গোপালগঞ্জে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক বৃদ্ধসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও সাতজন। এসব দুর্ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার বিকেলে গোপালগঞ্জ-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার রামচন্দ্রপুর এবং সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সদর উপজেলার পাথালিয়া এলাকায়। নিহতরা হলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকার মৃত মঈন উদ্দিন লস্করের ছেলে ৬০ বছর বয়সী আলমগীর লস্কর এবং বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার চর দাড়িয়াল গ্রামের সাহাবুর শেখের ছেলে ২৩ বছর বয়সী ট্রাক হেলপার মো. জসিম শেখ। ঘটনাস্থল ও আহতদের নিশ্চিত করেছেন টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোমান মোল্লা।
Category: সারাদেশ
-

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া’ যৌথ গবেষণার জন্য গুরুত্বপুর্ণ গ্রান্ট
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়ে গেছে, যেখানে শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যৌথ গবেষণাকে আরো শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করে তুলতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিল্প-একাডেমিয়া যৌথ গবেষণা সম্প্রসারণে কোলাবরেটিভ রিসার্চ গ্রান্ট প্রোগ্রাম (সিআরজিপি) বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ জোর দিচ্ছে। এর জন্য এমন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে গবেষকদের জন্য এই প্রোগ্রামের সুবিধা নিশ্চিত হয় এবং গবেষণা কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ এডভাইজারি কমিটি (আরএসি)-এর ২২তম সভা ছিল এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ওই সভা মঙ্গলবার সকাল ১১:৩০টায় প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য ও কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সিআরজিপি এবং এর প্রথম পর্যায়ের রিসার্চ গ্রান্ট প্রোগ্রামের (আরজিপি) প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুমোদনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
উপাচার্য এ সময় বলেন, দেশের উদারবাণিজ্য ও উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রথমবারের মতো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরনের অর্থ বরাদ্দ পাওয়া একটি বড় ইতিবাচক দিক। এর মাধ্যমে শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে বৈঠক ও সহযোগিতা আরও গভীর হবে। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত বিশ্বে যৌথ গবেষণাকে অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ হিসেবে দেখা হয়, তাই আমাদেরও সে পথে এগোতে হবে। তিনি আরো জোর দিয়ে বলেন, গবেষণালব্ধ ফলাফল যথাযথভাবে প্রচার ও শোকেসিং করলে এর কার্যকারিতা ও প্রভাব সর্বস্তরে পৌঁছানো সম্ভব। এর জন্য প্রতি বছর অ্যাকাডেমিক ফেয়ার এবং গবেষণা ও ইনোভেশন সেন্টারের উদ্যোগে বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করতে হবে, যা গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান আরও জানান, প্রকল্প প্রস্তাবনাগুলিতে একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কোলাবরেশন নিশ্চিত করতে হবে। শুধু একাডেমিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিল্পের সঙ্গে যৌথ গবেষণা করলে ফলাফল আরও বাস্তবমুখী ও প্রয়োগযোগ্য হবে। তিনি গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নে অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
সভাপতিত্বের পাশাপাশি, কমিটির সদস্য-সচিব ও গবেষণা ও উদ্ভাবনী কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কাজী দিদারুল ইসলাম এ আলোচনা পরিচালনা করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বনামের বিভিন্ন ডিন ও স্থাপত্য ও অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসরসহ আরো অনেকে, যারা গবেষণার ভবিষ্যৎ দিক নিয়ে মূল্যবান মতামত দিয়েছেন। এই সভার মাধ্যমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্প ও একাডেমিয়া উভয়ের জন্যই নতুন সম্ভাবনার দরজা উন্মোচিত হলো, যেখানে যৌথ গবেষণার মাধ্যমে নতুন উচুঁড়ি ছোঁয়া যাবে।
-

২৮ অক্টোবরের শহিদদের রক্তের বিনিময়ে এই দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে: কালাম
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ নীলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর একটি অন্ধকার দিন হিসেবে চিহ্নিত। ঐ দিন, ঢাকার পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগ এবং তাদের ১৪ দলীয় জোটের মাধ্যমে হিংস্র সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীরা বর্বরতা চালিয়ে ৮ জন জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ওই সময় সন্ত্রাসীরা আমাদের ভাইদের হত্যা করে লাশের উপর নাচানMike এবং এই ঘটনাগুলি ইতিহাসের ইসলামবিরোধী জিহাদি কার্যক্রমের এক জ্বলজ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। কালেমার ভাষায়, ২৮ অক্টোবরের সব শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এই দেশের মুসলমানরা অবশেষে ইসলাম প্রতিষ্ঠা পাবে।
আজ মঙ্গলবার, ঐতিহাসিক ‘পল্টন ট্রাজেডি দিবস’ উপলক্ষে কুয়রা উপজেলা জামায়াত আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির ভাষণে মাওলানা আবুল কালাম এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে, শেখ সায়ফুল্লাহ এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় অন্যান্য অতিথির মধ্যে বক্তৃতা করেন অধ্যাপক ওয়ালিউল্লাহ, অয়েজ কুরুনি, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা সুজাউদ্দীন আহমেদ, মাওলানা আবু তাহের, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম, মোল্লা শাহাবুদ্দীন শিহাব, আমীর গাজী মিজানুর রহমান, মাওলানা মতিউর রহমান, মাষ্টার জিএম নূর কামাল, হাফেজ মাওলানা আব্দুল হামিদ, মাওলানা শাজ্জাদুল ইসলাম, মৌলভী আবু সাইদ, মাষ্টার সাইফুল্লাহ হায়দার ও মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ। এই হত্যাকাণ্ড অন্যান্যদের জন্য সাহসের উৎস এবং দেশের অখণ্ডতা রক্ষা করার জন্য আমাদের সংগ্রামের প্রেরণা হয়ে থাকবে।
-

নগরীর আইন-শৃঙ্খলা অবনতি নিয়ে খুলনা বিএনপি’র উদ্বেগ
সম্প্রতি খুলনা নগরীতে খুন, হত্যা চেষ্টা, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের ঘটনা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নগরবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। খুলনা মহানগর বিএনপি এ নিয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করে তাদের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে। মঙ্গলবার দলটির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো বিবৃতিতে মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে খুলনা নগরীর জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতার অভাবে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিনই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খুন, ছিনতাই, চুরি, মাদক ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে, কিন্তু এ বিষয়ে প্রশাসনের দিক থেকে তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর উদাসীনতা আর অবহেলার কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি খুবই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। মহানগর বিএনপি নেতারা বলেন, প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ এখন বাড়ি ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। রাতের শহর যেন এক ভয়ঙ্কর আতঙ্কে ডুবে আছে, আর দিনের বেলায় নানা শঙ্কা এসে ঘিরে ধরে নগরবাসীকে। বিএনপি সব সময় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিশ্বাসী হলেও, খুন, ছিনতাই, গুম, চাঁদাবাজি ও মাদকচক্রের বিস্তার নগরীর সামাজিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে দলটি নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। অবাধ দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও সুশাসনের মাধ্যমে যদি না আসে পরিবর্তন, তবে নগরীর আইন-শৃঙ্খলার স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা কঠিন। বিএনপি মনে করে, এখনই খুলনাসহ দেশের সকল নাগরিকের জান-মাল রক্ষার দায়িত্ব অগ্রাধিকার পেতে হবে পুলিশের উপর। বিবৃতিতে নগরীর সব স্তরের নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে অপরাধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বক্তব্য প্রদানকারীরা হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, মহানগর সভাপতি শফিকুল আলম মনা, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ সহ আরও অনেকে।
-

মহেশপুরে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে আহত ৬
ঝিনাইদহের মহেশপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, এতে কমপক্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে মহেশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৬টার দিকে, উপজেলার যাদবপুর বাজারে জামায়াতের গণসংযোগ চালানোর সময়। অভিযোগে বলা হয়, গণসংযোগের পর মাগরিবের নামাজের সময় আড্ডায় বসে থাকা জামায়াত ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে দু’পক্ষ লাঠি ও চাপাতি নিয়ে হামলা চালায়, ফলে সংঘর্ষের আদ্রে ছয়জন আহত হন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গণসংযোগ শেষে মাগরিবের নামাজের পর জামায়াত ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এই সময় উভয় পক্ষের সদস্যরা লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা নিতে হয় বেশ কয়েকজনকে।
জামায়াতের উপজেলা আমির ফারুক আহম্মদ জানান, গণসংযোগ শেষে আমাদের নেতাকর্মীরা মাগরिबের নামাজের জন্য যান, তখন বিএনপি কর্মীরা হামলা চালায়। ফলে বেশ কয়েকজন আহত হন। তিনি মহেশপুর থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অপর দিকে, মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান রনি বলেন, তিনি বর্তমানে ঢাকায় আছেন। জানান, জাদবপুর বাজারে জামায়াতের কিছু কর্মী তাদের কিছু সদস্যকে মারধর করেছেন। তিনি আরো জানান, এই বিষয়ে তিনি বেশি কিছু জানেন না।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত শেষে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-

নড়াইলে প্রতিপক্ষের হামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা খুন
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় শুক্রবার সকালে প্রতিপক্ষের হামলায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মাসুদ শেখ (৪৬) হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ (২৮ অক্টোবর, মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাতে উপজেলার শুক্তগ্রামে হাডুডু খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে এক বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই ঝামেলা কিছুটা মিটে যাওয়ার পর, রাত সাড়ে ৯টার দিকে খেলার মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র এবং হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন মাসুদ শেখ। তার বন্ধু ও স্বজনরা তাকে প্রথমে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ কাজ করছে।}
-

খুলনায় দুই বাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ, এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি
খুলনার দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা এলাকায় ফিল্মি দৃশ্যের মত দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ভোরের দিকে প্রথমে মহেশ্বরপাশা খুঠিরঘাট এলাকায় রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মেহেদী হাসানের বাড়িতে গুলি চালানো হয়। এর কিছুক্ষণ পর কুয়েটের একজন কর্মচারী মহসিন শেখ লিটুর বাড়িতে একইভাবে গুলির ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনার কারণে এলাকা এখন ব্যাপক আতঙ্কে ভুগছে। দুইটি বাড়ির মধ্যে দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার।
সিসি টিভির ফুটেজে দেখা গেছে, কুয়েটের কর্মচারী মহসিন শেখ লিটুর বাড়িতে চারটি মোটরসাইকেলে মোট কয়েকজন যুবক হেলমেট পড়ে উপস্থিত হয়। তারা মূল entrance এর কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে মোটরসাইকেল থেকে তারা নেমে, মহসিনের রুমের দিকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। গুলি চালানোর পর ছেলেরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
স্থানীয়রা জানায়, গুলির ফলে মহসিনের রুমের জানালা ভেঙে যায়। ঘটনার সময় মহসিন নিজে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে ছিলেন, আর তার স্ত্রী কামরুন নাহার ও দুই সন্তান ঘুমাচ্ছিলেন পাশের রুমে। মহসিন শেখ কুয়েটের ডাটা প্রসেসর হিসেবে কর্মরত।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিক ইসলাম জানান, দুই বাড়িতে গুলির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে ৬ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ এখন তদন্তে নেমে দেখছে, কারা এই গুলির ঘটনায় জড়িত এবং কেন এই হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটানো হলো।
-

গোপালগঞ্জে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার একটি বাগান থেকে রঞ্জু সিকদার নামে ৩২ বছর বয়সী এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে মুকসুদপুরের খান্দারপাড়া ইউনিয়নের গোপ্তরগাতী গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা দেখতে পান, বাড়ির পাশের একটি গাছে রঞ্জু সিকদারের মরদেহ ঝুলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি সরিয়ে নিয়ে মর্গে পাঠিয়েছেন। ওসি মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে। পারিবারিক বা মানসিক সমস্যার কারণেও এ ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন পুলিশ। স্বজনরা এই ঘটনার শোকে কেঁদে ফেলেছেন। ময়না তদন্তের রিপোর্ট দেখার পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়রা শোকপ্রকাশ করেছেন।
-

বেনাপোলে ধান রাখার গোলাঘর থেকে পিস্তল উদ্ধার, আটক ১
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্তে অভিযানে বিজিবি ধান রাখার গোলাঘর থেকে একটি দেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে। এ সময় একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার ভোরের দিকে, যখন খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দৌলতপুর বিওপির একটি বিশেষ টহলদল এই অভিযান চালায়। বিজিবির সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুবেদার ফখরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে টহলদল সীমান্তের মূল পিলার ১৭/০৯ এস থেকে প্রায় ১০০০ গজ বাংলাদেশের ভিতরে, দৌলতপুর উত্তরপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। তদন্তের সময় স্থানীয় এক বাসিন্দার ধান রাখার গোলাঘর তল্লাশি করে সেখানে রাখা একটি দেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ সময়, যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর উত্তরপাড়া গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে আতাউর রহমান (মূলবয়স ৪০)কে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে বিজিবি। ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল খুরশিদ আনোয়ার নিশ্চিত করে জানান, অস্ত্রটি আইনে মামলা দিয়ে আটক ব্যক্তিকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
-

নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ঘিরে ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের অভিযোগগুলো জোরালো
খুলনা থেকে পরিচিত ছিল নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি একটি আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে। গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর, ঢাকায় গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২২ আগস্ট বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি লিয়াকত শিকদারের সহযোগী সিরাজুল হক চৌধুরীকে বিএনপি-ট্যাগ দিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। মূল লক্ষ্য ছিল অর্থ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা। প্রথমে মিজানুর রহমানকে ট্রাস্টি সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং পরে আরও দু’জন ট্রাস্টি যোগ দেন।
জানা যায়, ১৯ নভেম্বর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে, সংশ্লিষ্ট অসাধুচক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। তখন সিরাজুল হক চৌধুরী এক অফিস আদেশে তৌহিদুল ইসলাম আজাদ, পবিত্র কুমার সরকার ও সৈয়দ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে সাময়িক বিরত থাকার নির্দেশ দেন এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। যদিও এই কমিটি বিভিন্ন প্রভাবের মুখে পড়লেও শিক্ষকদের ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব থাকায় তদন্তের প্রতিবেদনটি বের হয়। তাতে দেখা যায়, অর্থ লেনদেনের নানা অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির প্রমাণ। এই বিষয়টি এখনো ইউজিসি তদ্বিরাধীন রয়েছে।
সূত্রগুলোর ভাষ্য, মূলত একটি চক্রের উদ্দেশ্য ছিল পলাতক ট্রাস্টি নেতাদের টাকা সরবরাহ ও আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডে অর্থ যোগান দেওয়া। এতে বিশেষ করে তালুকদার আব্দুল খালেক ও এস এম কামালসহ পলাতক বেশ কিছু আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে গোপন সংযোগ ছিল সিরাজুল হক চৌধুরী ও অন্যান্য অভিযুক্ত ট্রাস্টিদের।
অভিযোগে আরও জানা যায়, ২০২৩ সালে মেয়র নির্বাচনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল অর্ডার অনুযায়ী শিক্ষক-সহকর্মীদের অর্থ প্রদান করা হয়, যা তদন্ত রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুদক এ বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার ১২ বছরে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সমাবর্তন হয়নি এবং স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজও শুরু হয়নি।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে, বর্তমান ট্রাস্টি মিজানুর রহমান স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও, সিরাজুল হক চৌধুরী এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেন। তিনি অভিযুক্ত তিন ট্রাস্টির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন। তবে এই তিনজনের বিরুদ্ধে নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম, বিএনপির সমাবেশে হামলার মামলা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড। এর পাশাপাশি, এক চিঠিতে দেখা যায়, যেখানে সিরাজুল হক চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার সময় সদস্যদের স্বাক্ষর সংক্রান্ত গড়মিল রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনা প্রকাশ পায়, যেখানে শাহিদা খানম নামে একজন কর্মকর্তাকে রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে অন্য এক রেজিস্ট্রারকে হঠাৎ করে অব্যাহতি দিয়ে দেওয়া হয়। তবে, এর ফলস্বরূপ, এক ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন এবং এই আন্দোলন দমন করতে নানা হুমকি দেওয়া হয়। সিরাজুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা হয়, তার গ্রেফতারের জন্য আদালত থেকে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বর্তমানে মিজানুর রহমান বলেন, তিনি স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন, যেকোনো বাধা উপেক্ষা করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় স্বৈরাচারের আধিপত্যে থাকায় নানা অনিয়মের অবসান হতে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি কাউকেই এক টাকার অবৈধ অর্থ দিতে দেব না।
আরও জানা যায়, অভিযুক্ত ট্রাস্টিরা ঢাকা গোপনে বিভিন্ন বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সবাই আশা করছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি শীঘ্রই স্বৈরাচার মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু শিক্ষা কার্যক্রম চালু করবে।
