Category: সারাদেশ

  • নগরীতে অস্ত্র ও গুলিসহ চার মামলার আসামি গ্রেফতার

    নগরীতে অস্ত্র ও গুলিসহ চার মামলার আসামি গ্রেফতার

    খুলনায় পুলিশ অস্ত্র, গুলি এবং চারটি সন্ত্রাসী মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ আসামি তানভীর ইসলাম নিলয়কে গ্রেফতার করেছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার সময় নগরীর রূপসা স্ট্যান্ডের কাছ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নিলয় এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মনির হোসেনের ছেলে, এবং সে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর সাথে যোগসাজশে থাকার কথা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

    খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন দুপুরে ইউনুস নামে এক যুবক চাঁদার জন্য স্টান্ডরোডে ডাকে আসেন। এরপর একজন অপার্যায়ী চাঁদা না দিতে চাইলে তার উপর হামলা চালানো হয়। স্থানীয়রা সংবাদ দেন, এর পরেই পুলিশ দরজা খুলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ভিকটিম ইউনুুসকেকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে নিলয়কে হাতেনাতে আটক করে।

    পরবর্তী সময়ে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার ঘর থেকে একটি সুটার গান ও এক গুলি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা রুজু করার প্রস্তুতি চলছে।

    শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, এর আগে তিনি সোনাডাঙ্গা থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ ও তার গ্রুপের বেশকিছু সদস্যকে গ্রেফতার করেছেন। খুলনায় দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার প্রথম বড় অভিযান, যার মাধ্যমে তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন, এলাকায় কোন সন্ত্রাসীদের স্থান হবে না।

  • মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের জন্য হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক : কেএমপি কমিশনার

    মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের জন্য হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক : কেএমপি কমিশনার

    খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মো: জুলফিকার আলী হায়দার স্পষ্ট করেছেন, সব মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীকে অবশ্যই হেলমেট পরতে হবে। তিনি সবাইকে একযোগে কাজ করে খুলনার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার সকালে বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত কেএমপির কল্যাণ সভায় এই নির্দেশনা দেন তিনি। সভার শুরুতে গত সভার প্রস্তাবনা ও তার বাস্তবায়ন পরিস্থিতি আলোচনা হয়। পাশাপাশি, কমিশনার বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশের সদস্যদের দাবি-দাওয়ার দ্রুত সমাধানে নির্দেশনা দেন। বিবৃতি দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সকল স্তরে পুলিশের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আন্তরিকতার সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ লাইন্সের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়েও তিনি প্রশংসা করেন। পুলিশ সদস্যদের শারীরিক সুস্থতা ও রোগ প্রতিরোধের জন্য মৌসুমি ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। সভায় খুলনা বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা: সৈয়দ একেএমএন করিম জানান, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন ও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব রয়েছে। দীর্ঘ চাকরি শেষে দুই পুলিশ সদস্য অবসরে গেলে, তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহার দিয়ে সম্মানিত করা হয়। তারা সুস্থ থাকবেন ও দীর্ঘায়ু লাভ করবেন এই কামনা জানানো হয়। সভায় অতিরিক্ত কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অংশ নেন।

  • মোংলায় ৬৮৮ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারী আটক

    মোংলায় ৬৮৮ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারী আটক

    কোস্ট গার্ড ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মোংলা বন্দরের পুরাতন আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে ৬৮৮ পিস ইয়াবা ও এক নারী মাদক কারবারীকে আটক করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মুনতাসির ইবনে মহসিন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    অভিযানটি গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরের পর, কোস্ট গার্ডের নৌবাহিনী ও মোংলা থানার পুলিশ সম্মিলিতভাবে মোংলা পোর্টের পুরাতন আবাসিক এলাকা, কবরস্থান রোড সংলগ্ন এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় শুমী বেগম নামে এক নারী মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকার সমান মূল্যবান ৬৮৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    আটককৃত শুমী বেগম ও জব্দদ্রব্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে মোংলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    কোস্ট গার্ড এর কর্মকর্তা লে: কমান্ডার মুনতাসীর ইবনে মহসিন জানান, মাদক ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের সতর্ক ও কঠোর পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে, যাতে মাদক প্রবেশ ও মোটরসাইকেল বন্ধ করা যায় এবং সমাজকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হয়।

  • নির্বাচন অফিস ঘেরাও ৩য় দিন অব্যাহত, নেতাকর্মীরা তাবু টানিয়ে অবস্থান করছেন

    নির্বাচন অফিস ঘেরাও ৩য় দিন অব্যাহত, নেতাকর্মীরা তাবু টানিয়ে অবস্থান করছেন

    বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন ধরে রাখতে ও তাদের আওতায় আনতে গত তিনদিন ধরে জেলা নির্বাচন অফিসের ঘেরাও ও অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই তারা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে একটি তাবু লাগিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে মিছিল নিয়ে সেখানে জড়ো হতে শুরু করে।

    আসন্ন দুর্গাপূজার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতারা। তারা জানিয়েছেন, তাদের দাবি মানা না হলে এ আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে আরো কঠোর আন্দোলন করতে তারা প্রস্তুত। এই প্রতিবাদে তারা বলছেন, না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

    সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির কো-অভিনেতা ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম বলেন, “আজ তৃতীয় দিন চলছে জেলা নির্বাচন অফিস ঘেরাও ও অবস্থান ধর্মঘট। আমরা ইতিমধ্যে আদালতে রিট দায়ের করেছি, আদালত প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের রুল জারি করেছে। আমাদের দাবি মানা না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।” তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রয়োজনে অসহযোগ আন্দোলন চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

    অপরদিকে, বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন সংক্রান্ত ঘোষণা নিয়ে হাইকোর্ট এক রুল জারি করেছেন। এতে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন এই চারটি আসন বহাল থাকবে না এবং কেন এক আসন কমিয়ে তিনটি করা হবে না। একইসঙ্গে, কেন নির্বাচনী গেজেটে এই পরিবর্তন অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালত আগামী ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    গত ৩০ জুলাই দুপুরে নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে বাগেরহাটের চার আসনই থাকছে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর থেকেই এলাকায় আন্দোলন শুরু হয়। চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতেও অংশগ্রহণ করেন বাগেরহাটবাসী। কিন্তু ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন শুধু সীমানা পরিবর্তন করে তিনটি আসনই চূড়ান্ত করে ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এতে সাধারণ মানুষের আকাঙ্খা ও দাবিকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

    চূড়ান্ত গেজেটে বাগেরহাটের আসনগুলো হলো: বাগেরহাট-১ (বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, মোল্লাহাট), বাগেরহাট-২ (ফকিরহাট, রামপাল, মোংলা) ও বাগেরহাট-৩ (কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা)।

    প্রাথমিক অবস্থা অনুযায়ী, আগে এই চারটি আসন ছিল: বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট), বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট সদর, কচুয়া), বাগেরহাট-৩ (রামপাল, মোংলা) ও বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা)। দীর্ঘদিন ধরে এই চারটি আসনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল।

  • জনসংখ্যা বাড়লেও স্বাস্থ্যসেবা ও পরিষেবা ঝুঁকিতে: ফিরোজ সরকার

    জনসংখ্যা বাড়লেও স্বাস্থ্যসেবা ও পরিষেবা ঝুঁকিতে: ফিরোজ সরকার

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ ফিরোজ সরকার বলেছেন, দেশের জনসংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জেও পড়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিষেবাগুলো। তিনি একমত প্রকাশ করে বলেন, এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা গঠন অপরিহার্য। এ ধরনের প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা যাচাই এবং এর সুষ্ঠু কার্যকরী মনিটরিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার দুপুরে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে ‘‘ক্লাইমেট স্মার্ট ওয়াশ সিস্টেম ইন খুলনা সিটি কর্পোরেশন’’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচিতি অনুষ্ঠানকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিসেফের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও খুলনা ওয়াসা এই প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে। তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক পানির ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সজাগ থাকতে হবে। হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে নির্গত বর্জ্যর সঙ্গে অন্য বর্জ্য মিশে যায়, যা একজনের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে। নার্স ও ক্লিনারদের প্রশিক্ষণে এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও লবণাক্ত পানির প্রভাবে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় আশপাশের গ্রামীণ ও উপকূলীয় এলাকার মানুষ শহরে আসছে। তারা বিভিন্ন বস্তিতে বাসস্থান গ্রহণ করছে, যেখানে পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে মহিলাসহ শিশুরা পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট এবং প্রজনন সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো এমন বস্তিবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন ও হাইজিনের মান উন্নত করা। প্রাথমিকভাবে, নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহের জন্য ওয়াটার এটিএম বুথ, দূষিত পানি পরিশোধনাগার ও মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শরীফ আসিফ রহমান। উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, যোগাযোগ কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান, পরিকল্পনা অফিসার আবির উল জব্বার, বাজেট কর্মকর্তা মোঃ মনিরজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোঃ মাসুদ করিম, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশিদ, ওয়ার্ডের বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ। এছাড়াও খুলনা ওয়াসা, ইউনিসেফ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

  • দুর্গাপূজার জন্য প্রথম চালানে ৩৭ টন ইলিশ ভারতে রফতানি

    দুর্গাপূজার জন্য প্রথম চালানে ৩৭ টন ইলিশ ভারতে রফতানি

    শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো ৩৭ টন ৪৬০ কেজি ইলিশ ভারতে রপ্তানি করা হয়েছে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এই প্রথম চালানে ইলিশের ট্রাকগুলো পেট্রাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বন্দর সূত্রে জানা যায়, কলকাতার পাঁচটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই প্রথম ইলিশ আমদানি করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ন্যশনাল ট্রেডিং, এফএনএস ফিশ, জয় শান্তসী, মা ইন্টারন্যাশনাল এবং আর জে ইন্টারন্যাশনাল। ইলিশের এই চালানটি ভারতীয় বাজারে পৌঁছে গেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে ছয়টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এই প্রথম ইলিশের রপ্তানি করে ৩৭ টন ৪৬০ কেজি ইলিশ ভারতের কাছে তুলে দিয়েছে। এ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—সততা ফিশ, স্বর্ণালি এন্টারপ্রাইজ, তানিশা এন্টারপ্রাইজ, বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ, ও লাকী ট্রেডিং।

    উল্লেখ্য, আসন্ন দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য বাংলাদেশের সরকার ভারতের জন্য মোট ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। এই অনুমতিপত্রের অধীনে ৩৭টি প্রতিষ্ঠান ইলিশ রপ্তানি করতে পারবে। এর মধ্যে একটিকে ৫০ টন, ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ টন করে ৭৫০ টন, ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ টন করে ৩৬০ টন এবং দুইটি প্রতিষ্ঠানে ২০টন করে মোট ৪০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বেনাপোল মৎস্য কোয়ারেন্টাইন অফিসার সজীব সাহা জানিয়েছেন, এই বছর দুর্গাপূজার জন্য সরকার ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে এই ইলিশ রপ্তানি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। প্রত্যেকটি ইলিশের ওজন আনুমানিক ১ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজির মধ্যে। ইলিশের প্রতি কেজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২.৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৫০০ টাকা।

  • খুলনায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিনোদন ও উন্নয়ন

    খুলনায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিনোদন ও উন্নয়ন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ ফিরোজ সরকার বলেছেন, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বিনোদনের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবেশ রক্ষা করে একটি স্বচ্ছ, প্রাণবন্ত নগরী গড়ে তুললে মানে শুধু পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে না, পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ট্রলার চালকদের আয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। তিনি এ কথা বলেন মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর ৭নং ঘাট এলাকায় প্লাস্টিক দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায়। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) যৌথভাবে, ‘সাসটেইন্যাবল ক্যাপাসিটি বিল্ডিং টু রিডিউস ইরিভার্সিবল পলুশন’ (এসসিআইপি) প্রকল্পের আওতায়। পুলিশি উদ্যোগে এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং পরিবেশের প্রতি সচেতনতা জোরদার করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কেসিসি প্রশাসক উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ট্রলার চালকদের পরিবেশের জন্য সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের উচিত বিদ্যুতের অপচয়, প্লাস্টিকের সঠিক ব্যবহার এবং সঠিকভাবে বর্জ্য ফেলা। যদি এলাকাবাসী এই বিষয়গুলোয় সচেতন হন, তাহলে নগরীর পরিবেশের উন্নতি ত্বরান্বিত হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুয়েটের প্রফেসর ড. কাজী হামিদুল বারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শরীফ আসিফ রহমান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার,সহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও সচেতন সংগঠনের সদস্যরা। এড. মাসুম বিল্লাহ, শেখ ইনজামামুল হকসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রশাসক মোঃ ফিরোজ সরকার বলেন, বর্জ্য সংরক্ষণ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিন সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি নির্দেশ দেন, প্রতিদিন একটি ভ্যানের মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে এবং যদি বিনের যথাযথ ব্যবহার না হয় বা অব্যবহৃত থাকে, তাহলে তার বিরোধী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, তিনি বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো কার্যকলাপের खिलाफ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সবাইকে পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

  • বিএনপি সংখ্যালঘু তত্ত্বে বিশ্বাস করেনা: মন্টু

    বিএনপি সংখ্যালঘু তত্ত্বে বিশ্বাস করেনা: মন্টু

    খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মো: মনিরুজ্জামান মন্টু বলেছেন, বিএনপি কখনোই সংখ্যালঘু তত্ত্বে বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া সব নাগরিকই জন্মসূত্রে বাংলাদেশেরই নাগরিক, যা আমাদের জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সংবিধানে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছেন। বিএনপি উদার ও গণতান্ত্রিক আদর্শে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকায়, বিশ্বাস করে যে দেশের উদার চেতনা এবং সকল সম্প্রদায়ের মিলিত শক্তিই জাতি গঠনের মূল স্তম্ভ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শারদীয় দুর্গোৎসবের নির্বিঘ্ন আয়োজন ও সফলতা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান বিষয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বললেন।

    মনিরুজ্জামান মন্টু আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করতে পারে না, অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে গ্রহণ করেনি। এরপরও কিছু অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারণে কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মভিত্তিক রাজনীতির আড়ালে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এ জন্য সকলের সচেতন হওয়া জরুরি। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সঙ্গে মোকাবিলা করে, আগামী নির্বাচনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি’র নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।

    এছাড়াও, আসন্ন শারদীয় দুর্গা পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের যথাযোগ্য দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি। সভায় অন্যান্য বক্তারা include করেন জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক এড. মোমরেজুল ইসলাম, যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মো: খায়রুল ইসলাম, তৈয়েবুর রহমান, এস এম শামীম কবীর, গাজী তফসীর আহমেদ ও জিএম কামরুজ্জামান টুকু। জেলা বিএনপি’র সদস্যরা ছিলেন মলিক আব্দুস সালাম, সুলতান মাহামুদ, জিএম রফিকুল হাসান, আশরাফুল ইসলাম নূর ও মো: রিয়াজুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

  • খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিবের বাড়ির সামনে বিস্ফোরণে নিন্দা ও প্রতিবাদ

    খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিবের বাড়ির সামনে বিস্ফোরণে নিন্দা ও প্রতিবাদ

    খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আবু হোসেন বাবুর বাড়ির সামনে ঘটেছে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ, যা এলাকায় গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রূপসার আইচগাতী এলাকায় নিজ বাড়ীর সামনে দুর্বৃত্তরা অতর্কিতভাবে এতটাই শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তবে glücklicherweise কেউ গুরুতর আহত হননি।

    ঘটনাটি দেখে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। তারা দ্রুত এই ঘটনা ঘটানোর জন্য সংযত ও জোড়ালো অভিযান চালানোর জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, জেলা আhaবায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এবং জেলা সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্য।

    প্রসঙ্গত, শেখ আবু হোসেন বাবু সম্প্রতি স্টোকজনিত কারণে দীর্ঘ সময় বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে দেশে ফিরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। বিস্ফোরণের সময় তিনি স্বপরিবারে বাড়িতেই ছিলেন। সৌভাগ্যক্রমে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হননি, তবে এই ঘটনা এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। বিএনপি নেতারা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত স্পষ্ট তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • ঝিনাইদহে ক্ষতিগ্রস্তদের জমির ন্যায্য মূল্য দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ

    ঝিনাইদহে ক্ষতিগ্রস্তদের জমির ন্যায্য মূল্য দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ

    বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ডে এক মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও ব্যবসায়ীরা তাদের ন্যায্য মূল্য দাবি করেন। এই কর্মসূচি ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের ৬ লেনে উন্নীতকরণের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সমস্যাগুলো তুলে ধরতেই আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা ব্যানার এবং ফেস্টুন নিয়ে অংশ গ্রহন করেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে মৌজা মূল্য নির্ধারণে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের সাথে আলোচনা হয়নি। বর্তমানে যে দাম ধার্য করা হচ্ছে, তার সাথে জমির প্রকৃত মূল্য মারাত্মকভাবে অসংলগ্ন। যেমন, কোনও জমির মূল্য প্রতি শতাংশের জন্য ধার্য করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা, অথচ দিতে হচ্ছে মাত্র ২ লাখ টাকা। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিপূরণও শুধু আংশিক দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ফলে জমির মালিক ও ব্যবসায়ীরা তাদের ন্যায্য পাওনা না পাওয়ার জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর তারা ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করেন, যার কারণে ঝিনাইদহ থেকে যশোর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাগামী সকল যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা সড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। তারা বৃহৎ কর্মসূচির ঘোষণা করে জোরালোভাবে দাবি জানান, যাতে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হয়।