ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যারা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন, তাদের আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। এটি প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক রীতি। গণতন্ত্রে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শুভেচ্ছা জানানো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তবে, নির্বাচনের সময় কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছেও, যা বহুদিন পর হওয়া এই নির্বাচনের স্বাভাবিক একটি অংশ। এজন্য কোনও দুশ্চিন্তার বিষয় নেই বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনা সভায় এই কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র ও যুবশিক্ষার্থীদের আন্দোলনই সামাজিক পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির নেতা হিসেবে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে ইসলামী ছাত্রশিবির সরাসরি ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে, শিবির-সমর্থিত অন্য একটি ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রতি তিনি শুভকামনা ও সমর্থন প্রকাশ করেন। এই শিক্ষা জোটের প্রতি তিনি অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের শুভ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ডাকসু ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চাকসু) ভবিষ্যৎ নেতৃত্বগণ বেশিরভাগই বড় রাজনীতিবিদoney হয়েছেন বা হচ্ছেন। আবার অনেকেই এখনো বীক্ষিতভাবে সংগ্রাম করে চলেছেন। এই সবই শিক্ষাঙ্গনের রাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির বাস্তব চিত্রের একটি প্রতিফলন, যা তিনি ‘পোস্টমর্টেম’ হিসেবে অভিহিত করেন। সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন যে, বড় রাজনৈতিক দলের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছাড়া ডাকসুর নির্বাচিত নেতারা বড় রূপে জাতীয় রাজনীতিতে তেমনভাবে উঠতে পারেননি। তাই, ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে বৃহৎ রাজনৈতিক সম্পর্ক অপরিহার্য বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি এখনো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের অনেকগুলি ধাপ ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে এসেছে। ছাত্র সংসদ ও ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমেই এসব পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে এবং হবে।
Category: রাজনীতি
-

ডাকসু নির্বাচনে হেরেও প্রশংসায় ভাসছেন ছাত্রদল নেতা হামিম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় না পেলেও ছাত্রদলের নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম অর্জন করেছেন সমর্থকদের ভালোবাসা ও সম্মান। তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে একটি পোস্টে লেখেন, আজকের ভোট অনুষ্ঠান বেশ উৎসবমুখর ছিল, তবে কিছু কেন্দ্রে অনিয়মের ঘটনা দেখা গেছে। বিশেষ করে গণনার সময় মেশিনের ত্রুটি, জালিয়াতি ও কারচুপি চোখে পড়েছে। তারপরও তিনি বললেন, যদি শিক্ষার্থীরা মনে করেন এটাই তাদের রায়, তাহলে আমি সেই রায়কে সম্মান জানাই। আমি শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া আরও শুনতে আগ্রহী। তাঁর এই প্রকাশ্যে মনের কথা জানানোর পর থেকে ছাত্রসমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা শুরু হয়। অনেকেই মন্তব্য করেন, এটা সত্যিই একজন উত্তম নেতা হওয়ার সূচক। শাহ আলম নামের একজন লিখেছেন, ‘সঠিক সিদ্ধান্ত। এটাই নতুনত্ব, এটাই Juli এর চেতনা।’ সাদিকুর রহমান বললেন, ‘আপনাকেই এই প্রত্যাশা ছিল ভাই। এবার হয় নাই, কিন্তু আপনি একদিন বড় নেতা হবেন।’ মিলন হাসান স্বাধীন মন্তব্য করেন, ‘ভাবাজী সহনশীলতাই নেতার গুণাবলি, যা আমরা আপনার কাছে দেখতে পেয়েছি।’ মোহাম্মদ মিলন লিখেছেন, ‘আজিজুল বারী ভাইয়ের ভাতিজা বলে কথা! খানদানী বংশের একজন খাটি রাজনীতিবিদ।’ এই পোস্টে প্রিয় ছাত্রদল নেতাকে শুভকামনা জানিয়ে الكثيرেই মন্তব্য করেছেন। এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ লিখেছেন, ‘এটাই একজন সত্যিকারের নেতার আচরণ,’ যার মন্তব্যে ১১ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন দেখা গেছে। অন্যদিকে, সারজিস আলম বলেছেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ নেতা,’ যার পোস্টে প্রায় ৬ হাজার রিঅ্যাকশন পড়েছে। এভাবেই নানা ধরনের শুভেচ্ছা ও প্রশংসায় ভাসছেন এই ছাত্রদল নেতা, যা তাকে আরো মানুষের হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছে।
-

সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সরকারের সফলতা হবে অপ্রাপ্তি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ যা অন্তর্বর্তী সরকারকে মোকাবেলা করতে হবে। তিনি এ কথা বলেন বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক কোয়ালিশন দ্বারা আয়োজিত ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে। সেখানে তিনি বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে, অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ার এবং অর্জনগুলোও অপ্রতুল হয়ে পড়বে। আসলে, সফল সরকারী ক্ষমতা অর্জনের জন্য নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের সফলতা এই নির্বাচন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সামনে রেখে সব রাজনৈতিক দল একমত রয়েছে। কোনও দলই এ বিষয়ে দ্বিমত করছে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেমন গণতন্ত্রের চর্চায় উন্নতি ও বিভিন্ন দিক থেকে ঐক্য। আমরা আশা করবো দ্রুত আলোচনা চালিয়ে গেলে সব পক্ষ ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।’ সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, সেটি অনুযায়ী কার্যক্রম চালিয়া যাচ্ছে। সরকারি ব্যর্থতা ও অক্ষমতার কারণে তিনি বাস্তবতা তুলে ধরেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না হলে, অন্তর্বর্তী সরকারের কোন অর্জনই থাকবে না।’ তিনি বলেন, নির্বাচিত জাতীয় সংসদই সংবিধান সংশোধনের শেষ কর্তৃত্ব রাখে। আলাদা প্রক্রিয়ায় গেলে পরবর্তীতে তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তিনি জানান, শতাধিক সংস্কার প্রস্তাব মাঠে রয়েছে, তবে সব বিষয়ে সব দল একমত হওয়া সম্ভব নয়। তবে দেশের স্বার্থে এবং গণতন্ত্রের অগ্রগতির জন্য, তারা সব পক্ষের মধ্যে একটা সমঝোতা প্রতিষ্ঠা আশা করেন।
-

ডাকসু নির্বাচনে শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, যারা এই নির্বাচনে জিতেছেন, তাদের আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। এটি একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং গণতন্ত্রের মূল রীতি হলো সকলকে শুভেচ্ছা জানানো। তবে নির্বাচনে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটে গেছে, যা বহুদিন পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় সাধারণ। এসব স্বাভাবিক বিষয়, যা উপযুক্তভাবে মনোযোগ দিয়ে সমাধান করা উচিত। শেষ পর্যন্ত এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অবস্থিত আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বাংলাদেশের মূল রাজনৈতিক দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ না থাকলেও অনেক ডাকসু বিজয়ী শিক্ষার্থী পরে বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। কেউ কেউ এখনো সক্রিয়ভাবে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির বাস্তব চিত্র, যা তিনি ‘পোস্টমর্টেম’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ডাকসু ও সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীরা অনেক সময় দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তবে বর্তমানে এই নির্বাচিত নেতাদের কেউ কেউ বড় রাজনীতিতে এগোতে সক্ষম হয়েছেন, আবার অনেকে এখনও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ছবিটা দেশের শিক্ষা ও রাজনীতির সম্পর্কের বাস্তবতার প্রতিফলন।
সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া ডাকসুর নেতারা দেশের রাজনীতিতে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি। তাই, ছাত্র রাজনীতি এবং বৃহৎ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংযোগ থাকা অপরিহার্য। তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে দেশের সমাজে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এসেছে, যা শিক্ষার্থী আন্দোলনের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। ছাত্র সংসদ ও ছাত্র রাজনীতির গুরুত্বকে তিনি অস্বীকার করেন না, কারণ এর মাধ্যমেই পরিবর্তনের সূচনা হয়।
-

এ বিজয় ব্যক্তিগত নয়, শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত জয়: ভিপি সাদিক কায়েম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী সাদিক কায়েম। বিজয়ের পরদিন আজ বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই জয়কে ব্যক্তিগত বলা থেকে বিরত থাকেন। সাদিক কায়েম বলেন, এটি শুধুমাত্র আমার নয়, বরং এটি ‘জুলাই প্রজন্ম’ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর সম্মিলিত জয়। এটি হচ্ছে এক বৃহৎ ছাত্র আন্দোলনের জয়, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী বিজয়ী হয়েছে, যেখানে জয়ী হয়েছে শহীদদের আত্মঅর্পণের স্বপ্ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং স্বাধীনতার অভিলাষ। তিনি আরও বলেন, এই বিজয় শহীদদের আত্মত্যাগের ফল। আমরা অশ্রুসিক্ত সাহসীর আত্মা স্মরণ করছি—মুক্তিযোদ্ধা, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ, আধিপত্যবিরোধী সংগ্রামের শহীদ এবং শহীদ আবরার, যিনি ছাত্ররাজনীতির সহিংসতায় প্রাণ হারান। মহান আল্লাহ যেন তাদের সবাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। সাদিক কায়েম তার দায়িত্ব সম্পর্কে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাকে এবং আমার প্যানেলকে যে আস্থা ও ভালোবাসা দিয়েছেন, আমি তার মর্যাদা জানাই। আমরা চেষ্টা করব সেই আস্থার সত্যিকার মূল্য দিতে। আমাদের স্বপ্নের ক্যাম্পাস গড়ার অঙ্গীকার রক্ষা করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উন্নত ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে। গবেষণার জন্য সুযোগ নিশ্চিত, নিরাপদ আবাসন, স্বাস্থ্য ও খাদ্যের নিরাপত্তা হবে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে বিশেষ যত্ন এবং সমানাধিকার। নারী শিক্ষার্থীদের সাহসী অংশগ্রহণের জন্য আমি তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি দিচ্ছি, যা আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমি চাই, সবাই যাতে আমাকে শুধু ভিপি হিসেবেই না, বরং ভাই, বন্ধু ও সহপাঠী হিসেবে জানুক। আমি আমার ভাষা ও আচরণে সম্পূর্ণ বিনয়ী থাকব, যেন অহঙ্কারের কোনো ছাপ না পড়ে। আমি ঢাকাকে একটি পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত করতে আশাবাদী। একটি উন্নত, গবেষণাধর্মী, নিরাপদ ও সমানাধিকার নিশ্চিত ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি। নারীর অবদানকে আমি বিশেষভাবে স্বীকৃতি দিচ্ছি, কারণ তাদের সাহসী অংশগ্রহণ আমাদের প্রেরণা দিয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সবাই এখন আমাদের পরামর্শদাতা। সবাই একসঙ্গে কাজ করবে যাতে আমাদের ভবিষ্যত আরো স্মারক ও শক্তিশালী হয়। শেষ বিভাগে, সাদিক কায়েম বলেন, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকর্মীর মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি, তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। পাশাপাশি, যারা এই নির্বাচন কাভার করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এই দায়িত্ব একটি কঠিন পরীক্ষা, আমরা চাই সফলভাবে তা উত্তীর্ণ হতে। শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও একটি মানবিক, আধুনিক ক্যাম্পাস গড়তে সকলের সহযোগিতা ও দোয়া চাচ্ছি।
-

দাকসু নির্বাচনে হারেও প্রশংসিত ছাত্রদল নেতা হামিম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় না পেলেও ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম এখন প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই ছাত্রনেতা তাঁর ঢাবি শিক্ষার্থীদের রায়কে সমীচীনভাবে গ্রহণ করেন এবং এতে তিনি নিজেকে পরম গর্বিত মনে করেন। তিনি ঢাকার ভোটের ফলাফল থেকে কোনো ক্ষোভ না দেখিয়ে, কৃতজ্ঞতা ও সম্মান প্রদর্শন করেছেন।
মঙ্গলবার রাতের ফল প্রকাশের পর ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে একটি বক্তব্য দেন হামিম। এতে তিনি বলেন, ব্যতিক্রমি উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে ভোট সম্পন্ন হলেও কিছু কেন্দ্রে অনিয়ম এবং গণনার সময় মেশিনের ত্রুটি, জালিয়াতি ও কারচুপি দেখা গেছে। তিনি যোগ করেন, শিক্ষার্থীরা যদি মনে করেন এটাই তাঁদের চূড়ান্ত রায়, তাহলে তিনি সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। তবে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া শোনার জন্য অপেক্ষা করছেন।
হামিম আরও বলেন, আমি সবসময়ই আপনাদের পাশে থাকতে চাই, কারণ আমি আপনাদের ভালোবাসায় ঋণী। আমি আমাদের এই মহান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য গর্বিত। আমি সবসময়ই আপনাদের সঙ্গে আছি এবং থাকবো।
তার এই সৌজন্যপূর্ণ বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ে। একজন শুভাকাঙ্ক্ষী শাহ আলম মন্তব্য করেন, “সঠিক সিদ্ধান্ত। এটাই নতুনত্ব, এটাই জুনের চেতনা।” একইভাবে সাদিকুর রহমান লিখেন, “তুমি এই রকম আচরণ করে প্রমাণ করো যে তুমি একজন বড় নেতা হবেন।” মিলন হাসান স্বাধীন বলেন, “সহনশীলতা একজন নেতার গুণাবলি, আর তুমি সেটা দেখাতে পারো।” মোহাম্মদ মিলনও প্রশংসা করেন, “আজিজুল বারী ভাইয়ের ভাতিজা বলে, খানদানী বংশের সত্যি একজন রাজনীতিবিদ।”
এই পোস্টের উপর নানা জনের উচ্ছ্বাস ও শুভেচ্ছা বার্তা দেখা যায়। এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, “এটাই একজন সত্যিকারের নেতার স্বাভাবিক আচরণ।” এই মন্তব্যে এক হাজারের বেশি রিঅ্যাক্ট আসে। অন্যদিকে, সারজিস আলম লিখেছেন, “আসন্ন নেতা তুমি,” যার রিঅ্যাক্ট সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। হামিমের এই প্রীতিকর আচরণ ও প্রশংসা ফিরিয়ে দেন অনেকেই, যা তার দলের ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অনুসরণ ও প্রেরণা জুগিয়েছে।
-

ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা দেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে: মান্না
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যত জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, এ প্রজন্ম বর্তমানে দুর্বৃত্তায়িত ও চাঁদাবাজী রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে পরিবর্তনের জন্য কিছু করার প্রত্যাশা করছে। বুধবার ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ: সংস্কার বাস্তবায়নের পথ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে গণতন্ত্র মঞ্চ।
মান্না বলেন, রাজনীতি এখন শুধু মিথ্যাচার, চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে রূপ নিচ্ছে, যা টেকসই নয়। তিনি আশ্বস্ত করেন, রাজনৈতিক দলগুলো এখনো ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব, কারণ জনগণ এখন বিকল্প খুঁজছে।
ডাকসু নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের মতো অপ্রস্তুত দলগুলো এখন শক্তিশালী হয়ে উঠছে, যা আগে অনেক ভয়ংকর ছিল। এখন তারা মাথা উঁচিয়ে উঠে দাঁড়াচ্ছে এবং বড় দলগুলোর জন্যও চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এর পিছনে বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা কাজ করছে, যা অনেক কিছুই পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে।
তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানুষের প্রত্যাশার চিত্র তুলে ধরে বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন, ভোট হবে কি না? তবে ডাকসু নির্বাচন দেখিয়েছে পুরোপুরি সুষ্ঠু ভোট সম্ভব এবং এটি এখন জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য। ছাত্রসমাজের সাহসিকতা প্রশংসনীয়, যা আগের প্রজন্মের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
বক্তা উল্লেখ করেন, অতীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দাঁড়াতে পারতেন না, এখন তারা সাহস করে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সূচক এটাই যে, এখন আর বিশাল জনসভা নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়া ও নতুন প্রজন্মের ভাবনায় রাজনীতি গড়ে উঠছে। এই প্রজন্ম প্রথাগত দখলদার ও প্রোটোকল-ভিত্তিক রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করছে এবং বোঝে, রাজনীতি মানে আন্তরিকতা, সংগ্রাম ও অঙ্গীকার; এটি লুট ও ক্ষমতার শর্টকাট পথ নয়।
মান্না আরও বলেন, ছাত্ররা ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো সুবিধাবাদের পথে হাঁটলেও, ছাত্ররা পরিবর্তনের নতুন দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে। ভবিষ্যতে উন্নত, দুর্নীতিমুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য একে অন্যের সঙ্গে ঐক্য ও সংস্কার জরুরি। সংকট নিরসনে সুপ্রিম কোর্টের রায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যা সব দলেরই মানতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনীতি হালকাভাবে না নেওয়া উচিত। এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত এক সংগ্রাম। তাই সবাইকে সৎ, অংশগ্রহণমূলক ও সংস্কারমুখী রাজনীতি গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য একটি সুন্দর নির্বাচন ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
আলোচনা সভায় কিছু মতের দ্বিমতও উঠে আসে। ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, যদি ডাকসুর মতো ফল অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে হয়, তবু চিন্তার কোনো কারণ নেই। এই নির্বাচনকে জাতীয় রাজনীতির সফলতা বা ব্যর্থতার সংজ্ঞা মনে করা ভুল। এটি একটি সামান্য বড় নির্বাচন, যা অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়ার দরকার নেই। তিনি আরও বলেন, বৃহৎ ভোটপ্রবাহের বিপরীতে চাইল্ডোটের সংখ্যা খুবই কম।
আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। তিনি বলেন, স্বৈরশাসনের মাধ্যমে দুর্বৃত্তায়িত প্রশাসন গঠিত হয়েছে, গণপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস ও ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন কাঠামোগত ও আইনগত সংস্কার, যা সরকারের অঙ্গীকার ছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক অপরাধের মাঝে কিছু অভিজাত পরিবারের সদস্যরা সুবিধা নিচ্ছেন, তবে আন্দোলনের সংগ্রাম ভুলে গেছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুমের সভাপতিত্বে এবং দিদারুল ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় অংশ নেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, যেমন – গণসংহতি আন্দোলনের আবুল হাসান রুবেল, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল-াহ কায়সার, ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব আবু ইউসুফ সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য আকবর খান, ও অন্যান্য।
-

আমার যাত্রা এখানেই শেষ নয়, ইশতেহারে যা ছিল তা আদায় করব: আবিদুল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, তিনি নির্বাচনের ইশতেহারে যা ঘোষণা করেছিলেন, তা বাস্তবে পূরণ করার জন্য উঠে পড়ে লড়বেন। তাঁর কথায়, এটি তাঁর যাত্রার শেষ নয়; বরং নিজস্ব সীমাবদ্ধতা এবং নতুন ছাত্ররাজনীতির পরিবর্তনে তাঁর হাতেই ভবিষ্যতের নতুন সূচনা হবে। বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের প্রার্থী সাদিক কায়েমের কাছে হেরে যাওয়ার পর আবিদুল ইসলাম একটি ফেসবুক পোস্টে ফলাফলকে কারচুপি এবং নির্বাচনকে প্রহসন বলে উল্লেখ করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন।
উল্লেখ্য, ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদের নির্বাচনে শিবিরের পক্ষই বিজয় লাভ করে। ভিপি পদে ১৪ হাজার ৪২ ভোট অর্জন করে শিবিরের প্রার্থী মোঃ আবু সাদিক কায়েম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০৮ ভোট।
বুধবার দুপুরে একটি পোস্টে আবিদুল ইসলাম লিখেছেন, ‘আমি কখনো ভাবি নি যে আমি এত দূর আসব। নির্বাচনের আগের রাতে খালেদ মুহিউদ্দিন ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ৫ বছর পর নিজের ভবিষ্যৎকে কোথায় দেখতে চান? আমি সেই সময় নিশ্চিত উত্তর দিতে পারেনি। আমি জানতাম না কখনো নিজেকে কোথায় দেখতে চাই। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেকে রাজপথে সরিয়ে নিয়েছি; এবং সেই মেজাজে আজও আছি। এই নির্বাচনের দিন শুরু হয় মিডিয়ার অপপ্রচার দিয়ে, দিনভর আমি বিভিন্ন জায়গায় ভোটের সমস্যা নিয়ে কথা বলেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত আসার আশায় আমি এখনো রয়েছি।’
আবিদ আরও লিখেছেন, ‘আমরা সবাই পরিপূর্ণ মানুষ নই। আমি জানি, আমি আপনাদের জন্য সবসময় যথেষ্ট কিছু করতে পারিনি; জীবন একেক সময়ে তেমন সুযোগ দেয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ভাই-বোনের জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই যারা ভোট দেওয়ার জন্য এসেছেন। মাত্র ২০ দিনের ক্যাম্পেইনে আমি চেষ্টা করেছি সব ছাত্রের কাছে পৌঁছানোর। অনেকের কাছাকাছি গিয়েছি, কিন্তু সবকে স্পর্শ করতে পারিনি। আমি আশ্বস্ত করে বলছি, আমার যাত্রা এখানেই শেষ নয়; বরং আরও দীর্ঘ হবে।
নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন ছাত্রনেতা হিসেবে উল্লেখ করে আবিদ বলেন, ‘কথা দিচ্ছি, আমার নির্বাচনী ইশতেহারে যা যা ছিল, তা বাস্তবে আদায় করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করব। নতুন ছাত্ররাজনীতির শুরু আমাদের হাত ধরে হবে। আমরা রাজপথে সতর্ক দেহে থাকব, দেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য কাজ করব। ইনশাআল্লাহ, আপনি এই পরিবর্তনটি পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনে দেখবেন। আমি কখনো 여러분কে ছেড়ে যাব না।’
পোস্টটি শেষ করেন আবিদুল কিংবদন্তি নাগরিক অধিকার ও বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের উক্তি দিয়ে: “আমরা ক্ষণস্থায়ী হতাশা গ্রহণ করতে হবে, কিন্তু কখনো অজেয় আশাকে হারাতে পারব না।”
-

এ বিজয় ব্যক্তিগত নয়, শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত জয়: ভিপি সাদিক কায়েম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী সাদিক কায়েম। বিজয়ের পরদিন বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই বিজয় কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সাফল্য।
সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসু নির্বাচনে কেউ হেরেছেন না; এখানে জয়ী হয়েছে সকল শিক্ষার্থী, জয়ী হয়েছে জুলাইবিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা, জয়ী হয়েছে শহীদদের স্বপ্ন। এটি আমাদের সকলের collective victory এবং এটি শহীদদের আত্মত্যাগের ফসল। তিনি স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ, আধিপত্যবিরোধী সংগ্রামের শহীদ এবং বিশেষ করে শহীদ আবরারকে, যিনি ছাত্ররাজনীতির সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারান। আল্লাহ তাদের সবাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন বলে কামনা করেন।
নিজের দায়িত্ববিষয়ক বক্তব্যে সাদিক কায়েম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাকে এবং আমার সহযোদ্ধা এস এম ফরহাদ ও মহিউদ্দিন খানসহ পুরো প্যানেলকে যে আস্থা দিয়েছেন, আমরা সেই আস্থার মর্যাদা রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা যে স্বপ্নের ক্যাম্পাস গড়ার অঙ্গীকার করেছি, তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।
তিনি আরও বলেন, আমি চাই না শিক্ষার্থীরা শুধু আমাকে ভিপি হিসেবে দেখুক; বরং তারা আমাকে বন্ধু, ভাই ও সহপাঠী হিসেবে জানুক। আমার আচরণ বা ভাষা যেন কোনোভাবেই অহংকার বা গর্বের প্রকাশ না হয়, সেজন্য আমি গুরুত্ব সহকারে খেয়াল রাখব।
একটি পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ইনস্টিটিউটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর করার লক্ষ্য ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা চাই একটি এমন ক্যাম্পাস, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উন্নত পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে। সেখানে গবেষণার সুযোগ থাকবে, আবাসন নিশ্চিত হবে, খাবার ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত হবে। নারীদের জন্য থাকবে নিরাপদ ও সমানাধিকারের পরিবেশ।
তিনি নারী শিক্ষার্থীদের অবদানকে বিশেষভাবে স্বীকার করেন এবং বলেন, ডাকসু নির্বাচনের সফল আয়োজন ও জুলাইবিপ্লবের সময় নারীদের সাহসী অংশগ্রহণ আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। এটি তাদেরও অধিকার।
সাদিক কায়েম বলেন, নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, তারা কেউ আমাদের শত্রু নয়; তারা সবাই এখন পরামর্শদাতা। সব মতপক্ষে থাকা সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে কাজ করতে চান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে এক গণমাধ্যমকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন এবং বলেন, আমি তার পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানাই। পাশাপাশি যারা এই নির্বাচনের কাভারেজ করেছেন, তাদের সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সাদিক কায়েম আরও বলেন, এই দায়িত্ব একটি কঠিন পরীক্ষা। আমরা চাই, এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হব। শিক্ষার্থীদের অধিকার সংরক্ষণ ও আধুনিক, মানবিক ক্যাম্পাস গড়ার জন্য সবাইের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।
-

উমামা ফাতেমা ঘোষণা দিলেন ডাকসু বর্জনের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী উমামা ফাতেমা ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি এই নির্বাচন বর্জন করবেন। তিনি মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া তিনটার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বয়কট! বয়কট! আমি ডাকসু বর্জন করলাম।’ এই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ডাকসু নির্বাচনকে ‘সম্পূর্ণ নির্লজ্জ কারচুপির নির্বাচন’ বলে অভিহিত করেছেন। উমামা ফাতেমা উল্লেখ করেন, ‘৫ আগস্টের পরে ছাত্ররাজনীতির ছলে জাতির মুখে লজ্জার ধরণের আচরণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিবির পন্থী প্রশাসনের দ্বারা এই ধরনের অবিচার চালানো হয়েছে।’
এর আগে রাত দেড়টার দিকে একটি অন্য পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘চলমান এই নির্বাচন একটি সার্কাসের মতো। কে দেখতে আসছেন?!’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়া ও অবিচারজনিত পরিস্থিতির প্রতি তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খানও ডাকসু নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিত কারচুপির ফলে এই ফলাফল আমি দুপুরের পরই অনুমান করেছি। নিজের মতো করে সংখ্যা গুণে নিন। আমি এই পরিকল্পিত প্রহসন প্রত্যাখ্যান করছি।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। রাত দেড়টার দিকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ফলাফলের ঘোষণা শুরু হয়। বেশিরভাগ কেন্দ্রে ফলাফল ইতোমধ্যে জানা গেছে, যেখানে দেখা যায় ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এই প্রথমবারের মতো, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের প্রার্থী একটি ভূমিধস বিজয় লাভের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
