গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ভারতে যায়নি বাংলাদেশ দল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চেষ্টা করেছিল ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেশের ম্যাচগুলো ভারতে না রেখে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করার। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার ও সংশ্লিষ্টসংস্থার নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি। বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের হাতে থাকা গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত বলা যায় ৩ জানুয়ারি থেকে—যখন মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দলে না রাখার সিদ্ধান্তের পর নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশ্ন উঠে। এরপর নিরাপত্তাজনিত সব ঝুঁকি বিবেচনা করে সরকারই আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের টিমকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন বলে ২২ জানুয়ারি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন।

বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সর্বশেষ বৈঠকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেলার বিষয়টি অবশ্যও আলোচনার বিষয় ছিল। বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক আসিফ আকবর বলেন, সরকারের হাতে যে গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছিল, সেটিকেই সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, রিপোর্টে খেলোয়াড়, সাংবাদিক, দর্শক বা ট্যাকটিক্যাল স্টাফদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখানো হয়েছে এবং সেখানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মাথায় রেখে ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। কোনো বড় ধরনের নাশকতামূলক ঘটনা ঘটলে তার দায় বিএসিবি আদৌ নিতে পারে না—এরকম অবস্থান সরকার স্পষ্ট করেছে।

প্রায় তিন সপ্তাহ ধরেই বিসিবি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) কোণঠাসা পরিবেশে আলোচনা-আলাপ চালিয়েছে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছে। আসিফ আকবর জানিয়েছেন, ভারতে বাংলাদেশ দল পাঠ না করা নিয়ে দেশের চারটি মন্ত্রণালয়—তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া ও আইন—মিলিয়ে মন্ত্রিসভা পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বহন করা হবে না। তিনি বলেন, ‘আইসিসি একটি সংস্থা, বিসিবিও একটি সংস্থা; কিন্তু নিরাপত্তা বিষয়ে যখন রাষ্ট্র কিছু বলে, তখন সেটি সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায়।’

আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সূচিতে যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে স্কটল্যান্ড এখন ১৪ নম্বরে অবস্থান করছে। গ্রুপ ‘সি’ তে ইতালি, নেপাল, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে স্কটল্যান্ড খেলবে।