এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভারতের জয়োৎসব চলার মাঝেই শুরু হয় ট্রফি বিতর্ক। ফাইনালের পরে পাকিস্তানকে হারানোর পরও, ভারতীয় খেলোয়াড়রা মহসিন নাকভি, পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করেননি। ম্যাচের এক ঘণ্টা পরে নাকভি নিজেই মাঠ ছেড়ে ট্রফি সরিয়ে নেন, ফলে ভারতীয় দল আসল ট্রফি ছাড়াই দেশে ফিরে যায় এবং প্রতীকীভাবে শিরোপা উদযাপন করে। অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মহসিন নাকভি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে সমর্থনের অভিযোগ রয়েছে, এ কারণেই ভারতীয় খেলোয়াড়রা তার হাত থেকে ট্রফি নিতে চাননি। এই বিতর্কের কারণে ভারত এসিসিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে জানানো হয়েছে যে, ১০ নভেম্বর দুবাইয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে ট্রফি হস্তান্তর করার জন্য আলোচনা চলেছে। উল্লেখ্য, এবারের এশিয়া কাপের তিনটি ম্যাচের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হয়েছে তিনটি, যার প্রতিটিতেই ভারত জয়লাভ করে। তবে, কোনো খেলোয়াড় একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাননি। প্রথম ম্যাচের জয়টি উৎসর্গ করা হয় কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ভারতীয় সেনাদের উদ্দেশে, যার জন্য অধিনায়ক সুর্যকুমার যাদবকে আইসিসি ৩০ শতাংশ ম্যাচ ফি জরিমানা করে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের পেসার হারিস রউফ রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের জন্য দ্বিতীয় ম্যাচে জরিমানা 받고, এই বিষয়টি নিয়ে বিসিসিআই ভবিষ্যত আলোচনা করতে পারে আইসিসি ও এসিসি বোর্ড সভায়।
Category: খেলাধুলা
-

মুক্তিপণ না দিতে পেরে প্রাণ গেল গোলরক্ষকের
সেনেগালের ১৮ বছর বয়সী তরুণ গোলরক্ষক শেখ তোরে ফুটবল ক্যারিয়ার গড়ার আশায় বিদেশি ক্লাবের ট্রায়ালে অংশগ্রহণের জন্য যান। তখন স্বপ্ন দেখছিলেন একদিন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে হাজির করবেন। তবে সেই স্বপ্নই এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। প্রতারণার ফাঁদে পড়ে তিনি অপহরণের শিকার হন এবং তারপর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
শেখ তোরে ছিলেন সেনেগালের ‘এস্প্রী ফুট ইয়েমবেল’ ফুটবল একাডেমির একজন পরীক্ষানিপুণ ভবিষ্যত ফুটবল তারকা। উন্নত প্রশিক্ষণের প্রত্যাশায় তাকে একটি প্রতারকচক্র ঘানা নামে পরিচিত এক দেশে নিয়ে যায়। কিন্তু ঠিক পৌঁছানোর পরই তাকে অপহরণ করে এই চক্র এবং পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে।
দুর্ভাগ্যবশত, তোরের পরিবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুক্তিপণের অর্থ জোগাড় করতে না পারায়, তারা নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে। এই শহীদ جوانের মুক্তিপণের জন্য বঞ্চিত হয়ে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সেনেগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনা নিশ্চিত করেছে, এবং জানানো হয়েছে যে, দুই দেশের সরকার যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়াও, শেখ তোরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সকল প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্রীড়াজগতে শোকের সুবাতাস বইছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না তা নিশ্চিত করতে চলছে নিরাপত্তা ও সতর্কতা বাড়ানোর প্রস্তুতি।
-

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, দেখে নিন একাদশ
অবশেষে বাংলাদেশের জন্য সিরিজের চূড়ান্ত লড়াই শুরু হয়েছে। ঘরের মাঠে উইকেটের সুবিধা নিয়ে সহজ জয়ের আশা করেছিল টাইগাররা, কিন্তু সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অসম্ভবের মতো ম্যাচ টাই করে বসে বাংলাদেশ। পরে সুপার ওভারে অদ্ভুত ব্যাটিংয়ের কারণে হেরে যাওয়ায় সিরিজের শেষ ম্যাচটি এখন একটি অলিখিত ফাইনালে পরিণত হয়েছে।
আজ মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে কোনো পরিবর্তন নেই একাদশে।
টাইগারদের জন্য ওয়ানডে ফরম্যাটে সময়টা বেশ কঠিন যাচ্ছে। শেষ ১০টি ওয়ানডে সিরিজের মধ্যে মাত্র দুটি জয় পেয়েছে তারা। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের পারফরম্যান্সও কিছুটা হতাশাজনক। আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের পর এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ হারোর শংকা বেড়ে গেছে বাংলাদেশে।
২০১১-১২ মৌসুমের পর থেকে বাংলাদেশ ঘরের মাঠে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ হারায়নি। তাই দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর এবার সিরিজ হারার ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে টাইগারদের।
বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য ক্রিকেটারদের র্যাংকিংয়ে সেরা আট দলের মধ্যে থাকতে হবে (স্বাগতিক দেশ বাদে)। অন্য দেশগুলোকে অংশ নিতে হবে বাছাইপর্বে।
বাংলাদেশের আজকের একাদশে রয়েছেন: সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, মাহিদুল ইসলাম, নুরুল হাসান (উইকেটকিপার), রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তারুণ ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান।
অপরদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশে উপস্থিত থাকবেন: ব্রেন্ডন কিং, আলিক আথানাজে, কেসি কার্টি, শাই হোপ (অধিনায়ক/উইকেটকিপার), আকিম অগাস্টে, শেরফানে রাদারফোর্ড, জাস্টিন গ্রেভস, রোস্টন চেজ, আকিল হোসেন, খারি পিয়েরে এবং গুদাকেশ মোতি।
-

সিরিজ নিশ্চিতের ম্যাচে বাংলাদেশ দলে চার স্পিনার সহ ব্যাটিং অপশন নিয়ে খেলবে
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ২০৭ রানের নিরস পুঁজি নিয়ে বাংলাদেশ দল একটি বিশাল ব্যবধানে ৭৬ রানের জয় অর্জন করেছে। এখন লক্ষ্য সিরিজ নিশ্চিত করা, এজন্য দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ম্যাচটি মিরপুরের শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে দুপুর দেড়টায় শুরু হবে।
পূর্বের ম্যাচে মিরপুরের কালো উইকেটের জন্য আলোচনা কম নয়। এই ম্যাচেও স্পিনের উপর নির্ভর করে ক্যারিবিয়ান খেলোয়াড়দের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নেবে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে তারা তিন স্পিনার দিয়ে খেলেছিল—অপর দিকে ছিলেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান পেসার হিসেবে।
দ্বিতীয় ম্যাচের আগেও কালো পিচের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, তবে গত ম্যাচের তুলনায় উইকেট আজ খানিকটা আলাদা। সিরিজের মাঝপথে নির্বাচকরা স্পিনার নাসুম আহমেদকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আজকের একাদশে তাকে রেখেছেন টিম ম্যানেজমেন্ট, আর তাসকিন আহমেদের পরিবর্তে বাদ পড়েছেন।
বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা আজ চারজন প্রামাণ্য স্পিনার ও একজন পেসার—মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে খেলবে। অন্যদিকে, উইন্ডিজ দলও স্পিনে শক্তি বাড়িয়েছে। তাদের দলে ঢুকেছেন আকিল হোসেন, এবং রোমারিও শেফার্ডের বদলে অভিষেক হচ্ছে অ্যাকিম অগাস্টের।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), মাহিদুল ইসলাম, নুরুল হাসান (উইকেটকিপার), রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তানভির ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান।
অপরদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশে আছেন ব্রান্ডন কিং, অ্যালিক অ্যাথানেজ, কিসি কার্টি, শাই হোপ (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), শেরফান রাদারফোর্ড, অ্যাকিম অগাস্টে, রোস্টন চেজ, জাস্টিন গ্রিভস, গুঁড়াকেশ মোতি, খারি পিয়েরে ও আকিল হোসেন।
-

মুশতাকের মতে, রিশাদের টেস্ট অভিষেক সময়ের ব্যাপার মাত্র
ম Mirpur এ বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয় পরে মঙ্গলবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ মুখোমুখি হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এই ম্যাচটি জিতলে সিরিজে শিরোপা নিশ্চিত হবে টাইগারদের। স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তারা সিরিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতবে।
মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ। একজন কোচ হিসেবে আমাদের মূল দায়িত্ব হলো ছেলেদের মধ্যে বিশ্বাস গড়ে তোলা। বিশ্বাস ছাড়া কিছু হয়তো সম্ভব নয়। মানসিক দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাসই হলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের মূল চাবিকাঠি। বাংলাদেশি ক্রিকেটারের অগণিত প্রতিভা রয়েছে, যারা যে কোনো দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাই আমাদের শুধু বিশ্বাস রাখতে হবে।’
প্রথম ওয়ানডে জয়ের নায়ক ছিলেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। একাই ৩৫ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি নজর কেড়েছেন। এই পারফরম্যান্সের পেছনে তিনি আফগান স্পিন জাদুকর রশিদ খানকে সঙ্গে নিয়ে আলাপ করেছেন বলে মনে করেন মুশতাক, ‘আমি চেয়েছিলাম রিশাদ রশিদের সঙ্গে কথা বলুক। তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছে। রিশাদ আলাদা একজন স্পিনার হলেও তারা কিছুটা একই রকম ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তা দেখিয়েছে। তরুণ ক্রিকেটারদের উচিত সবার সঙ্গে আরও বেশি আলোচনা করা, বিশেষ করে রশিদ, আদিল রশিদদের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে। এতে অনেক লাভ হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রিশাদের গুরুত্ব এখন অনেক বেশি।’
বাংলাদেশের স্পিন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মুশতাক বলছেন, রিশাদ শুধু সীমিত ওভারের জন্যই নয়, টেস্ট ক্রিকেটেও তিনি একজন নির্ভরযোগ্য বিকল্প হতে পারেন।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২১ ম্যাচ খেলা ২৩ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার এখনও টেস্ট অভিষেক করেননি। তবে মুশতাকের বিশ্বাস—এই তরুণ ক্রিকেটার টেস্টে দ্রুত উঠতে পারবেন, ‘আমি শতভাগ নিশ্চিত, রিশাদ টেস্টে খেলার জন্য প্রস্তুত। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে তার লম্বা উচ্চতা ও বাউন্স সুবিধা কাজে লাগিয়ে যদি ভালো গুগলি বল করে, তবে তিনি খুবই কার্যকরী হতে পারেন। শেষ দিকের ব্যাটাররা তার গুগলি পড়তে না পারলে, তিনি টেস্টে আরও সফল হবেন। তবে সেটা তার নিজের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে।’
-

আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে মরক্কোর ইতিহাস রচনা
বিশ্ব ফুটবলে এক নজির সৃষ্টি করেছে মরক্কো। ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে বিশ্বসেরা আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে আফ্রিকার এই দেশটি। রোববারের ঐতিহাসিক এই ম্যাচে জোড়া গোলের জন্য দলের নায়ক হয়ে উঠেছেন ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ইয়াসির জাবিরি।
ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন তিনি ১২ মিনিটে, বাঁ পায়ের নিখুঁত ফ্রি-কিকের মাধ্যমে। এরপর ২৯ মিনিটে ওসমান মা’আম্মার পাস থেকে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন জাবিরি। পুরো ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে আগ্রহী ও প্রভাবশালী ছিলেন তিনি।
প্রথমার্ধে বল দখলে মরক্কো আধিপত্য দেখালেও (৭০ শতাংশের বেশি), আর্জেন্টিনা কোনও স্পষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। পালের সম্ভাব্য গোলের কোন শট ছিল না। বিপরীতে, মরক্কো সুবিধা পেলেই দ্রুত ক্যানটাউন্ট আক্রমণে উঠেছিল। গোলরক্ষক ইব্রাহিম গোমিস বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা দলের মরিয়া চেষ্টা থাকলেও মরক্কোর সুশৃঙ্খল রক্ষণ এই চেষ্টা খাটো করে। মাহের কাররিজোর একটি ফ্রি-কিক অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়, আর হ্যান্ডবলের একটি ঘটনা ভিএআর টেস্টে হলেও তাঁরা পেনাল্টি পায়নি।
মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবির পরিকল্পিত রক্ষণভাগ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশলই এই ফাইনালের মূল পার্থক্য গড়ে দেয়। ম্যাচের শেষ দিকে পরিবর্তন কৌশল কাজে লাগিয়ে মরক্কো গতি নিয়ন্ত্রণ করে খেলে।
এই জয়ের মাধ্যমে আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাস নতুন করে লেখা হলো। ২০০৯ সালের পর এবারই প্রথম কোনও আফ্রিকান দেশ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতল।
মরক্কোর এই অভিযান টিকে ছিল গ্রুপ পর্বে স্পেন ও ব্রাজিলকে হারানোর মাধ্যমে শীর্ষে উঠে আসার পর। এরপর নিখুঁত পারফরম্যান্সে তারা দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে যায়।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা সপ্তম শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে খেলছিল, কিন্তু ইয়াসির জাবিরির ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের কারণে সেই স্বপ্ন থেমে যায়। সম্ভবত এই রাতেই উঠে এল বিশ্ব ফুটবলের নতুন এক তারকার ছবি।
-

শ্রীলঙ্কার কাছে ৭ রানের হৃদয় ভাঙা পরাজয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কার কাছে খুব কাছ থেকে হার মানে হৃদয় ভেঙে। শারমিন সুপ্তা ও নিগার সুলতানা জ্যোতির ব্যাটে জয়ের পথে ছিল বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা। তবে সুপ্তার ইনজুরি এবং শেষ দ্রুত উইকেট হারানোর কারণে ৭ রানের হার নিয়ে ম্যাচটি শেষ হয়ে যায়, যার ফলে বাংলাদেশ গ্রুপ থেকে বাদ পড়তে বাধ্য হয়। এক ম্যাচ হাতে থাকলেও সম্ভাবনাময় এই ইতিহাসের জন্য তাদের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দল মাত্র আট বলের মধ্যে ২০২ রানের অলআউট হয়। ইনিংসের প্রথম বল থেকেই তারা উইকেট হারাতে শুরু করে, তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৭২ রান যোগ করে। কিন্তু স্পিনার রাবেয়া খান ঝড়ো লাইন ও লাইন দিয়ে জুটিকে ভেঙে দিয়ে আক্রমণ চালান। তিনি ৪৩ বলে ৪৬ রান করা লঙ্কান অধিনায়ক আতাপাথুকে আউট করেন।
এরপর ১০০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি কঠিন হয়। হার্শিতা সামারাবিক্রমা ৪ রান করে রানআউট হলেও, ষষ্ঠ উইকেটে আবার ৭৪ রান যোগ করে লঙ্কানরা বড় সংগ্রহের পথে এগোতে থাকে। তবে নিলাক্ষ্মী ৩৮ বলে ৩৭ রান করে আউট হওয়ার পর, ওপেনার হাসিনি পেরেরা ১৩টি চারের সঙ্গে একটি ছক্কা মারলে ৮৫ রানে আউট হন, যা তাদের মানসম্মত ইনিংস।
বিপরীতে, বাংলাদেশের শুরু ভয়ানক ছিল। ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর, ওপেনার রাবেয়া হায়দার (শূন্য) ও ফারহানা হক ফিরে যান। তবে সুপ্তা ও জ্যোতি একসাথে ১৩২ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কিছুটা সহজ করেন।
কিন্তু সুপ্তা ৬৪ রান করে ইনজুরিতে মাঠ ছাড়লে দলের জন্য একটু ঝামেলা তৈরি হয়। স্বর্ণা ও জ্যোতি দলের ঝড় তুলতে থাকলেও, স্বর্ণা ২৭ বলে ১৯ রান করে ফিরে যান, যা দলকে চাপে ফেলে।
শেষের দিকে বাংলাদেশকে জিততে দরকার ছিল ৯ রান। ৪৮তম ওভারে ৯ রান তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু ৪৯তম ওভারে ৩ রান নিয়ে রবীন্দ্র মনিকে হারানো, তার কারণে শেষ ওভারে বাংলাদেশ ৯ রান তুলতে সক্ষম হয়নি। শেষ ওভারে বাংলাদেশের জেতার জন্য দরকার ছিল ৯ রান। প্রথম চার বলেই উইকেট হারিয়ে যায়, আর জ্যোতি ক্যাচ দিয়ে যান। তিনি ৯৮ বলে ৭৭ রান করেন।
বাংলাদেশের হয়ে স্পিনার স্বর্ণা আক্তার ১০ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। রাবেয়া ৯ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ২ উইকেট পান। মারুফা, নিশিতা ও নাহিদা প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নেন। দলের দুই ব্যাটার রান আউট হয়ে যান। শেষ ওভারে ৪ উইকেট নেওয়া চামারি আতাপাথু ১০ ওভারে ৪২ রান দেন। সুগন্ধিকা কুমারী ২ উইকেট নিয়ে দলের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।
-

রোনালদো ছাড়াই ভারতে arrived আল-নাসর, ক্ষোভে ভরেছে সমর্থকরা
আগামীকাল ভারতের ক্লাব এফসি গোয়ার বিপক্ষে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এ মুখোমুখি হবে সৌদি ক্লাব আল-নাসর। তার জন্য পুরো দল সোমবার রাতেই ভারত সফরে এসেছে। তবে এই সফরে উপস্থিত নেই স্টার ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এটাই ছিল সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, কারণ আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল তিনি থাকবেন না। অবশেষে সেটাই সত্যি হয়েছে।
সৌদি আরবের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পাওয়ার পর জানা যায়, গোয়া ম্যাচে রোনালদোকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। এ কারণেই তিনি ভারতে আসবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবুও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকায় রোনালদো-অনুরাগীরা আশা করছিলেন যে, হয়তো তিনি অংশ নেবেন। কিন্তু সব আশা ভেঙে গেছে, কারণ আল-নাসর কর্তৃপক্ষ এই অনুরোধ মানেনি।
এখন পর্যন্ত আল-নাসর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এ দুটি ম্যাচ খেলেছে, যেখানে রোনালদো অংশ নেননি। দলের চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, সৌদি আরবের বাইরে ম্যাচ হলে রোনালদো নিজে নির্বাচন করবেন কবে খেলবেন ও কবে থাকবেন না। ফলে তার অনুপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ায় ফুটবলপ্রেমীরা যথেষ্ট হতাশ। বিশেষ করে গোয়ায়, যেখানে রোনালদোর আগমনের জন্য অনেক দিন থেকেই ব্যাপক উন্মাদনা ও আলোচনা চলছিল।
গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত বলেছিলেন, রোনালদোর সম্ভাব্য সফর গোয়া নয়, বরং পুরো ভারতে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “গোয়া সফরের খবর শুনে স্থানীয়দের মধ্যে প্রচণ্ড উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। যদি রোনালদো আসতেন, আমাদের তালিকার সবাই তার বিশাল প্রশংসা করত।”
তবে এখন দেখা যাচ্ছে, তার ভারতে আগমন সম্ভব হচ্ছে না। জানা গেছে, স্টেডিয়ামের সব টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গিয়েছে, কারণ সমর্থকেরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন, যে তিনি আসছেন। বিশেষ করে, কিছু দিন আগে আল-ফাতেহের বিরুদ্ধে রোনালদোর করা গোল দেখার পর সমর্থকরা আশায় ছিলেন। কিন্তু এবার তারা দুঃখিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, গোয়া এফসির একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, আল-নাসর দলকে দেখার জন্য সরকারিভাবে কোনো বাধা থাকবে না। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, যেন কোনো ধরনের অসুবিধা না হয় এবং তারা যাতে সহজে দর্শনার্থীদের সাথে চলাচল করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা হবে।
-

মেসির ইতিহাস রচনা: হ্যাটট্রিক করে গোল্ডেন বুট জিতলেন তিনি
বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত ছিল। এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা ছিল। এবং অবশেষে সেই ঘোষণা এসে গেছে। Major League Soccer (MLS) মৌসুমের সেরা গোলদাতার পুরস্কার, অর্থাৎ ‘গোল্ডেন বুট’, জিতলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার লিওনেল মেসি।
গোল্ডেন বুট জেতা মানে তিনি রীতিমতো ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এই প্রথম কোনও ইন্টার মায়ামির ফুটবলার হিসেবে তিনি এই বিশেষ পুরস্কার অর্জন করলেন। এই মৌসুমে ২৯ গোল করে MLS এর নিয়মিত মৌসুম শেষ করেছেন মেসি। তার সাথে সতীর্থদের দিয়ে আরও ১৯ গোল করিয়েছেন, এভাবে তিনি মোট ৪৮ গোলের অবদান রেখেছেন। এই স্কোরের মধ্য দিয়ে তিনি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলারের মর্যাদা যথেষ্ট উজ্জ্বল করেছেন। মায়ামির হয়ে দ্বিতীয় মৌসুমে এমন দারুণ পারফর্ম দেখে সবাই মুগ্ধ।
মায়ামি ফ্লোরিডার এই ক্লাবটি ন্যাশভিলের বিরুদ্ধে ৫-২ গোলের জয় দিয়ে মৌসুম শেষ করে। এই জয়ে তারা প্লে-অফের জন্য যোগ্যতা অর্জন করে। আজ ভোরে, মায়ামির ঐতিহাসিক এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন মেসি। এই ম্যাচে তিনি হ্যাটট্রিক করে দর্শকদের চমকে দিয়েছেন। নভোসিবিলিটির খেলোয়াড়ি হিসেবে, ন্যাশভিলের স্যাম সারিজ এবং এলএএফসি এর ডেনিস বুয়াঙ্গা সমান ২৪ গোল করে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে, মেসি স্পষ্ট এগিয়ে থেকে গোল্ডেন বুট জিতলেন।
অতিরিক্তভাবে, এই দিন তিনি আরও একাধিক রেকর্ডের মালিক হলেন। MLS এর ইতিহাসে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৫০ গোল করে ফেললেন তিনি। যেখানে আগে সাবেক তারকা স্ট্রাইকার ইব্রাহিমোভিচ ৫৪ ম্যাচে ৫০ গোল করেন, সেখানে মেসি মাত্র ৫৩ ম্যাচে এই সাহসী অর্জন করে ফেলেছেন।
একই সঙ্গে, তিনি দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে MLS এর গোল্ডেন বুট জেতার কৃতিত্ব লাভ করলেন। ২০২১ সালে, নিউ ইয়র্ক সিটির হয়ে লা আলবিসেলেস্তেদের প্রথম ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার জয় করেছিলেন ভ্যালেন্টিন ট্যাটি। এবার, মেসি সেই ইতিহাসের পাশে নিজের নাম লিখেছেন।
-

আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে মরক্কো ইতিহাস রচনা
বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করল মরক্কো। ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে আফ্রিকার এই দেশটি। রোববার অনুষ্ঠিত এই ফাইনালে জোড়া গোল করে দলের নায়ক হয়ে ওঠেন যুবক্ষেপ ইয়াসির জাবিরি।
১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড প্রথম গোলটি করেন ম্যাচের ১২ নম্বর মিনিটে, বাঁ পায়ের নিখুঁত এক ফ্রি-কিকের মাধ্যমে। এরপর ২৯ মিনিটে ওসমান মা’আম্মার পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। পুরো ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণের জন্য জাবিরি ছিলেন এক আতঙ্কের নাম।
ডমিন্যান্ট বল দখলে (প্রায় ৭০% এর বেশি) থাকলেও আর্জেন্টিনা কোনো স্পষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তাদের একটি শটও ছিল না গোলমুখে। বিপরীতে, মরক্কো সুযোগ পেলেই দ্রুত কাউন্টার আক্রমণে উঠে বসত। গোলরক্ষক ইব্রাহিম গোমিস বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা মরিয়া হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও মরক্কোর সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ সেই চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়। মাহের কাররিজোর একটি ফ্রি-কিক অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়, আর একটি সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের ঘটনায় ভিএআর চেক হলেও পেনাল্টি পায়নি তারা।
মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবির পরিকল্পিত রক্ষণাত্মক কৌশল এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের স্ট্রাটেজি ফাইনালের মূল পার্থক্য গড়ে দেয়। শেষদিকে পরিবর্তন কৌশল কাজে লাগিয়ে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখে মরক্কো।
এই জয়ে আফ্রিকান ফুটবলেও নতুন ইতিহাস লেখা হলো। ২০০৯ সালের পর এবারই প্রথম কোনো আফ্রিকান দল অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতল।
মরক্কোর এই অভিযানে তারা গ্রুপপর্বে স্পেন ও ব্রাজিলকে হারিয়ে শীর্ষে উঠে আসে। এরপর নকআউটে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সকে পরাজিত করে ফাইনালে পৌঁছে যান।
এদিকে, আর্জেন্টিনা সপ্তম শিরোপার আশায় খেলতে নেমেছিল, কিন্তু ইয়াসির জাবিরির ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স সেই স্বপ্নকে ভেঙে দেয়। এমনকি এই রাতেই আরও এক নতুন তারকার ওঠানামা হলো বিশ্ব ফুটবলে।
