Category: খেলাধুলা

  • আফগানদের কাছে ২০০ রানে হেরে শোচনীয় হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশের

    আফগানদের কাছে ২০০ রানে হেরে শোচনীয় হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশের

    সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে আফগানিস্তান বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বড় এক জয় হাসিল করলো, এটি তাদের জন্য টানা třি ম্যাচের হোয়াইটওয়াশ। আফগানরা এই ম্যাচটি ২০০ রানের বড় ব্যবধানে জিতেছে। বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুঃখজনক, ২৭.১ ওভারে মাত্র ৯৩ রানে অল আউট হয়ে যায় তারা। এই দিন সাইফ হাসানের ৪২ রানের ইনিংস ছাড়াও অন্য কিছু উল্লেখযোগ্য ছিল না। আফগানিস্তানের জন্য রশিদ খান তিন উইকেট নেন, আর বিলাল সামি পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভোগান। বাংলাদেশ দলের কেউই দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি, নিজেদের দুর্বলতা আবারো প্রকাশ পেলো এই ম্যাচে।

    এর আগে আফগানিস্তান উড়ন্ত সূচনা করে, রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং ইব্রাহীম জাদরান প্রথম ৭ ওভারেই ৫০ রান সংগ্রহ করেন। প্রথম ১০ ওভারে তারা বিনা উইকেটে ৬৬ রান করে বসেন। ১৬তম ওভারে বাংলাদেশের জন্য সুখকর ছিল না, তখন প্রথম উইকেটটি পড়ে আরই হৃদয়ের বিদায় ঘটে। এরপর সেদিকউল্লাহ অতল ২৯ রান করে আউট হন, তবে রিভিউতে দেখা যায় বল স্টাম্পলাইনের মধ্যেই ছিল। এরপরই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ধীরে ধীরে উইকেট হারাতে থাকেন।

    শুরুর দিকে আফগানিস্তানের অপ্রতিরোধ্য ব্যাটিং উপভোগ করে তারা। নবির ঝড়ো ইনিংসে ২৫ রন করে অপরাজিত থাকেন, মাঠে রশিদ খানও বেশ ভয়ঙ্কর ছিলেন। বাংলাদেশের জন্য দুঃখজনক ছিল, তাদের ব্যাটিং লাইনআপ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়, বিশেষ করে ওপেনার নাইম শেখ এবং সাইফ হাসানের খেলা যেন আরও হতাশাজনক। সব মিলিয়ে, আফগানরা এই সিরিজে বাংলাদেশের হার নিশ্চিত করে দ্বিতীয় ম্যাচে জয় তুলে নেয়।

  • শেষ মুহূর্তের গোলে বাংলাদেশের হংকংয়ের বিরুদ্ধে ড্র

    শেষ মুহূর্তের গোলে বাংলাদেশের হংকংয়ের বিরুদ্ধে ড্র

    এশিয়ান কাপের মূল পর্বে উন্নীত হওয়ার লড়াইয়ে হংকংয়ের বিপক্ষে হোম ম্যাচে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ড্র করেছে। আজকের এই ম্যাচে স্বাগতিক দলের পরিবর্তে সফরকারী বাংলাদেশ মাঠে নামেছিল অ্যাওয়ে ম্যাচের মর্যাদায়। কাই তাক স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে বাংলাদেশের জন্য খুবই কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। মাত্র ৩৪ মিনিটে ডিফেন্ডার তারিক কাজী ভুল করে পেনাল্টির অনুমতি দেন, যা হংকংয়ের ম্যাট অর সফলভাবে কনভার্ট করে দলকে প্রথমে এগিয়ে দেন। এর ফলে প্রথমার্ধে হংকং 1-0 ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। এই ভুলের ফলে বাংলাদেশের জন্য ম্যাচ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে বাংলাদেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্ত করে এবং আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কঠোর পরিশ্রমে তারা অনেক সুযোগ সৃষ্টি করলেও কাঙ্ক্ষিত গোল পেতে অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে হংকংয়ের ডিফেন্ডার অলিভার গারবিগকে দুটি হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। এরপর ৮৩ মিনিটে বাংলাদেশের অধিনায়ক রাকিব হোসেন বাঁ পাশের ক্রসে হেড করে বল জালে পাঠান। বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড ফাহমিদুলের ক্রস উপরিভাগে পেয়ে রাকিব নিখুঁত শটে গোল করেন। এভাবেই শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোলের মাধ্যমে ম্যাচটি 1-1 ড্রতে শেষ হয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যেতে সাহায্য করে। এই ড্র ফলাফল বাংলাদেশের জন্য অনেকটাই উৎসাহের কারণ, কারণ তারা কঠিন পরিস্থিতি মাউন্ট করে শেষ মুহূর্তে সমতা আনতে সক্ষম হয়েছে।

  • রদ্রিগো ও এস্তেভোর জাদুতে ব্রাজিলের ৫-০ বড় জয় সিউলে

    রদ্রিগো ও এস্তেভোর জাদুতে ব্রাজিলের ৫-০ বড় জয় সিউলে

    লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শেষ হয়ে যাওয়ার কদিন পর, ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে দলগুলো এবার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এশিয়ান সফরের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া দলের মুখোমুখি হয়। কোচ কার্লো আনচেলত্তি চেয়েছিলেন দারুণ এক ফুটবল প্রদর্শনী, এবং সেলেসাওরা সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী দারুণ খেলেছে।

    শুক্রবার সিউলের ওয়ার্ল্ড কাপ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই প্রীতি ম্যাচটি ৫-০ গোলে জয় Get করে ব্রাজিল। ম্যাচে দুজন খেলোয়াড় করে দুটি করে গোল করেন এস্তেভো ও রদ্রিগো, ενώ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একটি গোল করেন।

    ম্যাচের ১৩তম মিনিটেই ব্রাজিল প্রথম আক্রমণে এগিয়ে যায়। ব্রুনো গুইমারেসের রক্ষণভাগ পাসে ডি বক্সের ভেতর হ্যান্ডেল করেন এস্তেভো, তখন তার সামনে কেবল দক্ষিণ কোরিয়া গোলরক্ষকই ছিল। আলতো করে বল জালে পাঠিয়ে দলকে লিড এনে দেন।

    এর কিছুক্ষণ পর আরও একটি গোলের সুযোগ তৈরি হয়, যখন কাসেমিরো হেডে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা করেন, তবে তিনি অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়। বিরতির আগে ৩২তম মিনিটে রদ্রিগো একটি দারুণ গোল করেন, যা দলের ব্যবধান বাড়ানোর অন্যতম কারণ।

    রদ্রিগোর গোলটি দলীয় সমন্বয় ও নিবেদন দিয়ে একত্রে সম্ভব হয়। ডি বক্সের বাইরে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র থেকে পাস পেয়ে তিনি বলটি নিয়ে ডিফেন্সের বাইরে থেকে নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন।

    দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল তাদের আক্রমণ আরও ভয়ঙ্কর করে তুলল। প্রথমে এস্তেভো ৪৭তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন, যেখানে ক Kim মিন-জেরোক ক্লিয়ার করতে গিয়ে বল নিজের পায়ে নিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন। এরপর রদ্রিগো আরও একবার জাল খুঁজে নেন, যেখানে ডি-বক্সের মাঝে ক্যাসেমিরোর পাসে তিনি গোল করেন।

    মাত্র কিছুক্ষণ পর, ৭৭তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কির বাস্তবায়ন করেন এক দুর্দান্ত গোল। ম্যাথিউস কুনহার লম্বা পাসে মধ্যমাঠ থেকে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ পেরিয়ে ভিনিসিয়ুস গোলরক্ষককে ফঁাকিয়ে বল জালে পাঠান। এই গোলের মাধ্যমে ব্রাজিলের জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ে এবং ম্যাচের ফলাফল চূড়ান্ত হয়।

    সার্বিকভাবে, ব্রাজিলের এই জয় প্রমাণ করে তাদের ব্যালেন্সড ও আক্রমণাত্মক ফুটবল কিভাবে প্রতিপক্ষকে প্রতিমুহূর্তে ধাক্কা দেয়। কোচ আনচেলত্তির প্রত্যাশা অনুযায়ী, এই ম্যাচে দলের বিভিন্ন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স খুবই সন্তুষ্টিজনক। এই জয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে, যা আসন্ন বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • শেষ মুহূর্তের গোলে স্তব্ধ বাংলাদেশ, হংকংয়ের নাটকীয় জয়

    শেষ মুহূর্তের গোলে স্তব্ধ বাংলাদেশ, হংকংয়ের নাটকীয় জয়

    বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটি ছিল খুবই নাটকীয় এবং হতাশার। শক্তির দিক থেকে হংকংয়ের চেয়ে অনেক গুণ এগিয়ে থাকা দলটির কাছে শেষ মুহূর্তের গোলে হার মানলো বাংলাদেশ। দীর্ঘ সময় ৩-১ গোলের পিছিয়ে থাকার পর ৮৪ মিনিটের দিকে স্ট্রাইকার শেখ মোরসালিনের গোলের মাধ্যমে বাংলাদেশের চেহারা বদলে যায় এবং তারা সমতা আনতে সমর্থ হয়। তবে শেষ মুহূর্তে হংকংয়ের রাফায়েল মার্কিসের হ্যাটট্রিকের জন্য সমস্ত মনোযোগ কেড়ে নেন। ফলে বাংলাদেশ হারার ব্যবধান বজায় রইল ৪-৩ সালি।

    ম্যাচের শেষ অংশ ছিল একের পর এক নাটকীয়তা বিধায়। ইনজুরি সময়ে সামিত সোমের গোলে বাংলাদেশ ৩-৩ সমতা ফিরিয়ে আনে। পুরো স্টেডিয়াম তখন উৎসবে ভরে ওঠে। কিন্তু এই আনন্দ বেশ দুর্বাসহ ছিল না। হংকংয়ের রাফায়েল মার্কিসের জোড়া গোলে দেশের গ্যালারী স্তব্ধ হয়ে যায়। তখন এই জয়ের জন্য হংকং দেশটি ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজানোর মুহূর্তে কুয়েতির রেফারি সওদ আলসামহান ম্যাচ শেষ ঘোষণা করেন।

    বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা হতাশ হন। জার্সি টেনে মুখের কাছে রাখেন, কেউ বা দাঁড়িয়ে থাকায় মনোবল হারান। হোম ম্যাচে একবার লিড নিয়ে সমতাও ফিরে পেলেও শেষ পর্যন্ত হারই বরণ করে নিতে হয়। এই হারে বাংলাদেশের এশিয়া কাপের স্বপ্ন বহু দূরে ঠেকে গেল। তিন ম্যাচ শেষে হংকং সাত পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে, যেখানে বাংলাদেশ এক পয়েন্টে টেবিলের তলানিতে। বাকি তিন ম্যাচে ইতিমধ্যে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখের সম্মুখীন হতে হবে বাংলাদেশকে।

    বাংলাদেশের প্রথম গোলটি আসে হামজা চৌধুরির থেকে। তিনি ১৩ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি কিকে এই ম্যাচে দলকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধে এই লিড বজায় রাখতে পারলে, বাংলাদেশ সহজেই ড্রেসিংরুমে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু ইনজুরি সময়ে হংকং একটি কর্নার থেকে জটলা সৃষ্টি করে গোল করে ফেরে। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম দিকে হংকং দ্রুত দুটো গোল করে স্কোরলাইনে এগিয়ে যায়, যার একটি বাংলাদেশের ডিফেন্সের ভুলে হয়।

    এরপর বাংলাদেশের প্রতিপক্ষের ভুলই কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে তারা প্রথমে ৩-১ তে এগিয়ে যায়। তখন বাংলাদেশ জেগে উঠে। বিকল্পদের মধ্যে সামিত সোম, জামাল ভূঁইয়া, জায়ান আহমেদ ও ফাহমিদুল নামের খেলোয়াড়রা মাঠে নামেন এবং মনোবলের পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায়। ৮৪ মিনিটে শেখ মোরসালিন গোল করে পরিস্থিতি বদলে দেন। তিনি বল পেয়ে সহজে গোল করেন, যদিও হংকং গোলরক্ষক কাউন্টার করতে পারেননি।

    ইনজুরি সময়ে ধারাভাষ্যকাররা ৯ মিনিট যোগ করেন। সেই সময়ে আরও একবার কর্নার থেকে বাংলাদেশ গোল করে, যার জন্য কানা প্রবাসী সামিত সোম এগিয়ে যান ও হেডে বল জালে পাঠান। বাংলাদেশের দর্শকরা আনন্দে ভাসে। কিন্তু সেই দারুণ সাফল্যের এক মিনিটের মাথায় আবার ভুলে হংকং গোল করে, যা ম্যাচের ফলাফল স্থির করে দেয়।

  • মেসিকে ছাড়া ভেনেজুয়েলাকে হারাল আর্জেন্টিনা

    মেসিকে ছাড়া ভেনেজুয়েলাকে হারাল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপে স্থান নিশ্চিত হওয়ার পর আর্জেন্টিনা এখন তার শিরোপা ধরে রাখার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে তারা পশ্চিমা ফুটবলারদের নিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে, যেখানে তাদের সামনে আরও দুটি ম্যাচ রয়েছে দক্ষিন আমেরিকার এই দলটির। আজকের ম্যাচটি ছিল সেই প্রস্তুতি পর্বের প্রথমটি। লিওনেল মেসি ও তরুণ তারকা ফ্রাঙ্কো মাসতানতুয়োকে মাঠে না নামিয়ে, দলের দায়িত্ব হাতে তুলে নেন জিওভান্নি লো সেলসো। তাঁর একমাত্র গোলেই জয় পায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    ভেনেজুয়েলার রক্ষণভাগের বিপক্ষে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা বলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তরুণ ফুটবলাদের ছন্দময় খেলায় তারা বেশ কিছু আক্রমণ নিয়ে তোলে। নিখুঁত এক শটে নিকো পাজ গোলের খুব কাছে পৌঁছেও যান, কিন্তু ভেনেজুয়েলার গোলরক্ষক সেটি রক্ষা করেন। পরে বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এর কিছু সময় পর, ভেনেজুয়েলা রক্ষণভাগের ভুলে গোলের সুযোগ পায়। তাদের শট গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের গোপন ঢিলে বলটি গোলবারের অনেক কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও তারা জালসুতে জড়াতে সক্ষম হয়নি।

    খেলায় ৩১ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের পাসে লাউতারো মার্টিনেজ বল দেন লো সেলসোকে, এবং তিনি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ১-০ এগিয়ে দেন। এই গোল ছিল লো সেলসোর জাতীয় দলে চতুর্থ গোল। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ স্কালোনি কিছু পরিবর্তন করেন এবং মাঠে নামায় নিউক্যাসল ইউনাইটেডের নিকোলাস গনসালেস ও টালিয়াফিকো। এরপরও ম্যাচে কিছু গোলের সুযোগ নষ্ট হয়।

    গোলে আরও বিশদে বলতে গেলে, জুলিয়ানো সিমিওনে নিচু পাস পাঠান ডি-অবস্থায় থাকা লো সেলসোকে, কিন্তু পাজ সেটি নিতে পারেনি। মার্টিনেজ কাছ থেকে শট নেন, তবে গোলরক্ষক দুর্দান্ত সেভ করেন। ম্যাক অ্যালিস্টারও দূর থেকে শট হিসাব করেন, কিন্তু সেটিও অতিক্রম করে যায়। ফ্রি-কিকের দায়িত্ব নেওয়া দে পল ক্রস করেন, যেখানে বালারদি ফাঁকা জায়গায় হেড করেন, কিন্তু বল পোস্টের বাইরে চলে যায়।

    সর্বশেষ, লো সেলসোর একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে জিতেছে। আগামী মঙ্গলবার মায়ামিতে তাদের পরবর্তী ম্যাচ হবে পুয়ের্তো রিকোর বিরুদ্ধে।

  • বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বড় হার বাংলাদেশ নারী দল

    বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বড় হার বাংলাদেশ নারী দল

    বাংলাদেশ নারী ওয়ানডে দলের জন্য শুক্রবারের দিনটি ছিল হতাশাজনক। দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের karşı করা হয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারে, যেখানে তারা ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হার মানেছিল। এই পরাজয়ের কিছুক্ষণ পরই, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ড নারী দলের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে তারা আরও বড় ক্ষতির মুখোমুখি হয়। গোয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বেশ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন এবং টিকে থাকতে পারেননি।

    নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২২৮ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের ব্যাটাররা শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। পুরো ৫০ ওভারে তারা শুধুমাত্র ১২৭ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হন, ফলে শতভাগের বেশি ব্যবধানে হেরে যায়। ম্যাচের শুরুতেই ওপেনার রুবায়া হায়দার ও শারমিন আক্তার দ্রুতই বড় রানের প্রেক্ষাপটে পৌঁছাতে পারেননি, মাঝ পথে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট চলে যায়। এর মধ্যে সোবহানা মোস্তারিও মাত্র ২ রান করে আউট হয়ে যান। দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে, যখন ২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তারা চাপের মুখে পড়ে। এরপর অধিনায়ক জ্যোতি (৪ রান) ও সুমাইয়া আক্তার (১ রান) দ্রুতই ফিরে যান, এবং দলের ইনিংস আরও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে পড়ে।

    বাংলাদেশের পক্ষে ফাহিমা খাতুন ও নাহিদা আক্তার এই মুহূর্তে দলের হাল ধরেন। তবে নাহিদা ১৭ রান করে আউট হলে ম্যাচের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। অপরদিকে, ফাহিমা ৩৪ এবং রাবেয়া ২৫ রান করে দলের স্কোরটিকে ভারসাম্য দিতে চেষ্টারত ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত, যখন তাদের বিদায় হয়, তখনই বাংলাদেশের হার নিশ্চিত হয়ে যায়। কিউই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নেন জেস কার ও লিয়া তাহুহু।

    অভিযোগের বিষয় হলো, দিনের শুরুতে নিউজিল্যান্ড ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২২৭ রান সংগ্রহ করে, যেখানে সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ব্রুক হালিডের ৬৯ ও সোফি ডিভাইন এর ৬৩। বাংলাদেশের জন্য রাবীয়া খান সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের দক্ষতা এবং সফলতা স্পষ্টভাবে প্রতিপন্ন হয়, যারা সহজে জয় পায় এবং বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়।

  • বিশ্বকাপের টিকিটের দাম ৪ বছরে ১০ গুণ বেড়েছে

    বিশ্বকাপের টিকিটের দাম ৪ বছরে ১০ গুণ বেড়েছে

    বিশ্বকাপের টিকিটের অর্থাৎ খেলা দেখার আধিকারিক পত্রে যেন সোনার হরিণ। তবে সেটার প্রাপ্যতা পড়ে সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটের দাম বাড়ার সঙ্গে যোগ হয়েছে তার আরও বাড়তি দামের বিষয়টি, যা এতটাই বেশি যে, ২০২২ বিশ্বকাপের চেয়ে ১০ গুণ বেড়ে গেছে। এর ফলে, যেখানে আগে কিছু মানুষের জন্য সবচেয়ে দামী আসনে খেলা দেখা সম্ভব ছিল, এবার সাধারণ দর্শকদের জন্য কম দামের আসনেও গুণতে হবে বেশি টাকা। এসব তথ্য দেখিয়ে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, এটি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ।

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের টিকিটের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে ‘ক্যাটাগরি ৪’ বা সাধারণ দর্শকদের জন্য নির্ধারিত টিকিটের দাম প্রায় দশগুণ বেড়েছে। কাতারে উদ্বোধনী ম্যাচের সস্তা টিকিটের দাম ছিল ৫৫ ডলার, কিন্তু ২০২৬ সালের জন্য এই দাম দাঁড়িয়েছে ৫৬০ ডলার। অর্থাৎ, সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দামই এখন আগের আসরের সবচেয়ে দামী ‘ক্যাটাগরি ১’ টিকিটের কাছাকাছি।

    এছাড়া গ্রুপ পর্বের টিকিটের দামও নয়গুণ বেড়েছে। যেখানে আগে সেটি ছিল মাত্র ১১ ডলার, এখন দাঁড়িয়েছে ১০০ ডলার। ফাইনাল ম্যাচের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি বেশ নজরকাড়া। ২০২২ সালে ফাইনালের সবচেয়ে সস্তা টিকিটের মূল্য ছিল ২০৬ ডলার, আর এবারে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৩০ ডলারে। এর মানে, এই বছর সবচেয়ে সস্তা আসনের মূল্য আগের সবচেয়ে দামী আসনের কাছাকাছি বা তার চেয়েও বেশি হয়ে গেছে।

    এই বিশাল টিকিটের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশ্বব্যাপী ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ফুটবলপ্রেমীরা বলছেন, ফিফা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যেখানে সাধারণ দর্শকের জন্য মাঠে গিয়ে খেলা দেখার সুযোগ একেবারে কমে এসেছে। কেউ কেউ মত প্রকাশ করেছেন, ‘এমন দামে বিশ্বকাপ এখন কেবল ধনীদের বিনোদন।’

    এছাড়া নতুন ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ নীতি এতে যুক্ত হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, যে ম্যাচে চাহিদা বেশি, সেই ম্যাচের টিকিটের দাম আরও বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ব্যবস্থা মূলত উত্তর আমেরিকার বাজারে চালু, যা শেষ মুহূর্তে কম দামে টিকিট পাওয়ার সুবিধা দেবে, তবে বিদেশি ভক্তদের জন্য এটি তুসম্পন্ন হবে। কারণ, তাঁরা আগে থেকে ভ্রমণ এবং দর্শকের পরিকল্পনা না করে হঠাৎ টিকিট কিনতে পারবেন না।

    ফিফা আবার টিকিটের পুনর্বিক্রিতে ক্রেতা ও বিক্রেতা দুই পক্ষ থেকেই ১৫ শতাংশ ফি নেবে, যা টিকিটের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে।

    বিশ্বকাপের ফাইনালের সাধারণ টিকিটের দাম এখন শুরু হচ্ছে ২০২০ ডলার থেকে এবং সর্বোচ্চ ৬৩৭০ ডলার পর্যন্ত। এখনও আতিথেয়তা বা হসপিটালিটি টিকিটের বিক্রি শুরু হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এই সব দিক বিবেচনা করে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসর হতে চলেছে।

  • বিসিবির নব্য পরিচালনা পর্ষদে বুলবুল নিজেই তিন কমিটির দায়িত্বে, অন্যদের দায়িত্ব বাইরেঃ নতুন তালিকা প্রকাশ

    বিসিবির নব্য পরিচালনা পর্ষদে বুলবুল নিজেই তিন কমিটির দায়িত্বে, অন্যদের দায়িত্ব বাইরেঃ নতুন তালিকা প্রকাশ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন পরিচালনামণ্ডল বুধবার প্রথমবারের মতো একটি সাধারণ বোর্ড সভা সম্পন্ন করেছে। এই সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির দায়িত্বের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এই বার্ষিক পরিকল্পনা ও কাঠামো অনুযায়ী, বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজেদের কাজের ভার গ্রহণ করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির দায়িত্ব নিয়েছেন, যেখানে তিনি ওয়ার্কিং কমিটি, টেস্টিং কমিটি এবং গ্রাউন্ডস কমিটিগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে, সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ কোনও কমিটিতে দায়িত্ব পাননি। দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন ও প্রশাসনের জন্য গঠিত এই কমিটিগুলোর মধ্যে অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন: ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের দায়িত্বে নাজমুল আবেদীন ফাহিম, মিডিয়া কমিটির আমজাদ হোসেন, হাই পারফরম্যান্সের দায়িত্বে খালেদ মাসুদ পাইলট, অর্থ কমিটিতে এম নাজমুল ইসলাম, ভাইস-চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, এবং পাকিস্তান ও বাংলাদেশ উভয় ক্রিকেট গেম ডেভেলপমেন্টের জন্য ইশতিয়াক সাদেক।

  • ইসফাকের পরিবর্তে বিসিবির নতুন পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত রুবাবা দৌলা মতিন

    ইসফাকের পরিবর্তে বিসিবির নতুন পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত রুবাবা দৌলা মতিন

    নির্বাচনের একদিন পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত দুই পরিচালকের মধ্যে একজনের পরিবর্তে নতুন একজনকে মনোনীত করা হয়েছে। এ পদে যোগ দিচ্ছেন প্রখ্যাত করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও নারী ক্রীড়া সংগঠক রুবাবা দৌলা মতিন।

    বিসিবির নির্বাচনের দিন, সোমবার, এনএসসি থেকে ইসফাক আহসান ও ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক দুজনকেই পরিচালক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। তবে এরপর রাতের মধ্যে কিছু কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে ইসফাকের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তার বদলে নতুন পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় রুবাবা দৌলাকে। তার এই মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন রুবাবা দৌলা নিজেই।

    করপোরেট অঙ্গনে সুপরিচিত এ নারী খেলার ক্ষেত্রেও বেশ সক্রিয় ছিলেন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সভাপতিত্ব করেছেন। সাথে ছিলেন স্পেশাল অলিম্পিকসের বোর্ড সদস্যও। ২০০৭ সালে গ্রামীণফোন ও বিসিবির যৌথ উদ্যোগে মিরপুরে জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার।

    অতিরিক্তভাবে, রুবাবা দৌলা এখন একটুখানি টেলিকম খাতে ওরাকল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে গ্রামীণফোন ও এয়ারটেলের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলিতে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    সূত্রমতে, বিসিবিতে রুবাবা দৌলা মহিলা উইংয়ের দায়িত্বেও থাকতে পারেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিডিসিবি পরিচালনা পর্ষদে মোট ২৫ জন সদস্য থাকেন, এর মধ্যে ২৩ জন নির্বাচিত ও ২ জন মনোনীত। গত ৬ অক্টোবর ঘোষণা করা হয় নির্বাচনের ফলাফলে, যেখানে ইসফাক আহসান মনোনীত পরিচালক হিসেবে ঘোষণা হয়। তবে তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর, এনএসসি তার মনোনয়ন বাতিল করে দেয়।

    তাদের স্থলে নতুন পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন রুবাবা দৌলা। তিনি বাংলাদেশের কর্পোরেট জগতে এক আলোচিত নাম, যেখানে তিনি গ্রামীণফোন ও এয়ারটেলে শীর্ষ পদে ছিলেন। ব্যাডমিন্টনে তার অবদান স্বীকৃতি পায় ২০০৬ সালে অনন্যা শীর্ষ দশ নারী পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে। তিনি দেশের নারীদের উন্নয়নে অবদান রেখে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।

  • ২০২৬ বিশ্বকাপে কি নেইমার থাকছেন ব্রাজিলের জার্সিতে? আশঙ্কায় ফুটবলপ্রেমীরা

    ২০২৬ বিশ্বকাপে কি নেইমার থাকছেন ব্রাজিলের জার্সিতে? আশঙ্কায় ফুটবলপ্রেমীরা

    গত সেপ্টেম্বরে উসমান দেম্বেলের ব্যালন ডি’অর জয় উদযাপন চলছিল যখন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার তৃতীয় চোটের কারণে তিনি মাঠের বাইরে থাকলেও, তিনি হতাশ হননি। চোটের সঙ্গে সংগ্রাম করলেও, তিনি অনলাইন पोকার টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে প্রায় ৭৪ হাজার পাউন্ড পুরস্কার জিতেছেন। তবে দেম্বেলের সাফল্যের দিনে সেই অর্থ ছিল নেইমারের জন্য এক সামান্য সান্ত্বনা মাত্র।

    নেইমার এই বছরের শুরুর দিকে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসেন। কাক্সিক্ষত ছিল, ইউরোপ ও সৌদি আরবে অসফল অধ্যায়ের পর এবার তিনি নিজের সেরা ফর্মে ফিরবেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ধারাবাহিক চোট, মাঠের বাইরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকা এবং ফর্মে অনিয়মের কারণে মাঠে তার পারফরম্যান্স অনেকটাই নিম্নগামী। সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা এখন—২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে খেলবেন কি না? সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

    বিশ্বের কিংবদন্তি ফুটবলার তোস্তো বলেছেন, ‘তারকারাও নিজেদের ফিটনেস প্রমাণ করতে হয়। তখনই তাদের সত্যিকারের মূল্য খরা হয়।’ ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিপক্ষে দল ঘোষণা করেছেন, যেখানে নেইমারের নাম নেই। সর্বশেষ ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে, যেখানে ব্রাজিল ২-০ গোলে হেরেছিল।

    অতঃপর, আগামী নভেম্বরে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ রয়েছে। তবে সেগুলিতে নেইমারকে খেলতে দেখা নিয়ে এখনও সন্দেহ আছে। যদি এই সুযোগও না পান, তবে তার সামনে থাকবে কেবল মার্চ ২০২৬ এর আগে দুটি প্রীতি ম্যাচ, যেখানে নিজেকে উপযুক্ত প্রমাণের শেষ সুযোগ।

    দীর্ঘ সময় জাতীয় দল থেকে দূরে থাকায় কোচ আনচেলত্তি শারীরিক অবস্থাকেও দায়ী করেছেন। তবে পরে তিনি বলেছেন, নেইমারকে বাদ দেওয়ার পেছনে মূল কারণ প্রযুক্তিগত। এই বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলেছে। সাবেক অধিনায়ক কাফু বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ জেতানোর জন্য যে খেলোয়াড়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তার টেকনিক্যাল সমস্যা থাকলে বড় সমস্যা বোঝা উচিত।’

    সান্তোসে ফিরে এসে ও চোট থেকে মুক্তি না পাওয়ায় এখনও পর্যন্ত দলের মোট ম্যাচের প্রায় অর্ধেকেই মাঠে নামতে পারেননি নেইমার। চলতি মৌসুমে তিনি ৯টি গোল করলেও, অধিকাংশই নিচের সারির দলের বিপক্ষে। ড্রিবলিংয়ে তার অবস্থান লিগের ৫০তম, যা তার জন্য অস্বাভাবিক।

    ডেটাফোলহার জরিপে দেখা গেছে, ব্রাজিলিয়ানরা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না যে, নেইমারকে বিশ্বকাপে নেওয়া উচিত কি না। সেখানেও দ্বিধা, ৪৮% তার পক্ষে, আবার ৪১% বিপক্ষে।

    মাঠে আচরণগত পরিবর্তনও দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি বেশ কিছু ম্যাচে সমর্থকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। ভাস্কো দা গামার কাছে ৬-০ গোলে হারের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় পরাজয়। অনেকের চোখে এখনো তার শেষ ভরসা ২০০২ সালের রোনালদোর মতো করে ফিরে আসার অভিপ্রায়। গুরুতর চোট ও সমালোচনার মধ্যেও, সেই বিশ্বকাপ জিতেছিলেন রোনালদো ‘ফেনোমেনন।’ এক্ষেত্রেও কি সম্ভব হবে সেই মতো ফিরে আসা?

    রোনালদো বলছেন, ‘নেইমার তো আরেকরকম। যারা ভাবছেন সে নিজের ফিটনেসে গাফিলির কথা, তারা ভুল করছেন। সে সঠিক পথে আছে।’ আগামী কিছু মাস তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাকে প্রমাণ করতে হবে, তিনি এখনও ব্রাজিলের ‘যুবরাজ’, লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। যদি পারেন, তাহলে ২০২৬ বিশ্বকাপে তার উপস্থিতি দেখা যেতে পারে। আর যদি না পারেন, তবে তার নাম ইতিহাসের পাতায়ই রয়ে যাবে এক অপূর্ণ সম্ভাবনার গল্প হিসেবে।