Category: রাজনীতি

  • নির্বাচন না হলে দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে যায়: সালাহ উদ্দিন

    নির্বাচন না হলে দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে যায়: সালাহ উদ্দিন

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, যদি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয়, তাহলে এটি জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টাও সময়মতো নির্বাচন আয়োজনের জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। বিএনপি তাদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে স্পষ্ট মনোভাব প্রকাশ করেছে এবং নির্বাচনের পাশাপাশি ৭ জুলাইয়ের সনদ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ তারা চান না।

    শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘৭ জুলাইয়ের সনদ হবে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক দলিল। এটি যেন প্রশ্নের বাইরে থাকে এবং ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে না পড়ে, এই বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রয়োজন হলে প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করে সনদ চূড়ান্ত করা হবে। আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে সব বিষয় নিষ্পত্তি হোক। আমরা জোর দিয়ে বলছি, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে। এর জন্য কোনো শর্ত দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি চলমান থাকবে সংস্কার ও বিচার কার্যক্রম। এগুলোর ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং নির্বাচনের মাধ্যমেই আমাদের রাজনৈতিক অধিকার পূরণ হবে।

    সালাহ উদ্দিন আরও জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নেতৃত্বে সব দলের সম্মতির ভিত্তিতে ৭ জুলাইয়ের সনদ তৈরি হয়েছে, তবে এটি এখনো চূড়ান্ত রূপ নেয়নি। কিছু সংশোধনী প্রয়োজন, যেগুলো তিনি মূলত জানাবেন। কিছু বিষয় প্রাথমিকভাবে আলোচনার বাইরে ছিল, সেগুলোও তিনি কমিশনের নজরে আনবেন এবং খসড়া সংশোধন করবেন। বিএনপি পক্ষ থেকে সনদে স্বাক্ষর করতে দুজনের নামও দেওয়া হয়েছে। তারা প্রস্তুত, সই করার জন্য।

    তিনি বলেন, ‘সনদের সঙ্গে একটি অঙ্গীকারনামায়ও সইয়ের কথা রয়েছে, তবে সেটি কি সনদের অংশ হবে বা হবে না, এ বিষয়ে আমাদের কিছু ধারণা আছে। এই ব্যাপারে আমরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি।’

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দলের সম্মতিপ্রাপ্ত বিষয়গুলো সনদে অন্তর্ভুক্ত ও বাস্তবায়িত হবে। বিভিন্ন দলের প্রস্তাবনাগুলোর সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন এবং সাংবিধানিক উপায়ে তা বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে, তিনি জানান, কোনও অপ্রয়োজনীয় বা অদূরপ্রসারী সংবিধান সংশোধনে তারা সম্মত নয় এবং অপ্রয়োজনীয় আইনি পরিবর্তনগুলো এড়ানোই তার লক্ষ্য। আইনানুগ পরামর্শের জন্য প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও তিনি নজর দিয়েছেন।

    ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল­াহসহ অন্যান্য দলের নেতারা।

  • নুর ইস্যুতে গণঅধিকার পরিষদের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

    নুর ইস্যুতে গণঅধিকার পরিষদের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

    আজ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আলটিমেটাম দেন। ফারুক হাসান বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করতে চাই—আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তাহলে আমরা রাজপথে কঠোর কর্মসূচিতে নামবো। কী ধরনের আন্দোলন হবে, তা সময়ক্রমে স্পষ্ট হয়ে যাবে এবং সরকারও বুঝবে তার জন্য সফলতা অপেক্ষা করছে।’

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকার নূরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তের জন্য একটি কমিশন গঠন করেছে, যার কার্যকাল নির্ধারিত হয়েছে ৩০ কার্যদিবস। কিন্তু এই সময়সীমা প্রতারণামূলক। যদিও ঘটনাস্থলে সেনা ও পুলিশ উপস্থিত ছিল এবং বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নূরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে—তাইও, এ সবের পরও এ পর্যন্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নূরকে হাসপাতালে থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা থাকলেও, নতুন শারীরিক জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফারুক হাসান বলেন, ‘গতকাল রাতে হঠাৎ করে নূরের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, তার নাকের হাড় ভাঙা হয়েছে, ম্যান্ডিবল বা চোয়ালের অংশে ডিসপ্লেসমেন্ট হয়েছে, ফলে ডান পাশের চোয়াল আংশিক অবসাদগ্রস্ত। বর্তমানে তিনি সলিড খাবার খেতে পারছেন না এবং ডাক্তাররা তাকে শুধু লিকুইড খাবার খেতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া লিভারে আঘাতজনিত জটিলতা দেখা দিয়েছে, তাই তাকে আরও কিছু দিন হাসপাতালে থাকতে হবে।’

    গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ডা. মোহাম্মদ ইউনূস প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দ্রুত নূরের বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সরকার গড়িমসি করছে এবং একের পর এক ভিন্ন ভিন্ন দেশের নাম বলছে, যা সরকারের সদিচ্ছার অভাব নির্দেশ করে।’

    তাদের অভিযোগ, ‘সরকারের এই টালবাহানা মর্যাদার সাথে প্রতারণামূলক। ফলে, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সরকারও যখন এটার কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তখন দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে নুরের চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাব। সরকারের দয়া বা দাক্ষিণ্য বিষয় নয়, আমরা নিজ উদ্যোগে এই ব্যবস্থা করব।’

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনের প্রস্তাব নেএনসিপির

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনের প্রস্তাব নেএনসিপির

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এই আলোচনা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে, যার একটি হলো সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন বিষয়গুলো। এগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব অর্ডিন্যান্স বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে। তবে, রাষ্ট্র কাঠামোর বেশ কিছু বিষয় রয়েছে যা সংবিধানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে এবং বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এই পরিবর্তনগুলো কেবল সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কতটা টেকসই হবে, এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কিছু আশঙ্কা রয়েছে।রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সরকার প্রধান উপদেষ্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূস।আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে হাইকোর্টে সংবিধানে সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং বেশ কিছু সংশোধনী বাতিলও হয়েছে। এর ফলে, আমরা বুঝতে পারছি কীভাবে সংবিধানের মূল পরিবর্তনগুলো টেকসই ও কার্যকর করা যায়, সেটা নির্ধারণে সবাইকে একসাথে ভাবতে হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি মনে করে, একটি গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান ও নতুন লিখিত ধারা, উপধারা ও অনুচ্ছেদসমূহের মধ্যে দিয়ে যে সংশোধনী ও সংস্কার প্রস্তাবগুলো আমরা সম্মত হয়েছি, সেগুলো সুদৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব। এজন্য আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি ঐক্যবদ্ধ সম্মতিতে পৌঁছাতে হবে।আখতার হোসেন আশা প্রকাশ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেই লক্ষ্যেই তিনি বলেন, কমিশনের সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আবেদন জানাবেন যে, কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করে এই প্রসেসটি সবার কাছে প্রশ্নাতীত করে তোলা যায় এবং কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করা সম্ভব।

  • সালাহউদ্দিন আহমদ বললেন, ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ীদের অভিনন্দন ও গণতন্ত্রের সবকাে রীতি

    সালাহউদ্দিন আহমদ বললেন, ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ীদের অভিনন্দন ও গণতন্ত্রের সবকাে রীতি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা এই নির্বাচন জিতেছেন, তাদেরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। এটি এক প্রকার গণতান্ত্রিক রীতি, যেখানে সবাইকে অভিনন্দন জানানো উচিত। নির্বাচনের সময়ে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে, তবে এত দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন হওয়ায় এগুলো স্বাভাবিক বলেই তিনি মন্তব্য করেন।

    বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটসে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের ছাত্রশিবির সরাসরি ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে শিবির-সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রতি তিনি শুভকামনা জানান। তিনি আরও বলেন, ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটকে তিনি অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

    ডাকসু ও চতুর্থ ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এখানকার বিজয়ীদের কেউ কেউ পরবর্তীতে বড় বড় রাজনীতিবিদ হয়ে উঠেছেন, আবার অনেকেই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এটি শিক্ষাঙ্গনের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং এর মধ্যে এক ধরনের ‘পোস্টমর্টেম’ বা পর্যালোচনা করার মত পরিস্থিতি দেখা যায়।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বড় রাজনৈতিক দলের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছাড়া ডাকসুর নির্বাচিত নেতারা জাতীয় রাজনীতিতে খুব একটা এগোতে পারেননি। তাই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে বৃহৎ দলের রাজনীতির সংযোগ রাখা জরুরি। তিনি মনে করেন, ছাত্র রাজনীতি এখনো সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আমাদের দেশের অনেক পরিবর্তনই এসেছে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে, এবং ছাত্র সংসদ ও ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

  • ঢাকাসূ নির্বাচনে হেরেও প্রশংসিত ছাত্রদল নেতা হামিম

    ঢাকাসূ নির্বাচনে হেরেও প্রশংসিত ছাত্রদল নেতা হামিম

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় লাভ করেননি ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম। তবে এর পরও তিনি ছাত্রলীগের রায়কে সম্মান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। গত মঙ্গলবার রাতে নির্বাচন ফল ঘোষণার পর, ফেসবুকে তিনি একটি পোস্ট করেন où যেখানে তিনি নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মতামত প্রকাশ করেছেন।

    হামিম বলেছেন, ভোটের দিন প্রাথমিকভাবে উৎসবের আবহ ছিল, কিন্তু কিছু কেন্দ্রে অনিয়মের বিষয়গুলো নজরে এসেছে, বিশেষ করে গণনার সময় মেশিনে ত্রুটি, জালিয়াতি ও কারচুপি ঘটেছে। এরপর তিনি বলেন, ছাত্ররা যদি মনে করেন, এই ভোট ফলাফলই তাদের রায়, তবে তিনি সেই ফলাফলকে সম্মান করবেন। তিনি ছাত্রদের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন বলে জানান।

    তিনি আরও বলেন, আমি সব সময় ছাত্রদের ভালোবাসায় ঋণী। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবো, থাকবো তাদের জন্য। এ বক্তব্যের জন্য শিক্ষার্থী সমাজের বড় একটা অংশ থেকে তার প্রশংসা শুরু হয়। বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী ও রাজনীতিক ক্যাম্পের নেতারাও তার এই সাহসী ও শান্তিপূর্ণ মনোভাবের প্রশংসা করেন।

    শাহ আলম নামে এক ব্যক্তি বলেন, এই আচরণই একজন উত্তম নেতা হিসেবে তাঁর পরিচয়। সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আপনার কাছ থেকে এই প্রত্যাশা ছিল, ভাই। একদিন নিশ্চয়ই আপনি বড় নেতা হবেন।’ মিলন হাসান স্বাধীন যোগ করেছেন, ‘তাহলে সবার জন্য সহনশীলতা ও ধৈর্য্যই হলো একজন নেতার গুণাবলী।’

    মোহাম্মদ মিলন বলেন, ‘আজিজুল বারী ভাইয়ের ভাতিজা হিসেবে এটাই স্বাভাবিক, তিনি খানদানি রাজনীতির প্রতিচ্ছবি।’

    এই পোস্টের পর নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সাহসিকতা ও মনোভাবের প্রশংসা করে মন্তব্য করেন। এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এটাই আসল একজন নেতা করার আচরণ।’ এ poster-এ প্রায় ১১ হাজার রিঅ্যাকশন আসে। অন্যদিকে, সারজিস আলম বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যতের নেতা’, যা এখনো প্রায় ৬ হাজার মানুষের পছন্দ পেয়েছে। এইভাবে নানা ধরনের প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন প্রতিটি মহলে ছাত্রদল নেতা হামিম।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সরকারের সফলতা অমীমাংসিত থাকবে

    সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সরকারের সফলতা অমীমাংসিত থাকবে

    সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এক প্রকার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘যদি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন না হয়, তবে সরকারের অর্জন বা সফলতা নিয়ে কিছুই বলতে পারবে না।’

    বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক কোয়ালিশন আয়োজিত ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এই মন্তব্য করেন তিনি।

    বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা সবাই আগামী ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের বিষয়ে একমত। কোনও দলেরই দ্বিমত নেই। তবে বর্তমানে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা ফ্যাসিবাদমুক্তির পথে এগিয়ে গেলে এখনো গণতন্ত্রে প্রক্রিয়াজাত করার বিষয়েও আমরা কার্যত একমত হতে পারিনি। আশা করি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এই বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারব।’

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, তা অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম চলছে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারের ব্যর্থতার দিকগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন করতে না পারলে, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনও অর্জন বা সাফল্য থাকবে না।’

    বিএনপি নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা রাখে। তিনি তুলে ধরেন, অন্য কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে ভবিষ্যতে সংশোধনী আদালত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

    তিনি আরও বলেন, শতাধিক সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। যদিও সব দল হয়তো একমত হতে পারবে না, তবে দেশের ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাই একটা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা জীবনের ভবিষ্যৎ পথে প্রভাব ফেলবে: সাবেক ভিপি মান্না

    ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা জীবনের ভবিষ্যৎ পথে প্রভাব ফেলবে: সাবেক ভিপি মান্না

    নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) মাহমুদুর রহমান মান্না মনে করেন, ছাত্র আন্দোলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, এই প্রজন্ম এখন দুর্বৃত্তায়িত ও চাঁদাবাজি রাজনীতি প্রতিরোধ করে পরিবর্তনের দাবি তুলে ধরছে। বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ: সংস্কার বাস্তবায়নের পথরেখা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে গণতন্ত্র মঞ্চ।

    মাহমুদুর রহমান মান্না সতর্ক করে বলেন, রাজনীতি যদি শুধুমাত্র মিথ্যাচার, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে পরিণত হয়, তবে তা টেকসই হবে না। তবে তিনি আশ্বাস দেন, এখনো রাজনৈতিক দলগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে কারণ মানুষ পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছে।

    ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের মতো দলগুলো এখন খুব বেশি শক্তিশালী না হলেও তাদের মাথা তুলে দাঁড়ানো দেখে সবার চোখ কপাল চড়ে গেছে। ৩০-৪০ বছর আগে এসব দল যেন মাথা তুলতে কোনো শক্তি পেত না, কিন্তু এখন তারা বড় দলগুলোর জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টি দিয়ে তিনি বলেন, সঠিক পথ নির্দেশনা দিয়ে বলছে, বর্তমানে যা বলা হচ্ছে, তার সবটাই সঠিক নয়।

    দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ডাকসু নির্বাচন ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার চিত্র তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মানুষ এখনও প্রশ্ন করে, ভোট হয় কি না। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ডাকসু নির্বাচন সুন্দরভাবে হয়েছে, যা অনেকের জন্য অবিশ্বাস্য ছিল। ছাত্রসমাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা সাহস দেখিয়েছে, যা আগের প্রজন্মের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

    সাবেক এই ভিপি বলেন, আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড়ানোর সাহস পেতেন না, কিন্তু এখন তারাও সামনে আসছেন, এটিই পরিবর্তনের সূক্ষ্ম নিদর্শন। এখন আর বড় জনসভা ব্যস্ত নয়, বরং সাইবার মাধ্যমে প্রচারণা চলছে এবং নতুন প্রজন্মের ভাবনা-চিন্তা দিয়ে রাজনীতি গড়ে উঠছে। এই তরুণেরা প্রাচীন সংস্কৃতি বা সালাম-প্রটোকলকে উপেক্ষা করে প্রত্যাখ্যান করছে। তারা বুঝতে পারছে, রাজনীতি অর্থাৎ আন্তরিকতা, সংগ্রাম আর অঙ্গীকার; তা লুটপাট বা ক্ষমতার শর্টকাট পথ নয়।

    তিনি আরও বলেন, ছাত্ররা ভিন্ন উদাহরণ স্থাপন করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো সুবিধাবাদী হয়ে পড়লেও ছাত্ররা ভিন্ন দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে। ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন ও সংস্কারের জন্য ঐক্য জরুরি, আর এই লক্ষ্যে দৃঢ়তা দরকার। সংকট নিরসনে সুপ্রিম কোর্টের রায় গ্রহণযোগ্য, যা সব পক্ষকেই মানতেই হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, রাজনীতি হালকা বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত একটি সংগ্রাম। তাই সবাইকে সৎ এবং অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি গড়ে তোলা দরকার। তাহলেই একটি উন্নত এবং অর্থবহ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।

    আলোচনা সভায় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ডাকসু নির্বাচনের প্রভাব নিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করা হয়। ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, যদি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ডাকসু ফলের মতো ফল হয়, তবুও বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, এসব নির্বাচনকে জাতীয় রাজনীতির সফলতা বা ব্যর্থতার মাপকাঠি হিসেবে দেখা উচিত নয়। ব্যাপারটি অনেকটাই অলীক আর ভাবায় বেশি কিছু নয়, কারণ দেশের মোট ভোটার ১২ কোটি ৬০ লাখ হলেও ভোট সংখ্যা কেবল ৩২ হাজার।

    আলোচনা সভায় জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, স্বৈরশাসনের মাধ্যমে দুর্বৃত্তায়িত শাসন ব্যবস্থা স্থাপিত হয়েছে, যেখানে গুম-খুন, আয়না ঘর ও লুটতন্ত্রের বৃদ্ধি ঘটেছে। এ থেকেই উত্তরণ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো ও আইনি সংস্কার নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা উপেক্ষা করে সরকারের কিছু রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের পক্ষে সুবিধা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করছে।

    রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুমের সভাপতিত্বে ও দিদারুল ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা, যেমন গণসংহতি আন্দোলনের আবুল হাসান রুবেল, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, ভাসানী জনশক্তি পার্টির আবু ইউসুফ সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আকবর খান, ও অন্যান্য নেতারা।

  • আমার যাত্রা এখানেই শেষ নয়, ইশতেহারে যা ছিল, তা পূরণ করব: আবিদুল

    আমার যাত্রা এখানেই শেষ নয়, ইশতেহারে যা ছিল, তা পূরণ করব: আবিদুল

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচনে নিজের ইশতেহারে যা ছিল, তা পূরণ করার জন্য তিনি সচেষ্ট থাকবেন। তাঁর পথচলা এখানেই শেষ হয়নি; নিজের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে, ছাত্ররাজনীতির নতুন সূচনা তিনি করবেন নিজের হাতে। বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে তিনি এসব কথা জানান। গতকাল মঙ্গলবার ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের প্রার্থী সাদিক কায়েমের কাছে হেরে যায় আবিদুল ইসলাম। নির্বাচনের রাতে তিনি একটি ফেসবুক পোস্টে ফলাফলকে কারচুপি ও নির্বাচনকে প্রহসন বলে উল্লেখ করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন।

    উল্লেখ্য, ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শিবিরের প্রার্থীরা জিতেছে ঐক্যবদ্ধ ছাত্রজোটের প্যানেলে। ভিপি পদে ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন শিবিরের প্রার্থী মোঃ আবু সাদিক কায়েম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০৮ ভোট।

    বুধবার দুপুরের পরে আবিদুল ইসলাম এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার জীবনে এতদূর এসে আমি ভাবিনি। নির্বাচনের আগের রাতে খালেদ মুহিউদ্দিন ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, ৫ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান। আমি সদুত্তর দিতে পারিনি। আমি আসলে কখনোই জানতাম না, নিজেকে কোথায় দেখতে হবে বা কোথায় দেখা উচিত। একের পর এক আন্দোলন-সংগ্রাম এসেছে, নিজেকে রাজপথে সরাসরি নিয়েছি। সেই পথ আজ আমাকে এতদূর এনেছে। এটা ওরই কাজ। এই নির্বাচনে আমার দিন শুরু হয়েছে মিডিয়ার অপপ্রচার দিয়ে। দুপুর থেকে আমি বিভিন্ন জায়গায় ভোটে নানা সমস্যা খুঁজে পেয়েছি এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আমি এখনও প্রত্যাশা করি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও যথাযথ সিদ্ধান্ত আসবে।

    আবিদ আরও লিখেছেন, ‘আমরা সবাই মানুষ, পরিপূর্ণ নয়। আমি জানি, আমি আপনাদের জন্য পুরোপুরি কাজ করতে পারিনি। সত্যি বলতে, জীবন আমার সেই সুযোগটুকুও দেয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভাই-বোনের জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, যারা ভোট দিতে এসেছেন। মাত্র ২০ দিনের ক্যাম্পেইনে আমি চেষ্টা করেছি, সব ছাত্রের কাছাকাছি যেতে। অনেকটুকু পৌঁছেছি, কিন্তু সবাইকে স্পর্শ করতে পারিনি। তবে আমি আশ্বস্ত করতে চাই, আমার যাত্রা এখানেই শেষ নয়, এটি আরও দীর্ঘ।’

    নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন ছাত্রনেতা হিসেবে তুলে ধরে আবিদ বলেন, ‘কথা দিচ্ছি, আমার নির্বাচনী ইশতেহারে যা কিছু ছিল, তা বাস্তবায়নে আমি প্রার্থনাসহ প্রয়োজনীয় সব কিছু করব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির নতুন সূচনাটা আমাদের হাতেই হবে। আমরা রাজপথের পাহারা দেব, নিজেদের সম্পূর্ণ দিয়ে বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন আনব। ইনশাআল্লাহ, আপনি পরবর্তী ডাকসুতে এর সফলতা দেখবেন। আবিদ কখনোই আপনাদের থেকে আলাদা হবে না।’

    তিনি পোস্টটি শেষ করেন মহান মার্কিন মানবাধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের উক্তি দিয়ে—‘আমরা অচিরেই ক্ষণস্থায়ী নিরাশা গ্রহণ করতে পারি, তবে অপার আশাকে কখনো হারানো উচিত নয়।’

  • ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যত জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে, বলে দাবি মান্নার

    ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যত জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে, বলে দাবি মান্নার

    নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সহ-সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মনে করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার পথে অন্যতম মাইলফলক হয়ে উঠছে। বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভার শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ: সংস্কার বাস্তবায়নের পথরেখা’ এবং এটি আয়োজন করেছিল গণতন্ত্র মঞ্চ।

    মান্না সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে রাজনীতি মূলত মিথ্যাচার, চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতা দখলের সংগ্রামের রূপ নিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি টেকসই নয়। তিনি বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলো এখনো সুযোগ পেলে দাঁড়িয়ে উঠতে পারে, কারণ সাধারণ জনগণ বিকল্পের খোঁজে রয়েছে।

    ডাকসু নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামি এবং ছাত্রশিবিরের মতো কুচক্রী দলগুলো এখন নিজস্ব শক্তি বৃদ্ধি করছে, যা আগে কোনোভাবেই দেখা যায়নি। আগে তারা মাথা না তুলে থাকতে পারত, এখন তারা রাজনৈতিক দুনিয়ায় সুন্দরভাবে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে, এবং বড় দলগুলোর জন্যও তারা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তিনি যোগ করেন, মুক্তি ও স্বাধীন চিন্তাধারা দিয়ে এখন ছাত্ররা নিজেদের ভিন্ন প্রমাণ করছে, যা বড় দের জন্য এক ধরণের সতর্কবার্তা।

    মান্না আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ডাকসু নির্বাচন এবং মানুষের প্রত্যাশা উল্লেখ করে, এখনো অনেকেই প্রশ্ন করেন, ভোট কি হবে? তবে তিনি বলছেন, এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে, সুষ্ঠু ভোটাধিকার সম্ভব; যদিও অনেকের জন্য এটি অবিশ্বাস্য শোনায়। ছাত্রসমাজের সাহসকেও তিনি স্বাগত জানান। অতীতে স্বাধীনভাবে প্রার্থী দাঁড়ানো খুবই দুর্লভ ছিল, এখন তা হওয়ায় পরিবর্তনের ভবিষ্যদ্বাণী দৃঢ় হয়। তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেন যে, এখন আর বড় জনসভা নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়া ও তরুণ প্রজন্মের মতো নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রাজনীতি গড়ে উঠছে। এই বয়সের ছাত্ররা বুঝতে পেরেছে, রাজনীতি মানে আন্তরিকতা, সংগ্রাম এবং অঙ্গীকার; এটি লুটপাট বা ক্ষমতার শর্টকাট রাস্তা নয়।

    মান্না আরো বলেন, ছাত্ররা যেন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। তিনি অনুমান করেন, ভবিষ্যতে অখণ্ডতা ও সংস্কার ছাড়া কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি কথাকে সামনে রেখে বলেন, সংকটের সমাধানে সুপ্রিম কোর্টের রায় গ্রহণযোগ্য এবং সব দলকেই সেটি মেনে চলা উচিত।

    তাঁর মতে, রাজনীতি কোনও হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম। তাই সবাইকে দায়িত্বশীল, সাহসী ও অংশগ্রহণমূলকভাবে রাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য একটি সুন্দর নির্বাচন ও উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার সম্ভবনা রয়েছে।

    আলোচনায় আরও অংশ নেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, যিনি বলেন, যদি ডাকসুর মতো ফল অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে হয়, তখনো এর কোনো কারণ নেই চিন্তার। এ নির্বাচনকে সামগ্রিক জাতীয় রাজনীতির সফলতা বা ব্যর্থতার পরিমাপক মনে করা ভুল হবে। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটারের বিপরীতে মাত্র ৩২ হাজার ভোটের অর্থ, এটি অনেকটাই সামুদ্রিক একফোঁটা পানির মতো।

    অন্যদিকে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন মন্তব্য করেন, স্বৈরশাসনের পরিচালনায় দুর্বৃত্তায়িত শাসন ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যেখানে গুম-খুন, আয়নাঘরসহ নানা ব্যাধি জন্ম নিয়েছে। এ জন্য যে কাঠামো ও আইনগত সংস্কার প্রয়োজন, এটি দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য আবশ্যক। তিনি বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় যে আকাক্সক্ষা ছিল, সেই আন্দোলনের অংশীদাররাই এখন অন্যায়ভাবে শক্তি সঞ্চালন করছে।

    অবশেষে, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুমের সভাপতিত্বে ও অন্যান্য বিশিষ্ট বক্তাদের অংশগ্রহণে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যারা গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্যসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

  • আমার যাত্রা এখানেই শেষ নয়, ইশতেহারে যা ছিল তা আদায় করব : আবিদুল

    আমার যাত্রা এখানেই শেষ নয়, ইশতেহারে যা ছিল তা আদায় করব : আবিদুল

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, তিনি নির্বাচনে নিজের ইশতেহারে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণ করার জন্য সব চেষ্টা করবেন। তার এই যাত্রা এখানেই শেষ হয়নি; বরং নিজের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি তিনি বিশ্বাস করেন, ছাত্ররাজনীতির নতুন সূচনা তাঁরাই করবেন যারা হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবেন। বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার তিনি ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের প্রার্থী সাদিক কায়েমের কাছে হেরে যান। নির্বাচনের रातে তিনি এক ফেসবুক পোস্টে ফলাফলের কারচুপি ও নির্বাচনকে প্রহসন বলে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

    উল্লেখ্য, ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) শীর্ষ তিন পদে শিবিরের প্যানেল জয়ী হয়েছেন। ভিপি পদে ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেছেন শিবিরের প্রার্থী মোঃ আবু সাদিক কায়েম। অন্যদিকে, ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০৮ ভোট।

    বুধবার দুপুরের পর আবিদুল ইসলাম এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার জীবনের এত বড় সাহসিকতা ও অর্জনে আমি নিজেকে এত দূর আসার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। নির্বাচনের আগের রাতে খালেদ মুহিউদ্দিন ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, পাঁচ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান? আমি তখন নির্দিষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারিনি। আমি আসলে কখনোই জানতাম না, নিজের ভবিষ্যৎ কোথায়। আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে নিজেকে রাজপথে উজাড় করে দিয়েছি, আর সেই পথই আজ আমাকে এত দূর নিয়ে এসেছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘শুরুতেই মিডিয়ার অপপ্রচার ও নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। তবে তিনি আশাবাদী, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের একটি সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

    আবিদ উল্লেখ করেন, ‘আমরা কেউ পারসল না, আমি জানি আমি সবকিছু করতে পারিনি। জীবন আমাকে সেই সুযোগও দেয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভাই-বোনের জন্য আমি অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই। মাত্র ২০ দিনের ক্যাম্পেইনে আমি চেষ্টা করেছি প্রত্যেক ছাত্রের কাছে পৌঁছানোর; অনেকের কাছাকাছি যেতে পেরেছি, কিন্তু সবাইকে স্পর্শ করতে পারিনি। তবে এটাই না শেষ, আমার যাত্রা আরও দীর্ঘ।’

    আবিদ নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন নিবেদিত নেতাও উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, নির্বাচনে যা যা ইশতেহারে বলেছি, তা আদায় করতে প্রয়োজনীয় সব কিছু করব। নতুন ছাত্ররাজনীতি শুরু আমাদের হাতেই হবে। আমরা রাজপথে সতর্ক পাহারাদার হয়ে থাকব, দেশের সকল শিক্ষার্থীর উন্নয়নের জন্য কাজ করব। ইনশাআল্লাহ, আপনি ভবিষ্যতে দেখতে পাবেন এর ফলাফল। আমি কখনো আপনাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হব না।’

    সবশেষে, মরহুম নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের বিখ্যাত উক্তি দিয়ে তিনি তার বিশ্বাস প্রকাশ করেন: ‘আমাদের অল্প আশাহতিকে গ্রহণ করতে হবে, কিন্তু কখনোই অসীম আশা হারাতে পারি না।’