Category: খেলাধুলা

  • বিসিবি নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা

    বিসিবি নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনের চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। যাচাই-বাছাই এবং শুনানি শেষে মূলত ৫০ জনের নাম ছিল তালিকায়। তবে বুধবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন ১৬ জন প্রার্থী। এর ফলে আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ৩৩ প্রার্থী নিয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরির নির্বাচন, যেখানে ২৫টি পরিচালক পদের জন্য ভোট গ্রহণ হবে।

    নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. শেখ জোবায়েদ হোসেন জানান, তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ১৬ প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছি একেকজন ব্যক্তিগত কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

    বিশেষ করে, সরকারি হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে বেশিরভাগ প্রার্থী এই ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন ফিরিয়ে নিয়েছেন। ঢাকা ক্লাব ভিত্তিক ক্যাটাগরি-২-তে ৩০ প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিভিন্ন বিতর্কিত ক্লাবের প্রতিনিধি যেমন ভাইকিংস ক্রিকেট একাডেমির ইফতেখার রহমান নির্বাচন করতে পারবেন না।

    রিটার্নিং কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ‘একই নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু প্রার্থী প্রত্যাহার করেছেন।’ এই ক্যাটাগরিতে ৭৬ জন কাউন্সিলরের ভোটে ১২টি পরিচালক পদের জন্য ১৬ জন প্রার্থী লড়ছেন।

    অন্যদিকে, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জন্য গঠিত ক্যাটাগরি-১ থেকে নির্বাচিত হবেন ১০ জন পরিচালক। এখানে ভোটার সংখ্যা ৭১ থেকে কমে ৭০ এ নেমে এসেছে। এতে ভোট দেবে জেলা ও বিভাগীয় সংস্থাগুলোর কাউন্সিলররা, তবে অধিকাংশই বিসিবির বর্তমান সভাপতি, আমিনুল ইসলামকে সমর্থন করছেন।

    উল্লেখ্য, এবার নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের প্রার্থিতা প্রত্যাহার। তার পাশাপাশি আরও কিছু আলোচিত প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় পরিস্থিতির উত্তাপ কিছু কমে এসেছে।

    চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এখন তিনটি বিভাগে ভোটের মূল লড়াই হবে। অন্য বিভাগ ও ক্যাটাগরিতে একক প্রার্থী থাকায় তারা সরাসরি নির্বাচিত হবেন।

    বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মোট ১০ পরিচালকের মধ্যে ৬ জন নির্বাচিত হয়েছেন। এই তালিকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে বিভিন্ন বিভাগে—খুলনা, বরিশাল, সিলেট—প্রতিনিধিরা। এছাড়াও, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার ও নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন কিছু প্রার্থী।

    বিশেষত, ঢাকা, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে আগামী সপ্তাহে ভোট হবে। ঢাকা বিভাগে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, যেখানে দুটি পরিচালকের জন্য ভোট থাকবে। অন্য বিভাগগুলোতেও একই পদ্ধতিতে ভোট হবে।

    ক্যাটাগরি-৩-এ, সাবেক ক্রিকেটার ও জাতীয় দলের অধিনায়কসহ মোট ৪৫ জন ভোটার তাদের পছন্দের পরিচালকদের জন্য ভোট দেবেন। তাঁদের মধ্য থেকে একজন নির্বাচিত হবেন।

    সংক্ষেপে, এই নির্বাচন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থীরা বুথে গিয়ে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন, যেখানে একক প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কিছু বিভাগে।

  • এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

    এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

    প্রথম टी-টোয়েন্টির মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও একই রকম দৃশ্য দেখা গেল। রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ মাঝপথে কিছুটা পথ হারিয়ে ফেলে, তবে শেষমেশ দলের জয়ের স্বপ্ন সফল করলেন নুরুল হাসান সোহান। প্রথম ম্যাচে রিশাদ হোসেনের সাথে পার্টনারশিপে জয় পেয়েছিলেন, আজ শরিফুল ইসলামকে পেলেন আবার রানের জন্য। এই এক পার্টনারশিপের সুবাদে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজের জয় নিশ্চিত করে ফেলল কোচ ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।

    শুরুর দিকে রান তুলতে সমস্যা সৃষ্টি হয় বাংলাদেশের। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন দুজনই অঙ্কের একপ্রান্তে ফিরে যান। দ্বিতীয় ওভারটির দ্বিতীয় বলে তানজিদ ফিরে যান, আগের দিনের হাফ সেঞ্চুরিয়ানকে আজমতউল্লাহ ওয়াক্সের উপর থেকে ক্যাচ ধরেন। তানজিদের বিদায়ের মাধ্যমে প্রথম ওভারেই পড়ে বাংলাদেশ।

    চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই ফিরে যান ইমনও। ওমরজাইয়ের দুর্দান্ত গুড লেংথের বল লেগ বিফোর উইকেটে পাঠান তিনি। তার ব্যাটে আসে ৫ বলে ৩ রান।

    পরে ইনফর্ম সাইফ হাসানও শিকার হন। মালুমের বা পাওয়ার প্লের প্রথমে বাংলাদেশ ৩৭ রানেই তিন উইকেট হারায়।

    অতিরিক্ত চাপের মধ্যে গণনা অনুযায়ী ৮ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৭ রান। তবে এরপর ধীরে ধীরে এই সংকট কাটিয়ে ওঠেন জাকের আলী অনিক ও শামীম পাটোয়ারি। দশ ওভারে বাংলাদেশ ক্রমশ ৭৪ রান করে উইকেটের বিপরীতে। এরপর ৮০ রানে চতুর্থ উইকেট হারায়।

    জাকের আলী (২৫ বলের ৩২ রান) ও শামীম (২২ বলে ৩৩ রান) দলের জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। দৌড়ে দলের শতক সম্পন্ন করেন, কিন্তু পরের ওভারে তিনি বিদায় নেন।

    শেষে বাংলাদেশ ১০২ রান করেন ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে। এরপর নুরুল হাসান সোহান দলের মূল সঙ্গী হয়ে ফিরে আসেন, দলের ভীত কাঁপানো পরিস্থিতিতে। ১৭তম ওভারে রশিদের শেষ বলে বোল্ড হন সোহান, তবে তার আগের ইনিংসে ১১ বলে ১০ রান ও ছিল। এই সময়ে বাংলাদেশের বোলাররা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন। নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন দুটি করে উইকেট নেন, শরিফুল ইসলাম একটি উইকেট চান। মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং অনবদ্য হলেও উইকেট পাননি।

    আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে আজমতউল্লাহ ওমরজাই, মোহাম্মদ নবি, কাবুলের উল্লেখযোগ্য পারফরমার। শেষ পর্যন্ত তারা সংগ্রহ করেন ১৩৮ রান, যেখানে নবি ১২ বলে ২০ ও ওমরজাই ১৭ বলে ১৯ রান অবিচ্ছিন্ন থাকেন।

    বিজয়ী দলের মধ্যে নাসুম ও রিশাদ দুটি করে উইকেট নেন, শরিফুল ইসলাম একটি উইকেট পান। মুস্তাফিজের বোলিং বেশ প্রশংসনীয় হলেও তার একটি ক্যাচ ছেড়ে দেন ইমন, যা সম্ভবত উইকেটের পরিবর্তে সুযোগের হার।

    এভাবে বাংলাদেশের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ফলস্বরূপ তারা সিরিজে এগিয়ে থাকতেই থাকল।

  • সাইফের র‍্যাঙ্কিং লাফ ও অভিষেকের বিশ্ব রেকর্ড: এশিয়া কাপের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন

    সাইফের র‍্যাঙ্কিং লাফ ও অভিষেকের বিশ্ব রেকর্ড: এশিয়া কাপের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন

    গত কিছু বছর ধরে বাংলার তরুণ ক্রিকেটার সাইফ হাসানের নাম টি-টোয়েন্টির অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষে থাকলেও সম্প্রতি তিনি এই আধিপত্য আরও শক্ত করে নিয়েছেন। এশিয়া কাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি তিন ধাপ উন্নতি করে অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেছেন। তবে এর আগে চার ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি, যা তার ক্রিকেটীয় অভিযাত্রায় এক চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হয়।

    অন্যদিকে, হার্দিক পাণ্ডিয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে গেছেন। দুই নম্বরে থাকা হার্দিক বর্তমানে চার ধাপ নিচে অবস্থান করছেন, তার চেয়ে শীর্ষে থাকা সাইম আইয়ুবের থেকে আট ধাপ পিছিয়ে। পাকিস্তানের মোহাম্মদ নাওয়াজ আরও চার ধাপ এগিয়ে ১৩তম স্থানে রয়েছেন। শ্রীলঙ্কার চারিথ আসালাঙ্কা তিন ধাপ উন্নতি করে যৌথভাবে ৩০তম স্থানে পৌঁছেছেন। এশিয়া কাপের পারফরম্যান্সের কারণে এসব ক্রিকেটার তাঁদের র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন।

    ব্যাটিং ক্ষেত্রে ভারতের অভিষেক শর্মা রীতিমতো নজর কেড়েছেন। তিনি এক অসাধারণ রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হাফ-সেঞ্চুরি করে তাঁর রেটিং পৌঁছে গেছে ৯৩১ পয়েন্টে—যা টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই রেকর্ড আগে ছিল ইংল্যান্ডের ডেভিড মালানের (৯১৯ পয়েন্ট, ২০২০ সালে)। এই বিশাল অর্জনটি তাঁর সতীর্থ সূর্যকুমার যাদব ও বিরাট কোহলিকে ছাড়িয়ে গেছে। ২৫ বছর বয়সী এই ওপেনার গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করলে এত দ্রুত তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের বড় তারকা হিসেবে উঠছেন।

    এশিয়া কাপের দর্শনীয় পারফরম্যান্সে তিনি ৩১৪ রান করে গড়ে ৪৪.৮৫’র কাছাকাছি। এর জন্য তিনি টুর্নামেন্টের সেরা প্লেয়ার পুরস্কারও জিতেছেন। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের ফিল সল্টের থেকে ৮২ রেটিং পয়েন্টে এগিয়ে থাকছেন। অন্যদিকে, ভারতের তিলক ভার্মা তৃতীয়, শ্রীলঙ্কার পাথুম নিসাঙ্কা পঞ্চম, এবং কুশল পেরেরা নবম স্থানে অবস্থান করছেন।

    ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বাংলাদেশের সাইফ হাসানও বড় উত্থান করেছেন। তিনি ৪৫ ধাপ এগিয়ে এখন ৩৬তম স্থানে আছেন, তাঁর রেটিং ৫৫৫ পয়েন্ট। গত সপ্তাহে তিনি এই র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৩৩ ধাপ এগিয়েছিলেন।

    বোলারদের ক্ষেত্রে রিশাদ হোসেন ৬ ধাপ এগিয়ে ২০তম স্থানে পৌঁছেছেন। এশিয়া কাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে পাকিস্তানের শাহিবজাদা ফারহান ১৩তম স্থানে উন্নীত হয়েছেন। ভারতের সঞ্জু স্যামসন ৩১তম স্থানে অবস্থান করছেন। বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতের বরুণ চক্রবর্তী এখনও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন। তিনি সাত উইকেট নেওয়ার পরেও সেই পজিশন ধরে রেখেছেন। ভারতের কুলদীপ যাদব নয় ধাপ এগিয়ে ১২তম, পাকিস্তানের শাহিন আফ্রিদি ১২ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ১৩তম স্থানে আছেন।

    এরকম এশিয়া কাপের পারফরম্যান্স নতুন রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে; ক্রিকেটপ্রেমীরা দেখলেন একজন তরুণ ক্রিকেটারের এক সুপারউৎকর্ষের গল্প ও কিছু রেকর্ডের নতুন ইতিহাস।

  • বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দাপুটে জয়, পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো টাইগ্রেসরা

    বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দাপুটে জয়, পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো টাইগ্রেসরা

    বাংলাদেশি বোলারদের প্রবল আক্রমণে পাকিস্তানি ব্যাটাররা শতরান করতেও পারেননি। নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খানদুই তরুণ স্পিনার দেশীয় ঘূর্ণিতে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের সহজে পাঠিয়েছেন সাজঘরে। বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে দর্শকরা অভিভূত হয়েছেন। বিশেষ করে রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক, তার দুর্দান্ত ফিফটিতে ১১৩ বলে অপরাজিত ৫৪ রান করে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ পরিণত হয়েছেন। এই জয়ে বাংলাদেশ ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে।

    কলম্বোতে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। নির্ধারিত ৩৮ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২৯ রান সংগ্রহ করে তারা। দলের সর্বোচ্চ রান! ২৩। তারা যখন বড় সংগ্রহের জন্য সংগ্রাম করছিল, ঠিক তখনই বাংলাদেশের পেসার মারুফার প্রবল সুইং ও গতিতে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলে দেন। প্রথম ওভারেই ডাবল স্ট্রাইক করেন, ওমাইমাকে বোল্ড করেন। পরের বলেই ফর্মে থাকা সিধরা আমিনের স্টাম্প ভেঙে দেন। ফলে, পাকিস্তানের শুরু থেকেই দুর্দশা শুরু হয়।

    পাকিস্তানের হয়ে মুনিবা আলি ও রামিন শামিম কিছু বল লড়াই চালিয়ে যান, তবে তারা কোনোমতে দলের দেখাশোনা করেন। মুনিবা ৩৫ বলে ১৭ রান করেন, আর শামিম ২৩ রান করে ফিরে যান নাহিদার হাতে। ২ রানে ২ উইকেটের বিপর্যয় পাকিস্তানের জন্য ভয়ংকর।

    তবে সেখানে বাংলাদেশি বোলাররা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান। মারুফা প্রথম ওভারে দারুণ সুইং দেখিয়ে সিধরা আমিন ও ওমাইমাকে ফিরিয়ে দেন। এরপর নিয়মিত ছন্দে বোলিং করে পাকিস্তানকে পিছু হঠান। ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন স্বর্ণা আক্তার, তিনিই ৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইনিংসের সেরা বোলার। এছাড়া মারুফা ও নাহিদা দুটি করে উইকেট শিকার করেন, অনেকে ছিলেন শুভাকাঙ্ক্ষী।

    পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের ধৈর্য্য ও সাহস খুব একটা কাজে লাগেনি, ফাতিমা সানা ও নাটালিয়া পারভেজও ধীরে ধীরে উইকেট হারিয়ে যান। শেষদিকে ডায়ানা ২২ বলে ১৬ রান করে দলের কিছুটা মান ধরে রাখলেও, দেড়শর কাছাকাছি স্কোর গড়ার আগেই তারা অলআউট হয়ে যায়।

    বাংলাদেশের জন্য standout পারফরম্যান্সে রয়েছেন ওপেনার রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক, যিনি অপরাজিত থাকলেন ৫৪ রানে ৭৭ বলে। তার সঙ্গে লোভনীয় পারফরম্যান্স করেছেন সুবহানা মোস্তারি ২৪*, আর নিশিতার ব্যাটে এসেছে ১০ রান। দুর্দান্ত বোলিং করেন স্বর্ণা আক্তার, যিনি ৩ উইকেট নিয়েছেন। মারুফা ও নাহিদা দুইটি করে উইকেট পেয়েছেন। বাংলাদেশের এই জয় বিশ্বকাপে তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক↑ বাড়িয়ে দিয়েছে, এবং দুই দেশের মধ্যে প্রচন্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের স্মৃতি এখনও বেঁচে থাকবে ফুটফুটে প্রতিভাদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য।

  • বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতে বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত আসিফ আকবর

    বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতে বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত আসিফ আকবর

    আগামী ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের নির্ধারিত দিন। এর আগে, আজ বুধবার (০১ অক্টোবর), প্রার্থী প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। এই দিন পর্যন্ত, বিকেল ১২টায়, বেশ কিছু প্রার্থী নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তামিম ইকবালসহ মোট ১৬ জন।

    চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে মীর হেলাল উদ্দিন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলে, সেখানে কেউ অন্য কোন প্রার্থী থাকেননি। ফলে, সেখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গায়ক ও ক্রিকেট প্রেমী আসিফ আকবর পরিচালক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই নির্বাচনটি সম্পন্ন হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অধীনে। সেখানে একইভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করেছেন আহসান ইকবাল চৌধুরী।

    প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে বড় চমক ছিলেন তামিম ইকবাল, যিনি এক সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের একজন সফল অধিনায়ক। আরও বেশ কয়েকজন বিএনপিপন্থী ক্রীড়া সংগঠকের পাশাপাশি, বড় বড় প্রার্থিরা নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে সাঈদ ইব্রাহিম, ইসরাফিল খসরু, সৈয়দ বোরহানুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম বাবু যেমন উল্লেখযোগ্য।

    আসিফ আকবর যেমন কণ্ঠশিল্পী, তেমনি তার ক্রিকেটের সাথে যোগ রয়েছে পুরনো। তিনি অতীতে ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেট খেলেছেন। শিল্পী হওয়ার আগে তিনি কুমিল্লার ক্রিকেট পাড়ায় এক পরিচিত মুখ ছিলেন।

    বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সিরিজ কনসার্টে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। সফর শেষে, এ মাসের শেষদিকে তিনি দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তার বিজয়টি শিল্পীর জনপ্রিয়তা ও ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্কের প্রতিফলন।

  • সোহানের ক্যামিওতে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

    সোহানের ক্যামিওতে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অসাধারণ একটা জয়ের মাধ্যমে শুরু করলো বাংলাদেশ। উচ্ছ্বাসে ভাসছে পুরো দল, কারণ তারা আগলে রেখে ম্যাচটিকে নিজেদের করে নিয়েছিল। প্রথমে আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরা কিছুটা নির্ভরতাসহ শুরু করলেও বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে তারা বিপাকে পড়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে রক্ষা করেন নুরুল হাসান সোহান ও রিশাদ হোসেন, যারা কঠিন পরিস্থিতিতে ৮ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করেন। নাটকীয় এই ম্যাচে তারা ৬ উইকেটের ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ।

    প্রথম দিকে বাংলাদেশ দল শুরুটাই ছিল দারুণ। তানজিদ তামিম এবং পারভেজ ইমনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ওপেনে জোড়া অর্ধশতক হাঁকান। তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে বাংলাদেশ সহজ জয়ের পথে এগোতে থাকে। আফগান বোলাররা ব্যবধান কমানোর জন্য চেষ্টা করলেও দলীয় সংগ্রামে তারা কিছুটা ব্যর্থ হন। শেষ দিকে, বাংলাদেশকে জয়ের জন্য মাত্র ৫১ বলেই প্রয়োজন ছিল ৪৩ রান, হাতে ছিল সবকটি উইকেট। অনেকের ভাবনা ছিল, এই সহজ লক্ষ্য তো সহজেই শেষ হবে। কিন্তু, খেলাটা যেখানে বাংলাদেশ, বা অন্য কিছু, তখন কিসের সহজে হতো?

    আফগানিস্তানের রশিদ খান বল যেন বাংলাদেশের জন্য এক দুঃস্বপ্ন। এই স্পিনারের চার উইকেট বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের নাড়িয়ে দেয়। তাদের আউটের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক সময় ১০৯ থেকে ১১৮ রান করে উইকেট হারাতে থাকে—৬ উইকেট। এরপরেও, নুরুল হাসান সোহান ও রিশাদ হোসেন একযোগে দলের হাল ধরে পরিস্থিতি বদলে দেন।

    দ্রুত ব্যাট করে নির্ণায়ক এক জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ১৫২ রান। শারজায় তাদের শুরু ছিল স্বর্গের মতো—উপ अखাবার মতো। ওপেনাররা উচ্ছ্বসিত, তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন দুজনেই অর্ধশতক হাঁকান। তামিম ৫১ রান ও ইমন ৫৪ করে ফিরে যান। এরপর দলের ব্যাটসম্যানরা একের পর এক ফিরে যান, কিন্তু সোহান ও রিশাদের ধৈর্য্য ও মনোবল দলকে টেনে তোলে।

    সোহান ১৩ বলে ২৩ এবং রিশাদ ৯ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন, ম্যাচ শেষ করেন। এই দুর্দান্ত জয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৫২ রান, যা শুধুই কৃতিত্বের ব্যাপার।

    উল্লেখ্য, এদিন শারজায় টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ, তিনি করেন ৪০। বাংলাদেশের জন্য শুরুতেই উজ্জীবিত হন নাসুম আহমেদ, যিনি ইব্রাহিম জাদরানকে আউট করেন। অন্যদিকে, সাদিকুল্লাহ আতালও ১২ বলে ১০ রান করেন।

    আফগানিস্তান আরো কিছু ব্যাটসম্যানের ব্যর্থতায় ৪০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে শক্ত ভিত গড়তে পারেনি। এরপর অতি জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যখন ৪ উইকেট পড়ে যায়। তখন দলের প্রাণ ছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই এবং গুরবাজ, যারা দলের পরিস্থিতি কিছুটা উজ্জীবিত করেন। শেষ দিকে মোহাম্মদ नबी ঝড় তুললেও, তিনি ২৫ বলে ৩৮ রান করে আউট হন। তার চেয়ে বেশী রান করেন শরাফুদ্দিন আশরাফ, তিনি ১২ বলে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

    অবশেষে, বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় উদযাপন করা হয় এবং এখন তারা সিরিজে এগিয়ে থাকেন। আগামী ম্যাচে তারা চেষ্টা করবে আরও ভালো পারফরম্যান্স দেখানোর।

  • বিসিবির নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১০ পরিচালক

    বিসিবির নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১০ পরিচালক

    বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পরিস্থিতি এখন স্পষ্ট হয়ে এসেছে। যাচাই-বাছাই ও শুনানির পর মোট ৫০ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী আগেই নির্বাচন থেকে ওতপ্রোতভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন। বুধবার শেষ মুহূর্তে ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলে, নির্বাচনে অংশ নেবেন মোট ৩৩ প্রার্থী, যারা তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২৫টি পরিচালক পদে লড়াই করবেন ৬ অক্টোবরের নির্বাচনে।

    নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. শেখ জোবায়েদ হোসেন বলেন, “প্রার্থী তালিকা এখন চূড়ান্ত করে দেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীরা ব্যক্তিগত কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’’ তিনি আরও জানান, বিশেষ করে ঢাকা ক্লাবগুলোকে নিয়ে গঠিত ক্যাটাগরি-২-তে বেশির ভাগ প্রার্থীই এখন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই ক্যাটাগরির ৩০ প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনই নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন, যার ফলে কিছু ক্লাবের জন্য এই ক্যাটাগরিতে নির্বাচন আর হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে না। এমন পরিস্থিতিতে, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভাইকিংস ক্রিকেট একাডেমির ইফতেখার রহমানসহ ১৫ জন প্রার্থী এই ক্যাটাগরিতে অংশ নিতে পারবেন না। এই ক্যাটাগরির প্রার্থী সংখ্যা এখন মোট ১৬ জন, যারা ১২টি পরিচালক পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কেবল ১৬ জনের মধ্যে থেকে ভোটে জয়লাভ করবেন ১২ জন।

    আরো জানা গেছে, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা নিয়ে গঠিত ক্যাটাগরি-১ থেকে নির্বাচিত হবেন ১০ জন পরিচালক। এখানে যদিও ৭১ জন কাউন্সিলর ভোটার হওয়ার কথা ছিল, তবে নরসিংদী জেলা ক্রীড়া সংস্থার অনুপস্থিতির কারণে ভোটার সংখ্যা এখন ৭০ জন। এই ভোটাররা শুধুমাত্র নিজেদের বিভাগের জন্য ভোট দেওয়ার অধিকার পেয়েছেন। তবে অনেক অভিযোগ উঠেছে कि এই ক্যাটাগরির বেশির ভাগ কাউন্সিলরই এই নির্বাচনে একশ্রেণির প্রার্থী তথা যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পছন্দের প্রার্থীদের মনোনীত করেছেন, যারা বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলামকেও সমর্থন দিচ্ছেন।

    বিশেষ করে, এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় খবর হলো সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের প্রার্থিতা প্রত্যাহার। শুধু তামিমই নয়, তার প্যানেল থেকে আরও কিছু জনপ্রিয় প্রার্থীও এখন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছেন না। এতে নির্বাচনী উত্তাপ কিছুটা কমে এসেছে।

    চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, তিনটি বিভাগের মধ্যে ভোটের লড়াই চলবে। অন্য বিভাগ ও ক্যাটাগরিতে একক প্রার্থী থাকায় সেগুলিতে সরাসরি নির্বাচিত করা হবে। আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন জনপ্রিয় ক্রিকেটার ও সাবেক নির্বাচক আবদুর রাজ্জাক, জুলফিকার আলী খান, শাখাওয়াত হোসেন এবং রাহাত সামস।

    এদিকে, বিভিন্ন বিভাগে নির্বাচনী লড়াইও দেখা যাচ্ছে। ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জন্য আলাদা ভোট হবে। ঢাকার জন্য নির্বাচনে লড়বেন বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম, নাজমুল আবেদীন ও এস এম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান। অন্যদিকে, রাজশাহী ও রংপুরের প্রার্থীরা নিজেদের বিভাগীয় কাউন্সিলরদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

    সাবেক ক্রিকেটার ও বিভিন্ন সংস্থা প্রতিনিধির জন্য ক্যাটাগরি-৩-এ রক্তরঙের ভোটের পরিবেশ। মোট ৪৫ জন ভোটার এই ক্যাটাগরিতে ভোট দেবে, যার মধ্যে মনোনয়নপ্রাপ্ত হলেন দেবব্রত পাল ও খালেদ মাসুদ। প্রার্থিতাদের মধ্যে কেউ কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করে ফেলেছেন।

    সব মিলিয়ে, এই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন মোট ১০ জন পরিচালক, যাদের মধ্যে খুলনা বিভাগ থেকে আবদুর রাজ্জাক, জুলফিকার আলী খান, বরিশাল ও সিলেটের প্রার্থীরাও রয়েছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগে এখনো লড়াই চলছে। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান বোর্ডের সভাপতি, নতুন প্রার্থীরা এবং ইতিহাসের নাটকীয় পরিবেশে গড়ে উঠছে নতুন বিসিবি।

  • বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি পরিচালক হলেন আসিফ আকবর

    বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি পরিচালক হলেন আসিফ আকবর

    আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এর পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন। এর আগে, আজ বুধবার (১ অক্টোবর) ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। সকাল ১২টা পর্যন্ত চলা এই সময়সীমার মধ্যে, বেশ কয়েকজন প্রার্থী, যার মধ্যে তামিম ইকবালসহ ১৬ জন, নির্বাচনী থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেন।

    চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে মীর হেলাল উদ্দিন এই প্রক্রিয়ায় সরে দাঁড়ানোর কারণে, সেখানে কেবল একজন প্রার্থী থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হন। একইভাবে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করেন আহসান ইকবাল চৌধুরী।

    বিশেষ উল্লেখ, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে বড় ধাক্কা দেন তামিম ইকবাল। সাবেক এই অধিনায়কসহ বেশ কিছু বিএনপি-নেত্রীকামী ক্রীড়া সংগঠকদের নামও শেষ সময়ে প্রত্যাহার তালিকায় এসেছে। এতে আরও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, সৈয়দ বোরহানুল ইসলাম এবং রফিকুল ইসলাম বাবু — যারা এই নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে ছিলেন।

    অন্যদিকে, কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিত হলেও আসিফ আকবর পেশাদার ক্রিকেটের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তিনি খেলেছেন ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেটে, এমনকি কুমিল্লা অঞ্চলের ক্রিকেট পাড়ায় বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন।

    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সিরিজ কনসার্টে পারফর্ম করে যাচ্ছেন আসিফ আকবর। দেশের ফিরতে এখনও কিছুদিন বাকি। এই মাসের শেষের দিকে তিনি দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।

  • সাইফের র‍্যাঙ্কিংয়ে লম্বা লাফ, অভিষেকের বিরল বিশ্ব রেকর্ড

    সাইফের র‍্যাঙ্কিংয়ে লম্বা লাফ, অভিষেকের বিরল বিশ্ব রেকর্ড

    গত কয়েক বছর ধরে টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে আধিপত্য ছিল হার্দিক পাণ্ডিয়ার। তবে সম্প্রতি সেই আধিপত্য ভেঙে দিয়েছেন সাইম আইয়ুব। এশিয়া কাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তিনি তিন ধাপ এগিয়ে শীর্ষে উঠেছেন। বিশেষ কিছু কথা হলো, তিনি চার ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েও র‌্যাঙ্কিংয়ে এতটা উন্নতি করেছেন।

    অন্যদিকে, হার্দিক এখন র‍্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন, তবে সায়মের থেকে তিনি আট ধাপ পিছিয়ে আছেন। ভারতের দুজন অলরাউন্ডারকে পেছনে ফেলে পাকিস্তানের মোহাম্মদ নাওয়াজ চার ধাপ এগিয়ে ১৩ নম্বর স্থানে উঠে এসেছেন। শ্রীলঙ্কার চারিথ আসালাঙ্কাও তিন ধাপ উন্নতি করে যৌথভাবে ৩০তম স্থানে রয়েছেন। এশিয়া কাপে তাদের পারফরম্যান্স এই র‍্যাঙ্কিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    ব্যাটিং র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে আছেন ভারতের অভিষেক শর্মা। তিনি এক অসাধারণ রেকর্ড তৈরি করেছেন, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে ছিল স্থায়ী। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত হাফ-সেঞ্চুরির পর তার রেটিং ৯৩১ পয়েন্টে পৌঁছায়—টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল ইংল্যান্ডের ডেভিড মালানের (৯১৯ পয়েন্ট, ২০২০ সালে)। এই আকাশচুম্বি অর্জনের ফলে, তিনি নিজের সতীর্থ সূর্যকুমার যাদব এবং বিরাট কোহলিকেও পেছনে ফেলেছেন। ২৫ বছর বয়সী এই ওপেনার গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই দ্রুত উঠে আসছেন বিশিষ্ট তারকায়।

    এশিয়া কাপের পারফরম্যান্সে তিনি ৩১৪ রান করেছেন, গড় ৪৪.৮৫। এই পারফরম্যান্স তাকে টুর্নামেন্টের সেরার পুরস্কার এনে দেয়। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের ফিল সল্টের থেকে ৮২ রেটিং পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। ভারতের তিলক ভার্মা তিনে, শ্রীলঙ্কার পাথুম নিসাঙ্কা পঞ্চমে ও কুশল পেরেরা নবম স্থানে রয়েছেন।

    টিটিইউইটি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বাংলাদেশের ওপেনার সাইফ হাসান ৪৫ ধাপ এগিয়ে ৩৬তম অবস্থানে রয়েছেন। তার রেটিং পয়েন্ট এখন ৫৫৫, আর আগের সপ্তাহে তিনি ১৩৩ ধাপ এগিয়েছিলেন। বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে রিশাদ হোসেন এগিয়ে ২০ নম্বরে অবস্থান করছেন।

    এশিয়া কাপের পারফরম্যান্সে পাকিস্তানের শাহিবজাদা ফারহান ১৩তম স্থানে পৌঁছেছেন, আর ভারতের সাঞ্জু স্যামসন ৩১তম। বোলিংয়ে ভারতের বরুণ চক্রবর্তী শীর্ষে রয়েছেন, যিনি এশিয়া কাপের সাত উইকেট নিয়ে তার অবস্থান ধরে রেখেছেন। পাকিস্তানের শাহিন আফ্রিদি ১২ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ১৩ নম্বরে, কুলদীপ যাদব ৯ ধাপ উন্নতি করে ১২ নম্বরে আছেন।

  • বিসিবি নির্বাচনে সরকারের অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ

    বিসিবি নির্বাচনে সরকারের অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠছে। গতকাল রাতে ১৫টি ক্লাবের নির্বাচন বয়কটের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। আজ সেই গুঞ্জন সত্যি হয়েছে, কারণ সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ ১৫ জন প্রভাবশালী প্রার্থী নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

    আজ সকালে প্রার্থীরা বিসিবির কার্যালয়ে এসে নিজেদের আবেদন জমা দেন। দুপুর ১২টা ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। তাদের সরে দাঁড়ানোর কারণে সকাল ও দুপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।

    প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পেছনে মূলত সরকারের হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছেন সাবেক ক্রিকেটার ও প্রার্থী ইসরাফিল খসরু। তিনি বলেন, ‘সরকারের একটি গোষ্ঠী এখানে স্পষ্টভাবে হস্তক্ষেপ করছে। এই বিষয়টি আমাদের জন্য দুঃখজনক। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে এই বিষয় বিস্তারিত জানানো হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ মোটেও স্বাভাবিক নয়। বিসিবির নির্বাচনে এই ধরনের অস্বচ্ছতা অপ্রত্যাশিত। বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় কাউন্সিলরদের ফোন করে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। এছাড়াও ১৫টি ক্লাবের স্বেচ্ছাচারিতা মনোযোগযোগ্য।’

    ইসরাফিল খসরু বলেন, ‘এটি একটি স্বাভাবিক নির্বাচন প্রক্রিয়া নয়। সত্যি বলতে, আমরা নতুন বাংলাদেশে এই ধরনের নির্বাচন দেখতে পারছি না। নির্বাচন প্রক্রিয়াটি ম্যানুফেকচার করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়। নৈতিক দিক থেকে আমি এই অবস্থানে রয়েছি।’

    সরকারের সঙ্গে সমঝোতার গুঞ্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ফেয়ারনেস, যৌক্তিকতা ও সমতার ভিত্তিতে সমঝোতা হয়। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না তৈরি হয়, ততক্ষণ এই বিষয়ে কোনও আলোচনা হবে না। পুরো বিষয়টাই প্রভাবিত হয়েছে।’

    তামিম ছাড়াও সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, রফিকুল ইসলাম বাবু, সৈয়দ বোরহানুল ইসলামসহ আরও অনেক প্রভাবশালী প্রার্থী ভোট থেকে সরে দাঁড়ান। এতে ৬ অক্টোবর নির্ধারিত বিসিবি নির্বাচনের পরিস্থিতি এখন অজান্তার মধ্যে থাকে, যা ভবিষ্যত নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরছে।