জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সাধারণ সম্পাদক এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা মুহিব্বুলাহ বাবুনগরীর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সোমবার এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, একটি দৈনিকে ১৫ সেপ্টেম্বরের সংখ্যার প্রথম পাতায় প্রকাশিত শিরোনাম—’জামায়াত সরকারে আসলে কওমি, দেওবন্দি ও সুন্নিয়াত মাদ্রাসার অস্তিত্ব থাকবে না’—সম্পর্কে তার বক্তব্য আদর্শ ও সত্যের কাছ থেকে বিচ্যুত। এ বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও অসত্য। একজন বরেণ্য আলেমের মুখ থেকে এমন ভিত্তিহীন মন্তব্য শোভা পায় না, বলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত রাজনৈতিক দল। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করে ইসলামি খেদমত করে আসছে। জামায়াতের বহু নেতা-কর্মী কওমি, দেওবন্দি এবং সুন্নিয়াত মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত, এবং এ সকল ধারার বিরোধিতা বা ক্ষতি করার কোন নজির নেই। অতীতে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী ক্ষমতায় ছিলেন, তারা কওমি বা দেওবন্দি মাদ্রাসার বিরোধিতা করেনি বরং তাদের সহযোগিতা করেছে। তাই মাওলানা মুহিব্বুলাহ বাবুনগরীর এ অমূলক ভয়ের ভাষ্য নিরসন এবং জনগণকে বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত করতে তিনি আহ্বান জানান। এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি যে, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এই ধরনের অবান্তর ও মিথ্যা आरोप থেকে বিরত থাকুন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদকও যথাযথভাবে এই প্রতিবাদ প্রকাশ করে জনগণের বিভ্রান্তি দূর করবেন।
Category: রাজনীতি
-

ইসলামী আন্দোলনের থ্রি ডে অ্যান্ড কলের ঘোষণা ও বিস্তারিত কর্মসূচি
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই, সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুরানো পল্টনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার রক্তে অশুভ স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছে দেশ। সেই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে স্থায়ীভাবে স্বৈরতন্ত্রের কবল থেকে মুক্তি দেয়া, ৫৪ বছরের জঞ্জাল দূর করা, ক্ষমতার ভারসাম্য সুস্থ করা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও সক্রিয় করা, এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির শুদ্ধতা আনয়ন করতে হবে। পাশাপাশি সব নাগরিকের ভোটাধিকার, মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন মৌলিক সংস্কার। তিনি আরও জানান, জুলাইয়ে বাংলাদেশের জন্য ‘সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন’ এই পরিস্থিতি উত্তরণের একমাত্র পথ। তবে দুঃখের বিষয়, বর্তমান সরকার নির্বাচনকে গুরুত্ব না দিয়ে সংস্কার ও বিচারকে পেছনে ঠেলে দিয়ে অশুভ পথের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশকে পুরোনো অশুভ বন্দোবস্তে আবারো নিপতিত করবে বলে তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, যারা জীবন বাজি রেখে জুলাইতে আন্দোলন করেছেন, রক্ত দিয়েছেন, তাদের এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া সত্যিই সম্ভব নয়। এজন্য তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারের নীতি নির্ধারকদের সাথে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলেও এখন রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে অনেক আলোচনা হলো, কিন্তু এখনও তাতে প্রয়োজনীয় আইনী সংস্কার ও স্বৈরতন্ত্র রোধে দৃঢ় অগ্রগতি হয়নি। শীঘ্রই আইনী ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে বা গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদকে আইনসম্মত করে দেশের স্বার্থে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম আরও বলেন, আওয়ামী লীগের অপরাধের মাত্রা কল্পনার বাইরে। বিচার প্রকরণ ও গতিও হতাশাজনক। দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জেলা পর্যায়ে বিচার কার্যক্রম চালানো ও পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ফ্যাসিবাদী দোসরদের সম্বন্ধে তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য ফ্যাসিবাদী দলের অপতৎপরতায় দেশ বিষিয়ে উঠেছিল। তারা ফ্যাসিবাদের দোসর, ভোটের কারসাজিতে অংশগ্রহণ করে অবৈধ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এখনো তারা আওয়ামী লীগের পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সেই সমস্ত দোসরদের বিচারের আওতায় এনে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য তিনি কঠোর আহ্বান জানান।
সরকারের পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে নির্বাচন ব্যবস্থা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ক্ষতিগ্রস্ত বলে অভিমত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মনোভাব মাঠের প্রশাসনকে পক্ষপাতদুষ্ট করে তোলে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। আইনী ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করতে হবে, যাতে প্রত্যাশিত নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়।
সাবেক সরকারী পদ্ধতিকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি অব্যাহত করেন, এখনকার নির্বাচনী পদ্ধতি দেশকে ধীরগতির দিকে নিয়ে গেছে। দেশের উন্নয়ন ব্যক্তিগত উদ্যোগের ফল হলেও, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও দুর্নীতির কারণে প্রতিটি নির্বাচনই দেশের জন্য দূরবর্তী ভগ্নদশার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আগামী নির্বাচনের জন্য পিআর (প্র্রোপোরশনাল রেজিস্ট্রেশন) পদ্ধতি চালু করতে হবে। এর সুবিধা πολλές, ও এই পদ্ধতির মাধ্যমে দেশের স্বার্থে মুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।
অতঃপর, তিনি মূল দাবি উপস্থাপন করেন, যেমন—শীঘ্রই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, এর আইনী ভিত্তি প্রাপ্তি, ফ্যাসিবাদের বিচার ও দোসরদের নিষিদ্ধ করা, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা। এই দাবিগুলোর লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, যেমন—১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ, ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরগুলোতে বিক্ষোভ, এবং ২৬ সেপ্টেম্বর সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ।
সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব মো. গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব মুহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, এটিকুর রহমান, খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোস্তফা কামাল, সহ প্রচার দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক কেএম শরিয়াতুল্লাহ প্রমুখ।
-

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনের প্রস্তাব এনসিপির
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, আমাদের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে জাতীয় ঐক্য কমিটির সঙ্গে। আলোচনায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমটি হলো, কিছু কাজ সংবিধান পরিবর্তন না করে অর্ডিন্যান্স বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পালন করা যেতে পারে। তবে, এমন অনেক বিষয় আছে যেগুলো সংবিধানের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত, যেখানে বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার। এই পরিবর্তনগুলো শুধুমাত্র সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সম্ভব কি না, সে ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কিছু আশঙ্কা রয়েছে। রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐক্য কমিটির সঙ্গে রাজনৈতিক দলের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এই বৈঠকে কমিটির সভাপতি এবং সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন। আখতার হোসেন জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের হাইকোর্টে সংশোধনীর চ্যালেঞ্জ দিয়ে বিভিন্ন পরিবর্তন বাতিল হয়েছে। তাই, আমরা যারা সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন এনেছি, সেগুলোর টেকসইতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছি। তিনি উল্লেখ করেন, একত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে একটি গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব। এই জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। এনসিপির এই নেতা বলেছিলেন, এর জন্য তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আবেদন করেছেন, যাতে কমিশনের মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং কার্যক্রমের সফলতা নিশ্চিত করতে পারি।
-

জামায়াতের ৫ দফা গণদাবি ঘোষণা এবং সমতুল্য কর্মসূচি
জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের দাবি সহ মোট পাঁচ দফা মূল প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে, যা নিয়ে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী আগামী তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলের নেতা ও নেত্রীবৃন্দের নেতৃত্বে এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভবিষ্যৎ নির্বাচনে নিজস্ব স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে পিআর পদ্ধতি চালু, সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি, এবং দুর্নীতি, গণহত্যা ও জুলুমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। পাশাপাশি, তারা সরকারি দলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম বন্ধেরও দাবি তুলেছে।
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় দলটির উদ্যোগে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে আরেকটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে। এই কর্মসূচিগুলোর আওতায় দলটির নেতৃবৃন্দ এই দাবিগুলোর বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, জামায়াত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করতে চায়, যেখানে উভয় সংসদীয় কক্ষে প্রোপোরশনাল রাউন্ড পদ্ধতি চালু হওয়া দরকার।
তিনি বলেন, ‘আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মাঠ তৈরি করতে চাই। সরকারি কর্তৃত্বের অপতৎপরতা, দুর্নীতি ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি, স্বৈরাচারী দলীয় স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধের দাবি তুলতে চাই।’
তাহের আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচন বেড়ে যাওয়ার জন্য এ দাবি তুলছি না, বরং নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয়তার জন্য দাবি করছি। আমাদের দাবি এটাই যে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন যেন হয়, যা আইন মেনে নেওয়া হবে।’
প্রতিটি দল নিজস্ব কর্মসূচিকে ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছেন, তবে এখনই তারা একটি যুগপৎ আন্দোলনের কথা বলছেন না। বছরজুড়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, কি কারণে এই দাবিগুলো মূলত নির্বাচন পিছানোর জন্য তা উৎসাহিত হয়, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই দাবি সময়মতো সমাধান সম্ভব।
আলোচনায় তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী নানা অনিয়ম, যেমন কালো টাকার ব্যবহার, পেশিশক্তি প্রয়োগ ইত্যাদি বন্ধে পিআর পদ্ধতি জরুরি। জনগণের দাবির প্রতি মনোযোগ না দিলে, গণআন্দোলনের বিকল্প নেই।’ তিনি স্পষ্ট করে বলছেন, ‘আমরা নির্বাচন থেকে পিছপা নই, বরং দাবি মানা হওয়ার জন্য প্রস্তুত।’
অন্যদিকে, একই দাবিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও আগামী ১৯ ও ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই দলের নেতা মাওলানা মামুনুল হক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও বিচারক সংক্রান্ত বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি, জুলাই গণহত্যার বিচারও দৃশ্যমান করতে হবে। ’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্রের মতো জুন সনদকেও কাগজে কলমে ব্যর্থ হতে দেয়া হবে না। যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’ এই সকল দাবিকে বাস্তবায়নে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
-

হেফাজত আমিরের সতর্কবার্তা: জামায়াত ক্ষমতায় এলে কওমী মাদ্রাসার অস্তিত্ব বিপন্ন
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির, প্রবীণ ইসলামী চিন্তাবিদ আলামা শাহ মুহিব্বুলাহ বাবুনগরী বলেছেন, যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে, তাহলে ইসলামের মূল আস্থা ও ভিত্তিকে ধ্বংস করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত কওমী মাদ্রাসার দুশমন। বাবুনগরী সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আল্লাহ না করুন, যদি কোনোভাবে ফেরাউন জাতির কেউ সরকারে আসতে পারে, তাহলে দেওবंदी কওমী পন্থা এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের (আলীয়া ও সুন্নিয়াত) মাদ্রাসাগুলোর অস্তিত্ব থাকতেই পারবে না। তিনি স্পষ্টভাবে এই কথাটা প্রকাশ করেন। আমি কসম করে বলতে পারি, এই বিষয়গুলো আপনি নিজেও দেখবেন। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দিন, আল্লাহ আমাদের সাহায্য করুন। বাবুনগরী গত বৃহস্পতিবার হাটহাজারী ডাকবাংলো মাঠে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে এই সব কথা বলেন। এই সমাবেশে হেফাজত ইসলামের সাবেক আমির আলামা জুনাইদ বাবুনগরীর স্মরণসভায় শতাধিক আলেম ও ওলামা অংশ নেন, যেখানে আরও বক্তৃতা দেন মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মাওलানা মামুনুল হক, মাওলানা হারুন ইজহার প্রমুখ। Sources: শীর্ষ নিউজ অনলাইন।
-

হেফাজতে ইসলামের আমিরের বক্তব্যের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামের কড়া নিন্দা
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদের সহকারী সচিব ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর একটি বিবৃতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, সম্প্রতি একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে মাওলানা বাবুনগরী দাবি করেছেন, যদি জামায়াত সরকারে আসে, তাহলে কওমি মাদ্রাসা, দেওবন্দি ও সুন্নিয়া মাদ্রাসার অস্তিত্ব রক্ষিত থাকবেন না। এই বক্তব্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মনগড়া, এতে সত্যের কোনো লেশমাত্র নেই। একজন সম্মানের আলেমের মুখ থেকে এ ধরনের অসত্য বিষয় প্রকাশ হাওয়ায় তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং এই ধরনের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান। এড. মাহবুব জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও ইসলামী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দল, যিনি দেশের একাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করে ইসলামের খেদমত করে আসছে। দলটির নেতাকর্মীরা কওমি, দেওবন্দি বা সুন্নিয়া মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কোনো ভাষ্য দেননি। পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের দুই মন্ত্রী ক্ষমতায় ছিলেন, যারা কখনো কওমি বা দেওবন্দি মাদ্রাসার বিরোধিতার পক্ষে কিছু বলেননি বরং এই ধরনের মাদ্রাসার জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। এই সমস্ত বিষয় দেখে স্পষ্ট, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আশঙ্কা অমূলক ও ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, এ ধরনের অপপ্রচারণা চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। আর এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সকলকে আহ্বান জানাচ্ছেন, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মনগড়া মন্তব্য না করার এবং দৈনিক ইনকিলাব কর্তৃপক্ষের কাছে এই প্রতিবাদ যথাযথভাবে প্রকাশ করে বিভ্রান্তি দূর করার জন্য।
-

ইসলামী আন্দোলনের তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই, সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুরানো পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশকে স্বৈরতন্ত্রের কবল থেকে মুক্ত করতে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের জন্য রক্ত দেওয়া ছাত্র-জনতাকে সম্মানিত করতে, দেশের দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে জমা থাকলো বিভিন্ন জঞ্জাল দূর করতে, ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুসংহত করে স্বাধিকার ও স্বাধীনতা বজায় রাখতে ও দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে শুদ্ধ করতে হলে তিনটি মূল বিষয়—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—একসাথে কার্যকর করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের এই সমসাময়িক সময়ের জন্য জুলাইতে ঘোষিত ‘সংস্কার-বিচার ও নির্বাচন’ এই আদর্শ অনুসরণ করা অপরিহার্য। তবে দুর্ভাগ্যবশত, এখনকার পরিস্থিতিতে এই গুরুত্ব না দিয়ে শুধুই নির্বাচন প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশকে আগের অশুভ স্বৈরতন্ত্রের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার ভয় সৃষ্টি করে।
-

এনসিপির প্রস্তাব: জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচন দরকার
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এই আলোচনায় দুটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। একটি হলো, কিছু বিষয় সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এবং সেগুলো অর্ডিন্যান্স বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তবে, দেশের রাষ্ট্র কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় রয়েছে যা সংবিধানের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে এবং যেখানে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। এই পরিবর্তনগুলো শুধু সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সম্ভব কিনা, তা নিয়ে আমাদের মধ্যে কিছু আশঙ্কা রয়েছে।
রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংগঠনিক আলোচনা চালানোর সময় এসব কথা বলেন আখতার হোসেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ও সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আখতার হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশের হাইকোর্টে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, যার ফলে কিছু সংশোধনী বাতিলও হয়েছে। এজন্য, আমরা প্রশ্ন তুলে বলেছি, কীভাবে আমাদের করা পরিবর্তনগুলো টেকসই ও কার্যকর করা যায়, তার জন্য কি উপায় থাকতে পারে। বিশেষ করে, রাজনীতিক দলগুলোর উচিত ঐকমত্যে পৌঁছানো যাতে এগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সম্ভবত একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তে আসতে পারবে। এজন্য তিনি দেশের সংগঠনগুলোর সহমত প্রক্রিয়া আরও কার্যকরি করে তুলতে সরকারের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জরুরি আবেদন জানিয়ে বলেন, কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করে এই প্রক্রিয়া দ্রুত ও সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে, রাজনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের সমঝোতা ও উদ্যোগ আরও সুদৃঢ় হবে এবং লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি আসবে।
-

জামায়াতে ইসলামীর ৫ দফা গণদাবি ঘোষণা
জাতীয় নির্বাচনের জন্য সংবিধানের ধারা অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পাঁচ দফা গণদাবি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণা দেয়া হয় সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে। সংগঠনের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই দাবিগুলোর কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজ ১৫ সেপ্টেম্বর আমরা আমাদের পাঁচ দফা গণদাবি জনসম্মুখে উপস্থাপন করছি। দাবিগুলো হলো: প্রথমত, জাতির স্বার্থে জুলাই মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয়ত, জাতীয় নির্বাচনে সংসদের উভয়কক্ষে পিআর (প্রোপোরশনাল রেপ্রেজেন্টেশন) সম্পর্কিত পদ্ধতি চালু করা জরুরী। তৃতীয়ত, নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবাইকে সমান সুযোগ দেয়া, অর্থাৎ একটা সত্যিকারের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম, গণহত্যা, দুর্নীতি ও অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিচার যেন দৃশ্যমান হয়। পঞ্চমত, স্বৈরাচারী শক্তির দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন তারা। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, কলামিস্ট, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা এই পিয়ার পদ্ধতি বা প্রোপোরশনাল নির্বাচনের পক্ষে। এ কারণেই, জনগণের দাবি পূরণে কোনো বিকল্প নেই—এমনটাই মনে করেন তারা। এই পরিস্থিতিতে, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য একজোট হয়ে গণআন্দোলন চালানো ছাড়া উপায় নেই বলে সমর্থন দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
-

জামায়াত ক্ষমতায় এলে কওমী মাদ্রাসার অস্তিত্ব থাকবে না: হেফাজত আমির
হেফাজত ইসলামের আমির এবং প্রবীণ ইসলামি চিন্তাবিদ আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, যদি কখনও আওয়ামী লীগ সরকারে আসে, তবে ইসলাম পন্থী দেওবন্দী কওমী মাদ্রাসা ও আধ্যাত্মিক সুন্নি ধারার (আলীয়া ও সুন্নিয়াত) মাদ্রাসাগুলোর অস্তিত্ব সংকুচিত হয়ে থাকবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, জামায়াত ও কওমী ধারার দুশমন হয়ে উঠবে এ সরকার। এই পরিস্থিতিতে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, যদি কোনোভাবে ফেরাউনের জাতি ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা এই ধারা ও মাদ্রাসাগুলোর অস্তিত্বকে একেবারে বিলীন করে দেবে। আমি কসম করে বলছি, আপনি নিজেই দেখবেন এই সত্যতা। আল্লাহপাক আমাদের সবকে হেফাজত করুন। বাবুনগরী গত বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর মাসে, হাটহাজারী ডাকবাংলো মাঠে এক শান্তিপূর্ণ সমাবেশে এসব বক্তব্য দেন। এই অনুষ্ঠানে হেফাজত ইসলামের সাবেক আমির তার স্মরণসভার আনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে অন্য আলেম ওলামা, শায়খ ও মুরুব্বিরা বক্তব্য রাখেন, যেমন মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা হারুন ইজহারের মতো নেতৃবৃন্দ। সূত্র: শীর্ষ নিউজ অনলাইন।
