পাকিস্তান ও সৌদি আরব পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে আলেকজ্যুতে শক্তিশালী সামরিক সম্পর্ক গড়ে উঠছে, যা পশ্চিমা জোট ন্যাটোর মতোই একটি প্রতিরোধমূলক ছাতা হিসেবে কাজ করবে। সৌদি মিডিয়া এই চুক্তিকে নিয়ে বিশেষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে।
চুক্তির অনুযায়ী, যদি কোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ হয়, তবে সেটি উভয় দেশের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে গণ্য হবে। শুক্রবার টিআরটি ওয়ার্ল্ড সংবাদমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করে। সৌদি আরবের গণমাধ্যমে এই চুক্তিকে ‘প্রতিরোধমূলক ছাতা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে, যা উভয় দেশকে সীমাহীন সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারে সুযোগ দেবে।
রিয়াদে গত বুধবার সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
তারা আরো উল্লেখ করে, ‘যে কোনো এক দেশের উপর আক্রমণ মানে উভয় দেশের ওপর আঘাত।’ একজন জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, এটি বহু বছরের আলোচনা ফসল এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের মাথায় নয়, বরং দীর্ঘদিনের গভীর সহযোগিতার ফলাফল। তিনি আরও জানান, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তি, যেশত সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান (ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ছোট ভাই) এক্স-এ লিখেছেন, “সৌদি আরব ও পাকিস্তান যেকোনো আগ্রাসীর বিরুদ্ধে একসাথে থাকবে চিরদিন।”
দেশটির বিভিন্ন সংবাদপত্রে এই চুক্তিকে ‘ইসলামি ফ্রন্টের ঐতিহাসিক শক্তিবৃদ্ধি’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। সৌদি ও পাকিস্তানি পতাকা আলোকিত করা হয় বিভিন্ন শহরের টাওয়ারগুলোতেও। একটি কলামে লেখক মুতেব আল আউয়াদ এই চুক্তিকে ‘ইসলামি শক্তির ঐতিহাসিক দুর্গ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি একত্রিত হয়ে আঞ্চলিক প্রতিরোধকে নতুন রূপ দিয়েছে।’ তিনি বলেন, সৌদি অর্থনৈতিক শক্তি ও সামরিক সক্ষমতা বৈশ্বিক জ্বালানি স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং এর ফলে দেশটি আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অগ্রভাগে অবস্থান করছে।
আউয়াদ আরও বলেন, ভিশন ২০৩০ এর কারণে সৌদি প্রতিরক্ষা শিল্প ও অস্ত্রনির্মাণে দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে, ফলে দেশটি এখন উপসাগর ও ইসলামী বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
অপরদিকে, পাকিস্তান হলো পারমাণবিক শক্তিধর এক দেশ, যার বিশাল সেনাবাহিনী, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং আরবসাগরের উপকূলে শক্ত অবস্থান রয়েছে। দেশটির জনসংখ্যা ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই চুক্তি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তার জন্য একটি ‘বন্ধনীয় ছাতা’ সৃষ্টি করেছে, যেখানে থাকবে সামরিক পরিকল্পনা, গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি, যৌথ মহড়া, নৌ ও বিমান সহযোগিতা, পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন কাজ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি পাকিস্তান ও সৌদির মধ্যে ন্যাটোর মতো একটি সম্মিলিত সামরিক নীতি গড়ে তুলেছে। আল-আরাবিয়া সংবাদমাধ্যমকে বিশ্লেষক মুনীফ আম্মাশ আল-হারবি ব্যাখ্যা করেছেন, এতে উভয় দেশের ওপর ভর করে সামরিক ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ থাকছে এবং এটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পক্ষগুলোর জন্য একটি বার্তা।
অপর দিকে, সৌদি বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সাল আল-হামাদ বলেন, “এই চুক্তি ন্যাটোর নীতিকে অনুসরণ করে, যেখানে একটি দেশের ওপর আক্রমণ মানে সবার ওপর আক্রমণ।”
সৌদি ও পাকিস্তানি সংবাদপত্রগুলো এই চুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়ে আসছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, চুক্তির পর ইসলামাবাদে সৌদি ও পাকিস্তানি পতাকা আলোড়িত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতার অন্যতম গুরুত্ব হচ্ছে, গাজা যুদ্ধের সময় এই চুক্তির প্রভাব। এর মধ্য দিয়ে গাজায় চলমান ইসরাইলি হামলা ও সংঘাতের পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এই চুক্তির ফলস্বরূপ, কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় উদ্যোগে মধ্যস্থতা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকায় প্রায় ৬৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু, এবং চাপা পড়েছেন আরও অনেকে। কিছু বিশেষজ্ঞ ধারণা করছেন, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আসল হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি, সম্ভবত দুই লাখের কাছাকাছি।
Category: আন্তর্জাতিক
-

সৌদি- পাকিস্তান চুক্তি: ন্যাটোর মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলল দুই দেশ
-

বাংলাদেশসহ ৯ দেশের উপর আরব আমিরাতের ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বাংলাদেশসহ মোট নয়টি দেশের ওপর পর্যটন ও কর্মভিসায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে আরও আটটি দেশ হলো আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লেবানন, ক্যামেরুন, সুদান এবং উগান্ডা। এটি কার্যকর হবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে, এবং ইউএই সরকার এই তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।
প্রাথমিকভাবে, ইউএই কোনোভাবেই এই নিষেধাজ্ঞার নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি, তবে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণগুলো হচ্ছে—সন্ত্রাসবাদ বা অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে দেশবাসীর সুরক্ষা, উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা, এবং কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি সংগঠিত করা।
এটি যে সাময়িকভাবে আরোপিত হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনা করা হতে পারে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু দেশের প্রবাসীরা তাদের কাজের অনুমতি নবায়ন বা নতুন চাকরি খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফ্রিকার কিছু দেশের নাগরিকরা এই নিষেধাজ্ঞার কারণে বিভিন্ন জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
অন্যদিকে, ব্যবসা ও পর্যটন খাতেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। তবে, যারা ইতোমধ্যে বৈধ ভিসায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব থেকে মুক্ত আছেন এবং স্বাভাবিকভাবেই কাজ বা বসবাস চালিয়ে যেতে পারছেন।
-

পাকিস্তানের পাশে থাকবে সৌদি আরব, যদি ভারত হামলা করে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, ভবিষ্যতে যদি ভারতের কোনো হামলা হয় পাকিস্তানের ওপর, তাহলে সৌদি আরব তাঁর পাশে থাকবে। তিনি এ কথা আজ (১৯ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও টিভিকে এক সাক্ষাৎকারে জানান।প্রশ্ন করা হয়েছিল, সম্প্রতি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যদি ভারত হামলা করে, তবে কি রিয়াদ পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকবে। তিনি নিশ্চিত করে জানান, হ্যাঁ, একদমই। এই বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। চুক্তির ৫ নম্বর ধারায় লক্ষ্য করা যায়, ‘যৌথ প্রতিরक्षा’ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে; এর অর্থ, যদি কোনো এক দেশের ওপর হামলা হয়, তবে সেটি চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী সব দেশের ওপর হামলা বলে গণ্য হবে।তিনি আরও বলেন, এই চুক্তিটি ন্যাটোর আদলে গড়া, যা সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা মূলক, আক্রমণাত্মক নয়। এতে কোনভাবেই হামলা বা আক্রমণের সুযোগ রাখা হয়নি। তবে, যদি সৌদি আরব কিংবা পাকিস্তানের ওপর হামলা হয়, তবে প্রতিটি দেশ একসঙ্গে তা প্রতিহত করবে।১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে এক বিস্তৃত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিস্তারিত বিবরণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি, তবে সৌদির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে সামরিক সব দিকই অন্তর্ভুক্ত।বিশ্বের মুসলিম দেশের মধ্যে পাকিস্তান একমাত্র দেশ যাকে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। যদিও দেশটি এশিয়ার দরিদ্র দেশের মধ্যে অন্যতম, তবে ৬ লাখ সেনাসমৃদ্ধ পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, সৌদি-পাকিস্তান চুক্তিকে তারা ‘সৌদি রিয়ালের সঙ্গে পাকিস্তানির পরমাণু অস্ত্রের বিবাহ’ বলেও অভিহিত করেছেন।
-

ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ: দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা ফি বাড়ালেন অর্ধেক লাখ ডলার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য জনপ্রিয় এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ লাখ ডলার ফি আদায় করা হবে। শুক্রবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ ফি আরোপের মূল উদ্দেশ্য হলো এইচ-১বি ভিসার অপব্যবহার কমানো এবং সুরক্ষিত করে দেশীয় কর্মসংস্থান। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফি না দিলে ভিসা প্রবেশের অনুমতি নাও পেতে পারেন।
বহু সমালোচক দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করেছেন যে এইচ-১বি ভিসা মার্কিন চাকরির বাজারে হুমকি সৃষ্টি করছে, যেখানে কম মেধাবী ও কম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মীদের চাকরি চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে, এর পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয় যে প্রোগ্রামটি বৈশ্বিক মেধাবী কর্মীদের আমেরিকায় আনতে সাহায্য করে দেশর অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে অবদান রাখে।
এছাড়াও, ট্রাম্প একটি নতুন ‘গোল্ড কার্ড’ চালু করেছেন, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী দ্রুত ভিসা পেতে পারবেন। এই স্কিমে প্রায় ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি ফি দিয়ে দ্রুত ভিসার সুবিধা লাভ করা যাবে, যা দেশের অভিবাসন নীতিতে একধরনের পরিবর্তন সাধন করছে।
সেদিন হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের পাশে ছিলেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক, যিনি বলেন, ‘প্রতি বছর এইচ-১বি ভিসার জন্য ১ লাখ ডলার ফি ধরা হয়েছে। বড় কোম্পানিগুলো এতে আগ্রহ দেখিয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আপনি যদি কাউকে প্রশিক্ষণ দিতে চান, তাহলে আমাদের দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক তরুণদের প্রশিক্ষণ দিন। বিদেশিরা এসে আমাদের কর্মসংস্থানে হস্তক্ষেপ না করে, দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করুন।’
এইচ-১বি ভিসার সংখ্যা ২০০৪ সাল থেকে বার্ষিক ৮৫ হাজারে সীমাবদ্ধ ছিল। এত দিন বিভিন্ন প্রশাসনিক ফি মিলিয়ে প্রতি ভিসার জন্য প্রায় ১,৫০০ ডলার চার্জ নেওয়া হতো। মার্কিন অভিবাসন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে এই ভিসার আবেদন প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজারে নেমে এসেছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। এবারই প্রথম এই সংখ্যাটা এত কমে দাঁড়িয়েছে। সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী ছিল অ্যামাজন, টাটা, মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যাপল এবং গুগলের মতো কোম্পানিগুলো।
ওয়াটসন ইমিগ্রেশন ল’র প্রতিষ্ঠাতা আইনজীবী তাহমিনা ওয়াটসন বিবিসিকে বলেন, ‘নতুন এই ফি অনেকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলোর জন্য কর্মী পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়বে।’
অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের এই বৈপরীত্যের কারণে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ অনেকের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সমর্থকরা এই ফি বাড়ানোকে দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন, তবে প্রতিদ্বন্দ্বীরা একে কর্মসংস্থান পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন।
২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে, এইচ-১বি ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় বাড়তি নজরদারি ও কঠোরতা আনেন, যা ২০১৮ সালে আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার ২৪ শতাংশে পৌঁছে দেয়। এটি পূর্ববর্তী ওবামার সময়ের ৫ থেকে ৮ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি, আর জো বাইডেনের সময় তা ২ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে স্থিত রয়েছে।
নতুন বিধিনিষেধের ফলে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এই দেশগুলো থেকে সর্বাধিক সংখ্যক এই ধরনের ভিসার আবেদন আসে। এ সব পদক্ষেপ দেশটির অভিবাসন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসছে, যা ভবিষ্যতে বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা এবং প্রক্রিয়া প্রভাবিত করবে।
-

পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতের মন্তব্য
পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান ও সৌদি আরব। এই চুক্তির ভিত্তিতে বলা হয়েছে, যদি কোনো এক দেশের ওপর আঘাত করা হয়, তাহলে সেটি উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে। এই বিষয়টি বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ভারত এই চুক্তির প্রসঙ্গে সতর্কতা প্রকাশ করে জানিয়েছে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে এই স্বাক্ষরিত চুক্তি দেশের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা এই কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির খবর দেখেছি। এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া থাকা সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আমাদের সে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারব।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই চুক্তি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয়, কেউ যদি একজনের ওপর আঘাত চালায়, তাহলে সেটি দুজনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের মতো গণ্য হবে। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সৌদি সফরের সময়, যেখানে তিনি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। রিয়াদে এই চুক্তি হওয়ার পর তা নিয়ে বাক্যবিনিময় শুরু হয়।
প্রায় আট দশক ধরে চলা ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব ও ইসলামী ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে এই চুক্তি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সৌদি আরব। এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শক্তিশালী করা এবং কোনও সংঘর্ষ হলে যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এই বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন। মূলত এই চুক্তি এমন সময়ে স্বাক্ষরিত হলো যখন চলতি বছরের এপ্রিলে কাশ্মিরের পেহেলগামে হামলা ও ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের কারণে দু দেশের সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে।
অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে রিয়াদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক মজবুত হচ্ছে। এই সময়ে ভারত সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। মোদির তিনবার সৌদি আরব সফর করার পাশাপাশি, ২০১৬ সালে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘কিং আবদুল আজিজ স্যাশ’ পেয়ে থাকেন। ভারত ও সৌদি আরবের এই সম্পর্ক আরও গভীর ও দৃঢ় অবস্থানে পৌঁছে পড়েছে।
-

ফ্রান্সে পেশাজীবী সংগঠনের ধর্মঘট, সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে দেশের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন। এই কর্মসূচিতে শুক্রবার অংশ নিয়েছেন শিক্ষক, ট্রেন চালক, ফার্মাসিস্ট এবং হাসপাতালের কর্মীরা। পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এই প্রতিবাদে যোগ দিয়েছে। মূল কারণ হলো আসন্ন বাজেট কাটছাঁটের পরিকল্পনা ও জনসেবা খাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
সংবাদে প্রকাশ, বর্তমান সরকারের আর্থিক পরিকল্পনা বাতিল করতে ও জনসেবার খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য শ্রমিক, শিক্ষক ও অন্যান্য পেশাজীবীরা আরও কার্যক্রমে নামছে। এর ফলে প্যারিসসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো অচলাবস্থার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, বৃহস্পতিবার শহরটির মেট্রো সিস্টেমের বেশির ভাগ লাইন বন্ধ থাকায় ভ্রমণকারীরা দুর্ভোগের স্বীকার হন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এই ধর্মঘটে অংশ নেয়। নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, কারণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
সিজিটি ইউনিয়নের বাস চালক ফ্রেড বলেন, বর্তমান সরকারের শ্রমিকবিরোধী মনোভাব ও অপরাধমূলক নীতির কারণে শ্রমিকদের ক্ষোভ বাড়ছে। অন্যদিকে, শিক্ষক গেয়েতঁ লেগে জানান, আমি জনসেবা রক্ষা করতে এখানে এসেছি এবং দাবি করি, দেশের অর্থনীতি যেন বড় ব্যবসায় বা ধনী ব্যক্তিদের কর ছাড়ের বদলে সাধারণ জনগণের উন্নয়নে ফিরে আসে।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন ও তার নতুন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লেকর্নু বাজেট কাটছাঁটের পরিকল্পনা নিয়ে সংসদে বোঝাপড়া করতে গিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছেন। ইউরোজোনের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির এই দেশটিতে ঘাটতির কারণে বিনিয়োগকারীরাও উদ্বিগ্ন। অভ্যন্তরীণ মন্ত্রীদের সূত্র জানায়, এই ধর্মঘট ও বিক্ষোভে অন্তত আট লাখ মানুষ অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের প্রধান শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে প্রকাশ করেছে, তারা পূর্ববর্তী সরকারের অবিবেচক আর্থিক নীতির নিন্দা জানাচ্ছে এবং শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষুব্ধ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
পূর্ববর্তী অর্থ বছরের বাজেট ঘাটতি, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ডের দ্বিগুণেরও বেশি ছিল, তা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে সরকার এই ঘাটতি কমাতে অপ্রতুল। নতুন প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বাজেটের বিরোধিতায় পিছিয়ে পড়েছেন; তবে তিনি আপোসের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ব্রুনো রিটেইলিয়ো জানিয়েছেন, দেশজুড়ে প্রায় ৮০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রান্তে রায়টের আশঙ্কা থাকায় তারা কঠোর মনোভাব নিয়ে প্রস্তুত। ড্রোন, সাঁজোয়া যানসহ রেসপন্স টিমদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে ২০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা ফ্রান্সের জনস্বার্থের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদ যা দেশের অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তন এবং পেশাজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে।
-

গাজায় অবরুদ্ধ অবস্থায় ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে ৪৩৫ জনের মৃত্যু
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় খাদ্য সংকটের কারণে অনাহারে ভুগে এখন পর্যন্ত ৪৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নতুন করে জানিয়েছে, তাতে আরও চারজনের মৃত্যুর তথ্য যুক্ত হয়েছে, ফলে মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৩৫ জনে। প্রায় দুই বছর ধরে ইসরায়েল গাজায় অবরোধ আরোপ করে রেখেছে এবং সেখানে অব্যাহত হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় খাবার পান করতে পারছে না, যার কারণে খাবারে অভাবে মৃত্যুর হার বেড়ে চলছে। এ পরিস্থিতিতে গাজার বিশিষ্ট শহর গাজা সিটিতে এখন কঠোর স্থল হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। এছাড়া, হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে কিছুদিন আগে কাতারের দোহার উপর বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এই হামলার পর থেকে যুদ্ধবিরতিতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, এবং গাজা সিটিতে বড় ধরনের স্থল অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অর্থাৎ, দুই সপ্তাহ আগে হামাসের শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলা চালানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও তিক্ত হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে শহরটি থেকে বহু মানুষ চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই লাখের বেশি মানুষের মধ্যে প্রায় চার লাখ মানুষ অন্যত্র গেছেন। গাজা উপত্যকায় সংঘটিত এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের আঘাতে ৬৫,০০০ এর বেশি মানুষ মারা গেছেন এবং দেড় লাখের বেশি আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়ায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ। গাজায় চলমান এই সহিংসতা ও মানবিক সংকট চরম্বে পৌঁছেছে, যা এক দিকে মানবতার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। সূত্র: মিডেল ইস্ট আই।
-

ট্রাম্প বললেন, ভারতসহ ২৩ দেশকে ‘প্রধান মাদক পাচারকারী’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তান, ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ বিশ্বের মোট ২৩টি দেশকে বড় ধরনের মাদক উৎপাদক ও পাচারকারী দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, এই দেশগুলো অবৈধ মাদক এবং এর কাঁচামাল তৈরি ও পাচারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও দেশের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। এই ঘোষণা তিনি মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেন, যেখানে তিনি তালিকা প্রকাশ করেছেন।
তালিকায় অন্তর্ভুক্ত দেশের মধ্যে রয়েছে: আফগানিস্তান, বাহামা, বেলিজ, বলিভিয়া, মিয়ানমার, চীন, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হাইতি, হন্ডুরাস, ভারত, জ্যামাইকা, লাওস, মেক্সিকো, নিকারাগুয়া, পাকিস্তান, পানামা, পেরু ও ভেনেজুয়েলা।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প এই তালিকায় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ মাদক সরবরাহ ও পাচারে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই দেশের মধ্যে আফগানিস্তান, বলিভিয়া, মিয়ানমার, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা মাদকবিরোধী কার্যক্রমে “গুরুতর ব্যর্থতা” দেখিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য, এই দেশগুলোর উপর চাপ বাড়িয়ে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া।
পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এই দেশগুলির মাধ্যমে অবৈধ মাদক ও এর কাঁচামাল উৎপাদন ও পাচার মার্কিন জনগণের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনছে। তবে, তালিকায় থাকার অর্থ এটা নয় যে, ওই দেশের সরকার বা প্রতিষ্ঠানগুলো মাদকবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা করছে না। এটি মূলত ভৌগোলিক, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে, যেখানে কখনো কখনো শক্তিশালী আইন প্রয়োগের পরেও মাদক উৎপাদন ও পাচার কমানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
ট্রাম্প আরও জানান, গত ১২ মাসে আফগানিস্তান, বলিভিয়া, মিয়ানমার, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী চুক্তির শর্ত মানতে বা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যাপক ব্যর্থতা দেখিয়েছে।
চীন প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দেশটি ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঁচামাল সরবরাহকারী’, যা অবৈধ ফেন্টানিলের উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি, নাইটাজিনস ও মেথঅ্যামফেটামিনসহ অন্যান্য কৃত্রিম মাদকও দেশ থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বেইজিংকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদকের ক্রমবর্ধমান প্রবাহ রোধে আরও কঠোর আইন এবং অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়াও, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ অবৈধ মাদক উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তালেবানরা অনেক অংশে এই ব্যবসা থেকে লাভবান হচ্ছে; এর ফলশ্রুতিতে দেশটির মাদক উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে, মেথঅ্যামফেটামিনের উৎপাদন বেড়েছে, যা উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সবশেষে, ট্রাম্পের মতে, ফেন্টানিলসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী মাদক আমদানির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখনো জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি। এই ড্রাগের কারণে বর্তমানে ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সী আমেরিকাদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলছেন, এই মাদক সংকটের কারণে দেশের স্বাস্ত্য ব্যবস্থা ও সমাজে গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
-

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারালেন
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইয়র্ক কাউন্টিতে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা জীবন হারিয়েছেন। পাশাপাশি আরও দুজনের গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলাকারেরাও ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। এ সংবাদটি কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা আল–জাজিরার প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পেনসিলভানিয়া পুলিশের মতে, নিহত ও আহত কর্মকর্তারা মূলত একজন পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত ঘটনার তদন্তে অংশ নিতে গিয়ে হামলার শিকার হন। ওই সময় বন্দুকধারী গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। আহত দুই পুলিশকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকলেও শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার স্থানীয় এক হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পেনসিলভানিয়ায় স্টেট পুলিশের কমিশনার ক্রিস্টোফার প্যারিস। তিনি বলেন, ‘শুটার মারা গেছে।’ কিন্তু কীভাবে এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে, সে ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, পেনসিলভানিয়া স্টেট পুলিশ সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে এই ঘটনার তদন্তের জন্য।’
গভর্নর জোশ শাপিরো উপস্থিৎ হন ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য। তিনি নর্থ কোডোরাস টাউনশিপে নিহত ও আহত কর্মকর্তাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বার্তায় তিনি বলেন, ‘এটি ইয়র্ক কাউন্টি ও পেনসিলভানিয়ার জন্য একেবারেই দুঃখজনক ও বিধ্বংসী দিন।’
এই হামলার আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি একই এলাকায় ঘটেছিল অন্য এক সহিংস ঘটনা, যেখানে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। ওই সময় এক বন্দুকধারী কিছুজনকে জিম্মি করেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ওই কর্মকর্তা মারা যান, এবং বন্দুকধারীও নিহত হন।
পেনসিলভানিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ডেভ সানডে এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা ‘অকল্পনীয়’। ঘটনার সময় একটি স্থানীয় স্কুলে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপদে থাকতে ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ নির্দেশ জারি করা হয়, যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তুলে নেওয়া হয়। কাউন্টির কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘন্টায় পরিস্থিতির জন্য বিভিন্ন সড়ক বন্ধ থাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি এই হামলার নিন্দা জ্ঞাপন করে বলেছেন, পুলিশে সহিংসতা ‘আমাদের সমাজের জন্য এক ভয়ঙ্কর অভিশাপ’। গভর্নর শাপিরো জানান, বন্ডি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং ফেডারেল সরকারের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন।
-

ঘর-বাড়ি থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাতের চেষ্টা করছে ইসরায়েল
গাজা উপত্যকা এখন পুরোপুরি ধ্বংসের স্তূপে পরিণত হয়েছে, চারদিকে বোমা বর্ষণের ফলে বাড়ি-ঘর, দামাল লাশ এবং রক্তে ভিজে রয়েছে পথের প্রকৃতি। এই পরিস্থিতিতে গাজা সিটির বাসিন্দারা জীবন বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে ছুটছেন, চেষ্টা করছেন কোথায় যেন নিরাপদ আশ্রয় পেতে।
বহুকালের ধর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞের পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একটি অস্থায়ী গেটওয়ে খুলে দিয়েছে গাজার মানুষরা যেন পালাতে পারেন। তবে, এ সুযোগ মাত্র ৪৮ ঘণ্টার জন্য। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা, বিবিসি, এপি, সিএনএন ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সালাহউদ্দিন সড়ক দিয়ে দক্ষিণের দিকে যাবার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষকে এই পথ দিয়ে যেতে হবে, কিন্তু কোথায় যাবে তার কোনও চূড়ান্ত নির্দেশনা বা গন্তব্য এখনো নিশ্চিত নয়। অজানা ভবিষ্যতের দিকে ছুটে চলা মানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে যাওয়া, যেন এটি মুক্তির পথ নয়, বরং এক অনিশ্চিত জীবনযুদ্ধ।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিচাই আদ্রি জানিয়েছেন, বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টা কল্যাণে সালাহউদ্দিন সড়ক ব্যবহার করে গাজা সিটির বাসিন্দারা দক্ষিণে যেতে পারবেন। তবে, এই রুটটি সরাসরি অন্য দিকে যাচ্ছে না; এটি একটি নেটজেরিম করিডর দিয়ে গাজাকে বিভক্ত করে রেখেছে, যা ২০২৪ সালে ইসরায়েল নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে। এই পথটি মূল রাস্তার তুলনায় প্রায় ১.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। আদ্রি আরও জানিয়েছেন, শহরের কেন্দ্রীয় সালাহউদ্দিন সড়কের ভেতর দিয়ে অন্য একটি বিকল্প পথও খোলা হবে।
গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকার ৩২ বছর বয়সি মা লিনা আল-মাঘরেবী বিবিসিকে বলেছেন, তাঁতের খরচ জোগানোর জন্য গহনা বিক্রি করতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কূটকৌশলটি আসলে গাজাবাসীদের মুক্তির পথ নয়, বরং অবরুদ্ধ জনগোষ্ঠীকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা। কারণ, পথে গেলেও তাদের জীবনের নিশ্চয়তা আপাতত নেই।
অবশ্য, এই ঘোষণা আসার আগেই শহরটিতে ইসরায়েলির হামলা আরও বাড়ছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় ব্যাপক স্থল অভিযান। গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমের শেখ রাদওয়ান এলাকায় বোমা ভর্তি রোবট দিয়ে আঘাত হেনেছে ইসরায়েলি সেনারা। শহরজুড়ে তীব্র হামলা অব্যাহত থাকায় অসংখ্য বাসিন্দা ঘর থেকে বের হয়ে আসছে।
গাজা সিটির আল-রানতিসি শিশুহাসপাতালেও চলেছে ইসরায়েলি বর্বরতা। হাসপাতালে হামলার নিন্দা জানিয়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা এ ধরনের ধারাবাহিক হামলার শিকার হয়েছে; তবে এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ধারণা করা হচ্ছে, কমপক্ষে ৪০ জন রোগী হাসপাতালে থেকে পালিয়ে এসেছে।
এছাড়াও, দেইর আল-বালাহতে গুলিবর্ষণ ও আর্মড হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় আরও ৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই গাজা সিটির বাসিন্দা।
গাজায় চলমান এ মার্কিন-প্রচণ্ড স্থলহামলায় দুই ডিভিশনের প্রায় ২০ হাজার সেনা অংশ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এতে শহরের সুযোগ-সুবিধা যেমন দ্রুত বন্ধ হয়ে গেছে, তেমনি টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পুরো শহরটি বিশ্ব থেকে আলাদা হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় কমিশন, যা ইসরায়েলের সঙ্গে বিশেষ বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে। মূলত, ২০২৪ সালে ইসরায়েল ও ইউরোপের মধ্যে মোট বাণিজ্যের ৩৭ শতাংশই এই সুবিধাজনক বাণিজ্য চুক্তির আওতায়।
ইউরোপীয় বৈদেশিক নীতি প্রধান কাজা কাল্লাস বলেছেন, এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। তবে, এটি কার্যকর করতে হলে ইউরোপের সব সদস্য দেশের সম্মতিপ্রাপ্ত সমর্থন দরকার, যা সহজ নয়।
এদিকে, গাজার অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মানবিক সহায়তা জোরদার করতে আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন মানবাধিকার ও সাহায্য সংস্থার নেতারা। তারা বলছেন, চলমান যুদ্ধের কারণে এখানে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৯৬৪ জন, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩২১ জন। এই ভয়াবহ সংকটে গাজা পুনরুদ্ধারে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।