গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযানে নিযুক্ত হয়ে আরও একা হতে চলছে ইসরায়েলি সরকার। ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে গাজা শহরে শুরু হয় ইসরায়েলি সেনাদের বিতর্কিত স্থল অভিযান। পরদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন, এই মুহূর্তটি ইসরায়েলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিমান হামলা এবং কামানবর্ষণের মাধ্যমে নির্বিচার হামলার পাশাপাশি, ইসরায়েলি সেনারা শহরের কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। দুই ডিভিশন শহরটির কাছে অবস্থান নেওয়া হয়েছে, আর রিজার্ভ টিমের დამატি ডিভিশন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেনারা শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান করছেন, এবং তিন দিক থেকে গাজা শহরকে ঘিরে রেখেছেন। বেসামরিক নাগরিকদের জন্য পশ্চিমে উপকূলীয় সড়কটি খোলা রাখা হয়েছে যাতে তারা দ্রুত দক্ষিণের দিকে পালাতে পারেন। তবে অনেক বাসিন্দা এখান থেকে যাচ্ছেন না। আনুমানিক দুই থেকে সাড়ে তিন লাখ মানুষ শহর ছেড়ে গেলেও, এখনও প্রায় ছয় লাখ মানুষ অপারগভাবে অবস্থান করছেন। বহু পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং স্বজন হারিয়েছে। পরিবহন এবং তাঁবুর দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হওয়ায় নিরাপদে দক্ষিণে পালানো অনেকের জন্য এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে, ক্রমাগত বোমাবর্ষণে সত্ত্বেও অনেক মানুষ গাজা শহরেই থাকছেন। এই পরিস্থিতি মনে হয় প্রথম বড় আক্রমণের পুনরাবৃত্তি, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালায় এবং হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ইতিমধ্যে দুই বছরে অন্তত ৬৪ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে, যার বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ। বাড়ি বাড়ি ধ্বংসের পাশাপাশি বহু এলাকায় মানুষ অনাহারে ভুগছেন। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলে নতুন করে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব বেড়ে উঠছে। ২২ মাস আগে গাজায় প্রথম হামলার সময় জনসমর্থন ছিল বেশ সমর্থনযোগ্য। কিন্তু বর্তমানে সাধারণ ইসরায়েলিরা বেশীরভাগই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে না পেরে, বরং যুদ্ধবিরতির পক্ষে। সামরিক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইইয়াল জামিরও মনে করেন, হামাসকে পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয় এবং দীর্ঘমেয়াদী এই লড়াইয়ে জিম্মিদের জীবনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি সুপারিশ করেন, যুদ্ধবিরতি রাখা উচিত, যাতে জিম্মিদের মুক্তি সহজ হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, গাজায় অভিযান চলাকালে কিছু জিম্মিকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নেতানিয়াহুর বাসভবনের সামনে জেরুজালেমে জিম্মিদের স্বজনরা বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ করেছেন, তাঁদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ সন্তানদের প্রাণের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরায়েলের রাজনৈতিক এবং সামরিক নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য নতুন কিছু নয়, তবে এইবার বাস্তবতা ভিন্ন। নেতানিয়াহু সব ভেবে ফেলেছেন, কারণ তার টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত দক্ষিণপন্থি মিত্রদের সমর্থন প্রয়োজন। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ প্যানেল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ, যেমন ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য, দ্রুত ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনা করার হুমকি দিয়েছে। আমেরিকা এখনো ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত হামাসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, সব বন্ধ করে জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে। তবে কূটনীতিক মহলের ধারণা, এই অভিযান শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি হামাসের ক্ষমতাহানিই দুর্বল করতে পারেনা, তাহলে ওয়াশিংটন চাপ দিয়ে যুদ্ধবিরতি আনায়ত্ত করতে চাইবে। এই নতুন আক্রমণ গাজায় ইসরায়েলের জন্য বিজয় নয়, বরং আরও রক্তক্ষয়, ফিলিস্তিনের অসহনীয় দুর্ভোগ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাকিত্ব বাড়াবে।
Category: আন্তর্জাতিক
-

পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তান ও সৌদি আরব দুটি দেশ সম্প্রতি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, যদি কোনো এক দেশের ওপর আঘাত হানা হয়, তাহলে সেটি উভয় দেশের জন্য আগ্রাসন হিসেবে গণনা করা হবে। এই বিবৃতি দুদেশের মধ্যে সুদীর্ঘকাল ধরে চলে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্বের নতুন চেহারা দেখিয়েছে। চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো একে অপরের প্রতিরক্ষা শক্তি জোরদার করা এবং কোন ধরনের হামলার বিরুদ্ধে যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। খবরটি জানিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতের সক্রিয় নজরদারি ও গভীর চিন্তাচরণ চলছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা দেখেছি যে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে এই কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি একটি দীর্ঘদিনের অপ্রকাশিত সমঝোতার আনুষ্ঠানিক রূপ। আমরা এই চুক্তির প্রভাব খতিয়ে দেখছি, সেটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা বিশ্লেষণ করছি। আমাদের দায়িত্ব, যেন দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে ও সর্বস্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।” এর আগে, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বাড়ি আল-ইয়ামামায় পাকিস্তান ও সৌদি আরবের যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই চুক্তি ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে, যেখানে ইসলামী ভ্রাতৃত্ব ও দীর্ঘদিনের সম্পর্কের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি, একে অপরের বিরুদ্ধে যেকোনো আক্রমণের মোকাবিলায় যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্য আছে। খবরটি প্রকাশের সময়ে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির উপস্থিত ছিলেন। বিশেষত, এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে যখন কাশ্মিরের পেহেলগামে হামলা এবং এর পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত-সৌদি সম্পর্ক বেশ দৃঢ় হয়ে উঠছে। মোদির তিনবারের সৌদি সফর এবং ২০১৬ সালে তাঁকে দেওয়া ‘কিং আবদুল আজিজ স্যাশ’ সম্মাননা এই সম্পর্কের গভীরতা প্রমাণ করে। বর্তমানে, সৌদি আরব ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। এই সম্পর্কের উন্নতি ও গভীরতা উভয়ের মধ্যে গভীর সমঝোতা ও সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।
-

ভারতীয় বিশ্লেষকদের মত, জনগণ ভোট যাকে দেবে, তাকেই মানতে হবে
আপ্রত্যাশিত দলবদল বা পালাবদলের কারণে অনেকক্ষেত্রে দিল্লির মনোভাব যেমন পরিবর্তিত হয়েছে, এখন ভারতের বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের জনগণ যেই প্রার্থী বা দলকে তাদের ভোট দেবে, তার সঙ্গে মানানসই হতে হবে। বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচনের পরিস্থিতি বিশ্লেষকরা ধৈর্য্যধার্য করে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন, এখনই কোনো ধরনের প্ররোচনায় অতি দ্রুত প্রতিক্রিয়া শুরুকরার পরিবর্তে অপেক্ষা করাই উত্তম। ভারতের সাবেক শীর্ষজন্য আমলা ও প্রসার ভারতী বোর্ডের প্রাক্তন সিইও জহর সরকার বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের বুঝতে হবে এবং এ ব্যাপারে মানতেই হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, আমাদের উচিত অপেক্ষা করে দেখা, কোনও তৎপরতা বা হস্তক্ষেপ এড়ানো।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ভারতের দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশ্লেষকদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মতামত। তবে বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এ অনুষ্ঠানে বিস্তারিতভাবে কখন ও কীভাবে আলোচনা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
জহর সরকার বিশ্বাস আরও বলেন, যদি বাংলাদেশে নতুন সরকার ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে থাকে, তবে তা আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সরকার একটি কেয়ারটেকার সরকার, যাদের জন্য অকারণে গুলি চালানো বা অতিরিক্ত আঘাতের প্রয়োজন নেই। নির্বাচন সম্পন্ন হলে তারা স্বাভাবিকভাবেই ক্ষমতা গ্রহণ করবে।
অপরদিকে, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, ভারতের সাবেক হাইকমিশনার, বলছেন, যদি বাংলাদেশে ভুল করে কোনো সরকার ক্ষমতায় আসে, তবে তার নিরাপত্তা ও স্বার্থের জন্য এর পরিণতি কি হতে পারে, তা ভেবে তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই আমাদের স্বার্থের জন্য প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাব, তবে সবার সঙ্গে সহযোগিতা করার স্পিরিটও বজায় রাখব। তবে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, যেখানে আমাদের সীমান্ত সংলগ্ন দেশগুলো তারা বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকলেও, তখনও আমাদের স্বার্থের প্রশ্ন আসে।
আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া অন্য একজন বিশেষজ্ঞ বলা হয়েছেন, ওপি জিন্দাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত। তিনি বলছেন, সাম্প্রতিক ঢাকা সফরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি দেখেছেন আয়ত্তের বাইরে যাচ্ছে জামায়াতের শক্তি। তিনি ধারণা করছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরাসরি অংশ নাও করতে পারে, আর ভারতেরও সেই বাস্তবতা বুঝতে হবে।
শ্রীরাধা দত্তের বিশ্লেষণে উঠে আসে, গত তিনটি নির্বাচন বিতর্ক বা বিএনপি প্রত্যাখ্যানের মধ্যে পরিচালিত হওয়ার কারণে ভারতের দৃষ্টিতে তারা নাদুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এ পরিস্থিতি স্বীকার করে নিতে হবে, ভালো বা মন্দ, সেটি ওরা নিজেরাই ঠিক করবে। এর ফলে, বিভিন্ন দল ও নেতাদের মালিকানা ও মর্যাদা দেওয়ার জন্য রাজনীতিতে নমনীয়তা দেখাতে হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক শক্তিবৃদ্ধি এবং জামায়াতে ইসলামী নতুন করে শক্তিশালী হওয়ার লক্ষণ দৃশ্যমান। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও জামায়াতের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা তাদের অপরাধের জন্য নতুন রূপে প্রকাশিত হচ্ছে। হালনাগাদ ঢাকা সফরে, জামায়াতের নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর, শ্রীরাধা দত্ত বলেছেন, তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি সরকার গড়ার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক দল পাওয়া যায়, তাহলে কি তারা শরিয়া আইন চালু করতে চান। তিনি উল্লেখ করেছেন, তারা কখনোই এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে বলেনি যে তারা সরকার এলে শরিয়া আইন আনতে চায়।
শ্রীরাধা দত্তের মতে, জামায়াতের আসলে রয়েছে এক ‘চার্ম অফেনসিভ’, যা দেখানো হয় অপ্রতিরোধ্য ও মারমুখী শক্তি হিসেবে, কিন্তু বাস্তবে তাদের কার্যকলাপ ভিন্ন। ভারতেও এটা স্পষ্ট, জামায়াতের মূল পরিচয় মুসলিম ব্রাদারহুডের অংশ, যেখানে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও হর্ষবর্ধন শ্রিংলার মত বিশ্লেষকরা মনে করেন, জামায়াত কখনোই বাস্তবে পাল্টাবে না।
-

পাকিস্তান-সৌদি আরবের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর: আক্রান্ত হলে একসঙ্গে রক্ষা করবে দু’দেশ
পাকিস্তান ও সৌদি আরব গতকাল বুধবার একটি ঐতিহাসিক কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, যদি কোনো এক দেশকে আগ্রাসনের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে সেটিকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে আখ্যায়িত করে দেখা হবে। অর্থাৎ, এক দেশের ওপর আঘাত এলে উভয় দেশের স্বার্থে মনোভাব প্রকাশ করে রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে। এই বিষয়টি জানা গেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সৌদি আরব সফরের সময়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এদিন তাঁকে আল-ইয়ামামা প্রাসাদে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান স্বাগত জানান। চুক্তি স্বাক্ষরের পর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রায় আট দশকের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এবং ইসলামি সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের স্বার্থে দুই দেশ এই কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।’
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই চুক্তি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তিতে অবদান রাখবে। এর মূল লক্ষ্য হলো, কোনও এক দেশের ওপর আঘাত মানে দুই দেশের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে বিবেচনা হবে এবং দু’দেশই একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন একটি অগ্রগতি, কারণ আগে পাকিস্তান ও সৌদি আরব বিভিন্ন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হলেও, এবার সম্পূর্ণ নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে — যেখানে এক দেশের ওপর আঘাত হলে তা উভয়ের উপরই আঘাত হিসেবে গণ্য হবে।
এই কর্যক্রম শুধুমাত্র পাকিস্তান-সৌদি সম্পর্ককেই দৃঢ় করছে না, বরং পুরো মুসলিম বিশ্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই বড় প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এটিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক অস্থিরতা, ইসরায়েলের হামলা, দোহা সম্মেলন এবং মুসলিম বিশ্বে স্বৌরভ ও সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই চুক্তির গুরুত্ব অনেক। এটি প্রমাণ করে, সৌদি আরব এখন পাকিস্তানকে অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে দেখে।
শাহবাজ শরিফ আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সৌদি যুবরাজকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি দু’পবিত্র মসজিদির স্বর্গদ্বার ও বাদশাহ সালমানের সুস্বাস্থ্য এবং সৌদি জনগণের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেন। সৌদি বাদশাহও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের জন্য সুখ, স্বস্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।
বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ এবং অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব উপস্থিত ছিলেন।
-

গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা: জাতিসংঘের তদন্তের দাবি
ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন। সংস্থাটি বলেছে, ২০২৩ সালে হামাসের সাথে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইনের মতে গুরুতর পাঁচ ধরনের গণহত্যার মধ্যে চারটি কার্যকর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা, তাদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করা, গোষ্ঠীটির ধ্বংসের জন্য পরিকল্পিত পরিস্থিতি তৈরি করা এবং জন্ম রোধের জন্য অপপ্রয়াস।
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি নেতাদের বিবৃতি এবং সেনাদের আচরণ গণহত্যার মনোভাব বোঝাতে সক্ষম। স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, গাজায় গণহত্যা এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং এর দায় পুরোপুরি ইসরাইলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপর চাপানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত দুই বছরে এই পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞের লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনিরা ধ্বংস করা।
অভিযোগের বিপরীতে ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবেদনটি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা এটিকে বিকৃত ও মিথ্যা বলার অভিযোগ এনে, কমিশনকে বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছে। তবে উল্লেখ করা প্রয়োজন, এই তদন্ত সংস্থা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং জাতিসংঘের অধীনস্থ। তারা গাজা সীমান্তে ইসরাইলের হামলার সময়কার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন প্রণয়নে কাজ করেছে।
এদিকে, এই রিপোর্টের প্রকাশের সময়ের সাথে মিলিয়ে গাজায় নতুন করে স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তারা বলেছে, দুইটি ডিভিশনের হাজারো সেনা অংশ নিয়েছে এই অভিযানে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইসরাইল গাজায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে এই অঞ্চল বিধ্বস্ত ও জ্বলন্ত অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় ভবিষ্যতেও এই সংঘর্ষের ভয়াবহতা বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে আন্তর্জাতিক মহল।
-

দিল্লির বিষাক্ত বাতাসে ঐতিহাসিক লালকেল্লা কালো হয়ে যাচ্ছে
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভয়াবহ বায়ুদূষণের কারণে ঐতিহাসিক মুঘল আমলের লালকেল্লার দেয়াল কালো হয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এক গবেষণা উঠে এসেছে যা আশঙ্কাজনক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারাত্মক বায়ুদূষণের কারণে ঢাকার এই প্রাচীন স্থাপনা তার লালের রঙ হারিয়ে কালো হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দৈনন্দিন বায়ু দূষণের ধুলিকণা এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্য এই অবস্থা তৈরি হচ্ছে। গবেষণায় জানা গেছে, লালকেল্লার লাল বেলেপাথরের দেয়ালে বাতাসের দূষক কণার সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তৈরি হওয়া কালো আস্তরণ ধীরে ধীরে জমছে, যার পুরুত্ব ০.০৫ মিলিমিটার থেকে ০.৫ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যদি সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে এই কালো স্তর ঐতিহাসিক নকশা ও সূক্ষ্ম খোদাই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত লালকেল্লা নিয়ে করা প্রথম ও পর্যাপ্ত গবেষণা। বিভিন্ন অংশের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, দূষণের কারণে দেয়ালের সুক্ষ্ম স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ফোস্কা, খোসা ওঠার মতো ক্ষতি দেখা যাচ্ছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, মূলত বাতাসে থাকা সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও দূষক পদার্থ এই কালো আস্তরণের প্রধান উৎস, যা ধীরে ধীরে পুরু হয়ে যায়। তাই দ্রুত সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষ সংস্কার বা সুরক্ষা উপাদান প্রয়োগ করে এই কালো আস্তরণ রোধ বা কমানো সম্ভব বলে পরামর্শ দিয়েছে গবেষকরা। উন্নত বিজ্ঞান ও সচেতনতায় যদি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে এই ঐতিহাসিক স্থাপনার বর্তমান রূপ বাঁচিয়ে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
-

কংগ্রেসের গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ আদানির বিরুদ্ধে
ভারতের প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ ও জনপ্রিয় শিল্পপতি গৌতম আদানি সম্পর্কে কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে, তারা দাবি করছে যে তার প্রতি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের মূল বিষয় revolves around বিহারের ভাগলপুরে এক হাজার ৫০ একর জমি, যেখানে প্রায় ১০ লাখ গাছ রয়েছে, সেটি মাত্র ১ টাকা বার্ষিক ইজারা বরাদ্দ করা হয়েছে আদানি গোষ্ঠীর কাছে, এবং সেই জমিতে একটি ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কংগ্রেসের নেতা পবন খেরার মতে, এভাবে বিনামূল্যে জমি, কয়লা এবং নদীর জল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, কিন্তু বিহারের সাধারণ মানুষকে তার জন্য ইউনিট প্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনতে হবে। পবন খেরা আরও মন্তব্য করেন, এটাই বিজেপির ডাবলি “ডাবল” লুটের প্রমাণ, কারণ এর যানবাহন, মহারাষ্ট্রের ধারাভি প্রকল্প, ছত্তিশগড়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোটের আগে আদানিদের জন্য অবকাঠামো ও প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন বিহারের নির্বাচনের আগে সেই সুযোগে ভাগলপুরেও একই ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য কৃষকদের জমি ন্যায্য মূল্য না দিয়ে জোরপূর্বক অধিগ্রহণ করা হয়েছে, এবং ভোটের আগে তাদের গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানের সময়। উল্লেখ্য, সোমবার ভাগলপুরে প্রধানমন্ত্রী মোদি মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন, যার মধ্যে আদানি গোষ্ঠীর এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র অন্যতম। একই দিনে, আদানি এন্টারপ্রাইজ উত্তরাখণ্ডের শোনপ্রয়াগ থেকে কেদারনাথ পর্যন্ত ৪ হাজার কোটি টাকার রোপওয়ে প্রকল্পের বরাদ্দও পেয়েছে। তবে, কংগ্রেসের এই অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় বা বিহার রাজ্য সরকার এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
-

নেপালি প্রধানমন্ত্রী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন ও দুর্নীতির তদন্তের প্রত্যাশা
নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি বিবিসিকে জানান, তিনি ছয় মাসের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে চান এবং এই সময়ের মধ্যে দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে চান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, দ্রুত ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। তার লক্ষ্য হলো দ্রুত ভোটের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করে নির্বাচন কমিশনকে সক্রিয় করে তোলার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তের প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রথমে একটি ১০-১১ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে দুর্নীতির বিস্তারিত তদন্তের পরিকল্পনা রয়েছে। এই তদন্তের জন্য তিনি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন করবেন, যাতে এক মাসের মধ্যে বা দেড় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ হয়। তিনি উল্লেখ করেন, যত দ্রুত সম্ভব দুর্নীতির তদন্ত সম্পন্ন করে জাতিকে শান্তি ও স্থिरতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, জেন জি-র আন্দোলনের সময় সম্পত্তি ও প্রাণহানির ঘটনাগুলোর প্রতীয়মান তদন্তের জন্য সরকার একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন করবে। তাদের পরিকল্পনা হলো, এই তদন্তকে এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা, যাতে দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়।
মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে একজন করে প্রতিনিধি নেওয়া হলেও তিনি মত প্রকাশ করেন যে, রাজনীতি থেকে স্বতন্ত্র ও অ-রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই এই দায়িত্বShould পালন করতে পারেন। তিনি জানান, নির্বাচনের জন্য অপব্যবহার এড়াতে এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তিনি অ-রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
মন্ত্রিসভার সদস্য বাছাই প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তিনি কিছু বিশ্বস্ত সহযোগীর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে কাজ করছেন এবং মাঠ পর্যায়ে চেক করে দেখছেন। পরবর্তীতে সদস্যদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে। তিনি প্রত্যাশা করেন, নির্বাচনের মতো একটি গণতান্ত্রিক অনুষ্ঠানের জন্য সকল কাজ আইন ও নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হবে, যাতে সুষ্ঠু ও নির্ভুল সরকার গঠন সম্ভব হয়।
অতিরিক্তভাবে, জেন জি আন্দোলনের সময় গঠিত সরকারের বিরোধীতার প্রসঙ্গে তিনি জানান, তারা আসলে আন্দোলনকারী বা গঠনতান্ত্রিক দাবিদার নয়। তিনি বলেন, ৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রদের নিহতের পরে তিনি দুর্নীতি ও শাসন ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চান। তিনি জানান, কিছু দাবি পূরণে সম্ভব হয়নি হয়তো, তবে পরবর্তী সরকার ও সংসদ এই দায়িত্ব গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, সবকিছু শতভাগ সফলতা দাবি না করলেও,max.us সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
-

হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গাজা ছাড়ছেন ইসরায়েলি হামলার কবলে
অবস্থার অবনতি হওয়ায় গাজা শহর থেকে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পার করছেন ইসরায়েলি সামরিক হামলার ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে। গত দুই বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভিযান, যেখানে শহরের ওপর ব্যাপক আকাশ ও স্থল থেকে হামলা চালানো হয়। শহরের মানুষ আতঙ্কে জীবন রক্ষা করার জন্য পালিয়ে যাচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন যে তারা আর কখনও ফিরে যেতে পারবেন কিনা জানেন না। জাতিসংঘের মহাসচিব এই হামলার গভীরতাকে ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন।
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ছবিতে দেখা যায়, গাজা জ্বলছে এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠে আসছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ মন্তব্য করেছেন যে, শহরটি এখন অগ্নিগর্ভ। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে শহর থেকে কালো ধোঁয়া দৃশ্যমান, এবং উপকূলীয় আল-রাশিদ সড়ক দিয়ে আসবাবপত্র বোঝাই ভ্যান, গাধার গাড়ি ও পায়ে হেঁটে বহু মানুষ দক্ষিণ দিকে ছুটে চলেছেন জীবন বাঁচানোর জন্য।
প্রাথমিকভাবে অনেক নাগরিক শহরে থেকে যাওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তবে ব্যাপক ও প্রাণঘাতী বোমা হামলার কারণে তারা স্থানান্তর করতে বাধ্য হচ্ছেন। মঙ্গলবারের খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনারা গাজা শহরে অন্তত ৯১ জনকে হত্যা করেছে। তারা জানিয়েছেন, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকারীদের বহনকারী একটি যান লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়া হয়।
এদিন শহরের অন্তত ১৭টি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়, যার মধ্যে পূর্বাঞ্চলের তুফফাহ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আইবাকি মসজিদও রয়েছে, যা এক বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে।
বোমাবর্ষণের পাশাপাশি, শহরের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব অংশে বিস্ফোরক বোঝাই রোবটের সাহায্যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইউরো-মেড মনিটর জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা অন্তত ১৫টি বিস্ফোরক রোবট ব্যবহার করছে, যার প্রত্যেকটি একসঙ্গে ২০টি আবাসিক ইউনিট ধ্বংস করতে সক্ষম।
সূত্র: আল-জাজিরা
-

গাজায় ৬ বছর বয়সী জমজ শিশুসহ নিহত আরও ৫১ ফিলিস্তিনি
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা অঞ্চলেটি এখন পুরোপুরি যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গাজা সিটি, যা এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নগরী, ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার ফলে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরটিতে চালানো তুমুল বোমাবর্ষণে কমপক্ষে ৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ছয় বছর বয়সী জমজ শিশু ও একজন সাংবাদিক রয়েছেন। এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসরায়েল গাজা সিটিতে চালানো বিশাল আকাশপথীয় হামলায় আল-ঘাফরি হাইরাইজ ভবন সহ অনেক বহুতল ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। এই তীব্র হামলার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শহর থেকে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক মানবাধিকার র্যাপোর্টার ফ্রান্সেসকা আলবানিজে অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল অপ্রচলিত অস্ত্রের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উৎখাত করার চেষ্টা করছে।
আর এক টেলিভিশন রিপোর্টে জানানো হয়েছে, গাজা সিটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে ইসরায়েলের চালানো ‘অস্বাভাবিক তীব্র’ হামলার কারণে বিভিন্ন বড় ভবন ধ্বংসের শিকার হয়েছে। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহে অন্তত ৫০টি বহুতল ভবন ধসে গেছে। শহরের অন্যান্য এলাকা, বিশেষ করে জায়তুন, আগস্টের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১,৫০০’র বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইসরায়েলের চোখে গাজা এখন ধ্বংসের ইতিহাস। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করে বলছে, ‘সন্ত্রাসের টাওয়ারগুলো সমুদ্রে ভেঙে পড়েছে,’ তবে হামাসের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ ছাড়া এই মন্তব্য করা হয়েছে।
অভ্যুত্থান, স্কুল, হাসপাতালসহ বহু আবাসিক এলাকা নানা গোলাগুলির অজুহাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শুধুমাত্র গাজা সিটিতেই নিহতের সংখ্যা ৫১, যার মধ্যে ৬ বছর বয়সী জমজ শিশু রয়েছে।
এছাড়াও, এই হামলায় তিনজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তারা হলেন—নাসর এলাকায় রিপোর্টার মোহাম্মদ আল-কুইফি, ফটোগ্রাফার ও সম্প্রচার প্রকৌশলী আইমান হানিয়ে এবং ইমান আল-জামিলি। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর সংখ্যা প্রায় ২৮০-এ পৌঁছেছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংবাদমাধ্যমের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৪ হাজার ৯০৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯২৬ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অগণিত মরদেহ চাপা পড়েছে, যা ভবিষ্যত গবেষণা ও তদন্তের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
