Category: অর্থনীতি

  • পুঁজিবাজারে সবসময় মুনাফা আসবে ভাবা ভুল: অর্থ উপদেষ্টা

    পুঁজিবাজারে সবসময় মুনাফা আসবে ভাবা ভুল: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পুঁজিবাজার থেকে সর্বদা মুনাফা আসবে — এই ধারনাটি ভুল। তিনি সতর্ক করে বলছেন, কেউ যদি এটিকে নিয়মিত আয়ের স্থায়ী উৎস মনে করে, তাহলে এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। মূলধন বাজারে যেমন মুনাফার সুযোগ রয়েছে, ঠিক তেমনি রয়েছে ক্ষতির সম্ভাবনাও। তাই বিনিয়োগকারীদের সহজেই বুঝতে হবে যে শেয়ার এবং বন্ড কেনার মানে কখনো কখনো ক্ষতিও ভাগ করে নিতে হয়।

    সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও শুরুক মূলধন বাজার উন্মোচন: রাজস্ব, অবকাঠামো এবং ইসলামী মানি মার্কেট উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    ড. আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে এখনও মূলধন বাজার যথেস্ট উন্নত হয়নি। সরকারি বন্ডের সেগমেন্ট থাকলেও সেখানে বেসরকারি খাতে অংশগ্রহণ খুবই কম, এবং শেয়ারবাজারের অবস্থা খুবই সংকুচিত। এর ফলে বড় প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন ঝুঁকি ভাগাভাগি না করে কেবল ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যার ফলাফল হলো ঋণখেলাপি ও তহবিলের অপব্যবহার। এটি দেশের জন্য বড় ট্র্যাজেডি। প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকি কমানোর জন্য মানুষকে বন্ড, ডিবেঞ্চার ও শেয়ার বিনিয়োগের মাধ্যমে ঝুঁকি ভাগাভাগি করতে হবে। শুধুমাত্র ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা ভুল খাতে ব্যবহার করাই সমাধান নয়। তাই মূলধন বাজারে বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং বিনিয়োগকারীদের বুঝতে হবে যে এখানে ঝুঁকি যতটাই আছে, তার সঙ্গে লভ্যাংশ বা মুনাফার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে সুকুক বাজারে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বন্ড রয়েছে, তবে এগুলো শিক্ষা ও স্যানিটেশন খাতে ব্যবহৃত হওয়ায় আয়ের হার কম। যদি এই বন্ডগুলো উৎপাদনমুখী প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে লাভবান হওয়া কঠিন হবে না, পাশাপাশি ব্যাংকের উপর চাপ কমবে। অবশ্যই সুকুক প্রকৃত সম্পদভিত্তিক হতে হবে যাতে বিনিয়োগকারীর আস্থা বজায় থাকে।

    অর্থ উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে সিকিউরিটাইজেশন কার্যকর হয়নি, যা বড় বড় প্রকল্প, যেমন মেট্রোরেল, বাস্তবায়নে ব্যবহার করলে বিশ্বব্যাংকের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হত। আপনারাও উল্লেখ করেন যে পেনশন ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এগুলো সরকারি দায়বদ্ধতার অংশ।

    তিনি আরও বলেন, মূলধন ও সুকুক বাজারের পাশাপাশি বীমা বাজারের উন্নয়নে নজর দেওয়াও জরুরি। সেই সঙ্গে কর কাঠামো ও প্রণোদনা সংস্কার করে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

    সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং আরো অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

  • ফিলিপাইনের ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত: রিজার্ভ চুরির তদন্তে বড় অগ্রগতি

    ফিলিপাইনের ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত: রিজার্ভ চুরির তদন্তে বড় অগ্রগতি

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে থেকে চুরি হওয়া বিশাল পরিমাণ অর্থের একটি অংশ ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করেছে বাংলাদেশ পুলিশ ও তদন্ত সংস্থা সিআইডি। আদালতের নির্দেশে এই অর্থের সিআইডি নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ দল ফিলিপাইনে তদন্ত চালিয়ে এই ডলারসমূহ বাজেয়াপ্ত করে। আজ রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলনে সিআইডির অপরাধ তদন্ত বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন। তিনি জানান, আদালতের বরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার এই ব্যাংকের কাছে থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, এখন আমাদের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য কাজ করছেন।’ এটি এক ঐতিহাসিক ঘটনা, কারণ ২০১৬ সালে ঘটে যাওয়া এই সাইবার হামলার ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় অর্থের চুরি হয়। সেই সময় বাংলাদেশের ব্যাংকের নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের হিসাব থেকে প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার জাল সুইফট বার্তার মাধ্যমে চুরি হয়। এর মধ্যে ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কায় পাঠানোর সময় সন্দেহজনক হিসেবে ফিরে আসে, namun বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের (আরসিবিসি) মাকাতি শহরের জুপিটার শাখায় ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে জমা হয়। পরবর্তীতে এই অর্থ বিভিন্ন ক্যাসিনো ও অবৈধ যানবাহনের মাধ্যমে পাচার করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফিলিপাইনের আদালত আসামি হিসেবে রিজাল ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মায়া ডিগুইটোকেকে মানি লন্ডারিংয়ের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে। এই ঘটনাটি দেশের অর্থনীতির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ এবং এর তদন্ত আর নিরপেক্ষতার জন্য সামনের দিনগুলোতে আরও কঠোর নজরদারির আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড উচ্চতা

    একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড উচ্চতা

    ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও নতুন করে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ভরিতে ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা দাম বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এটি এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য। মঙ্গলবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, এবং আগামী বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য দাঁড়াতে চলেছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হবে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ টাকা।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, স্বর্ণ বিক্রির ক্ষেত্রে অবশ্যম্ভাবীভাবে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন, মান ও মানভেদে এই মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

    উল্লেখ্য, এর আগে, গত ২২ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের সর্বশেষ সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা দাম বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা। এটি ছিল এ সময় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ। সেই সময়ের জন্য অন্যান্য ক্যারেটের দাম ছিল ২১ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা। সেই দামসমূহ কার্যকর হয়েছিল ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে।

    একের পর এক দাম সমন্বয় בשנת ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৫ বার, আর কমানো হয়েছে ২৭ বার। এর আগে, চলতি বছর মোট ৫৭ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৪০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৭ বার দাম কমানো হয়েছিল।

    অতিরিক্ত, এই দামে রুপার দামও বেড়েছে। ভরিতে ১৫২ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়ে রুপার নতুন দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের রুপার মূল্য হবে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ২ হাজার ২২৮ টাকা।

  • স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড: ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকার বেশি

    স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড: ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকার বেশি

    বিশ্ব বাজারে সোনার দামে হু হু করে বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ ঘোষণা করেছে, দেশি বাজারে ভরিপ্রতি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য এখন ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম, যা আগে কখনো এমন উচ্চতায় পৌঁছায়নি। এই নতুন দামের কার্যকারিতা আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে।

    বাজুসের পাবলিসিটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নতুন দাম নির্ধারিত হয়েছে। বর্তমানে, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা, যা এর আগে কখনো এর চাইতেও বেশি ছিল না। অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুসের নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের সর্বনিম্ন মজুরি ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন,মানভেদে এই মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

    অপরদিকে, বিশ্ববাজারে সোনার মূল্য খারাপের মুখে নেই। এক আউন্স সোনার দাম কখনো ৩ হাজার ৭০০ ডলারের বেশি হয়নি। একদিনে ৩৪ ডলার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এক মাসে মোট ১০.৩৫ ডলার বৃদ্ধি হয়েছে, যা প্রায় ৪০০ ডলার। এর আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববাজারে এক আউন্স সোনার দাম ৩ হাজার ৬৯০ ডলার ছিল। এরপর দাম কমার পর ১৮ সেপ্টেম্বর কিছুটা দাম কমলেও, ২০ সেপ্টেম্বর ফের দামের উল্লম্ফন ঘটে। ওই দিন, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা ছিল, যা আগের তুলনায় ১ হাজার ১৫৫ টাকা বেশি। ২১ ক্যারেটের জন্য দাম ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৯৯ টাকায় দাঁড়ায়, যা ১ হাজার ৯৭ টাকার বৃদ্ধি।

    সোনার অস্বাভাবিক দামে এত বৃদ্ধি হওয়ার পেছনে নানা কারণ রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ট্যারিফ অ্যান্ড ট্যাক্সেশনের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, আমেরিকার শুল্ক নিয়ে দুর্ব্যবস্থা থাকায় এবং চীন, রাশিয়া, ভারতের সঙ্গে বৈঠক চলায় ডলারের চাহিদা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের চলমান ঝামেলার জন্য বিভিন্ন দেশ নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারে সঞ্চয় করছে। এর ফলস্বরূপ, চীন ও ভারতসহ অন্যান্য দেশ সোনা কিনে রিজার্ভ করছে, আর সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণেও দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতির ফলে, দেশের জুয়েলারি ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে এবং স্বর্ণের বাজারের আকার সংকুচিত হয়ে আসছে।

  • ফিলিপাইন থেকে রিজার্ভ চুরি: সিআইডি বাজেয়াপ্ত করল ৮১ মিলিয়ন ডলার

    ফিলিপাইন থেকে রিজার্ভ চুরি: সিআইডি বাজেয়াপ্ত করল ৮১ মিলিয়ন ডলার

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি) থেকে বাজেয়াপ্ত করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। বাংলাদেশ সরকারের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নিশ্চিত করেছে, আদালতের নির্দেশে যে অর্থের জন্য তদন্ত চলছিল, সেটি এখন জাল টাকার মতো ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে ফেরত আনা হয়েছে।

    আজ রোববার, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ৮১ মিলিয়ন ডলার অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সিআইডির এই পদক্ষেপের মাধ্যমে চুরির সাথে যুক্ত অন্য সব জটিলতা ও অপরাধের তদন্ত আরও গভীর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় সাইবার অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তখন, নিউ ইয়র্কে অবস্থিত ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার জাল সুইফট বার্তার মাধ্যমে চুরি হয়। এর মধ্যে, শ্রীলঙ্কায় প্রেরিত প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হলেও, অবলোপ্পিত অংশটি ছিল ৮১ মিলিয়ন ডলার, যা মূলত ফিলিপাইনের মাকাতি শহরের জুপিটার শাখার ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়।

    পরবর্তী সময়ে, এই অর্থ বিভিন্ন ক্যাসিনো ও জুয়াখানায় পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুতই মামলা দায়ের করে ওই বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ফলাফলে, ফিলিপাইনের আদালত আরসিবিসি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মায়া ডিগুইটোকে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করে। এখন এই তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের খুঁজে বের করে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড ব্রেকিং বৃদ্ধি

    একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড ব্রেকিং বৃদ্ধি

    গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন দাম ঘোষণা করে জানিয়েছে যে, ভরিতে ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে স্বর্ণের মূল্য। এর ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা, যা দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম। এই পরিবর্তন মঙ্গলবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে এবং নতুন মূল্য কার্যকর হবে বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বাজারের চাহিদা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। শুল্ক, ভ্যাটসহ অন্যান্য চার্জ যোগ করে ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর, নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। পাশাপাশি, অন্যান্য ক্যারেটে স্বর্ণের মূল্য হল: ২১ ক্যারেটে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ টাকা।

    বাজুসের আরও জানানো হয়েছে যে, স্বর্ণ বিক্রির সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি সংযোজিত হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির পার্থক্য থাকতে পারে।

    উল্লেখ্য, এর আগে, ২২ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে বাজুস। তখন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা। এ ছাড়াও অন্যান্য ক্যারেটের দাম ছিল: ২১ ক্যারেট ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা। সেই মূল্য ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

    সর্বমোট, ২০২৪ সালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৬২ বার সমন্বয় করা হয়, যেখানে দাম বাড়ানো হয় ৩৫ বার এবং কমানো হয় ২৭ বার। এই বছর স্বর্ণের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভরিতে ১৫২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অন্যান্য ক্যারেটে রুপার দামে বৃদ্ধি হয়েছে: ২১ ক্যারেটে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ হাজার ২২৮ টাকা।

  • স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা

    স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা

    বিশ্ব বাজারে সোনার মূল্য অপ্রতিরোধ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে বাংলাদেশে স্বর্ণের বাজারেও ইতিহাস স্থাপন হলো এক নতুন দামে। দেশের বাজারে আজ থেকে নতুন দামের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা দেশের সব সময়ের সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভরির ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য now ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা গত দিনের তুলনায় অনেক বেশি এবং ইতিহাসের নতুন চূড়ায় দাঁড় করিয়েছে দেশের স্বর্ণ বিক্রির মূল্য। এই নতুন দাম আজ মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ১১.৬৬৪ গ্রামের (এক ভরি) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা। এছাড়াও অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এইরকমভাবে নির্ধারিত হয়েছে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা।

    বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দামে স্বর্ণ বিক্রি করতে হলে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্দিষ্ট ৬ শতাংশ মজুরির যোগ করা বাধ্যতামূলক। তবে গহনার ডিজাইন ও মানের ভেদে এই মজুরি আলাদা হতে পারে।

    বিশ্ববাজারে সালটা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এক আউন্স সোণার দাম এর আগে কখনো ৩ হাজার ৭০০ ডলার ছাড়ায়নি। সম্প্রতি একদিনে প্রায় ৩৪ ডলার দাম বেড়ে এক মাসে মোট ১০ দশমিক ৩৫ ডলার বা প্রায় ৪০০ ডলার বৃদ্ধি লাভ করেছে। এর আগের সময় গত ১৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বের বাজারে এক আউন্স সোণার মূল্য ছিল ৩ হাজার ৬৯০ ডলার। তারপর বিশ্ববাজারে কিছুটা দাম কমে গেলে বাংলাদেশে সেই দাম প্রতিফলিত হয়। তবে এরপর আবার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম উঠতে শুরু করলে দেশের বাজারে বেশ কয়েক দফা দাম বৃদ্ধি হয় – যেমন ২০ সেপ্টেম্বর এই দামে এক ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

    অস্বাভাবিক এই মূল্যবৃদ্ধির পিছনে বিভিন্ন কারণের উল্লেখ করেছেন বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। তিনি বলছেন, মার্কিন ডলারের সঙ্গে যুক্ত সূত্রাবলি, চীন-রাশিয়া-ভারত-সহ অন্যান্য দেশের সাথে চলমান বৈঠক, এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইসরাইল-সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এসবের ফলস্বরূপ ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিশ্বে বিভিন্ন দেশ সোনা রিজার্ভের জন্য কিনছে। এছাড়া সরবরাহের অভাব, খনি থেকে সোনা উত্তোলনে সমস্যা থাকাটাও মূল কারণ। এই সব কারণের জন্য সোনার দাম আরও বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধির জের ধরে দেশের জুয়েলারি ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশের স্বর্ণের বাজারের আকার সংকোচের দিকে এগোচ্ছে।

  • গভর্নরের পরামর্শ: সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের জন্য আলাদা কেনাবেচার বাজার তৈরির আহ্বান

    গভর্নরের পরামর্শ: সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের জন্য আলাদা কেনাবেচার বাজার তৈরির আহ্বান

    বাংলাদেশের আর্থিক বাজারকে আরো বেশি গতিশীল ও কার্যকর করে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গুরুত্বপূর্ণ এক নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি উ‌ল্লেখ করেছেন, সঞ্চয়পত্র ও বেসরকারি বন্ডের জন্য আলাদা কেনাবেচার দ্বিতীয় বাজার (সেকেন্ডারি মার্কেট) তৈরির প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে দ্রুত এই ধরনের একটি বাজার গড়ে তোলা সম্ভব, যা দেশের আর্থিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

    আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন, যেখানে বন্ড ও সুকুক মার্কেটের ভবিষ্যত সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    গভর্নর বলেন, বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের লেনদেন অর্ধেক ভাগে বাজারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, একে সম্পূর্ণরূপে লেনদেনযোগ্য করা উচিত। এতে গ্রাহকদের সুবিধা বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে উঠবে এবং বাজারে তারল্য বাড়বে। পাশাপাশি, তিনি বেসরকারি বন্ডের লেনদেনযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, সঠিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হলে বন্ড মার্কেট রাতারাতি দ্বিগুণ হতে পারে, যা দেশের আর্থিক খাতের জন্য খুবই ইতিবাচক উন্নতি হবে।

    আহসান এইচ মনসুর বলেন, দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন তহবিলের ওপর গুরুত্ব দিয়ে দেশের বিনিয়োগের দীর্ঘস্থায়ী ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি পেনশন ব্যবস্থা, করপোরেট পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং বেনেভোলেন্ট ফান্ড—এই সবগুলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য আদর্শ উপায়। এই ধরনের উদ্যোগের জন্য একটি কার্যকর পেনশন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি জানান, যা তহবিল ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

    সেমিনারে গভর্নর বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামোর সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির তুলনা করেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো বন্ড বাজার, যেখানে প্রায় ১৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের বন্ড ইস্যু হয়েছে, যা জিডিপির প্রায় ১৩০ শতাংশ। এর বিপরীতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মূলত ব্যাংকনির্ভর, যেখানে স্টক মার্কেটের মোট বিনিয়োগ ৯০ ট্রিলিয়ন ডলার এবং নগদ অর্থের বাজারের পরিমাণ ৬০ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশের অর্থনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র প্রতিফলিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিমা খাতের জিডিপির অনুপাত মাত্র ০.৪ শতাংশ, যা উল্লেখযোগ্য নয়।

    গভর্নর বলেন, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও চাহিদা ও সরবরাহ উভয় দিক থেকেই বন্ড বাজার গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে সরকারি বন্ডের আধিপত্য থাকলেও, করপোরেট বন্ডের বাজার তেমন নেই। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ও কিছু সুবিধা, যেমন ঋণ পরিশোধের অক্ষমতা বা রাজনৈতিক প্রভাবের সম্ভাবনা, এর জন্য দায়ী মনে করেন।

    তিনি আরও বলেন, সুকুক বা ইসলামি বন্ড বাজার অনেক ছোট, এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি সুকুক ইস্যু হয়েছে যার মোট মূল্য ২৪ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, দ্রুত এই বাজারের আকার বাড়ানোর জন্য একটি নতুন ধারণা দরকার। তার পরামর্শ, যমুনা বা পদ্মা সেতুর মতো প্রকল্পের টোল বা আয়কে ‘সিকিউরিটাইজ’ করে নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের অর্থ সংগ্রহ করা যেতে পারে। এই কাজের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ কার্যকরী বিভাগ প্রতিষ্ঠা জরুরি বলে মনে করেন।

    সেমিনানের শেষ দিকে আহসান এইচ মনসুর জানান, বন্ড বাজারের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে একটি বিস্তারিত গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। খুব শিগগিরই ওই প্রতিবেদনে সুপারিশসহ প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হবে। এতে প্রচলিত ও সুকুক উভয় ধরনের বন্ডের উন্নয়নের দিকনির্দেশনা থাকবে।

  • অর্থ উপদেষ্টার দাবি: পুঁজিবাজার থেকে সবসময় লাভ হবে না

    অর্থ উপদেষ্টার দাবি: পুঁজিবাজার থেকে সবসময় লাভ হবে না

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সতর্ক করে বলেছেন, পুঁজিবাজার থেকে সবসময় লাভের আশা করা ভুল। তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করে, শেয়ার ও বন্ড কেনা মানে নিঃসন্দেহে নিয়মিত আয়ের উৎস, তাহলে তা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। মূলধনী বাজারে যেমন মুনাফার সুযোগ রয়েছে, তেমনি ক্ষতির ঝুঁকিও থাকা সম্ভব। এজন্য বিনিয়োগকারীদের সতর্ক হতে হবে যে, শেয়ার বা বন্ড কেনা মানে সম্ভাব্য ক্ষতিও ভাগ করে নিতে হয়।

    তিনি এই কথা বলেন সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও সুকুক বাজার উন্মোচন: রাজস্ব ক্ষেত্র, অবকাঠামো সরবরাহ এবং ইসলামী মানি মার্কেট উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে।

    ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে মূলধন বাজার এখনও যথোপযুক্তভাবে উন্নত হয়নি। সরকারী বন্ডের সেক্টরে কিছু অগ্রগতি থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ খুবই কম, আর শেয়ারবাজারও প্রায় নগণ্য। ফলে বড় প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে ঝুঁকি ভাগাভাগি না করে শুধু ব্যাংকের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এর ফলে ঋণখেলাপি এবং তহবিল অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ছে, যা দেশের জন্য বড় ষড়যন্ত্রের নাম। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকি কমানোর জন্য মানুষের বন্ড, ডিবেঞ্চার ও শেয়ার কেনায় উৎসাহিত করতে হবে। ব্যাংক থেকে শুধুমাত্র ঋণ গ্রহণ এবং সেগুলো ভুল খাতে ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়। ফলে মূলধনী বাজারে বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ বিনিয়োগকারীদের বুঝতে হবে, এখানে ঝুঁকি থাকলেও সম্ভাব্য লভ্যাংশও রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সুকুক বাজারে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বন্ড রয়েছে, তবে সেগুলো মূলত শিক্ষা ও স্যানিটেশন খাতে ব্যবহৃত হওয়ায় আয়ের হার কম। যদি এই বন্ডগুলো উৎপাদনমুখী বেসরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে লাভ হবে ও ব্যাংকের চাপ কমবে। সুকুক অবশ্যই প্রকৃত সম্পদভিত্তিক হতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীর আস্থা তৈরি হয়।

    অর্থ উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশে এখনও সিকিউরিটাইজেশন কার্যকরভাবে চলে আসেনি। বড় বড় প্রকল্প যেমন মেট্রোরেলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। এছাড়া, পেনশন ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এগুলো সরকারিক দায়ী।

    তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র মূলধনী ও সুকুক বাজার নয়, বীমা বাজারের উন্নয়নেও নজর দিতে হবে। একইসঙ্গে কর কাঠামো ও প্রণোদনা সংস্কার করে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

    সেমিনারে মূল বক্তব্য রাখেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ প্রমুখ।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারো নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, বর্তমানে এটি ৩১ দশমিক ০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ এখন ২৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের ব্যাংকিং সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে, দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী এটি ছিল ২৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়াও, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পৃথক হিসাব রয়েছে, যেখানে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভের পরিমাণ ২১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

    বাংলাদেশের জন্য সাধারণত প্রয়োজন হয় যেন রিজার্ভ কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি খরচের সমান হয়, যা দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বৈদেশিক মুদ্রার এই মজুত তৈরি হয় প্রবাসী আয়ে, রফতানি থেকে প্রাপ্ত ডলার, বিদেশি বিনিয়োগ, ঋণ ও অন্যান্য বিদেশি আমদানি ও ব্যয় থেকে। অর্থাৎ, যখন দেশের আয় বেশি হয় এবং ব্যয় কম থাকে, তখন রিজার্ভ বৃদ্ধি পায়। আবার ব্যয় বেশি হলে রিজার্ভ কমে যায়।

    রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা অনেকটা বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন আর ডলার বিক্রি করতে হয়নি, বরং ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর, পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার কেনা হয়। এর আগে, ২ সেপ্টেম্বর, আটটি ব্যাংকের কাছ থেকে ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার কেনা হয়।

    দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই ধারায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশের মোট অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগস্ট মাসে এসেছিল ২৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের এক বড় অংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে এক নতুন রেকর্ড তৈরি হয়, যেখানে পুরো অর্থবছরে এসেছে প্রায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধির মূল কারণ হলো প্রবাসী আয় ও রফতানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। এরপর প্রতিবছর এই পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে, রিজার্ভ ৩৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ২০২১ সালে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ডলার সংকটের কারণে রিজার্ভ ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে।

    সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে, বাংলাদেশ বিভিন্ন সময় রিজার্ভের নতুন রেকর্ড গড়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রিজার্ভ ছিল ২১.৫ বিলিয়ন ডলার; ২০১৫-১৬ সালে এটি বেড়ে ৩০.৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ২০২০ সালে এটি বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬.৩৯ বিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ সালে রিজার্ভ কমে ৩১ বিলিয়ন ডলার এ পৌঁছায়, যা বর্তমানে পুনরুদ্ধার হয়েছে।