Category: খেলাধুলা

  • বিসিবি নির্বাচনে নাটকের শেষ হলো: ভোটাধিকার ফিরে পেল ১৫ ক্লাব

    বিসিবি নির্বাচনে নাটকের শেষ হলো: ভোটাধিকার ফিরে পেল ১৫ ক্লাব

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনের জটিল পরিস্থিতি এখন নতুন মোড় নিচ্ছে। পূর্বে যা ছিল অস্পষ্টতা ও জটিলতা, তার মধ্যে যুক্ত হয়েছে নাটকীয়তা এবং রায় পরিবর্তনের ঘটনা। সর্বশেষ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটাধিকার হারানো ১৫টি ক্লাব আবারও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার পেয়ে গেল। এই পরিবর্তনের নায়ক হিসাবে উঠে এসেছে বিসিবির বর্তমান কাউন্সিলর লোকমান হোসেন ভূঁইয়া।

    এই পুরো ব্যাপারটির শুরু হয় ৩০ সেপ্টেম্বর। তখন সাবেক বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ হাইকোর্টে রিট দায়ের করে অভিযোগ করেন, এই ১৫টি ক্লাব নির্বাচন শুরু করার জন্য যে যোগ্যতা প্রয়োজন, তা তাদের নেই। হাইকোর্ট সেই রিটের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেয়, যেখানে ওই ১৫ ক্লাবকে নির্বাচনের প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেয়া হয়। এর ফলে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচনী তালিকা থেকে এই ক্লাবগুলোর কাউন্সিলররা অপ্রাপ্তিহীন হয়ে পড়েন। এর মধ্যে ছিলেন নাখালপাড়া ক্রিকেটার্সের প্রতিষ্ঠিত মানুষ ও বিসিবির বর্তমান কাউন্সিলর লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। তিনি সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

    এরই প্রেক্ষাপটে ঘটে নাটকীয় পরিবর্তন। সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের সেই নির্দেশনা স্থগিত করে দেয়, ফলে বাদ পড়া ১৫ ক্লাবের ভোটাধিকার আবারও ফিরে আসে। এর ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া আবারও নবায়ন হয় এবং ক্লাবগুলো আবারও ভোটদানে সক্ষম হয়।

    তবে এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে আলোচনায় আসে ইফতেখার রহমান মিঠু এর নাম। তিনি এই ১৫টি ক্লাবের মধ্যে একমাত্র এই প্রতিযোগিতায় বিসিবি পরিচালক পদে প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু হাইকোর্টের রুলের পরে তার নাম প্রার্থীদের তালিকা থেকে কেটে যায়। এখন আবার মনে করা হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরে মিঠু আবারও নির্বাচনী মাঠে ফিরতে পারেন, যদিও এই বিষয়ে এখনও বিসিবি বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

    সব মিলিয়ে, বিসিবির নির্বাচনী নাটকের শেষ কোথায়, তা এখনো পরিষ্কারভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রার্থীরা এখনও মাঠে নামলেও তালিকা বদলের সম্ভাবনা থাকায় আয়োজকদের আশা, নির্বাচনের রূপ আরও পরিবর্তিত হতে পারে যে কোনো মুহূর্তে।

  • খুলনা বিভাগীয় তায়কোয়ানডো ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপ 2025 অনুষ্ঠিত

    খুলনা বিভাগীয় তায়কোয়ানডো ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপ 2025 অনুষ্ঠিত

    খুলনা বিভাগের বৃহৎ তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা, ‘খুলনা বিভাগীয় তায়কোয়ানডো ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫’, সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রবিবার যশোর জেলায় অবস্থিত ক্রীড়া জিমনেশিয়ামে this আসর অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগীদের পদচারণায় উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়েছিল। বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের উদ্যোগে এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা খুলনা ও যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ তত্ত্বাবধানে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করে আটটি জেলার মোট ১৩০ জন ক্রীড়াবিদ, যার মধ্যে ৮৫ জন পুরুষ ও ৪৫ জন নারী। শিশু, যুবক ও যুবতীদের মধ্যে এই প্রতিযোগিতা নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা এই আসরে মোট ২৪ স্বর্ণ, ১৯ রৌপ্য ও ১৩ তাম্র পদক লাভ করে, যা তাদের চূড়ান্ত বিজয়াধিকার নিশ্চিত করে। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থা, যাদের কোলাকুলা স্বর্ণ সহ মোট ১৪ স্বর্ণ, ৮ রৌপ্য, ও ৭ তাম্র পদক অর্জন করে। নড়াইল জেলা সংস্থা যথাক্রমে ৪ স্বর্ণ, ৫ রৌপ্য ও ৩ তাম্র পদক নিয়ে দ্বিতীয় রানার্স আপ হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল মোঃ হাবিব উল্লাহ, যিনি দেশের খ্যাতনামা ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। বিশেষ অতিথির মধ্যে ছিলেন যশোর তায়কোয়ানডো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস কে মোঃ ওয়ালিউর রহমান ও যশোর জেলা প্রশাসক মোঃ আজাহারুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন জেলার ক্রীড়া কর্মকর্তা, নেতৃবৃন্দ ও ক্রীড়াপ্রেমীরা, যারা উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ করেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন অতিথিরা, যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে এই আয়োজন। আসরের রেফারী ও পরিচালকদের প্রশংসায় ভরে উঠেছিল সার্বিক কার্যক্রম।

  • সোহানের ক্যামিওয়ে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশ

    সোহানের ক্যামিওয়ে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশ

    অ্যাফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায় বাংলাদেশ দারুণ একটি জয় পেয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ে বড় অবদান ছিল নুরুল হাসান সোহান এবং রিশাদ হোসেনের, যাঁরা শেষ মুহূর্তে আবেগঘন এক ক্যামিও খেলেছেন। ম্যাচটি শারজাহতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশের দল শুরুতেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ম্যাচকে রীতিমতো জমিয়ে তুলেছিল।

    শুরুর দিকে, তানজিদ তামিম এবং পারভেজ হোসেন ইমন দুর্দান্ত ব্যাটিং করে উদ্বোধনী জুটিতে শতরান সংগ্রহ করেন। এই দুজনের আক্রমণাত্মক খেলায় আফগান বোলাররা খুবই বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। এমনকি, পুরো দলের রান যখন ৫১ বলের মধ্যে ৪৩, তখন সবাই মনে করছিলেন সহজ জয়ের পথে বাংলাদেশ। তবে, জীবনের ম্যাচে কিছুটা নাটকীয়তা থাকবেই—পরের মুহূর্তে বাংলাদেশের শুরুর ৬ ব্যাটসম্যানই দ্রুত ফিরে যান, বাংলাদেশ এক সময় ৯ রানের ব্যবধানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় ধাক্কা খায়।

    বিশেষ করে, রশিদ খান বাংলাদেশের জন্য যেন এক কাল স্বপ্নের মতো, তাঁর ৪ উইকেটই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো। বাংলাদেশ ১০৯ থেকে ১১৮ রানে পৌঁছানোর পর হারিয়ে বসে ৬ উইকেট। তখনই ম্যাচের উত্তেজনা ফেরে, যখন নুরুল হাসান সোহান (১৩ বলে ২৩*) ও রিশাদ হোসেন (৯ বলে ১৪*) অবিশ্বাস্য ধৈর্য্য ও ঘোরাঘুরির মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি সামলে নেন।

    লক্ষ্য ছিল ১৫২ রান, যা তারা মাত্র ৮ বল হাতে রেখে অর্জন করে। শুরুতে বাংলাদেশের দুজন ওপেনার, তানজিদ হাসান তামিম (৫১) ও পারভেজ হোসেন ইমন (৫৪) দুর্দান্ত শুরু করে, তাদের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল ম্যাচ সহজই ছিল। পরে কিছু ব্যর্থতা ও জোড়ালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা চললেও, শেষ দিকে সোহান ও রিশাদের অবিশ্বাস্য ঠান্ডা মাথায় খেলা জয় নিশ্চিত করে।

    ম্যাচের আগে আফগানিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। তবে, বাংলাদেশের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় তাদের দারুণ প্রস্তুতি ও শুরুটা দেওয়া নাসুম আহমেদের প্রথম ওভার, যেখানে তিনি ইব্রাহিম জাদরানকে শিকার করেন। নিচের দিকে ব্যর্থ ছিলেন সাদিকুল্লাহ আতালও। এরপর দারউইস রাসুলি ও মোহাম্মদ ইশাকের ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান ৪০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারায়।

    শেষ দিকে, মোহাম্মদ নবি ঝড় তোলেন, ১৮ বলে ৩৮ রান করে তাসকিনের ১৮তম ওভারে তিন ছক্কা হাঁকান। যদিও, সেই ওভারে আউট হন তিনি। এর আগে তিনি ১২ বলে ১৭ রান করেন। পাকিস্তানির এই ইনিংসের পর, বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে ম্যাচ জিতে সিরিজের প্রথম জয় করে নেয়।

  • রোহিতকে সরিয়ে ভারতের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমান গিল

    রোহিতকে সরিয়ে ভারতের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমান গিল

    ভারতের ওয়ানডে দলের নেতৃত্বে বড় একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। রোহিত শর্মাকে এই সিরিজের জন্য শুধুমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে রাখা হয়েছে, এবং নতুন অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে শুভমান গিলকে। আগামী ১৯ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ভারতের নেতৃত্ব দেবেন ২৬ বছর বয়সী এই ওপেনার।

    ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে যে, রোহিত শর্মাকে এখন থেকে দলের মূল অধিনায়ক নয়, তবে তিনি এখনও ব্যাটসম্যান হিসেবে দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকবেন। একই সময়ে, বিরাট কোহলি ফের ফিরে এসেছেন ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে। দুজনই মার্চে অনুষ্ঠিত ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর প্রথমবার আবার একসঙ্গে ভারতের জার্সিতে খেলবেন।

    শনিবার আহমেদাবাদে নির্বাচক কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১৪০ রানের বিশাল জয়ের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাবেক পেসার অজিত আগারকারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি মনে করেছে যে, ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের আগে গিলকে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করা জরুরি, যা দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে।

    এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে আগারকার, ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর এবং বিসিসিআই সচিব দেবজিত শইখিয়ার যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে। বর্তমানে, ২৬ বছর বয়সী শুভমান গিল ভারতের তিন ফরম্যাটেই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন— টেস্ট ও ওয়ানডেতা অধিনায়ক এবং টি-টোয়েন্টিতে সহ-অধিনায়ক হিসেবে।

    রোহিত শর্মা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ভারতের পূর্ণকালীন ওয়ানডে অধিনায়ক হন। তার অধীনে ভারতের খেলাগুলির মধ্যে ৫৬টি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে জিতেছে ৪২টি, হেরেছে ১২টি, এক ড্র, এবং একটিতে পরিত্যক্ত। রোহিতের নেতৃত্বে ভারত এশিয়া কাপ ২০১৮ ও ২০২৩ সালে জিতেছে, এবং ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও তারা ফাইনালে পৌঁছেছে। তার নেতৃত্বের সময়কালে ইনজুরিতে পড়ে ট্রফি জয়ের অংশীদার ছিল।

    টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর, মে মাসে ইংল্যান্ড সফরের আগে গিল ভারতের টেস্ট দলের অধিনায়ক হন। প্রথম সিরিজেই ইংল্যান্ডের মাটিতে ২-২ ড্র করে ভারত। সেই সিরিজে গিল দুর্দান্ত খেলেছেন, ব্যাট হাতে গড়ে ৭৫.৪০ রান করেন, যা সিরিজে সর্বোচ্চ ছিল।

    রোহিত ও কোহলি এখন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন, যার ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হবে তাদের সাত মাস পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন। সিরিজের পরে, ১৯, ২৩ এবং ২৫ অক্টোবর, ভারত পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নিবে, যা ২৯ অক্টোবর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

    এরপর, তারা নভেম্বর-ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এবং জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ওয়ানডে সিরিজে খেলার সুযোগ পাবেন।

  • স্বর্ণপদক পাচ্ছেন পিসিবির সভাপতি নকভি, ভারতকে ট্রফি না দেয়ায়

    স্বর্ণপদক পাচ্ছেন পিসিবির সভাপতি নকভি, ভারতকে ট্রফি না দেয়ায়

    অভিনন্দন ও সম্মাননা পাচ্ছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মহসিন নকভি। সম্প্রতি এশিয়া কাপের ক্রিকেট ফাইনালে ট্রফি বিতরণের ঘটনায় তৈরি হওয়া বিতর্কের মাঝেই তাকে দেওয়া হবে ‘শহীদ জুলফিকার আলী ভুট্টো এক্সেলেন্স গোল্ড মেডেল’। এই খবর প্রকাশিত হয়েছে পাকিস্তানের জনপ্রিয় দৈনিক দ্য নেশন এর প্রতিবেদনে।

    পাকিস্তানের সিন্ধ ও করাচি বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গুলাম আব্বাস জামাল জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক ও ক্রীড়াগত উত্তেজনার মধ্যেই নকভির এই সিদ্ধান্ত দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছে। এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতীয় ক্রিকেটাররা ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানালে এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর নকভি নিজেই ট্রফিটি রাখতে থাকেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘‘ভারতীয় দল চাইলে অফিসিয়াল অ্যাসিসির মূল কার্যালয় থেকে ট্রফি নিতে পারে।’’

    নকভি বলেন, ‘আমি কোনো ভুল করিনি এবং বিসিসিআই’র কাছে ক্ষমা চাইব না।’ পাকিস্তানে তার এই দৃঢ় অবস্থান ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং অনেকে এটিকে দেশের জন্য গর্বের বিষয় ও সাহসের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

    পুরস্কার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা করাচিতে অনুষ্ঠিত হবে। এতে পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    এ ঘটনার পেছনে রয়েছে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘ দিন ধরে চলা রাজনৈতিক উত্তেজনা। পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলায় ভারতের অনেক পর্যটক নিহত হওয়ার ঘটনাপ্রবাহের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুড়ংগে গড়িয়ে গেছে। এশিয়া কাপের সময়ও এর প্রভাব ফুটে ওঠে, যেখানে ভারতের ক্রিকেটাররা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মিলাতে অস্বীকার করে এবং ফাইনাল জিতলেও ট্রফি নিতে রাজি হয়নি।

    ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই ইতোমধ্যে এশিয়া কাপের এই ঘটনার বিষয়ে জাতীয় সভায় আলোচনা করেছে এবং আগামী নভেম্বরের আইসিসির বৈঠকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করছে।

  • বাংলাদেশ এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় করল

    বাংলাদেশ এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় করল

    প্রথম টি-টোয়েন্টির মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও একই রূপে দেখা গেল বাংলাদেশের দৃশ্যপটে। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই কিছুটা পিছিয়ে গেল দল, কিন্তু শেষমেশ নেতৃস্থানীয় খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সাফল্য অর্জন করে। নুরুল হাসান সোহান ছিলেন ম্যাচের নায়ক, তিনি শেষের দিকের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জয়ে অবদান রাখেন। প্রথম ম্যাচে রিশাদ হোসেনের সঙ্গে সাফল্য পেয়ে আজ শরিফুল ইসলামকে পেয়েছেন, যা দলের পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। এই জয়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।

    অর্থাৎ, টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক জাকের আলী। শুরুতেই আফগান ওপেনার সেদিকউল্লাহ অতাল ও ইব্রাহীম জাদরানকে সংগ্রহ করতে গিয়ে অসুবিধায় পড়তে হয় বাংলাদেশের বোলারদের। পাওয়ার প্লে-তে তারা উইকেট না হারালেও মাত্র ৩৫ রান তুলতে সক্ষম হন।

    আফগান ওপেনার সেদিকউল্লাহ ১৯ বলে ২৩ রান করে রশিদ হোসেনের উইকেটের শিকার হন, এরপরই ইব্রাহীম ৩৭ বলে ৩৮ রানে ফিরে যান নাসুম আহমেদের শিকার হয়ে। ওমরজাই ও দারউইশ রাসুলী শেষ দিকে ধীরে ধীরে নেয়াঠে পারেননি, কিন্তু অবিচ্ছিন্ন ২৯ রানের জুটিতে দলকে ১৩০ রান পার করে দেন। আফগানদের ইনিংসশেষে সব মিলিয়ে ১৫০ রানের কাছাকাছি সংগ্রহ করে তারা।

    বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাসুম ও রিশাদ দুটি করে উইকেট পান, শরিফুল ইসলাম এক উইকেট নেন। মুস্তাফিজুর রহমান দুর্দান্ত বোলিং করলেও উইকেট পাননি, তবে দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে রাখতে সহায়তা করেন।

    ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের জন্য শুরুটা ছিল চ্যালেঞ্জের, তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন দুজনই প্রথম ওভারে আউট হয়ে যান। তামিম প্রথম ওভারে ফিরে যান, যখন আজমতউল্লাহ ওপরজাই তার ক্যাচ নিতে সক্ষম হন। এরপর দ্রুতই সাইফ হাসান ও জাকের আলীও ফিরে যান। তবে, দলের মধ্য থেকে জাকের আলী ও শামীম পাটোয়ারির জুটিতে রান গড়ে ওঠে, যা দলের স্বপ্ন দেখার জন্য আশাজাগানিয়া ছিল। ১৩.৫ ওভারে দলীয় শতক পূর্ণ করে বাংলাদেশ।

    শুরুতে হাফ সেঞ্চুরিয়ান শামীম পাটোয়ারি ৩৩ রান করে বিদায় নেন এবং এরপরই দলের বিপদ বাড়ে। এই দুর্যোগের মধ্যেও নুরুল হাসান সোহান দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আউট হন, আর তার পরিবর্তে নাসুম যোগ দেন। ১৭তম ওভারে রশিদের শেষ বলে ১১ বলে ১০ রান করে বোল্ড হন নাসুম, এরপর সাইফউদ্দিন ও রিশাদ আহমেদ দ্রুত ফিরে যান। এই সময় বাংলাদেশের দরকার ছিল ১৯ রান।

    সোহান তার সাবলীল ব্যাটিং দিয়ে ১৭ রান হাঁকান, আর শরিফুল ইসলাম চার হাঁকান, ফলের এই ওভারে ১৭ রান আসে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১০২ রান সংগ্রহ করে। তবে পরে, ম্যাচের শেষার্ধে বাজে পারফরম্যান্সে ব্যাটাররা ধাক্কা খায়, ১০ উইকেটে ১৪৮ রানে শেষ হয় আফগানিস্তানের ইনিংস।

    বিশেষ উল্লেখ, বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ উইকেট পতনের মধ্যেও জাকের আলী অনিক ও শামীম পাটোয়ারির ব্যাটে আশা বজায় ছিল। জাকের আলী ২৫ বলে ৩২ রান করে যান, যেখানে তার ব্যাটে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা। শামীমের সঙ্গে তার জুটি ৫৬ রানের, যা দলের জন্য আশার আলো। কিন্তু আউট হওয়ার কিছু সময় পরে, শামীমও ফিরে যান। শেষদিকে তারকা ব্যাটাররা নিরবচ্ছিন্নভাবে অবিরত ব্যাট চালিয়ে যান।

    অপরদিকে, বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের জন্য শেষ ওভারে ১৯ রান দরকার ছিল। সোহানের ছক্কা ও শরিফুলের চার এই ওভারকে স্মরণীয় করে তোলে। এই জয়ের জন্য বাংলাদেশের পুরো দলের সাহসিকতা ও দৃঢ়তা ছিল অপরিহার্য।

  • ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল উন্মোচন করল ফিফা

    ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল উন্মোচন করল ফিফা

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আসর অনুষ্ঠিত হতে এখনো এক বছর অপেক্ষা করতে হবে, তবে এর আগেই শুরু হয়ে গেছে সুদৃশ্য প্রস্তুতি এবং উত্তেজনা। সম্প্রতি, বিশ্বকাপের ব্যতিক্রমী ও আধুনিক বলের প্রথম প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজ পার্কে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, যেখানে বিশ্বব্যাপী ফুটবল প্রেমীরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তী ফুটবলাররা। এই তালিকায় ছিলেন পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী জার্মানির ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যান, ব্রাজিলের কাফু, ইতালির আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, স্পেনের জাভি হার্নান্দেজ এবং ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান।

    নতুন বিশ্বকাপের বলের নাম দিয়েছেন ‘ট্রাইওন্ডা’, যা অ্যাডিডাস তৈরি করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটিই ধারাবাহিকভাবে ১৫ বার ফিফার অফিসিয়াল বল সরবরাহ করে আসছে। ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, ‘আমরা গর্বিত এই নয়া বল উপস্থাপন করতে পেরে, যাকে ডিজাইন করা হয়েছে কানাডা, মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্য ও উচ্ছ্বাসের প্রতীক হিসেবে।’

    ‘ট্রাইওন্ডা’ নামটি এসেছে দুটি শব্দ থেকে—‘ট্রাই’ অর্থ তিন এবং ‘ওন্ডা’ অর্থ ঢেউ। বলটি আলোকিত হয়েছে প্রবল দেশপ্রেম ও বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে, যেখানে রয়েছে লাল, সবুজ ও নীল রঙের ঢেউ। এই তিন রঙের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, এই তিন দেশের মিলিত প্রচেষ্টা ও ঐক্য। আরও স্পষ্টতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে বলের নকশা, যেখানে দেখা যায় ‘অ্যাপোলো’, ‘আমেরিকা’, ‘ম্যাকডোনাল্ড’ প্রতীক।

    বিশেষ করে, বলের ওপরের প্রতীকগুলো গ্রাফিক্স ও খোদাই করা, যার সঙ্গে রয়েছে সোনালি রঙের স্পর্শ। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের মহামহিম ট্রফির প্রতি সম্মান ও উচ্চারণ করা হয়েছে, যে বলই ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞের জন্য তৈরি।

    নতুন ডিজাইনের এই বলের বৈশিষ্ট্য হলো চার-প্যানেল নকশা, যা বলটিকে আরও স্থিতিশীল এবং টেকসই করে তুলেছে। পুরু সেলাই ও স্পষ্ট রেখাগুলো বাতাসের মাধ্যমে বলের চলাচলকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। বলের উপর খোদাই করা প্রতীকগুলো ভেজা অবস্থায়ও গ্রিপ সহজ করে দেয়। তবে মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অ্যাডিডাসের ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’, যেখানে ভেতরে থাকা ৫০০ হার্জের সেন্সর খেলোয়াড়দের কর্মকাণ্ডের রিয়েলটাইম তথ্য সরবরাহ করে, যা ব্যবস্থাপনাকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে, офফসাইড বা ফাউলের মতো বিতর্কিত পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।

    অ্যাডিডাসের মহাব্যবস্থাপক স্যাম হ্যান্ডি বলেন, ‘প্রতিটি ছোটো জিনিসই বড় প্রভাব ফেলে, আর এই ডিজাইনগুলো—খোদাই, গ্রাফিক্স ও রঙ—বলটিকে আলাদা করে তুলেছে। এটি আমাদের তৈরি করা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় ফুটবল বিশ্বকাপ বল।’

  • ফিফা উন্মোচন করল ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন অফিসিয়াল বল ট্রাইওন্ডা

    ফিফা উন্মোচন করল ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন অফিসিয়াল বল ট্রাইওন্ডা

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির মধ্যে আরও একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ফুটবল সংস্থা ফিফা। মাত্র এক বছর বাকি রেখে, বিশ্বকাপের বলের অবকাশ উন্মোচন করেছেন তারা, যা এই মহাযজ্ঞের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজ পার্কে অনুষ্ঠিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে, বিশ্বকাপের নতুন বল ‘ট্রাইওন্ডা’ এর লুক প্রকাশ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলাররা, যেমন জার্মানির জার্গেন ক্লিন্সম্যান, ব্রাজিলের কাফু, ইতালির আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, স্পেনের জাভি হার্নান্দেজ এবং ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান।

    নতুন এই বলের নাম ‘ট্রাইওন্ডা’, যা অ্যাডিডাসের তৈরি। এটি বাংলাদেশের মানুষ জানেন, অ্যাডিডাস বিশ্বকাপের জন্য বিখ্যাত বল সরবরাহকারী। ১৫ বছর ধরে এই সংস্থা বিশ্বকাপের বল প্রস্তুত করে আসছে। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘আমরা অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে ট্রাইওন্ডা উন্মোচন করছি। এই বলের ডিজাইন কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের একত্রীকরণ ও উচ্ছ্বাসের প্রতিচ্ছবি।’

    ‘ট্রাইওন্ডা’ নামটি এসেছে দুটি শব্দ থেকে—’ট্রাই’ অর্থ ‘তিন’ এবং ‘ওন্ডা’ অর্থ ‘ঢেউ’, যা এই বলের ডিজাইনেও প্রতিফলিত। এতে তিনটি রঙের ঢেউ রয়েছে— লাল, সবুজ ও নীল— যা সংযুক্ত দেশগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই তিনটি দেশ ২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজন করছে, তাই এই রঙের মাধ্যমে তাদের ঐক্যকে সূচিত করা হয়েছে।

    বলটির ডিজাইনে স্থান পেয়েছে প্রতিটি দেশের জাতীয় প্রতীক— যুক্তরাষ্ট্রের তারকা, কানাডার ম্যাপল পাতা এবং মেক্সিকোর ঈগল। এসব প্রতীক গ্রাফিক্স ও খোদাইয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া, বলের সোনা রঙের হালকা স্পটিং এটিকে আরও গুরুত্ব দেয়, বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতি সম্মান জানাতে।

    নকশায় নতুনত্বের মধ্যে রয়েছে চার-প্যানেল ডিজাইন, যা বলের স্থিতিশীলতা ও টেকসইতা বৃদ্ধি করেছে। পুরু সেলাই, নির্দিষ্ট রেখা ও গ্রাফিক্স দিয়ে বলের গ্রিপ ও চলাচল আরও উন্নত। তবে এই নতুন বলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো অ্যাডিডাসের সংযুক্ত প্রযুক্তি, যা বলের ভেতরে থাকা ৫০০ হার্জ সেন্সর দিয়ে রিয়েল-টাইম ডেটা সরবরাহ করে।

    এই প্রযুক্তির মাধ্যমে, অফসাইডের সঠিক সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া সম্ভব হবে, এমনকি হ্যান্ডবল বা অন্যান্য বিতর্কিত পরিস্থিতিও সহজে নির্ণয় করা যাবে। অ্যাডিডাসের মহাব্যবস্থাপক স্যাম হ্যান্ডি বলেছিলেন, ‘প্রতিটি ছোটো জিনিসই বড় প্রভাব ফেলে। আমাদের ডিজাইন, রং ও গ্রাফিক্স এই বলটিকে অন্যসব বল থেকে আলাদা করে তুলেছে। এটি এখন পর্যন্ত তৈরি করা সবচেয়ে সুন্দর এবং আকর্ষণীয় ফিফা বিশ্বকাপ বল।’

  • সোহানের ক্যামিওতে বাংলাদেশের ঝড়ো জয়, সিরিজে নেতৃত্ব ধরে রাখলো বাংলাদেশ

    সোহানের ক্যামিওতে বাংলাদেশের ঝড়ো জয়, সিরিজে নেতৃত্ব ধরে রাখলো বাংলাদেশ

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায় বাংলাদেশ শক্তিশালী দেলোয়ার প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়। এই ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল খুবই প্রতি়তাবধানে, কিন্তু রশিদ খানের এক স্পেলে হঠাৎ হেরের শঙ্কা দেখা দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের নবীন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান এবং তরুণ রিশাদ হোসেনের কৌশলী ব্যাটিং ও মানসিক দৃঢ়তার ওপর ভর করে সে চাপ কাটিয়ে জয় হাসিল করে বাংলাদেশ। নাটকীয় এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত তারা ৬ উইকেটে আফগানিস্তানকে হারায়।

    প্রথম ম্যাচের শুরুতেই তানজিদ তামিম ও পারভেজ ইমনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে উদ্বোধনী জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর দ্রুতই এগিয়ে যায়। শুরুতেই তারা আফগান বোলারদের খুবই ভালোভাবে মোকাবেলা করে অর্ধশতক করেন। দুটি ওপেনার দ্রুতই দলের জন্য বড় সংগ্রহের ভিত্তি স্থাপন করেন। এরপর ম্যাচের শেষ পর্যায়ে প্রয়োজন ছিল ৫১ বলে ৪৩ রান, হাতে ছিল সব উইকেট। এই পরিস্থিতিতে সবাই সহজ জয়ে আশা করছিল। তবে বাংলাদেশ দলের জন্য কিছুটা নাটকীয়তা ঢুকে পড়ে, যখন টপ অর্ডার থেকে ৬ ব্যাটার বিদায় নেন মাত্র ৯ রানের ব্যবধানে, যা দলকে চরম বিপদে ফেলতে পারতো।

    বিশেষ করে, রশিদ খানের বল যেন বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে দাঁড়ায়। এই স্পিনারের ৪ উইকেট শিকার পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, ফলে তারা ১০৯ থেকে ১১৮ রান পর্যন্ত হারিয়ে যায়। এরপর, দলটি মানসিকভাবে লড়ে উঠে হাল ধরেন বড়ো আকারের ব্যাটিংয়ে, যেখানে নতুন অধিনায়ক সোহান ও রিশাদ ধৈর্য্য ও সচেতনতার সঙ্গে ব্যাট করে নিজেরা রক্ষা পায়।

    শারজায় আফগানদের দেওয়া ১৫২ রানের লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের শুরুটা ছিল ভিন্ন রকমের। প্রথমদিকে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং পারভেজ হোসেন ইমন ম্যাচের প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর ধারালো আঘাত হানেন। তারা অর্ধশতক করে থামে, তামিম ৫১ এবং ইমন ৫৪ রান করে ফিরতে বাধ্য হন। এরপর অন্য ব্যাটাররা চারপাশে চাপ সৃষ্টি করলেও অপ্রতিরোধ্য থাকেননি। মধ্যবর্তী সময়ে কিছু ব্যর্থতা থাকলেও, সোহান ও রিশাদ ধৈর্য্য ধরে পরিস্থিতি সামলে ম্যাচ শেষ করেন। সোহান ১৩ বলে ২৩, আর রিশাদ ৯ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

    অন্যদিকে, ম্যাচের আগের দিনই শারজাহতে টস জিতে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান সংগ্রহ করে। দলের জন্য সর্বোচ্চ সংগ্রহ করেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ, ৪০ রান। বাংলাদেশকে প্রথম সারিতে বড় ধাক্কা দেন নাসুম আহমেদ, যিনি ইব্রাহিম জাদরানকে LBW করে দেন। জাদরান ১৫ রান করে আউট হন। এছাড়া, সাদিকুল্লাহ আতালও ১০ রান করেন।

    এরপর দউরিউস রাসুলি ও মোহাম্মদ ইশাক দ্রুতই ফিরে যান বলের আঘাতে। তারা দুইজনই দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। আফগানিস্তান দ্রুতই বিপদে পড়ে যায়, মাত্র ৪০ রান করে ৪ উইকেট হারিয়ে। এরপর দলের ব্যাটিংয়ে বড়ো পারফর্ম করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও রহমানুল্লাহ গুরবাজ। গুরবাজ ১৮ বলে ১৮ রান করে আউট হন, যা দলকে বড় সংগ্রহের পথে বাধা দেয়।

    অবশেষে, শেষদিকের ঝড়ো ব্যাটিং দেখান মোহাম্মদ নবি। তিনি ১৮তম ওভারে তাসকিনের ওপর তিন ছক্কা হাঁকান। যদিও এই ওভারে তিনি আউট হন, তবে ২৫ বলে ৩৮ রান করে যান। তার পাশাপাশি, শরাফুদ্দিন আশরাফ ১২ বলে ১৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই ব্যাটাররা শেষ মুহূর্তে আফগানিস্তানের রান সংগ্রহকে কিছুটা সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে আসেন।

  • বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দাপুটে জয়ে শুরু বাংলাদেশের

    বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দাপুটে জয়ে শুরু বাংলাদেশের

    বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মহাযুদ্ধে প্রথম দায়িত্বশীল মানসিকতা ও সাহসের পরিচয় দিয়েছে। পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের বোলারদের সাগরসাপটে ধরা পড়েছেন এবং তাদের পুরো ইনিংস জুড়ে ব্যাটিং অচল করে ফেলেছেন। নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খানসহ বাংলাদেশের ঘূর্ণি বোলাররা এই ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে পাকিস্তানিদের ১২৯ রানে অল আউট করেছেন। সফরকারীরা বলেছে, তারা অবশ্যই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে জয়ের জন্য লড়াই করবে। তবে বাংলাদেশের ঘূর্ণি বোলাররা সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান সঙ্গে বোলারদের দৃঢ় মনোবল ও নিপুণ বোলিংয়ে পাকিস্তানিরা মাত্র ১২৯ রানেই সীমাবদ্ধ থাকতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মারুফা, নাহিদা ও স্বর্ণা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। মারুফার সুইং ও গতির সামনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা অনূপ্রাণিত হতে পারেননি, যার কারণে শুরুতেই তারা দুই উইকেট হারায়। এরপর মুনিবা আলি ও রামিন শামিম কিছুটা চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশি বোলাররা তাদের ফিরিয়ে দেন। পাকিস্তানি ব্যাটাররা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার পাকিস্তানের পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা বোলার হন। রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক তার দারুণ ফিফটিতে ম্যাচের মানের ওপর দ্যোতনা সৃষ্টি করেন। তিনি ৭৭ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ৫৪ রান করেন, যা দারুণ এগিয়ে যায় তার ক্রিকেট জীবনের জন্য। এই জয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা নিজেদের মনোবল ধরে রেখে আগামীর ম্যাচগুলোতেও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এই ম্যাচের উত্তেজনা ও বাংলাদেশ দলের সাহসকে চিরদিন মনে রাখবেন।