Category: সারাদেশ

  • নগর বিএনপিতে আন্দোলন বিমুখ ও বিশ্বাসঘাতকদের স্থান নেই

    নগর বিএনপিতে আন্দোলন বিমুখ ও বিশ্বাসঘাতকদের স্থান নেই

    খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেছেন, অতীতে যারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য করে সংবাদপত্রে সংবাদ ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন, তারা কখনোই বিএনপির সদস্য হতে পারেন না। বিএনপি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। এ ক্ষেত্রে নেতৃত্বে প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক হলেও, যারা দলের শৃঙ্খলা ভেঙে ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর মত প্রকাশ করেছেন, তারা বিএনপির অংশ নয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এখন বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সাহসী আন্দোলনে সংগ্রাম করছে। এই সময়ে যারা দলের বিভ্রান্তি Generate করেছেন, তারা অজান্তে আওয়ামী লীগের স্বার্থকেও রক্ষা করছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে যারা প্রকাশ্যে বিদ্রোহের হুঙ্কার দিচ্ছেন, তারা কখনোই বিএনপির আদর্শের অংশ হতে পারেন না। বিএনপি কারো ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান নয়, এটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে গঠিত একটি জনগণের দল। নেতৃত্ব অর্জনের জন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতার ঘুম নেই। নাটকীয় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নয়, বাস্তব কর্মের মাধ্যমে দলের মূল আদর্শ বজায় রাখতে হবে।

    গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রদত্ত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা লিফলেট বিতরণ ও ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক প্রচার মিছিল শেষে পথসভায় এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট মনা আরও বলেন, যারা ওয়ান ইলেভেনের সময় জিয়া পরিবারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, আন্দোলনের নামে চাঁদাবাজি ও নেতাকর্মীদের প্রতারণা করেছে, তারা বিএনপিতে স্থান পায় না। খুলনা বিএনপি এখনও আগের চেয়েও বেশি ঐক্যবদ্ধ। কোনো ষড়যন্ত্রকারী বা দলবিরোধীকে দলে নেওয়া হবে না। শহরের রয়্যাল মোড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে প্রচার মিছিলটি শেষে শিববাড়ি মোড়ে পথসভায় মিলিত হয়।

    নেতৃত্ব পরিচ্ছন্ন ও দলের প্রতি আনুগত্যের প্রতি গুরুত্ব দিতে দলীয় সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি কারণ আমাদের দেশ ভালোবাসি। দলের ভিতরে বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে তিনি মন্তব্য করেন, যারা ওয়ান ইলেভেনের সময় জিয়া পরিবারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, আন্দোলনের নামে চাঁদাবাজি ও নেতা-কর্মীদের প্রতারণা করেছে এবং বিএনপি অফিসের সামনে গড়াগড়ি দেয়ার মতো নাটক করেছে, তারা কখনোই দলের অংশ হতে পারে না। খুলনার মানুষ এমন নেতাদের বিএনপিতে দেখতে চায় না।

    তুহিন আরো বলেন, খালনা বিএনপি এখন আন্দোলনের সফলতার প্রতীক। এর হাত ধরে খুলনায় ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটেছে এবং ভবিষ্যতেও এই মাটিতে ফ্যাসিস্টদের ঠাঁই হবে না। আগামী নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, খুলনার ছয়টি আসন ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত দলীয় হাইকমান্ডের উপরই নির্ভর করছে। খুলনা বিএনপি সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ ও অঙ্গীকারবদ্ধ, পলায়নপর নেতাদের জায়গা এখানে নয়।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ ও থানা, ওয়ার্ড বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, জাসাস, মহিলা দল, তাঁতীদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি হচ্ছে দেশের মানুষের মুক্তি, গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার ও রাষ্ট্রের মেরামত। খুলনা মহানগর বিএনপি এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ শক্তি নিবেদন করবে।

    আজকের কর্মসূচি: বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় রূপসার ফেরিঘাট থেকে রয়্যাল মোড় পর্যন্ত লিফলেট বিতরণ ও ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক প্রচার মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

  • পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করুন

    পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করুন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ‘খুবিই গুরুত্বপূর্ণ’ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিষেবার উন্নতিতে পেশাদারিত্ব জোরদার করার জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি কর্মশালা, যা বুধবার দুপুরে উদ্বোধন করা হয়। কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শরীফ আসিফ রহমান নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই দুই দিনব্যাপী কর্মশালার শুভ সূচনা করেন।

    উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাড়ি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সুষ্ঠু বর্জ্য অপসারণের জন্য পদ্ধতিগত উন্নতির পাশাপাশি পেশাদার ও অংশীদারিত্ব ভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তুলতে হবে। এই মডেল পর্যায়ক্রমে নগরীর পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর করার পাশাপাশি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও লাভজনক হতে পারে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে খুলনা মহানগরীকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান।

    ‘সাসটেন্যাবল আরবান ওয়াটার সাইকেলস (এসইউডব্লিউসি)’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও এসএনভি যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় এটি ৪টি সিটি কর্পোরেশন ও তিনটি পৌরসভায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

    বিশেষত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ক্ষেত্রের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা, পেশাদারিত্ব যোগ করার জন্য কাঠামো তৈরি, সাশ্রয়ী পরিষেবা মূল্য নির্ধারণ, বাসার ঘরে ঘরে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য বেসরকারি কোম্পানি মনোনীত, ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা ও উপকরণ চূড়ান্ত করা ও একটি কার্যকর দল গঠন এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য।

    কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মীউল ইসলাম ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এসএনভি নেদারল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের কান্ট্রি এইচআর ও অপারেশন্স ম্যানেজার অগাস্টিন অল্ড্রিন সরকার। পরিচালনা করেন এসএনভি’র ক্লাস্টার কোঅর্ডিনেটর উজ্জ্বল কুমার দাস চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এসএনভি’র বিজনেস এডভাইজার তানভীর আহমদ চৌধুরী, গভার্ন্যান্স এডভাইজার প্রশান্ত রঞ্জন শর্মা রায়, বিসিসি অফিসার খাদিজা তুল-কোবরা প্রমুখ।

    তার পাশাপাশি অংশগ্রহণ করেন কেসিসি’র কঞ্জারভেন্সী অফিসার প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান ও মোঃ অহিদুজ্জামান খানসহ সহকারী কঞ্জারভেন্সী অফিসার, কঞ্জারভেন্সী সুপারভাইজার, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নেতা, চালকদের প্রতিনিধি, এসটিএস ও ডাম্পিং সাইটে নিয়োজিত শ্রমিকদের প্রতিনিধিরাও।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে

    সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে

    কেন্দ্রীয় বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন না হলে দেশের স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে একটি সংগঠিত চক্র পরিকল্পিত নাশকতা চালাচ্ছে, যা বর্তমান সরকারের কাছে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থতা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিলে খুলনা-৪ আসনে পানীয় জল, আধুনিক রাস্তাঘাট, উন্নত হাসপাতাল এবং সাধারণ মানুষের জানমাল নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। বিএনপি তার দীর্ঘসময় ধরে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও তিনি জানান। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ধারায় রূপ দিতে প্রতিশ্রুতি দেন।

    আজিজুল বারী হেলাল গত বুধবার বিকেলে রূপসা উপজেলা যুবদল আয়োজিত আঞ্চলিক যুবসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তত্ত্বাবধানে বক্তারা বলেন, জাতির জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’의 আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইবাদুল হক রুবায়েদ ও সদস্য সচিব নাদিমুজ্জামান জনি।

    অন্যান্য অতিথির মধ্যে ছিলেন জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এড. মোমরেজুল ইসলাম, যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, এনামুল হক সজল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনু, উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব মোঃ জাবেদ হোসেন মল্লিক।

    রূপসা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শফিকুল ইসলাম বাচ্চুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রুবেল মীরের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপি’র সদস্য শেখ আঃ রশিদ, মোল্লা এনামুল কবীর, আনিসুর রহমান বিশ্বাস, রিয়াজুল ইসলাম, এম এ সালাম, আছাফুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি উজ্জল কুমার সাহা, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু সাঈদ, জেলা তাঁতিদলের সদস্য সচিব মাহমুদুল আলম লোটাস, জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক আবদুল্লাহ আল কাফি সখা, গুলাম মোস্তফা তুহিন ও আলমগীর হোসেন L লালন।

    এছাড়াও বিভিন্ন নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও দায়িত্বে অবদান রাখেন।

    তেরখাদা প্রতিনিধি জানান, আজিজুল বারী হেলাল দুপুরে তেরখাদা উপজেলার মারকাজ মসজিদে অনুষ্ঠিত তাবলীগের জোড়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, তাবলীগ মানুষের অন্তরে আল্লাহর পথে ফিরে আসার আলো জ্বালায়, শান্তি ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। সমাজ থেকে অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচার দূর করতে তাবলীগের দাওয়াত ও বাস্তবায়ন জরুরি। এই কাজে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সদস্য মোঃ আব্দুস সালাম মল্লিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক চৌধুরী কাওছার আলী, সাবেক আহবায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, সাবেক সদস্য সচিব এফ এম হাবিবুর রহমান, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান মোল্লা, মোঃ সাজ্জাদ হোসেন নান্টা, শরীফ নাঈমুল হক, মোঃ বিল্লাল হোসেন, শেখ আজিজুর রহমান, মোঃ ফেরদৌস মেম্বার, এস কে নাসির আহমেদ, মোঃ পলাশ শেখ, মোঃ সাইফুল ইসলাম মোড়ল, খান গিয়াস উদ্দিন, শেখ রাজু আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ সোহাগ মুন্সী, মোঃ জামাল বিশ্বাস, কৃষক দলের সদস্য সচিব মোঃ সাবু মোল্লা, মোঃ আলমগীর শেখ, ছাত্রদের মধ্যে হাফেজ মোঃ জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মোঃ আব্দুল লতিফ মোলা, মোঃ রাজু বিল্লাহ প্রমুখ।

    তাবলীগের জোড়ে শেষে আজিজুল বারী হেলাল তেরখাদা ইউনিয়নের পূর্বপাড়ায় সাবেক মেম্বার ফেরদৌস মোল্লার বাড়িতে উপজেলা মহিলা দলের আয়োজিত উঠান বৈঠকে উপস্থিত হন। কোহিনুর বেগমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা বেগমের পরিচালনায় এই বৈঠকে তারা বলেন, “নারীরাই প্রকৃত নেতা, সংগঠনের উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণে নারীর ভূমিকা অপরিসীম।” নিজেকে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির শক্তি বৃ্দ্দি করার জন্য নারীদের সম্মিলিত অঙ্গীকারই ক্রমবর্ধমান। হেলাল বলেন, “দেশের মানুষের মুক্তির জন্য বিএনপির দায়িত্ব নিতে হবে। সবাইকে মাঠে, জনতার পাশে থাকতে হবে, সৎ ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে কাজ করতে হবে।”

  • নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিসচা খুলনা জেলা শাখার আলোচনা সভা

    নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিসচা খুলনা জেলা শাখার আলোচনা সভা

    জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে খুলনা জেলা শাখার আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বটিয়াঘাটা উপজেলার খারাবাদ বাইনতলা স্কুল এন্ড কলেজের স্থানীয় অঙ্গনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি তরিকুল ইসলাম, এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ খুলনার পরিচালক জিয়াউর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।

    আলোচনাসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খারাবাদ বাইনতলা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহিম, এবং আমিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কৌশিক পাল। সভাটি পরিচালনা করেন নিরাপদ সড়ক চাই খুলনা জেলা শাখার সহ-সভাপতি খাইরুল ইসলাম খান জনি।

    বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধের জন্য সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে যানবাহন চালকদের জন্য প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অনেক। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের জন্যও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রার্থীদের দক্ষ ও সচেতন করে তোলা, কারণ শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। দ্রুত গতি নিয়ন্ত্রণের অভাবে শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে, আবার সড়ক আইন না জানা মানুষের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। বক্তারা আরো বলেন, সড়কের নিরাপত্তার জন্য সবাইকে সচেতন হয়ে আইন মানতে হবে এবং দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

  • খুলনায় স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা, স্বামী আটক

    খুলনায় স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা, স্বামী আটক

    খুলনার লবণচরা থানার দরগাপাড়া খালেকের বাড়ির ভাড়াটিয়া সবুজপল্লী (নং ৪ কাশেম সড়ক) এলাকার ডলি বেগম (৪৫) নির্মমভাবে হত্যা করেছেন তার স্বামী নাজমুল হাসান (৫০)। ঘটনাটি ঘটে আজ বৃহস্পতিবার সকালে (২৩ অক্টোবর) ভোরে, যখন নাজমুল তাঁর স্ত্রীকে ফল কাটা ছুরি দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় জবাই করেন। পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের পরে স্বামী পালানোর চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং রিকশাচালক আরিফের সাহায্যে তাকে ধরে ফেলে। এরপর এলাকার মানুষ নাজমুলকে বেঁধে রাখেন। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি। তাদের দুই সন্তান রয়েছে—এক পুত্র ফাহিম (২৫) এবং এক কন্যা সাদিয়া (২২)। মৃত ডলি বেগম পাইকগাছার শান্তা গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের কন্যা।

    প্রতীকূলের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পাশের ঘরে চিল্লাচিৎকার শুনে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় ডলি বেগমকে বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। হঠাৎ করে নাজমুল হোসেন পিছনের বিছা দিয়ে পালিয়ে যান। তখন স্থানীয়রা দ্রুত তাকে খুমে নিয়ে যান এবং চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    সঙ্গত তথ্য অনুযায়ী, কন্যা সাদিয়া জানায়, তার বাবা-মায়ের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এই ঝগড়া-ঝাটির জেরেই তার মা নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছেন তার বাবা।

    লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, সকালে এলাকাবাসীরা ফোনে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকারী নাজমুল হাসানকে গ্রেফতার করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ছুরি উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে এই নৃশংস হত্যাকা-টি সংঘটিত হয়। পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহ এই ভয়ঙ্কর ঘটনার মূল কারণ।

  • নগরীতে অবৈধ ইজিবাইক নির্মূলের জন্য কেসিসি’র অভিযান

    নগরীতে অবৈধ ইজিবাইক নির্মূলের জন্য কেসিসি’র অভিযান

    নগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে, সোমবার খুলনা শহরে চলাচলরত অবৈধ ও অনিবন্ধিত ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হয়েছে। এই কর্মসূচি খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এবং খুলনা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে পরিচালনা করে।

    অভিযানের দ্বিতীয় দিন, মোট ২৩টি অবৈধ ও অনিবন্ধিত ইজিবাইক আটক করা হয়, যেগুলোকে জোড়াগেটস্থ ট্রাফিক অফিসে হস্তান্তর করা হয়। এই অভিযানটি চালানো হচ্ছে নগরবাসীর স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য, এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

    এ অভিযান বাস্তবায়নে অংশ নেন কেসিসির সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মল্লিক তাজুল হক, কেসিসির লাইসেন্স অফিসার শেখ মোঃ দেলওয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন লাইসেন্স ইন্সপেক্টর এবং কেএমপির পুলিশ সদস্যরা।

  • কুমিরের আক্রমণে নিহত সুব্রত মণ্ডলের পাশে বিএনপি নেতা তৈয়বুর

    কুমিরের আক্রমণে নিহত সুব্রত মণ্ডলের পাশে বিএনপি নেতা তৈয়বুর

    সম্প্রতি সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে নিহত যুবদল নেতা সুব্রত মণ্ডল গোঁসাইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ তৈয়বুর রহমান। গত ২০ অক্টোবর, সোমবার, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই সমর্থন প্রকাশ করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, দাকোপ উপজেলার ৯ নং বানিশান্তা ইউনিয়নের যুবদল নেতা সুব্রত মণ্ডল গোঁসাই ৩০ সেপ্টেম্বর সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে প্রাণ হারান। তার পরিবারকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি, গর্ভবতী স্ত্রী এর সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে পর্যন্ত সমস্ত চিকিৎসার খরচের দায়িত্ব নিয়েছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিএনপি পরিবারের সান্ত্বনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছে। দাকোপ বটিয়াঘাটার বিএনপির সাংগঠনিক টিমের প্রধান, খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ তৈয়বুর রহমান এই সহযোগিতার ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চালনা পৌরসভার সাবেক সভাপতি শাকিল আহমেদ দিলু, সাবেক সদস্য সচিব আল আমিন সানা, চালনা পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম ফয়সাল হোসেন, দাকোপ উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম শামীম হোসেন, সদস্য সচিব শাহাবুদ্দিন গাজীসহ আরও বেশকিছু দলের নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন নেতাকর্মী। এই অনুষ্ঠানে সবাই তার প্রতি সমর্থন ও শোক প্রকাশ করে তাকে সাহস যুগিয়েছেন।

  • ভাষা সৈনিক নুরুল ইসলাম দাদু ভাইয়ের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    ভাষা সৈনিক নুরুল ইসলাম দাদু ভাইয়ের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    আজ, ২১ অক্টোবর, দেশের স্বাধীনতা ও ভাষা আন্দোলনের একজন অগ্রগণ্য ভাষা সৈনিক এবং সাবেক সংসদ সদস্য এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাইয়ের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। এই স্মরণোৎসব মর্যাদার সহিত পালনের অংশ হিসেবে খুলনা মহানগর বিএনপি একটি আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। কর্মসূচির প্রথম অংশে বেলা ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে যেখানে তার জীবনের সংগ্রামী পথ ও দেশপ্রেমের কথা আলোচনা করা হবে। এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন এড. শফিকুল আলম মনা।

    এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই ১৯৩৪ সালের ২ মে খুলনা শহরের বাবুখান রোডে মুসলিম পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম ডাঃ খাদেম আহমেদ আর মাতার নাম আসিয়া খাতুন। মাধ্যমিক শিক্ষ Pass করার পরে তিনি ছাত্রজীবনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন মুসলিম ছাত্রলীগে, মহান নেতৃত্বে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৭ সালে খুলনার ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৬২ সালে খুলনার জাহানাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

    বাজে সময় জানিয়াও তিনি দেশসেবায় কাটিয়েছেন। ১৯৬৮-৬৯ সালে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তার অসামান্য অবদান ছিল। ১৯৭২ সালে তিনি খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে জাতির পিতা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর সদস্য হয়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে তিনি খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

    উল্লেখ্য, খুলনা মহানগর বিএনপি, তার পরিবারের সদস্যরা, বিভিন্ন থানা, ইউনিয়ন ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গসংগঠনের সমর্থকরা এই স্মরণোৎসবে অংশ নেওয়ার জন্য সবাইকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। মহানগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন সকল নেতাকর্মীকে এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

  • জামায়াতের ভন্ডামি, এ দেশের মানুষ মানবে না

    জামায়াতের ভন্ডামি, এ দেশের মানুষ মানবে না

    বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, জামায়াত ইসলামের ধর্মের ভণ্ডামি এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও ধার্মিক হিন্দু ভাইয়েরা কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না। ইসলামকে বিকৃত করে রাজনীতি করার দিন শেষ। তিনি সোমবার বিকেল ৪টায় দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নে মহিলা দলের কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এই মন্তব্য করেন। হেলাল বলেন, নির্বাচন ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা পরিকল্পিতভাবে নাশকতা চালিয়ে নির্বাচন বন্ধ করতে চাইছে। বিএনপি বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য নারীদের অগ্রণী ভূমিকা দেখাতে চায়। বারাকপুরের নারী নেত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি এখানে আসতে পেরে খুবই আনন্দিত। আপনারা ইসলামের জ্ঞান ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে দেশের জন্য গর্বের উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের নারীদের মর্যাদা দিয়েছেন এবং প্রথমবারের মতো মহিলা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে নারীর স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করেছেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু, জেলা মহিলা দলের সভাপতি এডভোকেট তছলিমা খাতুন ছন্দা, সাধারণ সম্পাদক সেতারা সুলতানা, উপজেলা বিএনপি সভাপতি সাইফুর রহমান মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক আঃ রকিব মল্লিক সহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিষাক্ত মদপানে ছয়জনের মৃত্যু: চারজনের মরদেহ উত্তোলন

    চুয়াডাঙ্গায় বিষাক্ত মদপানে ছয়জনের মৃত্যু: চারজনের মরদেহ উত্তোলন

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকায় বিষাক্ত মদপানে ছয়জনের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় বোঝা গেছে, পূর্বে গোপনে দাফিত চারজনের মরদেহ now উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে সাড়ে আটটা থেকে দুপুরের সাড়ে বারোটা পর্যন্ত এই কাজটি সম্পন্ন করা হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (নির্ণয়প্রাপ্ত) নূরুল হুদা মনিন।

    প্রয়াতদের মধ্যে যারা মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে, তারা হলো—চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পিরোজখালী গ্রামের লাল্টু হোসেন, খেজুরা গ্রামের সেলিম (৪৫), নফরকান্দি গ্রামের খেদের আলী (৫০), এবং শংকরচন্দ্র গ্রামের শহিদুল মোল্লা।

    উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে ডিঙ্গেদহ বাজারে কয়েকজন একসঙ্গে বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করেন। এর পরদিন তারা অস্থায়ীভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে ছয়জনের মৃত্যু হয়। রোববার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যুতে এই ঘটনার সত্যতা উঠে আসে। গ্রেফতার এড়ানোর জন্য পরিবারের সদস্যরা প্রথমে চারজনের মরদেহ গোপন করে দাফন করেন।

    এ বিষয়ে সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হোসেন আলী বলেন, নিহত লাল্টুর ভাই রাকিব ১৩ অক্টোবর একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় যে, নিহত চারজনের মরদেহ গোপনে দাফন করা হয়েছিল। এরপর ১৫ অক্টোবর আমরা মরদেহ উত্তোলনের জন্য আদালতে আবেদন করলে, ১৬ অক্টোবর আদালত এই নির্দেশ দেন এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আদেশ দেন।

    আদালতের নির্দেশনায় চারজনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। আইনগত ব্যবস্থাপনার জন্য ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিষাক্ত স্পিরিটের শিরোনামে মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যালকোহল বিক্রির সঙ্গে স্থানীয় একটি চক্র জড়িত। মামলার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ ঝিনাইদহ থেকে মূল আসামি ফারুক আহমেদ ওরফে ‘অ্যালকো ফারুক’ (৪০) এবং তার সহযোগী জুমাত আলীকে (৪৬) গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে ১১৭ বোতল মেয়াদোত্তীর্ণ স্পিরিট উদ্ধার করা হয়।

    ফারুক স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি হোমিও চিকিৎসার আড়ালে বিষাক্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যালকোহল বিক্রি করে আসছিলেন এবং চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন।

    সহকারী কমিশনার নূরুল হুদা মনিন বলেন, আমি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছি এবং আমার উপস্থিতিতে চারজনের মরদেহ উত্তোলন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্তের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।