Category: সারাদেশ

  • যুবদল প্রস্তুত আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে

    যুবদল প্রস্তুত আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে

    জেলা যুবদলের আহবায়ক ইবাদুল হক রুবায়েদ বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে যুবদল এখন প্রস্তুত। সকল ষড়যন্ত্রকে থেমে দিয়ে বিএনপি’র জনপ্রিয় প্রার্থীকে জয়যুক্ত করতে যুবদল নেতাকর্মীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে চলেছেন। এ লক্ষ্যে খুলনায় উপজেলা ভিত্তিক যুব সমাবেশের কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

    তিনি আরও জানান, খুলনার নয়টি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে যুব সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রোববার তেরখাদা উপজেলায় প্রথম এই যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বিকেল ৩টায় সমাবেশের আয়োজন করা হবে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল। মূল ভাষণ দেবেন কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। তেরখাদা ও আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এই সমাবেশে অংশ নেবেন।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের বিভিন্ন নেতাকর্মী, যেমন— সদস্য সচিব নাদিমুজ্জামান জনি, যুগ্ম-আহবায়ক আব্দুল্লাহ হেল কাফি সখা, গোলাম মোস্তফা তুহিন, মোল্লা আয়ুব হোসেন, রুবেল মীর, মাশকুর হাসান ফ্রান্স, অহেদুজ্জামান সোহাগ, তানভীর আহম্মেদ সুমন, আলমগীর হোসেন লালন, এস এম জাহিদুর রহমান শোভন, মোমিনুর রহমান সাগর, ইয়ারুল ইসলাম রিপন, জিহাদুল হক জিহাদ, তৌহিদুর রহমান শান্ত, রাসেল আহমেদ নাসিম, সেলিম চৌধুরী, মাহমুদুল হাসান মিঠু, বশির আহমেদ শাহিন, মোস্তাফিজুর রহমান আজিবর, সোহেল রানা তুহিন, এড. মুক্তা, আছাদুজ্জামান সুমন, শাওন ইবনে আকবার, সিরাজুল ইসলাম পরাগ, মাসুদ রানা, রাসেল শেখ, বদরুজ্জামান শেখ বাবু, মোল্লা মাহবুব আলম, মফিজুল ইসলাম, মোক্তাদির বিল্লাহ, শেখ ফারুক, পাপ্পু মীর, তরিকুল ইসলাম রিপন, হাফিজুর রহমান বাবু ও নজরুল ইসলাম আকনসহ আরও অনেকে।

  • নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র, ধর্মের অপব্যবহার ও দেশের অস্থিতিশীলতা চায় ষড়যন্ত্রকারীরা

    নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র, ধর্মের অপব্যবহার ও দেশের অস্থিতিশীলতা চায় ষড়যন্ত্রকারীরা

    বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের পথ বন্ধ করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা নানা কূটকৌশল অবলম্বন করে নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছে এবং সঙ্ঘাতমূলক পারস্পরিক দাঙ্গা সৃষ্টি করে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। তিনি আরও বলেন, ওলামা সমাজকে এখনই সজাগ হতে হবে যাতে কেউ ধর্মের অপব্যবহার করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা না করে। ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টি করে যারা দেশের শত্রু তারাই। শনিবার বিকেলে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলের অডিটোরিয়ামে মহানগর ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    রকিবুল ইসলাম বকুল আরও বলেন, জামায়াত-শিবির শক্তি নতুন করে মানুষকে প্রতারণার জন্য ধর্মের নামে জাল কৌশল নিচ্ছে। তারা মানুষের কাছ থেকে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ধর্মের আদর্শকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার এই অপচেষ্টা বাংলার ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহজ কোনও পথ নয়; কারণ সমাজে ধর্মান্ধতা নয়, ধর্মপ্রাণতা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি এবং চব্বিশের চক্র এক হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। বিএনপি দেশের সাধারণ মানুষের দল; এখানে প্রতারণার কোনও স্থান নেই। জনগণের ভোটের মাধ্যমে দেশকে আবার গণতন্ত্রের পতাকা উত্তোলন করে স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনব।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা কাজী আবু নাঈম। এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। উপস্থিত ছিলেন জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা ফারুক হোসেন, সদস্য সচিব মাওলানা আবু মুসা, মহানগর সদস্য সচিব হাফেজ মোহাম্মদ আল আমিন ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

  • ঝিনাইদহে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

    ঝিনাইদহে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

    ঝিনাইদহের সদর ও শৈলকুপায় বজ্রপাতে দুটি দুর্ঘটনায় দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে আজ রোববার (৫ অক্টোবর)। ঘটনাগুলো ঘটেছে সকালে, সদর উপজেলার আড়মুখি গ্রামে এবং শৈলকুপা উপজেলার শেখরা গ্রামে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে আড়মুখি গ্রামের কৃষক শিমুল বিশ্বাস নিজ Lose জমিতে কাজ করছিলেন। তখন হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হন এবং অন্যান্য কৃষকদের সাথে তারা দ্রুত মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এই সময় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে, যেখানে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শিমুল বিশ্বাসের।

    অন্যদিকে, শৈলকুপা উপজেলার শেখরা গ্রামে কৃষক হুরমত শেখও বাড়ির পাশের মাঠে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে তিনি দ্রুত ফেরার চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই গুরুতর আহত হন তিনি, পরিবারের লোকজনের সহযোগিতায় তাকে দ্রুত বাড়িতে নেয়ার পর মৃত্যু হয়।

    ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া মৃত্যুর এই ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সময় কেউ যেন খোলা আকাশের নিচে না থাকেন। সেনা নিরাপত্তাই জীবন রক্ষার অন্যতম উপায়।

  • নগরীতে মাছ বিক্রেতা পিতাকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় ছেলে-পুত্রবধূ ঢাকা থেকে গ্রেফতার

    নগরীতে মাছ বিক্রেতা পিতাকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় ছেলে-পুত্রবধূ ঢাকা থেকে গ্রেফতার

    নগরীর বসুপাড়া বাঁশতলায় চাঞ্চল্যকর বাবা লিটন খান হত্যার ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত দুইজন ছেলে ও পুত্রবধূকে গ্রেফতার করেছে। এই যুক্তিটি নিশ্চিত করেছে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন। তিনি জানান, শনিবার গভীর রাতে নিহত লিটন খানের ছেলে আবু বকর লিমন এবং তার স্ত্রী চাঁদনীকে রাজধানীর পল্লবী থানার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদেরকে খুলনায় নিয়ে আসা হয়।

    প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর বসুপাড়া বাঁশতলায় মাছ বিক্রেতা ও পরিবারের উপার্জনকর্তা ৪৫ বছর বয়সী লিটন খানকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। লিটন খান মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। হত্যার পর থেকে তার ছেলে লিমন এবং তার স্ত্রী পলাতক ছিল।

    অফিসার ইনচার্জ আরও জানান, সম্প্রতি লিটন খান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। তার মধ্যে থেকে লিমন ২০ হাজার টাকা দাবি করছিল। তবে, আবু বকর লিমন মাদকাসক্ত থাকায় তিনি টাকা দেওয়াতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে যখন লিটন খান একা থাকতেন, তখন ওই দুইজন পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। প্রথমে তারা শ্বাসরোধে লিটনকে অচেতন করে, এরপর ধারালো বঁটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। হত্যার পর থেকে তারা পলাতক ছিল।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে এবং হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো বঁটি জব্দ করে। তদন্ত চলছে, এই পরিস্থিতিতে তারা আরও যাতে দ্রুত সমকালীন বিচার পান, সেই বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।

  • জনগণের দ্বারে দ্বারে তারেক রহমানের ৩১ দফা পৌঁছে দিতে হবে

    জনগণের দ্বারে দ্বারে তারেক রহমানের ৩১ দফা পৌঁছে দিতে হবে

    বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু বলেছেন, বিএনপি হলো সাধারণ মানুষের দল। এটি একটি গণতান্ত্রিক দল, যার ইতিহাসে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃত। জিয়াউর রহমান এই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিএনপি শুরু থেকেই মানুষের অধিকার আদায়ে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। তারা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। এই ৩১ দফাই আধুনিক বাংলাদেশের রূপরেখা, যা দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে সহযোগিতা করবে। তাই এই ৩১ দফা জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিতে হবে।

    গতকাল শনিবার বিকেলে আমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বটিয়াঘাটার ৩নং গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মন্টু আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার ব্যতীত কোনো সংস্কারই দীর্ঘস্থায়ী ফল দেবে না। মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা অনুযায়ী জনগণের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সম্ভব বিএনপির নেতৃত্বে। একদিকে দেশের সহজ-সরল নারী-পুরুষদের ভুল বোঝানোর জন্য কিছু ধর্মান্ধ গোষ্ঠী চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে তারা কিছু স্বাধীনতা বিরোধী দোষীদের দলে ভিড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এসব অপশক্তিকে রুখে দিয়ে নারীরাও সমাজের মূলধারায় যোগ দিয়ে দেশ গঠনে অংশ নিতে হবে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে সমান অধিকারের দেশ, যেখানে বৈষম্য থাকবে না।

    তিনি আরও বলেছেন, নেতৃত্বের ঐক্য ছাড়া ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদ মোকাবেলা সম্ভব নয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এটাই একমাত্র উপায় দুর্বৃত্তবাদের শেকড় উত্সার করে স্বাধীন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নির্মাণের।

    অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক শেখ মোঃ তৈয়েবুর রহমান। বিশেষ বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ শামীম কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপি’র সদস্য মোঃ সুলতান মাহমুদ, জিএম রফিকুল হাসান, মোঃ মনিরুজ্জামান লেলিন ও খন্দকার ফারুক হোসেন। বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোঃ এজাজুর রহমান শামীম সম্মেলন উদ্বোধন করেন। ইউনিয়ন বিএনপি’র সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক মোঃ অলিয়ার রহমান শেখের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মোঃ জাহাঙ্গীর হাওলাদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

  • রাজপথের সাহসী ছাত্রনেতা কামাল স্মরণে শোকসভা

    রাজপথের সাহসী ছাত্রনেতা কামাল স্মরণে শোকসভা

    খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, ছাত্রনেতা এস এম কামাল হোসেন ছিলেন দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ নেতা। তার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। রাজনীতির ক্রান্তিকালে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। কামালে মতো নেতৃত্বের দরকার আজকের রাজনীতিতে। তিনি পরিবারের একজন কর্মঠ মানুষ ছিলেন, এবং তার মৃত্যুতে পরিবার যখন একজন অভিভাবক হারিয়েছে, তখন দলও একজন সাহসী নেতা হারিয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৪টায় বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণ ও দোয়া অনুষ্ঠান বড়ই শোকের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, এস এম কামাল হোসেন খুলনার সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজে পড়াশোনা করতে গিয়ে ১৯৯৫ সালে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে পা রাখেন। একই বছরে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরে তিনি ১৯৯৮ সালে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, ২০০১ সালে সভাপতি, ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৫ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, ২০১৪ সালে সরকারি বিএল কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস বিভাগে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তিনি ছিলেন সৎ, সাহসী ও নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদ। তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় শতাধিক রাজনৈতিক মামলা ছিল। সাবেক ছাত্রনেতা ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবুর সভাপতিত্বে এবং সাবেক ছাত্রনেতা ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সুমানের পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তৃতা করেন আরও নানা নেতা-কর্মী। উল্লেখ্য, সাবেক ছাত্রনেতা ও কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন ২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর রাতে বুকে ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪২ বছর।

  • ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়ে বাগেরহাটের কেবি বাজারে উপচে পড়া ভিড়

    ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়ে বাগেরহাটের কেবি বাজারে উপচে পড়া ভিড়

    ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ২২ দিনব্যাপী মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এই সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ ও মজুদ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। এর ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা ইলিশের পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই শেষ সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম মাছ বাজার বাগেরহাটের কেবি বাজারে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে জেলেদের অভিযোগ, এ বছর ইলিশের দেখা খুব কম, ফলে দাম অনেকটাই আকাশচুম্বী। সন্ধ্যা থেকে বাজার জুড়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের যখন হাঁকডাক শুরু হয়, তখন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে ট্রলার থেকে নামানো ইলিশ উন্মুক্ত নিলাম পদ্ধতিতে বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ কেউ সরাসরি খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। রাত ১২টার মধ্যে চলবে এই ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া। বাজারে ওজন অনুযায়ী ইলিশের দাম বিভিন্ন পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে—এক কেজি ভারী ইলিশের দাম ২৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা, ৫০০ গ্রাম থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১৫শ’ থেকে ২০শ’ টাকা কেজি দরে, আবার কিছু ছোট আকারের ইলিশের দাম ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। এই বাজারে ইলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের সামুদ্রিক মাছও বিক্রি হচ্ছে—তুলার ডাটি, রুপচাঁদা, ঢেলাচ্যালা, কঙ্কোন, চিতল, লইট্টা, জাবাসহ বেশ কিছু মাছের দামও তুলনামূলকভাবে বেশি। এর ফলে ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, কারণ দাম নাগালের বাইরে চলে গেছে। অনেক ক্রেতা বলছেন, তারা মাছ কিনতে এসে নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয় তানজিম শেখ বলেন, “বাচ্চাদের জন্য ইলিশ কেনার জন্য এসেছিলাম, কিন্তু দাম এত বেশি যে কিনতে পারছি না।” অন্য এক ক্রেতা নওরেশুজ্জামান লালন জানান, “৩ হাজার টাকার এক কেজি ইলিশ এখন খুবই অস্বাভাবিক, এতো দামে কে মাছ কিনবে?” মরিয়ম বেগম নামে এক নারী বলেন, “শেষ সময়ে মনে করেছিলাম দাম কমবে, তাই আসছিলাম। কিন্তু দাম এত বেশি করছিল যে আমি ৮শ’ টাকায় একটি ছোট ইলিশ কিনেছি, কারণ বাচ্চাদের জন্য প্রয়োজন ছিল।” ব্যবসায়ীরা বলছেন, জেলেরা মাছ কম পেয়ে যাচ্ছে এবং খরচের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় দাম ওঠচে গেছে। বাগেরহাটের মাছ বাজার মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি শেখ আবেদ আলী বলেন, “এবার খুব কম মাছ এসেছে, বেশিরভাগ ট্রলার মালিকের ক্ষতি হচ্ছে। আমদানি কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।” অন্যদিকে, জেলেরা বলছেন, এখনই মাছ ধরার জন্য উপযুক্ত সময়, যদি আরও দশ দিন ধরে মাছ ধরা চালিয়ে যেতে পারত, তবে ভালো মাছ পাওয়া যেত। ইব্রাহিম হাজি নামে এক জেলে জানান, “২৭ সেপ্টেম্বর সাগরে গিয়েছিলাম, কিন্তু ভালো মাছ পাইনি। অবরোধের কারণে এখন মাছ ধরা বন্ধ। অনেক দিন ধরেই মাছ ধরা ব্যাহত, খরচের টাকাই উঠছে না। কী করব বুঝতে পারছি না।” অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা মৎস্য বিভাগ সমস্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তারা জেলেদের এবং স্থানীয়দের সচেতন করতে সভা, সেমিনার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে। এছাড়াও, কোস্টগার্ড, বন বিভাগ, র‌্যাব, নৌ পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তর নদী, মোহনা ও সমুদ্রে টহল জোরদার করেছে যাতে করে কেউ এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন না করে। এই নিষেধাজ্ঞার সময় সমুদ্র, সমুদ্রে মোহনা, নদী ও নদীর মোহনায় মাছ আহরণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে ইলিশ সংরক্ষণ, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও পরিবহনও বন্ধ থাকবে। কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড ও ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে। বাগেরহাটের ভারপ্রাপ্ত জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার রাজ বলেন, “এটাই ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এই সময়ে যদি আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারি, তাহলে ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। আমরা এর জন্য সবরকম চেষ্টা করছি।”**

  • খুলনা ছাত্রনেতা কামালের সাহসী আন্দোলন ছিল সরব

    খুলনা ছাত্রনেতা কামালের সাহসী আন্দোলন ছিল সরব

    খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, এস এম কামাল হোসেন ছিলেন একজন সাহসী, সত্, মেধাবী ও বলিষ্ঠ ছাত্রনেতা। তিনি সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথের একজন সরব নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কামালের শিকড় গভীরে জড়িত—কোথাও তিনি ছিলেন অঙ্গীকারবদ্ধ। ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষে উঠে এসেছেন এই ছাত্রনেতা, যার শেষ কর্মস্থল ছিল কেন্দ্রীয় সংসদে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ। তার মেধা এবং বিচক্ষণতা ছাত্রদলকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সময়ে এস এম কামাল হোসেনের মতো সাহসী ছাত্রনেতার খুবই অভাব, যাকে পূরণ করা কার্যত সম্ভব নয়। অন্দোলন ও সংগ্রামের রাজপথে তার বিচরণ ছিল জোরালো এবং অপ্রতিরোধ্য।

    তিনি এই কথা বলেন শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরীর কেডিএ এভিনিউস্থ তেতুলতলা, সোনাডাঙ্গা থানার বিএনপি কার্যালয়ে, ছাত্রদল খুলনার আয়োজনে এক আলোচনা সভায়। এই অনুষ্ঠানে উপলক্ষ্য ছিল মহান নেতা এস এম কামাল হোসেনের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি আরও বলেন, বারবার কারাবরণ ও নির্যাতনের মুখে থাকা কামাল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের শতাধিক মামলার কেস কাঁধে নিয়ে মৃত্যু বরণ করেন। আমরা সবাই কামালের বিদেহী আত্মার জন্য কামনা করি শান্তি ও বরকত, আর তার পরিবারের জন্য ধৈর্য্য ধরে সব পরিস্থিতি মোকাবেলার তৌফিক আল্লাহ থেকে প্রার্থনা করি। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল গফ্ফার।

    অতিথি ও বক্তৃতাক্রমে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক রাজিবুল আলম বাপ্পি, সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন সান্নু, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, আসলাম হোসেন, ইফতেখার জামান নবীন, শামীম আশরাফ ও মরহুম কামাল হোসেনের ভাতিজা তামিম হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শেখ মোশাররফ হোসেন, মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, মহিবুজ্জামান কচি, এড. গোলাম মওলা, আনোয়ার হোসেন, সাদিকুর রহমান সবুজ, গিয়াস উদ্দিন বনি, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, রফিকুল ইসলাম শুকুর, শামসুজ্জামান চঞ্চল, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, ইশহাক তালুকদার, আকরাম হোসেন খোকন, সরদার রবিউল ইসলাম রবি, মেজাবাহ্ উদ্দিন মিজু, মহিউদ্দিন টারজান, বাচ্চু মীর, ওমর ফারুক, মাহবুব হোসেন, মিজানুজ্জামান তাজ, ইকবাল হোসেন, আলমগীর হোসেন আলম, মুন্সি আব্দুর রব, রিয়াজুর রহমান, এড. ওমর ফারুক বনি, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, গোলাম নবী ডালু, আলম হাওলাদার, মোহাম্মাদ আলী, শাকিল আহমেদ, মোটা ফিরোজ আহমেদ, সাখাওয়াত হোসেন, মনিরুল ইসলাম, মুজিবর রহমান, সৈয়দ গাজী, মামুনুর রহমান, মোল্লা আলী আহমেদ, পারভেজ মোড়ল, সেলিম বড় মিয়া, শামীম রেজা, ওহাব শরীফ, জামাল মোড়ল, সজল আকন নাসিব, শামসুল আলম বাদল, রুহুল আমিন রাসেল, ইউনুচ শেখ, আবু দাউদ খান, হুমায়ুন কবির, তরিকুল আলম, সাইফুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, খান মোঃ ফয়সাল, শেখ ফরিদ, খলিল পারভেজ, মাসুদ রানা, মিজান সরদার, মিরাজুল ইসলাম, আসাদ সানা, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, মাসুদ পারভেজ, রিফাত, মামুনুর রহমান রাসেল, লাল মিয়া, জুয়েল রহমান, জীবন মীর, হারুন হেলাল, অপু হোসেন, শফিউদ্দিন শফি, খোকন হাওলাদার, বেলাল ব্যাপারী, রফিক খান, ইমরান খান, আমজাদ হোসেন রাজু, শহিদুল ইসলাম, শেখ বাবুল, ফয়সাল বাদশা, তৌহিদুল ইসলাম, মহিউদ্দিন মঈন, সৈয়দ রুবেল, নাইমুল ইসলাম নাঈম, সজল, সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, সৈয়দ শাহজাহান, সৈয়দ বনি, শাহিন হাওলাদার, বিপ্লব, কামরুল প্রমুখ।

  • পতিত সরকার পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে: বকুল

    পতিত সরকার পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে: বকুল

    বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল মন্তব্য করেছেন, আমাদের দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান রোটারি স্কুল খুলনা বিভাগে মাধ্যমিক শিক্ষার ইতিহাস ঐতিহ্য ও গুণগত মানের জন্য খ্যাত। এই বিদ্যালয়ের সফলতা ও বর্তমান শিক্ষকদের নিবেদিতপ্রাণ পরিশ্রমের ফলেই আজ এটি সবার বেশি স্বীকৃতি পায়। তবে দুঃখজনক পরিস্থিতি হলো, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখনো হয়নি। তা ছাড়া, অব্যাহতভাবে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার পরিকল্পনামাফিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে। তারা সম্ভবত জাতিকে অজ্ঞ ও অন্ধ রাখার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। শুক্রবার সকালে খুলনা শহরের ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলের সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ১৯৭৫ সালে ১ জানুয়ারি এই স্কুলের প্রতিষ্ঠা হয়। এর নিজস্ব ঐতিহ্য ও গৌরবময় ইতিহাসে ৫০ বছর অতিবাহিত হয়েছে। এই দীর্ঘ পথচলার স্মরণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, গন্যমান্য ব্যক্তিরা। বকুল আরও বলেন, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসলে এই বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ, বৃহৎ খেলার মাঠ ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীতকরণসহ শিক্ষা জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম আনিসুজ্জামান বীরপ্রতীক (অবঃ), প্রাক্তন শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন সাদু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আলী বাবু। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদি। দুই দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের শুক্রবার ছিল সমাপনী অনুষ্ঠান। এতে প্রয়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

  • সেপ্টেম্বরে ৪৪৬ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৭ জন

    সেপ্টেম্বরে ৪৪৬ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৭ জন

    গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে মোট ৪৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪১৭ জন আর আহত হয়েছেন ৬৮২ জন। নিহতের মধ্যে নারী রয়েছেন ৬৩ জন এবং শিশু ৪৭ জন। এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে, যা এই মাসের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতির এক বিস্তারিত চিত্র উপস্থাপন করে।

    প্রতিবেতনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাসজুড়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি, যেখানে ১৫১টি ঘটনায় ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট নিহতের প্রায় ৩৪ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৩.৮৫ শতাংশ। পাশাপাশি, পথচলা সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন ১১২ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ২৭ শতাংশ। যানচালকদের মধ্যে ৫৬ জন নিহত হয়েছেন, যা ১৩.৪২ শতাংশ।

    অন্যদিকে, এই সময়ে ১৭টি নৌ দুর্ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটে ২৯টি, এতে ২৭ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হন।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুর্ঘটনা প্রতিটি ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় ও স্থানেঘটেছে। সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৩০ শতাংশ দুর্ঘটনা সকালবেলা, ২৩.৫৪ শতাংশ রাতে, দুপুরে ২০.৬২ শতাংশ, বিকেলে ১০.৭৬ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৭.১৭ শতাংশ এবং ভোরে ৭.৮৪ শতাংশ।

    ভূগোলের ভিত্তিতে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে মোট ১২৮টি দুর্ঘটনায় ১২৪ জন নিহত হয়েছেন। এরপর চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির হার যথাক্রমে উল্লেখযোগ্য। চট্টগ্রাম জেলা সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে, যেখানে ৫২টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে মাগুরায়।

    নিহতদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, ব্যবসা, শ্রমিক, কৃষি প্রভৃতি পেশাজীবীর সংখ্যাও উল্লেখ্য। জনপ্রিয় পেশার মধ্যে রয়েছে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থী।

    প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন, খারাপ রাস্তাঘাট, অবাধ বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা, অনুসরণীয় ট্রাফিক আইন অমান্য, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চাঁদাবাজি ও অব্যবস্থাপনা।

    উপসংহারে, রোড সেফটি ফাউন্ডেশন দুর্ঘটনা কমাতে নানা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, চালকদের কর্মঘণ্টা ও বেতন নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ভালো করার জন্য সার্ভিস রোড ও ডিভাইডার নির্মাণ, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা, রেল ও নৌপথের উন্নয়ন, চাঁদাবাজি বন্ধ ও টেকসই পরিবহন অবকাঠামো বাস্তবায়ন। এই সব উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা আরও উন্নত করা সম্ভব বলে তারা আশা প্রকাশ করেছে।