Category: অর্থনীতি

  • চলতি অর্থবছর শেষে দেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৫ শতাংশ

    চলতি অর্থবছর শেষে দেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৫ শতাংশ

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে প্রায় ৪ শতাংশ। তবে, ২০২৬ সালের শেষে এই প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়াবে ৫ শতাংশে। যদিও পোশাক রপ্তানি এখনো স্থিতিশীল, তবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এখনো লক্ষণীয়, এর মূল কারণ হলো চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা। পাশাপাশি, বারবার বন্যা, শিল্পকর্মশিল্প শ্রমিক বিরোধ এবং ক্রমাগত উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কিছুটা কমে গেছে।

  • ইসলামী ব্যাংকে আরও ২০০ কর্মীর চাকরি ছাড়া

    ইসলামী ব্যাংকে আরও ২০০ কর্মীর চাকরি ছাড়া

    নজিরবিহীন শুদ্ধি অভিযানে অপ্রত্যাশিত ঘটনার অবতারণা করছে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, ইসলামী ব্যাংক। চাকরি বিধি লঙ্ঘন এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ এ মাসে একসঙ্গে আরো ২০০ কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। এই দ্বিতীয় দফার ছাঁটাই চলতি সপ্তাহে সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে মোট ৪০০ কর্মী এখন আর ব্যাংকের সঙ্গে নেই।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে বলেছেন, এমন ব্যাপক পরিসরে এই ধরনের শুদ্ধি অভিযান আগে নজরে আসেনি।

    অন্যদিকে, ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগ হলো কর্মীদের দক্ষতা যাচাই ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। সম্প্রতি ঢাকার শাহবাগের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) পরিচালিত ‘বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা’ এর মাধ্যমে কর্মীদের মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হয়। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মোট ৪১৪ জন কর্মী, এর মধ্যে ৮৮ শতাংশ বা ৩৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাকি ৫০ জনের জন্য পুনর্মূল্যায়নের জন্য ট্রেনিং দেওয়া হবে। এই পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া প্রায় পাঁচ হাজার কর্মীকে “বিশেষ দায়িত্বে সংযুক্ত” (ওএসডি) করে রাখা হয়েছে।

    অধিকাংশ সূত্র জানিয়েছে, চাকরি হারানো কর্মীদের মধ্যে কেবল অযোগ্যতার জন্য নয়, বরং পরীক্ষার সময় সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচার, সহকর্মীদের বাধা ও ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    এছাড়া, ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ ইসলামি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর থেকেই অনেকদের সরাসরি সিভি ভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে আসছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার স্থানীয়দের নিয়োগ বেশি। এর ফলে বর্তমানে ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি কর্মীই ওই অঞ্চলের বাসিন্দা।

    অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ড. কামাল উদ্দীন জসীম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য কাউকে ছাঁটাই করা নয়, বরং তাদের দক্ষতা যাচাই ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। এই শুদ্ধি কার্যক্রম যেন স্বচ্ছ ও যোগ্যতা অনুযায়ী হয়ে থাকে, সেটি আমাদের লক্ষ্য।

  • পাচার হওয়া অর্থের বেশিরভাগই ফেরত আনা সম্ভব ফেব্রুয়ারির মধ্যে: অর্থ উপদেষ্টা

    পাচার হওয়া অর্থের বেশিরভাগই ফেরত আনা সম্ভব ফেব্রুয়ারির মধ্যে: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন যে, দেশে থেকে পাচার হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। যদিও তিনি এখনো নিশ্চিত করে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের কথা বলেননি। আজ মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নে, তারা যদি জানতে চান যে, ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাচার হওয়া অর্থ কি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না, তিনি বলেন, যারা এই অর্থ পাচার করে, তারা এই বিষয়গুলো খুব ভালো জানে। তবে এটি ফিরিয়ে আনতে কিছু সময় লাগবে এবং কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। বেশ কয়েকটি লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, আশা করছেন ফেব্রুয়ারির মধ্যেই কিছু অর্থ ফেরত আসতে পারে। তিনি আরো বলেন, এই প্রক্রিয়ার কোনো অংশই বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। সরকার যদি চাই, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকেও টাকা দেওয়া যায়, তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট লিগ্যাল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

    সালেহউদ্দিন জানান, বর্তমানে ১১-১২টি মামলা বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে এবং উচ্চমূল্যের অর্থের জন্য নিয়মিত নজরদারি চলছে। তিনি বলেন, ২০০ কোটি টাকার বেশি অর্থের ক্ষেত্রে অনেকেই ধরা পড়েছেন।

    নতুন সরকারের ধারাবাহিকতা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে, তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সরকারের জন্য এটি বাধ্যতামূলক যাতে নির্দিষ্ট প্রসেসগুলো চালু থাকে না থাকলে অর্থ ফেরত আনা কঠিন হয়ে যাবে। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এই পদ্ধতিগুলো আন্তর্জাতিক মানের পরিচ্ছন্নতা ও নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে, অন্যথায় অর্থ ফেরত আনা সম্ভব নয়।

    অর্থের পরিমাণ কত হবে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকেই প্রশ্ন করতে হবে।

    কিছুদিন আগে অর্থ পাচার থাকলেও এখনো কিছু অর্থ পাচার হচ্ছে বলে খবর রয়েছে, সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগিরই এক বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যেই বিদেশের বিভিন্ন দেশে অর্থের অ্যাসেট ফ্রিজ করা হয়েছে। কোথায় কত টাকা আছে, তাদের পাসপোর্টের তথ্যসহ সব কিছু জানা রয়েছে। এই কাজের জন্য প্রয়োজন আরো কিছু সময়।

    অতিরিক্ত বরাদ্দ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে, সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এসব প্রকল্পের বরাদ্দ বহু পুরোনো।

    বিবিএস এর রিপোর্টের অনুযায়ী, দেশের দশটি পরিবারের মধ্যে তিনটিরই পুষ্টিহীনতা বা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সমস্যা রয়েছে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কিছুটা পুষ্টিহীনতা রয়েছে, বিশেষ করে শিশুরা ও মায়েদের মধ্যে। তিনি জানান, এই সমস্যা মোকাবিলায় চেষ্টা চলছে। ভিজিএফ ও স্পেশাল ট্রাকের মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে, আরো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কাল থেকে জেলেদের জন্য মাছ ধরা বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে, এ সময়টায় তাদের জন্য ২০ কেজি আপেক্ষিক খাবার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলছেন, আমাদের খাদ্য এখনো সুষম নয়; চালের ওপর বেশি ডিপেন্ডেন্সি থাকলেও অন্যান্য খাবারের অ্যাকসেস কম। অতএব, আমিষের প্রয়োজন রয়েছে, যার মধ্যে ডিম গুরুত্বপূর্ণ—যেখানে অনেকেই এখনো সেটি কিনতে পারছেন না।

  • সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা

    সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ২২ ক্যারেটের, অর্থাৎ সবচেয়ে ভালো মানের সোনার প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) মূল্য আগেই বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা, যা আগের তুলনায় ২২২৫ টাকা বেশি। এই দাম আগামী মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে ঠিক সেই সময়, যখন স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার দাম কিছুটা কমে গেছে।

  • ইসলামী ব্যাংকে কর্মী ছাঁটাই: ২০০ জন চাকুরিচ্যুত, ৪৯৭১ জন ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংকে কর্মী ছাঁটাই: ২০০ জন চাকুরিচ্যুত, ৪৯৭১ জন ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ সম্প্রতি একটি ব্যাপক কর্মচারী ছাঁটাই ঘোষণা করেছে। শৃঙ্খলা ও নিয়মনীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০০ জন কর্মীকে সরাসরি চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে, পাশাপাশি আরও ৪ হাজার ৯৭১ জনকে ওএসডি (অন সার্ভিস ডিউটি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ওএসডি হওয়া এ কর্মীরা এখনও বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, তবে তারা বর্তমানে কোনও দায়িত্বে থাকবেন না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকের অভ্যন্তরে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

    ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানাতো, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর থেকে অখাদ্য নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়। তখন লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে সরাসরি সিভি দেখে বেশ সংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়, যার বেশির ভাগই ছিল চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার বাসিন্দা। এর ফলে বর্তমানে ব্যাংকের প্রায় অর্ধেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মূল নিবাস এই অঞ্চল।

    একজন সিনিয়র ব্যাংক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, “এস আলম গ্রুপের সময়ে অযোগ্য লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ব্যাংকের জন্য ক্ষতিকর হয়ে পড়েছিল। এখন আমরা সবাইকে যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও হাইকোর্টের রায় অনুসারে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ৫,৩৮৫ জন কর্মকর্তাকে আহ্বান জানানো হলেও মাত্র ৪১৪ জন অংশগ্রহণ করেন। বাকি ৪, সুপ্রিমাম ৪,৯৭১ জনকে পরদিন থেকেই ওএসডি ঘোষণা করা হয়। এর পাশাপাশি, পরীক্ষার আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও গণপ্রতিবেদনে বিরোধিতা করার জন্যও ২০০ কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    ওএসডি হওয়া ওই কর্মীদের অভিযোগ, তারা হাইকোর্টে রিট করার পর আদালত নিয়মিত প্রমোশনাল পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সে নির্দেশ উপেক্ষা করে আলাদা যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা আয়োজন করে, যা বেআইনি। তারা এখন আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “এ ধরনের ছাঁটাই সাধারণত দেশে এই প্রথম। সাধারণত পদোন্নতির জন্য ভিএবাই নেওয়া হয়, তবে কর্মীদের মান যাচাইয়ের এই পদ্ধতি নতুন।” তিনি আরও বলেন, “ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই নিয়োগ বা কর্মীদের মূল্যায়ন সম্পূর্ণ তাদের এখতিয়ার। তবে এটি অবশ্যই দেশের আইন ও নীতিমালার মধ্যে থাকতে হবে।”

    অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সময়ে ব্যাংক থেকে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়, যা ব্যাংকটির জন্য গভীর আর্থিক সংকটের কারণ হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণাধীন পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যার মাধ্যমে এস আলমের প্রভাব দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

  • চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে উন্নতির প্রত্যাশা

    চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে উন্নতির প্রত্যাশা

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে পৌঁছাবে। তবে, আগামী ২০২৬ সালের শেষে এটি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এডিবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদিও পোশাক রপ্তানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল, তারপরও দেশের অর্থনীতির ধীর গতির মূল কারণ হচ্ছে চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তন। পাশাপাশি বারবার বন্যা, শ্রমশক্তির বিরোধ এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে গেছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) প্রতিবেদনটিতে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

    এডিবি বলছে, ভবিষ্যত প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করা, প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেছেন, মার্কিন শুল্কের প্রভাব এখনও পুরোপুরি পরিলক্ষিত হয়নি এবং ব্যাংকিং খাতের কিছু দুর্বলতা বিদ্যমান। এই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অটুট অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। ২০২৬ সালের অর্থবছর নিয়ে কিছু নেতিবাচক ঝুঁকি রয়ে গেছে, যেমন বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও নীতি পরিস্থিতির অস্থিরতা। তাই সমন্বিত বৈঠকি অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ এবং কাঠামোগত সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।

    এছাড়াও, এডিবি জানিয়েছে, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব, বাজারের তথ্যের অপ্রতুলতা, সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যা ও মুদ্রার দুর্বলতায় ২০২৫ সালে মুদ্রাস্ফীতি ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে, চলতি অর্থবছরে (২০২৫) দেশের মোট জিডিপির সংক্ষিপ্ততম সামান্য উদ্বৃত্ত থাকবে, যা ২০২৪ অর্থবছরের ১.৫ শতাংশ ঘাটতির চেয়ে বেশি। এটি দেশের অর্থনীতির শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৃহৎ বাণিজ্য ঘাটতির সংকোচনের ফল।

  • ইসলামী ব্যাংকের আরও ২০০ কর্মীর চাকরি বাতিল

    ইসলামী ব্যাংকের আরও ২০০ কর্মীর চাকরি বাতিল

    নজিরবিহীন শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংকে। শাসক বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একসঙ্গে আরও ২০০ কর্মীকে বরখাস্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এই ছাঁটাইয়ের কার্যক্রম চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় পরিচালিত হয়েছে, যার ফলে এখন পর্যন্ত ৪০০-এর বেশি কর্মীর চাকরি হারিয়েছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার মতে, এই ধরনের নজিরবিহীন ছাঁটাই হলো এখন পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ কী শুধুমাত্র দক্ষতা যাচাই ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ‘বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা’ এই অভিযান শুরু করার মূল কারণ বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছেন। ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৪১৪ জন কর্মী, যার মধ্যে ৮৮ শতাংশ বা ৩৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাকিরা—প্রায় ৫০ জন—তাদের কর্মক্ষমতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া প্রায় ৫ হাজার কর্মীকে আপাতত ওএসডি (বিশেষ দায়িত্ব ছাড়া সংযুক্ত) হিসেবে বা অন্য কাজে স্থগিত রাখা হয়েছে।

    ব্যাংকের একাধিক সূত্রের দাবি, চাকরি বাতিল করা কর্মীদের মধ্যে কেবল অযোগ্যতার কারণেই নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, সহকর্মীদের মধ্যে অংশগ্রহণে বাধা ও ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মতো কর্মকাণ্ডের কারণে চাকরি হারাতে হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর থেকে নানা অনিয়ম শুরু হয়। ওই সময় হঠাৎ করে অনেককে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি সিভি দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়, যার বেশিরভাগই ছিল চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাসিন্দাদের। বর্তমানে দেখা গেছে, এর ফলে ব্যাংকের কর্মীদের অর্ধেকের বেশি এখন প্রায়ই এই অঞ্চলের বাসিন্দা।

    ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ড. কামাল উদ্দীন জসীম জানান, আমাদের মূল লক্ষ্য কাউকে ছাঁটাই করা নয়, বরং দক্ষতা যাচাই ও নিয়মের মধ্যে আনা। তিনি আরও বলেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাংকের স্বচ্ছতা এবং দুর্বল কর্মীদের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

  • পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফেরত আসার সম্ভাবনা রয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা

    পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফেরত আসার সম্ভাবনা রয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের বাইরে থেকে পাচার হওয়া অর্থের কিছু অংশ আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে এখনো কত টাকা ফেরত আসবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। আজ (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    সাংবাদিকরা জানতে চান, কি পরিমাণ অর্থ ফেরত আনা সম্ভব, উত্তরে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, যারা টাকা পাচার করে, তারা অত্যন্ত চালাক। কিভাবে এটা আনা যায়, সে বিষয়ে তারা নানা বুদ্ধি খুঁজে বের করে। টাকা ফেরত আনার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়, তবে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। বেশ কয়েকটি লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা চলছে, আশাপ্রকাশ করেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে কিছু অর্থ ফিরে আসতে পারে। বাকি অর্থের জন্য সরকারি প্রস্তুতি চলছে।

    তিনি বলেন, এই ধরনের ফরমালিটির কোনো সরকার এড়াতে পারে না। আমি বলেছিলাম—টাকা দিয়ে দাও সেন্ট্রাল ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকে—এমন দাবি করা হয়, তাহলে অবশ্যই দিতে হবে। কারণ, এ অর্থ লিগাল ওয়েতে যাওয়া জরুরি। ইতিমধ্যেই এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চলছে।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে ১১-১২টি বিষয় বেশ হাইপ্রোফাইল মনে হচ্ছে, যেখানে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের তথ্য সংগ্রহ হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে ২০০ কোটি টাকার বেশি জরিমানা বা অভিযোগ রয়েছে।

    নতুন সরকার এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে বাধ্য, বলেন তিনি, কারণ কেবল তখনই টাকা ফেরত আনা সম্ভব। যদি সরকার এসব প্রক্রিয়া চালু রাখে, তবে দেশের অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যথায়, অর্থ ফেরত আনার কিছুই হবে না।

    তিনি বলেন, এর জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কাজ করতে হবে। সরাসরি অর্থ পাঠানোর বা অন্য কোনো সহজ পদ্ধতি এড়ানো জরুরি। বিদেশে থাকা অর্থের ব্যাপারে সাধারণত লাখ লাখ টাকা বা ডলার সরবরাহের জন্য কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

    অর্থের পরিমাণ কত হবে, তা তিনি জানাতে অস্বীকৃতি জানান ও জানান, এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে প্রশ্ন করতে।

    এ সময় তিনি জানান, এখনও কিছু অর্থ পাচার হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে তিনি বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিস্তারিত রিপোর্ট আসার পরে তা বিশ্লেষণ করা হবে। ইতিমধ্যে দেশের বাইরে কিছু অ্যাসেট বা অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। পাচারের অর্থের বিষয়ে তথ্য রয়েছে, কোন দেশে তার পাসপোর্ট বা অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেটিও দেখা হচ্ছে।

    অর্থনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি, কিছু অভিযোগ উঠেছে যে উপদেষ্টা এলাকায় বরাদ্দ বেশি দেওয়া হয়। এই বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়, কারণ প্রজেক্টগুলো অনেক পুরোনো।

    কর্তৃপক্ষ এক গবেষণায় জানিয়েছে, দেশের ১০টি পরিবারের মধ্যে তিনটিই খাদ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন। সাংবাদিকরা এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কিছু খাদ্যঘাটতি আছে, বিশেষ করে শিশু ও মায়েদের ক্ষেত্রে।

    সরকার খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভিজিএফ ও স্পেশাল ট্রেকের মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। জেলেদের জন্য কয়েক দিন থেকে মাছ ধরা বন্ধ, এবং তাদের জন্য ২০ কেজি করে খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া, আমাদের লক্ষ্য হল সুষম খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা, যেখানে ডিম ও অন্যান্য আমিষের যোগান বাড়ানো হবে, কারণ এগুলোর ক্রয় ক্ষমতা কিছুটা কম। এই সব উদ্যোগের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে খাদ্য ও পুষ্টির ঘাটতি কমানোর কাজ চালিয়ে যাবে সরকার।

  • সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বেশি

    সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বেশি

    বাংলাদেশের বাজারে আবারও সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। দেশের শৈলীর মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬ গ্রাম) দাম বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ৪১৫ টাকা। ফলে এখন এই মানের সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকায়। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হবে, বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এর পেছনে মূল কারণ হলো স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার দামের বৃদ্ধির প্রভাব।

    গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-এর বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এর আগে, ২৪ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়েছিল। তখন এক ভরি ভালো মানের সোনার মূল্য ছিল ১৯৪,৮৫৯ টাকা, যা তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে ২৮ সেপ্টেম্বর সেই মূল্য কিছুটা কমে আসে। এখন আবার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দামে ২ হাজার ৪১৫ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের ভরি দাম ২ হাজার ২৯৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি ১ হাজার ৯৭১ টাকা বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ হাজার ৬৮০ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৫ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

    অন্যদিকে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর, ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৯ টাকা, যা ১ হাজার ৮৯০ টাকা কমে। সেইসঙ্গে অন্যান্য ক্যাটাগরির দামও কমে বসে।

    এছাড়া, রুপার দামের পরিবর্তন হয়নি। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬২০৮ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ২২৮ টাকা। তবে, এই দামগুলোর মধ্যে আশা করা যায়, ভবিষ্যতেও দাম পরিবর্তনের জন্য কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা থাকবে।

  • ইসলামী ব্যাংকে আরো ২০০ চাকরিপ্রার্থীর চাকরি বাতিল

    ইসলামী ব্যাংকে আরো ২০০ চাকরিপ্রার্থীর চাকরি বাতিল

    নজিরবিহীন শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক। চাকরির শর্ত ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একযোগে আরও ২০০ কর্মীকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অব্যাহত করেছেন। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে মোট ৪০০ জন কর্মী তাদের চাকরি হারালেন।

    এই প্রসঙ্গে এক বাংলাদেশ ব্যাংকার বলছেন, এই ধরণের উদ্যোগ বিরল ও নজিরবিহীন। তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি দক্ষতা যাচাই ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)-এর পরিচালিত ‘বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা’ এর মাধ্যমে এ প্রক্রিয়ার সূচনা হয়। এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৪১৪ জন কর্মী, এর মধ্যে ৮৮ শতাংশ বা ৩৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। অপতৎপরতা থাকলেও বাকি ৫০ জনকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া প্রায় ৫ হাজার কর্মীকে আপাতত ওএসডি (বিশেষ দায়িত্বে সংযুক্ত) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    ব্যাংকের সূত্র জানিয়েছেন, চাকরি বাতিলের জন্য কেবল অযোগ্যতা নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, সহকর্মীদের বাধা ও ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান গ্রহণের মতো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিছু কর্মী।

    অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ড. কামাল উদ্দীন জসীম বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য কাউকে ছাঁটাই করা নয়, বরং তাদের দক্ষতা যাচাই এবং কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করা।

    অপরদিকে, জানা গেছে, ২০১৭ সালে প্রভাবশালী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যাওয়ার পর থেকে হাজারো কর্মী সরাসরি বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ পান। অধিকাংশ নিয়োগ ঢাকার চট্টগ্রাম অঞ্চলের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে হয়েছে, ফলে বর্তমানে ব্যাংকের প্রায় অর্ধেক কর্মীই ওই অঞ্চলের।