Category: সারাদেশ

  • বাংলাদেশে ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের অনন্ত ঐতিহ্য

    বাংলাদেশে ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের অনন্ত ঐতিহ্য

    খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়নপ্রত্যাশী, বিসিবির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগর লবি বলেছেন, বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষজন যুগ যুগ ধরে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। এই দেশের আবহমান কাল ধরে হিন্দু, মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় আচার-প্রথা ও উৎসব পালন করে আসছে। সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আগামী দুর্গা পূজা শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির জন্য। পাশাপাশি, আমাদের নেতা-কর্মীরা প্রতিটি মন্দিরের নিরাপত্তার জন্য সতর্ক অবস্থানে থাকবেন। এসময় তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিছু অপশক্তি যেন কোনভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে নির্বাচনকে ব্যাহত করতে না পারে। সবাইকে এ বিষয়ের বিষয়ে সতর্ক ও সজাগ থাকতে আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার কোন ব্যক্তি-স্বার্থ নেই; আমি শুধুমাত্র ফুলতলা-ডুমুরিয়া এলাকার মানুষের সেবেছে এসেছি। যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি এই এলাকার জন্য একটি দর্শনীয় মসজিদ ও একটি সুন্দর মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেবো। এই বিষয়গুলো আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফুলতলা উপজেলা বিএনপি’র আয়োজনে সরকারি মহিলা কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দুর্গা পূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা ও পূজা উদ্যাপন পরিষদের ফুলতলা উপজেলা আহ্বায়ক অনুপম মিত্র। উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার, জেলা বিএনপি নেতা ইমরান ওয়াহিদ, মহানগর বিএনপি’র সদস্য আশরাফুল আলম নান্নু, সহ-সভাপতি এসএ রহমান বাবুল, এম বদরুল আলম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ইকবাল হোসেনসহ অনেকে। ভাষণ দেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গৌতম কুন্ডু, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মনির হাসান টিটো, অভিকোজুজ্জামান মোল্যা নান্না, এনামুল হোসেন পারভেজ, আনোয়ার হোসেন বাবু ও প্রফুল­ কুমার চক্রবর্তী। পরে তিনি রাত সাড়ে ৮টায় ফুলতলা বাজার গামছা চান্ডিনায় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

  • অস্ত্রসহ হরিঢালী ইউপি চেয়ারম্যান রাজু গ্রেফতার, কারাগারে পাঠানো

    অস্ত্রসহ হরিঢালী ইউপি চেয়ারম্যান রাজু গ্রেফতার, কারাগারে পাঠানো

    পাইকগাছা উপজেলার ১নং হরিঢালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু জাফর সিদ্দিকী রাজু (৪৫) সম্প্রতি নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত প্রাইভেট কার ও একটি বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছেন। ইসলামপুরের এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অপরাধের অভিযোগ থাকলেও, পুলিশের নজরদারির অভ্যন্তরে ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে।

  • মারধরের মামলায় হিন্দু ট্রাস্টের ট্রাস্টী সত্যানন্দ দত্ত কারাগারে

    মারধরের মামলায় হিন্দু ট্রাস্টের ট্রাস্টী সত্যানন্দ দত্ত কারাগারে

    খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক সমীর কুমার সাহা মারধরের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টী সত্যানন্দ দত্তকে আদালত জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিনের আবেদন নাকচ করে দেয় এবং তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    মামলার বিস্তারিত জানানো হয়েছে, ১৬ আগস্ট শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে নগরীর শিববাড়ী মোড়ের শ্রীশ্রী কালী মন্দিরের প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আলোচনা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করেছিল খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট। এ অনুষ্ঠানে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সত্যানন্দ দত্তসহ প্রায় ২০-৩০ জন ব্যক্তি অনুষ্ঠান বন্ধ করার চেষ্টা করছিলেন।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়, যাতে সমীর কুমার সাহার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই ঘটনার সময়, সমীর কুমার সাহা রক্ষা করতে গেলে তার পাশে থাকা মন্দিরের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় সাহাও মারধরের শিকার হন।

    ঘটনার দিনই আহত সমীর কুমার সাহা সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ২২, ১৬-০৮-২৫)। মামলায় সত্যানন্দ দত্তসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর থেকে পুলিশ সত্যানন্দ দত্তকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হলেও, বৃহস্পতিবার তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের জন্য আবেদন করেন। তবে আদালত তার আবেদন নাকচ করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

  • পিআর সিস্টেমে নির্বাচনের জন্য আন্দোলনে ডাক, না মানালে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে

    পিআর সিস্টেমে নির্বাচনের জন্য আন্দোলনে ডাক, না মানালে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে

    শুক্রবার নগরীর নিউমার্কেট চত্বরে এক সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমির ও শায়খে চরমোনাই মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম পঞ্চম দফা নির্বাচনে পিআর (প্রতিনিধি ভোটিং) সিস্টেমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, পিআর সিস্টেমের মাধ্যমে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যেখানে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, কালো টাকা বা পেশি শক্তির ব্যবহার চলবে না। এই পদ্ধতিতে নির্বাচন দেশের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    শায়খে চরমোনাই স্পষ্ট করে বলেছেন, আমাদের দাবি যদি মেনে নেন, তবে পিআর সিস্টেমে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাব। সরকারের কাছে এই Holtপদ্ধতি চালুর জন্য অনুরোধ জানাব। না মানা হলে জনগণের গণভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের রায় আদায় করব। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন পরিবর্তনের পেছনে বিভিন্ন জোটের স্বার্থ দেখানো হলেও বাস্তবে ভোটের পরিবর্তন হয়; কারো জন্মগত বা স্থায়ী ভোট নেই। ভোটাররা সবসময় দেখবে কার আনজর নিরাপত্তা, শান্তি, সম্পদ ও জানমালের নিরাপত্তা রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে বিশাল ভোটের শক্তি রাখে। তবে ভোট কৃষকের, শ্রমিকের, সাধারণ মানুষের অধিকার। তাই ভোট কারা পাবে, তা নির্ভর করবে কার কাছে তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রয়েছে। একজন ভোটার তার জান, মাল, ইজ্জত ও পরিবারের নিরাপত্তা দেখিয়ে ভোট দিবে—অন্য কিছু নয়। ডিজিটাল যুগে এনালগ সিস্টেমের অবস্থা শেষ, এখন প্রযুক্তির যুগ। মাননীয় আওয়ামী লীগ ১৭ বছর ধরে নানা জুলুম-অত্যাচার চালিয়ে মানুষের মন থেকে তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।

    মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন চাঁদাবাজি, গুণ্ডামি ও ধর্ষকদের কখনোই ভোট দেবে না। তারা জানে, কোন জ্ঞানী বা সচেতন ভোটার নিজের জীবন বা সম্মান বিপন্ন করতে চান না। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু অসাধু শক্তি ভোটারদের বিভ্রান্ত করে আর যারা অন্যায়-অবিচার করছে, তারা অপরাধের জাঁতাকলে আটকে আছে। অথচ সবাই জানে, এখন জুলুম-অত্যাচার আর অস্ত্রের ব্যবহার কমে গেছে। মানুষ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জীবন চায়।

    তিনি মন্তব্য করেন, খোলনায় এক সময় গুণ্ডা-খুনির আধিক্য থাকলেও এখন অশান্তি কমে গেছে। গুণ্ডামি ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে। মানুষ অস্ত্র প্রতিপত্তি ছাড়াই জীবন চালিয়ে যেতে পারছে। এখন আসন্ন নির্বাচন হয় শান্তিপূর্ণ, যেখানে জনস্বার্থে ভোট দেবে সাধারণ মানুষ। দেশের টাকা চুরি, লুটপাট বা মাদক ব্যবসাও বন্ধ হবে। কোনো অন্যায় বা অবিচার চলবে না। যুবসমাজ নিরাপদে থাকবে, মাদক নির্মূল হবে। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার বন্ধ হবে। শতভাগ সৎচেষ্টা চালানো হবে। মা-বোনদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় নিরলস পরিশ্রম হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশের প্রকৃত ভোটাররা তাদের জীবন-মাল, সম্মান ও নিরাপত্তা দেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

    শায়খে চরমোনাই আরও বলেন, নানা ধরণের ধোকাবাজি ও চক্রান্ত রয়েছে। যারা নৌকা মার্কায় নির্বাচন করে, তারা নিজে এই মার্কার কার্যকর করতে পারে না। লাঙ্গল বা ধানের শীষের মাধ্যমে যারা নির্বাচন করে, তারা নিজেদের কাজে লাগাতে পারে না। অথচ হাতপাখা মার্কা সব শ্রেণির ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়, কারণ যারা ভোট দেয় তারা এটা সহজে চালাতে পারে। এই মার্কায় ভোট দিলে দেশের জন্য শান্তি ও উন্নয়ন আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, সব মার্কা শেষ, এখন হলো হাতপাখা—শান্তির প্রতীক। মাননীয় গণতন্ত্রের এই পথে সবাই একত্রিত হয়ে দেশের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

    অতীতের রাজনৈতিক নেতাদের তুলনায় ইসলামী আন্দোলনের নেতারা আশা করেন, এই আন্দোলন দেশের সত্যিকার পরিবর্তন আনবে। খুলনা মহানগরীর সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ মোঃ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও নগর সেক্রেটারি মুফতী ইমরান হোসাইনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন আরও অনেক নেতৃবৃন্দ, যেমন মুজিবুর রহমান শামীম, আবু তাহের, হাফেজ আব্দুল লতিফ, এড. জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, মাওঃ শরীফ সাইদুর রহমান, হাফেজ শহিদুল ইসলাম, শেখ হাসান ওবায়দুল করিম, মাওঃ আবু সাঈদ, আবু গালিব, শোয়াইব আহমেদ, মুফতি আরিফ বিলাহ, মাওঃ দীন ইসলাম, মোঃ ইমরান হোসেন মিয়া, মাওঃ ইলিয়াস হোসেন, মাওঃ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ও মোঃ তরিকুল ইসলাম কাবির।

  • আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হিন্দুরা সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হিন্দুরা সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার

    বিএনপি কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। একটি দল নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঘুষি মারছে, যা গণতন্ত্রের জন্য এক বিপৎসংকেত। তবে তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ রক্তের বিনিময়ে সংগ্রাম করে নতুন সরকারের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করেছে এবং একটি নতুন দিনের বাংলাদেশ গড়ার জন্য। তিনি আরও বলেন, দশমী দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জনের সময়সূচি নির্ধারণে পুরোহিত ও পঞ্জিকার মতামতই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। অন্য কারো হস্তক্ষেপ এখানে গ্রহণযোগ্য নয়, যেমন ঈদ-উৎসবের নামাজ চাঁদ দেখেই নির্ধারিত হয়। তিনি দুর্দান্ত আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই হিন্দুরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে। শেষ আবেগে তিনি বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রতি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের জন্য নজির স্থাপনের আহ্বান জানান।

    এছাড়া, শুক্রবার বিকেল ৪টায় দিঘলিয়ার মাঝিরগাতী এ কে এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। হেলাল উল্লেখ করেন, বিএনপির সঙ্গে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর মতে, হিন্দুরা বিএনপিকে ভোট দেয় না- এই ধারণা ভুল। বিএনপি হবে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সব সম্প্রদায়ের মিলনক্ষেত্র। আগামী নির্বাচনে গাজীরহাটের মানুষই এই ধারণাকে প্রমাণ করে দেবে।

    এরপর তিনি স্থানীয় নানা সমস্যা, বিশেষ করে পানের জল ও পানীয় জলের সংকটের বিষয়েও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি গাজীরহাট ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি রামপ্রসাদ অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, যুগ্ম-আহবায়ক খাঁন জুলফিকার আলী জুলু, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল ও দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মো. সাইফুর রহমান মিন্টু। সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা বিল্লাল হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি বাবু সুবোধ কুমার বিশ্বাস, ছাত্র-যুব মতুয়া মহাসংঘের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ সিকদার প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন গাজীরহাট ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মুকিত মীর ও সাধারণ সম্পাদক মো. বাদশা গাজী।

  • কেএমপি’র আট থানায় ওসি বদলি একসাথে

    কেএমপি’র আট থানায় ওসি বদলি একসাথে

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) আট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদের রদবদল হয়েছে। এই পরিবর্তন বৃহস্পতিবার কেএমপি কমিশনার মোঃ জুলফিকার আলী হায়দার স্বাক্ষরিত আদেশ মাধ্যমে কার্যকর হয়। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনিক কারণে এ রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দ্রুতই তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন।

    এ রদবদলে সাময়িকভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মোঃ শফিকুল ইসলামকে খুলনা সদর থানায়, খুলনা সদর থানার ওসি হাওলাদার সানওয়ার হোসাইন মাসুমকে লবণচরা থানায়, হরিণটানা থানার ওসি শেখ খায়রুল বাশারকে আড়ংঘাটা থানায়, লবণচরা থানার ওসি মোঃ তোহিদুজ্জামানকে হরিণটানা থানায়, আড়ংঘাটা থানার ওসি মোঃ তুহিনুজ্জামানকে খানজাহান আলী থানায়, খানজাহান আলী থানার ওসি কবির হোসেনকে সোনাডাঙ্গা থানায়, দৌলতপুর থানার ওসি মীর আতাহার আলীকে খালিশপুর থানায় এবং খালিশপুর থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলামকে দৌলতপুর থানায় বদলী করা হয়েছে।

    কেএমপি সূত্র জানিয়েছে, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে নিয়মিত রদবদলের অংশ হিসেবে এই পদায়ন কার্যকর করা হয়েছে।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার খোন্দকার হোসেন আহম্মদ (মিডিয়া) বলেন, এই রদবদল নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খুব শিগগিরই তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন।

  • উচ্চশিক্ষার জন্য ৪৭ লাখ টাকার বৃত্তি পাচ্ছে ১৩০ মেধাবী শিক্ষার্থী

    উচ্চশিক্ষার জন্য ৪৭ লাখ টাকার বৃত্তি পাচ্ছে ১৩০ মেধাবী শিক্ষার্থী

    বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আশা’ এই অর্থবছরে খুলনা জেলায় ৫৬টি শাখার মাধ্যমে এক লাখ ১৮ হাজার ২২৩ জনের মধ্যে ৮৪০ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। পাশাপাশি, ১৩০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার জন্য মোট ৪৭ লাখ টাকার বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এই তথ্য জানানো হয় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায়।

    সভায় জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) আশা প্রতিষ্ঠান শিগগিরই এক লাখ ২০ হাজার লোকের জন্য এক হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করবে। এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দেশের শীর্ষ ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাগুলির মধ্যে অন্যতম আশা।

    এছাড়াও, সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ৭০ লাখ পরিবার আশা সংস্থার সুবিধা গ্রহণ করছে। তাদের মধ্যে বিভিন্ন কাজ চালানো হয়, যেমন— কর্পোরেট সোস্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) কার্যক্রমের আওতায় প্রাথমিক ও উচ্চ শিক্ষার সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ, শীতবস্ত্র, স্যানিটেশন কার্যক্রম ও ফিজিওথেরাপি সেবা। এছাড়াও, আশা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশা-ম্যাটসেগরি মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি চালু রয়েছে, যা লেখাপড়ায় উন্নতি সাধনে সহায়তা করে।

    প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে খুলনা জেলায় ২৪টি শাখার মাধ্যমে ৩৬০টি শিক্ষা কেন্দ্র চালু হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ১১ হাজার ১৭৫ জন শিশুকে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, জেলায় একটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার ও একটি স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকে কার্যক্রম চলমান। গত অর্থবছরে খুলনা জেলায় অসংখ্য সামাজিক কাজের জন্য ৫ লাখ ১৭ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে।

    তদ্ব্যতীত, যেকোনো জাতীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আশার ডিভিশনাল ম্যানেজার আব্দুলাহ আল-হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আনোয়ার সাদাত। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক। সভা পরিচালনা করেন আশার এডিশনাল ডিভিশনাল ম্যানেজার মোঃ সাহেদ আলী।

  • মোংলা বন্দরে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ, চ্যানেলে সহস্রাধিক নৌযান আটকালো ঝড়ের মতো প্রতিবাদ

    মোংলা বন্দরে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ, চ্যানেলে সহস্রাধিক নৌযান আটকালো ঝড়ের মতো প্রতিবাদ

    মোংলা-রামপালসহ বাগেরহাট জেলার সংসদীয় আসনের পুনঃনির্বাচনের দাবিতে গত ৪৮ ঘণ্টার ব্যাপক হরতাল ও অবরোধের কারণে মোংলা সমুদ্র বন্দরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক স্থবিরতা। জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে একটি আসন অন্যত্র স্থানান্তরের প্রস্তাবের প্রতিবাদে বাগেরহাটের সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতৃবৃন্দ হরতাল ও চলমান অবরোধের ঘোষণা দেন।

    সংগঠনের সূত্র জানায়, এই ৪৮ ঘণ্টার হরতালে মোংলা বন্দর, ইপিজেড, ইকোনমিক জোনসহ মোট প্রায় ৫৩টি শিল্প প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। বন্দরের বহিঃনোঙর, হারবাড়িয়া, ভ্যাসক্রিকি ও জেটি এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও বোঝাই চললেও নৌচলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন জাহাজ নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে পারেনি। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে পণ্য পাঠানোর জন্য শত শত লাইটার, কার্গো ও বোট নদীতে আটকা পড়ে রয়েছে।

    অবরোধের কারণে নদী পারাপার ও নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া মোংলা-খুলনা মহাসড়কেও অবরোধ চালানো হয়েছে। যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্দশা বেড়েছে। স্কুলে যায়নি শিক্ষার্থীরাও এবং নিম্ন আয়ের মানুষগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পণ্যবাহী ট্রাক ও লড়ি দিনভর অপেক্ষা করছে পণ্য খালাসের জন্য, কিন্তু যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

    বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছপালা ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। মোংলা-খুলনা মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড, দ্বিগরাজ, মোংলা কলেজ মোড়, হাসপাতাল ঘাট, শেরাবুনিয়া, কানাইন্নগর, কুমারখালী ও নদী পারাপার ঘাটসহ প্রায় ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেয় নেতাকর্মীরা। নদীতেও নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় গার্মেন্টস কর্মী ও শিক্ষার্থীরা কর্মস্থল ও স্কুলে যেতে পারেননি।

    অবরোধের কারণে গামেন্টস, সরকারি ও বেসরকারি অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ সব কার্যক্রম বন্ধ থাকা অবস্থা। ব্যবসায়ীরা দোকানে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন।

    বাগেরহাটের সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামিম বলেন, “৩০ জুলাই মোংলা-রামপালসহ বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন অপসারণের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছি। এই সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় মানুষ ক্ষুব্ধ। নির্বাচন কমিশনের এই ষড়যন্ত্রের কারণে মোংলা বন্দরে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়ে উঠবে, এ বিষয়ে তারা প্রস্তুত। পাশাপাশি এই আন্দোলন অব্যাহত থাকলে এবং যদি কোনও অশান্তি সৃষ্টি হয়, তবে তার দায়ভার সম্পূর্ণরূপে নির্বাচন কমিশনের ওপর থাকবে।”

  • সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় কলেজ শিক্ষক প্রাণ হারালেন

    সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় কলেজ শিক্ষক প্রাণ হারালেন

    সাতক্ষীরায় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী ও কলেজ শিক্ষক সূর্যকান্ত রায় মারা গেছেন। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে শহরের ইটাগাছা এলাকায়, ভারতের ভিসা অফিসের সামনে। নিহত সূর্যকান্ত রায় আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের পারশেমারী গ্রামের মৃত অমূল্য রায়ের ছেলে। তিনি দেবহাটার সখিপুর হাজী কেয়ামউদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরি সূত্রে তিনি সাতক্ষীরা শহরের রথখোলা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত অনুযায়ী, বেলা আড়াইটার দিকে কলেজ শিক্ষক সূর্যকান্ত রায় ইটাগাছা এলাকার ভারতীয় ভিসা অফিসের সামনে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগামী একটি মোটরসাইকেল তাঁকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শামিনুল হক।

  • সুশাসন ও কার্যকর নীতি সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়

    সুশাসন ও কার্যকর নীতি সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়

    দেশের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ও পাবলিক পলিসি বিশ্লেষক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ধারাকে অব্যাহত রাখতে যথার্থ সুশাসন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থিতিশীলতা এবং নীতিগত সংস্কার অপরিহার্য। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন অর্জনের জন্য আপনাকে অবশ্যই সুশাসন ও কার্যকর নীতি সংস্কারের উপর জোর দিতে হবে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে দেশের ভবিষ্যৎ সুসংহত ও স্থিতিশীল হয়।

    বুধবার ভোরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআরপি ডিসিপ্লিনের লেকচার থিয়েটারে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক একটি সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন, যেখানে মূল বক্তা হিসেবে তিনি অংশ নেন। সেখানে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রকাশ করে বলেন, প্রাথমিকভাবে সংস্কারের জন্য চিন্তাধারায় দৃঢ়তা প্রয়োজন, সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে স্পষ্টভাবে এবং তার পরে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। এর জন্য কাঠামোগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণে সমন্বয়, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং মূল উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। কোন কোন স্বার্থের অগ্রাধিকার দেয়া হবে, সেটিও অবশ্যই সুস্পষ্ট হওয়া উচিত।

    তিনি আরও বলেন, টেকসই সংস্কারের জন্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং অংশগ্রহণকারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অতি জরুরি। বিনিয়োগের গতি বাড়াতে হবে এবং সংস্কারকে সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে নেওয়া আবশ্যক। সংস্কার এককভাবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব না, বরং এটি একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়া। এসব উদ্দেশ্যে সংস্কার জোটকে শক্তিশালী করতে প্রগতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

    আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতি আরও গতিশীল করতে হলে সুশাসন এবং নীতিগত সংস্কারকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যক্রমে গবেষণামুখী শিক্ষা চালিয়ে যেতে এবং দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে নিয়োজিত রয়েছে।

    সভাপতিত্ব করেন ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের প্রধান ড. কাজী হুমায়ুন কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজবিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর শেখ শারাফাত হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ জোবায়ের হোসাইন, এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ফারহানা হক ও প্রভাষক আইরিন আজহার ঊর্মি। এ সময় ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে সম্মাননা ক্রেস্টও প্রদান করা হয়।

    উপস্থিত ছিলেন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরা, যারা এই সেমিনারে অংশ নেন। এর আগে, তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিমের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উপাচার্য তাঁকে স্বাগত জানিয়ে একটি মনোগ্রামসহ বিশেষ ক্রেস্ট উপহার দেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা ও বিভাগের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।