানা।

    সব মিলিয়ে, বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন রিশাদ। প্রথম ম্যাচে ১৩ বলে ২৬ রান করে দলের জয়ের মূল কারিগর হয়ে উঠেছিলেন, দ্বিতীয় ম্যাচে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ১৪ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন—এভাবেই অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন তিনি। এর ফলস্বরূপ, ওয়ানডে অলরাউন্ডারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে তিনি ৮৭ ধাপ এগিয়ে ৩৭ নম্বর স্থান egna।

    অপর দিকে, বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজও তার পারফরম্যান্সে উন্নতি করেছেন। দুই ম্যাচে তিনি এক উইকেট নিয়েছেন, পাশাপাশি ৪৯ রান করে ১ ধাপ এগিয়ে ৫৭৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ১৮ নম্বরে অবস্থান করছেন, যা দলের সেরা। তার র‌্যাঙ্কিংয়ে আরও উন্নতি হয়েছে, যখন তিনি অস্ট্রেলিয়ান রশিদ খানকে পেছনে ফেলেছেন।

    অলরাউন্ডারদের মধ্যে শীর্ষে আছেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই, দ্বিতীয় স্থানে সিকান্দার রাজা, আর তিন নম্বর বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজ।

    বল হাতে, দুই ম্যাচে মাত্র একটি উইকেট পাওয়ার পরও প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের আটকে রাখা ও মিতব্যয়ী বোলিংয়ে তিনি দলের মূল স্তম্ভ। প্রথম ওয়ানডেতে ১০ ওভারে ১৬ রানে এক উইকেট নেওয়া মিরাজ, দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৮ রান দিয়ে ২ উইকেট হাসিল করেন। তার এই ধারাবাহিকতা তাকে আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬ ধাপ এগিয়ে ১৮ নম্বরে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে তার স্থান শীর্ষে। তবে, তাসকিন আহমেদ দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্রামে থাকায় ৪ ধাপ পিছিয়ে ৩৮ নম্বর হয়েছেন। মুস্তাফিজুর রহমান আগের মতোই ৫৬ নম্বরে থাকছেন।

    অন্যদিকে, নতুন মুখ নাসুম আহমেদ (৭১ নম্বর), তানজিম হাসান সাকিব ও শরিফুল ইসলাম ধাপে ধাপে উন্নতি করছেন। নাসুম মাত্র এক ম্যাচ খেলে ১৬ ধাপ এগিয়ে গেছেন, ১০ ওভারে ৩৮ রান ও ২ উইকেট নিয়ে।

    ব্যাটিংয়ে, মিরাজ, তাওহীদ হৃদয় ও সৌম্য সরকারের পারফরম্যান্সে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম ম্যাচে ৫১ রান করা হৃদয়, দ্বিতীয় ম্যাচে ১২ রান করে ৭ ধাপ উপরে উঠে ৩৫তম স্থান অর্জন করেন। সৌম্যর পারফরম্যান্সও commendable—৪৫ রানে অপরাজিত থাকায় তিনি ৫ ধাপ এগিয়ে ৮৬ নম্বরে পৌঁছেছেন। লিটন দাস ও জাকের আলী অনিকের পারফরম্যান্স কিছুটা পিছিয়ে গেলেও, হঠাৎ করে উন্নতি করেছেন প্রগাত সিং ও সেদিকউল্লাহ অটল। চট্টগ্রাম সিরিজে সুযোগ না পাওয়ায় লিটন দাসের স্থান দুই ধাপ পেছিয়েছে। এছাড়া, চোট কাটিয়ে ফিরছেন তানভীর ইসলাম। তিনি ২ ধাপ এগিয়ে ৫৬ নম্বর হয়েছেন।