বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের নতুন প্রশাসকের নাম চূড়ান্ত করেছে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়োগের মাধ্যমে এই ব্যাংকগুলোর উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু হবে। প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংকগুলোতে দায়িত্ব পাওয়া নির্বাহী ও পরিচালকদের মধ্যে তিনজন থাকবেন নির্বাহী পরিচালক এবং অন্যরা থাকবেন ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডে। বিশেষ করে, ইউনিয়ন ব্যাংকের জন্য মো: শওকত উল আলম ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের জন্য মো: আবুল হাসেমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের জন্য দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে মো: সালাহ উদ্দীন ও মুহাম্মদ বদিউল আলম দিদারকে। আরও দুজন অর্থাৎ, মুহাম্মদ বদিউল আলম দিদার ও মো: সালাহ উদ্দীন এই দায়িত্ব পাবেন। এ ছাড়া, মো: শওকত উল আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একীভূত করা ব্যাংকগুলোতে সড়ক ও পরিচালন ব্যবস্থা তদারকি করার জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসক নিয়োগে যেকোনো আইনি বাধা এড়াতে আগামী মাসের শুরুর দিকে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। উল্লেখ্য, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে শরিয়াহভিত্তিক এই ব্যাংগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাদের ঋণের বেশিরভাগই খেলাপি হয়ে থাকায় গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছে ব্যাংকগুলো। এই পরিস্থিতিতে, গ্রাহকের সুবিধার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই পুনঃসংগঠনের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ব্যাংকগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে, যার জন্য প্রায় ৩৫ হাজার ২০০ কোটি টাকার ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে, ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে প্রদান করা হবে।
Category: অর্থনীতি
-

এক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড উচ্চতা
২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত মঙ্গলবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভরিতে ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এটি এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণের মূল্য। নতুন এই দাম বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর স্বর্ণের মূল্য বেড়েছে। এছাড়া, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন দামে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য সেটি হচ্ছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৪ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ টাকা।
বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরির ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মান ভেদে মজুরির পরিমাণে পার্থক্য হতে পারে।
এর আগে, গত ২২ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের সমন্বয় করে বাজুস। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকায়। এটি ছিল দেশের বাজারে এতদিনের সর্বোচ্চ মূল্য।
অন্য ক্যাটেগরিতে, ২১ ক্যারেটের ভরি দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা ধরা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি কার্যকর হয় ২৩ সেপ্টেম্বর।
এ পর্যন্ত চলতি বছরে স্বর্ণের দাম ৫৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৪০ বার ও কমানো হয়েছে ১৭ বার। ২০২৪ সালে মোট দাম সমন্বয় হয়েছিল ৬২ বার, যেখানে ৩৫ বার দাম বেড়েছে এবং ২৭ বার কমেছে।
এছাড়া, স্বর্ণের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রূপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। রুপার ভরি (২২ ক্যারেট) ১৫২ টাকা বাড়িয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকায়, যা এখন দেশের সর্বোচ্চ। অন্যান্য ক্যাটেগরিতে, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ হাজার ২২৮ টাকা দিয়ে। -

স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা
বিশ্ব বাজারে সোনার মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের স্বর্ণবাজারে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশে এখন ভরিপ্রতি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকায়, যা দেশের সব রেকর্ড কাটিয়ে গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার রাতের মধ্যে এই দাম ঘোষণা করা হয়, এবং এটি আগামী মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম গ্যাসে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দামে, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য পড়বে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা। পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা।
বাজুস আরও জানায়, এই মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে, তবে ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির পার্থক্য হতে পারে।
বিশ্ববাজারে সোনার দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এক আউন্স সোনার দাম এখন পর্যন্ত কখনো ৩ হাজার ৭০০ ডলার ছাড়ায়নি। একদিনে ৩৪ ডলার বৃদ্ধির ফলে বিশ্ববাজারে এক মাসে সোনার দাম ১০.৩৫ ডলার বেড়েছে, যা মোট প্রায় ৪০০ ডলার বৃদ্ধি দেখাচ্ছে।
অতিরিক্ত, গত সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে বিশ্ববাজারে এক আউন্স সোনার দাম ছিল ৩ হাজার ৬৯০ ডলার। এরপর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৮ সেপ্টেম্বর তা কিছুটা কমলেও, পুনরায় বাড়তে থাকে। ২০ সেপ্টেম্বর, দেশের বাজারের জন্য সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এক হাজার ১৫৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা। একই দিন, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৯৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৯৯ টাকায় পৌঁছায়।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের স্বর্ণমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো আমেরিকার শুল্ক, চীন, রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে বৈঠক এবং ডলার মূল্যবৃদ্ধি। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের ইস্যুতে সামগ্রিক ঝামেলা থাকায়, নিরাপত্তাহীনতার কারণে বেশ কিছু দেশ ডলার কিনে রিজার্ভ করছে। তাছাড়া, সরবরাহের অভাব ও খনি থেকে স্বর্ণ উত্তোলনে প্রতিবন্ধকতা থাকায় দাম আরও বাড়ছে। এসব কারণে বর্তমান দ্রুত ও অস্বাভাবিকভাবে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাচ্ছে, যা দেশের জুয়েলারি ব্যবসায় মন্দা সৃষ্টি করছে এবং বাজারের আকার ছোট করে দিচ্ছে।
-

গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বন্ড ও সঞ্চয়পত্রের আলাদা বাজার নির্মাণের পরামর্শ
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আরও উন্নত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, সঞ্চয়পত্র এবং বেসরকারি বন্ডের জন্য পৃথক দ্বিতীয় বাজার বা সেকেন্ডারি মার্কেট তৈরি করতে হবে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই ধরনের বাজার দ্রুত প্রতিষ্ঠা সম্ভব, যা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।
আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর), রাজধানীর উত্তরায় আয়োজিত এক সেমিনারে গভর্নর এসব কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সঞ্চয়পত্র কিছুটা হলেও বাজারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, কিন্তু এটিকে সম্পূর্ণভাবে ট্রেডযোগ্য করে তোলার প্রয়োজন। এর ফলে গ্রাহকরা উপকৃত হবেন এবং একটি শক্তিশালী সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে উঠবে, যা বাজারে তারল্য বাড়াবে। একইভাবে, বেসরকারি বন্ডগুলোও লেনদেনযোগ্য করার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, যদি একটি সঠিক কাঠামো তৈরি হয়, তবে রাতারাতি বন্ড মার্কেট দ্বিগুণ হতে পারে, যা দেশের আর্থিক খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
আহসান এইচ মনসুর দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের উৎস হিসেবে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তহবিলের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সরকারি পেনশন ব্যবস্থা, করপোরেট পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং বেনেভোলেন্ট ফান্ড—এসবকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এই উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর পেনশন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যা তহবিল ব্যবস্থাপনার মান উন্নত করবে।
সেমিনারে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো তুলনা করে তিনি দেখিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি মূলত বন্ড নির্ভর। তার মতে, প্রায় ১৩০ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যমানের বন্ড ইস্যু হয়েছে, যা বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ১৩০ শতাংশ। যেখানে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি ব্যাংকিং, সেখানে অন্য আন্তর্জাতিক বাজারগুলো বেশি নির্ভরশীল বন্ডে। তিনি জানান, বাংলাদেশের স্টক মার্কেটের পরিমাণ প্রায় ৯০ ট্রিলিয়ন ডলার এবং মানি মার্কেট বা নগদ অর্থের বাজারের আকার ৬০ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার বিপরীত চিত্র দেখায়। এর পাশাপাশি, দেশের বিমা খাতের জিডিপিতে অবদান অতি নগণ্য, মাত্র ০.৪ শতাংশ।
গভর্নর আরও বলেন, বাংলাদেশেও যেমন বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো, চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে একটি সুসংগঠিত বন্ড মার্কেট গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে সরকারি বন্ড বাজারের আধিপত্য থাকলেও, করপোরেট বন্ডের বাজার খুবই ক্ষীণ। এর পেছনে তিনি ব্যাংক ঋণে বেশি reliant হওয়া এবং ঋণ পরিশোধে অসুবিধা বা রাজনৈতিক প্রভাবের মতো কারণগুলোকে দায়ী করেন।
সুকুক বা ইসলামি বন্ডের বাজারকেও তিনি ছোট উল্লেখ করে বলেন, এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি সুকুক ইস্যু হয়েছে, যার মোট মূল্য ২৪ হাজার কোটি টাকা। তিনি দ্রুত এই বাজার বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তার প্রস্তাব, ইয়ামুনা বা পদ্মা সেতুর মতো আয়-উৎপাদনকারী প্রকল্পের টোল বা রেভিনিউকে ‘সিকিউরিটাইজ’ করে নতুন বিনিয়োগের জন্য অর্থ সংগ্রহের বিকল্প খোলা। এর জন্য একটি বিশেষ কার্যকরী বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ে গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।
শেষে, আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। শিগগিরই এই প্রতিবেদনে সুপারিশসহ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে প্রচলিত ও সুকুক ধরনের বন্ডের উন্নয়নের দিকনির্দেশনা থাকবে।
-

অর্থ উপদেষ্টা: পুঁজিবাজার থেকে সবসময় লাভের আশা ভুল
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন যে পুঁজিবাজার থেকে প্রতিনিয়ত মুনাফা আসবে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি সতর্ক করে বলছেন, কেউ যদি এই বিশ্বাসে বিনিয়োগ করে থাকেন, তবে এটি তার জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। বাজারে মূলধনের দিক থেকে লাভের পাশাপাশি ক্ষতির ঝুঁকিও রয়েছে। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত সচেতন থাকা এবং বুঝতে হবে যে শেয়ার বা বন্ড কেনা মানে কখনো কখনো ক্ষতিও হতে পারে।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও সুকুক বাজার উন্মোচন: রাজস্ব ক্ষেত্র, অবকাঠামো সরবরাহ এবং ইসলামী মানি মার্কেট উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা আরো জানান, বাংলাদেশে মূলধনের বাজার এখনো সম্পূর্ণভাবে বিকশিত নয়। সরকারি বন্ডের সেক্টর থাকলেও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ খুবই কম, আর শেয়ারবাজারের অবস্থা তো আরও নগণ্য। ফলে বড় বড় প্রকল্পের অর্থায়নে তথাকথিত ঝুঁকি ভাগাভাগি না করে একমাত্র ব্যাংকের উপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। এর ফলে ঋণখেলাপি ও তহবিলের অপব্যবহারের ঘটনা বাড়ছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। আসলে ঝুঁকি কমানোর জন্য মানুষকে বন্ড, ডিবেঞ্চার ও শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। ব্যাংক থেকে শুধুমাত্র ঋণ নেওয়া ও ভুয়া খাতে ব্যয় করা সমাধান নয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে সুকুক বাজারে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বন্ড রয়েছে, তবে এগুলোর প্রায়ই শিক্ষা ও স্যানিটেশন খাতে ব্যবহৃত হওয়ায় আয়ের হার কম। যদি এই বন্ডগুলো উৎপাদনমুখী প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়, তবে লাভজনক হওয়া সম্ভব এবং ব্যাংকের ওপর চাপও কমবে। সুতরাং, সুকুক অবশ্যই প্রকৃত সম্পদভিত্তিক হতে হবে যেন বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
অর্থ উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এখনও সিকিউরাইজেশন কার্যক্রম পুরোপুরি কার্যকরী হয়নি। কিন্তু মেট্রোরেলের মতো বড় প্রকল্পের জন্য এ পদ্ধতি প্রয়োগ করলে বিশ্বব্যাংকের ঋণে নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসত। এছাড়া, পেনশন ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এগুলো সরকারের দায়বদ্ধতা।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু মূলধন ও সুকুকের বাজারই নয়, বীমা বাজারের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে কর কাঠামো ও প্রণোদনা সংস্কার করতে হবে যাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পান।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ প্রমুখ।
-

রিজার্ভ চুরির অর্থফিলিপাইনে বাজেয়াপ্ত, সিআইডির বড় পদক্ষেপ
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইতোমধ্যে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই খবর নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাড়ে ৮১ মিলিয়ন ডলার অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে ফিলিপাইনের এই ব্যাংকের জুপিটার শাখার ভুয়া লেনদেনের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছিল। এরপর এই অর্থ বিভিন্ন ক্যাসিনো ও অবৈধ মাধ্যমে পাচার করা হয়েছিল।
-

একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড
বাংলাদেশে স্বর্ণের মূল্য আবারও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বাজারে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ জুয়েলার্স এ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এ ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে যে, এবার ভরিতে ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে এবং নতুন দাম বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বেড়েছে, যার ফলশ্রুতিতে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দামে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির (অর্থাৎ, সাধারণ বা পুরোনো ধরনের) স্বর্ণের প্রতি ভরি দরে নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ টাকা।
বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যে অবশ্যই সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও সংগঠনের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরির ৬ শতাংশ সংযুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানের ভেদে মজুরির পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস, তখন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকায় নির্ধারিত হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে, বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের দামও নির্ধারিত হয়েছিল, যার মধ্যে ২১ ক্যারেট ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা। এই দামের সমন্বয় কার্যকর হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে।
এ বছর মোট ৫৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে দাম বেড়েছে ৪০ বার আর কমেছে ১৭ বার। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে মোট ৬২ বার, যার মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৫ বার এবং কমানো হয়েছে ২৭ বার।
এসবের পাশাপাশি, রুপার দরেও ব্যাপক বৃদ্ধি হয়েছে। ভরিতে ১৫২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি বিক্রি হবে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতিতে ২ হাজার ২২৮ টাকায়।
-

বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম এবার ভরিতে ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা ছাড়ালো, ইতিহাসের নতুন রেকর্ড
বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত বাড়ছে, যা দেশের বাজারিকেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশের বাজারে ভরতিপ্রতি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি (প্রায় ১১.৬৬৪ গ্রাম) নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম। মঙ্গলবার থেকে এই দাম কার্যকর হবে বলেও জানিয়েছে বাজুস।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বেড়ে গেলেও, এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন দেশীয় বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য ভরিতে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকায়।
বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণ বিক্রির জন্য সরকারের ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যুক্ত করতে হবে, তবে গহনার ডিজাইন এবং মান অনুযায়ী মজুরির ভিন্নতা হতে পারে।
বিশ্ববাজারে এর আগে কখনো এক আউন্স স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৭০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়নি। সম্প্রতি এক দিনে ৩৪ ডলার মূল্যবৃদ্ধির ফলে এক মাসে মোট দাম বেড়েছে প্রায় ১০.৩৫ ডলার। এক মাসে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪০০ ডলার বেড়েছে। এর আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর দেশের স্বর্ণের দাম নতুন করে নির্ধারণের সময়, বিশ্ববাজারে এক আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৩ হাজার ৬৯০ ডলার। এরপর দাম কিছুটা কমে গেলে ১৮ সেপ্টেম্বর কিছুটা দাম সমন্বয় করা হয়, পরে ফের বিশ্ববাজারের দর বেড়ে ২০ সেপ্টেম্বর আবারও দাম বাড়ানো হয়। ঐ দিনে, ২২ ক্যারেট মানের ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৫৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৮৯ হাজার ৬২২ টাকা হয়। একই ভাবে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দর ১ হাজার ৯৭ টাকা বাড়িয়ে ১৮০ হাজার ৬৯৯ টাকায় দাঁড়ায়।
সোনার অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পেছনের কারণ হিসেবে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মার্কিন শুল্ক ও ট্যারিফ নিয়ে জটিলতার কারণে পরিস্থিতি বেড়েছে। তারা চীন, রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে বৈঠক করছে। এর প্রভাব ডলারে পড়ছে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের গোলযোগের কারণে মধ্যপ্রাচ্যবাসীর ডলারের প্রতি আস্থা কমে গেছে, ফলে তারা নিরাপদ হিসেবে রিজার্ভ হিসেবে স্বর্ণ কিনছে। পাশাপাশি, খনিতে স্বর্ণ উত্তোলন কম থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এসব কারণের ফলস্বরে স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। এই দাম বাড়ার কারণে দেশে জুয়েলারি ব্যবসা কিছুটা মন্দার প্রবণ হয়েছে এবং দেশের স্বর্ণের বাজারের আকারও ক্ষুদ্র হয়ে যাচ্ছে।
-

গভর্নরের পরামর্শ: সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের জন্য আলাদা মার্কেট দরকার
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী এবং গতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, সঞ্চয়পত্র এবং বেসরকারি বন্ডের জন্য আলাদা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র কেনাবেচার বাজার (সেকেন্ডারি মার্কেট) তৈরি করা জরুরি। তিনি বলেছিলেন, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেও এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব, যা দেশের আর্থিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে।
আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বন্ড ও সুকুক মার্কেটের সম্ভাবনা ও উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
গভর্নর মন্তব্য করেন, বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের কিছুটা লেনদেন বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেও, এটিকে সম্পূর্ণভাবে লেনদেনযোগ্য করে তোলা অবশ্যই প্রয়োজন। এর ফলে গ্রাহকরা সুবিধা পাবেন, পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে উঠবে এবং বাজারে তারল্য ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। একইভাবে, তিনি বেসরকারি বন্ডগুলোকে লেনদেনযোগ্য করার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, একটি সঠিক কাঠামো তৈরি হলে বন্ড মার্কেটের আকার দ্রুত দ্বিগুণ হতে পারে, যা দেশের আর্থিক ও অর্থনীতি প্রকৌশলীর জন্য ইতিবাচক দিক আনবে।
আহসান এইচ মনসুর দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের জন্য সরকারী ও বেসরকারি ফান্ডের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সরকারি পেনশন, করপোরেট পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও বেনেভোলেন্ট ফান্ড—এসব দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য কাজে লাগানো সম্ভব। সেই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এর জন্য একটি কার্যকর পেনশন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা গঠন জরুরি, যাতে এই তহবিলগুলো ব্যবস্থাপনায় সঠিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
সেমিনারে গভর্নর বাংলাদেশের আর্থিক উন্নয়নের সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির তুলনা করেন। তিনি জানাচ্ছিলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর আর্থিক ব্যবস্থায় মূলত বন্ডের প্রাধান্য রয়েছে, যেখানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩০ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের বন্ড ইস্যু হয়েছে, যা মোট বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ১৩০ শতাংশ। বিপরীতে, বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামো মূলত ব্যাংকনির্ভর, যেখানে দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার হলো স্টক মার্কেট, যার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৯০ ট্রিলিয়ন ডলার। এর পরে রয়েছে মানি মার্কেট (নগদ অর্থের বাজার), যার আকার মাত্র ৬০ ট্রিলিয়ন ডলার। এই চিত্র বাংলাদেশese ব্যাংকের আর্থিক ব্যবস্থার বিপরীত চিত্র তুলে ধরে। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের বিমা খাত সামান্য মাত্র জিডিপির ০.৪ শতাংশ, যা খুবই অপ্রতুল।
তিনি বলেন, অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেরও চাহিদা ও সরবরাহ উভয় দিক থেকেই বন্ড মার্কেট প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বর্তমানে সরকারি বন্ডের আধিক্য দেখা গেলেও, করপোরেট বন্ডের খুবই অভাব আছে। এর জন্য দায়ী তিনি বাবদান করেন, ব্যাংকঋণে সাধারণত বেশি নির্ভরতা এবং কিছু রাজনৈতিক সুবিধার কারণে এটি হয়ত সম্ভব হচ্ছে না।
অতিরিক্ত, গভর্নর সংক্ষিপ্ত করে বলেন, সুকুক বা ইসলামি বন্ডের বাজার খুবই ক্ষুদ্র। বর্তমানে মাত্র ছয়টি সুকুক ইস্যু হয়েছে, যার মোট মূল্য ২৪ হাজার কোটি টাকা। তিনি দ্রুত এই বাজার বড় করার জন্য নতুন ভাবনা নিয়ে আসার পরামর্শ দেন। এর মধ্যে উল্লেখ করেন, যমুনা বা পদ্মা সেতু প্রকল্পের টোল বা আয় দিয়ে ‘সিকিউরিটাইজ’ করে অর্থ সংগ্রহের বিষয়। এই ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষক036িটাস বিভাগ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে আহসান এইচ মনসুর বলেন, বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে একটি বিস্তারিত গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। খুব দ্রুত এই প্রতিবেদন সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে প্রস্তাবিত হবে চলমান ও সুকুক উভয় ধরনের বন্ডের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
-

গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঞ্চয়পত্র ও বন্ড বাজারের উন্নয়নের পরামর্শ
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জন্য দেশের মূল ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের আর্থিক বাজারকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য সঞ্চয়পত্র ও বেসরকারি বন্ডের জন্য আলাদা কেনাকাটা ও বিক্রয় বাজার (সেকেন্ডারি মার্কেট) গঠন অপরিহার্য। এই বাজারের মাধ্যমে লেনদেনের প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ হবে, যা দেশের অর্থনীতি উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকেন, তবে খুব দ্রুত এই ধরনের একটি বাজার প্রতিষ্ঠা সম্ভব, যা অর্থবিনিয়োগের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্যও উপযুক্ত বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে। আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি, যেখানে বন্ড ও সুকুক মার্কেটের সম্ভাবনার আলোচনা হয়।
গভর্নর আরও বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সেক্টরগুলোতে সঞ্চয়পত্রের লেনদেনের পরিমাণ সীমিত হলেও, এটিকে পুরোপুরি ট্রেডযোগ্য ও সহজলভ্য করে তুলতে হবে। এতে বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন এবং একটি শক্তিশালী সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে উঠবে, যার ফলে অর্থের সরবরাহ ও বণ্টনের সময় ও খরচ কমে আসবে। একই সঙ্গে, তিনি বেসরকারি বন্ডের লেনদেনও সহজ ও স্বচ্ছ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। তার মতে, সঠিক কাঠামো অনুসরণ করলে বন্ড মার্কেট দ্রুত দ্বিগুণ হতে পারে, যা দেশের অর্থনৈতিক খাতে বিশাল পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
আহসান মনসুর আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতের তহবিলগুলোকে কাজে লাগানো জরুরি। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করে বলেন, সরকারি পেনশন ব্যবস্থা, করপোরেট পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং বেনেভোলেন্ট ফান্ড—এসবের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। তিনি যোগ করেন, এর জন্য দক্ষতাসম্পন্ন ও কার্যকর পেনশন নিয়ন্ত্রণকারী একটি পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রয়োজন, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশ্লেষণে তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি মূলত বন্ড কেন্দ্রিক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের বন্ড বাজার রয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক জিডিপির প্রায় ১৩০ শতাংশের সমান। এর বিপরীতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ব্যাংক নির্ভরশীল, যেখানে স্টক মার্কেটের বাজার মূল্যানุসারে প্রায় ৯০ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে। অন্যদিকে, নগদ অর্থের মানি মার্কেটের আকার মাত্র ৬০ ট্রিলিয়ন ডলার। তিনি লক্ষ্য করে বলেন, এসব তুলনা দেখিয়ে বোঝা যায় যে, দেশের আর্থিক কাঠামো এবং বাজার উন্নয়নের জন্য আরও বিকাশের প্রয়োজন। তবে, দেশের বিমা খাতের অবস্থা খুবই খারাপ, যেখানে জিডিপির মাত্র ০.৪ শতাংশ অবদান।
গভর্নর বলেন, চাহিদা ও সরবরাহ উভয় দিক থেকেই বাংলাদেশের বন্ড বাজার গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে মূলত সরকারি বন্ডের আধিপত্য রয়েছে, কিন্তু করপোরেট বন্ডের অবদানের দ্রুত বৃদ্ধি প্রয়োজন। এ জন্য তিনি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বন্ড মার্কেটের দিকে আগানোর প্রস্তাব দেন। তিনি আরও বলেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ পরিশোধ না করায় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের আশ্বাসে অনেক সময় সেই সুযোগও ন্যস্ত হয়।
তাঁর মতে, সুকুক বা ইসলামি বন্ডের বাজার খুবই ক্ষুদ্র। এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি সুকুক ইস্যু হয়েছে, যার মোট মূল্য ২৪ হাজার কোটি টাকা। তিনি দ্রুত এই বাজার সম্প্রসারিত করার উপর জোর দেন, এবং পরামর্শ দেন যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যেমন যমুনা বা পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল প্রকল্পের আয়ের পথগুলোকে ‘সিকিউরিটাইজ’ করে নতুন বিনিয়োগের জন্য অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। এর জন্য অর্থমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট বিভাগে একটি কার্যকরী এবং দক্ষ বিভাগ তৈরির প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
আলোচনা শেষে, আহসান এইচ মনসুর জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে বন্ড বাজারের উন্নয়নের জন্য একটি বিস্তৃত গবেষণা প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। খুব দ্রুত এই প্রতিবেদনটি সুপারিশসহ সরকারকে উপস্থাপন করা হবে। এই সুপারিশগুলো প্রাকৃতিক ও সুকুক উভয় বন্ডের উন্নয়নে বিস্তারিত নির্দেশনা দেবে, যেন দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যত উন্নত ও গতিশীল হয়।
