Category: রাজনীতি

  • নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনা: জামায়াত নেতা ডা. তাহেরের ব্যাখ্যা

    নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনা: জামায়াত নেতা ডা. তাহেরের ব্যাখ্যা

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর শীর্ষ নেতারা। তাদের এই সফর নিয়ে বেশ কিছু রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের ওপর প্রবাসী আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলার ঘটনাটি আলোচনায় আসে।

    ঘটনার সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও এনসিপি নেত্রী ডা. তাসনিম জারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের ধারণা, হয়তো তাকে সরিয়ে রাখা হয়েছিল বা তিনি আগে থেকেই ঘটনাটি জানতেন। এসব জল্পনার ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

    সাক্ষাৎকারে তাহের জানান, শুরুতে আমাদেরকে প্রধান উপদেষ্টার বহরে নেওয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে গাড়িতে ওঠানো হয়েছিল। কিন্তু ভিসার জটিলতার কারণে পরে আলাদাভাবে যেতে হয়। সরকারি প্রতিনিধি দলের ভিসা জি-ওয়ান ক্যাটগরির ছিল, যেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্টের প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে আমাদের ভিসা ছিল ট্যুরিস্ট ক্যাটগরির, যেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট করতে হয়। এ কারণে যোগাযোগে কিছু সমস্যা হয়। এর ফলে আমরা হেঁটে ইমিগ্রেশনে যাই।

    তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তখনও আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন এবং প্রায় ১০ মিনিটেরও বেশি সময় তিনি পরিস্থিতি দেখছিলেন। তবে সমন্বয়ের অভাবে আমরা একসঙ্গে বের হতে পারিনি।

    বাংলাদেশ মিশনের ভূমিকা নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। বলেন, মিশনের উচিত ছিল আমাদের যথাযথভাবে জানানো এবং সার্বিক সমন্বয় করা। যদি আমরা সবাই একসঙ্গে বের হতাম, তাহলে এই ধরনের ঘটনা ঘটত না। মিশনের ব্যর্থতার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

    প্রবাসী আওয়ামী লীগ কর্মীরা যখন এনসিপি নেতা আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেন, তখন সেখানে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তাসনিম জারা উপস্থিত ছিলেন। তবে তাকেই দেখা যায়নি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এর আগেও এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাই আমাদের কিছুটা আগাম আশঙ্কা ছিল। তবে তখন কি ঘটছে তা বুঝতে পারছিলাম না।

    তাহের এও বলেন, আমি নেতাদের কাছে ছিলাম এবং আমাদের কিছু ছেলেরা স্লোগান দিচ্ছিল, ‘তাহের ভাই জিন্দাবাদ’। আমি বলেছিলাম, ফখরুল সাহেবের নামেও স্লোগান দিতে, যাতে তিনি বিব্রত না হন। কিন্তু তখন তারা উত্তেজিত ছিল এবং আমার কথা শুনছিল না। পরে আমি কিছুটা দূরে সরে দাঁড়াই। এরপর আমাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং ফুল দিয়ে সম্মানিত করা হয়। আমি কয়েক মিনিট বক্তব্যও দিই। এই সময়ে ডিম নিক্ষেপের ঘটনাটা ঘটে।

    তিনি আরও জানান, টিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, আখতার হোসেনকে রক্ষা করার চেষ্টা করা দুজন আমাদের কর্মী ছিলেন। কিন্তু আখতারের ওপরে হামলার ঘটনাটি দুঃখজনক ও দুঃখজনক ঘটনা।

  • শিগগিরই বিএনপি দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে: ডা. জাহিদ

    শিগগিরই বিএনপি দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে: ডা. জাহিদ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপি শিগগিরই দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি বৃহস্পতিবার সকালে ‘বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস’ উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারের কাছে থেকে একটি র‌্যালির সূচনার আগে এক বক্তব্যে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডা. জাহিদ।

    তিনি বলেন, ‘যেসব প্রার্থীরা জনগণের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন এবং দলীয় জরিপেও এগিয়ে থাকবেন, তারাই আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন।’ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করে তিনি জানান, বিএনপি বর্তমানে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং শিগগিরই দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।

    জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘গত ১৮ মাস ধরে দলের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশব্যাপী নেতাকর্মীরা ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন, যেখানে চিকিৎসার জন্য যান। ২০০৮ সালে লন্ডনে যাওয়ার পর থেকে তিনি দেশে ফিরেছেন না। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।’

    এখনও পর্যন্ত তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসার সময় নির্দিষ্ট করে বলছেন বিএনপি নেতারা। যদিও অনেক নেতা বিভিন্ন সময় দাবি করেছেন, তিনি শিগগিরই ফিরবেন। আজও ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন, যা সবাই জানে।’

    তিনি বলেন, ‘বিএনপি এখন দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ষড়যন্ত্র রুখতে প্রস্তুত। জনগণের সমর্থন নিয়ে দলটি ৩১ দফা কর্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।’

  • সিপিবির সভাপতি নির্বাচিত জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী

    সিপিবির সভাপতি নির্বাচিত জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী

    চার বছরের জন্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সাজ্জাদ জহির চন্দন। তিনি ইতিমধ্যে সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, যিনি سابقে কেন্দ্রীয় কমিটিরও প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।

    বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ত্রয়োদশ কংগ্রেসে ৪৩ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি নতুন করে নির্বাচন হয়, যার প্রথম সভা আজ পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। এই সভা সকাল ১১টা start হয়ে বেলা ১টায় সমাপ্ত হয়।

    সভায় সভাপতিমণ্ডলীর অন্যান্য সদস্যরা হলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, রফিকুজ্জামান লায়েক, এস এ রশীদ, রাগিব আহসান মুন্না, জলি তালুকদার এবং আমিনুল ফরিদ।

  • বিএনপি জানিয়েছে, কাউকে ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হয়নি; বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

    বিএনপি জানিয়েছে, কাউকে ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হয়নি; বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বেশ কিছু গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে বিএনপি কিছু প্রার্থীকে ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে। তবে দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, কোনও প্রার্থীকে এখনও তারা কোনো ধরনের ‘সবুজ সংকেত’ দেননি। বিএনপি নিশ্চিত করে বলেছে, ভবিষ্যতের প্রার্থী নির্বাচন পার্লামেন্টারি বোর্ডের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হবে এবং এ ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা বা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি।

  • জামায়াতের আমির হামজাকে বিতর্কিত বক্তব্য না দেওয়ার পরামর্শ

    জামায়াতের আমির হামজাকে বিতর্কিত বক্তব্য না দেওয়ার পরামর্শ

    আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার বিতর্কিত বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী দল। তারা তাকে পরামর্শ দিয়েছে যে, রাজনীতি বা বিতর্কিত বিষয়গুলোতে কথা বলা থেকে বিরত থাকুক। মুফতি হামজা নিজেও এ বিষয়ে স্বীকার করেছেন।

    বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থানরত তিনি বলেন, তার দায়িত্বশীলরা তাকে সতর্ক করে বলেছেন যেন তিনি সংগঠন থেকে কোনও রাজনৈতিক বা বিতর্কিত বিষয় নিয়ে কথা না বলেন। তিনি আরও জানান, মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় তারা তাকে বিশেষভাবে সাবধান থাকতে বলেছেন।

    মুফতি হামজা জানান, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, এখন থেকে শুধু কুরআনের তাফসিরের মধ্যে থাকবেন এবং অন্য কোনও বিষয়ে আলোচনা করবেন না। তাঁর ভাষায়, “কোনো বিষয় নিয়ে তুলনা বা মন্তব্য করলে প্যাঁচে পড়ে যায়। আমি এসব থেকে এখন দূরে থাকব।”

    সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসিন হলে আযান দেওয়ার প্রসঙ্গে তার বক্তব্যের সমালোচনায় তিনি স্বীকার করেছেন যে, ভুলক্রমে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের নাম বলার সময় তিনি মুহসিন হলের নাম বলেন। এ বিষয়টি তিনি ক্ষমা চেয়ে বলেছেন এবং জানান, এটা মুখে ফসকে হয়ে গেছে। তিনি যোগ করেন, “আমি এর জন্য দুঃখিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয় এড়িয়ে যাব।”

    অপরদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মদের বোতল প্রসঙ্গে তার বক্তব্যের সমালোচনাও উঠে এসেছে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম। সবাই জানে কী পরিস্থিতি ছিল ক্যাম্পাসে। আমি কি অপরাধ করেছি? যদি ভাবা হয় আমি পানি বোতলে মদ খেয়েছি, তাও আমি জানি না। যদি তাই হয়, আমি দুঃখিত। আমি এসব নিয়ে আর মন্তব্য করব না।”

  • আওয়ামী লীগ তাদের অন্যায়ের জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা করে না

    আওয়ামী লীগ তাদের অন্যায়ের জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা করে না

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, তিনি ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’ কে কোনো সাক্ষাৎকার দেননি। তিনি বলেছেন, উত্তমভাবে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘এই সময়’-এ আমার কোনো সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়নি। তারা ভুলভাবে আমার কথা তুলে ধরেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, সাক্ষাৎকার দিতে তিনি পত্রিকাটির সঙ্গে কথা বলেছেন, তবে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর ৩০টি আসন চাওয়ার বিষয়ে তিনি কোনও কথা বলেননি বলেও স্বীকার করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে একেবারেই কিছু জানি না। সংবাদ জানতে চাইলে, তিনি নিউইয়র্ক থেকে বলেন, ‘আমি এই সময়’ কে ешқанও সাক্ষাৎকার দিইনি। যোগাযোগ হয়েছিল, কিন্তু আমি কোন কথা বলিনি। অন্যদিকে, সম্প্রতি নিউইয়র্কের জে এফ কে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনের ওপর ডিম ছোড়া ঘটনায় বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, “এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। এর জন্য আওয়ামী লীগ কর্তৃপক্ষই দায়ী। আওয়ামী লীগ এর পেছনে রয়েছে এবং তারই উসকানি রয়েছে।” তিনি পরবর্তীতে ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে যা ঘটেছে, তা আবারও প্রমাণ করে যে, আওয়ামী লীগ তাদের অন্যায়ের জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা করে না।’ ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত যা করেছে, সবকিছুর বিচার হবে আইনের মাধ্যমে। দল ও দেশের স্বার্থে ধৈর্য্য রাখতে হবে।’

  • তরুণদের উদ্বুদ্ধ করে রাজপথে নেমেছিলেন তারেক রহমান: রিজভী

    তরুণদের উদ্বুদ্ধ করে রাজপথে নেমেছিলেন তারেক রহমান: রিজভী

    ২৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করে রাজপথে নামিয়ে আনলেন, এই মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী পতাকা হাতে নিয়ে এই ‘রক্ত পিপাসু’ শেখ হাসিনাকে পরাজিত করার জন্য তারেক রহমান যে পটভূমি তৈরি করেছেন এবং তরুণদের রাজপথে উদ্বুদ্ধ করেছেন, তা ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিতে নির্মিত স্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বরগুনা ও পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদ্য গঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পর তারেক রহমান জাতীয়তাবাদী পতাকা হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি শুধু দেশীয় রাজনীতি নয়, প্রবাসে থেকেও সংগঠনকে সুসংগঠিত করেছেন এবং তরুণ প্রজন্মকে গণতন্ত্রের সংগ্রামে সম্পৃক্ত করেছেন। তাঁর ভাষ্য, তরুণদের উজ্জীবিত করে রাজপথে নামানোর কৃতিত্ব স্বয়ং তারেক রহমানের। এই ইতিহাস কখনো ধূসর হবে না, বরং এটি চিরদিনের জন্য উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় তরুণদের সামনে নেতৃত্বের যে উদাহরণ রেখেছেন, তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন প্রজন্মের জন্য স্বপ্নের মতো। এ সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, সদস্য সচিব হুমায়ুন হোসেন শাহিন ও পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খানসহ নবগঠিত নেতৃবৃন্দের নাম উল্লেখ করেন। রিজভী বলেন, এই নেতারা আন্দোলন-সংগ্রামে অনড় থেকেছেন। পুলিশের নির্যাতন-নিপীড়নের মাঝেও הפעילות চালিয়ে গেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাদের নেতৃত্বে বরগুনা ও পিরোজপুর জেলা বিএনপি একটি আদর্শ সংগঠনে রূপান্তরিত হবে, যেখানে কোন চাঁদাবাজ, দখলদার বা সমাজবিরোধী স্থান পাবেন না। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে রিজভী বলেন, নতুন নেতৃত্ব জনগণের আস্থা অর্জন করবে এবং সেই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে মানুষ ধানের শীষে ভোট দেবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি গত ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম করে আসছে, এই সংগ্রাম দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চালিয়ে যাচ্ছে। রিজভী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার খালেদা জিয়াকে নির্যাতন ও কারা জীবন দিয়ে দমন করার চেষ্টা করলেও, তাঁর দৃঢ় মনোবল ও নেতৃত্বকে ঠেকানো যায়নি। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী শেখ হাসিনাকে একটি ভয়ানক ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, তিনি গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছেন এবং ভোটের অধিকার হরণ করেছেন। রিজভী আরও বলেন, বিভিন্ন ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও নীলনকশা এখনো শেষ হয়নি; এ সবের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগ নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখে। তিনি প্রশ্ন করেন, যারা ২৮ লাখ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচার করেছে, তারা কীভাবে দুঃশাসন সক্ষম করে রেখেছে। বর্ষীয়ান এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ মন্ত্রী-এমপি ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন পর্যন্ত বিদেশে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। নিউইয়র্ক, লন্ডন, দুবো, কানাডা, অটোয়া এবং সিডনিতে তাদের সম্পদের বিপুল সমারাক্য গড়ে উঠেছে। খবরের কাগজে প্রকাশিত হয়েছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অন্তত ৬০২টি সম্পদ বা প্লট পাওয়া গেছে, এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের বিভিন্ন সদস্যও রয়েছেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যাপারে রিজভী বলেন, যদি ক্ষমতাসীনরা আরও দক্ষতা দেখাতে পারত, তাহলে নিউইয়র্কে ফ্যাসিবাদী দোসররা এমন দৃষ্টিতে সাহস করত না। তিনি দুর্নীতির মামলার অকার্যকারিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডিরেক্টরেট অফ ইনভেস্টিগেশনের (দুদক) কাছে ২৪ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা উত্তোলনের নির্দেশ থাকলেও তারা তা কার্যকর করতে পারে নি। আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে রিজভী বলেন, ওয়াসিম আকরাম, আবু সাঈদ ও মুগ্ধর জীবন ও রক্ত বৃথা যাবে না; তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দেবে।

  • নাহিদ ইসলামের ইঙ্গিত: আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার সুযোগ নেই

    নাহিদ ইসলামের ইঙ্গিত: আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার সুযোগ নেই

    নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক, বিশ্বস্তভাবে ঘোষণা করেছেন যে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার কোনও সম্ভাবনা নেই। তিনি আজ মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এটি জানান। এই জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় নিউ ইয়র্কে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনের উপর হামলার প্রতিবাদে।

    নাহিদ বলেন, আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করা একটি বিভ্রান্তিকর রাজনীতি, যা বিএনপির জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বিএনপিকে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিবর্তে বাংলাদেশকে নতুন করে গঠনে মনোযোগ দিতে হবে। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের সমর্থন পাওয়া সম্ভব হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। পাকিস্তানপন্থী ও স্বাধীনতা বিরোধী রাজনীতির জন্য আওয়ামী লীগ নীতি বদলাচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার বা রাজনীতিতে পুনর্বাসনের কোনও সুযোগ নেই। যারা এটা করতে চাইবে, জনগণ তাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে এবং তাদের রাজনীতি বাংলাদেশ থেকে দূর হবে।

    তিনি আরও বলেন, ৩৬ জুলাই বা ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদীদের কোনও স্থান নেই। তারা তাদের অপকর্মের জন্য বিচারের আওতায় আসবে।

    অন্তর্ভুক্ত সব রাজনৈতিক দলকে তিনি আহ্বান জানান, ফ্যাসিবাদ বিরোধী একযোগে কাজ করার জন্য। নাহিদ দাবি করেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য ষড়যন্ত্র ও দেশকে অস্থিতিশীল করার অপপ্রয়াস ব্যর্থ করে দিতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সকল স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক শক্তি একসঙ্গে গিয়ে এই চক্রান্ত রুখে দিতে পারবে।

  • হাসনাতের মন্তব্য: এনসিপির সব ব্যর্থতার জন্য দায়ী অন্তর্বর্তী সরকার

    হাসনাতের মন্তব্য: এনসিপির সব ব্যর্থতার জন্য দায়ী অন্তর্বর্তী সরকার

    অন্তর্বর্তী সরকারের সব ব্যর্থতা এবং সীমাবদ্ধতার জন্য মূল দায়িত্ব নিতে হচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এমনটাই মন্তব্য করেছেন দলের মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনসে আয়োজিত ‘তারুণ্যের রাষ্ট্রচিন্তা’ শীর্ষক তৃতীয় সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    হাসনাত স্পষ্টভাবে বলেন, জনগণ এনসিপির কাছ থেকে নতুন পরিকল্পনা এবং পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছিল। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েই তাদের পথচলা। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু মিডিয়া এবং সামরিক বাহিনীর একটি অংশ দেশের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে, যাদের সঙ্গে তারা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছেন। তিনি বলেন, “আমরা সত্যের পক্ষে দাঁড়াই, মিথ্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।”

    তাঁর অভিযোগ, মিডিয়ার ট্রায়াল এবং অপপ্রচার চালিয়ে এনসিপির নেতাদের চরিত্র হনন করার চেষ্টা করা হয়েছে। ৫ আগস্ট কক্সবাজার সফরে যাওয়ার সময়ও তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়—প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, তারা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, এনসিপি মিডিয়ার বিরোধী নয়, তবে সংবাদে বস্তুনিষ্ঠতা চাই।

    হাসনাত এও বলেন, রাজনীতি এখন ব্যবসায়ীদের কাছে বন্দি হয়ে গেছে। তাঁরা মনে করেন, রাজনীতি আসলে রাজনৈতিক নেতাদেরই চালানো উচিত।

    অন্যদিকে, এনসিপির কিছু অর্জনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বলেছিলেন, ‘আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু তা স্বীকার করে নিয়ে আমরা তা ঠিক করার চেষ্টা করছি। ভুল হলে সেটি স্বীকার করি, এবং আপনাদের পরামর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে এগিয়ে যাব।’

  • ছাত্র প্রতিনিধিদের সরকারের দায়িত্বে আসা ঠিক হয়নি: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ছাত্র প্রতিনিধিদের সরকারের দায়িত্বে আসা ঠিক হয়নি: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মনে করেন, ছাত্র প্রতিনিধিদের সরকারের দায়িত্বে আসা ঠিক নয়। তার মতে, যদি তারা দায়িত্বে না থাকতেন, তাহলে তারা চাপ সৃষ্টি করা এক গ্রুপ হিসেবে থাকতেন। গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে ‘তারুণ্যের রাষ্ট্রচিন্তা’ অনুষ্ঠানের তৃতীয় সংলাপে তিনি এ মত প্রকাশ করেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একজন ব্যক্তি একসঙ্গে সরকারের সদস্য ও বিরোধী দলের সদস্য হতে পারে না। তিনি প্রত্যক্ষ করেন, ছাত্র প্রতিনিধিরা যখন সরকারে গিয়েছিল, তখন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তারা রাষ্ট্র নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে না।

    তিনি আরও বলেন, আমি যদি তাদের সরকার থেকে সরে আসার দাবি জানাই, তবুও সেটি সম্ভব নয়; এই তাগিদ তাদের নিজেকে উপলব্ধি করতে হবে।

    জামায়াতের নেতাদের উদ্দেশ্যে সালাহউদ্দিন বলেন, পত্রিকায় দেখেছি, একজন নেতা বলেছেন, কে সরকারী দল হবে, আর কে বিরোধী দল। তাহলে কি এটা তাদের নিজের সিদ্ধান্ত, নাকি জনগণ ঠিক করবে? এত আত্মবিশ্বাস থাকলে কেন তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চায় না? নানা অজুহাতে কেন তারা নির্বাচনের কার্যক্রম ব্যাহত করতে চায়?

    তিনি আলোচনা ও আন্দোলনের সমন্বয়কে স্ববিরোধী বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, আলোচনার পাশাপাশি যদি আন্দোলন চালানো হয়, তাহলে সেটি স্ববিরোধীতা। জুনিয়র সনদের আইনি দিক বিবেচনায় আমরা আলোচনা করছি, এবং আমরা সত্যিই সমাধান চাই।

    নতুন কোনো সংকট সৃষ্টি এড়াতে ও ঐক্য ধরে রাখতে তিনি জোর দেন। তিনি বলেন, কেউ কেউ নিজেদের দাবি জানাতে পারেন, কিন্তু সেটি জাতির ওপর চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। আমাদের উচিত পরস্পরের জবরদস্তি এড়ানো। যে পরিবর্তন আমরা চাই, সেটি রাতারাতি হবে না; আসুন, নতুন কোনো সংকট সৃষ্টি না করে জাতি একসঙ্গেই সামনের দিকে এগিয়ে যাই।

    বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা বলে থাকেন, দেশের সর্বোচ্চ জটিলতা হলো, আমরা সবাই ডিগ্রি অর্জন করতে চাই। তবে উন্নত বিশ্বে, দ্বাদশ শ্রেণির পরে সবাই গ্রাজুয়েট নয়। গবেষণা করতে চাইলে, কেবল তারা যা গবেষণা চায়, তার জন্যই তারা মাস্টার্স করে।