Category: রাজনীতি

  • আশাবাদ জামায়াতের, তিনশ’ আসনে নির্বাচনে অংশ নেবে দলটি

    আশাবাদ জামায়াতের, তিনশ’ আসনে নির্বাচনে অংশ নেবে দলটি

    জামায়াত বিভাগীয় নেতারা স্পষ্ট করেছেন যে, তারা আগামী নির্বাচনে তিনশ’ আসনে নির্বাচন করার লক্ষ্য রাখছেন। দলটির আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান শনিবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগীয় মজলিসে শুরা সভায় এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, যারা আমাদের পছন্দ করেন, ভালোবাসেন এবং আমাদেরও যারা ভালোবাসি, তাদের নিয়ে আমরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। বিজয় অর্জনের জন্য আমরা সকলের থেকে আর্থিক কোরবানি ও সহযোগিতা কামনা করছি।

    ডাঃ শফিকুর রহমান আরও জানান, আল্লাহর রহমতে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির উল্লেখযোগ্য জয় লাভ করেছে, যা দেশের তরুণ সমাজকে প্রভাবিত করেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই বিজয় দেশের সামনের জাতীয় নির্বাচনে আরও প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, অনেক ত্যাগ, আন্দোলন ও কোরবানি দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই বছর জুলুম নির্যাতনের মধ্য দিয়ে দেশের অনেক ভাই-বোন জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের ত্যাগের ফলস্বরূপ আল্লাহ আমাদের বড় একটা বিজয় দিয়েছেন। তিনি প্রার্থনা করেন, আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই কোরবানি স্বীকৃতি দিন।

    দীর্ঘ অসুস্থতার পর আজ কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগীয় শুরা সভায় বলার সুযোগ পেয়ে বলেন, অসুস্থতা-সুস্থতা দুটোই আল্লাহর নিয়ামত, যা সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জানানো প্রয়োজন। ডাঃ শফিকুর রহমান জাতীয় রাজনীতির অঙ্গনে চলমান পরিস্থিতি ও দলের ঐতিহাসিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৫ বছর ধরে চলমান ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অনেক নেতা-কর্মী নিহত, আহত ও দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। যারা এখনও অসুস্থ, তাদের জন্য দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ মানুষকে বিভিন্ন পরীক্ষায় ডাকে। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তাঁর পুত্রের কোরবানি দিয়ে ঈমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, এ কারণে তাঁকে মহান পুরস্কার, মুসলিম জাতির পিতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    আমীর উল্লেখ করেন, নেতাদের উপর নির্যাতন-জেল-জুলুমের মালা হলেও তাঁরা ধৈর্য্যসহকারে তা সহ্য করে দিয়ে দেশের মুক্ত পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্ব হলো আল্লাহর ইচ্ছায় জনগণের সেবা করা। এজন্য বিনয় এবং আল্লাহর ওপর আলাদা আশা-ভরসা রাখতে হবে।

    সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা। এক দিনব্যাপী অধিবেশনে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন’ বিষয়ে বক্তব্য দেন। এছাড়া দারসুল কোরআন উপস্থাপন করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুমসহ অন্যান্য শুরা সদস্যরা। আলোচনা হয় সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় ও রিপোর্ট প্রদর্শনের মাধ্যমে।

  • বিএনপির সঙ্গে কারও মতপার্থক্য নেই, ভোটাধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়ে একমত তারেক রহমান

    বিএনপির সঙ্গে কারও মতপার্থক্য নেই, ভোটাধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়ে একমত তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিগত ১৬ বছর ধরে পতিত স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ আন্দোলন চালিয়ে এসেছে এবং তাদের পতন ঘটিয়েছে। সেই স্বৈরাচারকে অবশেষে পালিয়ে যেতে হয়। এখন অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে, এবং বিএনপি বহু আগেই সেই সরকারের প্রস্তাবনাগুলোর কথা বলে এসেছে। আজ শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান আরও বলেন, অনেক দলের মধ্যে মতের ভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের ভোটাধিকার এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গে কারো কোন মতপার্থক্য নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা সাধারণ মানুষের কাছে নিজের কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব স্বচ্ছভাবে জানাতে সক্ষম হবে।

    তিনি বলেন, আমরা সম্মিলিতভাবে এই কাউন্সিল সফল করেছি। যদি আমরা আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকি, তবে পুরো দেশবাসীর সমর্থন নিয়ে এক বিশাল জনসমর্থন আদায় করতে পারবো। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলের সিদ্ধান্ত মান্য করা আমাদের সর্বোচ্চ কর্তব্য। তারা যেন ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনও অপতৎপরতা না চালায়, এবং দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা না করে।

    তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়ে আরও বলেন, কারো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য দলের নাম বা বিএনপির নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো বন্ধ করতে হবে। সকলের উচিত এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা।

    তিনি আরও বলেন, যারা দলীয় পদ পেতে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, তাদের জন্য নির্বাচনী ভোট তখনই গুরুত্বপূর্ণ হবে যখন জনগণ তাদের পাশে থাকবে। তাই জনসমর্থন পাবার জন্য সব সময় জনগণের সঙ্গে থাকতে হবে, তাদের পাশে থাকতে হবে।

    সেখানে তিনি দুটি বিষয়ে কঠোর প্রতিজ্ঞা ঘোষণা করেন। প্রথম, যে কোনও মূল্যে দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত থাকতে হবে। দ্বিতীয়, দলকে ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য অপব্যবহার হওয়া রোখা নিশ্চিত করতে হবে। তারেক রহমান বলেন, দলের স্বার্থে যেন কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।

  • আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানালেন নাহিদ ইসলাম

    আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানালেন নাহিদ ইসলাম

    নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক, আওয়ামী লীগের পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রমের জন্য বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো উচিত বল offspring করেন। আজ রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে এই মন্তব্য করেন তিনি। এই সময় অন্য সদস্যরা ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    বিচারকদের জেরার সময়, যেহেতু শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান, নাহিদ ইসলাম মনে করেন, তাঁর সকল রাজনৈতিক অপরাধও আওয়ামী লীগের অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার জেরায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আজকের দলীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে তার জেরার সময় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের আইনজীবীরা নাহিদ ইসলামকে জেরা করেন। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আগামী রোববারের জন্য তার জেরার দিন ধার্য করা হয়। এই মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে জবানবন্দি পেশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি জবানবন্দি দেওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা তাদের জেরা চালিয়ে যান।

  • দেশে গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছেঃ মির্জা ফখরুল

    দেশে গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছেঃ মির্জা ফখরুল

    এদেশে ইতিমধ্যে অনেকগুলো ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে, যা দেশবাসীর মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এই কথাগুলো বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলনে তিনি এই বক্তৃতা দেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শেষ নেই, মানুষের মন-মানসিকতাও বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যার ফলে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিএনপিকে ক্ষতি করার নীলনকশা করছে এক শ্রেণির অপশক্তি।

    মির্জা ফখরুল যোগ করেন, দেশে যা কিছু ভালো ও সৎ উদ্যোগ, তার সবকিছুই বিএনপিই দিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে কোন কিছুর উন্নয়ন হয় if বিএনপির অনুপ্রেরণায়। তিনি বলেন, যুদ্ধের পর ভিন্ন ধারার রাজনীতি শুরু করলেও, বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো বারবার উঠে দাঁড়িয়েছে। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হলেও তারা ব্যর্থ হয়েছে—সফল হননি। বরং যারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল, তারা এখন পালিয়ে গিয়েছে, আর বিএনপি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

    মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বিএনপি ও তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এই দলটি কখনোই অনুপ্রবেশকারী বা বলয়ের বাইরে থেকে আসা কোনো দল নয়, গণসংগ্রাম ও সংগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে।

    সম্মেলন প্রসঙ্গটিতে তিনি বলেন, বর্তমান এই সম্মেলন সাধারণ কোনো সম্মেলন নয়। এটি দীর্ঘ ১৫ বছর পর বিএনপির নেতাকর্মীদের সে সব ত্যাগ ও sacrifices এর ফলस्वরূপ সম্ভব হওয়া একটা নতুন সুযোগের সম্মেলন, যেখানে দলের প্রতিটি কর্মীকে আরও একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করতে হবে। তিনি দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যে নেতা বা বক্তার নামে স্লোগান উঠবে, সেই নেতারই শক্তিশালী ভিউ মাইনাস হবে—অর্থাৎ, দলের জন্য আরও শক্তিশালীভাবে কাজ করতে হবে।

  • পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন জরুরি, সংসদে সবার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বললেন গোলাম পরওয়ার

    পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন জরুরি, সংসদে সবার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বললেন গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ভবিষ্যত নির্বাচন যদি পদ্ধতিগতভাবে না হয়, তবে জনগণের সত্যিকার মতামত প্রকাশ হতে পারে না। জনগণের সমতা ও সকলের প্রতিনিধিত্বের নিশ্চিতে এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন একান্ত প্রয়োজন। তিনি আরও যোগ করেন, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে এবং সংসদে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে একমাত্র পথ।

    শনিবার বিকালে রংপুরের পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন তিনি। এই সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় জুলাই সনদে সুসংগঠিতভাবে নির্বাচনে যাওয়ার জন্য ৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কিছু মানুষ বলছেন, সরকার আলোচনা করছে, কেন তাহলে রাজপথে আন্দোলন করছে? তিনি স্পষ্ট করেন, একদিকে জুলাই সনদ চান, অন্যদিকে গোপনে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা, যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরপেক্ষ ও আন্তরিকভাবে আমাদের দাবিগুলো মান্য করে উপযুক্ত সমাধান করলে, আমরা আন্দোলন থেকে সরে আসবো।

    সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ক বক্তব্যে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংস্কার কমিশন গঠনের সময় যোগসূত্র করতে হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী সরকারকে নির্দেশনা দিয়ে গণভোটের আয়োজন করতে হবে। তবে, রাজনৈতিক বিষয় আদালতে নেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে জটিলতা বাড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা অতীতে আদালতকে ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা আর কোনওদিন চলব না।

    তিনি অভিযোগ করেন, কিছু পক্ষ আমাদের নির্বাচনে যেতে অস্বীকৃতি বলছে, কিন্তু জামায়াতের আমির বলছেন, ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তিনি বলেন, আমরা সময়মতো নির্বাচন চাই, কিন্তু তা অবশ্যই সাংবিধানিক সংস্কার, জুলাই সনদ, গণহত্যার বিচার, সমান সুযোগ ও পক্ষপাতিত্বমুক্ত ফ্যাসিবাদী রাজনীতি নিষ্পত্তির মাধ্যমে হতে হবে।

    গোলাম পরওয়ার জোর দিয়ে বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র বিএনপিকে দেখানো হলেও আমাদের তা দেখানো হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে, নির্বাচিত সরকার এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে, যা দেখে বিএনপি খুশি হলেও আমরা কেন এতদিন এই সংস্কার নিয়ে অপেক্ষা করলাম, তার কোনও যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না।

    পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতির ব্যাপারে তিনি বলেন, দেশের ৩১টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ২৫টি এই পদ্ধতিতে একমত, কারণ এতে কালো টাকা, পেশিশক্তি বা কারচুপি চলে না। মনোনয়ন বাণিজ্যও এ পদ্ধতিতে হয় না। তাই এই পদ্ধতি কিছু বিশেষ গোষ্ঠীর পক্ষে মানা মুশকিল।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের জুলুম, গুম, খুন, গণহত্যা, লুটতরাজের বিচার জনগণ দেখতে চায়। সকল দমন-পীড়ন, দুর্নীতি ও স্বৈরাচার শাসনের সঙ্গে জড়িত ১৪ দল ও জাতীয় পার্টিসহ দুর্বৃত্তরাও নিষিদ্ধ হতে হবে। এই দাবি এখন জনতার জীবন্ত দাবিতে পরিণত হয়েছে।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ছিলেন দলের রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রংপুর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী, মহানগর সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক রায়হান সিরাজী, সহকারী সেক্রেটারি আল-আমিন হাসান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মোস্তাক আহমেদ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগর সভাপতি নুরুল হুদা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সুমন সরকার ও জেলা সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ।

    সমাবেশ শেষে জামায়াত ও তাদের সহযোগী সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে শুরু করে নগরীর প্রধান সড়ক ঘুরে শাপলা চত্বরে শেষ হয়।

  • নির্বাচন ছাড়া বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: সিপিবি

    নির্বাচন ছাড়া বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: সিপিবি

    বাংলাদেশে আজকের দিনেও শুধুমাত্র নির্বাচনপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব। সেই কারণেই কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশের (সিপিবি) সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেছেন, যারা আগামী নির্বাচন নিয়ে নানা কৌশলে বিতর্ক উসকে দিতে চাচ্ছে, জাতীয় সংগীত পাল্টানোর দাবি করছে, ৭২ এর সংবিধান বাতিলের কথা বলছে এবং চার মূলনীতি মূল্যবাণ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে, তারাই আসলে গণতন্ত্রের শত্রু। তিনি এ কথা বলেছেন শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সিপিবির চার দিনব্যাপী ত্রয়োদশ কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। এর আগে বিকেলে জাতীয় সংগীত এবং আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কংগ্রেসের প্রথম দিনটি শুরু হয়। সভাপতি হিসেবে বক্তৃতা দেন সিপিবির সভাপতি।

    শাহ আলম বলেন, বর্তমানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা ভোগ করছে। তিনি জানান, নির্বাচন যদি না হয়, এই অচলাবস্থা চলতেই থাকবে। কিন্তু যখন নির্বাচন হয়, তখন একটি নির্দিষ্ট শক্তি ক্ষমতায় আসবে। তাই আমাদের মূল স্লোগান হলো, “অতি সত্বর নির্বাচিত সরকার দরকার।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসন তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে যখন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসবে, তবেই দেশের বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে।

    শাহ আলমের মুখ দিয়ে উঠে আসে, গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনার সরকার গণতন্ত্রের মূল শত্রু হিসেবে বিবেচিত হলেও, এখন পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। এখন গণতंत्रের মোকাবিলা করছে সাম্প্রদায়িক শক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের বিরোধিতা করলে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং মৌলবাদী শক্তির উত্থান আরও জোরদার হবে।

    তিনি বলেন, দেশের ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে ২০১৩ সালে জুলির গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে, তবে সেখানে কোনও শ্রেণি বিপ্লব বা স্বাধীনতা ঘটেনি, কেবল ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে একটি গণপ্রতিরোধ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বামপন্থী, কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীল শক্তির স্বজনপ্রীতি, বিভেদ ও হঠকারিতার কারণেই আজ রেডিক্যাল ইসলাম শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে একত্রিত হয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বিকল্প সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।

    শাহ আলম বলেছিলেন, সিপিবির নেতৃত্বে JULY গণঅভ্যুত্থানে আমরা কোন ভুল করিনি। ওই আন্দোলনে ছিল লালবদর; সেই আন্দোলন অক্ষুণ্ণ ছিল, এবং আমাদের বিশ্বাস, এই আক্রান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, JULY-র চুক্তিপত্রের কোনও প্রশ্ন ওঠা উচিত নয়, এটি চক্রান্ত। আন্দোলনের সব সম্ভাবনাকে আলোর মুখ দেখাতে হবে।

    বিশ্ব পরিস্থিতিও আলোচনা করে তিনি জানান, আজ পৃথিবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়াকে ধ্বংস করে বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের নতুন দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে মানবিক করিডর তৈরি নিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের চাপ দিয়ে বার্মার সঙ্গে যুদ্ধ লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়ায় আমাদের দেশও ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকান ও আন্তর্জাতিক শক্তির হাতায় আমাদের দেশেও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    উদ্বোধনী ভাষণে লিখিত বক্তব্যে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন অসাংবিধানিক নীতির কারণে গণঅভ্যুত্থানের বিজয়কে ভূলুণ্ঠিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে ফ্যাসিস্ট ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি। বিদেশি বিশ্লেষক ও আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী শক্তির পাশাপাশি দেশের ভিতরেও নানা ষড়যন্ত্র চলছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অপপ্রয়াস ও সা¤প্রদায়িক হামলা, দখলদারিত্ব, নৈরাজ্য, মামলা বাণিজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব অপতৎপরতা রুখে দিতে দেশের সকল গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও বামপন্থী সংগঠন একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    শেষে, সিপিবির চার দিনব্যাপী কংগ্রেসের উদ্বোধন হয়। এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য নির্ধারণ, আগামী দিনের সংগ্রাম পরিকল্পনা ও নীতিমালা নির্ধারণ করা। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শ্রমিক-কারিগর, ছাত্র-যুবা প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টির শুভেচ্ছা বার্তা ও সমর্থন একত্রিত হয়। এই ঐতিহাসিক সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীল শক্তি একতাবদ্ধ হয়ে কৌশল নির্ধারণ করবে ভবিষ্যত সংগ্রাম জরুরি।

  • বিপ্লবের জন্য মানুষের কাছে যেতে হবে: মোড়লির আহ্বান

    বিপ্লবের জন্য মানুষের কাছে যেতে হবে: মোড়লির আহ্বান

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা আজকাল সমাজ পরিবর্তন ও বিপ্লবে উৎসাহী, তাদেরকে অবশ্যই নিজেদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মূল চাবিকাঠি হলো সাধারণ মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানো—তাহলেই সত্যিকারের পরিবর্তন সম্ভব। তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে বাংলা একাডেমির সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে কমরেড বদরুদ্দীন উমরের জীবনাবসানে আয়োজিত শোকসভায় এ কথাগুলো তুলে ধরেন। ফখরুল বলেন, মধ্যে আমি বদরুদ্দীন উমরের সঙ্গে খুব বেশি মেলামেশা করতে পারিনি। তবে তার বাসায় গিয়ে উপদেষ্টা আবরার সাহেবের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বদরুদ্দীন উমর তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার আদর্শ ও সংগ্রামের সঙ্গে কখনো আপস করেননি। আমরা যারা বর্তমান রাজনীতি করছি, তাদেরকে তিনি অত্যন্ত সম্মান করতেন, কারণ তিনি কখনো প্রভুর মতো কেম্প্রামাইজ করেননি। নতুন প্রজন্মের কাছে উমর সাহেবের আদর্শ কতটুকু পৌঁছেছে, সে বিষয়টি অনেকে বুঝতে পারেননি। আলাপচারিতায় এক প্রশ্ন উঠে আসে, সংগঠন কত গুরুত্বপূর্ণ—উল্লেখ্য, আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো, সত্যিকার বিপ্লব তখনই সফল when সংগঠন শক্তিশালী থাকলে। বর্তমান সমাজে যে হতাশার কারণ রয়েছে, এর মূল কারণ হলো সংগঠনের অভাব। যদি কোনও বিপ্লবী সংগঠন না থাকে, তবে স্বাভাবিকভাবেই বিপ্লবের সফলতা আসে না। তিনি আবার বলেন, যারা আজ বিপ্লব করতে চান, সমাজ পরিবর্তন করতে চান, তাদের অবশ্যই সংগঠনকে আরও দৃঢ় করতে হবে। আরও শক্তিশালী করে তুলতে হবে। বদরুদ্দীন উমরের ভাষায় বলতে গেলে, মানুষের কাছে গিয়ে পৌঁছানোই সফলতার মূল চাবিকাঠি। শোকসভার শুরুতেই এক মিনিট নীরবতা পালন করে বদরুদ্দীন উমরের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় সংগীতের মাধ্যমে কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল সংগীত পরিবেশিত হয়। আরও একটি ডকুমেন্টারিও প্রদর্শিত হয়। শোকসভায় বক্তব্য দেন মাহবুবউল­াহ, কমরেড খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া, ড. আকমল হোসেন, কমরেড সজীব রায়, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামসহ অনেকে।

  • জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলেই জনগণ প্রতিরোধে নামবে: ইসলামি আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

    জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলেই জনগণ প্রতিরোধে নামবে: ইসলামি আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, যদি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে সাধারণ জনগণ সম্মিলিতভাবে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি এ কথা আজ (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাড্ডা ইউলুপ সংলগ্ন এলাকার একটি গণসমাবেশে বলেন, যেখানে পাঁচ দফা দাবির পক্ষে হাজারো মানুষ যোগদান করে।

    চরমোনাই পীর উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পরও দেশের মৌলিক অধিকার, ন্যায্যতা ও মানবিক মর্যাদা পূর্ণতা লাভ করেনি। তাই তিনি দ্রুত সরকারের কাছে দাবি জানান, যেন নির্বাচন পরিচালনার জন্য আইনি ভিত্তি শক্তিশালী করে দেওয়া হয়। কারণ, সনদ ছাড়া নির্বাচন হলে সেটি বৈধতা পাবেনা এবং জনগণের আস্থা বিনষ্ট হবে।

    তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে গভীর সমালোচনা করে বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের সময় আমাদের তিনটি মূল শ্লোগান ছিল—সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ও ন্যায়বিচার। কিন্তু আজ ৫৩ বছর পরেও এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়নি। যারা দেশের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করছেন, তারা এসব মূল্যবোধের প্রতি উপযুক্ত গুরুত্ব দেয়নি বলে তিনি আক্ষেপ ব্যক্ত করেন।

    চরমোনাই পীর বলেন, গত ২৪শে জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে জনগণ বুঝতে পেরেছে যে নতুন শক্তি ক্ষমতায় এলে তারা আবারও সরকারকে নিজেদের স্বার্থের জন্য ব্যবহার করবে। এটা দেশের মানুষের জন্য ভালো নয়। সেই কারণেই তিনি আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন চান।

    তিনি বলেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মূলনীতি হচ্ছে—সবার জন্য ন্যায়, মর্যাদা ও সমতার প্রতিষ্ঠা। মা, বোন, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী—প্রত্যেকের অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা সংগ্রাম করছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেহেতু এই নীতি-আদর্শ রেখেছেন, এই পরিবর্তন ছাড়া কোনো শান্তি বা মুক্তি আসবে না। আমাদের আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি নৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের এক মহান প্রচেষ্টা।

    সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম বলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিক যেন তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়। যারা দেশের সম্পদ ও ক্ষমতা দখল করে রেখেছে, তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। এই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আবশ্যক। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এই পরিবর্তন এনে দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সমস্ত ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত।

    সমাবেশে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নাগরিক অধিকার, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং নৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একযোগে জনগণের অধিকার রক্ষা ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাবে এবং জনগণের স্বার্থে নেতৃত্ব দেবে।

  • দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে আস্থা ও উন্নয়নে মনোযোগ বিএনপির

    দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে আস্থা ও উন্নয়নে মনোযোগ বিএনপির

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো দেশের প্রতিটি ভোটারদের আস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে দলটি তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে সংগঠনের ভিত্তিকে শক্তিশালী করছে। এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা চাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস জোড়াতেল করা।

    বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই কথা ব্যক্ত করেন তিনি। তারেক রহমান লিখেছেন, নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে সাত হাজারের বেশি দলের সদস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অসদাচরণের কারণে অনেককে বহিষ্কার করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অনেক কষ্টের হলেও, বাস্তবতা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া অপরিহার্য ছিল। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা দুর্বলতা নয়, বরং আমাদের শক্তির পরিচায়ক; সদস্যদের দায়বদ্ধতা তৈরি করে আমরা আবারও প্রমাণ করতে চাই যে, বিএনপি সততার প্রতি আন্তরিক।

    তারেক রহমান আরও জানান, তরুণরা রাজনীতিকে শুধুমাত্র ক্ষমতার খেলার মাঠ হিসেবে দেখে না, বরং এটি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক ক্ষেত্র যেখানে সবার অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য আধুনিক ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পেশা সৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তন, এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নীতিমালা গড়ে উঠছে। নারীর সমParticipateতায়ন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অগ্রগতি আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

    তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো ভিন্ন ধরনের, তাই আমাদের পদক্ষেপও হতে হবে নতুন চিন্তার ভিত্তিতে। তবে ইতিহাসে বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যেতে চান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়েছিলেন, যারা জনগণের সংখ্যাশক্তিকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়েছিলেন। আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়েছিলেন। তারা দুজনের সেই লড়াই ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে নতুন যুগে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা।

    তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ঐতিহ্যবাহী, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ভবিষ্যতপ্রোড পন্থায় এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, তরুণরা বাস্তব সুযোগ চায়, তারা কুচক্রী বুলি নয়। তারা চায় স্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা নয়। বিশ্ব نیز প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ একটি বিশ্বাসযোগ্য ও মর্যাদাসম্পন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হোক। এসব লক্ষ্য পূরণে বিএনপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

    অंतিমে, তিনি সকল নেতা-কর্মী ও সহকর্মীদের একত্রিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকুন, শৃঙ্খলা রক্ষায় অবিচল থাকুন। নিজের ওপর আস্থা রাখতে বলেতো, তার একটাই বার্তা — একসাথে আমরা প্রমাণ করবো যে, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহি মূলক রাষ্ট্র তৈরি সম্ভব। ইনশাআল্লাহ, আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশের নির্মাণে আসুন, একসাথে এগিয়ে যাই।

  • প্রধান উপদেষ্টা নিউইয়র্ক সফরে ফখরুল, তাহেরসহ চার রাজনীতিবিদের সাথে যাচ্ছেন

    প্রধান উপদেষ্টা নিউইয়র্ক সফরে ফখরুল, তাহেরসহ চার রাজনীতিবিদের সাথে যাচ্ছেন

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ یونূস আগামী ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নিউইয়র্কের জন্য ঢাকা ত্যাগ করবেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে তার সঙ্গে থাকবেন চারজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ। তারা হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুলাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন এ তথ্য জানান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগদানের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, দেশের চলমান পরিস্থিতির কারণে চারজন রাজনীতিবিদ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক পৌঁছাবেন। তিনি ফিরবেন ২ অক্টোবর।

    ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণ প্রদান করবেন। এসব ভাষণে তিনি গত এক বছরে দেশে ঘটে যাওয়া সংস্কারগুলো ও ভবিষ্যতে অনুষ্ঠিত হবে এমন নির্বাচন নিয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

    এছাড়া, এই বছর পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির সভাপতিত্বে ‘হাই লেভেল কনফারেন্স অন দ্য সিচুয়েশন অব রোহিঙ্গা মুসলিমস এন্ড অ্যাথার মাইনোরিটিজ ইন মিয়ানমার’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে, গত মাসে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অংশীদার সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল যাতে দ্রুত সমস্যা সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা গৃহীত হতে পারে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমদ প্রমুখ।