Category: অর্থনীতি

  • অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফেরত আনা সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফেরত আনা সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশে পাচার হওয়া অর্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি এখনই নির্দিষ্ট পরিমাণের কথা জানাননি। আজ, মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

    সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, কি পরিমাণ অর্থ ফেরত পাওয়া যেতে পারে? এর জবাবে ড. সালেহউদ্দিন বলেছিলেন, যারা টাকা পাচার করে তারা এসব করতে বেশ বুদ্ধি খাটায়। এই অর্থ ঘরে তোলার জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। তবে কিছু অগ্রগতি হয়েছে, বিভিন্ন লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা চলমান, যার ফলে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কিছু অর্থ আসার সম্ভবনা রয়েছে। বাকির জন্য আমরা প্রস্তুত।

    তিনি আরও বলেন, এই ধরনের প্রক্রিয়া কোনো সরকারের পক্ষে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমি বলেছি, টাকা দিয়ে দাও সেন্ট্রাল ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকে। যদি না দেয়, তাহলে法律ীয় প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসব প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ১১ থেকে ১২টি লিগ্যাল প্রক্রিয়ায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বাকি সম্পত্তি বা অর্থের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে, যেখানে ২০০ কোটি টাকার বেশি অর্থের ক্ষেত্রেও নজর রাখা হচ্ছে।

    নতুন সরকার কি এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন বলেন, তারা বাধ্য থাকবেন কারণ, যদি এই প্রক্রিয়াগুলো চালু না থাকে, তাহলে অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হবে না। অর্থ ওঠাতে হলে এসব নিয়ম-কানুন অনুসরণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ না করলে অর্থ ফেরত আনা যাবে না।

    অপর প্রশ্নে তিনি বলেন, এখনো কিছু পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। তবে তিনি আশ্বাস দেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিষয়ে বিশদ বিশ্লেষণ এবং রিভিউ করবে এবং কতটুকু অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব, তা জানা যাবে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সম্পদ বিভিন্ন দেশের অ্যাকাউন্টে被冻结 রয়েছে, যেখানে পাচারকারীদের টাকা আছে এবং বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। কাজের উপর কিছুটা সময় লাগবে।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, উপদেষ্টাদের এলাকায় বেশি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্য নয়। তিনি পরিষ্কার করেন, এই প্রকল্পগুলো অনেক আগেই শুরু হয়েছে।

    অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো, দেশে কিছু পরিবারের মধ্যে পুষ্টিহীনতা এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। ব্রডকাস্ট রিপোর্টে বলা হয়, দেশের ১০টি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবারেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের কিছুটা উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে, বিশেষ করে শিশু ও মাতাদের মধ্যে পুষ্টির অভাব। আমাদের চেষ্টা চলছে, খাদ্যসুবিধা যেমন ভিজিএফ এবং স্পেশাল ট্রাঙ্কের মাধ্যমে উপকারিতা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও, তাদের জন্য ২০ কেজি করে খাদ্য দেয়া হচ্ছে।

    তিনি বললেন, আমাদের খাদ্য ব্যবস্থা আরও উন্নত প্রয়োজন, কারণ এখন মূলত চালের উপর নির্ভরতা বেশি। অন্য খাদ্যশস্যের অ্যাক্সেস কম থাকায় পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়, যেখানে ডিম অন্যতম প্রয়োজনীয় আমিষ। অনেক মানুষই এই পণ্য ক্রয় করতে পারছে না। আমাদের লক্ষ্য হলো, সবস্তরের মানুষের জন্য পুষ্টি নিশ্চিত করা।

  • সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা হল নতুন দাম

    সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা হল নতুন দাম

    দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও নতুন রেকর্ড মূল্য সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকায়। এই মূল্য বৃদ্ধি মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। মূলত, স্থানীয় বাজারে তেজাবী এর দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং এই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরে, কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    এর আগে, ২৪ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন, ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এর আগে, এই মূল্যটাই ছিল দেশের সর্বোচ্চ সোনার দাম। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর, এই দাম কিছুটা কমিয়ে আনা হয়। আবার, আজ নতুন করে দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হলো।

    বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখনো সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ৪১৫ টাকা। ফলে, এর নতুন দাম নির্ধারিত হলো ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা। একই সময়ে, ২১ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম ২ হাজার ২৯৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    অপরদিকে, ১৮ ক্যারেটের সোনার ভরি দাম বেড়ে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৫ টাকায় পৌঁছায়। সনাতন পদ্ধতির গোল্ডের দামও সংশোধন করে এক ভরি ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর, দেশের বাজারে সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের সোনার মূল্য কমানো হয় ১ হাজার ৮৯০ টাকা, ফলে নতুন দাম হয় ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৯ টাকা। অন্য ক্যাটাগরিতে, ২১ ক্যারেটের সোনার ভরি দাম কমে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৯৮ টাকা, আর ১৮ ক্যারেটের দাম কমে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৪ টাকা হিসেবে নির্ধারিত হয়। এছাড়া, সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম কমে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৫ টাকা। এই দামগুলো সোমবার পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

    তবে, সোনা যেমন দাম বাড়ছে, তেমনি রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের রুপার এক ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা। আরও অন্যান্য ক্যাটাগরির রুপার দাম যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ২ হাজার ২২৮ টাকা।

  • ইসলামী ব্যাংকে ২০০ কর্মী চাকুরিচ্যুত, ৪৯৭১ জনকে ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংকে ২০০ কর্মী চাকুরিচ্যুত, ৪৯৭১ জনকে ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ সম্প্রতি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে, যেখানে ২০০ জনকে চাকুরিচ্যুত করা হয় এবং আরও ৪৯৭১ জনকে ওএসডি (অফ সার্ভিস ডিউটি) করা হয়েছে। ওএসডি হওয়া কর্মীরা এখনো বেতন-ভাতা পেয়েছেন, তবে তারা এখন কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকের অন্দরমহলে কিছুটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

    অভ্যন্তরীণ مصادر জানিয়েছে, ২০১৭ সালে প্রভাবশালী চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর ব্যাংকে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। মূলত, বদলি নিয়োগের সময় বিজ্ঞাপন বা লিখিত পরীক্ষা না Workplace নির্মিত হয়নি। অধিকাংশ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীই ছিল চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা, যার ফলে বর্তমানে ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীই ওই অঞ্চল থেকে আসা।

    একজন সিনিয়র কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেছেন, “এস আলম গ্রুপের সময় কিছু অযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা ব্যাংকের সার্বিক প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর। তাই এখন সবাইকে যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

    বাংলাদেশ ব্যাংক ও হাইকোর্টের নির্দেশনার ভিত্তিতে, ২৭ সেপ্টেম্বর এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৫,৩৮৫ জন কর্মকর্তাকে জানানো হলেও মাত্র ৪১৪ জনই অংশ নিয়েছেন। পরবর্তীতে, যারা অংশ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের দ্রুত ওএসডি করা হয়। পাশাপাশি, পরীক্ষার আয়োজনে বিভ্রান্তি ও বিরোধিতা ছড়ানোর কারণেও ২০০ কর্মীকে চাকুরিচ্যুতির ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    ওএসডি হওয়া কর্মীদের অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট করার পর আদালত তাদের জন্য নিয়মিত প্রমোশনাল পরীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশ অমান্য করে আলাদা পরীক্ষা চালায়, যা বেআইনি বলে তারা মনে করছেন। তারা আবারও আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ‘‘এটি দেশের প্রথম পরীক্ষা যেখানে ছাঁটাইয়ের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত, পদোন্নতির জন্য ভাইভা নেওয়া হয়, কিন্তু কর্মীদের মান যাচাইয়ের জন্য এই ধরনের পরীক্ষা প্রথমবারের মতো।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই নিয়োগ ও কর্মী যাচাই তাদের এখতিয়ারের মধ্যে। তবে এ কাজগুলো অবশ্যই দেশের আইন ও নীতিমালা অনুসারে হতে হবে।’’

    ২০১৭ সালে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এস আলম গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেছে। এর ফলে ব্যাংকটি গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রদবদল আনয়ন করে এস আলমের প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নেয়।

  • চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আড়াই শতাংশের কাছাকাছি হবে

    চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আড়াই শতাংশের কাছাকাছি হবে

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশে দাঁড়াবে। তবে, ২০২৬ সালে অর্থবছরের শেষে এটি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৫ শতাংশের অধিক হতে পারে। তবে চলমান ধীরগতির বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন, যা ব্যবসাপ্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি দেশের পোশাক রপ্তানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিক বিরোধ আর উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশের সামগ্রিক চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

    এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ করেছে এই প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতির মানোন্নয়নের জন্য ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা, প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

    এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জং বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রভাব এখনও বাংলাদেশে দেখা যায়নি, তবে ব্যাংকিংখাতের দুর্বলতা গভীর থাকাটা স্বাভাবিক। অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা অপরিহার্য। ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু নেতিবাচক ঝুঁকি রয়েছে, যেমন ট্রেড নীতিতে অনিশ্চিয়তা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং নীতিগত স্থিতিস্থাপকতার অভাব। তাই সক্রিয় ও বলিষ্ঠ অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ এবং কাঠামোগত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি; এগুলো টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এডিবি আরও বলেছে, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতার ঘাটতি, অপর্যাপ্ত তথ্য, সরবরাহ শৃঙ্খলার ব্যর্থতা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে ২০২৪ অর্থবছরে এটি ৯.৭৭ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ১০ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে, ২০২৫ সালে জিডিপির সামান্য উদ্বৃত্তের আশা করা হচ্ছে, যার প্রবৃদ্ধি হবে ০.০৩ শতাংশ, যা ২০২৪ অর্থবছরের ১.৫ শতাংশ ঘাটতির তুলনায় বেশ ইতিবাচক। এটি উন্নতি পাচ্ছে মূলত নানা ধরনের বাণিজ্য সুবিধা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণে।

  • চূড়ান্ত হলো একীভূত হতে যাওয়া ৫ ব্যাংকের প্রশাসকদের নাম

    চূড়ান্ত হলো একীভূত হতে যাওয়া ৫ ব্যাংকের প্রশাসকদের নাম

    বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের নতুন প্রশাসকদের নাম চূড়ান্ত করেছে। এসব ব্যাংকের প্রশাসকদের দায়িত্বে থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই পরিচালক, যাঁরা ইউনিয়ন ব্যাংকের এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব পাভবেন। এছাড়াও ফার্স্ট সিকিউরিটি, সোশ্যাল ইসলামি ও গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংকের দায়িত্বে থাকবেন তিনজন নির্বাহী পরিচালক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার তাদের নাম চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নির্বাচিত প্রশাসকদের মধ্যে এক্সিম ব্যাংকের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোঃ শওকত উল আলমকে। অন্যদিকে, মুহাম্মদ বদিউল আলম দিদার পাচ্ছেন সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের প্রশাসন, আর মোঃ সালাহ উদ্দীন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকের। পাশাপাশি, মোহাম্মদ আবুল হাসেম ও মকসুদুল আলমের দায়িত্ব দেয়া হবে ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংকের জন্য। বিতর্ক এড়ানোর জন্য আইনী জটিলতা এড়াতে প্রয়োজনীয় সভার পরবর্তী সময়ে আগামী মাসের প্রথম দিকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শরিয়াহভিত্তিক এই পাঁচ ব্যাংকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। ব্যাংকগুলোর ঋণের বেশির ভাগই খেলাপি হয়ে থাকায় গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে, গ্রাহকদের অসন্তুষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেয় দেশের এই পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে একীভূত করার।

    গত ১৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের এক বিশেষ সভায় এই একীভূতির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে একটি রাষ্ট্রীয় ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ব্যাংকগুলোর প্রশাসন কেন্দ্র করে প্রশাসকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় মোট ৩৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেয়া হবে। এটি দেশীয় ব্যাংক খাতের জন্য একটি বড় স্থিতিশীলতার ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • এশিয়ার উন্নয়ন ব্যাংকের পূর্বাভাস: এই অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের কাছাকাছি হবে

    এশিয়ার উন্নয়ন ব্যাংকের পূর্বাভাস: এই অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের কাছাকাছি হবে

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের মোট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশের আশেপাশে থাকবে, তবে পরবর্তী অর্থবছর মাধ্যমে এটি বৃদ্ধি পেয়ে ৫ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাবে। তাদের განცხადებით, এই প্রবৃদ্ধির ধীর গতি মূলত চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলোর কারণে হয়েছে। পাশাপাশি, বারবার বন্যা, শিল্প শ্রমিকদের বিরোধ এবং উচ্চ মহামারীজনিত মূল্যস্ফীতির প্রভাবে দেশীয় চাহিদা কমে যাওয়ার ফলেও এই প্রভাব পড়েছে।

    এডিবির নতুন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও), যা গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে, এই তথ্যগুলো প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতা বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং জ্বালানির নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সুন্দরভাবে উন্নত হতে পারে।

    এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের মূল বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতাগুলোর মধ্যে মার্কিন শুল্কের প্রভাব এখনো দেখা যায়নি, তবে ব্যাংকিং খাতে কিছু দুর্বলতা এখনো রয়ে গেছে। উচ্চমানের অর্থনৈতিক সম্পাদনাকে অর্জন করতে হলে এইসব চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় কঠোর মনোভাব নেয়া অপরিহার্য। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ২০২৬ সালের অর্থবছরের জন্য কিছু নেতিবাচক ঝুঁকি বহাল থাকছে, যেমন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং খাতে দুর্বলতা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা। এই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত অর্থনৈতিক নীতি ও কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি, যা টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি শক্ত করবে।

    এডিবি আরও জানিয়েছে, বাজারে প্রতিযোগিতা কম, পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব, সরবরাহ শৃঙ্খলার অসুবিধা এবং মুদ্রার দুর্বলতার কারণে ২০২৪ অর্থবছরে যেখানে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ, তা ২০২৫ সালে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে, চলতি হিসাবের উদ্বৃত্তের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা ২০২৪ অর্থবছরের জিডিপির ১.৫ শতাংশ ঘাটতির তুলনায় সামান্য বেশি। এই পরিস্থিতি মূলত শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সংকুচিত বাণিজ্য ঘাটতির ওপর নির্ভরশীল।

  • পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

    পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশের বাইরে থেকে পাচার হওয়া টাকা মোটের উপর একটি অংশ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে তিনি এই অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানাননি।

    মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, টাকা পাচারকারীরা অনেক বুদ্ধি করে এই অর্থ আনার পরিকল্পনা করে থাকেন, ফলে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এখন কিছু অগ্রগতি হয়েছে, অনেক লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশার কথা হলো, হয়তো ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কিছু অর্থ দেশে ফেরত আসতে পারে। বাকি অর্থের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, এই প্রক্রিয়া কোনো সরকারই এড়িয়ে যেতে পারবে না। তাকে উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন, যেভাবে বলছেন—টাকা দিয়ে দিন সেন্ট্রাল ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকে, যদি এই ব্যবস্থা না মানে, তাহলে তার লিগ্যাল পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ইতিমধ্যে এই লিগ্যাল প্রক্রিয়াগুলো শুরু হয়েছে।

    তিনি জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় ১১ থেকে ১২টি বড় অংকের অর্থ ফেরত আনা নিয়ে সরকার হাই অগ্রাধিকার দিয়েছে। আর যেসব অ্যান্টি-আনফ্রডেস্ট কেসের মধ্যে ২০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    নতুন সরকার ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন বলেন, সরকার অবশ্যই এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে কারণ এতে অর্থ ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রসেস চালু রাখা বাধ্যতামূলক। যদি এই প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে, তাহলে অর্থ ফেরত আসবে না। তাই এই পদ্ধতিগুলো চালু রাখতে হবে—এটাই আন্তর্জাতিক মানের অনুশীলন।

    পরিমাণ কত টাকা ফেরত আসবে, এই বিষয়েও প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, এটা আমি বলতে পারছি না; এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছেই জিজ্ঞাসা করতে হবে।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, কিছুদিনের মধ্যে পাচার হওয়া অর্থের বিস্তারিত পরিমাণ ও ধরনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কমপ্রেসিভ রিপোর্ট দেবে। ইতিমধ্যে দেশের বাইরে কিছু অর্থ অ্যাসেটের ফ্রিজ করা হয়েছে, যেখানে ওদের বিভিন্ন দেশীয় ব্যাংক ও অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ চলছে। ওদের পাসপোর্টের তথ্যও রয়েছে। বাকিটা কাজ শেষ হলে, আশা করা যায় দ্রুত সময়ে আরও অর্থ ফেরত আসতে পারে।

    অপরদিকে, উপদেষ্টা এলাকায় বেশি বরাদ্দের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, এসব প্রজেক্ট অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে, নতুন কিছু নয়।

    এছাড়া, বাংলাদেশ স্ট্যাটISTICS বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ১০টি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানানো হয়। এই বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত নিউট্রিশনের ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে শিশু ও নারীদের মধ্যে। এই সমস্যা মোকাবেলায় আমরা বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছি।

    তিনি বলেন, আমাদের কিছুটা খাদ্য ঘাটতি রয়েছে, যেখানে আমাদের খাদ্য সামর্থ্য কম। এর জন্য আমিষের প্রয়োজন রয়েছে, যেমন ডিম। আমরা চেষ্টা করছি, যাতে সাধারণ মানুষ তা ক্রয় করতে পারে এবং অসচেতনতা কমে। খামার কাজে ন্যূনতম খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।

  • সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বেশি

    সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বেশি

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম আকাশ ছুঁয়েছে। সবচেয়ে উচ্চ মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) মূল্য যোগ হয়েছে ২ হাজার ৪১৫ টাকা। ফলে আজকের দিনে এই মানের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকায়।

    বাংলাদেশের স্বনামধন্য জুয়েলার্স প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হবে। বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং গত সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত পাস করে। পরে এই কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন बिगড় শ্লথভাবে বাড়তে থাকলেও, সেই সময়ে এক ভরি মানের সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা, যা দেশের বাজারে তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম ছিল। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর দাম কিছুটা কমে আসে, কিন্তু আবার নতুন করে দাম বাড়ানো হয়েছে।

    বর্তমানে, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন এক ভরি জন্য ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ টাকা, যা আগের চেয়ে ২ হাজার ২৯৮ টাকা বেশি।

    ১৮ ক্যারেটের সোনার দামে এখন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৫ টাকা, যা আগের থেকে ১ হাজার ৯৭১ টাকা বেশি। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির বা পুরোনো সংজ্ঞায় এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৫ টাকা, যেখানে আগের দাম ছিল অনেক কম।

    উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সোনার দামে ফের পতন দেখা গেছে। ওই দিন সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ১ হাজার ৮৯০ টাকা কমে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৯ টাকা হয়। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের দাম কমে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৯৮ টাকা হয়। ১৮ ক্যারেটের জন্য এই দাম ছিল ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৪ টাকা।

    তবে, সার্বিকভাবে সোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ২ হাজার ২২৮ টাকা।

  • ইসলামী ব্যাংকে ২০০ কর্মী চাকরিচ্যুত ও ৪৯৭১ জন ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংকে ২০০ কর্মী চাকরিচ্যুত ও ৪৯৭১ জন ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ সম্প্রতি কর্মস্থলের নীতিমালা লঙ্ঘন এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছে। একই সঙ্গে, ৪,৯৭১ জন কর্মীকে ওএসডি (অন সার্ভিস ডিউটি) ঘোষণা করা হয়। ওএসডি হওয়া কর্মীরা এখন বেতন-ভাতা পেয়েছেন, তবে তারা আপাতত কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এর ফলে ব্যাংকের অভ্যন্তরে কিছুটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

    ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের দ্বারা ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বহু কর্মী সরাসরি সোয়াইভি দিয়ে নিয়োগ লাভ করেন, যেখানে কোনও লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। নিয়োগপ্রাপ্তদের বেশিরভাগই ছিল পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা, যার ফলে বর্তমানে ব্যাংকের প্রায় অর্ধেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এই অঞ্চল থেকে আসা।

    একজন সিনিয়র কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, “এস আলম গ্রুপের সময় অযোগ্য লোকজনের নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংককে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সবাইকে যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

    বাংলাদেশ ব্যাংক ও হাইকোর্টের নির্দেশে ২৬ সেপ্টেম্বর এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৫,৩৮৫ জন কর্মকর্তা ডাক পাওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৪১৪ জন অংশ নেন। যারা উপস্থিত হতে পারেননি, তাদের সবাইকেই পরের দিন থেকেই ওএসডি করে দেওয়া হয়। এছাড়াও, পরীক্ষার প্রক্রিয়া কেন্দ্রীক বিভ্রান্তি ও প্রকাশ্যে বিরোধিতা চালানোর কারণে ২০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

    ওএসডি হওয়া কর্মীদের অভিযোগ, তারা হাইকোর্টে রিট করলে আদালত নিয়মিত প্রমোশনাল পরীক্ষা চালানোর আদেশ দেন। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই আদেশ অমান্য করে আলাদা যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষার আয়োজন করে, যা বেআইনি বলে তারা মনে করছেন। তারা আবারও আদালতের শরণাপন্ন হতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “অনুসন্ধানী ছাঁটাইয়ের জন্য এ ধরনের পরীক্ষা দেশে এই প্রথম। সাধারণত পদোন্নতির জন্য ভাইভা নেওয়া হয়, তবে এই ধরনের যোগ্যতা যাচাই প্রথমবারের মতো।” তিনি আরও বলেন, “ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তাই নিয়োগ বা কর্মী যাচাইয়ের এখতিয়ার তাদের হলেও, অবশ্যই দেশের আইন ও নীতিমালা মেনে সেটি করতে হবে।”

    অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়, যার ফলে ব্যাংকটি গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। ২০২৪ সালে পরিবর্তিত সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রদবদল এনে এস আলমের প্রভাব কমানোর পাশাপাশি ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

  • পুঁজিবাজারে সবসময় মুনাফা আসবে, তা ভুল ধারণা: অর্থ উপদেষ্টা

    পুঁজিবাজারে সবসময় মুনাফা আসবে, তা ভুল ধারণা: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পুঁজিবাজার থেকে সবসময় লাভের আশা করা ভুল। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কেউ যদি মনে করে এই বাজারের মাধ্যমে নিয়মিত স্থায়ী আয় করা সম্ভব, তবে এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। দেশের মূলধন বাজারে যেমন মুনাফার সুযোগ রয়েছে, তেমনি ক্ষতির সম্ভাবনাও লুকানো রয়েছে। তাই বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে হবে যে শেয়ার বা বন্ড কেনা মানে কখনো কখনো ক্ষতিও ভাগ করে নিতে হয়।

    সোমবার ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও সুকুক বাজার উন্মোচন: রাজস্ব ক্ষেত্র, অবকাঠামো সরবরাহ এবং ইসলামী মানি মার্কেট উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    ড. আহমেদ আরও বলেন, বাংলাদেশের মূলধন বাজার এখনও যথাযথভাবে উন্নত হয়নি। সরকারি বন্ডের সেক্টর থাকলেও সেখানে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ খুবই কম, আর শেয়ারবাজার প্রায় ক্ষুদ্র। ফলে বড় প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ভাগাভাগি না করে تنها ব্যাংকের উপর ভরসা করা হচ্ছে। এতে ঋণখেলাপি ও তহবিল অপব্যবহার বেড়ে যায়, যা দেশের জন্য বড় ট্রাজেডি। প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকি কমানোর জন্য মানুষকে বন্ড, ডিবেঞ্চার ও শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া এবং তারপর তা ভুল খাতে ব্যাবহার করাও সমাধান নয়। তাই মূলধন বাজারে বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং বিনিয়োগকারীদের বুঝতে হবে যে এখানে ঝুঁকি যেমন আছে, তেমনি লাভের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সুকুক বাজারে বর্তমানে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বন্ড রয়েছে, তবে সেগুলো শিক্ষা ও স্যানিটেশন খাতে বিনিয়োগ হওয়ায় আয়ের হার কম। যদি এই বন্ডগুলো উৎপাদনমুখী প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়, তবে লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যাংকের ওপর চাপ কমবে। সুকুক অবশ্যই প্রকৃত সম্পদভিত্তিক হতে হবে, যেন বিনিয়োগকারীরা আস্থা রাখতে পারেন।

    অর্থ উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে এখনো সিকিউরিটাইজেশন (অর্থ সংরক্ষণ ও একীকরণ) কার্যকরভাবে কাজে লাগেনি। অথচ যদি মেট্রোরেলসহ আরও বড় বড় প্রকল্পে এই প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা হয়, তবে বিশ্বব্যাংকের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া পেনশন ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, কারণ এগুলো সরকার কর্তৃক দায়বদ্ধতা।

    তিনি বলেন, শুধু মূলধন ও সুকুক বাজারের উন্নয়নই নয়, বীমা খাতের উন্নয়নেও নজরদারি জরুরি। পাশাপাশি কর কাঠামো ও প্রণোদনা সংস্কার করে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে হবে।

    সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ প্রমুখ।