Category: সারাদেশ

  • খুলনা বিএনপি’য়ের রাজনীতিতে দুলুর শূন্যতা কখনোই পূরণ হবে না

    খুলনা বিএনপি’য়ের রাজনীতিতে দুলুর শূন্যতা কখনোই পূরণ হবে না

    খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, আদর্শের উপর ভিত্তি করে আপসহীন ও সাহসী নেতৃত্বদানে পরিচিত ছিলেন আজিজুল হাসান দুলু। তার মৃত্যুর পর বিএনপি’র রাজনীতিতে যে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা কখনোই পূরণ সম্ভব নয়। দুলু ছিলেন সেরা সংগঠকদের অন্যতম। তার দৃঢ়তা এবং আপসহীনতা তাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছিল। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বিভিন্ন উদ্ভাবনী কৌশল প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক মনোভাবের জন্য প্রশংসিত ছিলেন। আমি বর্তমানে যে পদে আছি, খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি, এই পথের অনেকটাই এগিয়ে গেছে দুলুর অবদানের জন্য। তাঁর কথা ও কাজ আমি ধরে রেখেছি, এবং এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

    শুক্রবার বিকেল ৫টায় দলীয় কার্যালয়ে মহানগর বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক প্রয়াত আজিজুল হাসান দুলুর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক সৈয়দ রেহেনা ঈসা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু, বিএনপি নেতা কে এম হুমায়ুন কবির, হাফিজুর রহমান মনি, একরামুল হক হেলাল, আসাদুজ্জামান আসাদ, আব্দুল আজীজ সুমন, মুজিবর রহমান, জাকির ইকবাল বাপ্পী, মো. নাসির উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম শফি, আজিজা খানম এলিজা, মুনতাসির আল মামুন, মশিউর রহমান নান্নু, আবু সাঈদ শেখ, জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. নুরুল ইসলাম, মাস্টার রফিকুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম কিরন, ডাঃ ফারুক হোসেন, মিলন হোসেন, আজাদ হোসেন, সৈয়দ ইমরান, হabul্বুর রহমান হাবিব, জিয়াউর রহমান আপন ও আমিন হোসেনসহ আরও অনেকে। আলোচনা শেষে প্রয়াত নেতার রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    অন্যদিকে, শুক্রবার নগরীর ২১নং ওয়ার্ডের ৫নং ঘাটস্থ গ্রীণল্যান্ড জামে মসজিদে জুম্মার নামাজের পর স্থানীয় মুসল্লি ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ এক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক। এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • খালিশপুরের নয়টি ওয়ার্ড মহিলাদলের নতুন নেতৃবৃন্দ ঘোষণা

    খালিশপুরের নয়টি ওয়ার্ড মহিলাদলের নতুন নেতৃবৃন্দ ঘোষণা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের খালিশপুর থানা শাখার Nine wards has announced the new leadership committees. The announcement was made through a government notice, signed jointly by the former Member of Parliament and City Women’s League convener, সৈয়দ নার্গিস আলী, and the chairman of the Khulshi Pur Thana branch, শাহনাজ সরোয়ার, last Friday.

    প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য ৫১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে, যার মধ্যে দুটি শীর্ষ পদের দায়িত্বে থাকছেন বাংলার বিভিন্ন বিখ্যাত নারী নেত্রীরা। চলুন দেখে নেওয়া যাক বিস্তারিত:

    ৬নং ওয়ার্ড: এই ওয়ার্ডে মোসা. কামিনীকে আহবায়ক এবং ময়নাকে সদস্য সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও, যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবে থাকছেন নাসিমা বেগম, হাসমুন আরা এবং মোসাঃ বিলকিস বেগম।

    ৮নং ওয়ার্ড: এই ওয়ার্ডের জন্য মোসাঃ জোসনাকে আহবায়ক ও মাসুমা বেগমকে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন তাসলিমা বেগম, রেহেনা খাতুন ও আকলিমা।

    ৯নং ওয়ার্ড: এখানে জুলেখা বেগমকে আহবায়ক এবং লিপি কাজীকে সদস্য সচিব হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবে থাকছেন মিসেস সালমা বেগম, মোসাঃ আসমা আক্তার ও হনুফা বিবি।

    ১০নং ওয়ার্ড: এই ওয়ার্ডের দায়িত্বে আছেন আ knowledgeable figures like আনোয়ারা খাতুন ও সুলতানা নাসরিন। তাদের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি, যেখানে খালেদা আক্তার শিল্পী ও মুন্নী বেগম রয়েছে। এছাড়াও, যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন খালেদা আক্তার শিল্পী, মুন্নী বেগম ও দিলরুবা আক্তার রাখি।

    ১১নং ওয়ার্ড: এই ওয়ার্ডের আহবায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মাসুদা পারভীন এবং সদস্য সচিব হিসেবে থাকছেন মোসাঃ শামসুন্নাহার লিপি। এই কমিটিতে আরও রয়েছেন রাশিদা বেগম, লাইজু বেগম ও মোসা আফরোজা আক্তার লিজা।

    ১২নং ওয়ার্ড: শায়নলা পারভীন সিবানী এই ওয়ার্ডের নেতা এবং পুতুল বেগম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন নাসিমা আক্তার, সাবিনা হায়দার ও জোৎস্না।

    ১৩নং ওয়ার্ড: খালেদা আক্তার এই অঞ্চলটির আহবায়ক এবং আয়শা বেগম সদস্য সচিব। এই কমিটিতে রয়েছেন রেহেনা আক্তার খুশি, ফাতেমা খাতুন ঝর্ণা এবং তিপ্তি সরকার।

    ১৪নং ওয়ার্ড: ঝর্ণা বেগম এই সূচনাশীল ওয়ার্ডের নেতা এবং ফিরোজা সদস্য সচিব। অন্যান্য সদস্যের মধ্যে রয়েছেন রেশমা খাতুন, সৈয়দা নওরীন আক্তার, ফারজানা ইয়াসমিন, সুরোভী ও তামান্না জাহান।

    ১৫নং ওয়ার্ড: এই ওয়ার্ডের আহবায়ক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন লিলি আক্তার, এবং সদস্য সচিব হিসেবে থাকছেন রাশিদা বেগম। তাদের সঙ্গে রয়েছেন জেসমিন আক্তার রেশমি, কাজল রেখা ও শেখ শারমিন।

  • পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন ও জনগণের ঐক্য অপরিহার্য: এড. মতিউর রহমান

    পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন ও জনগণের ঐক্য অপরিহার্য: এড. মতিউর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগীয় সেক্রেটারি এড. মতিউর রহমান আকন্দ বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। এরপর জনগণের আকাঙ্খা অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে ক্ষমতা নেওয়া হয়। জনগণের সমর্থন রয়েছে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশনের (পিআর) পক্ষে, যা এখন দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের প্রত্যাশা। ঐকমত্য কমিশনের ৩১ দলের মধ্যে ২৫টি দল পিআরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অনেকের মধ্যে কেউ বলছেন, পিআর মানে মাথা ঠাণ্ডা রাখা, কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে স্পষ্ট ধারণা খুব কম। তাই এড. মতিউর রহমান জোড়ালোভাবে দাবি করেন, নিরপেক্ষ গণভোটের মাধ্যমে পিআর এর বাস্তবতা যাচাই করতে হবে। জনগণ যদি পিআরকে সমর্থন করে, তাহলে শাসকদের তা মেনে নিতে হবে। আর যদি জনগণের রায় বিপক্ষে যায়, তাহলে তা মেনে নেওয়া হবে। তবে দেখে মনে হচ্ছে, বর্তমান শাসকরা এই পদ্ধতিকে ভয় পাচ্ছে। তারা পিআর বাস্তবায়ন এড়াতে চায়, কারণ এতে সকলের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হবে, পেশীশক্তি ও কালো টাকার অবাধ ব্যবহার বন্ধ হবে। এড. মতিউর রহমান আরো বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এই দাবি আদায় না হয়, জনগণকে রাজপথে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তিনি গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর কেন্দ্রীয় ডাকবাংলোস্থ সোনালী ব্যাংক চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের উদ্বোধনী বক্তব্যে এই আহ্বান জানান। এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগরীর আমীর ও সংসদ প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, পরিচালনা করেন সহকারী সেক্রেটারি এড. মুহাম্মদ শাহ আলম ও প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম। আলোকচিত্রে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি, খুলনা অঞ্চলের নেতৃবৃন্দ, ছোট বড় দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন উপজেলা আমীরবৃন্দ। এড. মতিউর রহমান জোর দিয়ে বলেন, আমাদের আন্দোলন যেন জনগণের আসল ইচ্ছার প্রতিফলন হয়, এজন্য কেবল আলোচনা বা আলোচনা সারণিতে আশা না রেখে, আইনগত ও সাংবিধানিক ভিত্তিতে নির্বাচন দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বাধীন করতে হলে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য জনগণের মতামত অনুযায়ী জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। তিনি সব দলের কাছে আহ্বান জানান, দ্রুত ন্যায্য বিচারের জন্য এবং নির্বাচনকে সম্পন্ন করার জন্য রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ও সংহতির দরকার। মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, জনমতের দাবি অনুযায়ী সরকারকে পাঁচ দফা দাবি পূরণে বাধ্য করতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, পিআর পদ্ধতিতে কেন্দ্র দখল বা টাকা দিয়ে ভোট প্রতিহত করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ নতুন দিশায় যাবে। ৫৪ বছর ধরে যে শাসন ব্যবস্থা চলে এসেছিল, তা অবসান ঘটানোর জন্য এই আন্দোলন। আমরা চাই একটি নতুন, মুক্ত, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। যারা পুরোনো শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়, জনগণ তাদের সে সুযোগ দেবে না। ঝাড়া আন্দোলনের মাধ্যমে তারা তাদের অস্বীকৃতি জানাবে। এই বিক্ষোভের মিছিলটি নগরীর ডাকবাংলো থেকে শুরু হয়ে ফেরিঘাট মোড়, পাওয়ার হাউজ মোড়, সঙ্গীতার সামনে দিয়ে শিববাড়ি (শহিদ মীর মুগ্ধ) মোড়ে শেষ হয়। এই মিছিলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীসহ হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

  • অবসরে যাওয়া ইমামকে নগরীতে রাজকীয় বিদায়

    অবসরে যাওয়া ইমামকে নগরীতে রাজকীয় বিদায়

    নগরীর টুটপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুস সালামকে অসাধারণ সম্মান ও রাজকীয় বিদায় দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পরে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে তাকে পাগড়ি পরানো এবং ফুলেল শুভেচ্ছায় মর্যাদাপূর্ণভাবে বিদায় জানানো হয়। তিনি দীর্ঘ ৩৭ বছর ৮ মাস ধরে মসজিদে আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে ৮৫ বছর বয়সে অবসরে গেলেন।

    শুরুতে, ১৯৮৭ সালে, তিনি টুটপাড়া জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে যোগদান করেন। সেখান থেকে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে ইসলামের দাওয়াত ও নামাজের ইমামতি করে গেছেন। তার আগে খুলনা আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় দীর্ঘকাল শিক্ষকতা করেছেন। প্রায় ১৫ বছর আগে অবসর নিলেও তিনি মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব অব্যাহত রেখেছিলেন। তবে বয়সজনিত শারীরিক অসুবিধা ও দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে অক্ষম হয়ে পড়ায় এবার অবশেষে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হলো তাঁকে।

    বিদায়ের দিন জুমার নামাজের পর মসজিদে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের ইমামকে হারানোর দুঃখে উপচে পড়ে মুসল্লিদের চোখ। নামাজ শেষে, নিজে কণ্ঠ ভারী করে, তিনি তালেবান দোয়া করেন সকলের কাছে—‘শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি আর দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে পারছি না। আল্লাহ যেন আমাকে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার তৌফিক দেন, সেই দোয়া চাই।’

    এরপর, তাকে ফুল দিয়ে সজ্জিত একটি গাড়িতে করে পুরো টুটপাড়া এলাকায় শোভাযাত্রা করা হয়। মোটরসাইকেল বহরে মুসল্লিরা তাকে তার বাসায় পৌঁছে দেন। এই ব্যতিক্রমী আয়োজনকে এলাকাবাসী একজন অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। টুটপাড়া জামে মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা মো: ইদ্রিস আলী বলেন, ‘এই ইমামের কাছে পুরো এলাকা কৃতজ্ঞ। তিনি হাজার হাজার মানুষের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে গেছেন, ইসলামের পথে আহ্বান করেছেন। আমাদের সমাজে ইমামদের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না, তাই আমরা এই আয়োজনের মাধ্যমে একটি সুন্দর উদাহরণ স্থাপন করতে চেয়েছি।’

    প্রায় চার দশকের ইমামতি জীবনে, মাওলানা আব্দুস সালাম শুধু মসজিদের দায়িত্ব পালন করেননি, তিনি এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তার মৃদু স্বভাব, আন্তরিকতা এবং ধর্মীয় জ্ঞানের জন্য মুসল্লিদের কাছে তিনি একজন অভিভাবকের মতো ছিলেন। এই অবসরের অনুষ্ঠানটিও তাই এক মিলনমেলায় রূপ নেয়।

    টুটপাড়া জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা আবুল খায়েরের সভাপতিত্বে, মাদ্রাসার মোহতামিম হাফেজ মোসতাক আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি জিয়াউর রহমান। অনুষ্ঠানে, মসজিদের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য খাঁন আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে, ওয়াক্কিফা প্রতিনিধিরা এবং অন্যান্য মুসল্লিরা বক্তব্য রাখেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় দুই ভাইকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা

    চুয়াডাঙ্গায় দুই ভাইকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলীতে গরু কেনাবেচা বিষয়ক বিরোধের জেরে দুজন ভাইকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই সহিংস ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন, যিনি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বর্তমানে সুস্থ থাকলেও এখনো শঙ্কামুক্ত নন। গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উথলী গ্রামের বিলের মাঠে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত দুই ভাই হলেন, উথলী গ্রামের মাঝেরপাড়ার মৃত. খোদা বক্স মণ্ডলের দুই ছেলে, আনোয়ার মান্টা (৫৫) ও হামজা (৪৫)।

    উথলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক জানান, চার মাস আগে আনোয়ার ও হামজাদের গরু বিক্রির জন্য প্রতিবেশী নিজাম আলী ওরফে খোকার সঙ্গে দাম নির্ধারিত হয়। অন্য দিন গরুটি খোকার মূল্যের থেকে বেশি দাম বলে বিক্রি করে দেওয়ায় দাম্পত্যে বচসা শুরু হয়। এর জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারধর হয়। এরফলে মামলা দায়ের হলেও বিষয়টি এখন বিচারাধীন।

    পরবর্তীতে ঠাণ্ডা মাথায় ওই বিরোধের জের ধরে গত শনিবার সকালে গরু বিক্রির আলোচনা নিয়ে উথলীর বিলের মাঠে সংঘর্ষ বাঁধে। অভিযুক্তরা, যার মধ্যে বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে আসে। তারা তিন ভাই—আনোয়ার মান্টা, হামজা, ও আব্দুর রাজ্জাক—সহ আরও বেশ কিছু ব্যক্তিকে অতর্কিত হামলা করে। হামলায় আব্দুর রাজ্জাক সামান্য আহত হলেও, গুরুতর জখম হয় দুই ভাই, আনোয়ার ও হামজা। হাসপাতালে আনার আগেই একজন মারা যান, আর একজন চিকিৎসাধীন থাকতে মারা যান।

    পরিবার ও স্থানীয়রা এই নিষ্ঠুরতার জন্য অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। এলাকাটির পরিস্থিতি এখন উদ্বেগজনক, থমথমে atmosphere বিরাজ করছে। জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    প্রতিবেশীদের সঙ্গে গরু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল বলে জানা গেছে। এই সংঘর্ষের জন্য নিহত দুই ভাই ও আহত ব্যক্তির পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের ধরতে কাজ শুরু করেছে।

  • খুলনা বিভাগে ভোক্তা-অধিকার অভিযানে এক লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা

    খুলনা বিভাগে ভোক্তা-অধিকার অভিযানে এক লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা

    জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের বিভিন্ন জেলা কার্যালয় থেকে প্রায় এক ডজনের বেশি আঞ্চলিক দল শাহরাস্তি, খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযান চলাকালে মোট ২০টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের আওতায় ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পণ্য সরবরাহ, মোড়ক ব্যবহারে অনিয়ম, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি ও ভেজাল বিরোধী অভিযান আরও ব্যাপক আকারে পরিচালিত হয়।

    খুলনা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে নগরীর ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকার মেসার্স রয়েল সেভেন ট্রেডার্সকে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার জন্য ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইভাবে এস এ এন্টারপ্রাইজকে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির অপরাধে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। বিভাগের সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে নগরীর ট্রাকস্ট্যান্ডের বিভিন্ন স্থানেও মোড়ক ব্যবহারে অনিয়মের জন্য সাদিয়া টি হাউজকে ৫ হাজার টাকার জরিমানা করা হয়।

    এছাড়া, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সজল আহম্মেদের নেতৃত্বে সদর উপজেলার ভয়না বাজারে দুই প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, যশোরের চৌরাস্তা বাজারে একটি প্রতিষ্ঠানে ২ হাজার টাকা, সাতক্ষীরায় রেল স্টেশন বাজারে একটি প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার টাকা, ঝিনাইদহের নারিকেলবাড়িয়া বাজারে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। নড়াইলের সদর ও লোহাগড়ায় অভিযান চালিয়ে মোট তিনটি প্রতিষ্ঠানের জরিমানা হয় ৪ হাজার ৫০০ টাকা। চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও বাগেরহাটে কর্মকর্তারা পৃথকভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করেন। খুলনা নগরীর বাগমারা এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

    অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দর ও ক্রয় ভাউচার পরীক্ষা করা হয় এবং সকল ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যেই পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। আর এসব অভিযানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্যাদির মান ও দাম নিয়ন্ত্রিত রয়েছে।

  • তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে অসাম্প্রদায়িক ও সার্বজনীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে অসাম্প্রদায়িক ও সার্বজনীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব

    বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু বলেছেন, যারা পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচকে বিলম্বিত করতে চাইছে, তারা প্রকারান্তরে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ধর্ম ব্যবসায়ী কিছু গোষ্ঠী নতুন করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট পেতে নানা ফাঁদ পেছানোর চেষ্টা করছেন। যারা স্বাধীনতার মূল মূল্যবোধের প্রতি বিশ্বাসঘাতক, তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকেও এখনও মানতে পারেনি। সন্ত্রাস ও মৌলবাদী গোষ্ঠী কখনোই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে পারে না। তাঁর মতে, যদি তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে বাংলাদেশে একটি অসাম্প্রদায়িক, সার্বজনীন রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পাইকগাছা পৌরসভা বিএনপি’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের পতনের পর দ্রুত সময়ে নির্বাচন না হলে দেশের উন্নয়ন আবার চাপের মুখে পড়বে। সম্মেলনটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। এতে নতুন করে সভাপতি পদে আসলাম পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে শেখ রুহুল কুদ্দুস ও মনিরুল ইসলাম মন্টু নির্বাচিত হয়েছেন।

    বিএনপি নেতা জয়ন্ত কুন্ডু আরও বলেন, যারা এখন সৎ ও জনগণের জন্য কাজ করার কথা বলে, তারা পূর্বে বিএনপি’র ঘাড়ে চড়ে এমপি ও মন্ত্রী হয়েছিলেন। দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, কেউ শালিস বা বিচার নামে আদালত বসাবেন না। দখলবাজি ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়লে দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপি’র আহবায়ক আসলাম পারভেজ, অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক মোলামা খায়রুল ইসলাম, শেখ তৈয়েবুর রহমান ও এনামুল হক সজল, সদস্য সচিব সেলিম রেজা লাকী ও কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ। এছাড়াও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক ডাঃ আব্দুল মজিদ ও সদস্য সচিব এসএম ইমদাদুল হক। বিকেলে দ্বিতীয় অধিবেশনে পৌর বিএনপি’র ৫৯৮ ভোটার গোপন ব্যালটে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ভোট প্রদান করেন। নির্বাচনে ৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন; সভাপতি পদে আসলাম পারভেজ (ছাতা), সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ (হাতি), সাংগঠনিক সম্পাদক পদে শেখ রুহুল কুদ্দুস (মই) ও মনিরুল ইসলাম মন্টু (কলস)। এসব ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে দায়িত্বে ছিলেন জেলা বিএনপি’র গঠিত নির্বাচন কমিশনার প্রবীণ আইনজীবী আব্দুস সবুর।

  • রূপসা উপজেলায় একই নামে দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভ্রান্তিতে কর্তৃপক্ষ

    রূপসা উপজেলায় একই নামে দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভ্রান্তিতে কর্তৃপক্ষ

    খুলনার রূপসা উপজেলায় একই নামের দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কারণে সৃষ্টি হয়েছে অপ্রীতিকর বিভ্রান্তি ও জটিলতা। ওই দুটি প্রতিষ্ঠান হলো ‘রূপসা কলেজ’ ও ‘রূপসা সরকারি কলেজ’। এই বিভ্রান্তি দূর করতে বৃহস্পতিবার সকালে রূপসা কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একটি সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রূপসা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল্লাহ, যেখানে তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের উত্তর পাশে বাগমারা মৌজায় তিন দশমিক ৪৩ একর জমির উপর এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এলাকার ইতিহাসের স্বাক্ষী। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই কলেজটি স্থানীয় জনগণের আন্তরিকতা, অকৃত্রিম ভালোবাসা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে এলাকার অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত হয়ে আসছে। প্রায় চার দশক ধরে এটি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে জ্ঞানচর্চার আলোয় আলোকিত করে যাচ্ছে। অন্যদিকে, রূপসা উপজেলার অপরপ্রান্তে ভৈরব নদীর তীরে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বঙ্গবন্ধু কলেজ’। তবে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পরিবর্তনমূলক সিদ্ধান্তের কারণে এই কলেজের নাম পরিবর্তন করে ‘সরকারি বেলফুলিয়া কলেজ’ রাখা হয়। পরে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০২৫ সালের ২৮ মে এই কলেজের নাম আবার পরিবর্তন হয়ে ‘রূপসা সরকারি কলেজ’ হয়। এই নামের পরিবর্তনের ফলে শিক্ষকদের ব্যাখ্যা ও শিক্ষার্থীদের বোঝার ক্ষেত্রে আশঙ্কাজনক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা ভুলে ‘রূপসা সরকারি কলেজ’ বা ‘রূপসা কলেজ’ এর মধ্যে বিভ্রান্ত হচ্ছে। এই বছর প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ভুলক্রমে আবেদন করেছেন রূপসা সরকারি কলেজে, যেখানে আসল রূপসা কলেজের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি। এছাড়া, উচ্চতর শ্রেণির পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য প্রতি বছরে যোগ্য শিক্ষার্থীর আবেদন সামান্যই বা হয়াচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ সরকারের প্রয়োজনীয় নাম পরিবর্তনের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছেন, যাতে বিভ্রান্তি দ্রুত দূর হয় এবং রূপসা কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম আবার সচল হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কলেজের বিভিন্ন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা, যারা এই বিভ্রান্তির অবসান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের আর্জি জানান। Rপসা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল চন্দ্র মন্ডল বলেন, একই উপজেলায় দুটি কলেজের নামের মিল থাকার কারণে অনলাইন ভর্তি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজগুলোতে বেশ ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো জানান, আগে এই কলেজের নাম ‘বঙ্গবন্ধু কলেজ’ ছিল, যা পরে ‘সরকারি বেলফুলিয়া কলেজ’ নামে পরিবর্তিত হয়, আর এরপর থেকে ‘রূপসা সরকারি কলেজ’ নামকরণ করা হয়েছে। এ সমস্যা এই বিভাগের শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টির জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত সমাধান কামনা করেন।

  • নগরীতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে অফিসারদের নির্দেশ

    নগরীতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে অফিসারদের নির্দেশ

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্স লাউঞ্জ-২ এ অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ জুলফিকার আলী হায়দার। সভার পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান।

    সভায় গত আগস্ট মাসের মধ্যে মাদক এবং অস্ত্র উদ্ধার, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং এবং হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন থানার তালিকাভুক্ত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়।

    আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা বানানোর সময়, চলাকালীন ও বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট থানার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সভার শেষে, মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আগস্ট মাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার জন্য বিভিন্ন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। পুলিশ কমিশনার বলেন, ফৌজদারি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তথ্যপ্রযুক্তির নতুন কৌশল ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এ উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন তিনি।

    উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনারের অতিরিক্ত অ্যাডমিন এন্ড ফিন্যান্স আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, অতিরিক্ত ট্রাফিক কমিশনার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালাসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ অফিসারবৃন্দ।

  • সন্ত্রাসী হামলায় গভীর উদ্বেগ: আমরা সবাই নিরাপদ নই

    সন্ত্রাসী হামলায় গভীর উদ্বেগ: আমরা সবাই নিরাপদ নই

    জেলার বিএনপি সদস্য সচিব শেখ আবু হোসেন বাবুর বাড়িতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে মহানগর বিএনপি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তারা আহ্বান জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিনের নেতৃত্বে দলের শীর্ষ নেতারা রূপসার আইচগাতীতে অবস্থিত বাবুর বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা হামলার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সমবেদনা জানান। মহানগর বিএনপি’র সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, আমরা আতঙ্কিত। গত ৫ অগাস্টের পর থেকে খুলনায় শতাধিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু এখনো হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সন্ত্রাসের অবসান হওয়া জরুরি, যেন কেউ অন্যের বাড়িতে নিরাপদে থাকাটা স্বাভাবিক মনে করে। তিনি উল্লেখ করেন, আবু হোসেন বাবু একদিনে গড়ে ওঠেননি, তার সংগ্রাম ও আন্দোলনের ফসল তিনি। আজকের এই নৃশংস হামলা একটি অসুস্থ ও দুর্বল ব্যক্তির উপর directed। কেন এ ঘটনাগুলো ঘটছে, তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে মহানগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, আবু হোসেন বাবু খুলনা জেলার একজন নিবেদিতপ্রাণ বিএনপি নেতা হলেও গত ১০ মাস ধরে তিনি অসুস্থ, স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সম্প্রতি দেশে ফেরার পরও সম্পূর্ণ সুস্থ হননি। এ অবস্থায় তার বাড়িতে এই ভয়ঙ্কর হামলা আমাদেরকে গভীরভাবে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ করেছে। তিনি বলেন, আমরা পরিবার থেকে জানলাম–জানি কেঁদে কেঁদে অসহায় হয়ে পড়েছেন আবু হোসেন বাবুর পরিবারের সদস্যরা। সেই দুর্বল ও অসুস্থ মানুষকে এভাবে আঘাত করা আমাদের জন্য দুঃখজনক। এই ঘটনায় পুরো খুলনাই শোকাহত। এই সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক বেগম রেহেনা ঈসা, সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মনি, দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি মুর্শিদ কামাল, অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ প্রমুখ। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ১০টার দিকে দুর্বৃত্তরা আবু হোসেন বাবুর বাড়িতে দু’টি ককটেল নিক্ষেপ করে এবং তিন রাউন্ড গুলি চালায়, যা সম্পূর্ণ নিন্দনীয় এবং জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।