সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের বিএনপি প্রার্থী আলী আসগর লবী বলেছেন, দেশের জনগণ এখন প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার জন্য অধীর আগ্ৰহে অপেক্ষা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। নির্বাচন সময় একতরফা হয়ে গেছে, ভোটের দিন-রাত ব্যালট বাক্স ভরে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর জনসমর্থন ও শক্তি যাচাইয়ের কোন সুযোগ থাকেনি। এর পরবর্তী সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের রূপান্তরকামী কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা ছিল সময়ের চাহিদানুযায়ী। কিন্তু বর্তমান সময়ে কিছু দল আওয়ামী সরকারের পথ অনুসরণ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি ভোটের মাধ্যমে পছন্দের নেতা নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি করার চেস্টা করছে। আলী আসগর লবী জানান, যদি মানুষ তাঁদের ভোটে সংসদে পাঠায়, তাহলে তিনি এই অঞ্চলের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা না করে সংগঠন ও উন্নয়নে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে ব্যস্ত করে কাজ করবেন। মঙ্গলবার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর বাজারে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ৩১ দফা পরিকল্পনার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খুলনা জেলার উত্তর ডুমুরিয়ার চারটি ইউনিয়নে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রঘুনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আব্দুর রব আকুঞ্জি ও পরিচালনা করেন সদস্য সচিব শাহেদুজ্জামান বাবু। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী, খুলনা নগর মহিলা দলের আহবায়ক ও সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী, ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ এবং জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক এড. সেতারা সুলতানা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক খান ইসমাইল হোসেন, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেহেনা ইসলাম, শেখ সরোয়ার হোসেন, সরদার আব্দুল মালেক, মোল্লা মাহবুবুর রহমান, শেখ হাফিজুর রহমান, মশিউর রহমান লিটন, ফরহাদ হোসেন, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, খোকন তালুকদার প্রমুখ।
Category: সারাদেশ
-

খুলনায় ভোক্তা-অধিকার অভিযান চালিয়ে লাখো টাকা জরিমানা
খুলনা বিভাগে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়গুলো গত मंगलवार বিভিন্ন স্থান জুড়ে বিস্তারিত অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানের সময় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ও ক্রয় ভাউচারের সঠিকতা পরীক্ষা করা হয়, পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। যারা মূল্যের থেকে বেশি বিক্রি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর এলাকায় মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে আরিশা মেডিকেল হলের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির জন্য ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। প্রনব কুমার প্রামাণিকের নেতৃত্বে নান্না বিরিয়ানি ও কোরিয়ান জুস এন্ড ফাস্টফুডের মোড়ক অপব্যবহার এবং অন্যান্য অপরাধে যথাক্রমে ২ হাজার ৩০০ টাকা ও ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চালানো এই পর্যায়ের অভিযানে রাজ্জাকের ফুচকা, বরিশাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারসহ সবাইকে জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া, মাগুরা, যশোর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলার কার্যালয় এই ধরনের অভিযান চালিয়ে ছোট বড় অসংখ্য ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড ধার্য করে। অভিযানে ধরা পড়া ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগকেই পণ্য মান পরীক্ষায় লিপ্ত থাকায় জরিমানা করা হয়।
এমন ধারাবাহিক অভিযান মূলত সাধারণ ক্রেতাদের অধিকার সুরক্ষার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে, যাতে বাজারে পণ্য মূল্য ও গুণগত মান ঠিক রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
-

খুলনা-৫ আসনে ধানের শীষ বিজয় হলে ডুমুরিয়া-ফুলতলায় সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হবে
জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু বলেছেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার সমর্থকরা এখনও চুপচাপ নেই। তারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। একদিকে একটি দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন জিতাতে পিআর পদ্ধতিতে প্রচার চালানো হচ্ছে, যা মূলতঃ আওয়ামীলীগের কূটচাল। এজন্য আমাদের সকলকে একত্রিত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদকে রুখে দিতে হবে। খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া ও ফুলতলার বাসিন্দারা খুবই সৌভাগ্যবান; কারণ এই অঞ্চলের জনগণের প্রতি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আন্তরিক মনোযোগ রয়েছে। যদি ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হয়, তাহলে এই ত্রিপাক্ষিক অঞ্চলে ডুমুরিয়া-ফুলতলাতেই সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হবে, এ বিশ্বাস আমি সকলের মাঝে ব্যক্ত করছি। তাই ধর্ম ব্যবসায়ীদের প্রতারণা থেকে বিরত থেকে সকল ধর্মের ও সম্প্রদায়ের মানুষের একত্রিত শক্তিতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা, ১৪টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন তিনি। প্রাক্ দূতাবাসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় নেতাদের উপর আওয়ামী দখলদার সন্ত্রাসীদের অপ্রতুল আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে আরও গণহত্যা চালানো আওয়ামী লীগের স্থান একটুও থাকবে না। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা হত্যার পরও তাদের দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক এড. মোমরেজুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ মোশাররফ হোসেন মফিজ, জেলা বিএনপি’র সদস্য হাফিজুর রহমান হাফিজ, মোঃ মাহবুবুর রহমান, সরদার আব্দুল মালেক ও আশরাফুল ইসলাম নূর, ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপি নেতা শেখ সরোয়ার হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ মশিউর রহমান লিটন, শেখ ফরহাদ হোসেন, জিএম মিজানুর রহমান লিটন গোলদার, মোঃ আঃ রশিদ শেখ, জিএম মশিউর রহমান, অরুণ গোলদার, শেখ শাহিনুর রহমান, শেখ রেজওয়ান হোসেন, শেখ মতিয়র রহমান বাবু, মোঃ রফিকুল ইসলাম, খান আছাদুজ্জামান মিন্টু, শেখ শাহানুর রহমান ও উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক বিএম সৈয়দ আহমেদসহ আরও অনেকেই।
-

খুলনায় গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ৩ জন
খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার জামিরা বাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগের আদলে এক যুবক আলমগীর হোসেনের গণপিটুনির ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনাটি ঘটে ২০ সেপ্টেম্বর, যখন আলমগীর হোসেনকে চাঁদাবাজির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের স্ত্রী এ ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
আজ মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ফুলতলা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে জামিরা ও টোলনা গ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় এবং তাদের আটক করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সাইফুল, রুমান মোল্যা ও নাসির খান। পরে তাদের পাটিগণ্ডায় আদালতের মাধ্যমে সোপর্দ করা হয়।
ফুলতলা থানার অফিসার ইনচার্জ জেল্লাল হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ এই অভিযান চালায় এবং মোট ১৩ আসামির মধ্যে এই তিনজনকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অপর আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, নিহত আলমগীর হোসেনের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদাবাজির অপবাদে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আলোচনার ঝড় বইছে এবং বিচার দাবি করছে স্থানীয় মানুষ।
-

আসামিদের জামিনে মুক্তি পেলেন নবজাতকের মা ও নানি
অবশেষে জামিন পেলেন ১৩ দিনের নবজাতকের মা শাহাজাদী ও তার নানি নার্গিস বেগম। মঙ্গলবার খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতে তাদের জামিনের জন্য আবেদন করা হয়, যেখানে বিচারক মোঃ শরীফ হোসেন হায়দার তা অনুমোদন করেন। দুপুরের দিকে কারাগারে জামিনপত্র পৌঁছানোর পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। আইনজীবী শেখ রফিকুজ্জামান জানান, সকালে আদালতের প্রত্যয়ন পত্র গ্রহণের পর খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করেন, যেখানে বিচারক বিশেষ বিবেচনা এবং একমাত্র তাদের মানবিক পরিস্থিতি দেখে বিনা জামানতে জামিন দেন। খুলনা কারা কর্তৃপক্ষের জেলার মোহাম্মাদ মুনীর হোসাইন জানান, জামিনের কপি আসার পর দুপুরের দিকে নার্গিস বেগমকে কারাগার থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর প্রায় সোয়া ৩টা সময় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন শাহাজাদীকে মুক্তি দেওয়া হয়। জানা যায়, রোববার হাসপাতালে পুলিশের হেফাজতে থাকা শাহাজাদীকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহীন কবির তাকে আদালতে হাজির করেন। কিন্তু ওই সময় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় জামিনের শুনানি সম্ভব হয়নি, ফলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এ সময় তিনি নবজাতক সন্তানসহ অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে স্থানান্তর করে। সেখানে পৃথক কেবিনে চিকিৎসা চলতে থাকে। সোমবার শাহাজাদীর পক্ষে জামিনের জন্য আবেদন করা হলেও নিম্ন আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে। তবে মঙ্গলবার জামিন পাওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শাশুড়ি বাড়ি থেকে তার কোনও খবর নেওয়া হচ্ছে না, যা তাকে খুবই হতাশ করে। এর আগে, গত ১১ সেপ্টেম্বর নগরীর রূপসা এলাকার একটি হাসপাতালে বাগেরহাটের রামপালের সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী শাহাজাদীর (৩৬) কোলজুড়ে আসে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান। পরিবারের আগের চার কন্যার সঙ্গে এবার পুত্র সন্তান শুভকামনা ছিল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির। কিন্তু ছেলে না হওয়ায় স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে চলে যান সিরাজুল, এরপর আর খবর রাখেননি। পরিবারে চাপ ও হতাশার মধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর একই হাসপাতালে চার দিন বয়সী এক নবজাতকের চুরি ঘটে। দ্রুতই সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের তৎপরতায় নবজাতকটি উদ্ধার হয়। পরিবারের কাছ থেকে শিশুটি ফিরে পাওয়ার পর তাকে জেলখানায় আটক করা হয়। কারণ, শাহাজাদী ও তার মাকে আসামি করে মানবপাচার আইনে একটি মামলা করা হয়। মামলায় নার্গিস বেগমকে গ্রেফতার দেখানো হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। শাহাজাদী চিকিৎসাধীন থাকাকালে দাবি করেন, তার ছেলেকে বাঁচানোর জন্য তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
-

আওয়ামী লীগকে আইনগত নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে, নির্বাহী আদেশ নয়
বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলো দাবি করছে যে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ তাদের পক্ষে রয়েছে। যদি এমন বাস্তবতা থাকে, তাহলে আসলে কেন সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে ভয় পান তারা? তিনি বলেন, আওয়ামী লীগসহ অন্য ফ্যাসিবাদী দলগুলোর বাইরে নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি করছে হাসিনার সরকার। দেশের জনগণ এই অপচেষ্টা মানবে না এবং তারা চান—অসাধু এবং অসাংবিধানিক দলগুলোকে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নয়, আইনানুযায়ী নিষিদ্ধ করা হোক, যাতে আবার কখনো ক্ষমতায় ফিরে আসার সুযোগ না থাকে। এ মন্তব্য বিএনপি সদর উপজেলা দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ সমজিদ সংলগ্ন বাইতুস-শরফ মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঐতিহাসিকভাবে হাজারো শহিদের রক্তের বিনিময়ে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারকে তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতির মূল শক্তি বলে অভিহিত করেন। তিনি আরও বলেন, ষড়যন্ত্র করে এই সরকারকে কায়েম রাখা যাবে না। দেশবাসীর অতীতের সংগ্রাম ও রক্তের মূল্যায়নে দেশের গণতন্ত্রের জন্য সবাই একত্রে থাকতে হবে। জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলোর অবৈধ ও অসৎ রাজনীতির ফাঁদে পা দেয় אחתদানে এই দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে না বলেও তিনি দৃঢ় আশ্বাস দেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডাক্তার হাবিবুর রহমান। বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান, এডভোকেট অহিদুজ্জামান দিপু, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সামন year দুর্গাপূজা ঘিরে তিনি বলেন, একটি বৃহৎ ষড়যন্ত্র হচ্ছে যাতে করে এই উৎসবের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়। এজন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রত্যেকটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, হিন্দুরা বিএনপিকে ভোট দেয় না—এই ধারণা ভুল। বিএনপি সব ধর্মের মানুষের মিলনস্থল। আগামী নির্বাচনে জনগণ সেটাই প্রমাণ করবে—তারা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবার জন্য কাজ করে। তিনি উল্লেখ করেন, গত ৫০ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে হিন্দুরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সম্মেলনের শেষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচনের জন্য ভোট প্রদানকারী নেতাদের সংখ্যা এবং প্রার্থীদের বিস্তারিত নির্ধারিত হয়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। এতে ২ জন সভাপতি, ৩ জন সাধারণ সম্পাদক এবং ১১ জন সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ৭১০ নেতার এই নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
-

আজ শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর মহালয়া
আজ বছরের এক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান—শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর মহালয়া। এই দিনের চন্ডিপাঠ ও গানের মাধ্যমে ভক্তগুণিন্দরা মহালয়ার আহবান জানাবেন দেবী দুর্গাকে মাতৃলোকে উপস্থিত হওয়ার জন্য। ভোরের প্রভাতে, সকাল পাঁচটায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই মহালয়ার অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। বিশ্বাসীদের মতে, দেবী দুর্গা অধর্মের বিনাশ ও ধর্মের প্রতিষ্ঠার জন্য মাতৃতুল্য মত্তলোকে আবির্ভূত হন। এবারে দেবী গজে আগমন করবেন এবং দোলায় গমন করে মনোযোগ আকর্ষণ করবেন ভক্তদের। এই পবিত্র অনুষ্ঠান উপলক্ষে রূপসা মহাশ্মশান শ্মশান কালী মন্দিরে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সকাল ৮টায় চন্ডিপাঠ, আগমনী গান, এবং ‘মহিষাসুর মদিনী’ নামক গীতিনাট্য মঞ্চস্থ হবে। মহালয়ার আগের দিন, অর্থাৎ ২৮ সেপ্টেম্বর রোববার, মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজা। এরপর চলবে নবমী ও বিজয়াদশী — সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব, যেখানে প্রতিমা নিরঞ্জন ও বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। দেশের বিভিন্ন শহরে এই উৎসব এখন তিব্র উৎসাহ ও সাফল্যের সাথে উদযাপিত হচ্ছে। মহানগর খুলনায় এ বছর ১২০টি, জেলায় ৮৫৭টি ও সারাদেশে প্রায় ৩৩ হাজার মন্দিরে এই পুণ্যোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুর্গাপূজার অন্যতম আয়োজনের অংশ হিসেবে, রূপসা মহাশ্মশান শ্মশান কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের কোষাধ্যক্ষ রতন কুমার নাথ ভক্তদের মহালয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
-

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনে মহাজনেদের সহযোগিতা আহবান
জেলা বিএনপি সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু বলেছেন, এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের সম্মানে সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন আদায়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারকে স্বাগত জানান। তিনি আরও বলেন, এ দেশের বহু বছর ধরে ধর্মীয় সমপ্রদান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ উদযাপনের জন্য আমাদের দেশের সংস্কৃতি গর্বের বিষয়। তবে এই শান্তির ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কিছু অপশক্তি আবারও বিভিন্ন অপচেষ্টা চালানোর চেষ্টা করতে পারে, যা আমরা কখনোই সহ্য করব না। এর জন্য প্রয়োজন কঠোর সতর্কতা ও সচেতনতা। তিনি সেখানে সকল ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের ঐক্যবদ্ধভাবে সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহবান জানান। এসব কথা তিনি গতকাল শনিবার নগরীর দলীয় কার্যালয়ে জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ ও পূজাকর্মীরা উপস্থিত থাকায় তাঁদের সাথে মতবিনিময়কালে জানান।
-

খুলনায় বাস্তুহারা কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযান, সংঘর্ষে আহত ৩০
খুলনার মুজগুন্নি এলাকায় বাস্তুহারা slave কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ রোববার (২১ আগস্ট) সকালে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বাধা দেয়। ঘটনা শুরু হয় যখন তারা প্লটের মালিককে জায়গা বুঝিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায়, প্লটের চারপাশে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে। সাড়ে দশটার পর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। স্থানীয়রা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরে পুলিশ টিয়ার শেলের كذلك ছোঁড়ে। এই ঘটনায় অক্ষত থাকলেও উচ্ছেদ কাজে যাওয়া বুলডোজার গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, যদি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ পরিচালনা করা হয়, তাহলে তারা এই জায়গা ছাড়বে না। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আপাতত উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। খোলনায় মুজগুন্নির এই বাস্তুহারা কলোনিতে পশ্চিমে ২ একর জমিতে প্রায় ২০০ পরিবার বসবাস করছিল। তবে, ১৯৮৭ সালে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এই জমির প্লট লটারির মাধ্যমে বিক্রি করা হলেও, এখনও অনেক প্লট মালিক তাদের জমা পায়নি।
-

প্রগঠিত গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া কর্মসংস্থান সম্ভব নয়
বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, দেশে বেকারত্বের সমস্যা আরও চরম আকার ধারণ করেছে। দুর্বল শিক্ষাব্যবস্থা, সামাজিক অবক্ষয় ও অব্যবস্থাপনার কারণে তরুণ প্রজন্ম হতাশায় ডুবে যাচ্ছে এবং বিপথগামী হয়ে উঠছে। তিনি মন্তব্য করেন, আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসনের সময় খুলনা শহরের ঐতিহ্যবাহী জুট মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকা হারিয়েছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
শনিবার দুপুরে খুলনায় প্লাটিনাম জুট মিল অফিসার্স ক্লাবের খালিশপুর থানা ছাত্রদলের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রকিবুল ইসলাম বকুল। সভার সভাপতিত্ব করেন খালিশপুর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ মিরাজ হোসেন মানিক ও পরিচালনা করেন সদস্য সচিব মোঃ ফয়সাল বাপ্পী।
বকুল আরও বলেন, তরুণ সমাজ পড়াশোনা শেষ করেও আজ চাকরি পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অপরিহার্য, যেখানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকারই এই সংকট সমাধান করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা বেশি থাকে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প-কারখানা পুনরায় চালুর মাধ্যমে অর্থনীতিকে সচল করতে সহায়তা করবে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে যদি একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসে, তবে তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি, তিনি ঘোষণা দেন যে, সকল ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের স্বার্থে নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে, মাঠের উন্নয়ন করা হবে এবং ক্রিকেট টুর্নামেন্টসহ বিভিন্ন সামাজিক ও বিনোদনমূলক আয়োজন পরিচালিত হবে। এই কার্যক্রমগুলো ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা বাস্তবায়ন خواهند বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খালিশপুর থানা ছাত্রদল, ওয়ার্ড কমিটি ও বিভিন্ন কলেজ ও পাবলিক ইন্সটিটিউটের নেতৃবৃন্দ।
