Category: রাজনীতি

  • অন্তর্বর্তী সরকার ছাড়া জনগণের পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন বাধ্যতামূলক: ইসলামী আন্দোলনের তরফ থেকে ঘোষণা

    অন্তর্বর্তী সরকার ছাড়া জনগণের পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন বাধ্যতামূলক: ইসলামী আন্দোলনের তরফ থেকে ঘোষণা

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম বলেছেন, যদি কোনও কারণে অন্তর্বর্তী সরকার চাপের মুখে পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনী ব্যবস্থা) পদ্ধতিতে নির্বাচন না দেয়, তবে জনগণ নিজ উদ্যোগে এই পদ্ধতিতেই নির্বাচন সম্পন্ন করবে। তিনি আরও জানান, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির কোনও আপত্তি থাকার কথা নয়, কারণ তাদের উচ্চ পর্যায়ের একজন নেতা ইতিমধ্যে দাবি করেছেন, নির্বাচনে তারা শতকরা ৯০ শতাংশ ভোট পেতে পারেন।

    বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইটে দলের বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ফয়জুল করিম বলেন, আমি মনে করি, ভারত এই লক্ষ্যটি পছন্দ করে না। এজন্য ভারতীয় আইনি বুনিয়াদ তৈরি করতে হবে। আপনাদের কি ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন? অন্তর্বর্তী সরকার কেবল নির্বাচনের জন্যই নয়; এটি আসার আগে তিনটি মূল কাজ সম্পন্ন করতে হবে—সংস্কার, দৃশ্যমান বিচার ব্যবস্থা, এবং নির্বাচন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের জন্য পিআর পদ্ধতিই উপযুক্ত, কারণ এটি দেশের ৮০ শতাংশ জনগণের পক্ষে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

    তিনি জানান, পিআর পদ্ধতিতে কোনওভাবেই ফ্যাসিবাদ বা অসচ্চরিত্রতা তৈরি হবে না, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকবে না এবং ভোট ছিনতাইয়ের সম্ভাবনাও কমে যাবে। এ পদ্ধতিতে নির্বাচিত সংসদে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয় থাকবে—বাম-ডান, হিন্দু-মুসলিমসহ সকল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব। ফলে জনগণ রাস্তায় নামার প্রয়োজন হবে না; সকল আন্দোলন সংসদেই হবে। যদি কারও সন্দেহ থেকে থাকে, তাহলে গণভোটের পদ্ধতিও ব্যবহার করা যেতে পারে। জনগণ চাইলে, তাদের ভোটে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা হবে, অন্যথায় হবে না।

    মুফতি ফয়জুল করিম আরও বলেন, প্রাথমিক স্কুলে গান ও নাচের শিক্ষক নিয়োগ করা কোনওভাবেই ঠিক নয়। মুসলমানদের করের টাকায় এই ধরনের শিক্ষক নিয়োগ সুসম্পন্ন নয়, যদি কেউ দিতে চায়, তাহলে তাকে মসনদে থাকার দরকার নেই। শিক্ষকদের জন্য মূলত কম্পিউটার ও ধর্মীয় বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

    মিছিলের সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা উত্তর মহানগরীর সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুফতি রেজাউল করিম আবরার, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ ইবনে কাউয়ুম, ঢাকা-১১ আসনের এমপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    অংশগ্রহণকারীরা শিল্পশক্তি ও গণহত্যার বিচার কেন জরুরি, তা তুলে ধরেন। তারা বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত এবং গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করতে হবে। এছাড়া ভারতের তাবেদার ও ফ্যাসিবাদীদের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

    বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্নস্থানে চলমান রাজনৈতিক হামলা সাধারণ মানুষকে ভীতি ও উদ্বেগে ফেলেছে। এ ধরনের অরাজকতা অস্বাভাবিক এবং নিন্দনীয়। দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ষড়যন্ত্রের পেছনেও অন্যান্য ষড়যন্ত্র আছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত।

    তারা উল্লেখ করেন, স্বৈরতন্ত্রের অবসান ও গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের জন্য নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার অপরিহার্য। জনগণের মতামতকে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে আনতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আন্তঃপ্রতিনিধিত্বের (পিআর) পদ্ধতি। এই পদ্ধতিই দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দাবি করে আসছে। এর ধারাবাহিকতা পালন করে তারা সেপ্টেম্বর মাসব্যাপী সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

    তারা জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই জুলাইয়ের সনদ অনুযায়ী পিআর পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সব ধরনের আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

    অতঃপর, তারা ঘোষণা দেন, আগামীকাল শুক্রবার বিভাগীয় শহরগুলোতে ও ২৬ সেপ্টেম্বর সব জেলা ও উপজেলা কেন্দ্রীয় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালন করবে।

  • হেফাজত আমিরের বার্তা: ইসলামী দলগুলোর ঐক্য ও সতর্কতা হওয়া জরুরি

    হেফাজত আমিরের বার্তা: ইসলামী দলগুলোর ঐক্য ও সতর্কতা হওয়া জরুরি

    হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল­আমা শাহ মুহিব্বুল­আলাহ বাবুনগরী বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে এমন কাউের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া উচিত নয় যারা ভ্রান্ত আকিদার আশপাশে রয়েছে। আমাদের পূর্বপুরুষরা এ বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জমিয়তে উলামা ও আলেমদের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলনে এই বক্তব্য রাখেন।

    বলেন, ‘আমাদের সবাইকে অবশ্যই সহিহ আকিদার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। যারা ইসলামের ক্ষতি করবে, তাদের সাথে একজ্জো দেওয়া বা ঐক্যবদ্ধ হওয়া থেকে বিরত থাকা আমাদের জন্য জরুরি। আমরা মনে করি, তারা যারা এমন ভুল ধারণার আওতায় আসছে, তাদের ব্যাপারে আমাদের পূর্বপুরুষরা সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। তাদের ভ্রান্ত আকিদা সম্পর্কে অনেক লেখা-পত্রও রচিত হয়েছে। সেজন্য আমাদের উচিত তাদের সঙ্গে জোট বাঁধা বা তাদের সমর্থন না দেয়া।’

    আলোচনায় তিনি আরো বলেন, ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন করা দেশের স্বাধীকারের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। এটি দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য একটি ক্ষতিকর পদক্ষেপ।

    বাবুনগরী আরও উল্লেখ করেন, ‘আপনাদের কখনোই এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না যা ইসলামের ইলম ও ওহির ক্ষতি করে। দাওয়াতে তাবলিগ ও মসজিদ-মাদরাসাগুলো যেনো কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটাও আপনাদের লক্ষ্য হতে হবে।’

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল­াহ ফারুক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন হাটহাজারী মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা খলিল আহমদ কুরাইশী, হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক এবং জমিয়তের শীর্ষ নেতারা।

  • বিএনপি ৭ হাজারের বেশি সদস্যকে পদচ্যুত ও বহিষ্কার: তারেক রহমান

    বিএনপি ৭ হাজারের বেশি সদস্যকে পদচ্যুত ও বহিষ্কার: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, দলের মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ৭ হাজারেরও বেশি সদস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য প্রকাশ করেন।

    তারেক রহমান উল্লেখ করেন, দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নানা অপ্র ক্লান্তির মধ্যেও এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি জানান, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং অসদাচরণের অভিযোগে অনেককে পদচ্যুত ও বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না, তবে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য এটি খুবই জরুরি ছিল। তার মতে, শৃঙ্খলা হালকা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং আমাদের শক্তির ভিত্তি।

    তিনি আরও বলেন, দলের সদস্যদের দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে বিএনপি প্রমাণ করবে, তারা সততার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিজের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করে বিএনপি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কারভাবে বোঝাচ্ছে।

    তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, তরুণ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে দলটি কঠোর পরিশ্রম করছে। গ্রাম থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলটির সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

    তিনি বলেন, আমরা চাই জনগণের আস্থা পুনর্গঠন, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। তারা কেবল ক্ষমতার খেলা দেখতেই চায় না, বরং চায় সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে উঠা একটি সঠিক ও মহান সমাজ।

    তারেক রহমান আরও জানান, বিএনপিকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তোলা হচ্ছে। দল জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তরুণদের কর্মসংস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে ৩১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে দল চালাবে।

    তিনি যোগ করেন, আমরা অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে চাই, যাতে বেশি নারী, তরুণ ও পেশাজীবী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ ঘটাতে পারি, ফলে জাতি আরও এগিয়ে যাবে এবং রাজনীতি সেবামূলক হবে।

    তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিএনপির পরিচয় হবে সেবা, ন্যায়বিচার ও দক্ষতার প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, বিভাজন বা সুবিধাভোগের পরিচয় নয়, বরং একটি ন্যায্য, সৎ ও কার্যকরী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

    প্রসঙ্গত, দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো সময়ের দাবি অনুযায়ী দলের চালকের পরিবর্তন দাবি করছে। কিন্তু বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংগ্রামকে অস্বীকার করেন না। তারা সেই সংগ্রামের আলোকে এগিয়ে চলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    তারেক রহমান বলেন, তরুণরা বাস্তব সুযোগ চাই, তারা ভয়াবহ নয়, ফাঁকা বুলি চায় না। জনগণ চায় স্থিতিশীলতা, তারা বিশৃঙ্খলা পছন্দ করে না। তারা চায় বিএনপি একটি বিশ্বাসযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলুক।

    শেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন আমরা একত্রে থাকি, শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকি এবং জনগণের সেবায় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকি। আমি আপনাদের ওপর আস্থা রাখি, আপনাদেরও আমার প্রতি আনুগত্য প্রত্যাশা করি। এই একতা ও বাস্তবতা দিয়ে আমাদের গণতন্ত্রকে আরও উজ্জ্বল করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনের প্রস্তাব এনসিপির

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনের প্রস্তাব এনসিপির

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করছি। এই আলোচনা দুই ধরনের বিষয়ের উপর কেন্দ্রীভূত। প্রথমটি হলো, যে বিষয়গুলো সংবিধানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, সেগুলোর জন্য অর্ডিন্যান্স বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব।
    তিনি আরও বলেন, তবে রাষ্ট্রের মূল কাঠামো’যা সংবিধানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত—সেগুলো ব্যাপক পরিবর্তন এনে থাকলে সেগুলো শুধুমাত্র সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কার্যকর করা সম্ভব কি না, সেটি আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এই বিষয়গুলোকে সংবিধান সংশোধনের অনুমোদনযোগ্য বিপদসমূহ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
    রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনায় এসব কথা বলেন আখতার হোসেন। এ সময় কমিশনের সভাপতি ও মাননীয় সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন।
    এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে হাইকোর্টে সংবিধান সংশোধনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ও তার বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। তাই, আমরা নতুন সংবিধান ও সংশোধনীকে টেকসই ও কার্যকর করতে চাই— এ জন্য আমাদের প্রয়োজন স্পষ্ট পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক ঐক্য।
    আখতার হোসেন মনে করেন, যদি গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান ও নতুন ধারা ও উপধারা প্রণয়ন করা হয়, তবে সেগুলো দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকরী হবে। এতে টেকসই পরিবর্তন সম্ভব হবে।
    এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রণয়ন জরুরি, যাতে সবাই এককথায় সমর্থন জানাতে পারেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবে।
    এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, এ জন্য তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আবেদন রেখেছেন— যে, কমিশনের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হোক, যাতে কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন হয় এবং কোন বিরতি না আসে। এতে করে প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

  • ভোটারদের আস্থা নিশ্চিত করাই বিএনপির প্রধান দায়িত্ব: তারেক রহমান

    ভোটারদের আস্থা নিশ্চিত করাই বিএনপির প্রধান দায়িত্ব: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি জন্য আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো দেশের প্রতিটি ভোটারের আস্থা আরও শক্তিশালী এবং নিশ্চিত করা। এটি আমাদের মূল লক্ষ্য, কারণ গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের বিশ্বাস ও সমর্থন।

    আজকের ও ভবিষ্যতের তরুণ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষা সম্পন্ন করে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতেই বিএনপি কাজ করছে। এজন্য দলটি তৃণমূল থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের কাছে দারুণভাবে পৌঁছে দিচ্ছে সংগঠনের শক্তিমত্তা ও গণতান্ত্রিক মূলমন্ত্র। এই ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টা আমাদের লক্ষ্য—to স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনসমর্থন ধরে রাখা।

    বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এসব কথা লিখেছেন।

    তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলের সাত হাজারেরও বেশি সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, এবং অসদাচরণের জন্য কেউ শাস্তি পেয়েছেন, আবার কেউ বহিষ্কৃত হয়েছেন। এই কঠোর পদক্ষেপের মাঝেও সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়নি, তবে বাস্তবতার দিক দিয়ে এগুলো অপরিহার্য ছিল। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি আমাদের শক্তির উৎস। দলের সদস্যদের দায়বদ্ধ করে আমরা আবারো প্রমাণ করলাম বিএনপি সততার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তারেক রহমান আরও বলেন যে, ক্ষমতাসীনদের কৃত মানদণ্ডের মতোই আমাদেরও উচিত নিজেদের মানদণ্ড স্থাপন করা, যাতে জন আস্থা পুনরুদ্ধার হয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে—a যারা রাজনীতিকে শুধুমাত্র ক্ষমতার খেলা হিসেবে দেখে না, বরং একটি সমাজের জন্য গড়ে তোলা মহৎ সংগ্রামের অংশ হিসেবে দেখে।

    রাজনীতির আধুনিক চাহিদা মেটাতে বিএনপি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে নিজেকে আধুনিক করে চলছে—এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও লিখেছেন, জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ও যোগাযোগ আরও জোরদার করছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, তরুণদের কর্মসংস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল উদ্ভাবনসহ ৩১ দফা কর্মসূচি আমাদের নীতির মূল ভিত্তি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলকই নয়, বরং আরও বেশি নারী, তরুণ ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই, যাতে জাতির উন্নয়ন তরান্বিত হয়। আমাদের লক্ষ্য, বিএনপি যেন সেবার, ন্যায়বিচারের এবং দক্ষতার প্রতীক হয়ে উঠে—not বিভাজন বা সুবিধাভোগের প্রতীক।

    তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো আলাদা, তাই আমাদের পদক্ষেপগুলোও হতে হবে নতুন ভাবনা, ভিত্তি করে। তবে আমাদের ইতিহাসকে অস্বীকার না করেই অগ্রসর হতে হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে জনগণের আশার আলো দেখিয়েছিলেন, এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়া স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই প্রতিষ্ঠা সংগ্রামকে অটুট রেখে দেশ এখন নতুন যুগের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

    নিজের ঐতিহ্যকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিএনপি এক শৃঙ্খলাবদ্ধ, ভবিষ্যতনির্ভর ও আধুনিক বাংলাদেশ নির্মাণের পথে কাজ করছে—এটাই তারেক রহমানের প্রত্যয়। তিনি বলেছেন, তরুণরা বাস্তব সুযোগ চায়, তারা ফাঁকা বুলি পছন্দ করে না। জনগণ চায় স্থিতিশীলতা, তারা বিশৃঙ্খলা চাই না। আর বিশ্ব চায় বাংলাদেশ হোক একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সম্মানিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এই প্রত্যাশাগুলো পূরণে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

    শেষে, সহকর্মী ও নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি আহবান জানিয়েছেন, সবাই একযোগে কাজ করতে, এক সঙ্গে শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রাখতে এবং জনগণের সেবা করতে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন, আপনারা যেমন আমার ওপর আস্থা রাখেন, আমি তেমনি আপনাদের ওপর আস্থা রাখি। এই সাফল্যের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করবো, বাংলাদেশে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং মানুষের প্রত্যাশিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সক্ষম—ইনশাআল্লাহ।

  • প্রধান উপদেষ্টার নিউইয়র্ক সফরে চার সমমনা রাজনীতিবিদের সঙ্গে ফখরুল ও তাহের

    প্রধান উপদেষ্টার নিউইয়র্ক সফরে চার সমমনা রাজনীতিবিদের সঙ্গে ফখরুল ও তাহের

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য ২১ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্কে রওনা দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন চারজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা। তাঁরা হলেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুলাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এবং বিএনপি’এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার নিউইয়র্ক সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই চারজন নেতার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বেন এবং ২২ সেপ্টেম্বর সে শহরে পৌঁছাবেন। ফেরার কথা রয়েছে ২ অক্টোবর।

    ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধান উপদেষ্টা ভাষণ দেবেন, যার মাধ্যমে তিনি গত এক বছরে দেশে হওয়া বিভিন্ন সংস্কার ও আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার নিজস্ব প্রত্যয় বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, এ বছরের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির নেতৃত্বে ‘হাই লেভেল কনফারেন্স অন দ্য সিচুয়েশন অব রোহিঙ্গা মুসলিমস এন্ড আদার মাইনোরিটিস ইন মিয়ানমার’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে, যা এই বিষয়ক প্রথমবারের মতো। এই সভায় রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তাগিদ রয়েছে। আর তার অংশ হিসেবে, গত মাসে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংক্রান্ত অংশীদার সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।

  • ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট: তারেক রহমান

    ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট: তারেক রহমান

    আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এবার শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় সর্তকতা ও প্রস্তুতি নিতে হবে যেন কোন অপচেষ্টা যেন কার্যকর না হয়। স্বৈরশাসনের সুবিধাভোগীরা অতীতে এই উৎসবের সময় বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালিয়েছে। যদিও স্বৈরশাসনের পতন হয়েছে, তাদের ষড়যন্ত্র থেমে যায়নি, যা তাজা উদাহরণ। তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, এই সময় আমাদের সবাইকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে ধর্মীয় ঐক্য ও সৌহার্দ্য বজায় থাকে। তিনি বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে সমন্বয় করে সব শ্রেণির জনগণের সহযোগিতায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় আমাদের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে এবং অপচেষ্টাগুলো প্রতিহত করার জন্য সবসময় প্রস্তুত।

  • কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করলো জামায়াত

    কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করলো জামায়াত

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করে ঘোষণা দিয়েছে যে, আগামী ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বরের তাদের পাঁচ দফা দাবির জন্য নির্ধারিত কর্মসূচি এবার সকালে নয়, বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে। এই পরিবর্তনের ঘোষণা তারা তাদের ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিসিএস পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে, যাতে কোনও সমস্যা না হয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, জামায়াত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সংবিধানের ভিত্তিতে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনার জন্য তারা এই কর্মসূচি ঘোষণা করে। উল্লেখ্য, ওই দিনগুলোর মধ্যে ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা পরীক্ষার পরিবেশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং অতএব, বিকেলে কর্মসূচি পালন করলে পরীক্ষার কোনও ব্যাঘাত ঘটবে না বলে তারা আশ্বাস দেয়। তাই তারা সারা দেশের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে, যে, ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল বেলা কোনো ধরনের বিক্ষোভ বা কর্মসূচি সামনে আনা যাবে না; কর্মসূচি শুধুমাত্র বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা পরীক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

  • ইসলামী আন্দোলনের থ্রি ডে অ্যান্ড কলের ঘোষণা ও বিস্তারিত কর্মসূচি

    ইসলামী আন্দোলনের থ্রি ডে অ্যান্ড কলের ঘোষণা ও বিস্তারিত কর্মসূচি

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই, সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুরানো পল্টনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার রক্তে অশুভ স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছে দেশ। সেই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে স্থায়ীভাবে স্বৈরতন্ত্রের কবল থেকে মুক্তি দেয়া, ৫৪ বছরের জঞ্জাল দূর করা, ক্ষমতার ভারসাম্য সুস্থ করা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও সক্রিয় করা, এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির শুদ্ধতা আনয়ন করতে হবে। পাশাপাশি সব নাগরিকের ভোটাধিকার, মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন মৌলিক সংস্কার। তিনি আরও জানান, জুলাইয়ে বাংলাদেশের জন্য ‘সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন’ এই পরিস্থিতি উত্তরণের একমাত্র পথ। তবে দুঃখের বিষয়, বর্তমান সরকার নির্বাচনকে গুরুত্ব না দিয়ে সংস্কার ও বিচারকে পেছনে ঠেলে দিয়ে অশুভ পথের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশকে পুরোনো অশুভ বন্দোবস্তে আবারো নিপতিত করবে বলে তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।

    পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, যারা জীবন বাজি রেখে জুলাইতে আন্দোলন করেছেন, রক্ত দিয়েছেন, তাদের এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া সত্যিই সম্ভব নয়। এজন্য তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারের নীতি নির্ধারকদের সাথে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলেও এখন রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে অনেক আলোচনা হলো, কিন্তু এখনও তাতে প্রয়োজনীয় আইনী সংস্কার ও স্বৈরতন্ত্র রোধে দৃঢ় অগ্রগতি হয়নি। শীঘ্রই আইনী ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে বা গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদকে আইনসম্মত করে দেশের স্বার্থে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

    মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম আরও বলেন, আওয়ামী লীগের অপরাধের মাত্রা কল্পনার বাইরে। বিচার প্রকরণ ও গতিও হতাশাজনক। দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জেলা পর্যায়ে বিচার কার্যক্রম চালানো ও পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ফ্যাসিবাদী দোসরদের সম্বন্ধে তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে জাতীয় পার্টি ও অন‌্যান‌্য ফ্যাসিবাদী দলের অপতৎপরতায় দেশ বিষিয়ে উঠেছিল। তারা ফ্যাসিবাদের দোসর, ভোটের কারসাজিতে অংশগ্রহণ করে অবৈধ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এখনো তারা আওয়ামী লীগের পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সেই সমস্ত দোসরদের বিচারের আওতায় এনে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য তিনি কঠোর আহ্বান জানান।

    সরকারের পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে নির্বাচন ব্যবস্থা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ক্ষতিগ্রস্ত বলে অভিমত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মনোভাব মাঠের প্রশাসনকে পক্ষপাতদুষ্ট করে তোলে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। আইনী ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করতে হবে, যাতে প্রত্যাশিত নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়।

    সাবেক সরকারী পদ্ধতিকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি অব্যাহত করেন, এখনকার নির্বাচনী পদ্ধতি দেশকে ধীরগতির দিকে নিয়ে গেছে। দেশের উন্নয়ন ব্যক্তিগত উদ্যোগের ফল হলেও, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও দুর্নীতির কারণে প্রতিটি নির্বাচনই দেশের জন্য দূরবর্তী ভগ্নদশার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আগামী নির্বাচনের জন্য পিআর (প্র্রোপোরশনাল রেজিস্ট্রেশন) পদ্ধতি চালু করতে হবে। এর সুবিধা πολλές, ও এই পদ্ধতির মাধ্যমে দেশের স্বার্থে মুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।

    অতঃপর, তিনি মূল দাবি উপস্থাপন করেন, যেমন—শীঘ্রই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, এর আইনী ভিত্তি প্রাপ্তি, ফ্যাসিবাদের বিচার ও দোসরদের নিষিদ্ধ করা, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা। এই দাবিগুলোর লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, যেমন—১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ, ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরগুলোতে বিক্ষোভ, এবং ২৬ সেপ্টেম্বর সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ।

    সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব মো. গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব মুহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, এটিকুর রহমান, খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোস্তফা কামাল, সহ প্রচার দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক কেএম শরিয়াতুল্লাহ প্রমুখ।

  • জামায়াতের কর্মসূচির সময় পরিবর্তন

    জামায়াতের কর্মসূচির সময় পরিবর্তন

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও নাগরিক স্বার্থের কথা думা করে কর্মসূচির সময়ে পরিবর্তন ঘোষণা করেছে। পূর্বে নির্ধারিত বারো-দফা দাবির স্মারক অনুযায়ী, আগামী ১৮ এবং ১৯ সেপ্টেম্বর জামায়াতের কর্মসূচি সকালবেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই দুই দিনকার কর্মসূচি সকাল বাদ দিয়ে বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে। এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে বিসিএস পরীক্ষার্থীরা কোনো ভোগান্তিতে না পড়েন।