Category: অর্থনীতি

  • মুদ্রাস্ফীতি কমলেও দারিদ্র্য বেড়ে যাচ্ছে, কর্মসংস্থান কমছে: বিশ্বব্যাংক

    মুদ্রাস্ফীতি কমলেও দারিদ্র্য বেড়ে যাচ্ছে, কর্মসংস্থান কমছে: বিশ্বব্যাংক

    চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট সংসদীয় উৎপাদন বা জিডিপি যেখানে প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমে যাওয়ার ফলে এখন বেসরকারি ভোগের সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে, এই সময়ে অর্থনীতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় অপ্রত্যাশিত নয়।

    বিশ্বব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরবর্তী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হয়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি এতে এশিয়ার ডেভেলপমেন্ট আপডেট শীর্ষক আরেকটি প্রতিবেদনের তথ্যও তুলে ধরা হয়।

    বিশ্বব্যাংকের ডিভিশনাল ডিরেক্টর জেন পেসমি, সংস্থার চীফ ইকনোমিস্ট ফ্রানজিসকা লেসলোট ওহসেজ এবং অন্য কর্মকর্তারা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের অর্থনীতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সংস্থার ইকনোমিস্ট নাজসুস সাকিব খান ও সিনিয়র এক্সটারনাল অফিসার মেহেরিন এ মাহবুব।

    প্রতিবেদনটি বলছে, চলমান অর্থবছরে বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বাড়বে বলে আশা করা হলেও, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এই বৃদ্ধির গতিকে বাধা দিতে পারে। আমদানিতে স্বাভাবিকতা আসলে চলতি হিসাবের ঘাটতি কিছুটা বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উন্নতির ফলে রাজস্ব আয়ের বৃদ্ধির সঙ্গে জিডিপির অনুপাতের রাজস্ব ঘাটতি ৫ শতাংশের নিচে রাখতে পারা সম্ভব হবে।

    মুদ্রাস্ফীতির দিকেও এ প্রতিবেদন আন্তরিক মনোযোগ দেয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমলেও, ২০২৫ সালের আগস্টে তা ৮ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ২০২৪ সালের নভেম্বরের ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫ সালের আগস্টে ৭ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। এর পেছনে নিয়মিত বিনিময় হার এবং খাদ্য সরবরাহের পুনরুদ্ধার বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

    নিম্ন-আয়ের মানুষের মধ্যে মজুরির বৃদ্ধির হার মুদ্রাস্ফীতির থেকে বেশির ভাগই বেশি হলেও, সম্প্রতি এই ব্যবধান কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। তবে, দারিদ্রের হার এখনও বাড়ছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে দেশের দারিদ্র্যের হার ২১ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২৪ সালে ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। শ্রমশক্তির অংশগ্রহণও কমে গেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ হার ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে, যেখানে নারীর অংশগ্রহণে সবচেয়ে বেশি হ্রাস ঘটেছে। এই সময়ে প্রায় ৩০ লাখ কর্মক্ষম বয়সী ব্যক্তি শ্রমবাজারের বাইরে রয়েছেন, এর মধ্যে ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন নারী। এর ফলে, মোট কর্মসংস্থান প্রায় ২০ লাখ কমে ৬৯ দশমিক ১ লাখে দাঁড়িয়েছে। কর্মক্ষম জনসংখ্যার সাথে কর্মসংস্থানের অনুপাত ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগে আরো বেশি ছিল।

    অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এখনও উদ্বেগের কারণ। খেলাপি ঋণ মূল মূলচ্যালেঞ্জ হিসেবে বিদ্যমান। মূলধন ঝুঁকি বাড়াতে সম্পদের অনুপাত ৬ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা সাধারণত ১০ শতাংশের নিচে। সরকারের পক্ষ থেকে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে মার্জ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাসনব্যবস্থা ও পরিচালনাগত স্বাধীনতা শক্তিশালী করতে নানা প্রচেষ্টা চলমান। এ ছাড়া, ব্যাংকের কর্পোরেট শাসন উন্নত করার জন্য আইনি কাঠামো নির্মাণ এবং জরুরি তরল্য সহায়তা ব্যবস্থা চালু করার কাজ চলছে।

    প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করে, ২০২৫ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সামান্য হ্রাস পেয়ে ৪ দশমিক ০ শতাংশে দাঁড়াবে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। দুর্বল বিনিয়োগের কারণে এই প্রবৃদ্ধি মাত্র ০ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যবসা পরিচালনায় উচ্চ ব্যয়ের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগও কমে গেছে। সরকারি বিনিয়োগের গতি আরও ধীর।

    অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি, প্রতিবেদনে কর-রাজস্ব বৃদ্ধি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে কর-জিডিপি হার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় খুবই কম, যা দেশের টেকসই উন্নয়নের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

  • সোনার দাম ফের বাড়ল, ভরিতে আরও ১৪৬৯ টাকা বৃদ্ধি

    সোনার দাম ফের বাড়ল, ভরিতে আরও ১৪৬৯ টাকা বৃদ্ধি

    দেশের বাজারে সোনার দাম প্রথমবারের মতো ভরিতে ২ লাখ টাকার নিচে নামিয়ে আনার এক দিন পরই আবার দাম বেড়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করে যে, দেশের বাজারে মোটা মানের সোনার দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে গত চার দিনে সোনার ভরি মূল্য বেড়েছে মোট ৬ হাজার ৮৪৮ টাকা। নতুন দাম আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুসের তথ্যানুযায়ী, নতুন দাম অনুযায়ী, এক ভাল মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনা ভরিতে এবার খরচ পড়বে ২ লাখ ২ হাজার ১৯৫ টাকা, যা আগের থেকে ১৪৬৯ টাকা বেশি। এছাড়া ২১ ক্যারেটের সোনা ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭২ টাকায় বিক্রি হবে।

    অন্যদিকে, আজ পর্যন্ত বিদ্যমান দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সোনা ভরিতে বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৭২৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের ১ লাখ ৯১ হাজার ৬০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৬৪ হাজার ২২৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪৫ টাকায়।

    নতুন দাম অনুযায়ী, আজ থেকে সোনার ভরি প্রথমে ২২ ক্যারেটে ১৪৬৯ টাকা, ২১ ক্যারেটে ১৩৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম প্রতি ভরি ১ হাজার ২৭ টাকা বৃদ্ধি পাবে।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও বৃদ্ধি হয়েছে। এবার এক ভরি রুপার সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২৬ টাকা। ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের রুপার দাম এখন ভরিতে ৪ হাজার ৬৫৪ টাকা। এর পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৪৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৮০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সংক্ষেপে বললে, সাধারণত ভরিতে ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৯৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৮৪০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৬৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • মুদ্রাস্ফীতি কমলেও দারিদ্র্য বাড়ছে, কর্মসংস্থান কমেছে: বিশ্বব্যাংক

    মুদ্রাস্ফীতি কমলেও দারিদ্র্য বাড়ছে, কর্মসংস্থান কমেছে: বিশ্বব্যাংক

    চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধির হার প্রায় ৪.৮ শতাংশের মতো হতে পারে, যা অর্থনীতির বেশ উন্নতি সূচক। মুদ্রাস্ফীতির উপর নিয়ন্ত্রণ আসার ফলে ব্যক্তিগত খরচে কিছুটা বৃদ্ধি ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, আর ফলস্বরূপ গত অর্থবছরের তুলনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালী হবে।

    বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে এ সকল পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও জোরদার হয়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছানোর আশার কথাও জানানো হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়। এ সময় প্রতিবেদনটির সাথে সাথে এশিয়ার ডেভেলপমেন্ট আপডেট শীর্ষক আরেকটি রিপোর্টও প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বিশ্বব্যাংকের ডিভিশনাল ডিরেক্টর জেন পেসমি, ঢাকা অফিসের চীফ ইকনোমিস্ট ফ্রানজিসকা লেসলোট ওহসেজ, এবং ইকনোমিস্ট নারজুস সাকিব খান। এ ছাড়াও, সিনিয়র এক্সটারনাল অফিসার মেহেরিন এ মাহবুবও বক্তব্য দেন।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বিনিয়োগের পরিমাণ সামান্য বৃদ্ধি পাবে। তবে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এই দ্রুত প্রবৃদ্ধির পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি, যদি আমদানি স্বাভাবিক হয়, তাহলে চলতি হিসাবের ভারসাম্য সামান্য ঘাটতির দিকে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থনীতির উন্নতির সাথে সাথে কর রাজস্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় জিডিপিতে দেশের রাজস্ব ঘাটতি ৫ শতাংশের নিচে থাকবে বলে দেখানো হয়েছে।

    মুদ্রাস্ফীতির দিক থেকেও প্রতিবেদনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসগুলিতে এটি ধীরেধীরে কমছে, তবে ২০২৫ সালের আগস্টে এটি ৮.৩ শতাংশে পৌঁছেছিল। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ২০২৪ সালের নভেম্বরের ১৩.৮ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫ সালের আগস্টে ৭.৬ শতাংশে নেমেছে। বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকার পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহ পুনরুদ্ধার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে এই উন্নতি।

    অল্প আয়ের মানুষজনের মধ্যে মজুরি এখনও মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে বেশি হারে বৃদ্ধি পেলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এই ব্যবধান কমে আসছে। তবে, দারিদ্র্য হার এখনও বেড়েই চলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২১.২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ২০.৫ শতাংশ। শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হারও কমে গেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এটি ৬০.৯ শতাংশ থেকে নেমে ৫৮.৯ শতাংশ হয়েছে, যার মূল কারণ হলো নারীদের অংশগ্রহণ হ্রাস। এ সময়ে প্রায় ৩০ লাখ কর্মক্ষম বয়সী মানুষ শ্রমশক্তির বাইরে চলে গেছেন, যার মধ্যে ২.৪ মিলিয়ন নারী। পাশাপাশি, মোট কর্মসংস্থান প্রায় ২০ লাখ কমে ৬৯.১ লাখে দাঁড়িয়েছে, ফলে কর্মসংস্থান-জনসংখ্যার অনুপাত ৫৬.৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

    অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দুর্বার সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। খেলাপি ঋণের সমস্যা এখনো প্রবল, এবং মূলধন-ঝুঁকি-সম্পদের অনুপাত ৬.৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ১০ শতাংশের চেয়ে অনেক নিচে। সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুর্বল ব্যাংকগুলো মার্জ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়াও, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাসনব্যবস্থা ও পরিচালনাগত স্বাধীনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকের কর্পোরেট শাসন ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে আইনি কাঠামো উন্নত করার পরিকল্পনাও চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি, আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত এবং জরুরি তরলতা সহায়তা কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে।

    ২৭১২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সামান্য হ্রাস পেয়ে ৪.০ শতাংশে নেমেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৪.২ শতাংশ। বিনিয়োগের অপ্রতুলতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে গেছে। সরকারি বিনিয়োগও ধীরগতিতে চলিত হয়েছে, ফলে মোট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মাত্র ০.৮ শতাংশ।

    অর্থনৈতিক উন্নয়নে কর-রাজস্ব আয়ের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের কর-জিডিপি হার খুবই কম, যা একটি টেকসই উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

  • সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৮.৩৬ শতাংশে বৃদ্ধি

    সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৮.৩৬ শতাংশে বৃদ্ধি

    সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৮.৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পূর্বের মাস আগস্টে এ হার ছিল ৮.২৯ শতাংশ। এ মাসে দেশের খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত দুটি খাতের পণ্যের দাম বেড়েছে, ভাষ্য অনুযায়ী সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি একটি উদ্বেগজনক বিষয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পরও মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে যাওয়াটা বাস্তব হতাশাজনক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সোমবার প্রকাশিত মাসিক ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) এর রিপোর্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে।

    সিপিআই-য়ের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৩৬ শতাংশে। এর মানে, যদি গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে একটি পণ্য ১০০ টাকায় কেনা যেত, তবে এই সেপ্টেম্বরে সেই একই পণ্য কিনতে এখন প্রয়োজন ১০৮ টাকা ৩৬ পয়সা। অর্থাৎ, সাধারণ পণ্যের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে।

    মূল্যস্ফীতি মূলত একধরনের করের মতো, যা পরিবার চালানোর ব্যয় ভুলিয়ে দেয়। ধরা যাক, মাসে সাধারণ আয় দিয়ে সংসার চালাতে হয়, আর হঠাৎ করে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেলে বা আয়ের সাথে সামঞ্জস্য না থাকলে মানুষকে ধারদেনা করে খেতে হয় অথবা ব্যয় কমাতে হয়। এতে করে পরিবারের আর্থিক চাপ বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে, যদি মজুরি বা আয়ের বৃদ্ধি কম হয়, তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও খারাপ হয় এবং প্রকৃত আয়ের পরিমাণ কমে যায়।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গেলো অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশের বেশি, যা বিপরীতে সরকারের লক্ষ্য ছিল ৬.৫ শতাংশের মধ্যে রাখা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির মাধ্যমে এই লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল, তেমনভাবে তা অর্জিত হচ্ছে না কারণ মূল্যস্ফীতি এখনও লক্ষ্যমাত্রার ওপরে অবস্থান করছে।

    তদন্তে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে দেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭.৬৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগস্টে ছিল ৭.৬ শতাংশ। পাশাপাশি, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৯৮ শতাংশ। এর ফলে, সাধারণ জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে গেছে।

    নানা পদক্ষেপের পরও দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার আর সব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখন সবচেয়ে বেশি। ভারতের মূল্যস্ফীতি ২.০৭ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫.৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১.৫ শতাংশ, নেপালে ১.৬৮ শতাংশ, আফগানিস্তানে ২.২ শতাংশ, মালদ্বীপে ৪.৬ শতাংশ এবং ভূটানে ৩.৬ শতাংশ।

    এ মাসে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি। গ্রামে গড়ে মূল্যস্ফীতি ৮.৪৭ শতাংশ, যেখানে শহরে তার হার ৮.২৮ শতাংশে নেমেছে। বিশ্ব ব্যাংক ও এডিবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশা অনুযায়ী ৮ শতাংশের নিচে নামবে, তবে সেটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ হার হবে।

    অবশ্য, দক্ষিণ এশীয় অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে। তবে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দেশে খাদ্য ও জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। অন্যদিকে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা দেখায়, কঠোর মুদ্রানীতি, কার্যকর বাজার তদারকি এবং উৎপাদন বাড়ানোর নীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

  • টানা দুই মাস রপ্তানি কমছে

    টানা দুই মাস রপ্তানি কমছে

    চলমান অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসেই পণ্যের রপ্তানি কিছুটা কমে এসেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক আয় প্রায় ৩ শতাংশের মতহ্রাস পেয়েছে। এই ধারা চলমান থাকায় তৃতীয় মাসেও রপ্তানি অব্যাহতভাবে কমছে, যেখানে সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আরও περίπου ৫ শতাংশ কমে গেছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় এই মাসে রপ্তানি পরিমাণে কমে গেছে ১৭ কোটি ডলার ধরে। বর্তমানে রপ্তানির মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬৩ কোটি ডলার, যা গত সেপ্টেম্বরে ছিল প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার এর বেশি।

    রপ্তানির এই কমতির পেছনে মূল কারণ হলো তৈরি পোশাকের রপ্তানি অনুপাত কমে যাওয়া। রপ্তানির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পোশাকের রপ্তানি মাত্র ৬ শতাংশের মতো কমেছে। মূলত পোশাকের এই হ্রাসই পুরো রপ্তানির নেতিবাচক প্রবণতার জন্য দায়ী। গত সেপ্টেম্বর মাসে পোশাকের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ২৮৪ কোটি ডলার, যা আগে একই সময়ে ছিল ৩০১ কোটি ডলার।

    অন্যদিকে, একক মাস হিসেবে দেখলে, রপ্তানি কমলেও অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক—যা জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—পর্যন্ত, আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি মোট ৬ শতাংশ বেশি ছিল। এ কারণে, প্রথম মাসে রপ্তানি বেড়ে ছিল প্রায় ২৫ শতাংশ, তবে দ্বিতীয় মাসে রপ্তানি প্রায় ৩ শতাংশ কমে গেছে।

  • সোনার দামে রেকর্ড, ভরি ২ লাখ টাকায় crossing

    সোনার দামে রেকর্ড, ভরি ২ লাখ টাকায় crossing

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরিতে ৩ হাজার ১৫০ টাকা বৃদ্ধি হয়েছে। এই দাম পরিবর্তন বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে।

    সোমবার রাতের এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৭২৬ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য। এটি মূল্যবৃদ্ধির ফলেই হয়েছে। স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি প্রভাব ফেলেছে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের বাজারে। ফলে, দেশের সর্বশেষ বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে, শনিবার (অক্টোবর ৪) প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৯৩ টাকা, যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

    নতুন দামে, দেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে: ২২ ক্যারেটের অধীনে প্রতিভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২ লাখ ৭২৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৯১ হাজার ৬০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৬৪ হাজার ২২৯ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির (পুরোনো মানদণ্ডে) জন্য ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪৫ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির পরিমাণে পার্থক্য হতে পারে।

    গত শনিবারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, তখনও স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা (২২ ক্যারেট), ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯৫ টাকা (২১ ক্যারেট), ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৫১ টাকা (১৮ ক্যারেট), এবং ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৩ টাকা (সনাতন)।

    অপরদিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যা দেশীয় বাজারে সর্বোচ্চ। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের রুপার জন্য ভরি দাম ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ২ হাজার ২২৮ টাকা নির্ধারিত।

  • মুদ্রাস্ফীতি কমলেও দারিদ্র্য বাড়ছে, কর্মসংস্থান কমেছে: বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ

    মুদ্রাস্ফীতি কমলেও দারিদ্র্য বাড়ছে, কর্মসংস্থান কমেছে: বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ

    চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৪.৮ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা কমার কারণে বেসরকারি খরচে সামান্য বৃদ্ধি দেখা সম্ভব, যার ফলে গত অর্থবছরের তুলনায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হয়ে ৬.৩ শতাংশে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদনের প্রকাশ ঘটে। এ সময় একই অনুষ্ঠানে এশিয়ার ডেভেলপমেন্ট আপডেট নামক অন্য একটি প্রতিবেদনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

    বিশ্বব্যাংকের ডিভিশনাল ডিরেক্টর জেন পেসমি ও তার দলের অন্য সদস্যরা এই প্রতিবেদনে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিস্তারিত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। চিফ ইকনোমিস্ট ফ্রানজিসকা লেসলোট ওহসেজ বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করেন, যেখানে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরে বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বাড়বে। তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এই প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

    এছাড়া, আমদানির স্বাভাবিক হওয়ার ফলে চলতি হিসাবের ভারসাম্য সামান্য ঘাটতির দিকে যেতে পারে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উন্নতির সঙ্গে রাজস্ব আয়ের বৃদ্ধির ফলে জিডিপি অনুপাতের রাজস্ব ঘাটতি ৫ শতাংশের নিচে রাখতে সক্ষম হবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করা হয়।

    প্রতিবেদনটি মুদ্রাস্ফীতির উন্নতি বিষয়ে নির্দেশ করে, যেখানে পরবর্তী মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতির হার হ্রাসমান থাকলেও, ২০২৫ সালের আগস্টে তা ৮.৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ২০২৪ সালের নভেম্বরের ১৩.৮% থেকে কমে ২০২৫ সালের আগস্টে ৭.৬% এ নেমে এসেছে। এই পরিবর্তনে বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকা এবং খাদ্য সরবরাহের পুনরুদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    নিম্ন আয়ের মানুষজনের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধির হার এখনো মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে বেশি থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এই ব্যবধান কিছুটা কমে এসেছে। তবে দারিদ্র্যের হার বেড়ে চলেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে দেশের দারিদ্র্য হার ২১.২% এ পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ২০.৫%। শ্রমশক্তির অংশগ্রহণও কমে গেছে, যেখানে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ হার ৬০.৯% থেকে কমে ৫৮.৯% হয়ে গেছে, মূলত নারীর অংশগ্রহণের হ্রাসের কারণে। এই সময়ে প্রায় ৩০ লাখ কর্মক্ষম বয়সী মানুষ শ্রমশক্তির বাইরে ছিলেন, যার মধ্যে ২.৪ মিলিয়ন নারী। মোট কর্মসংস্থান প্রায় ২০ লাখ কমে ৬৯.১ লাখে দাঁড়িয়েছে, ফলে শ্রমশক্তি অনুপাত ২ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৫৬.৭% হয়েছে।

    অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এখনও গভীর উদ্বেগের কারণ। খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যেখানে মূলধন-ঝুঁকি-ভারিত সম্পদের অনুপাত এখন ৬.৩%। সরকার দুর্বল ব্যাংকগুলো মার্জ করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের পরিচালনাগত ক্ষমতা এবং আইনগত কাঠামো সুদৃঢ় করতে কাজ করছে। তাছাড়া, আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করা এবং জরুরি তরল্য সহায়তা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের পথে।

    অন্য দিকে, ২০২৫ সালে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সামান্য হ্রাস পেয়ে ৪% এ দাঁড়াবে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৪.২%। এই হ্রাসের মূল কারণ হলো দুর্বল বিনিয়োগ, রাজনৈতিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা এবং ব্যবসায় পরিচালনায় উচ্চ ব্যয়ের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়া, পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগের অবনমন। এডিপি বা পাবলিক ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের বাস্তবায়নেও ধীরগতি লক্ষণীয়।

    প্রতিবেদনে কর-রাজস্বের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়, যেখানে দেখা গেছে বাংলাদেশের কর-জিডিপি হার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় কম, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য এক প্রতিবন্ধকতা।

  • সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে ৮.৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে

    সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে ৮.৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে

    সেপ্টেম্বরে দেশের মোট মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে হয়েছে ৮.৩৬ শতাংশ, যা আগের মাস আগস্টে ছিল ৮.২৯ শতাংশ। এই মাসে দেশের খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত দুই ধরনের পণ্যের দামে বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পরও দেশব্যাপী মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) দ্বারা প্রকাশিত মাসিক ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এর অর্থ হল, যদি একটি পণ্য গত বছর ১০০ টাকায় কিনতেন, তবে এই বছরের সেপ্টেম্বরে তার মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮ টাকা ৩৬ পয়সা। সাধারণ কথা বললে, মূল্যবৃদ্ধির এই হার অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করছে, কারণ জীবনযাত্রার খরচ বাড়ছে। যদি মানুষের আয় একই রকম থাকে বা তার হারে কমে যায়, তবে তারা ধীরে ধীরে কষ্টে পড়ছেন। গত অর্থবছরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশের বেশি, তবে এ বছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেটি ৬.৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্যমাত্রা সেট করেছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করার জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। তবে, সত্যিকার অর্থে এই লক্ষ্য অর্জন এখনো বেশ কঠিন, কারণ মূল্যস্ফীতি এখনও লক্ষ্যপর্যন্ত নামেনি। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৭.৬৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৭.৬ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও বেড়ে ৮.৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের মাসে ছিল ৮.৯ শতাংশ। সরকারি নানা পদক্ষেপের পরও ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি দেখা যাচ্ছে। ভারতে এই হার ২.০৭ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫.৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১.৫ শতাংশ, নেপালে ১.৬৮ শতাংশ, আফগানিস্তানে ২.২ শতাংশ, মালদ্বীপে ৪.৬ শতাংশ এবং ভূটানে ৩.৬ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি হচ্ছে। এই মাসে গ্রামাঞ্চলে গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৪৭ শতাংশ হওয়ার পাশাপাশি শহরে তা ৮.২৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এডিবি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতির হার ৮ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিলেও বলেছে, এটি হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ হার। তবে, সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে। তবুও, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে খাদ্য ও জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতির সমস্যা এখনো বড় উদ্বেগের কারণ। অন্যদিকে, ভারতের ও শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, কঠোর মুদ্রানীতি, কার্যকর বাজার তদারকি এবং উৎপাদনশীল নীতির বাস্তবায়ন হলে দ্রুত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

  • দ্বিতীয় মাসে রপ্তানি হ্রাস অব্যাহত

    দ্বিতীয় মাসে রপ্তানি হ্রাস অব্যাহত

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসে পণ্য রপ্তানিতে কিছুটা হেরফের দেখা গেছে। এ সময় রপ্তানি আয় প্রায় ৩ শতাংশ কমে গেছে। এই ধারা তৃতীয় মাসেও অব্যাহত থাকায় সেপ্টেম্বরে রপ্তানি কমে গেছে প্রায় ৫ শতাংশ। গত বছরের একই মাসের তুলনায় এই মাসে রপ্তানি কমেছে ১৭ কোটি ডলার से বেশি। ফলে, সেপ্টেম্বরে রপ্তানি মোট দাঁড়িয়েছে ৩৬৩ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের একই মাসে ছিল ৩৮০ কোটি ডলার থেকে কিছুটা কম।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তৈরি পোশাকের রপ্তানি এই মাসে প্রায় ৬ শতাংশ কমে গেছে। মূলত পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়াতে মোট রপ্তানি আয় নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। পোশাকের রপ্তানি এ মাসে পৌঁছেছে ২৮৪ কোটি ডলারে, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৩০১ কোটি ডলার।

    যদিও একক মাসের হিসাবে এই হ্রাস ঘটলেও, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ে তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধির মূল কারণ হলো, প্রথম মাসে রপ্তানি বেড়ে যায় ২৫ শতাংশ, তবে দ্বিতীয় মাসে এটি কমে যায় প্রায় ৩ শতাংশের কাছে।

  • সব রেকর্ড ভেঙে সোনার ভরি দুই লাখের কাছাকাছি

    সব রেকর্ড ভেঙে সোনার ভরি দুই লাখের কাছাকাছি

    বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজার আবারও আকাশচুম্বি দামে পৌঁছেছে। সব থেকে গুণগত মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম এবার ২,১৯২ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এই দামে বিক্রি হলে এটি হবে দেশের সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম তার ইতিহাসে। এর আগে, গত শুক্রবার এই দাম ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা।

    বাজুসের পক্ষ থেকে শনিবার (৪ অক্টোবর) রাতে এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেয়া হয়, যা রোববার থেকে কার্যকর হবে। বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বৃদ্ধি ঘটার পরিপ্রেক্ষিতে এই সংশোধনী আনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    নতুন দামে, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা। এছাড়া, অন্যান্য মান অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য ১ লাখ ૮৮ হাজার ৯১০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৫১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    অতঃপর, এর আগে এই দামে ছিল ২২ ক্যারেট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৫ টাকা।

    অপরদিকে, রুপার মূল্য ওই একই geblieben, যার মানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এখনো পর্যন্ত রুপার দাম রয়েছে ২২ ক্যারেটের জন্য ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ২ হাজার ২২৮ টাকা।