Category: আন্তর্জাতিক

  • এরদোয়ান: গাজা কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়, এটি গণহত্যার কেন্দ্র

    এরদোয়ান: গাজা কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়, এটি গণহত্যার কেন্দ্র

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় যুদ্ধের নয়, বরং ইসরায়েলের পরিচালিত গণহত্যা চলছে—এমনই গুরুতর অভিযোগ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এক আবেগপূর্ণ ভাষণে এই কথাগুলো বলেন।

    এরদোয়ান বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনেই গাজা ৭০০ দিনের বেশি সময় ধরে গণহত্যার মুখোমুখি। গত ২৩ মাসে ইসরায়েল প্রতি ঘণ্টায় একজন শিশুকে হত্যা করছে। এসব সংখ্যা নয়; প্রতিটি জীবনই মূল্যবান, প্রতিটি মৃত্যু একটি ঘৃণ্য হত্যা।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখন পর্যন্ত আধুনিক ইতিহাসে এমন মানবিক বিপর্যয় আর দেখা যায়নি। শিশুদের অজ্ঞান করার ওষুধ ছাড়াই অঙ্গচ্ছেদ এবং অমানবিক হাসপাতাল অভিযান চালানো হচ্ছে। এসবই সভ্যতার জন্য লজ্জাজনক। গাজা কোথাও যুদ্ধ চলছে না—এখানে দুটি পক্ষের লড়াই নয়, এটি একতরফা আগ্রাসন, গণহত্যা এবং ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের নীতি।’

    এরদোয়ান ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর প্রশংসা করেন এবং অন্য রাষ্ট্রগুলোকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নিউইয়র্কে উপস্থিত থাকতেই পারলেন না, কিন্তু তুরস্ক ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে কথা বলছে, যাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ধৈর্য্য হারানো এই পরিস্থিতি এখন মানবতার জন্য এক অনিরাপদ চ্যালেঞ্জ।’

    তিনি অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর, বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং ইসরায়েলের গণহত্যাকারী চক্রকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। এরদোয়ান অভিযোগ করেন, ইসরায়েল কেবল গাজা ও পশ্চিম তীরের দখলে নয়, সিরিয়া, ইরান, ইয়েমেন, লেবানন ও কাতারে তাদের আক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।

    তিনি বলেন, ‘বিশ্ব নেতাদের উচিত মানবতার জন্য এই সময়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো। আজকের এই পরিস্থিতি নারীর অধিকার, শিশুর অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমতা ও ন্যায়বিচার—সবার মৌলিক মানবাধিকারকে ধূলিসাৎ করছে।’

    এরদোয়ান আরও প্রশ্ন রাখেন, ‘শিশুরা যখন ক্ষুধা ও ওষুধের অভাবে মারা যায়, তখন কি সেই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব? গত শতকে মানবতা এমন নৃশংসতা দেখতে পায়নি’। তার ভাষ্য, ‘গাজায় চলমান এই গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন এখনো অব্যাহত থাকলে, এ সত্যি বিশ্বের জন্য লজ্জাজনক ও অকল্যাণকর।”

  • গাজায় স্থিতিশীলতার জন্য মানবিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ আবশ্যক: ম্যাক্রোঁ

    গাজায় স্থিতিশীলতার জন্য মানবিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ আবশ্যক: ম্যাক্রোঁ

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, গাজা সংকটের স্থায়ী সমাধানে কেবল military force এড়ানো যাবে না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনী বছর দুয়েক ধরে হামাসকে দমন করতে গাজায় যে অভিযান চালাচ্ছে, তা স্বাভাবিকভাবেই লক্ষ্য অর্জনে পর্যাপ্ত নয়। তিনি জানান, এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা অপরিহার্য।

    মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া এক ভাষণে ম্যাক্রোঁ এই মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আসছে, যার লক্ষ্য ছিল হামাসকে সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ করা। তবে, এখনো হামাসের হাজার হাজার যোদ্ধা জীবিত রয়েছে, যা পরিস্থিতির মাহাত্ম্যকে আরও জটিল করে তুলছে। এ কারণে তিনি মনে করেন, কেবলমাত্র সামরিক পদক্ষেপ দ্বারা এই সংকটের সমাধান আসন্ন নয়।

    ম্যাক্রোঁ আরো বলেন, এই পরিস্থিতির সমাধানে সর্বাত্মক এবং বহুমুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে অবিলম্বে ইসরায়েলি নাগরিকদের মুক্তি দিতে হবে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে এবং মানবিক সহায়তার প্রবাহ অবিচ্ছিন্ন রাখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র শক্তিশালী সামরিক ব্যবস্তা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আনার পথে বাধা সৃষ্টি করে।

    উল্লেখ্য, গত সোমবার ফ্রান্স ও ইসরায়েল যৌথভাবে একটি বৈশ্বিক সম্মেলন আয়োজিত করে, যেখানে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি ও মধ্যপ্রাচ্যে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আলাপ হয়। এই সম্মেলনে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, পর্তুগালসহ বেশ কিছু দেশ অংশ নেয়, তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই সম্মেলন বর্জন করে।

    তথ্যসূত্র: সিএনএন

  • আখতারকে ডিম ছোড়ে মিজান জামিনে মুক্ত

    আখতারকে ডিম ছোড়ে মিজান জামিনে মুক্ত

    নিউইয়র্কে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে, যখন তিনি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন। উল্লেখ্য, তার বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক পুলিশ কোনো চার্জ দায়ের করেনি।

    বিশদে জানানো হয়, ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে এমিরেটসের একটি ফ্লাইট নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে বের হবার সময়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতাদের সঙ্গে অবস্থানে থাকা আখতার হোসেনের ওপর হামলা চালায় কিছু আওয়ামী লীগ কর্মী।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তখনই যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে ডিম ছুড়েন। পাশাপাশি, তাসনিম জারার নামাও অশালীন ভাষায় গালাগাল করে তার কণ্ঠস্বর উচ্চ করে ওঠেন অন্য কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আখতার হোসেনসহ অন্যান্যদের নিরাপত্তা দেয়। সেই ঘটনার পর, ২২ সেপ্টেম্বর রাতের দিকে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে পুলিশ মিজানকে গ্রেপ্তার করে।

    নিউইয়র্ক আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর মিজান এখন রেহাই পেয়েছেন। এই ঘটনায় নিম্নশ্রেণীর প্রবল উত্তেজনা ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রকাশ ঘটে, যা নিউইয়র্কের কমিউনিটিতে আলোচনার বিষয় হয়েছে।

  • ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইতালিতে ডাকা ধর্মঘট ও বিক্ষোভে উত্তেজনা

    ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইতালিতে ডাকা ধর্মঘট ও বিক্ষোভে উত্তেজনা

    গাজায় ইসরাইলের আইসিপি হামলার বিরুদ্ধে ইতালির হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। দেশব্যাপী এই বিক্ষোভের কারণে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, বন্দর ও রাস্তাঘাটে যানচলাচল ব্যাহত হয়েছে, সেই সঙ্গে ট্রেন সেবাও বিপর্যস্ত। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, পর্তুগাল ও কানাডার মতো দেশগুলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু ইতালি এই উদ্যোগ থেকে এখনো নিজেদের সরিয়ে রেখেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে স্বীকৃতি দিলে এটি ফলপ্রসূ হবে না। যদি কাগজে-কলমে একটি অবাস্তব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে বিষয়টি সমাধানের না হয়েও মনে হতে পারে যে সমীপটে সাফল্য এসেছে। এটি বাস্তবে সমস্যার সমাধান করবে না।’

    সোমবার, ইতালির ট্রেড ইউনিয়নের ডাকে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে দেশজুড়ে বাইরে রাস্তায় নামেন অন্তত ৮০টি শহরের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বন্দরকর্মী ও সাধারণ নাগরিকরা। মিলান ও রোমের গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলোকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। মিলান থেকে পালেমো পর্যন্ত বহু পৌরসভায় ইতালির মুসল্লিরা রাস্তায় নেমেছেন। জেনোয়া ও লিভোর্নোতে ডক শ্রমিকরা বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করেন, তাদের অভিযোগ, ইতালি ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ করে একটি নেটওয়ার্ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তুরিন ও বোলোনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুম অবরোধ করে। রোমের টারমিনি রেলস্টেশনে প্রায় ২০,০০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। ১৭ বছর বয়সী মাইকেলেঞ্জো এজেন্স ফ্রান্স-প্রেসকে (এএফপি) বলেন, আমি এই দুঃখিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে এসেছি।

    মিলানের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনের কাছে গাজায় যুদ্ধবিরতি দাবিতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন পতাকা পুড়ালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একটি কালো পোশাকধারী দল পুলিশের দিকে পাথর, ধোঁয়া বোমা ও লোহার রড ছুঁড়লে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। বোলোনিয়ায় প্রধান রিং রোডে অবরোধ করা হয়। পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য। মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বলেন, এই ভাঙচুর কোনোভাবেই গাজা-সংক্রান্ত স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। প্রধানমন্ত্রী মেলোনি জানান, এই ধরনের সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। তার মতে, এসব ঘটনা গাজার মানুষের পরিস্থিতি পরিবর্তন করবে না, বরং এটি ইতালির নাগরিকদের জন্য ক্ষতি ডেকে আনবে।

    অপরদিকে, বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে যে, প্রধানমন্ত্রী মেলোনি সংসদে গাজা-ইসরাইল ইস্যুতে পরিষ্কার অবস্থান ব্যক্ত করেননি। ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা এলি শ্লাইন বলেন, ‘যখন যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তখন তিনি নিজের প্রিয় খাবার নিয়ে টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন।’ পরে তিনি মিলানের ব্যাপক সহিংসতাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন।

    অপরদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, ‘জর্দান নদীর পশ্চিমে কোন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না।’ প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগো বলেন, ‘এ ধরনের স্বীকৃতি অন্ধকার শক্তিকে উস্কে দেবে।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

  • সুদানের দারফুরে মসজিদে ড্রোন হামনায় নিহত ৭৮

    সুদানের দারফুরে মসজিদে ড্রোন হামনায় নিহত ৭৮

    সুদানের দারফুর অঞ্চলের একটি মসজিদে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৮ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় মেডিক্যাল সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করে বলছে, ভয়াবহ এই হামলাটি ঘটেছে দিনটি শুক্রবার ভোরে, দারফুরের এল-ফাশ শহরে। হামলার জন্য স্থানীয় সময় সকালে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে দায়ী করা হলেও, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায় স্বীকার করেনি তারা।

    গত দুই বছর ধরে সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত প্রবলেম্ভভাবে চলছে। বিশেষ করে সম্প্রতি আরএসএফ শক্তিশালী হয়ে উঠে এবং এল-ফাশের সম্পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর লড়াই চালাচ্ছে। এই শহরটি দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যেখানে এখনো তিন লাখেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক অবরুদ্ধ হয়ে জীবন বিপন্ন করছেন।

    একটি প্রত্যক্ষদর্শী বলছেন, ভোরের ফজরের নামাজের সময় ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে বহু মানুষ প্রাণ হারান। চিকিৎসা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ৭৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে। ঘটনার স্থান থেকে মৃতদেহ পরিষ্কারে কাজ চলছে।

    বিবিসির ফুটেজ যাচাই করে দেখা গেছে, সেখানে প্রায় ৩০টি মরদেহ সাদা কাপড়ে ঢেকে বা কাফনের পোশাকে মোড়ানো অবস্থায় মসজিদের পাশেই পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

    এই সপ্তাহে নয়, একাধিকবার এল-ফাশে র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস আক্রমণ চালাচ্ছে। এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, শহরটির কাছে অবস্থিত, বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য উত্থাপিত আশ্রয়কেন্দ্র ‘আবু শৌক’ শিবিরেও ভয়াবহ হামলা হয়েছে।

    ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাবের (এইচআরএল) স্যাটেলাইট ছবি দেখাচ্ছে, আশ্রয়কেন্দ্রের বড় অংশ এখন আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে, ফুটেজে দেখা গেছে, আরএসএফ সেনারা জয়েন্ট ফোর্সের সদর দপ্তরে প্রবেশ করেছে, যা আগে জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ কম্পাউন্ড ছিল।

    বিস্তারিত যাচাইয়ে জানা গেছে, সেনাদের উপস্থিতি সেখানে দৃশ্যত দৃশ্যমান, তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কি না সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। এই অগ্রগতি হলে এল-ফাশের বিমানবন্দর ও সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সদর দপ্তর সরাসরি আরএসএফের হামলার লক্ষ্য হবে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আরএসএফ শহরে থাকা সাধারণ লোকজনকে টার্গেট করে থাকতে পারে, কারণ অধিকাংশ বাসিন্দাই এক জাতিগোষ্ঠীর। আরএসএফ তাদের শত্রু হিসেবে দেখে।

    ফ্রেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, এই সংঘাত ক্রমশ জাতিগত রূপ নিচ্ছে। দুই পক্ষই একে অপরের সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি জানিয়েছেন, আরএসএফ দখলকৃত এলাকায় জাতিগত নিধন চালাচ্ছে বলে অনেক অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু, তাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়, এবং তারা বলে ফেলে যে, তারা কোনো গোত্রীয় সংঘাতের সঙ্গে জড়িত নয়।

  • সাইবার হামলায় ইউরোপজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল

    সাইবার হামলায় ইউরোপজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল

    ইউরোপের বড় বিমানবন্দরগুলোতে চেক-ইন এবং বোর্ডিং পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কলিন্স অ্যারোস্পেসের ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা হয়েছে। এর ফলে লন্ডনের হিথরো, বেলজিয়ামের ব্রাসেলস এবং জার্মানির বার্লিন বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। কলিন্স অ্যারোস্পেস একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত কিছু ত্রুটির কারণে তারা আপাতত পরিষেবা দিতে পারছে না এবং এই ত্রুটির সমাধানে সময় লাগবে।

    বিশ্বের বেশ কিছু বিমান পরিবহন সংস্থা এবং বিমানবন্দরে এই প্রতিষ্ঠানটির পরিষেবা ব্যবহৃত হয়। ইউরোপভিত্তিক বেশিরভাগ বিমানসংস্থাই কলিন্স অ্যারোস্পেসের মাধ্যমে চেক-ইন এবং বোর্ডিং এর কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই সাইবার হামলার ফলে এগুলো এখন বন্ধ হয়ে গেছে, যার কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।

    লন্ডন, ব্রাসেলস এবং বার্লিনের বিমানবন্দর ইতিমধ্যেই যাত্রীদের ফোনে বার্তা পাঠিয়ে ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। তবে ইউরোপের অন্যান্য বড় কিছু বিমানবন্দরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে; যেমন ফ্রাঙ্কফুর্ট, হামবুর্গ ও জুরিখের বিমানবন্দরে বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

    ব্রাসেলস বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক না হবে, ততক্ষণ তারা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে যাত্রীদের সেবা প্রদান চালিয়ে যাবে। এ পরিস্থিতি কিছুটা সময়সাপেক্ষ, যদি শিগগিরই কলিন্স অ্যারোস্পেসের সাইবার হামলার সংঘটন সমাধান না হয়, তবে ফ্লাইটের ডিপার্চার সময় প্রায় ৫৪ মিনিট পিছিয়ে যাবে, বলছেন ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলের একজন কর্মকর্তার বরাতে।

  • পর্তুগাল এবার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে

    পর্তুগাল এবার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে

    অবশেষে গত সপ্তাহে পর্তুগালের সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চলতি সপ্তাহে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে দেশটি। এই ঘোষণা একদিকে যেমন ফিলিস্তিনের জন্য নতুন এক পشة অঙ্গীকার, অন্যদিকে ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর মতো পর্তুগালও এ ব্যাপারে সংহতি প্রকাশ করছে। আগামী রবিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি ঘোষণা করবে।

    পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো র‌্যাঙ্গেল সম্প্রতি লিসবনে এক বক্তব্যে বলেছেন, ফিলিস্তিনের জাতিসংঘে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার ব্যাপারটি এখন তাদের বিবেচনায় রয়েছে। তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তের পিছনে মূলত আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনকে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    পর্তুগাল আন্তর্জাতিক মহলে অন্যতম উন্নত দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য। এই জোটের বেশ কিছু দেশ—যেমন সুইডেন, সাইপ্রাস, স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ে—আগে থেকেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশেষ করে গাজায় হামাস-ইসরায়েল সংঘর্ষের শুরু থেকেই স্পেন এবং তার পরে এই স্বীকৃতির পথে এগিয়েছে অন্যান্য দেশ। স্পেনের পর বাংলাদেশও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এবার সেই পথে হাঁটছে পর্তুগাল, যা ইইউর চতুর্থ দেশ হিসেবে এই স্বীকৃতি দিচ্ছে।

    তবে, লিসবন সতর্কভাবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের বিষয়ে ইইউ যে অবস্থান নেবে, লিসবন সেটাকেই সমর্থন করবে এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কোনো অতিরিক্ত পদক্ষেপ নয়। সূত্র: রয়টার্স।

  • সাগরে সৃষ্টি হওয়া সামুদ্রিক ঝড় সুপার টাইফুনে রূপ নিতে পারে

    সাগরে সৃষ্টি হওয়া সামুদ্রিক ঝড় সুপার টাইফুনে রূপ নিতে পারে

    ফিলিপাইনসাগরে সৃষ্টি হওয়া সামুদ্রিক ঝড়টি বর্তমানে টাইফুনে রূপ নিয়েছে। ‘নান্দো’ নামের এই ঝড়টি আগামী সোমবার সুপার টাইফুনে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিপাইনের জাতীয় আবহাওয়া ব্যুরো। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে, ফিলিপাইনের অভ্যন্তরীণ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগগুলি জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল, নিচু এলাকাগুলো এবং ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা লোকদের জন্য। একে মোকাবেলা করতে, প্রেসিডেন্ট মারকোসের নির্দেশে সকল জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যেন জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা যায়।

    টাইফুনের আঘাতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু জরুরি নিয়মও জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রে সব ধরনের নৌচলাচল বন্ধ রাখা, মদ্যপান নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং ছোট নৌকা বা মাছ ধরার ট্রলার সমুদ্রযাত্রা আপাতত নিষেধ। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে।

    এছাড়াও, মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসনকে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী, বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বলেছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে যারা ঘরবাড়ি থেকে বের হতে পারেননি বা নৌকা চালাতে সক্ষম নয়, তারা নিরাপদে থাকতে পারেন।

    সরকারি কর্তৃপক্ষ আবহাওয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, স্বাস্থ্যবিভাগ ও উদ্ধারকারি দলগুলো প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি, জলপথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, বাঁধের অবস্থা দেখা, পাথর ও খনি এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে যাতে করে কোনো বিপদ এড়ানো যায়।

    ডিআইএলজি (অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকার বিভাগ) সতর্ক করে বলেছে, ‘ঝুঁকি কমাতে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করতে সবাইকে দ্রুত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।’ জনগণকে সতর্ক থাকার, কর্তৃপক্ষের সাথে সহযোগিতা করার এবং স্থানীয় নির্দেশনাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    প্রসহবাসী আবহাওয়া দপ্তর জানান, ‘নান্দো’ সোমবারের মধ্যে সুপার টাইফুনে পরিণত হতে পারে এবং বাতানেস-বাবুয়ান দ্বীপপুঞ্জের কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে। এর ফলে, বাতানেস, কাগায়ান, ইলোকোস নর্তে, ইলোকোস সুর এবং কাগায়ানের উপকূলবর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যাতে করে জনসাধারণ সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে পারে।

  • ভারতে বাংলাদেশি ইলিশের বাজারে অগ্নিগйর, ক্রেতারা কিনতে পারছেন না

    ভারতে বাংলাদেশি ইলিশের বাজারে অগ্নিগйর, ক্রেতারা কিনতে পারছেন না

    বাংলাদেশ থেকে আসা ইলিশের খবর শুনে অনেকেই সত্যিই আনন্দিত হয়েছিলেন ভারতের কলকাতা শহরে বসবাসরত মানুষজন। তবে, বাংলাদেশি মাছের বেশি দাম ও উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতাদের মাঝে আগ্রহ কমে গেছে। তাই অনেক ক্রেতা এখন আর ইলিশ কিনতে পারছেন না এবং এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে যে, ভবিষ্যতেও কি বাংলাদেশ থেকে ইলিশের আমদানি আবার চালু হবে। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    বৃহস্পতিবার কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশের ইলিশের জন্য ক্রেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। তবে শুক্রবার সন্ধ্যায় লেক মার্কেট, গারিয়াহাট ও মানিকতলা এলাকায় খুচরা মাছের দোকানদাররা হাওয়ার পাইকারি বাজার থেকে ৫ থেকে ২৫ কেজি করে ইলিশ সংগ্রহ করেন। এ সময় শোনা গেছে যে, গুজরাট থেকে বড় এক চালান বাংলাদেশি ইলিশের আসছে, যা বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বাজারে থাকা ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা বলছেন, গুজরাটের ইলিশ বাজারে অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে এবং এটি সাধারণ মানুষের জন্য বেশ সুবিধাজনক। বর্তমানে কলকাতায় বাংলাদেশের এক কেজির বেশি ওজনে একটি ইলিশের দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ রূপি বিক্রি হচ্ছে, যা বাংলাদেশি টাকায় যথাক্রমে ২৮০০ থেকে ৩৫০০ টাকা।

    অন্যদিকে, গুজরাটের সেই একই সাইজের ইলিশ খুচরা বাজারে ৮০০ থেকে ১১শ রূপিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, মিয়ানমার থেকে আমদানি করা হিমায়িত ইলিশও বাজারে আসছে, যার মূল্য প্রায় ১৫০০ রূপি।

    কলকাতার মাছ আমদানি পরিষদের সেক্রেটারি আনোয়ার মাসুদ জানান, ‘বাংলাদেশি ইলিশের দাম কমার কোনো আশা দেখghịে। বর্তমানে যে দামে বিক্রি হচ্ছে, বেশিরভাগ মানুষই কিনতে চাইবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী সোমবার মার্কেট পর্যবেক্ষণের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, আর বাংলাদেশি ইলিশ আমদানি করা হবে কি না।’

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে ভারতে পেট্রাপোল বন্দরে গত মঙ্গলবার ৫০ টন বাংলাদেশি ইলিশ গেছে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ টন ইলিশ প্রবেশ করেছে।

    অমর দাস নামে এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, ‘ডায়মন্ড হারবার থেকে যদি ভালো মানের বড় মাছ পাই, তাহলে আমি ১০০ কেজি স্টক করতে পারি। কিন্তু এখন আমি শুধু ২০ কেজি বাংলাদেশি ইলিশ নিয়েছি কারণ ক্রেতাদের আগ্রহ খুব কম। তখন এই মাছগুলো মজুদ করাটাও লাভজনক নয়।’

    মানিকতলার রাজু দাস জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশি মাছের গঠন ভালো হলেও ছোট আকারের কারণেই দাম অনেক বেশি। যদি বড় মাছের দামে এই রকম দাম হতো, তবে বাজারে বাংলাদেশি মাছের চাহিদা কমে যেত। ডায়মন্ড হারবারের মাছ থাকলে বাংলাদেশি মাছের জন্য কোনো ক্রেতাই থাকত না।’

    তবুও, কলকাতার অনেক মানুষ এখনও বাংলাদেশের ইলিশের প্রতি আলাদা টান অনুভব করেন। তাদের মধ্যে একজন আখ্যান মুখার্জি জানালেন, ‘আমি মাছ বিক্রেতাকে আগে থেকে বলেছি যেন আমাকে বাংলাদেশের ইলিশ দেন। শুক্রবার একটির দাম উঠে ২ হাজার ৫০ রূপি।’

  • মুসলিম বিশ্বের আকাশপথ অবরোধে ইসরাইলকে ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা গবেষণা

    মুসলিম বিশ্বের আকাশপথ অবরোধে ইসরাইলকে ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা গবেষণা

    আরব এবং মুসলিম দেশের আকাশপথে অবরোধ যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ইসরাইলের অর্থনীতির জন্য ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা আল হাবতুর রিসার্চ সেন্টারের এক প্রতিবেদনে। জানা গেছে, কাতার দোহার মধ্যে এই গবেষণা চালানো হয়, যা ইসরাইলি হামলার পরপরই প্রকাশিত হয়।

    সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং আরব লীগে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো সহজাতভাবে ইসরাইলের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়, তবে তেল আবিবের অর্থনৈতিক অবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। মিডলইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ করেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার দোহার মধ্যে ইসরাইলের সামরিক হামলার পর গত সপ্তাহে ওআইসি’র ৫৭টি দেশ এবং আরব লীগের যৌথ জরুরি বৈঠক হয়। সেই সময় মুসলিম বিশ্বনের নেতা ও কর্মকর্তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধের পথ খুঁজে বের করেন। এই হামলায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত হন, যার মধ্যে কাতারের একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাও ছিলেন।

    আল হাবতুরের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি মুসলিম দেশগুলো একজোট হয়ে ইসরাইলের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়, তবে ইসরাইলের জিডিপি ৫.৭ শতাংশ থেকে কমে ৪.৮ শতাংশে নেমে আসবে। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক মন্দার পথ প্রশস্ত হবে। עוד বলা হয়েছে, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো ওআইসি-ভুক্ত দেশগুলো যদি ইসরাইলের সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়, তবে এশিয়া ও আফ্রিকার উচ্চ প্রবৃদ্ধির বাজারে বড় ধরণের বাধা সেটি হয়ে দাঁড়াবে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয়, আকাশসীমা বন্ধ হলে ইসরাইলি বিমান পরিবহনগুলোর জন্য অতিরিক্ত চার থেকে ছয় ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগবে, যার ফলে প্রতি ফ্লাইটে অন্তত ৩০ হাজার থেকে ৭০ হাজার ডলার অতিরিক্ত খরচ হবে। এর ফলে ইসরাইলের বিমান সংস্থা এল আলের রাজস্ব বড় ধরনের ভাটা পড়বে, সম্ভবত ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশ রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

    এছাড়া, এই পদক্ষেপগুলো ইসরাইলের পর্যটন শিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মূল্যবান রতœ শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ফলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে চুক্তি বাতিল ও গবেষণা-উন্নয়ন উদ্যোগেও বিরূপ প্রভাব পড়বে। ইরান, সিরিয়া ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে নতুন প্রতিরোধমূলক সিদ্ধান্তের জন্ম দিতে পারে এই প্রভাব। এটি পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে বদলে দিতে সক্ষম।

    আরেকটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, কাতারসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও, ইসরাইলের হামলা রুখতে ওয়াশিংটনের ব্যর্থতা এই সম্পর্কের গভীরতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এতে দেখা যায়, কাতারে অতিরিক্ত ৮ হাজারের বেশি মার্কিন সৈন্য থাকা সত্ত্বেও, সেখানে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কার্যকর কিছু করতে পারেনি আমেরিকা। ফলে কৌশলগত অংশীদারিত্বের স্থিতি এখন সংকটের মুখে।

    আল হাবতুরের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মুসলিম এবং আরব দেশগুলো যদি collectively ইসরাইলের আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্য এবং পুরো অঞ্চলকে নতুন প্রতিরক্ষা কৌশলের দিকে ধাবিত করবে। এর ফলে কূটনৈতিক সংটকের মাত্রা বাড়বে এবং আল-আকসা সমস্যা নিয়ে বিশ্বজনমতও প্রভাবিত হবে।

    অন্যদিকে, ইতোমধ্যে ইসরাইলের একাকিত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শেষ বক্তব্যে। তিনি বলেন, বিশ্ব মঞ্চে অন্তত এখন খুব একটা সঙ্গ নেই ইসরাইলের, এবং দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন সুবিধামতো নয়। ফলে, এই পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের নিঃসঙ্গতা মানিয়ে নিতে হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। এই সমস্ত প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ কী হবে সেটিই এখন বিশ্বের সঙ্গে সবার চোখের নজড়ে রয়েছে।